ইউজার লগইন
ব্লগ
পথে পথে যেতে যেতে -২
বইমেলা ২০১২ (টুকিটাকি-২)
প্রায় প্রতিদিনই যাচ্ছি বইমেলায়।প্রতিদিনই ভাবি, কাল আর আসব না,২/১ দিন পর আবার আসব। সেটা আর হয়ে উঠে না। হয় আমি নিজেই যাই, অথবা লীনাপা বা অন্য বন্ধুরা বলে যেতে... সেই ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাকে দেয়নি। বই কিনি আর না কিনি লিটল ম্যাগ চত্বরে গিয়ে বসি, গল্প, আড্ডা চলে। স্টলে ঘুরেফিরে দেখি পরিচিত কারো কোন বই আসলো কিনা। এবার আমাদের ব্লগের বই বের হবে, সেই বহু প্রতিক্ষিত বই - 'ম্যুরাল' এর জন্য রোজ অপেক্ষা-- কবে আসবে, কতদূর কি হলো। কাজ আমি কিছুই করিনি কিন্তু অপেক্ষা, আগ্রহের কোন সীমা পরিসীমা নেই। জানা গেলো 'ম্যুরাল' সম্ভবত আসবে আগামীকাল, ০৯ ফেব্রুয়ারী। পাওয়া যাবে লিটল ম্যাগ চত্বরে। ম্যুরাল এর জন্য সবসময়ই শুভকামনা। 
অসুখের জবানবন্দি
ইদানিং একটা অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি। এগুলো কি কোন ধরনের রোগ নাকি কেবলই আমার আঁতলামো একাকিত্বের ফসল কে জানে। কোন একটা অদ্ভুত কারণে আমি যেন একটা একটা করে দিন গুনতে শুরু করেছি। কিন্তু অনেক ভেবেও দিনটা যে কি তা বের করতে পারলাম না। মাঝে মাঝে মনে হতে থাকে আমার সারাটা দিন, সমস্ত ভাবনা, সব যেন বিশাল একটা ক্যালেন্ডারে বন্দি। জানুয়ারি গেলেই ফেব্রুয়ারি। তারপর মার্চ, এপ্রিল....। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় লাল রঙের কতগুলো সংখ্যা যেন সেøামোশনে ভাসছে। ৪, ৬, ১৬ জানুয়ারি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ৩০ মার্চ, ১৯ জুন, ২৯ জুলাই, ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর, ২২ নভেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর।
আজ মেলায় আসছে রঙ্গরসে জীবনযাপন

রম্য লেখার কিন্তু নানা সুবিধা আছে। সৃজনশীলতা তেমন লাগে না। আর এটা আমার নাইও। তবে চোখ কান খোলা রাখলে সৃজনশীল না হয়েও রম্য লেখা সম্ভব। চোখটা খোলা রাখতে হবে ইন্টারনেটে, আর কান পাততে হবে আশেপাশে।
দুনিয়ায় সৃজনশীল মানুষের কিন্তু অভাব নাই। তারা নিত্যনতুন কৌতুক গল্প বানাচ্ছেন। সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে ও বন্ধুদের আড্ডায়। রম্য লেখকের কাজ কেবল সেগুলো চিমটে চিমটে নিয়ে ওরস্যালাইন বানানো।
তবে কৌতুক-গল্প নিয়ে রম্য লেখার বিপদও আছে। পৃথিবীর সব কৌতুকই কারো না কারো পড়া। ফলে অনেকেই হয়তো মুচকি হেসে বলবেন, ধুর এটা তো জানি।
তারপরেও সাহস করে রম্য লেখার একটা বই বেরই করছি।
প্রবৃত্তি
.......রুমে ঢুকতেই ওদের দুজনের ঘনিষ্ঠতম অবস্থান দেখা গেল। ত আর ম। দুজনেই আমার চোখের সামনে। কিন্তু নিজেদের দিকে এত বেশী মনযোগী যে আমি একটা মানুষ পাত্তাই দিচ্ছে না। আমিও ব্যক্তিত্ব প্রচারে বিশ্বাসী না বলে চুপ করে থাকলাম। গলা খাকারি দিতেও ইচ্ছে করছে না পাছে রণে ভঙ্গ দেয়। আদতে সামান্য গলা খাকারিতে ভঙ্গ দিত কিনা সন্দেহ। নিজেদের নিয়ে এতটা মগ্ন।
আসলে সবাই নিজেদের প্রয়োজনেই মগ্ন থাকে। নিজেদের স্বার্থেই ডুবে থাকে। জগতের সকল প্রাণীর জন্য এই নিয়ম। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কেউ হলে তাদের আমরা বিশেষায়িত করি। এই দুজন সেই কাতারে পড়ে না। এদের কান্ডকীর্তি মহান হবার প্রশ্নই ওঠে না।
দৃশ্যটাকে আমার কি ঘেন্না করা উচিত? মানবিক দৃষ্টিতে ঘেন্নাই সুলভ। কিন্তু পাশবিক দৃষ্টিতে ঠিক একই দৃশ্যটাকে বলা হয় প্রবৃত্তি।
খোঁজ দ্যা মুরগা (মুরগী হইলেও চলিবে)...
বইমেলা কড়চা – (এক) দুধের স্বাদ ঘোলে
বইমেলায় যেতে পারি না। কতো প্রিয়জনের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আনন্দিত, গর্বিত মুখখানা ছবিতে দেখি, সামনে থেকে দেখতে পারি না। আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি না, বার্গার, হালিম খেতে পারি না। রোজ পত্রিকা পড়ে, ব্লগ পড়ে, ফেসবুকের স্ট্যাটাস আর নোট পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। পত্রিকার মারফত জানলাম বিশিষ্ট সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি বই লিখছেন। হঠাৎ তিনি মিসির আলি আর হিমুকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর কেন পড়ে গেলেন ভাবতে যেয়ে মনে হল, নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার ফুল পেয়ে তিনি হয়তো বিগলিত হয়েছেন। এর প্রতিদান স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি উপন্যাস লিখবেন। হয়তো তারপর শেখ হাসিনা কিংবা তার পরিবারকে উৎসর্গ করলেও করতে পারেন।
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৪)
সম্ভবতঃ সেই টাইমে কেজি ওয়ানে উঠছি মাত্র। ক্লাসের মিস সবার নামধামের লগে বাড়তি একটা প্রশ্ন জিগাইতেছিলো; বড় হইলে কে কি হইতে চায়। অলটাইম ব্যাক বেঞ্চার আমি বহুত টেনশনে পইড়া গেলাম। কি হইতে চাই আমি! বড় হইলে আমি আসলেই কি হইতে চাই!
বই মেলা কড়চা- ৭
বেলা তিনটার সময় বেরুলাম। ছেলেকে বাইকের পেছনে নিয়ে ছুটলাম। প্রথমে গেলাম নিউ সুপার মার্কেট। বাসার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সদাই-পাতি কেনা জরুরি ছিল। সেখানকার হোসেন স্টোর থেকে আমি বরাবর সদাই কিনি। দুটো কারণে। এক ওদের প্রাইসটা বেশ রিজনেবল। দুই এক নম্বর পণ্য পাওয়া যায় এখানে। গিয়ে দেখি শার্টার বন্ধ। বিষয় কী ? পাশের ফুপপাতের দোকানীর কাছে জানা গেলো, আজ মঙ্গলবারতো সেজন্য বন্ধ। আমি অবাক হলাম। মঙ্গলবার এই এলাকা বন্ধ সেটা আমি জানি। কিন্তু হোসেন স্টোরতো মঙ্গলবার কেনো, ঈদের দিনও খোলা থাকে। আবার বাইক ঘুরালাম। এবারের বিকল্প গন্তব্য কারওয়ান বাজার। সেখানে কিচেন মার্কেটে আমার একটা পরিচিত দোকান আছে। যেখান থেকে নিয়মিত মাসিক বাজার করি। এটা অবশ্য মুদি দোকান। তবে অল্প বিস্তর স্টেশনারি পণ্যও পাওয়া যায়। দ্বোতলায় উঠতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। পুরো কারওয়ান বাজার বন্ধ। অবিশ্বাস্য ! বিষয় কী ?
বাবা ...............এখন গল্প
এই ব্লগে রেজিঃ করেছিলাম শুরুর দিকেই । যদিও লেখালেখির কোনো উদ্দেশ্যই কখনো ছিলোনা, শুধু ‘আমরাবন্ধু’ নামটার সাথে জড়িয়ে থাকার জন্যই রেজিঃ করা । আমরাবন্ধু শব্দটাই খুব আপন মনে হয় ।
ব্লগের লেখাগুলো পড়ি নিয়মিতই । মা/বাবা নিয়ে লেখাগুলোও কখনো চোখ এড়ায়নি। কেউ লিখতো মা/বাবা নিয়ে উচ্ছাসের কথা, কেউবা স্মৃতিচারণ । আনন্দ উচ্ছাস নিয়ে লেখাগুলো পড়তাম আর নিজের কথা ভাবতাম, কেননা নিজে কখনো মা/বাবা’র প্রতি ভালোলাগাগুলো কখনো প্রকাশ করিনি অথবা পারিনি। একইভাবে স্মৃতিচারিত লেখা পড়লে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতো, মূলত আতংক ঘিরে ধরতো। সেই আতংকটাই আজ সত্যি, এখন আমার বাবা স্মৃতিচারণ করার চরিত্র । আমার বাবা এখন গল্প।
আমার সন্তানেরা
যখন আমি ভরপেট হাঁসের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে
ঝরে পড়ি অবহেলিত খুদ কুঁড়োর মত
ঝলমলে কলম আমার
ভরন্ত প্রসব বেদনা নিয়ে তখন
গচ্ছিত ভ্রূণ ঢেলে দেয় পরিণত শব্দের প্যাঁচে ।
একেকটা বাঁকানো শব্দ; সুবর্ণলতার চেহারায়
কলমের জরায়ু থেকে বের হয় আশ্রয়ের পরিচিত ঘ্রাণে ।
কলম জগতের শ্রেষ্ঠ প্রসূতি !
ক্লিনিকের শুভ্র বিছানার মতো উষ্ণ কাগজে শুয়ে
আমার সন্তানেরা পিটপিট করে চায় ।
ফসলের বিস্ময়ে কেটে যায় নিষ্ফলা তান ।
আমি পিতৃত্বের চুমু এঁকে দিয়ে
কাঁচা অক্ষরের কানে কানে উচ্চারণ করি-
ভাঙ্গনের কঠিন আযান !
বড় হইয়া বউ হতে চাই......
সারা জীবনই আমি ঠাহর করতে পারি নাই যে বড় হইলে আমি কি হমু । স্কুলে যাইতাম না তখন আম্মু প্রথম জিগায় ছিল বড় হয়ে কি হতে চাও?
শেক্সপিয়ারের জন্য ভালোবাসা
শওগাত আলী সাগর
সাবজেক্ট লাইনে চোখ না পড়লে মেইলটা আমি ডিলিটই করে ফেলতাম। আজকাল জাংক মেইলে ইনবক্স এতোটাই সয়লাব হয়ে থাকে যে সতর্কভাবে খেয়াল না করলে অনেক প্রয়োজনীয় মেইলও ডিলিট হয়ে যাবার আশংকা থাকে। প্রেরকের ঘরটা অপরিচিত ঠেকায় এই মেইলটা্কেও প্রায়ই ডিলিট করে ফেলেছিলাম। অমনি পেছন থেকে বর্ণমালা চিতকার করে উঠে- ইট সিমস লাইক মাই মেইল । হাউকাম সামবডি সেন্ড ই-মেইল টু মি ইন ইউর ইমেইল।
বর্ণমালা কখন আমার পেছনে এসে দাড়িয়েছে টের পাইনি। তার কণ্ঠস্বরের উত্তেজনায় আমি মেইলটার সাবজেক্ট লাইনের দিকে চোখ ফেরাই। বোল্ড করে সেখানে লেখা রয়েছে ‘মেইল ফর অনিন্দিতা।‘ এবার আমারও অবাক হবার পালা্ । বর্ণমালার নামে কোনো ইমেইল আসার কথা নয়। আমাকে ভাববার সময় না দিয়েই মেইলটার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে সে। তার পর ‘ইয়াহু’ বলে চিতকার করে ওঠে।
হাইকুগুলো...
..................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................