ইউজার লগইন
ব্লগ
তন্দ্রার নগরে
তন্দ্রার ভেতরে স্তুপাকৃত তোমার নগর; সারি সারি রুগ্ন দেবদারু
ফুটপাথে বিছানো সঙ্গমরাত- আমি হেঁটে যাচ্ছি, হেঁটে যাচ্ছি-
চলে যাচ্ছি গোধূলি বৈভবে। অদৃষ্টের উপেক্ষার পরেও নিস্তব্ধতা থাকে।
রাত্রির পতঙ্গে চুমু খাবো, আকাশ থেকে লাল বারুদের ষড়যন্ত্র
নেমে আসলে। তোমার তন্দ্রার নগরে শীতার্ত গারগেল হবো দেখে নিও।
মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস
শিরোনামে মধ্যবিত্তকে হাইলাইট করা হলেও লেখার বিষয়বস্তু উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ-মধ্যবিত্ত ছাড়া আর যে কোনো শ্রেণীর জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে। তবে লেখক যেহেতু মধ্যবিত্ত (অর্থনীতির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারে সেটা নিম্ন-মধ্যবিত্তও হতে পারে) শ্রেণীতে পড়েন, সেহেতু মধ্যবিত্তকে কেন্দ্র করে লেখাটাই নিরাপদ। বলা ভালো, অর্থনীতির সংজ্ঞা অনুসারে মধ্যবিত্তের প্রকৃত সংজ্ঞা (অর্থাৎ কী পরিমাণ আয় হলে একজন মানুষ বা একটি পরিবারকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে) লেখকের জানা নেই, তবে মধ্যবিত্ততা নিশ্চয়ই কেবল আর্থিক অবস্থা দ্বারা নিরূপণ করা হয় না- এর সাথে মধ্যবিত্তীয় মানসিকতাও অনেকটা মিশে থাকে।
পাগলের দিনলিপি (দুই)
নিজেকে ইঁদুর মনে হতে থাকে মাঝে সাঝে।
অনধিকার মেনেও ঢুকেছি গোলায়, ধান ক্ষেতে।
আর কখনো তোমাকে শিশু মনে হয়
গোপনে লজেন্স চুষে দাঁতের গোড়ায় পোকা।
মায়ের খবরদারীতে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে
তাকে ছুড়ে দিলে ইদারায়, ইতিহাস থেকে
বহুদূরে...মৃত্যুর দুয়ারে।
কখনো সখনো আমার সত্যিই ইচ্ছে করে
ইঁদুরের মতো ঢুকে পড়ি তোমাদের গাঁ'য়ে
তারপর আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন
করে দেই, রঙ-তুলিতে সাজানো সূবর্ণরেখা।
অসহায় পাগলের মতো নিজেকে আসলে
বেঁধে ফেলেছি লোহার শেকলে, ঘরের বাইরে
যেতে নিষেধ করেছে চিকিৎসক...সেও আমি!
প্রতিমার নিচ দিয়ে
ঘাসের আদরে ভুলে যাই শরীরের ব্যাধি।
রুপান্তরের মধ্যে দিয়ে অরূপ ও রূপ।-
আমি বুঝি দাড়িয়ে বাঁশের কন্চি গুনি!দন্ডায়মান স্বরূপ।
আৎকে উঠি
ঠাকুর ঘরের দোর ঠেলে এই যে কে বের হয়ে এলো।লালা ঝরছে ঠোট বেয়ে।
প্রতিমার নিচ দিয়ে আবছা ইঁদুরপথ।
তারই মধ্যে দিয়ে এখন প্রবাহিত পূজারীর গোপন অশ্রুকণা।
ঘাসের আদরে ভুলে যাই দৈহিক আচরণ।
যে দেহ না হলে এই ভুলে যাওয়া হতো না।-
তার নামে না হয় থাকলো দু'কুড়ি চারটে প্রণাম।
আৎকে উঠি
নামের মানুষজন আমার নামের মুখোমুখি
কালি হাতে,
অনন্তকাল।
অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে স্বীকার করছি কিছু করার নেই আমার
রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পত্তি খুন হয়েছেন। খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশিদের আবার জীবনের মূল্য আছে নাকি? আমি নিজে যদি এরকম খুন হয়ে যেতাম তাহলে সেটা নিয়ে হয়তো কেউ মাথাই ঘামাতো না। ওরা দুই জন সাংবাদিক বলে কিছুটা বাড়তি এ্যটেনশন পেয়েছেন। কথাটা কি ক্রুয়েল শোনালো? ক্রুয়েল শোনালেও কিছু করার নেই। এটা ক্রুয়েল ট্রুথ। এই এক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নাক গলিয়েছেন। তিনি দ্রুত জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, ঘটনাটা যেদিন ঘটেছে সেদিনের পত্রিকাতেই আরো অনেকগুলো খুনের সংবাদ আছে। সেগুলো কি আপনার পড়ার সময় হয়েছে?
বই মেলা কড়চা- ১১
আজ কড়চায় কিসস্যু লিখবো না।
আমার প্রিয় ছোট ভাই সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হল গতকাল রাতের কোন এক সময়।
ওদের ৫ বছরের ছেলে মেঘ এখন কী করবে ? আমরা কী করব ? আমাদের কী করণীয়... উত্তর একটাই জানিনা। আমরা, রাষ্ট্র কেউ আসলে জানিনা, কার কী করনীয়...।
বিধাতার কাছে ওদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
রাষ্ট্র বা সরকার বা পুলিশ বাহিনীর কাছে কিছু চাইবার নেই...
ওদেরকে স্মরন করে ওদেরই প্রিয় কয়েকজন মানুষের ফেইস বুক থেকে লেখাগুলো তুলে দিলাম...
১. মানতে পারছি না। বুক ভেঙে যাচ্ছে...।
আমাদের সামনেই বড় হলে তোমরা... সাংবাদিকতা শুরু করলে... ঘর বাঁধলে... বিদেশ গেলে... ফিরে এলে... তারপর এভাবে চলে গেলে...!
এভাবে চলে যাওয়া মানা যায় না। - গিয়াস আহমেদ
পথ চলা - ২
গত পর্বের লেখা পড়ে আমার বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ী প্রশ্ন করেছেন যে শিক্ষকতার শুরুতে আমাকে অতটা বেগ পেতে হল কেন? আমাকে তো তারা ভাল ছাত্র বলেই জানেন। আর জেনারেল এরশাদের কল্যাণে চার বছরকে আট বছর বানিয়ে ফেলায় লেখাপড়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাই নি এমন অভিযোগ ধোপে টেকে না। তাহলে কেন এই দুরবস্থা?
সত্যি এটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। তবে উত্তর খুব সহজ। পরিসংখ্যান মোটেই আমার পছন্দের বিষয় ছিল না। আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়া। এটা যে আমার কাছে কী একটা প্যাশন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাসায় সবাই এটা জানত। এমন কি এসএসসি তে যখন আমি মানবিক বিভাগ থেকে মেধা তালিকায় প্রথম হই, সেদিন যেসব সাংবাদিক আমার সাক্ষাতকার নিতে এসেছিলেন তাঁদেরও আমি বলেছিলাম,
আমি সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করে সাংবাদিক হতে চাই।
বই মেলা কড়চা- ১০
আজ আমার অনেক মন খারাপ। জীবনে এমন ধরা খাইনি। গত কদিন ধরে লোকজনকে মজা করে মুরগা বানিয়েছি। সেটা ছিল নেহায়েতই মজা। আর এ মজা দেখে বিধাতা পুরুষ বোধ করি আড়ালে বসে হেসেছিলেন। তিনি আমাকে এমন ধরা খাওয়ালেন যে, সেটা সহ্য করা বড় কঠিন। সামলে ওঠার চেষ্টা করছি...।
বাংলাদেশের বিশেষ একটি জেলার লোকজন আমার না-পছন্দ। অবশেষে সে বিশেষ জেলার একজনের পাল্লায় পড়েছি। আমার যদি বৌ আর দুটো ছেলে না থাকত, তাহলে জীবনের প্রতি এত মায়া থাকত না। আর তাইলে কালকের সব পত্রিকার শিরোনাম হতে পারতাম- একজন খুনি হিসাবে।
নিজের সম্পর্কে আমার যা ধারণা, আমি নিজে যা তা আমার প্রোফাইলে লিখে রেখেছি অনেকদিন আগে। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম আজকের কড়চায়-
মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অণুপাতে আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা...
এক ছোট্ট ফোঁটা আলো
আমার নিজস্ব জিরাফটাকে খুঁজে পাচ্ছি না। মেলমিন ছিলো এতদিন সঙ্গে সঙ্গে। মনে হয় ওকেও কোনো এক জু-কীপার কিনে নিয়ে যাবে। আহা প্রিয় বন্ধু আমার। ভালোবাসা নিও। হারিয়ে যেও না।
অর্ণবের না গান আছে? হারিয়ে গিয়েছি, এই তো জরুরি খবর। আমি কি কোনোদিন হারিয়ে যেতে পেরেছি? এক কৌটা বারবিকিউ ফ্লেভারের জ্যাকার, এক বোতল রুদার্বার্গ আর কয়েকটা ডাহ্নিল নিয়ে মিলব্যরাক পুলিশ লাইনের ভেতর ঢুকে, নির্জন বুড়িগঙ্গার পাড়ে বসে সন্ধ্যা পার করা, আর হারিয়ে যাওয়া কি এক জিনিস?
কেউ তো সিটার্ন বাজিয়েও শুনালো না আজতক। তাহলে নাহয় হাতটা গালে রেখে চুপচাপ তাকিয়ে থাকতাম সেই মেয়েটির মুখের দিকে। ক্যপ্টেন'স ওয়ার্ল্ড নামক খাবারের দোকানটি থেকে কেনা রাবারের টিকটিকিগুলোও মাঝে মাঝে টিক টিক করে ওঠে। কিন্তু জলজ্যন্ত নীল মৎস্যকুমারীটা কখনো জানতে চায় না, আমি কি কোনোদিন তাকে ভালবেসেছিলাম?
অবশেষে ম্যুরাল এল বই মেলায়

আমরা বন্ধু ব্লগে ২০১১ সালে লিখিত ব্লগগুলো থেকে বাছাই কমিটি কিছু লেখা মনোনীত করলেন। তার মধ্যে মুক্ত গদ্য, গল্প এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখা ছিল। সেসব লেখাকে ব্লগ থেকে কনভার্ট করে ওয়ার্ডে নেয়া হল। তারপর তা প্রুফে দেয়া হল। প্রুফ থেকে আউটপুট সেন্টারে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল অসংখ্য যুক্ত শব্দ ভেঙ্গে গেছে। সেসব চারদিন ধরে যত্নের সাথে সঠিক করার চেষ্টা করা হল। আউটপুট সেন্টার থেকে মেকাপ শেষ করে তা পজেটিভ এবং প্লেট তৈরি করে প্রেসে পাঠান হল। প্রেস থেকে ছাপিয়ে তা পাঠান হল- কাটিং এবং বাইন্ডিং কারখানায়। সেখান থেকে ফাইনাল সাজুগুজু সেরে ম্যুরাল অবশেষে আজ থেকে মেলায়।
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (৩)
৩.
আমাদের গ্যারাজটা’কে আমার আজীবন অদ্ভুত লেগেছে। আজও লাগে। আমার ধারণা আমৃত্যূ তাই লাগবে। ৯১-৯২ সালের দিকে ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্রীক একটা খুন হয়ে যাওয়ার পর এই গ্যারাজটায় ছেলে-পিলে সব আসা বন্ধ করে দিয়েছিলো। প্রায় দশ বছর পর; আমার যখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরঘুর করার এ্যমেচার লেভেল অতিক্রান্ত হয়েছে; তখন সুব্রত, তোয়াব আর আমি একদিন একটি নির্ভুল স্টিক হাতে ঢুকে পড়লাম সেখানে। বহুদিন পর বোধহয় গ্যারাজের বাতাসে গাঁজার ধোঁয়া উড়লো। সেই থেকে আখড়াটি চালু আছে। মান্না দে’র ‘একই সে বাগানে আজ এসেছে নুতন কুঁড়ি, শুধু সেই সেদিনের মালি নেই’ কথাটাকে সত্য করে দিয়ে টিকে আছে আজ বহু বছর ধরে।
খুশী
শরীরটা ভয়ঙ্কর খারাপ...গলায় খুসখুসে কাশি...ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে...তাপমাত্রা উঠানামা করছে। তারপরও কেন জানি খুব খুশী খুশী লাগছে...কারণটা এখনও সুস্পষ্ট নয়। রাতে শরীর খারাপের লক্ষন দেখেই মাথার মধ্যে পরের দিন কাজ ফাকিঁ দেয়ার প্ল্যান সাজিয়ে আয়েশ করে একটা ঘুম দিলাম।"কাজ করার মধ্যে যেরকম আনন্দ আছে ...মাঝেমধ্যে কাজ ফাঁকি দেওয়ার মধ্যেও আছে.." মেয়ের আদুরে স্পর্শে মনটা অনেকটা আবেগে গলিয়ে গেল। ভালোই একটা বাহানা পেয়ে গেল মায়ের পাশে শো্যার। বারবার বলছে ''Mummy, don't worry I will look after you, and i will sleep with you until you feel better..okay?' আবার আড়চোখে আমার reaction বুঝার চেষ্টা করছে, আমি যদি আবার মানা করে দেই
প্রতিদিন alarm-য়ের শব্দ শো্নার পরও যে মেয়েটা বলতো, "5 more minutes mummy please please please''.
বই মেলা কড়চা- ৯
এ ক'দিন মেলায় যেয়ে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম- শুধু আমি বা আমরাই মুরগা খুঁজি না। আরো একটা দল মুরগা খোঁজে। আর তারা হল টিভি চ্যানেলের লোকেরা। ক্যামেরা নিয়ে মেলার এ মাথা থেকে সে মাথা চষে বেড়ান তারা। মুরগার সন্ধ্যানে। মনপুত: মুরগা পেলে ক্যামেরা অন করে বোম ধরেন তার সামনে। পারুক আর না পারুক, প্রাসঙ্গিক হোক বা না হোক তখন তাকে বাধ্য হয়ে কিছু কথা বলতে হয়। এই যেমন- কী বই কিনল, মেলার পরিবেশ কেমন, বইয়ের দাম এবার আগের চেয়ে কম না বেশি ? সবচেয়ে সমস্যা হয় লাইভ প্রোগ্রামে যাদেরকে মুরগা হিসাবে কট করা হয়- তাদের। কী করবেন, কী বলবেন, সাজগোজ ঠিক আছে কিনা, পরিবারের লোকজনকে বলতেও পারেনা যে তাকে অমুক টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছে। পরে আফসুস করতে দেখেছি অনেককে। যেমন আমাদের ব্লগার ৪ কন্যা সেদিন আফসুস করেছিল।
ভুলে যাওয়া রুম নাম্বার কবিতারে আমি যেইভাবে বুঝতে পারি...
ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর
অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে
সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ
হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে
ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ
নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।
মানুষ বনে হাঁটি
দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়
আমি মানুষের বনে হাঁটি
একটা গহিনের প্রত্যাশা
কিংবা আলো ছায়ার অপেক্ষায়।
যেন খুব একটা পুরাতন আঁকড়ে রাখে আমায়
অথবা আমিই আঁকড়ে থাকি তাকে!
মানুষের বন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
তবু আমার হাঁটা ফুরোয় না।
চাঁদ যায়, ক্ষণ যায়, আলো যায়
ঘরে ফেরে ফেরারি বাতাস
অথচ দেখো, কেমন নির্লিপ্ত হয়ে
কাঁটাঝোপে রক্তাক্ত হতে হতে
সাপের মত দেহ টেনে টেনে
আমি কেমন মানুষের বনে হাঁটি।