ইউজার লগইন
ব্লগ
আর বইমেলা
সেদিন বই মেলায় গেলাম বড় সাধ নিয়ে, আড্ডাবো। সবাই প্রতিদিন কত কত আড্ডায়!!! আর আমি আড্ডাবো তো দূরে থাক ব্লগ বা খোমাখাতায় সে সব আড্ডা নিয়মিত দেখতেও পাই না। কারণ বাসার নেট কানেকশন কাট করা হইসে। আপুর বাসায় আসলে বা ক্যাম্পাসে ল্যাব থেকে একটু আধটু দেখি, বইমেলা কড়চা পড়ি, আফসোস করি।
যাই হোক মেলার কথা বলছিলাম।। আড্ডানির আশা নিয়া আমি আর সুমি আপু গেলাম মেলায়। নিজেরা প্রথমে একটু ঘুরাঘুরি আর কয়েকটা বই কিনে গেলাম লিটলম্যাগ চত্বরে। কিন্তু হায় কারো দেখা নাই। আমাকে কেউ না চিনলেও আমি তো মোটামুটি সবাইকে চিনি। চারদিকে খোঁজ দ্যা সার্চ দিয়ে দেখলাম, কেউ নাই। এরপর একদফা মোবাইলেও খোঁজ দ্যা সার্চ দিয়ে বুঝলাম কারো নম্বরও আমার কাছে নাই। এমনকি ম্যুরালও খুঁজে পেলাম না। তারপর আর কি, সুমি আপু একটু ঝাড়ি দিল কারণ তারও-
অনেক সাধ ছিল মনে,
আড্ডাবে সবার সনে।
শাহরুখ খান এবং প্রথম আলূর জনগনদ্রোহিতা ... (১৮+)
সকাল বেলা মুরগীর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে শাহরুখ খানের।
পাশ ফিরেই গৌরির সাজ সজ্জা বহুল ঘুমন্ত মুখখানি দেখে ইচ্ছে হয় একটা চুমু খাওয়ার । বেড চা এর মতো বেড চুমু। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো অধিকাংশ চুমুতো বেড-এই হয়। একটা মুচকি হাসির রেখা দেখা গেলো তার মুখে। হঠাৎ তার সকালের নতুন কর্তব্যের কথা মনে পড়ে যেতেই তড়িগড়ি করে উঠে যায় বিছানা থেকে।
আত্মমগ্ন কথামালা- ৬
নিজেরে কোনোদিনই এক্সপ্রেসিভ রোমান্টিক হিসাবে ভাবি নাই। রোমান্টিকতা কেমনে দেখাইতে হয় সেইটাও জানি না। তয় মাঝে মাঝে নিজের একটা আচরণের পর যখন আরেকজনের আচরণ ব্যাকফায়ার করে তখন বুঝি আসলে কি করা উচিত আছিলো। কিন্তু তখন আর সেইটা শুধরানির কোনো উপায় নাই। মইধ্যে দিয়া চেহারা, মন ইত্যাদি ভেচকাইয়া যায়। এই টাইপের রোমান্টিকতার অসুখ ছুইড়া ফালায়া রাখছিলাম বহুতদিন ধইরাই। কিন্তু, কিছুদিন হইলো সেই রোগ আবার ফেরত আসছে। নিজেরে নিয়া কিছু উচ্চাশা তৈরী হইছিলো, সেইটা পুরাই ধুলিস্মাৎ হইয়া গেছে। একসপ্তা হইয়া যাইতেছে এই গ্লুমি ভাবটা কাটতেছে না। যারে লইয়া এই ভাব চক্কর, সেও ভীষণ ভাবে চুপচাপ হইয়া আছে। এইটা আরো বেশী প্রদাহ দিতেছে...
সেদিন ভাস্করদার লিংক থিকা পটা'র গাওয়া কলঙ্কিনী রাধা গানটা নামাইছি। এত সুন্দর ভাবে কেমনে মানুষ গান গায়, খালি শুনতেই ইচ্ছা হইতেছে। লগে জাগরনে যায় বিভাবরী...
পাগলের দিনলিপি (নয়)
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! আঁধার থাকে
টগবগিয়ে বল্কানো সুর বাতাসে দুন্দুভি থাকে,
আলোকের তেজে পোড়া চোখ আর ব্যথাতুর দৃষ্টি থাকে।
নিঙরানো প্রাণে ক্লান্ত শ্রান্ত নগ্ন বাঁধার পাহাড় থাকে।
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! প্রতিশোধের
ইচ্ছাগুলো জটলা বাঁধে, তাদের নীরব ভিড় থাকে;
অস্থিরতায় নিমগ্ন এক পশুজাত অমানুষ থাকে;
শুকনো ঠোটে স্তব্ধতা নয় অবোধ্য বিড়বিড় থাকে।
চক্র
#১#কোন এক দিন..
শুক্রবারের সকাল। সাইফ আর সায়েম দুই ভাই, আর কেউ নেই বাসায়। গরমের ছুটি চলছে। বাবা মা দুজনেই বেড়াতে গেছেন গ্রামের বাড়িতে, জমিজমার কি যেন একটা কাজে।
সাইফ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আছে এইবার, ছোট ভাই সায়েম ক্লাস সেভেনে।
সাইফের প্ল্যান ছিল আজ বারোটা পর্যন্ত ঘুমাবে, একে ছুটির দিন তার উপর বাসায় মা বাবার ডাকাডাকিও নাই। যাকে বলে, একেবারে সোনায় সোহাগা।
কিসের কি, ঘুম ভেঙে গেছে সেই ভোর ছয়টায়।
নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ছাঁদে হাটলো সাইফ, ভোর হতে দেখার মত সুন্দর দৃশ্য মনে হয় কম-ই আছে।
ছাঁদের ফুলগাছ গুলাতে পানি দিয়ে সায়েমকে ডেকে তুললো সাইফ। সায়েম প্রথমে স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে ভেবে ধড়ফড় করে উঠতে নিচ্ছিল,
দিনটা শুক্রবার মনে পড়ায় আরো ঘন্টাখানেক আড়মোড়া ভেঙে তারপর গিয়ে উঠেছে।
আমি আমার মতই থাকতে চাই...
আজকাল মেজাজ ঠিক রাখা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমার সরলতা বা আন্তরিকতাকে যদি কেউ দুর্বলতা মনে করে- সেটা তার সমস্যা। তার জন্য আমার পূর্ণ সহানুভুতি আর করুণা রইলো। আমি মানুষটা এমনই। ইচ্ছে করলেও এই আমি'কে এখন আর বদলাতে পারব না। আর বদলানোর প্রয়োজনটাই বা কী ! আমাকে যারা জানে, চিনে তারাতো এই আমিকেই চিনে। নতুন কেউ হলে সেটা নাহয় মেনে নেয়া যায়।
সাধারনত আমি কারো সাথে মেজাজ করিনা। খুব সহজে ক্ষেপি না। কঠিন অবস্থায় ও মেজাজ কী করে ঠান্ডা রাখতে হয়- সেটা আমার ভালোই জানা আছে। এটা সম্ভব হয়েছে- অনেক বছর সেলস-এ কাজ করার সুবাদে। আমার ব্যবহার খারাপ- এটা আমার শত্রুও বলতে পারবে না। ভুল বললাম মনে হয়। বলতে পারবে- তবে প্রমান করতে পারবে না। কাছের মানুষদের সাথে প্রায়ই ঝাড়ি মেরে কথা বলি। ধমক দেই। এমনিতেই। এটা আমার চরিত্রের একটা বিশেষ দিক। যাদের খুব আপন মনে হয়- তাদের সাথেই শুধু এরকম আচরন করি। সবার সাথে না।
রঙ্গরসে জীবনযাপন-২
১.
স্থান: বইমেলার লিটল ম্যাগ চত্বর, বিকাল ৫টা, বৃহস্পতিবার
মেয়েটি ম্যুরালের মোড়ক লাগাতে লাগাতে বললো: ক নামের ছেলাটা আসলে অলস, ওকে দিয়ে কিছু হবে না।
আমি একটু আগ্রহী হইয়া তার দিকে তাকাইলাম, জিগাইলাম: তাই?
মেয়েটা আরও মনোযোগের সঙ্গে কাজটা করতে করতে বললো: বিয়ে করলে ক-এর বউয়ের খবর আছে।
আমি আবার জিগাইলাম: কেন?
মেয়েটা এবার বললো: একদমই নড়াচড়া করে না।
২.
ম্যুরালের জন্য ম্যালা কষ্ট করছে আমগো মেসবাহ ভাই। মোড়ক উন্মোচনের দিন সে আসছিল একটু দেরি কইরা। আসেন আগে তারে আমরা একটু দেখি

আমাদের দেশপ্রেম অথবা মরে যাওয়া দেশপ্রেম।
আমার রুমমেট এর সাথে গতকাল রাতে পড়া ভাগাভাগি করে জিজ্ঞেস করছিলাম। পড়ার মধ্যেই একটা জায়গায় ছিলো আমেরিকা আলাস্কা অঙ্গরাজ্য রাশিয়া থেকে এবং ফ্রান্সের কাছ থেকে কিনেছিল লুসিয়ানা। তখন রুমমেট বলল বাংলাদেশটাকেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিলে ভাল হতো। সাথে সাথে তাকে বললাম এটা কোন যৌক্তিক বিষয় নয়। জবাবে তার যুক্তি আমার পাল্টা যুক্তি চলতে লাগলো। কেহ কাহারেও নাহি ছাড়ি এই অবস্থা। সব তর্কের মতো এই তর্কও এক সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরে এই বিষয়টা নিয়ে তার বলা কথাগুলো দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি। আমাকেই হারতে হলো তাতে। খুব অসহায় লাগছিল নিজেকে।
আমি দেশপ্রেমিক কিনা এই বিষয়টা নিয়ে এই মূহুর্তে নিজেকে খুব দ্বিধাগ্রস্থ লাগছে। কিন্তু আমার দেশকে নিয়ে কেউ খারাপ কিছু বললে খুব খারাপ লাগতো এক সময়। এখন বিষয়টা সেইভাবে নাড়া দিচ্ছেনা।
কথার ভ্যালেনটাইনস পার্টি
শওগাত আলী সাগর
স্কুলের অফিসের ঠিক সামনের দরোজাটার কাছেই দাড়িয়ে আছি আমি।পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েরা লাইন ধরে হেটে যাচ্ছে। সবার সামনে ওটা কথা না? হ্যাঁ তাই তো। কিন্তু সে একবারও আমার দিকে তাকালো না। মনে হলো মাথাটা নীচু করে আমাকে না দেখার ভান করে হেটে চলে গেলো।
পাগলের দিনলিপি (আট)
আমি হাতের মুঠোয় কিছু অন্ধকার নিলে
একটা জোনাকীও ঢুকে যায় অসহায়।
অন্ধকার গুলো গিলে ফেলতেই জোনাকী
সেই অসহায় জোনাকী চিৎকার করে
নিভে গেলো।
জোনাকী বিহনে অন্ধকার নীরব নিথর পড়ে থাকে
আমার একাকী বারান্দায়। দরজা খুলতেই সুরসুর
করে, সেও ঘরে চলে আসে।
আর সাথে সাথেই আমাকে ছেড়ে চলে যায়
আমার অবুঝ ছায়া; ছায়ার সাথে অন্ধকারের আজন্ম শত্রুতা।
অন্ধকার এবার ভীষণ খুশী,
তার জোনাকীর বদলে আমার ছায়ার প্রস্থানে...
সে ভুলে গিয়েছে, জোনাকীটা আমার উদরে
এখন টালমাটাল ভাসে রক্তের সাগরে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে বলছি। বলুন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি...?
এ্যাই, পল্টু! সিটিজেন সার্ভিস সেন্টারের নম্বরটা কত রে? ঘরে পা দিয়েই বিল্টু মামার হাঁকডাক।
আমি কাসুন্দি মাখা পেয়ারা কচকচ করে চাবাতে চাবাতে বলি, সেটা আবার কী?
ওই যে, তোরা কী যেন বলিস, কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার না কী! বলতে বলতে মামা বেসিনের কল ছাড়লেন।
ও! তাই বল। তা কোন অপারেটরের নম্বর লাগবে?
আমি মামার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। মামা বেসিনের কলের দিকে। কল থেকে পানির বদলে ছর ছর আওয়াজ বার হচ্ছে। মামা কলের নব আরো ঘোরাতে পানি পড়ল। আঁজলা ভরে পানি নিতে গিয়ে ছ্যাঁ ছ্যাঁ করে উঠলেন তিনি।
এ কি রে ! এতো কাদাপানি মনে হচ্ছে। কেমন ঘোলাটে। লাল লাল! কি রে পল্টু? মামা এমন ভাবে আমার দিকে ফিরে কৈফিয়ত চাইলেন যেন আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী!
আজ সকাল থেকেই এমন পানি আসছে এলাকায়। সাপ্লাই পানির লাইনে কোথাও কোন ফুটো হয়েছে মনে হয়। গত সপ্তাহ ধরে দেখছোনা রাস্তা খোঁড়া চলছে।
তুমিহীন
নিভু নিভু বিকেলের তুমিহীন এক আকাশ জুড়ে
মেঘের হতাশা , কবেকার শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু , নীল নীল বেদনায় উড়ে যায় দুরের পাখি ।
তুমিহীন সাঁঝের আঁধার - ঝাপসা স্মৃতির এক ধুলিধূসর প্রেম উপাখ্যান ।
তারার রাত্রি জাগা , অহেতুক প্রলাপ গুনে গুনে রাতচোরা পাখির আহাজারি ।
উদাসী ভোরের প্রাণে বিদায়ী নিশিথ সঙ্গীত
ঝরে যায় শেফালির সাথে ।
তুমিহীন তপ্ত দুপুরে পথহারা পথিকের দীর্ঘশ্বাস , হঠাত্ দমকা হাওয়া কেঁদে ওঠে বৃষ্টি হয়ে ।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের .....“ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”
এ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চকর, ভূতুড়ে নাকি রহস্য ভরা গল্প কি বলবো ভেবেই পাচ্ছি না, একদম সঠিক নামই দেয়া হয়েছে এর “অদ্ভুতুড়ে সিরিজ”! এই সিরিজেরই এক গল্প “ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”। ফটিক নামটা পড়লেই লাগে কিশোরোপযোগী কোন গল্প! হ্যাঁ, তাইই, তবে মূলত গ্রামের পটভূমিতে লেখা এই সিরিজের গল্পগুলোর মজায় ডুবে যেতে আপনার বয়েস কোন বাধাই হবে না, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা এই গল্পগুলো এমনই।
আমার জোহা চাচা
আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বেড়ে ওঠা মানুষ তাদের নিয়ে এই এক সমস্যা, নিজেরা যত ক্ষুদ্রই হই না কেন বড় মাপের মানুষদের নিয়মিত সান্নিধ্য পেয়ে, তাঁদের সাহচর্যে থেকে তাঁদেরও নামিয়ে আনি সাধারণ মানুষের স্তরে। তাঁরা হয়ে যান আমাদের পারিবারিক সদস্যের মতই। আমদের হাসান চাচা (প্রখ্যাত কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক) বা সনৎ কাকুর (বিশিষ্ট সাহিত্যিক সনৎ কুমার সাহা) চাইতে এই সত্য আর বেশি কেই বা জানেন?
পাগলের দিনলিপি (সাত)
যাদুর পেন্সিল খুঁজে তছনছ করতে সাধ হয় পৃথিবীরে,
আহা! যাদুর পেন্সিল...তাতে যা আঁকা যায় যদি সত্যি হতো
হাতের মুঠোয় পেতাম রে ভাই বিশ্বনিখিল!
মাঝরাতে ক্ষুধার্ত আমার সাধ মেটানোতে মন নেই কারো।
সবাই কেবল সিরিয়াল দেখে সময় কাটায়
আর আমি বসে বসে আঁকাআঁকি শিখি।
যদি কোনোদিন মিলে যায় দয়াবান কারো কাছে
একটা যাদুর পেন্সিল, নিখুঁত রেখায় আমি আঁকতাম
হারিয়ে যাওয়ার পর যা কিছু কখনো খুঁজে পাইনি আমি,
সব!
মাঝরাত পেরিয়ে যাবার পর কয়েকজন মুসল্লি
কাছের পবিত্র মসজিদে যেতে পা বাড়ায়।
শাহানা'র আজ ইনকাম ভালো বলে রিকসা থেমেছে
তখন গলির মোড়ে; মুসল্লিরা তার জামা খুলে নিয়ে
নগ্ন শরীরের বাঁকে বাঁকে ঘোরে,
হয়ে গেলে মসজিদের রাস্তায় দ্রুত হেটে চলে যায়...
অজু সেরে নিয়ে তাদের পবিত্র হতে হয়
নামাজের আগে।
এই সময়ে শাহানা পলকহীন তাকিয়ে থাকে
বার্ধক্যের দিকে; অসহায় এ ক'জন বৃদ্ধের নয়নে