ইউজার লগইন
ব্লগ
ক্যান আসো ফিরে (খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত কবিতা)
হাত ধইরে মারো যদি টান
টাল খায় কলজের ঘর ।
ধুয়ে যায় মান আর অভিমান
কামনায় প্যাঁচ খায় কণ্ঠের স্বর ।
সুন্দরী ! কও দেহি শুনি,
তুমি যদি প্রেমই নিতি চাও;
চোখ দিয়ে যদি কিছু কই
লাল হয়ে ক্যান ফিরে যাও ?
ছুইটে চলে গাঙ্গের পানি,
এই দ্যাহো জুয়ার অই দ্যাহো ভাঁটা ।
তুমিও গাঙ্গের মত সই
আসার আগেই ধর হাঁটা ।
ভালবাসা না-ই যদি থাহে
তালি কও, ক্যান আসো ফিরে
আমারে মুছতি দেইহে চোখ,
ভীরু চোখি চুপচাপ ধীরে !
ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি
সেদিন এক ক্লাসমেটের সাথে দেখা হওয়া মাত্র কি খবর, কেমন আছো কোনো কিছুর ধারধারি নাই জিজ্ঞাসা করলো এই তুমি কি এখনো ক্লাসে ঘুমাও?
আমিও স্বীকার করলাম হ্যাঁ। আগের মতোই ঘুমাই।
ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চে বসে ঘুমানোর প্রতিভা আমি খুব ভালো ভাবেই আয়ত্ব করে নিসি অনেক আগেই। পড়তে বসলে বইয়ের উপর মাথা রেখে ঘুমানো সহ অনেক বিচিত্র ঘুম ঘুমানোর অভ্যাস থাকলেও স্কুল লাইফে ক্লাসে বসে কোনোদিন ঘুমাই নাই।
স্কুল লাইফের ফার্স্ট বেঞ্চার কলেজে উঠে হয়ে গেলাম ব্যাক বেঞ্চার শুধু মাত্র ঘুমের জন্য। আমার কলেজ লাইফের একমাত্র এবং অন্যতম বান্ধবী মীমের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার সাথেও আছে আমার ঘুমের গল্প।
বই মেলা কড়চা- ৪
এই ঢাকা শহরে থাকলেও কদাচিৎ যাদের সাথে দেখা হয় বা মোবাইলে কথা হয় সেই সব পরিচিত জনদের সাথে বই মেলা আসলে দেখা হয়। তো, এমন একজনের সাথে আজ দেখা হলো মেলায়। ভাল্লাগলো ভীষন। বিশেষ করে তার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করলো। মনেই হয়নি প্রায় বছর খানেক পর তার সাথে দেখা হয়েছে। তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে কালই একসাথে ছবির হাটে চা-বিড়ি খেয়েছি। ভদ্রলোকের স্ত্রীও বেশ আন্তরিকতার সাথে খোঁজ খবর নিলেন। মেলায় ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। যদিও অনেক মেজাজ খারাপ নিয়ে আজ মেলায় গিয়েছি। একবারতো ভেবেছিলাম, আজ বই মেলায় যাবোই না। আবার মনে হলো- তাহলে বই মেলা কড়চা- ৪ যে লেখা হবেনা। এই বার পণ করেছি- যা থাকে কপালে, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক: ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন একটি করে কড়চা লিখবো...
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং
সাপের জিহ্বার মতো আকাশের বিদুৎচমক
তোমাকে পাল্টে দিল রাস্তা চেনার পাঠক্ষেত।
বিদ্যার বদলে তোমার রাস্তা গেল আলয়ের দিকে।
এবং তারপর অবিদ্যা অধিবিদ্যার পথ গিয়ে থামলো বাইজিদ বোস্তামির মাজার প্রাঙ্গনে।
সেখানে হলুদ অক্ষরে মেট্রাপলিটন সঙ্কেত বার্তা:
কচ্ছপে কামড়ে ধরলে মেঘ না ডাকা পর্যন্ত ছাড়ে না'
তোমার অধিবিদ্যাতে আগ্রহ নেই
মেঘ ডাকছে
তুমি পা চুবিয়ে ধরলে ।
তোমার জ্বালা বেড়ে গেল
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং দীর্ঘতর।
বইমেলা চত্ত্বরে
গতবারই দেখেছিলাম, এবার দেখলাম সাজানো গোছানো মেলা তৈরিতে বদ্ধপরিকর বাংলা একাডেমী কতৃপক্ষ লেখকদের জন্য বর্ধমান হাউসের উল্টোপাশে একটা খাঁচা বানিয়েছেন, চিড়িয়াখানার গেট দিয়ে ঢুকলেই সবার প্রথমে চোখে পড়ে বাঁদরের খাঁচা আর বইমেলা চত্ত্বরে বাংলা একাডেমীর স্টল পার হয়ে সামনে এগুলেই চোখে পড়ে লেখকদের খাঁচা। অবশ্য তাদের যুথবদ্ধতা এবং সংঘবদ্ধ দাঁতখিঁচানি দেখে মনে হয় কতৃপক্ষ খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন নি।
কামরুদ্দীন আহমেদ তার "পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি" গ্রন্থে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা বিষয়ে লিখেছিলেন
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (১)
নিজের ধৃষ্টতা দেখে নিজেই অবাক হচ্ছি। সেই অবাক হওয়ার মাত্রা এত বেশি যে এ নিয়ে বেশি কথাও বলতে পারছি না। আমার সকল বন্ধু-বান্ধবের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, প্লীজ এই অধমের উপন্যাস লেখার অপচেষ্টা চালানোর দুঃসাহসকে ক্ষমা করে দিন। আমি মনে হয়, জীবনে খুব বেশি বার এই অপকর্ম করবো না।
আরেকটা জরুরি কথা হচ্ছে, গত বছর আমি কিছু পোস্টে ডিসক্লেইমারের কথা বলে রেখেছিলাম। সাতটা পোস্ট। ডিসক্লেইমারগুলো পরে জানাবো বলেছিলাম। এই উপন্যাসটা লেখা হলেই সেগুলো জানিয়ে দেবো। এটা আসলে খুবই ছোট আকৃতির একটা উপন্যাস। আমি জানি উপন্যাসতো নয়ই, এটা উপন্যাসের নামে কোনো অপন্যাসও হয় নি। তারপরও ধারাবাহিকভাবে এটা আমার ব্লগে প্রকাশ হবে। সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী আবারো।
মাধুর্য্যময়
আমার জীবনটা এখন মাধুর্য্যময় । মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভাংলো, শুনি বাচ্চার কান্না, দেখি মাধুর্য্য বিছানায় নাই। কি ব্যাপার! কোথায় সে! দেখি ওর বাবা যে দিকে শোয়, সেই পাশের মশারীতে ঝুলছে। তার বাবা কুম্ভকর্ণের মত ঘুমিয়েছে, মেয়ে যে তার গায়ের ওপর দিয়ে পড়ে গেছে সে খবর তার নাই। মেয়ের তারস্বরে কান্না শুনে সে ও ঘুম ভেঙ্গে হতভম্ভের মত বসে রইল। আমি ছুটে যেয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করলাম। খুব ভয় পেয়ে গেছে মেয়ে। একটু পর কাঁদতে কাঁদতে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এভাবে সারারাত ঘুম আর হয় না, প্রায় জেগেই থাকি বলা যায়। ঘুমের মাঝেও সারা বিছানা তার বিচরণ। কখন আবার কি ভাবে পড়ে যায় কে জানে? এরকম উৎকন্ঠায় সারারাত ঘুম আর হয় না আর, প্রায় জেগেই থাকি বলা যায়। হয়ত একটু চোখ লেগে গেছে, হঠাৎ টের পাই আমার ঠোটের উপর সজোরে কি যেন এসে পড়ল, ব্যাথায় কুঁকড়ে গেলাম। উহ!
আজো.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
আজো..
প্রতিদিনকার বিকেলবেলায়,
প্রতীক্ষা..
এলোমেলো চুলে;
আনমনা আঙ্গুল,
আদুরে শাসন..
অলস বিষণ্ণতায়;
বেড়ে উঠে-
ইট কাঠের খাঁচা,
বাতাসের ব্যারিকেড..
বেখেয়ালে বন্দি;
মনের কুঠুরি জুড়ে,
স্মৃতিধুলোর পোস্টার..
বদলে যাওয়া প্রিয়মুখ,
ছুটির নোটিশ..
দখিন দুয়ার জুড়ে,
সমুদ্দুরের হাওয়া..
হারিয়ে যাওয়ার;
সুনীল জলরাশি,
বালুকাবেলার হাতছানি..
দুঃচিন্তা ভোলার একলা প্রহর,
আধো ঘুমে রেখে দেয়া বই..
ভুলে ভরা প্রার্থণায়,
অবাক আলোর নিশ্চিন্তিপুর..
আজো..
অগাধ নির্ভরতায় ছুঁয়ে যাওয়া হাত,
ভালবাসার আশ্বাসে খুঁজে পাওয়া চোখ..
প্রতীক্ষার..
খোলা আকাশ জুড়ে,
এক ঝাঁক পায়রার উচ্ছাস..
সাঁঝের মায়া,
অন্ধকারের বদ্ধ সময় শেষে..
ফিরে চাওয়া,
সূর্যের দিন..
শায়লার দিকে যাওয়া: রাজনৈতিক সম্পর্কের মেটাফিজিক্স উন্মোচন প্রচেষ্টা...
...ইতি, আব্বু। [১]
শুদ্ধ,
মা আমার, তুই ভালো আছিস তো?
তোর বোকাতম আব্বুর এই লেখাটা কি আগ্রহ নিয়ে পড়ছিস, নাকি অনিচ্ছায় পড়ছিস সেটা একমাত্র তুই ই জানিস। একটা জিনিস সবার আগে জানিয়ে রাখি; তোকে লেখা চিঠিগুলোতে আমি যে কথগুলো বলবো সেগুলো কোনো আদেশ না। বরং এগুলো তোর বোকা আব্বুর উপলব্ধি। যেগুলোকে তুই অনায়াসে ইগ্নোর করতে পারিস, আবার ভালোবেসে আপন করে নিতে পারিস। একেবারেই তোর ইচ্ছা। এখান থেকে তুই যদি জীবন পথের কিছু পাথেয় পেয়ে যাস, সেইটাই আমার সবচে বড় প্রাপ্তি হবে।
প্রথম চিঠি বলে,সততা নিয়ে আমার ভাবনাটা তোর সাথে শেয়ার করা উচিত বলে মনে করছি। আমার কাছে সততার সংজ্ঞা যেমন, সেটা অন্য অনেকের সাথেই হয়তো মিলবে না।
খোলা ডায়েরি....
বছর পেরিয়ে গেল কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই। এর মধ্যে পেরিয়ে এসেছি কত উচু নিচু পথ। এখনও আমার কাছে সব কিছু নতুন লাগে। তোমার গল্প....তোমার হাসি....আর তোমার বেশী রেগে গেলে " কেন? ...why?
আইসক্রিম
কাল রাতে হাটতে হাটতে অনাহারী চক্ষুদল চাক্ষুস করেছে একটা নক্ষত্রের আইসক্রিম। পিপাসা আর তৃষ্ণার ছুরি আমার মাতৃভাষা বোঝেনি। আইসক্রিমটা সোজা চলে গেছে অন্য কারো হাতে। বুকভর্তি হাহাকার নিয়ে পথ চলেছি। অর্থহীন স্বরে ধ্বনির সাথে ধ্বনি। তবু একটা অদৃশ্য আইসক্রিমের ছায়া আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে বহুকার। আমি হাতজোড় করে বলেছি, এই মুহূর্তে একটা আইসক্রিম কেনার স্বামর্থ আমার নেই। তবু নক্ষত্র কথা শোনেনি। অকারণে চোখে ঝরেছে জল, পিপাসার্ত হয়েছি আরো বেশি। হঠাৎ দেখি আইসক্রিমটা হয়ে গেছে হীমবাহ। নিরেট আর গভীর ছদ্দবেশী।
পথ চলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকতার শুরুটা ছিল স্বপ্নের মত। বিভাগ আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছিল তার প্রতিদান দিতে পারব কি না সেই চিন্তায় সবসময় অস্থির থাকতাম। আমাকে প্রথমেই পড়াতে দেওয়া হল মাস্টার্সে Order Statistics. ক্লাসের সবাই বন্ধুস্থানীয়। আমার কোন কোন সহপাঠী যারা যে কোন কারণেই হোক না কেন একটি বছর খুঁইয়েছে, তারা আছে সেখানে। তাদের সাথে তুই তোকারি সম্পর্ক। আছে মামুন আপনের মত আপন জন। দু’ একজন বড় ভাইও আছে। ওরা ক্লাসে বলত স্যার, বাইরে ভাই বা দোস্ত। মহা ফ্যাসাদ। আমাদের বিভাগের অন্যতম কৃতী শিক্ষক প্রফেসর রেজাউল করিম মামুন (যাঁর একটি গ্রন্থ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশন Springer-Verlag থেকে প্রকাশিত হয়েছে) সেই যে আমাকে স্যার বলা আরম্ভ করল যা অদ্যাবধি বহাল আছে। প্রথম বর্ষে পড়াতে দেওয়া হল Probability. আমি ছাত্র থাকাকালীন এই কোর্সে ভাল করি নি, তাই কোর্স দেবার সময় মনোয়ার স্যার বললেন
নির্জন নিশীথে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
টিক টক টিক টক..
নিরবতা ভেঙ্গে পড়ে,
কালের অতল গহ্বরে..
নিস্তদ্ধতার মেঝে তে পা ফেলতেই,
চারিদিক শীতল অন্ধকার..
অবাক শিহরনে-
কেঁপে উঠে,
নিমেষে হারায় আলোর পরশ..
ঝড় তোলা চায়ের কাপে,
আজ মাতাল প্রানের ঘ্রান..
বদ্ধ বাতাস আজ পাগলপারা,
আনন্দে হারিয়ে যাবার ছলে..
অনেক অনেক দিনের পর,
আজ অন্ধকার..
মুঠোফোন মূহুর্ত যত,
হাতে ছুঁয়ে যায় হাত..
স্নিগ্ধ দুচোখে,
আলতো হাসির ঢেউ-
ভেসে চলে নিয়নে..
ভুল সুরে গাওয়া গান,
নিরর্থক কথকতায়-
অপার্থিব মুগ্ধতার;
অসম্পূর্ন সিম্ফনী..
স্মৃতির শহর জুড়ে,
পথিকের পথ-
নির্জন নিশীথে,
অকারন কারনে-
ভাবনাবিহীন..
সঙ্গী কেবল;
একরাশ বিস্ময়ের,
অফুরান ভালবাসা..