ইউজার লগইন

ক্ষ ব্যান্ডের গান নিয়ে বিতর্ক

শুরু হইছে 'ক্ষ' ব্যান্ডের একটি গান নিয়ে সামাজিক গনমাধ্যমে ব্যাপক ঝড়। গানটা আমার কাছে শুনতে ভালোই লাগছে। যে আবেগ দিয়ে সে গানটা গেয়েছে ... তার সেই আবেগ আমাকে কিছুটা হলেও নাড়া দিতে পেরেছে।

কথা হচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে। জাতীয় সঙ্গীতের একটা প্যাটার্ণ রাষ্ট্র নির্ধারণ করে দেয়। তার বাইরে যাওয়াটা আসলে নিয়মের অনিয়ম বলা হয়ে থাকে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটির প্রথম দশ লাইনকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয় স্বাধীনতার পরে। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে স্বরলিপিসহ জাতীয় সংগীত বিল পাস হয়। পরে সংগীতজ্ঞ সমর দাসের (প্রয়াত) তত্ত্বাবধানে ব্রিটেনের বিবিসি স্টুডিও থেকে জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রেশন তৈরি করে আনা হয়। এই সুরই বাজানো হয় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদিতে। কিন্তু অধিকাংশ শিল্পী জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় অনুমোদিত স্বরলিপি ও সুর অনুসরণ না করে তাঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত গায়কী অনুসরণ করছেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠ

এবার দেখি আমাদের সংবিধানে কি বলা আছে। গণপ্রাজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা আছে:
৪৷ (১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷

(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷

(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷

(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷"

ঘটনার সূত্রপাত একটি অনলাইন পত্রিকা "বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম" জাতীয় সঙ্গীতে বিকৃতি! ‘ক্ষ’র স্পর্ধা প্রতিহত এখনই সংবাদটি থেকে।

সেখানে কোট করা হয় কয়েকজন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী
১. মিতা হক:
সারাজীববন এসব উল্টোপাল্টা অপসংস্কৃতির চর্চার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এদের বিষয়ে কথা বলার রুচিও হারিয়ে ফেলেছি। তিনি বলেন ‘ক্ষ’ অনেক দূরের একটি বিষয়। এদের নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে একটি কথা বলবো শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ছেলে মেয়েরা এমন কাজ করতে পারে না। যারা বাংলাদেশের ইতিহাস পড়েছে, যারা বাংলার রূপ দেখেছে, সভ্যতা সংস্কৃতির কথা জেনেছে তারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এমন অপকর্মে লিপ্ত হবে না।

২. শিল্পী সাদি মহম্মদ:
জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। এ কাজ যারা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত।

৩. ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল:
এর এখনি প্রতিবাদ হওয়া উচিত। বাংলাদেশের নাগরিকতো বটেই কোন ভিনদেশিও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতকে ভুলভাবে, উল্টো করে গাইতে পারেন না।

মূলত ঝামেলা এখানেই বাধে। রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ার দায়ে কাউকে এভাবে অভিযুক্ত করা যায় কি? কাউকে এভাবে রাষ্ট্রদ্রোহি বলাটাও কি মৌলবাদী আচরন নয়?

সামাজিক গনমাধ্যমে বন্ধুদের ভাবনা
<> রায়হান সাঈদ

কিছু কিছু জিনিস, বিষয় আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনঃ লালবাগের কেল্লা , আহসান মঞ্জিল , উত্তরা গণভবন কিংবা বেহুলা লক্ষিন্দরের বাসর কিংবা ময়নামতি।
তেমনি রবীন্দ্র সঙ্গীত , নজরুল সঙ্গীত বা লালন গীতি - এগুলোও শুধু গান নয় , আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গিয়েছে।
লালবাগের কেল্লা কিংবা বেহুলা লক্ষিন্দরের বাসর কিংবা ময়নামতি কে যেমন ধরে রাখতে হয় তেমনি রবীন্দ্র সঙ্গীত , নজরুল সঙ্গীত বা লালন গীতি এগুলোকেও এঁদের মত করেই ধরে রাখা উচিত। যদি সুর বিকৃতই করে ফেলি তাহলে আর এগুলোর মৌলিকত্ব থাকলো কোথায়?
আহসান মঞ্জিল ভেঙ্গে কোন বহুতল ভবন তৈরী কি মেনে নিতে পারবেন ?

>> একুশ তাপাদার

এরা বেসুরো তো গায় নি, আপনি কি মনে করেন প্রতিদিন স্কুলে স্কুলে , নানান অনুষ্টানে যখন গাওয়া হয় তখন সুর, তাল,লয় সব সহীয় ভাবে গাওয়া হয় ? কিন্তু তারমানে তো আবার এটাও নয় যে কেউ অশ্রদ্ধা করার জন্যই ইচ্ছে করে এমন গাইছে। মূল জায়গাটা ভালোবাসার, আবেগের।

আইনে সুরের ব্যাপারে বলা থাকতে পারে । 'ক্ষ ' তো বেসুরো গায় নি। আর আইনে কোথায় কোন কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে কীভাবে গাইতে হবে লেখা আছে তোলে দিলে জানতে পারব । প্রসঙ্গত শুনেছি রবীন্দ্রনাথ নিজে হারমোনিয়াম দিয়ে তার গান পছন্দ করতেন না - এখন যারা হারমোনিয়াম দিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান করেন তাহলে তারা কি রবিঠাকুরের ইচ্ছার অবমাননা করেন?

আরেকটা গুরুত্বপূর্ন কথা হচ্ছে, "আমার সোনার বাংলা" সম্পূর্ন সুরই নেয়া কুষ্টিয়া অঞ্চলের ডাক পিয়ন গগন হরকরার- "আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যেরে" গানটি থেকে । সুতরাং সহী শুদ্ধিবাদ নিয়ে কথা বলার আগে রবি ঠাকুরের এরকম ২৩০টার মতন "ভাঙ্গা গান" নিয়েও আলাপ হতে পারে ।

"আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি"- ২৫ চরনের মধ্যে পুরোটা আমাদের জাতীয় সংগীত নয়। শুধুমাত্র প্রথম ১০ চরন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত করা হয়েছে । নিয়ম কানুনের খুটিনাটি কট্টোরভাবে দেখলে "ক্ষ" করা এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে না নিয়ে অন্য রবীন্দ্রসঙ্গিত হিসেবেও নিতে পারেন।

আমি কোন কাগজে লেখা কট্টোর নিয়ম কানুনের মাঝে বাংলাদেশ দেখি না, দেখি মানুষের চোখের ভাষায় । সোহিনি আলম যখন "কী শোভা কী ছায়া গো" গাইছিলেন তখন আমি তার চোখে বাংলাদেশ দেখতে পেরেছি - এটাকেই আমি সাধুবাদ দেই । আজ যে মিতা হক এদের শাস্তি দাবি করেন তার গানে কোনদিন প্যানপ্যানানি ছাড়া কোন আবেগ পাই নি । এই মিতা হকদের জন্যই রবিঠাকুরের গানকে একটা সময় "বোরিং" ঘুমপাড়ানি মনে হত অনেকের কাছে । সেই জায়গা থেকে কিছু কিছু মানুষ বেরিয়ে আসছেন সেটাকে আমি বাহবা দেই । আজ রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশনার মুন্সিয়ানায় নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে - এই কারনে মিতা হকরা শুধু জেলাসি থেকে এসব করছেন বলেই মনে করি।

<> তারকা ব্যান্ড শিল্পি মাকসুদের মতামত
Folks..this looks like another Rabindra Rajakar onslaught on a perfectly innocent rendition of the 'national anthem' by a diaspora Bengali. The culture vultures are now screaming blood and want this young lady tried for sedition (hanging I am told is the ultimate punishment?). Likes of Mita Huq never ever made any sense to me whatsoever and am not going to harp one word for or against her. She and her family by some providence own the absolute copyright not only of Tagore and his work....also his thoughts,dreams and chetonaz..how incredible : )

As far as I am concerned KHIYO's was a mediocre effort - and all the hoo haa of the impressionable 'now generation' was not necessarily because of the singeror even the composition, but the shada chamra musicians who don't in no way... come anywhere close to many of our talented musicians at home. Call it our colonial hangover or call me a 'racist'.....the truth is..... we by implication always seem to be in need 'outsiders' to do us a "14 Generation Rescue" (চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার !) and this one is no exception. Question : Had a Bangladeshi band done the same or maybe even a better job - would there be so much of how cowz and Like-tivism on Youtube or FB?

তবে সবচাইতে মজার বিষয় ঘটছে কিছুক্ষন আগে Smile ... দেশের সেলিব্রেটি আলি যাকের এর ছেলে ইরেশের এর স্টেটাসে। সেখানে মিতা হক বলেছেন 'ক্ষ' ব্যান্ডের গান সে শুনেইনি Smile

Mita khala r shathe ei maatro kotha holo. Bechari bujhtei parche na ki hoyeche. Uni kokhono khiyo r gaan ta shunen ni. Bangla news 24 er "shangbadik" onake phone kore bolechen "khiyo naame ei band je amader jatiyo shongeet ke bhoyomkor bhabe bikrito koreche, ei bishoye apnar motamot ki?" uni bolechen, "ami to shunini, kintu jodi bikrito kore thake tahole thik hoyni" Mita khala r meye Farhin Khan Joyita bangladesh e sreshtho gayika der modhdhe ekjon. Joyita is abroad right now. When she read that her mother had said something against khiyo's performance she immediately called her mother and told her that there was nothing wrong with what khiyo did. Pura jinishtai ekta choto mone manush er phaltu shorojontro nijeder fayda loote nawar jonno. Mita khala is one of my all time favorite singers and so is Shakib Chowdhury. Kichu nikrishtho manush er karone amader srestho shilpi der modhdhe erokom bhedabed toiri hobe sheta mene nawa jay na. কিছু অংশ বাংলায় করলাম Smile
"মিতা খালার সাথে এই মাত্র কথা হলো। বেচারী বুঝতেই পারছে না কি হচ্ছে। উনি কখনো 'ক্ষ'র গানটা শোনেন নি। বাংলা নিউজ ২৪ এর সংবাদিক ওকানে ফোন করে বলেছেন "ক্ষ নামের এই ব্যান্ড যে আমাদের জাতীয় সংগীতকে ভয়ংকর ভাবে বিকৃত করেছে এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?" উনি বলেছেন "আমি তো শুনিনি, কিন্তু যদি বিকৃত করে থাকে তাহলে ঠিক হয় নাই"।

৯৬ সালের দিকে মাকসুদ যখন রবীন্দ্র সংগীতরে ব্যান্ডের ফ্লেভার দেয় তখন বেচারা কি যে বেকায়দায় পরছিলো... বিটিভিতে ব্যান, তার প্রডিউসারকে শাস্তিমূলক বদলি ... আরো কত্ত কি... তখন খালি ফেসবুকটা থাকলেই হইতো দেখাইয়া দিতাম Wink

পোস্টটি ১৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পড়তেছি

আমার কাছে শুনতে ভাল লাগে নাই। Sad

রাসেল আশরাফ's picture


মাকসুদের আচরণগত সমস্যা ছিলো ঐ গানে। ক্ষ য়েরটাতে নাই। আমার কাছে শুনতে ভালোই লেগেছে।

শওকত মাসুম's picture


নিতান্তই ভার্চুয়াল বিতর্ক, ভার্চুয়াল বিপ্লবীদের জন্য

রুম্পা's picture


টুটুল ভাই নিশ্চয়ই আমার স্টেটাসও দেখেছেন। Smile ব্যক্তিগতভাবে গানটি আমার কাছে খারাপ লাগেনি। আর ইরেশের লেখাটাও পড়েছি গতকাল। জয়িতার স্টেটাসও। আপাত দৃষ্টিতে কিন্তু বন্দুকের সামনে এখন আছে রিপোর্টার মাহমুদ মেনন। কারণ মিতা আন্টি যদি বলে থাকেন তিনি এভাবে বলেননি তাহলে দায় মেননের উপরেই পড়ে। এটা ভার্চুয়াল তর্ক হতে পারে কিন্তু একজন সাংবাদিক হিসেবে তথ্য সংগ্রহে কি রেকর্ড আছে মেননের কাছে সেটাও জানতে হবে। এবং জানতে হবে তার প্রশ্ন করার ধরন।
শওকত ভাই, সাংবাদিকদের আমি ছোট করি না কখনো। কিন্তু বিশ্বাস করি, সবাই সাংবাদিক হতে পারে না। Smile

টুটুল's picture


রিপোর্টারের কিছু হবে না ... সবাই হিটের খেলা Wink

সাঈদ's picture


নচিকেতা এবং শ্রেয়া ঘোষালের কন্ঠে কি পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে গানটা শুনেছেন? সাথে ফ্রী আছে উলালাল লা । এভাবে গাওয়া গান কি সাপোর্ট করেন?

আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস শুধু জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে না, বিকৃতভাবে গাওয়া রবীন্দ্র, নজরুল, লালনের সব গান নিয়েই।

ক্ষ ব্যান্ডের গাওয়া গানের যন্ত্র, তাঁর দেশের প্রতি ভালোবাসা - কোনটাতেই আপত্তি নাই। এমনকি যেখান থেকে শুরু করেছে গান সেটাতেও আমার আপত্তি নাই। আমার মতে মেয়েটার বাংলিশ টাইপ উচ্চারন পছন্দ হয়নাই আর সে ঠিকমতন সুর লাগাতে পারে নাই গানে । তাই এই সুর আমার ভিতরে স্পর্শ করতে পারে নাই। আরো চর্চা করা উচিত ছিলো ভিডিও আপ করার আগে।

ঠিক মতন সুর না লাগায়ে আমরা সবাই গাই, কিন্তু আমরা তো ভিডিও আপ করিনা কোথাও। জাতীয় সঙ্গীত এর ভিডিও আপ করতে গেলে সব দিকই বিবেচনা করা উচিত।

জ্যোতি's picture


একমত। যদিও গানটা শুনতে আমার ভালো লেগেছিলো। তখনই মনে হয়েছিলো যে কেন গানটাকে সুর বদলে গাইলো? কেনা এটা নিয়ে ক্যাচাল হচ্ছে না! যাক! গরীবের ভাবনা বিফলে যায়নি।

আরাফাত শান্ত's picture


বেহুদা ক্যাচাল!

শামান সাত্ত্বিক's picture


অনেক আগে ফেইসবুকে আমার দেয়া স্ট্যাটাসটা এখানে তুলে ধরলাম:

অনলাইনে বাংলা ব্লগগুলোতে একটা বিষয় দেখে যুগপৎ বিস্মিত এবং হতাশ হই। আর তা হলো, নিজের মতামত অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া বা তাকে সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আক্রমণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের এক নোংরা প্রবণতা। সেটা হয়ে থাকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে আবার কখনো সমষ্টিগতভাবে/দলবদ্ধ ভাবে। আর এই সব নোংরা প্রবণতার দিকে পাল্লা দিয়ে তো কোন সৎ এবং সুস্থ ব্লগিং সম্ভব হতে পারে না বলে অনেকে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন। ব্লগিং যদি এই হয়ে থাকে, তবে তার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক। সে সাথে প্রশ্নও আসে ব্লগিংটা কি? সেটা কি সৎ এবং সুস্থভাবে ভাবের আদান-প্রদান নয়?

ফেসবুক অথবা ইউটিউবে প্রাপ্য “ক্ষ” - আমার সোনার বাংলা(”Khiyo” – Amar Shonar Bangla)-এই গানটি নিয়ে বিভিন্ন ব্লগে আলাপ হয়েছে। এই গানের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাউকে কাউকে যথেষ্ট হেনস্তা হতে হয়েছে। কোন এক ব্লগে এই সম্পর্কে একজন নীচের মন্তব্যটি করেছেন:

“শ্রওয়াত ahmed বলেছেন: 37
রাত ০:১৮, সোমবার ২৪ ডিসেম্বর ২০১২

একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আমি একমত নই। গানটাকে মোটেও বিকৃত করা হয় নাই। পুরাপুরি সুরে গাওয়া হয়েছে। এর মিউজিক কম্পোজিশন টা ব্যতিক্রম। তাই হয়তো মনে হচ্ছে সুরের বাইরে। গায়িকা একে তো নজরুল সঙ্গীত শিল্পী তার উপর বিদেশি শিল্পী দ্বারা কম্পোজ করা হয়েছে। অনেকে বলছেন যে এই গান গাওয়ার জন্য কেইস করা উচিত। তাহলে তো বাংলাদেশের ৮০% (প্রধান মন্ত্রী সহ ) মানুষের বিরুদ্ধে কেইস করা উচিত। কারন কত জন বাঙালি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সুরে গায় তা সন্দেহ আছে। আরে ভাই গানটা সুন্দর ভাবে আবেগ দিয়ে গেয়েছে বলে মানুষ গানটাকে বার বার শুনছে। এটাকে সাধুবাদ জানান। অন্তত পক্ষে গানটাকে তো শুনছে, যেটা হয়তো বছরে এক দুই বার শুনত। আমাদের বাঙালি দের মধ্যে এই সমস্যা, কারো ভালো কেউ দেখতে পারে না। কাউকে কেউ নতুন কিছুতে উৎসাহ দিতে পারে না।”

তার প্রতি উত্তরে পোষ্ট লেখক তাকে যেভাবে নাজেহাল করলেন, তাকে কি সৎ এবং সুস্থ ব্লগিং বলা যায়?

“লেখক বলেছেন: 37.1
সকাল ৭:৪৩, সোমবার ২৪ ডিসেম্বর ২০১২

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী হয়েছেন তো কী হয়েছে? জনাব মুহিত ও অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী..দেশের অর্থনীতি চালাতে গিয়ে তো হিমশিম খাচ্ছেন..প্রায় সময়ই বোঝার ভুলে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন..তো সঙ্গীত শিখলেই যে সব বোঝার ক্ষমতা হয় না তা তো আপনাকে দেখে আবারও প্রমাণিত হল.।

৮০ ভাগ মানুষ জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে জানে না, কিন্তু এই ৮০ ভাগ মানুষ নিজেদের ভুল গান তো আর বাজারজাত করতে যাচ্ছে না, তাইনা?যে করতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধেই তো মামলা করা দরকার নাকি বলেন ভাই?

আর জাতীয় সঙ্গীতের বিধিমলাতে এই সঙ্গীত কখন কোথায় কবে পরিবেশন হবে সেটাও সুস্পষ্টভাবে বলা আছে জনাব উচ্চাঙ্গ পন্ডিত..সেগুলো একটু পড়ে জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে নেবেন..জাতীয় সঙ্গীত বারবার শোনার মত সঙ্গীত হিসেবে ব্যাবহার করাও অবমাননার শামিল। বোঝা গেছে?

শুভকামনা।”

লেখকের পুরো মন্তব্যটাই হাস্যকর মনে হয়েছে, বেশি হাস্যকর মনে হয়েছে এখানে, 'জাতীয় সঙ্গীত বারবার শোনার মত সঙ্গীত হিসেবে ব্যাবহার করাও অবমাননার শামিল।' আর ৮০% মানুষ সঙ্গীত বাজারজাত করবে কার জন্য? ৮০ ভাগ শ্রোতাই যদি গান গায়, তবে তা বাজারজাত করার প্রয়োজন আছে কি, বা কি কারণেই বা তা বাজারজাত করবে, তারা তো সবাই ভুলভাবে গান গাইতেই জানে?

এটা শুধু এই ব্লগে নয়, অনলাইনে আমি একই ব্যাপার কম-বেশি লক্ষ্য করেছি। অন্যকে অসভ্যভাবে থামিয়ে দেয়ার একটা বিশ্রী/নোংরা মানসিকতা। তাহলে কি বলবো যে, এটা আমাদের বাঙ্গালি মানসিকতার অনলাইন বা ব্লগীয় প্রতিফলন?

অথচ এর বিপরীতেও যৌক্তিকভাবে মন্তব্য প্রকাশের এই ধাঁচটাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমার এক পরিচিত সন্মানিত ব্লগার ব্যক্তিগতভাবে তার অনুভূতি আমাকে জানিয়েছেন, এইভাবে:

“আমি আসলে এই কম্পোজিশনটা শোনা/দেখার আগেই এর সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়েছিলাম ব্লগে, সেখানে অনেকে সমর্থন যেমন দিচ্ছিলেন, আবার অনেকে বলছিলেন, কম্পোজিশন ভালই লেগেছে, তবে চেতনাকে আঘাত করলে কোনভাবে তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। ....

এইরকম একটা পর্যায়ে এসে গানটা খুঁজে পেলাম ইউটিউব -এ । আমি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম, যেহেতু আমি শুরুতেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ে ফেলেছি, সুতরাং সেই মনভাবই আমাকে পরিচালিত করবে। প্রথমবার শুনে আমার কাছে গানটা ভাল লাগল। এবার আমি একটু বিচলিত হলাম,

পুরো গায়ক দলের দক্ষতা এখানে যাচাই করে দেখে নিলে, আমার জন্য সুবিধা হবে, এটা ভাবতেই এদেরই আরেকটা গান নজরে এল। ওটা শুনে নিশ্চিত হলাম, গায়িকা গান না শিখে গাইছে না ... পুরো টিমে ইন্সট্রুম্যান্ট এর ভেরিয়েশনও আছে ...

কেউ কেউ বলছে, গানটা শুরু হয়েছে, কী শোভা কী ছায়া গো দিয়ে , যেটা উচিৎ হয়নি এবং অবমাননাকর .... এই অংশটা জাতীয় সংগীত নিয়ে বিধিমালা থেকে জেনে নিলে নিশ্চয়ই সঠিক বার্তাটা আলোচিত হবে।”

এ সম্পর্কে আমার আর কিছু বলার ইচ্ছে নেই।

সে সাথে আরেকটা ব্যাপার। আরেকটা বিষয়, "জীবন থেকে নেয়া" চলচ্চিত্রের কোন কোন দৃশ্যে গানটা বসে গাওয়া হয়েছিল, তাতে কিন্তু আবেগ বা শ্রদ্ধা এতটুকু কমেনি, যদিও তখন গানটা জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়নি।

১০

টুটুল's picture


কামাল ভাইয়ের মন্তব্য মনে হয় আপনার ভালো লাগবে Smile

এ্ইগুলি হইলো আজাইরা বিতর্ক। রবীন্দ্রসঙ্গীত কীভাবে গাওয়া যাবে বা যাবে না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে নাকি? এই গানটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের আবেগ আছে এটা নিয়ে এবং জাতীয় সঙ্গীত এভাবে গাওয়া যাবে না বলে ফতোয়া এসেছে। কিন্তু অন্যদেশের বাঙালিদের (পশ্চিমবঙ্গে বা আসামের) কাছে তো আর এটা জাতীয় সঙ্গীত নয়, তারা কি গাইতে পারবে? পারলে কেন পারবে? রবীন্দ্রসঙ্গীতের কুলীন মানদণ্ড কি তাতে ধসে পড়বে না? আর না পারলে কেন পারবে না? রবীন্দ্রনাথ কি এ ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন? নাকি কোনো আন্তর্জাতিক আইন আছে এ নিয়ে?

সমস্যা হলো, বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রবীন্দ্র-মৌলবাদী আর রবীন্দ্র-ঘৃণাবাধীদের সংখ্যা প্রায় সমানে সমানে। তুচ্ছ কারণে এদের গোপন ঝগড়াঝাটির ঝাল প্রকাশ্যে এসে পড়ে আমাদের মতো আমজনতার ওপর। অহেতুক। ভাল্লাগেনা এসব।

১১

রাসেল আশরাফ's picture


কামাল ভাইয়ের কথাগুলা ভালো লেগেছে।

১২

মীর's picture


কামাল ভাইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত।

১৩

হাসান মাহবুব's picture


কিছু উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল মানুষের আচরণ বিরক্তিকর। তবে ক্ষ এর গান আমার ভালো লাগেনাই খুব একটা। গানের ক্রোনোলোজি চেঞ্জ করাটা আলগা মাতব্বরি মনে হইসে। আর গানটাকে নিয়ে মাতামাতিও অহেতুক। সাধারণ মানের একটা ফিউশন। তবে তারা দেশদ্রোহী হতে যাবে কেন, আজব তো!

১৪

টুটুল's picture


কোন একটা বিষয় নিয়ে বিজি থাকতে হবে না? Wink

টাইম পাইলে এক/আধটা পোস্ট/টোস্ট দিয়েন Smile

১৫

লীনা দিলরুবা's picture


হুজুরে আলা-রা সব ঠিক করে দেবে, এমনই নসিব আমাদের !

১৬

তানবীরা's picture


কিছু উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল মানুষের আচরণ বিরক্তিকর। তবে ক্ষ এর গান আমার ভালো লাগেনাই খুব একটা। গানের ক্রোনোলোজি চেঞ্জ করাটা আলগা মাতব্বরি মনে হইসে। আর গানটাকে নিয়ে মাতামাতিও অহেতুক। সাধারণ মানের একটা ফিউশন। তবে তারা দেশদ্রোহী হতে যাবে কেন, আজব তো!

১৭

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


আমার কাছে ভাল লাগেনি

১৮

একটু স্বপ্ন's picture


পোষ্টটিতে আপনি বিচারিকের ভূমিকা নেননি। এটা দরকারী আর ভাল একটি গুণ।
আলোচনার ভাল একটি স্পেস তৈরীও করেছেন। আমি নিজে গানটি শুনিনি এখনও, না শুনে ও বিষয়ে মন্তব্য অনুচিত মনে করি।

ভাল হোক।

১৯

bangla music bangla's picture


আজব দেশ এই টা ভাল করলেও দোষ খারাপ করলেও দোষ!!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

টুটুল's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম।

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, শিশির ছুতেঁ চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই, মগজে আলোড়ন বোধ করতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই।

একদিন নামবে অন্ধকার-মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকালের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছু দুর যেতে চাই।

- হুমায়ুন আজাদ