ইউজার লগইন
ব্লগ
আগুনের পুরাণকাহিনী
কিছুদিন আগে একটা বই পেলাম-- আদিবাসী আমেরিকানদের পবিত্র গল্প (Native American Stories of the Sacred)। লোককাহিনী/রূপকথা/ধর্মকথা আমার আগ্রহের জায়গা। তাই অনেক কাজের চাপের মধ্যেও সময় পেলেই চট করে একটা গল্প পড়ে নেই। আমাদের দেশের প্রাচীন লোককাহিনীগুলোর মত এগুলোও বিনোদনের সাথে সাথে গভীর উপলব্ধির তৈরী করে। সহজিয়া কথক ঢংয়ে বলা গল্পগুলোর মধ্যে দিয়ে পাওয়া যায় সামাজিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ন প্রমান। “পৃথিবী কিভাবে তৈরী হলো”, “প্রথম আগুন” বা এজাতীয় অন্য গল্পগুলো শুধুমাত্র তাদের সামাজিক জীবন বা চিন্তাধারাই ব্যাখা করেনা সাথে সাথে তুলে ধরে নেটিভ আমেরিকানদের বিশ্বাসের একটি বিশেষ দিক, যাতে প্রকৃতি, মানব, ঈশ্বর, পশুপাখি সবাই একে অপরের পরিপূরক, সবাই পবিত্র আত্মার অংশ।
হুদাহুদাই (৪)
উপহার দেও, উপহার। অপরকে আর নিজকে, সে দেওয়াও আনন্দ, নেওয়াতেও। ক্ষমা করে দেওয়াতে কিবা বিস্মৃত হয়ে যাওয়াতেই সকল আনন্দ নিহিত। কিন্তু দেয়া নেয়ার এই খেলাতে ভীষন অপটু যে! হাসিতো সংক্রামক কিন্তু দূঃখের অনুভূতিও কি তাই? তবে একটাকে ভালোবাসি অপরটাকে কেনইবা ডরাই! আমার ঘরের দক্ষিনা জানালা দিয়ে আম-কাঠাল গাছের ফাকঁ দিয়ে কেবল একফালি না, উঠান জুড়ানো জোছনা দেখা যেত। এখনতো দিব্যদৃষ্টিতে জোছনা দেখি না, ঘোর লাগা আলোতে আর অহেতুক খুশিতে ভাসতে পারি না। দেখার আর অনুভবের বিষয়টাতে এতো বৈপরীত্ব কেন হয়? এখন হঠাৎ অজান্তেই মন জোছনাময় হয়, সব ভার হয়ে যায় । আজ আবার তেমনি জোছনা, আজ আবারও মন ভালোনা।(লাল্ভাইর কথা এটা, পড়েই আসলে মন ভার হয়ে গেছে।)
পাগলের দিনলিপি (এক)
লেখাজোখার আগ্রহটারে আমার মাঝে মাঝে
অসুস্থতার মতোন লাগে। ডেফিশিয়েন্সি্।
মাঝে মাঝে আমার লোভে চোখ চক চক করে।
স্বাভাবিকতায় ভেসে যেতে চাইলেই কি আর
সরে যাবে লক্ষ্য আর ভিজে যাবে কুড়োন কার্তুজ!
একটা দিনের আশা নিয়ে শুয়ে থাকি বিছানায়,
সভ্যতার মতোন ক্ষয়িষ্ণু বিছানায় আমার ওজন
আর হারানো ছায়াটা জড়াজড়ি করে...
গড়াগড়ি খায়। আমি স্বাভাবিক হবো বলে
ধ্যানে মগ্ন থাকি। কোত্থেকে যেনো এক যেন সাধু
উড়ে আসে গেরুয়ারে পাখার মতোন মেলে দিয়ে।
ধ্যান টুটে গেলো তার পাখার অসহ পতপত শব্দে।
সে বলে, "দেখো আমি শব্দহীনতায় আছি,
যদি তুমি কিছু শুনে থাকো, সে তোমার কানের বিভ্রান্তি।"
বই মেলা কড়চা- ৮
বই মেলা নিয়ে প্রতিদিন একটা কড়চা লিখার ইচ্ছে মেলা শুরুর আগে থেকেই ছিল। সে মতে শুরুও করেছিলাম। সেটা দিন দিন কিঞ্চিত জনপ্রিয়ও হয়ে ঊঠার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আজ কাল আমি শংকিত। কড়চার মুল বিষয় হয়ে উঠছে- মুরগা ধরা। এ কারণে ব্লগারের উপস্থিতি ক্রমান্নয়ে কমে যাচ্ছে। মেলায় গেলেও অনেকে আজকাল লিটল ম্যাগ চত্বর এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। ফলে মুরগা হবার ভয়ে আর অনেকেই আড্ডায় যায় না। আজ মেলায় ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম আনিস ভাই, নূপুর আর লীনা ফেরদৌসকে। মেলায় গিয়ে শুনলাম- জয়িতা আর লীনা মেলায় গিয়ে দ্রুত মেলা ত্যাগ করেছে। সেটাও মুরগা হবার ভয়ে...। কী সব্বোনাষ ! এভাবে চললেতো মুরগা পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়বে। তবু হাল ছাড়ছিনা। আল্লাহ ভরসা...।
ভুলে যাওয়া রুম নম্বর
***
ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর
অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে
সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ
হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে
ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ
নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।
পথে পথে যেতে যেতে -২
বইমেলা ২০১২ (টুকিটাকি-২)
প্রায় প্রতিদিনই যাচ্ছি বইমেলায়।প্রতিদিনই ভাবি, কাল আর আসব না,২/১ দিন পর আবার আসব। সেটা আর হয়ে উঠে না। হয় আমি নিজেই যাই, অথবা লীনাপা বা অন্য বন্ধুরা বলে যেতে... সেই ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাকে দেয়নি। বই কিনি আর না কিনি লিটল ম্যাগ চত্বরে গিয়ে বসি, গল্প, আড্ডা চলে। স্টলে ঘুরেফিরে দেখি পরিচিত কারো কোন বই আসলো কিনা। এবার আমাদের ব্লগের বই বের হবে, সেই বহু প্রতিক্ষিত বই - 'ম্যুরাল' এর জন্য রোজ অপেক্ষা-- কবে আসবে, কতদূর কি হলো। কাজ আমি কিছুই করিনি কিন্তু অপেক্ষা, আগ্রহের কোন সীমা পরিসীমা নেই। জানা গেলো 'ম্যুরাল' সম্ভবত আসবে আগামীকাল, ০৯ ফেব্রুয়ারী। পাওয়া যাবে লিটল ম্যাগ চত্বরে। ম্যুরাল এর জন্য সবসময়ই শুভকামনা। 
অসুখের জবানবন্দি
ইদানিং একটা অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি। এগুলো কি কোন ধরনের রোগ নাকি কেবলই আমার আঁতলামো একাকিত্বের ফসল কে জানে। কোন একটা অদ্ভুত কারণে আমি যেন একটা একটা করে দিন গুনতে শুরু করেছি। কিন্তু অনেক ভেবেও দিনটা যে কি তা বের করতে পারলাম না। মাঝে মাঝে মনে হতে থাকে আমার সারাটা দিন, সমস্ত ভাবনা, সব যেন বিশাল একটা ক্যালেন্ডারে বন্দি। জানুয়ারি গেলেই ফেব্রুয়ারি। তারপর মার্চ, এপ্রিল....। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় লাল রঙের কতগুলো সংখ্যা যেন সেøামোশনে ভাসছে। ৪, ৬, ১৬ জানুয়ারি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ৩০ মার্চ, ১৯ জুন, ২৯ জুলাই, ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর, ২২ নভেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর।
আজ মেলায় আসছে রঙ্গরসে জীবনযাপন

রম্য লেখার কিন্তু নানা সুবিধা আছে। সৃজনশীলতা তেমন লাগে না। আর এটা আমার নাইও। তবে চোখ কান খোলা রাখলে সৃজনশীল না হয়েও রম্য লেখা সম্ভব। চোখটা খোলা রাখতে হবে ইন্টারনেটে, আর কান পাততে হবে আশেপাশে।
দুনিয়ায় সৃজনশীল মানুষের কিন্তু অভাব নাই। তারা নিত্যনতুন কৌতুক গল্প বানাচ্ছেন। সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে ও বন্ধুদের আড্ডায়। রম্য লেখকের কাজ কেবল সেগুলো চিমটে চিমটে নিয়ে ওরস্যালাইন বানানো।
তবে কৌতুক-গল্প নিয়ে রম্য লেখার বিপদও আছে। পৃথিবীর সব কৌতুকই কারো না কারো পড়া। ফলে অনেকেই হয়তো মুচকি হেসে বলবেন, ধুর এটা তো জানি।
তারপরেও সাহস করে রম্য লেখার একটা বই বেরই করছি।
প্রবৃত্তি
.......রুমে ঢুকতেই ওদের দুজনের ঘনিষ্ঠতম অবস্থান দেখা গেল। ত আর ম। দুজনেই আমার চোখের সামনে। কিন্তু নিজেদের দিকে এত বেশী মনযোগী যে আমি একটা মানুষ পাত্তাই দিচ্ছে না। আমিও ব্যক্তিত্ব প্রচারে বিশ্বাসী না বলে চুপ করে থাকলাম। গলা খাকারি দিতেও ইচ্ছে করছে না পাছে রণে ভঙ্গ দেয়। আদতে সামান্য গলা খাকারিতে ভঙ্গ দিত কিনা সন্দেহ। নিজেদের নিয়ে এতটা মগ্ন।
আসলে সবাই নিজেদের প্রয়োজনেই মগ্ন থাকে। নিজেদের স্বার্থেই ডুবে থাকে। জগতের সকল প্রাণীর জন্য এই নিয়ম। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কেউ হলে তাদের আমরা বিশেষায়িত করি। এই দুজন সেই কাতারে পড়ে না। এদের কান্ডকীর্তি মহান হবার প্রশ্নই ওঠে না।
দৃশ্যটাকে আমার কি ঘেন্না করা উচিত? মানবিক দৃষ্টিতে ঘেন্নাই সুলভ। কিন্তু পাশবিক দৃষ্টিতে ঠিক একই দৃশ্যটাকে বলা হয় প্রবৃত্তি।
খোঁজ দ্যা মুরগা (মুরগী হইলেও চলিবে)...
বইমেলা কড়চা – (এক) দুধের স্বাদ ঘোলে
বইমেলায় যেতে পারি না। কতো প্রিয়জনের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আনন্দিত, গর্বিত মুখখানা ছবিতে দেখি, সামনে থেকে দেখতে পারি না। আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি না, বার্গার, হালিম খেতে পারি না। রোজ পত্রিকা পড়ে, ব্লগ পড়ে, ফেসবুকের স্ট্যাটাস আর নোট পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। পত্রিকার মারফত জানলাম বিশিষ্ট সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি বই লিখছেন। হঠাৎ তিনি মিসির আলি আর হিমুকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর কেন পড়ে গেলেন ভাবতে যেয়ে মনে হল, নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার ফুল পেয়ে তিনি হয়তো বিগলিত হয়েছেন। এর প্রতিদান স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি উপন্যাস লিখবেন। হয়তো তারপর শেখ হাসিনা কিংবা তার পরিবারকে উৎসর্গ করলেও করতে পারেন।
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৪)
সম্ভবতঃ সেই টাইমে কেজি ওয়ানে উঠছি মাত্র। ক্লাসের মিস সবার নামধামের লগে বাড়তি একটা প্রশ্ন জিগাইতেছিলো; বড় হইলে কে কি হইতে চায়। অলটাইম ব্যাক বেঞ্চার আমি বহুত টেনশনে পইড়া গেলাম। কি হইতে চাই আমি! বড় হইলে আমি আসলেই কি হইতে চাই!
বই মেলা কড়চা- ৭
বেলা তিনটার সময় বেরুলাম। ছেলেকে বাইকের পেছনে নিয়ে ছুটলাম। প্রথমে গেলাম নিউ সুপার মার্কেট। বাসার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সদাই-পাতি কেনা জরুরি ছিল। সেখানকার হোসেন স্টোর থেকে আমি বরাবর সদাই কিনি। দুটো কারণে। এক ওদের প্রাইসটা বেশ রিজনেবল। দুই এক নম্বর পণ্য পাওয়া যায় এখানে। গিয়ে দেখি শার্টার বন্ধ। বিষয় কী ? পাশের ফুপপাতের দোকানীর কাছে জানা গেলো, আজ মঙ্গলবারতো সেজন্য বন্ধ। আমি অবাক হলাম। মঙ্গলবার এই এলাকা বন্ধ সেটা আমি জানি। কিন্তু হোসেন স্টোরতো মঙ্গলবার কেনো, ঈদের দিনও খোলা থাকে। আবার বাইক ঘুরালাম। এবারের বিকল্প গন্তব্য কারওয়ান বাজার। সেখানে কিচেন মার্কেটে আমার একটা পরিচিত দোকান আছে। যেখান থেকে নিয়মিত মাসিক বাজার করি। এটা অবশ্য মুদি দোকান। তবে অল্প বিস্তর স্টেশনারি পণ্যও পাওয়া যায়। দ্বোতলায় উঠতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। পুরো কারওয়ান বাজার বন্ধ। অবিশ্বাস্য ! বিষয় কী ?