ইউজার লগইন
ব্লগ
হুমায়ুন ফরিদীর মৃত্যুতে
কয়েক বছর আগে ঈদের অবকাশেই সম্ভবত হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী চরিত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটক হয়েছিলো, মিসির আলী আমার পছন্দের চরিত্রগুলোর একটি, এত প্রিয় চরিত্র নিয়ে একটি টিভি নাটক চলছে আর আমি পরিচালককে গালাগাল দিচ্ছি মনে মনে। মিসির আলী চরিত্রে যে অভিনেতা অভিনয় করেছিলেন তাকে ঠিক আমার কল্পনার মিসির আলীর সাথে কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না।
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (৪)
৪.
গ্যারাজ থেকে বের হয়ে কিছুদূর যেতেই দেখা হয়ে গেলো পুরোনো শত্রু যুথীর সঙ্গে। এই মেয়েটি প্রিয়দর্শিনীর ক্লাসমেট ছিলো। ছিলো প্রতিবেশিও। আমাদের বন্ধুমহলে ওর যাতায়াত ছিলো। কিন্তু কোনো এক অমোঘ অজানা কারণে সে প্রিয়দর্শিনীকে সহ্য করতে পারতো না। সবসময় ওকে নিয়ে ক্লাসে টিপ্পনী কাটতো। এমনকি মাঝে মাঝে আমার সামনেও। বন্ধু মানুষ বলে ব্যপারটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতাম না আমরা। কিন্তু যুথী আমাদের নির্বিরোধী আচরণের সুযোগটা নিচ্ছিলো ভালোমতোই। একদিন বেশ বিরক্ত হয়েই মেয়েটিকে ধমকে দিলাম। বন্ধুচক্রে এহেন বিষাক্ত লোকজন থাকলে আসলে পুরো চক্রটাই গুবলেট হয়ে যায়।
অলপ বিদ্যা ভয়ন্কর-২ (উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে)
উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে
কয় দিন আগে ফেইস বুকে একটা লিন্ক পেয়েছিলাম। লিন্কটা হল, যে কোন কাজের প্রতি কোন জাতির কি মনোভাব।

আজ সকালের একটা ঘটনায় উপরের গল্পটা মনে এল। বছরে দুবার জাপানিজ পাবলিক স্কুলের বাচ্চাদের ভূমিকম্প হলে, তারা কি করবে, তার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আজ ছিল সেই দিন। সকালে স্কুলে পৌঁছার পর দেখলাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রত্যেক ক্লাসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ হেলমেট পরে রেডী হয়ে আছেন।
শিরোনামহীন (এক্সপেরিমেন্টাল)
আমি কখনও বোগেনভিলিয়ার ছবি তুলি নাই। কেউ কেউ ভালোবেসে তুলতে পারে বোগেনভিলিয়ার ছবি। না, কোনো ঘৃণা নেই ফুলটার প্রতি। কেমন গালভরা নাম। বাগানবিলাস। খুব কাছে থেকে দেখতেও ভালো লাগে, ঐ পর্যন্তই। গাছটাতে আবার কাঁটাও আছে। দুর থেকে তাকিয়ে ঝোপাঝোপা ফুলের রঙগুলোও খারাপ লাগে না দেখতে। গাঢ় বেগুনী-লালচে বেগুনী- মৃদু বেগুনী- সাদা।
________________________________________________________
________________________________________________________
একটা এক্সপেরিমেন্ট করবার চেষ্টা করলাম।
প্রতিটা বাক্য ধরে লেখাটা শুরু থেকে শুরু করা বা শেষ থেকে শুরু করা, একান্তই পাঠকের ইচ্ছা।
স্টক মার্কেটে ‘ক্র্যাশ’!
(শওকত হোসেন মাসুমের লেখা পড়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া । পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বরাবরই খারাপ জিনিস, তবে ছোঁয়াছে কী না তা পরীক্ষাসাপেক্ষ! )
ওয়াল স্ট্রিটের জাদরেল সব ফাইনান্সিয়াল এনালিষ্টরা হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছেন কম্পিউটারের স্ক্রীনের দিকে।। ক্রমশ:ই লাল হয়ে যাচ্ছে কম্পিউটার স্ক্রিনে চলমান লেখাগুলো।। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন শুরু হয়েছে ৩০ মিনিট বিলম্বে।।বিলম্বিত লেনদেনটা এমন বিপর্যয় দিয়ে শুরু হবে কেউই সেটা ভাবতেও পারেন নি। ।। ফাইনান্সিয়াল টাইমস,ব্লুমবার্গ এর মতো প্রভাবশালী মিডিয়ারও শিরোনাম হয়ে গেছে লেনদেনের শুরুটা। । “আন্তর্জাতিক বাজারে অকস্মাৎ দরপতনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে । সূচকের নিম্নমুখী যাত্রা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এই ধরনের ব্রেকিং নিউজে দেশগুড়ে আতংক তৈরি হয়ে যায়।
পাগলের দিনলিপি (ছয়)
আজ বিষ্যুদবার ইশকুল খোলা
ইউনিফর্মেরা জেগে উঠে ভোরে
জলে ডুবেও ঘুমায় অবোধ শিশুরা
শহুরে শিশুরা স্বপ্ন দেখে সুপার ম্যানের
শীতের ছুটিতে গ্রাম ঘুরে আসা
শিশুরা দেখেছে খেজুরের রস, গুড়ের বাতাসা।
ইউনিফর্ম দল আর পোশাক শ্রমিক,
একসাথে পথ ঢেকে দেয় পায়ে পায়ে।
এক পা এগোলে সুর্যটা যেনো এক হাত মেপে
উপরে উঠেছে...আগুনে আগুনে।
আগুনে পুড়েছে কাঠকয়লা, ইটের ভাটা
ইশকুল ভেঙে শিশুরা ছড়ায় মাঠে
হুইসেল হাকতেই লাইনে লাইনে সোজা
"আমার সোনার বাংলা..." সামনে রেখে
সিরামিক লাল রঙে রাঙানো দালান।
চোখে জল জ্বলজ্বল করে বাষ্পীভূত হলে
জ্বালাপোড়া করে...শুকনো ঠোটে অপরাধমালা।
কনফেশন্স
এক.
আই লাভ ইউ...
ছোট মেয়ে বর্ণমালাকে পড়াচ্ছে শিপলু। শব্দার্থ। এটা ওটার পর শিপলু বর্ণকে জিজ্ঞেস করল, wife মানে কি?
বর্ণমালা আর মনে করতে পারে না!
শিপলু ক্লু দেওয়ার জন্য বলল, আমি তোর বাজানের কি হই?
বর্ণ ঝটপট বলে দিল, বউ।
‘তাহলে বল বউ ইংরেজি কি?’
বর্ণ হেসে বলল, আই লাভ ইউ...।
আমার বচন আমার বাণী
মুখবন্ধঃ বিটলামী করি সেটা জানি। কোন একদিন হয়তো বিটলামির জন্যে বিখ্যাত হয়ে যেতে পারি। বিখ্যাত হলে হয়তো বানী টানী দিতে হতে পারে। তখন হয়তো ব্যস্ত থাকবো, সময় পাবো না। তাই বানীগুলো আগেই লিখে রেখেছি। তারমধ্যে থেকে নির্বাচিত কিছু প্রকাশ করছি আজ। এ বানীগুলো নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত থেকে শিক্ষা লাভ করার উপলব্ধি দ্বারা প্রাপ্ত।
তথাকথিত পৈত্রিক ধর্মের সমালোচনা করা হলো "প্রগতিশীলতা" আর বন্ধুর ধর্মের সমালোচনা করা হলো "সাম্প্রদায়িকতা"।
সুযোগের সদ্বব্যবহার করিয়া ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারের ন্যায় আনন্দ আর কিছুতেই নাই।
চোখের পর্দা থাকলে রাজনীতি করা যায় না।
অন্যায় করে অপরাধ করে ক্ষমা চাইলেই যদি সৃষ্টিকর্তা তাদের ক্ষমা করেন, তাহলে সে সৃষ্টিকর্তার মহানত্ব নিয়ে আমি সন্দেহ প্রকাশ করলাম
বই মেলা কড়চা- ১৫
মেলায় ঢোকার আগে ভাবলাম, এক কাপ চা খেয়ে যাই। সে মোতাবেক ব্যাচেলার কোয়াটারের দিকে রওয়ানা হলাম। এটি হচ্ছে- দোয়েল চত্তর থেকে মেলার দিকে রওয়ানা হলে প্রথম যে গেটটি পড়বে- তার পাশেই। এখানে মেলার সময়টাতে বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চা ছাড়াও ভাজাপোড়া যেমন- আলুর চপ, পাকুরা, বেগুনি, পুরি, পিঁয়াজু এসব পাওয়া যায় গরম গরম। বিড়িতো পাওয়া যায়ই। আমি যেহেতু টিএসসির দিক থেকে যাই- সেহেতু প্রথমে আমাকে RAB ভাইদের স্টলটা পার হয়ে যেতে হয়। সেখানে প্রতিদিন দেখি কয়েকজন RAB সদস্য বসে থাকেন বেশ গম্ভীর ভাবে। ওদের স্টলে একটা বড় সড় টেলিভিশন আছে। সেখানে তাদের নিজেদের কর্মকান্ডের কিছু চালচিত্র দেখানো হয়। যাতে এসব দেখে তারা অনুপ্রানিত হয়। লক্ষ্য করলাম, মাশাল্লাহ তারা বেশ মনযোগ দিয়েই সেসব দেখেন। আর তাদের স্টলের পাশ দিয়ে যাবার সময় মানুষজনের দিকে রক্ত হিম করা দৃষ্টিতে তাকান...। রাতের বেলাতেও এদের অনেকের চোখে কালো সানগ্লাস দেখে আ
গণমাধ্যমে হত্যাকান্ডের উল্লাস
মানুষ কার্যকরণ খুঁজে, আমাদের সামাজিক অভ্যাসেই বিষয়টি প্রবিষ্ট। হাস্যকর, খেলো, একেবারে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় ছল-ছুঁতোও আসলে আমাদের আচরণকে কোনো না কোনো গ্রহনযোগ্যতা প্রদানের প্রয়োজন পুরণ করে। অতীতসূত্র খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজন নেই যদিও তবুও মানুষ কোনো না কোনো ভাবে বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেখানে থমকে দাঁড়ায় সেখানে কল্পনার আশ্রয় গ্রহন করে। এই কল্পনাপ্রবন মানুষ বিষয়গুলোকে নিজের মতো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সত্যবিচ্যুত হয় কিংবা যা সে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে সেখানে তার কল্পনার বাস্তবতা এবং ঘটে যাওয়া বাস্তবতার ভেতরে কিছুটা ব্যবধান রয়ে যায়। এটাকে সচেতন স্মৃতিনির্মাণ বলা যায় না, বরং বলা যায় এক ধরণের সাচ্ছন্দ্যতার খোঁজ।
১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩..ভালোবাসা দিবস কিংবা জয়নাল দিপালীদের বিস্মৃতি...
গুম হয়ে যাওয়া লাশসকল প্রতিশোধ নেবে—
বীভত্স কফিনহীন মৃতদেহ রাস্তায় রাস্তায়
মোড়ে মোড়ে
অলিতে গলিতে
অন্ধিতে সন্ধিতে
তোমাদের শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীলতার গালে
থাপ্পড় মেরে
অট্টহাসি হেসে উঠবে।
যা মনে আসে তাই
১.
তসলিমা নাসরিনের লেখার হাত কী নষ্ট হয়ে গেছে? পড়ছিলাম নির্বাসন, তাঁর আত্মজীবনী। ভাগ্যিস নিজে কিনি নি। তাই সময় নষ্ট হলেও অর্থনাশ হয়নি। বলে রাখি বইটা জ্যোতির। তসলিমার লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে, তবে এটা ঠিক যে তাঁর লেখার হাত অনেক ঝরঝরে। কিন্তু হতাস হচ্ছি নির্বাসন পড়ে। লেখার ধরণটা ভাল না, ভাষার ব্যবহার ভাল লাগে নাই, ভাষার উপর দখল আছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা আছে। কিন্তু একদমই টানলো না। সে তুলনায় পড়ে ভাল লাগলো লীনার ভাইয়ের বইটি। সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে, মোস্তাক শরীফ লেখক।
সন্দেহ নাই উপন্যাসটির শুরুটা দুর্দান্ত। আগ্রহ জাগায়। সেই আগ্রহ পুরো বই জুড়েই ছিল। যদিও যে পরিবারের গল্প সেটি পড়লে একটু শঙ্খ নীল কারাগারের আদল আছে। সে যাই হোক বইটা টানা পড়েছি। আমি মনে হয় গত এক বছরে আর কোনো উপন্যাস পড়িনি।
বই মেলা কড়চা- ১৪
গতকাল ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন। মানে স্বীকৃতভাবে এদিনে যার সাথে যত খুশি ভালবাসাবাসি করা যাবে। এই ভালবাসার দিন বা ভ্যালেন্টাইনস ডে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তোলেন (আমার যদ্দুর মনে পড়ে) শফিক রেহমান। অত্যন্ত রোমান্টিক এ মানুষটি যায়যায়দিন পত্রিকার মাধ্যমে ভালোবাসা নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করেন। যাতে তিনি জানান দেন যে, ভালোবাসার জন্যও একটা স্পেশাল দিন আছে। সারা বিশ্বে সেটা পালন করা হয়। এদিনে প্রিয় মানুষটিকে/পছন্দের মানুষটিকে 'তোমাকে ভালোবাসি' বলা হয়- অনুষ্ঠানিক ভাবে। তার পছন্দের উপহার সামগ্রীও কিনে দেয়া হয়। এ ভালোবাসার মানুষটি যে প্রেমিক বা প্রেমিকা হতেই হবে তা নয়। ভালোবাসার যে কোনো একজন হলেই হবে। মা-বাবা- ভাই-বোন-স্ত্রী-পুত্র-কন্যা- বন্ধু...।
আমরা মানুষ আছি ?
আমরা মানুষ আছি ? সন্দেহ হয় ,
যে সমাজে প্রতিদিন মনিষ্য খুন হয়,
ধর্ষণের হননের নিত্য যেথা জয়,
সে সমাজ মানুষের ? কি করে যে হয় !
বিবর্তনের উল্টো রথে কি জানি কবে,
অমানুষ হয়ে গেছি বাঙ্গালী সবে ।
সন্ত্রাসের সংহারের নিত্য করি চাষ,
মানুষ আমরা ? নাকি দানব পিচাশ !
বোনের ইজ্জ্বত লুঠি, ভাই করি খুন,
কষে -------মেরে দিই যার খাই নুন ।
নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলি, স্বার্থে হলে হানি,
জনকের জান নিতেও সংকোচ না মানি