ইউজার লগইন
ব্লগ
মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
পথ সহজ হলেই হলো, তাতেই আমোদ-তাতেই উল্লাস।
"কীর্তি কর্মার কীর্তি কে বুঝতে পারে,
সেবা চিত্তে লয়ে কোথায় রাখে ধরে,
এ কথা আর শুধাব কারে,
নিগুঢ় তত্ত্বকথা কে বলবে আমায়?"
ইতিহাস জ্ঞানে নিতান্তই বোকামানুষ আমি সাইজী'র এমন প্রশ্ন শুইনা প্রথমে চমকাইয়া উঠছি। সম্ভবতঃ সিরাজ সাইজীর অন্তর্ধানে শোকগ্রস্ত লালনের অভাগা অন্তরে এই প্রশ্ন জাইগা উঠছিলো আর্তনাদের মতোন। লালন সাই'য়ের কালামে অনেক অনুযোগ টের পাই প্রায়শঃ'ই, কিন্তু অন্তরের এমন আহাজারী হৃদয়ের স্পর্শকাতরতায় আঘাত করে। গুরু-শিষ্যের এই নির্ভরতামূলক সম্পর্কের এই ধরণটারে একেবারেই উপমহাদেশীয় মনে হয়। এর আগে আরেকটা গান শুনছিলাম উকিল মুনশী'র চরনে,
শুয়াচাঁন পাখি,
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!
তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি
আজ কেন হইলে নীরব মেলো দুটি আঁখি।
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (২)
২.
ক্যম্পাসে প্রায়ই একটা গান গাইতাম আমি আর প্রিয়দর্শিনী। অলি আর বকুল’কে যখনই আড়াল খোঁজার চেষ্টায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখতাম তখনই। মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ওদের দুজনের সামনে এ গানটা গাইলে অলি প্রায়শই নিস্ফল আক্রোশে ফেটে পড়তে চাইতো। কিন্তু আমাদের ডানপিটেপনার সঙ্গে সুপরিচিত থাকার সুবাদে কখনোই সে সাহস দেখাতে পারতো না। গানটা ছিলো-
অলিরো কথা শুনে বকুল হাসে,
কই তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো।
‘হাসো না তো’র জায়গায় আমরা গাইতাম ‘কাশো না তো’। তারপরে দু’জনে উচ্চস্বরে খক খক করে কাশতাম। দু’একবার।
বই মেলা কড়চা- ৬
আজকের কড়চার প্রথম প্যারা- একজন মায়াবতীকে উৎসর্গ করা হল
lalon
পথ সহজ হলেই হলো, তাতেই আমোদ-তাতেই উল্লাস।
"কীর্তি কর্মার কীর্তি কে বুঝতে পারে,
সেবা চিত্তে লয়ে কোথায় রাখে ধরে,
এ কথা আর শুধাব কারে,
নিগুঢ় তত্ত্বকথা কে বলবে আমায়?"
ইতিহাস জ্ঞানে নিতান্তই বোকামানুষ আমি সাইজী'র এমন প্রশ্ন শুইনা প্রথমে চমকাইয়া উঠছি। সম্ভবতঃ সিরাজ সাইজীর অন্তর্ধানে শোকগ্রস্ত লালনের অভাগা অন্তরে এই প্রশ্ন জাইগা উঠছিলো আর্তনাদের মতোন। লালন সাই'য়ের কালামে অনেক অনুযোগ টের পাই প্রায়শঃ'ই, কিন্তু অন্তরের এমন আহাজারী হৃদয়ের স্পর্শকাতরতায় আঘাত করে। গুরু-শিষ্যের এই নির্ভরতামূলক সম্পর্কের এই ধরণটারে একেবারেই উপমহাদেশীয় মনে হয়। এর আগে আরেকটা গান শুনছিলাম উকিল মুনশী'র চরনে,
শুয়াচাঁন পাখি,
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!
তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি
আজ কেন হইলে নীরব মেলো দুটি আঁখি।
দূরত্ব এক বিষণ্ন মাইল
যাদের সামনে দূর্ঘটনা ঘটলো
তাদের মধ্যে একজন নিতান্তই পথচারী
যথারীতি তার ন্যাশনাল আইডি আছে, চাকুরী আছে, ভাড়া বাসা আছে
অফিসে যাবার বাস নম্বর জানা, রোজনামচায় একঘেয়েমী আছে
আর আছে সকল মধুর কষ্টের মত উচ্চাশার দুর্গতি
তাদের মাঝে একজন দূরবর্তী দর্শকও আছে
যিনি নিকটস্থ দর্শকদের দর্শক হয়ে দেখলেন
এক দঙ্গল মানুষের ভীত ভীত মুখ, দুর্ঘটনার চারদিকে ঘিরে
একটা সতর্ক সংবাদ পেচিয়ে পেচিয়ে উড়ে গেলো আকাশবিমানে
আর তিনি একটা বানিয়ে নিলেন দু:সংবাদ আহত অথবা নিহত
নিকটস্থদের মধ্যে প্রথম দূর্ঘটনা দেখার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করলেন একজন
সারাজীবন ভর এটাই তার ভয়াল স্মৃতি,
আরো আছে একজন দুর্বল হৃদযন্ত্রের মালিক
তিনি বুক চেপে আশু সংকেত পাঠালেন মগজে
আর পকেট খুঁজে একটা ট্যাবলেট গুজলেন জিভের তলে
আরো আছে ট্রাফিক জমে গেলো বলে মেজাজ বিগড়ানো পাবলিক
অফিসে লেট হয়ে যাদের কপালে লাল কালির সিল পড়ে
পথে পথে যেতে যেতে
ঘুরে এলাম শেরপুর
প্রথম কথা
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু।।
ছোটবেলায় দেখা স্বপ্ন বা ইচ্ছাগুলোর মাঝে যেই স্বপ্নটা এখন মরে যায়নি সেটা হলো বাংলাদেশের ৬৪ টা জেলায় ঘুরার ইচ্ছা। যদিও এই স্বপ্নটা মৃতপ্রায় ছিল।
কিছুদিন আগে হঠাৎ করে শুনলাম সাঈদ ভাই নিঝুম দ্বীপ ঘুরে এসেছেন। তখন সাঈদ ভাইকে বললাম পরেরবার কোথাও গেলে যেন আমাকে জানানো হয়।
প্রস্তুতিপর্বঃ
গত ২রা ফ্রেব্রুয়ারী মুখবই(Facebook) অনলাইন হইতেই সাঈদ ভাইয়ের বার্তা ।
“ওই মিয়া মোবাইল বন্ধ কেনো?”
সাঈদ ভাইয়ের এই বার্তা দেখে মনে হইলো ভুল দেখলাম ।
বই মেলা কড়চা- ৫
আমার মনে অনেক দুঃখ। সেই দুঃখের শেষ নাই। ছুটির দিনে অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি ঘুমাই। ঘুমানোর জো কি আছে ? সকাল ৯ টার পরে ছোট ছেলে ঘুম থেকে উঠে বাবা, বাবা বলে ডাকা শুরু করবে। লীনা দিলরুবা ফোন করলো সকালে। এরপর জয়িতা বানু ম্যাসেজ পাঠালো- বিকাল ৪ টায় মেলায় যাইতে ! আরে বাপু, তোর যেতে ইচ্ছে করছে, যা না... কে নিষেধ করেছে। তারপর কি আর ঘুম আসে ?
বিকাল ৪ টার দিকে বই মেলার উদ্দেশ্যে বাইক হাঁকালাম। পান্থপথের সিগন্যাল পার হয়ে বায়ে মোড় নিলাম। বসুন্ধরার একটু সামনে থাকতে ট্রাফিক সার্জেন্ট হাত দেখালো থামতে। আমি ভদ্রলোকের মত বাঁয়ে ইন্ডিকেটর লাইট জ্বালিয়ে বাইক স্লো করলাম। সার্জেন্টের কাছাকাছি যাবার পর হেসে বললো, যান বস...। আমিও কিছু না বলে আবার ডানে ঘুরলাম। ভাবছেন, সার্জেন্ট আমার পরিচিত কেউ ? যি না মশাই, আমার বাইকের সামনে প্রেস লেখাটা দেেখেই আমাকে খাতির করলো।
বাবা
আমি অনেক আগে শিশুতোষ কবিতা লিখতাম এবং সেই লেখাগুলো আমার কাছে বেশ যত্ন সহই সংরক্ষিত আছে। মাঝে মাঝে লেখাগুলো পড়ি এবং নিজের মনে হাসি। তবে হাসাটা মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। কারণ একসময় আর কিছু না হলেও এসব লেখার 'চেষ্টা' করতাম। এখন তো তাও করি না। সুতরাং হাসলে হাসা উচিত আমার এখনকার অবস্থা দেখে। যাই হোক একবার বাবাকে নিয়ে লিখেছিলাম। কবিতাটা এখানে তুলে দিচ্ছি। আমার বাবা বেঁচে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সময় সময় আমার আসলেই তার কথা ভীষণ মনে পড়ে। এটা নিতান্তই ছোট একটা ছেলের শিশুমনের আবেগ। কিন্তু ওই যে বললাম না, এখন তো আর লিখি না। লিখলে হয়তো এই কবিতাটা দেয়া লাগতো না। আরো ভালো কিছু দিতে পারতাম।
------------------------------
মনের স্মৃতির জানালা খুলে
তোমায় মনে পড়ে,
কোথায় তুমি লুকিয়ে আছো
আমায় একা ফেলে।
তোমার মতো প্রতিদিন কেউ
করে না আমায় শাসন,
মনে পড়ে তোমার বকানি-
তোমারই কথা ভীষণ।
রঙ্গরসে জীবনযাপন-১
১. এক লোক প্যারাস্যুট জাম্প দেখাইয়া আয় করে। অনেক উপর থেকে জাম্প দেয়, পাবলিক দেখে আর যে যার সাধ্য টাকা-পয়সা দেয়। একসময় অনেক মানুষ দেখতো, এখন আর দেখে না। এক জিনিষ আর কতো দেখবে।
উপায় না পেয়ে ওই লোক এবার নতুন ঘোষণা দিল। সে লাফ দিবে, কিন্তু প্যারাস্যুট খোলা হবে শেষ সময়ে। খেলায় একটু থ্রিল আনার চেষ্টা আর কি।
খেলা শুরু হল। ওই লোকের সহকারী নীচে দাঁড়ানো, বসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য টকব্যাক আছে। (টকব্যাক কি জানতে হলে মেসবাহ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে সদ্য টকশো করে আসছে)। লোকটি লাফ দিল। কিছুদূর নামার পর সহকারী জানালো, 'ওস্তাদ, আর মাত্র ১০০০ হাজার মিটার, এইবার প্যারাস্যুট খোলেন।' ওস্তাদ জানালো, আরেকটু।
প্রবাহমানতা
অনুভব ভীষণ রকম ব্যক্তিকেন্দ্রীক, যদিও সাড়ে ছয় শো কোটি মানুষের পৃথিবীতে একক, অনন্য, অসাধারণ, অভূতপূর্ব কোনো অনুভব গাণিতিক বিবেচনায় অসম্ভব এরপরও প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুভবটুকু তার কাছে এমনই অনন্যঅসাধারণ।
একটি সামষ্টিক ক্ষেত্রে নিশ্চিত বলা যায় প্রতিটি অনুভবই অসংখ্য মানুষ উপলব্ধি করেছে, একটি নির্দিষ্ট সমাজে ভাষিক সীমাবদ্ধতায় সেইসব অনুভুতি, উপলব্ধির একান্ত উচ্চারণগুলোও প্রায় ক্ষেত্রেই একই রকম শব্দগুচ্ছ দিয়েই প্রকাশিত হয়েছে, একই রকমের সসীম বাক্য দিয়েই সেসব অনুভব সংজ্ঞায়িত হয়েছে কিন্তু এটুকু মেনে নেওয়ার কষ্টও ব্যক্তি স্বীকার করতে নারাজ।
যেসব অনুভব বাক্যে প্রকাশ অযোগ্য, শুধুমাত্র নিখাদ শাররীক , কিংবা ভাষিক সীমাবদ্ধতায় ব্যক্তি সেসব প্রকাশ করতে অক্ষম সেসব অনুভুতিও কেউ কেউ নিজের মতো বাক্যে প্রকাশ করেছে, পরিপার্শ্বিক থেকে এমন ভাবেই আমাদের অনুভব উপলব্ধিগুলোকে আমরা সংজ্ঞায়িত করতে শিখেছি।
ক্যান আসো ফিরে (খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত কবিতা)
হাত ধইরে মারো যদি টান
টাল খায় কলজের ঘর ।
ধুয়ে যায় মান আর অভিমান
কামনায় প্যাঁচ খায় কণ্ঠের স্বর ।
সুন্দরী ! কও দেহি শুনি,
তুমি যদি প্রেমই নিতি চাও;
চোখ দিয়ে যদি কিছু কই
লাল হয়ে ক্যান ফিরে যাও ?
ছুইটে চলে গাঙ্গের পানি,
এই দ্যাহো জুয়ার অই দ্যাহো ভাঁটা ।
তুমিও গাঙ্গের মত সই
আসার আগেই ধর হাঁটা ।
ভালবাসা না-ই যদি থাহে
তালি কও, ক্যান আসো ফিরে
আমারে মুছতি দেইহে চোখ,
ভীরু চোখি চুপচাপ ধীরে !
ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি
সেদিন এক ক্লাসমেটের সাথে দেখা হওয়া মাত্র কি খবর, কেমন আছো কোনো কিছুর ধারধারি নাই জিজ্ঞাসা করলো এই তুমি কি এখনো ক্লাসে ঘুমাও?
আমিও স্বীকার করলাম হ্যাঁ। আগের মতোই ঘুমাই।
ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চে বসে ঘুমানোর প্রতিভা আমি খুব ভালো ভাবেই আয়ত্ব করে নিসি অনেক আগেই। পড়তে বসলে বইয়ের উপর মাথা রেখে ঘুমানো সহ অনেক বিচিত্র ঘুম ঘুমানোর অভ্যাস থাকলেও স্কুল লাইফে ক্লাসে বসে কোনোদিন ঘুমাই নাই।
স্কুল লাইফের ফার্স্ট বেঞ্চার কলেজে উঠে হয়ে গেলাম ব্যাক বেঞ্চার শুধু মাত্র ঘুমের জন্য। আমার কলেজ লাইফের একমাত্র এবং অন্যতম বান্ধবী মীমের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার সাথেও আছে আমার ঘুমের গল্প।
বই মেলা কড়চা- ৪
এই ঢাকা শহরে থাকলেও কদাচিৎ যাদের সাথে দেখা হয় বা মোবাইলে কথা হয় সেই সব পরিচিত জনদের সাথে বই মেলা আসলে দেখা হয়। তো, এমন একজনের সাথে আজ দেখা হলো মেলায়। ভাল্লাগলো ভীষন। বিশেষ করে তার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করলো। মনেই হয়নি প্রায় বছর খানেক পর তার সাথে দেখা হয়েছে। তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে কালই একসাথে ছবির হাটে চা-বিড়ি খেয়েছি। ভদ্রলোকের স্ত্রীও বেশ আন্তরিকতার সাথে খোঁজ খবর নিলেন। মেলায় ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। যদিও অনেক মেজাজ খারাপ নিয়ে আজ মেলায় গিয়েছি। একবারতো ভেবেছিলাম, আজ বই মেলায় যাবোই না। আবার মনে হলো- তাহলে বই মেলা কড়চা- ৪ যে লেখা হবেনা। এই বার পণ করেছি- যা থাকে কপালে, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক: ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন একটি করে কড়চা লিখবো...
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং
সাপের জিহ্বার মতো আকাশের বিদুৎচমক
তোমাকে পাল্টে দিল রাস্তা চেনার পাঠক্ষেত।
বিদ্যার বদলে তোমার রাস্তা গেল আলয়ের দিকে।
এবং তারপর অবিদ্যা অধিবিদ্যার পথ গিয়ে থামলো বাইজিদ বোস্তামির মাজার প্রাঙ্গনে।
সেখানে হলুদ অক্ষরে মেট্রাপলিটন সঙ্কেত বার্তা:
কচ্ছপে কামড়ে ধরলে মেঘ না ডাকা পর্যন্ত ছাড়ে না'
তোমার অধিবিদ্যাতে আগ্রহ নেই
মেঘ ডাকছে
তুমি পা চুবিয়ে ধরলে ।
তোমার জ্বালা বেড়ে গেল
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং দীর্ঘতর।