ইউজার লগইন
ব্লগ
রাফিদা আহমেদ বন্যার বক্তব্য
আমার স্বামী অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ নিয়ে লেখালেখি করতেন, তিনি ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূখর ছিলেন। শুধুমাত্র এই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। গত ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনাকীর্ণ ক্যাম্পাসে আমরা দুজনে হামলার শিকার হই। অভিজিৎকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি কোনোক্রমে বেঁচে যাই।
তাঁর স্ত্রী, একই ধারার লেখক এবং একজন মুক্তচিন্তক হিসাবে, আমি এই পৈশাচিক সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা করি। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হচ্ছে সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি। অভিজিৎ নিজেও এই ক্যাম্পাসেই বেড়ে উঠেছে। মৃত্যুর হুমকি থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারি নি যে, এরকম একটা জঘন্য অপরাধ এখানে সংঘটিত হতে পারে। এই অপরাধ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিলো না, ছিলো বাক স্বাধীনতা এবং মানবতার বিরুদ্ধে।
হতবাক !!!!!!!!!!!!
আমি চাই নি এমন আনন্দের দিনে এই পোষ্টটা দিতে , কিন্তু ছবিটা দেখে খুব খারাপ লাগল !!!!!!
আনন্দও আমিও অনেক করেছি গতকাল, কিন্তু এভাবে আনন্দ করতে গিয়ে যদি মুল্যবান কিছু ধ্বংস করে ফেলি ????
যে ওইটার উপরে উঠছে সে হয়তো এভারেস্ট জয় করার মত কিছু করে ফেলছে এই ভাব নিয়া পোজ দিছে
কিন্তু সে নিজেও জানে না কাজটা কত খারাপ করেছে।
একটু ভাবা দরকার !!!
মন কেমনের ধূসর গ্রিলে
একরকম কেটে যাচ্ছে সময়। এই কথাটা যখন একজনকে বললাম, সে বললো কিভাবে কাটে রক্তসহ নাকি রক্তপাতহীন?
যখন তোমারে চাইতাম
তোমারে পাইতে চাইছিলাম আমি
পাশ ঘেঁষে হাঁটার সময়-
তোমার গায়ের ঘ্রান খুব মোহন করতো আমারে।
আরও অনেক নিভৃতে তোমারে পাইতে চাইছিলাম
ভেজা ভেজা সবুজের মত।
পাইতে চাইছিলাম ফাল্গুনের রাঙ্গা ফুলের মত;
সেই রঙের জোয়ারের মত তোমারে রাঙাইতে চাইছিলাম।
হয়তো বিপ্লবের চেয়েও বেশি রকম তোমারে পাইতে চাইছিলাম।
শুকনো শীতে একটা দেশলাইয়ের মত-
সেই সময় আজো ভোলে নাই-
কি রকম ব্যাকুল আমি- চাইতাম তোমার গায়ের ঘ্রাণ।
২.
ভাবনাতে ঘুম আশুক-
ছোপ ছোপ অন্ধকারের মত।
কোমল অনুভূতিসম্পন্ন মানুষদের সমীপে দুটি কথা
বাংলাদেশের মানুষ কোমল অনুভূতিসম্পন্ন। ধর্ম নিয়ে একটি কথাও তারা সইতে পারে না। তাদের অনুভূতি বিপন্ন হয়ে পরে। যারা তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানবে তাদের যেকোন ধরনের শাস্তি যথার্থ। রাস্তায় কুপিয়ে কুপিয়ে তারা বিশ্বজিৎ হত্যা দেখতে পারে, মোবাইলে ভিডিও করতে পারে, চোর সন্দেহে বিপুল বিক্রমে পিটিয়ে পিটিয়ে যেকোন মানুষকে রাস্তায় সাপ মারার মতো করে মেরে তার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করতে পারে, তাতেও কোথাও কারো কোন অনুভূতি বিপন্ন হয় না। শুধু প্লীজ ধর্মে হাত দিও না, নট টু টাচ ......... একজন মানুষও কী দ্বিধাহীন কন্ঠে বলতে পারে না, “আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে যেকোন মানুষের এ ধরনের মৃত্যু কোন সভ্য দেশের ভূখন্ডে কাম্য নয়। আমরা এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই।“ তারা কী তাহলে সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না, পরকালের শাস্তি নিয়ে কী নিজেরাই দ্বিধায় আছে?
একজন অভিজিৎ, হুমায়ুন আজাদ অথবা লালসবুজের বাংলাদেশ
এক.
হতবিহবল কিংবা থমকে থাকা সময়!
এবারের মত বাজে ফেব্রুয়ারি মাস আমার এই জীবনে আর আসে নি! ফেসবুকে লিখেছিলাম একটু আগে। গোটা দশ লাইকও পেলাম। তাহলে আমারই শুধু খারাপ সময় যাচ্ছে না, অনেকেরই মন্দ সময় কাটছে। আমার অবশ্য এখন ব্লগ টগ লিখতে সিরিয়াস বিরক্ত লাগে। তিনদিন ধরে চেষ্টা করেছি, এক লাইনও লিখতে পারি নি। এসব লিখে টিখে কি হয়? অভিজিৎ রায়ের মতো দেশ সেরা বিজ্ঞান লেখককে হাজার হাজার মানুষের সামনে দুই তিন মিনিট কুপিয়ে খুন করা হয়, তাঁর স্ত্রীকে নির্মম ভাবে জখম করা হয়। আঙ্গুল হীন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সাহায্য চান, কেউ আসে না এগিয়ে। কেউ কেউ ছবি তোলে। এরকম শুয়োরের বাচ্চাদের দেশে আমরা আছি শুয়োর হয়ে, কোনোরকমে প্রান বাঁচিয়ে। এটাকে কি বেঁচে থাকা বলে?
ভন্ড ভালবাসা
মানুষের জীবনে বাচঁতে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। সুস্থ ও সবলভাবে বেচেঁ থাকতে হলে একটা মানুষকে খাবারের সাথে সাথে মনের তৃপ্তিও যোগান দিতে হয়। তা না হলে তার বেচেঁ থাকাটাই কষ্টকর।
আমদের জীবনে চলার পথে অনেক প্রয়োজন সেটা যে কোন ভাবেই হোক না কেন যোগান দিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি তার ভালবাসা হারায় সেটার বিকল্প কি যোগান দিতে পারে? হয়তোবা কেউ কেউ পারে কিন্তু পরিপুর্নভাবে সে সুখ ফিরে পায় না। তখন তার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ভীষন সমস্যা হয়।
এবার আসি মূল বিষয়ে। বিষয়টা হলো ফেইসবুক নিয়ে।
মিত্র কিংবা মৃতের তালিকায় দেখা নামগুলো
অনুভুতিগুলো খুব পরিচিত। শাহবাগের মাঝপথে যেদিন রাজীব খুন হলো সেদিন থেকেই নিশ্চিত ছিলাম লাশের মিছিলে আরও অনেকের নামই যুক্ত হবে। এইসব দৃশ্য দেখে জন্মভুমির পরিচিত ভাষা, পরিচিত বন্ধুর মুখ, মিছিলের উদ্যত হাতের সাথে উত্তোলিত অপরাপর হাত দেখে ভেতরে জন্ম নেওয়া প্রত্যয় আর ছদ্মনিরাপত্তার বোধ ভেঙে যায়, তখন মিছিল শেষে ফেরার পথে পেছনের পথটাতে চোখ রাখা, ভীড়ে খুব কাছে চলে আসা মানুষের হাতের দিকে সন্দিগ্ধ তীক্ষ্ণ নজর রাখা, হঠাৎ করে সেখানে চাপাতি উঠে আসবে কি না ভেবে ভয়ে সিঁটকে থাকা, আবছা অন্ধকার গলির সামনে মানুষের জটলা দেখলে সন্তর্পনে হেঁটে যাওয়া, হয়তো সেখানেই ঘাতক দাঁড়িয়ে আছে উদ্যত ছুরি হাতে, ঘাড়ে কিংবা গলায় চালিয়ে দিবে দ্বিধাহীন। নিরাপত্তাহীনতার বোধ শব্দ দিয়ে এই অনুভুতি প্রকাশ করা যায় না। ক্লাস্টোফোবিক মানুষকে যদি স্যুটকেসে ভরে চলন্ত এস্কিলেটরে ফেলে দেওয়া হয় তার ভেতরে যে ধরণের তীব্র আতংক জন্মাবে প্রতি মূহ
অভিজিত ভাইয়ের মৃত্যু আর চারপাশ
অভিজিত ভাইয়ের মৃত্যু আর একবার জানিয়ে দিলো, কতো প্রকারের সুশীল ফেসবুকে পদচারনা করে। তাদের মুক্তিযুদ্ধে আপত্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আপত্তি, শাহবাগে আপত্তি, জয় বাংলাতে আপত্তি, বঙ্গবন্ধুতে আপত্তি, মানুষের নামে আপত্তি, পোষাকে আপত্তি, মুক্তচিন্তা ভাবনায় আপত্তি ...... কিন্তু মুক্তচিন্তাকারদের আবিস্কৃত ফেসবুক, ইউটিউব, ভাইবার, বাংলা সফটওয়্যার ইত্যাদি কিছুর উপকারিতা নিতে তাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই
অভিজিৎ রায়ের খুনীদের ফাঁসি চাই
আপনারা অবগত আছেন যে মুক্তমনা ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা, বিজ্ঞান ও যুক্তি বিষয়ক বইয়ের জনপ্রিয় লেখক, আমাদের সহযোদ্ধা অভিজিৎ রায় ঢাকা সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টার সময় মৌলবাদী দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত হন। একই হামলায় সাথে থাকা তাঁর স্ত্রী লেখিকা রাফিদা আহমেদ বন্যা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বাংলা কমিউনিটি ব্লগ অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে আমরা এই খুন ও হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, খুনীদের ফাঁসি দাবি করি এবং এই খুনের সঙ্গে জড়িত সকল উসকানিদাতাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।
অভিজিৎ রায় এবং বন্যা আহমেদ মুক্তবুদ্ধির বিকাশে দীর্ঘ সময় ধরে নিবেদিত সাধনা করে এসেছেন। অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু তাই বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।
বাংলা কমিউনিটি ব্লগ অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আপনাদের জানানো হবে।
বিশ্বাসের আসামীরা
২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে ডিবির রিমান্ড শেষে আদালত আমাদের চারজন’কে (রাসেল পারভেজ, আসিফ মহিউদ্দিন, মশিউর রহমান বিপ্লব) পাঠিয়ে দিল কারাগারে। কারাগারে আমাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার সাথে অপেক্ষা করেছিল কারাগারে আটক বন্দিদের কর্তৃক মৃত্যুর হুমকি। আমাদের দেখা মাত্র কয়েদিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ল। এতো বিশ্রি ভাষায় গালাগালি আমি কখনো কারো মুখে শুনিনি।
পাঠপ্রতিক্রিয়া " জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা" পারভেজ আলম
কিছু মৌল বিশ্বাস বাদ দিলে ধর্মাচরণ আদতে এক ধরণের সংস্কৃতিযাপন। মৌলবিশ্বাসের রকমফেরে সে সংস্কৃতিচর্চার বৈশিষ্ঠ্য বদলায়। সামাজিক- অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভেতরে থেকেই সে সংস্কৃতিচর্চা করতে হয় বিধায় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে একই ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় জীবন সংস্কৃতিতে স্থানীয় বৈশিষ্ঠ্য প্রকট হয়ে ওঠে এবং মৌল বিশ্বাস কাঠামোর ভেতরেই ধর্ম নিজেই সংস্কৃত হয়ে ভিন্ন একটি ধর্মীয় সংস্কারে পরিণত হয়। কখনও সামাজিক প্রয়োজনে নতুন ধর্মমতের উদ্ভব হয়, কখনও পুরোনো ধর্মমতের মৌলিক বিশ্বাসজনিত বিতর্কে নতুন একটি ধর্ম সংস্কার তৈরী হয় , মানুষের সংস্কৃতিন্যস্ততা তাকে কোনো না কোনো একটি সংস্কৃতির ভেতরে অভ্যস্ত করে ফেলে এবং সেই অভ্যস্ততাজনিত কারণে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক বিশুদ্ধতা রক্ষায় কখনও প্রতিক্রিয়াশীল কখনও সমঝোতাকামী।
দিন প্রতিদিন বইমেলায়--(৬)
কাল মেলায় ছিলাম। উদ্দেশ্যবিহীন, কেনাকাটাহীন। হিল্লোল দা এর সাথে দেখা, কথা হলো- উনার সাথে থাকা লোকদের বলছে-- আমরা বন্ধুর বড় ব্লগার শান্ত মিয়া, বইমেলা নিয়ে লিখছে নিয়ম করে। আমি অবাক হলাম এইভেবে যে- এই ব্লগ কেউ কেউ এখনো পড়ে। এবারের মেলাটা ভালো যাচ্ছে না। কারন অর্থনৈতিক, সেই কারনে পছন্দের বই কেনা হচ্ছে না। বইয়ের দামও বেশী। নতুন নতুন অনেক বইয়ের নাম শুনি, গত বছর হলেও কিনতাম চোখ বন্ধ করে। এবার আর সেই বিলাসীতার সুযোগ নাই। আশা করছি মনে মনে যে লিষ্টটা আছে, তা এই বইমেলায় কিনে ফেলবো। না পারলে আর কি? জান তো দেয়া যাবে না। আমি সারা বছর জুড়েই টুকটাক বই কিনি, বন্ধুদের থেকে ধার নিই, এবার কেনা হলো না তাতে কি আর করা যাবে?
ক্ষুদে পাইনের বসতি
যে মহল্লায় থাকি তার নাম ক্ষুদে পাইনের বসতি। সম্ভবত যখন এখানে প্রথম বসতি স্থাপিত হয়েছিলো তখন আশেপাশের ছোটো ছোটো টিলার উপরের পাইন গাছগুলো ক্ষুদ্র ছিলো, সেসব গাছের বয়েস বেড়েছে। শহরও গতরে বেড়েছে। শহরের চরিত্রই এমন, নাগরিক সুবিধাগুলোর আনুভুমিক বিস্তৃতির সাথে জনবসতি বাড়ে। কোনো একজন বসতির সামনে ছোটো একটা মুদি দোকান খুলে ফেলে, তার পাশেই কেউ চুল ছাঁটার দোকান, কেউ কাপড় সেলাইয়ের দোকান খুলে, তারপর ধীরে ধীরে দোকানের ধরণ বদলায়, মুদি দোকান থেকে কনভেনিয়েন্ট স্টোর কিংবা সুপারমল তৈরী হওয়ার পর মুদির দোকানী তৈরী খাবারের দোকান খুলে জাঁকিয়ে বসে।