ইউজার লগইন
ব্লগ
বই মেলা কড়চা- ২
দুপুরের পর পরই বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে ব্যাংকে একটা কাজ সারলাম। তারপর এস এ পরিবহনে একটা পার্শেল পাঠালাম। এরপর গেলাম লীনা দিলরুবার অফিসে। লীনাকে কাল টুটুল ম্যুরালের কিছু লেখা দেখতে দিয়েছিলো। রাতের মধ্যে সেগুলো দেখে শেষ করার কথা লীনার। দুপুরে আমি তার কাছ থেকে সেগুলো নিয়ে প্রেসে যাবো- সেরকমই কথা ছিলো। ওমা, অফিসে গিয়ে দেখি আমাদের লীনা আপা তখন বনানীতে। তার অফিসের কাজে গিয়েছে। বললো, ৩০ মিনিটের মধ্যে ফিরবে। আমি হাসলাম ওর কথা শুনে। বনানী থেকে দিলকুশায় ফিরবে ও; তাও ৩০ মিনিটে ! সময় নষ্ট না করে নিচে নেমে এসে একটা বিড়ি ধরালাম। তারপর ছুটলাম প্রেসে...
বইমেলা ২০১২ (টুকিটাকি)
অন্যদিনগুলো যেমনই যাক, ফেব্রুয়ারি মাসটা সবচেয়ে ভালো লাগার। অপেক্ষা করতে থাকি ফেব্রুয়ারি মাস আসতে আর কত বাকী! সারাদিন কাজ শেষে বিকেলবেলাটা বইমেলায় যাওয়া,খুব বেশী বই যে কিনি তা না। তবে ঘুরে ঘুরে বই দেখি, বই কিনিও কিছু। বিকাল-সন্ধ্যা আড্ডা, বন্ধুদের দেখা পাওয়া- যাদের সাথে হয়ত আর কোন সময় দেখাই হয় না, কিছু বই কেনা, নতুন বইয়ের গন্ধ, রাত জেগে নতুন কেনা বইগুলো যত্ন করে পড়া --- অসাধারণ অনুভূতি।আর এবার রোজ বাংলা একাডেমীর সামনে দিয়ে সকাল-বিকাল যাওয়া আসার পথে দেখতাম স্টল বানাচ্ছে, সাজাচ্ছে,। বইমেলার প্রস্তুতি রোজ দেখতে দেখতে মনে একটা আমেজ লেগে আছে সেই কবে থেকেই!
ভালবাসার বিচ্ছিন্ন কথন
ভালবাসি তোমায়
সকালের স্নিগ্ধ আভা থেকে
গোধুলির শেষ রঙ পর্যন্ত ।
পাটে নামা সূর্য যখন
নামাবে অন্ধকার
এই পৃথিবীর প্রতিটি জনপদে,
সেই আধাঁর কালো সময়েও
থাকতে চাই তোমারই পাশে ।
বুকের খুব গভীরে
লুকিয়ে রাখতে চাই তোমায়,
যাতে আধাঁর জুড়ে লুকিয়ে থাকা হায়েনারা
তোমায় স্পর্শ করতে না পারে
ওদের লোলুপতায় ।
হৃদয়ের গভীর থেকে জেগে উঠা
অদ্ভুত সব অনুভুতিরা জানাতে চায়
ভালবাসি তোমায় ।।
প্রতিটি দিন
প্রতিটা সময় কাটে
তোমারই মগ্নতায় ।
............
............
..............
যদিও তুমি আজ ক্লান্ত,
তোমার ভালবাসা আজ
উষ্ণতা খুঁজে বেড়ায়
দেহের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে ।
সব কামনার অবসান হলে,
নুয়ে পড়ে তোমার ভালবাসারা ।
তোমার হৃদয় নদীতে আজ
জেগেছে কামনার পলিচর ।
সেই কামনার চর ভেদ করে
কখনোই দেখতে পাওনি তুমি
এই হৃদয়ের গভীরতা ।
ঐতিহ্য
বিউটি বোর্ডিংএর আড্ডার টেবিলের শেষ চায়ের কাপটাও অনেক আগেই তুলে নিয়ে গেছে কেউ, অন্তত আমি যখন প্রথম বিউটি বোর্ডিং দেখি তার আগেই এখানকার লেখক আড্ডার ঐতিহ্য শেষ। ক্যাফে কর্নারের উল্টোপাশে বিউটি বোর্ডিং এর ছোটো জায়গায় অবহেলায় পরে থাকা কয়েকটা টেবিল আর প্লাস্টিকের চেয়ার একটি সত্য জানিয়ে গেলো পৃথিবীতে সবকিছুই প্লাস্টিকের মতো অবিনশ্বর নয়, সময়ের প্রয়োজনে সাহিত্যিক আড্ডাটা বাংলাবাজার থেকে দুরে সরে কিছুদিন শাহবাগের আজিজ মার্কেটে স্থিতু হয়ে এখন জায়গা পরিবর্তন করে কনকর্ড টাওয়ারের গ্যারেজে ঢুকে পরেছে। বিউটি বোর্ডিং এর মতো আজিজেরও সাহিত্যিক মৃত্যু ঘটেছে
থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী উত্সব
ঘুরাঘুরি করতে কে না পছন্দ করে ? যারা করে না তাদের এক কথায় নিরামিষ ছাড়া আর কিছু বলা চলে না। আর ঘুরাঘুরির দিক দিয়ে থাইল্যান্ড সবার কাছেই বেশ পরিচিত। বাড়ির কাছে হওয়াতে সবারই একবার ব্যাংকক ঘুরে যাওয়ার প্ল্যান থাকে। আর সেই প্ল্যানটা যদি হয় ঐতিহ্যবাহী উত্সব এর দিনগুলির মধ্যে তাহলে তো এক জোড়া চোখে দুই জোড়া সানগ্লাসের মত অবস্হা । তেমনই একটি উৎসবের নাম হচ্ছে সংক্রান যা আমাদে দেশের আদিবাশীরাও করে থাকে। এই থাই নতুন বছরের উৎসব এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত হয়ে থাকে। সারা দিন রাত জুড়েই থাকে উৎসবের থৈ থৈ আমেজ। এখন মনে হতে পারে যে থৈ থৈ বললাম কেন?
মানুষের সময় চক্র
.............................................................................
.............................................................................
.............................................................................
.............................................................................
সকাল
আইসক্রীম মোড়কে রোদ্দুর ঝলসালো
প্রতিরোধ ভেঙে চুইয়ে চুইয়ে নামলো
লোহার চৌকিতে; চোখ মেলতেই মিলেছে
সময়ের দুই কাটা। সময় কি মেলে তবে?
জল কেটে দ্বীপভূমি আর ওপারে পথের
চিহ্ন দেখা যায়; রোদ্দুরে শুকিয়ে গেলে
হাটুজল পেরোতেই একমুখী বাহন অপেক্ষা
মেলে দিয়ে বসে আছে কবে তার কথামালা
সুর ঢেলে দিয়ে গান হয়ে যাবে...
দুপুর
শহুরে চড়ুই গুলো মেঠো ঘুঘু সেজে ডাকে
সেই ডাকে পথ ভুল করে, ভুল পথে চলি।
প্রতারক পাখিগুলো হেসে গড়াগড়ি খায়
বই মেলা কড়চা- ১
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বাইরে যাই না। ঢাকাতে থাকার চেষ্টা করি। এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে বই মেলায় যাই। বই মেলায় এদিক সেদিক ঘুরে অবশেষে এক জায়গায় জড় হই। এবং মেলার শেষ লাইটটা নেভানো পর্যন্ত আড্ডা দেই। তারপর দল বেঁধে টিএসসি পর্যন্ত হেঁটে আসি। সেখানে আমার হলুদ বর্ণের মোটর সাইকেলটা থাকে। প্রতিদিনই মেলা থেকে বেরিয়ে ভাবি, টিএসসিতে গিয়ে দেখবো মোটর সাইকেলটা নেই। কেউ নিয়ে গেছে। অথচ কেউ আমার মোটর সাইকেলটা নেয় না। না নেবারও একটা গোপন কারণ আছে...
এক টিকিটে দুই ছবি
(প্রথম ছবি : একটি নামহীন কবিতা)
আমার যখন কলম খোলে না
বুকের ভেতর ঝিকিরমিকির নদীর রেখায়
বেলীফুলের বাতাস লাগেনা,
রাত তলানো কান্না জোটে না
টান হারিয়ে ঢিলে তালের একতারা এই
দেহের তারে ছন্দ মেলে না ।
নিকোটিনের আঁধার গুড়িয়ে
কাজল রেখায় অবহেলার সুরমা মেখে
নামতামুখর নূপুর বাজিয়ে
আসতে সাধি প্রসাদ সাজিয়ে
হয়তো তবে ভেতর থেকে ডুকরে ওঠা
পঙক্তি দেবে ঊষর ভিজিয়ে।
(২য় ছবি : একটি আবেদন)
অধম আশরাফুল আলম খুলনা থেকে স্বপ্নতরী নামের একটি ক্ষুদ্র মাসিক শিশুতোষ পত্রিকা সম্পাদনা করে ।
আগামী পাঁচ তারিখের ভেতর আপনাদের কাছ থেকে যে কোন ধরনের শিশুসাহিত্য কামনা করছি ।
লেখা মেইল করার ঠিকানা : shapnotori@gmail.com
সরওয়ার এবং জীবন চক্র... ১
আজকের রাত বেশ অন্ধকার। আকাশে চাঁদ তারা কিছুই নেই শুধু জমাট বেধে থাকা মেঘ ছাড়া। সরওয়ারের এই রকম রাতে বিদঘুটে যন্ত্রনাবোধ হয় কারন সে আকাশের তারাগুলি দেখতে পারে না। প্রতি রাতে সরওয়ার উঠানে পাটি বিছিয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশে তারার দিকে তাকিয়ে থাকে আর তার মায়ের কথা ভাবে। দাদি বলেছে মানুষ মৃত্যুর পর তারা হয়ে যায় আর ঐ দূর আকাশ থেকে তাকিয়ে দেখে তার প্রিয় মানুষটিকে। তাই সরওয়ার প্রতি রাতে নিয়ম করে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে থাকে। সরওার নিজেও জানে না তার মার কাছে সে প্রিয় ছিলো কিনা, প্রিয়ই যদি থাকতো তাহলে তাকে মাত্র ৭ দিনের রেখে কি অভিমানে চলে গেলো না ফেরার দেশে।
আমার "রচনা সমগ্র"
মুখবন্ধঃ দেখিতে দেখিতে ফেব্রুয়ারী মাস আসিলো। বই মেলা আরম্ভ হইলো । কোকিলের কুহু কুহু করিতে লাগিলো। বইমেলায় লেখকগণের বই আসিবে , মোড়ক উন্মোচন হইবে। নিত্য নতুন বই এর পাশা পাশি পুরনো বই মেলায় আসিবে । আসিবে লেখকদের "রচনা সমগ্র"। এইসব ভাবিয়া দেখিলাম আমারো রচনা সমগ্র প্রকাশ করিবার দরকার। যেহেতু সেই ছোটবেলা থেকেই লেখা লেখি করি ( তাহা যতই অখাদ্য হউক না কেন) কাজেই আমি একজন লেখক
। সকলের ন্যায় আমারো তাই "রচনা সমগ্র" থাকা উচিত। যেহেতু ব্লগেই লেখালেখি করিয়া থাকি , তাই ভাবিলাম ব্লগেই আমার রচনা সমগ্র থাকা উচিত।
বিস্তারিতঃ
চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ি-৮
যেই দেশে থাকি শীত ভালোই পড়ে। আসার আগে জানতামও সেটা যেই কারণে ঢাকা নিউমার্কেট আর ঢাকা কলেজের সামনে থেকে অনেক শীতের কাপড় কিনে এনেছিলাম। পরে দেখালাম আমার ধারণার বাইরে বেশী শীত পড়ে আমার শহরে তা আবার দেশের অন্য জায়গা থেকে অনেক কম।তা এই শীতে আমার জান যায় যায় অবস্থা। শীত নিয়ে এতো প্যাচাল শুরু করলাম ক্যান?
কারণ অনেকদিন ধরে ঠিক করে রেখেছি এইবার যেদিন তুষার পড়বে সেদিন ছবি তুলে ব্লগে একটা পোস্ট দিবো।
বছরের প্রথম দিন বুসান গেলাম আমার ইউনির এই সেমিস্টারে ডিগ্রী পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা পার্টি তে।পার্টি শেষে ফটোসেশনের সময় শুরু হলো তুষারপাত। ভাবলাম কালকে সকালে ফাটাফাটি কিছু ছবি তুলে পোস্ট দিবো। তুষার বেশী হয়ে গেলে আমার শহরে আসা দুরূহ হয়ে যেতে পারে এই কারনে অন্য বন্ধুদের চাপে তাড়াতাড়ি চলে আসতে হলো। ও বাবা!!! আমার এলাকাতে এসে দেখি পুরাই খটখটা অবস্থা।কোন তুষারই পড়ে নাই।
যাত্রা হল শুরু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পর্ক কি?
মায়ের সাথে সন্তানের যে সম্পর্ক ঠিক তাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়, পরিসংখ্যান বিভাগ আমাকে দু'হাত উজাড় করে দিয়েছে। বরং এই অধম সন্তানই পারেনি তার যথোপযুক্ত প্রতিদান দিতে।
’৯২ এর মে মাস, পাশ করেছি মাস তিনেক।বাবা অবসরে,গুরুতর অসুস্থ, প্রাণ সংশয়, ঘরে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ভাই, বোনটা স্কুলে। দারিদ্র্যের কষাঘাত কাকে বলে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। সমানে প্রাইভেট পড়াচ্ছি। কিন্তু কারো কাছ থেকেই পয়সা নিচ্ছি না, এটা যে আমার নীতি বিরুদ্ধ।
স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার। কিন্তু কবে নিয়োগ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
মানুষের জীবনচক্র
............................................................................................
............................................................................................
............................................................................................
ঘুম
স্পন্দন ঠাহর পেলো ঘুঘু পাখি
তার ক্রমাগত ডাকে টুটে গেলো
মৌনতার বিসদ মেমোরান্ডাম
চোখ তুলে তাকাতেই অনিশ্চিত
ভিখিরি চাহনী ছুঁয়ে দিলো এলো
চুল; তারপর ঘুঘুটা উড়ে গিয়ে
দূরের পাকুর ডালে ঠাই নিলো।
জাগরণ
চোখ বুজে এলো কোলাহলে
তার চুলে সোনালী পাথর
চমকাতেই "গুলশান! গুলশান!"
বলে ডাকাডাকি শুরু হলো।
মানুষেরা নেমে এলো পথে
আরো দূর যাবে বলে থির
বসে রইলো অমানুষেরা।
দূর বলে কোনো দূরত্বের
সীমারেখা পৃথিবীর পথে
মানা হয় নাই বহুকাল।
আড্ডা
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা
তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতি আমাকে
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা শিখিয়েছে
তোমার নির্দয় চলে যাওয়া আমাকে
চোখে জল নিয়ে মুখে হাসি দিয়েছে
হাত বাড়িয়ে তোমাকে ছুঁতে না পারার
বেদনা শীতল নিজেকে গোটানো দেখিয়েছে।
জানিয়েছে এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
অসহ্য যন্ত্রনায় তোমার বুকে কাঁদতে না পেরে
শিখেছি কান্না কি করে গিলে ফেলতে হয়
জীবনের প্রতিটি আঘাত আমাকে আরো দৃঢ় করেছে
আজ আমি জানি জীবন কাটবে জীবনের নিয়মে
ভালবাসা হারিয়ে যাবে ভালবাসার নিয়মে
তারপরো অপ্রত্যাশিত কোন আশা মনে নিয়ে
রোজ সকালে আমি চোখ মেলি।
প্রতিদিন আমি পথ চলি।
তানবীরা
৩১/০১/২০১
ফোনকল
সকাল সকাল অফিসে পৌছাইতে না পৌছাইতেই হাসানের মনে হইতে থাকে এখন একটা ফোনকল আসতে পারে। বাড়ি থেইকা বাইর হওনের পর থেইকা অফিসের রিসেপশনে আইডেন্টিটি কার্ড পাঞ্চ কইরা উপস্থিতি জানান দেওন পর্যন্ত সময় লাগছে এক ঘণ্টা চৌত্রিশ মিনিট। এই দেড় ঘণ্টা পার হওয়া সময়ে হয়তো রিমি কেবল দরজায় মিনিট তিনেক কাটাইয়া অভ্যাসমতোন সেকেন্ড কাপ কড়া কফির কাপে শেষ চুমুকটা দিয়া পত্রিকার বিশাল বাংলা সেকশনে মনোযোগ দিয়া মুক্তিযোদ্ধা গফুর মিয়ার অভাব অনটনের সংবাদ পড়তেছে; এরপর তার মন খারাপ কইরা উদাস হওনের সময় দিতে হইবো মিনিট বিশেক। ততোক্ষণে তার মনে পড়বো বিছানার চাদরটা প্রায় তিন দিন হইয়া গেছে তোলা হয় না। শুচিবায়ুতার ফর্মুলামতে বিছানার নোংরা চাদরটাও সে ভাঁজ কইরা তুইলা রাখবো ময়লা কাপড়ের বাস্কেটে, বদলে নতুন সাদা ফুলতোলা চাদরটা ভাঁজ খুইলা আল্টিমেট কন্সেন্ট্রেশনে বিছাইতে বিছাইতে আরো প্রায় বিশ মিনিট। তেতাল্লিশ মিনিট পর আটটা পঞ্চাশের দিকে ক