ইউজার লগইন
ব্লগ
প্রিয়তমা কলেজ
আজকে রাতে আমি একেবারেই জড়ো পদার্থে পরিণত হয়েছি। প্রাণহীন, কি যে করি। সব ছেঁড়ে ছুঁড়ে বহুদুরে ছুটে যেতে না পারার গ্লানি আঁকড়ে ধরেছে মনটাকে। নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরছে। আমার পাশে কেউ নেই। এই বিশাল শুন্যতা ভাগাভাগি করলেও কি আর এমন কম হোতো?
শুন্যতা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। যেদিন ছেলেপেলে কলেজে গেছে রি-ইউনিয়ন করতে। আর আমি যেতে পারিনি। আজকে দুপুরটায় যখন নিজের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছি হলের ফুল বাগানে তখন থেকেই টের পাচ্ছি যে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না আর এক মুহূর্তও। কলেজের করিডোরগুলোকে ডেকে এনে পাশে বসিয়ে দেখাতে ইচ্ছে করছে আমার জানালা, মাঘের দুপুর আর বুকের ভেতরের শুন্যতা। প্যারেড গ্রাউন্ড আর একাডেমিক ভবনের সিঁড়িগুলোকে শোনাতে ইচ্ছে করছে আজ আমি কতোটা বদলে ফেলেছি নিজেকে। আর ফাইনাল পরীক্ষার ষড়যন্ত্রে আটকা পড়ে কি করে দিন কাটাচ্ছি।
ময়লা
অফিস যাওয়ার জন্য বাস ধরতে আমি যেখানে অপেক্ষা করি তার পাশেই একটা বড় ড্রেন । ছেলেটা একটা লম্বা বাঁশের আগায় টিনের হাতল বেঁধে সেই ড্রেন থেকে নোংরা পরিস্কার করে জমা করে । একটু পরেই ঠেলা গাড়ি করে আর একজন সেগুলো তুলে নিয়ে যায় । তাতে কত সব দেখি । কি নেই ?
রাস্তাঘাটে ঘরে বাইরে যা দেখি সবই থাকে এর মধ্যে । পচা গন্ধ ছাড়ে কুকুর টানাটানি করে । ছেলেটি তাদেরকে তাড়ায় ।
আমি প্রায়ই দেখি । বাস আসতে দেরি । নাকে হাত চাপা দিয়ে কিছু বাক্যালাপ করি - আজকে যে আরো বেশি গন্ধ ছাড়ছে !
ছেলেটি দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল - কাল রবিবার গেছে । রাস্তার ধারের মাংস দোকানের সমস্ত পড়েছে ।
- কেন ? ওরা কি এ সব ?
হা হা করে হেসে ফেলল - এখানে ফেলার লাইসেন্স আছে যে । সবাই ফেলবে বলেই না আমরা কাজ পাই ।
আমি ভাবি তাই তো একজনের বেহিসেবী রাস্তা আর অন্যজনের হয়তো সাংসারিক হিসেব ।
জোছনা রোদে, বৃষ্টি ভিজে; বিষাদকথন - গানে..
সময় ভালো যাচ্ছে না, অসময়ের ছোঁয়াচে আলোয়। অথবা বলা চলে ভরদুপুরের মিষ্টি হিমেল হাওয়াতেও, এলোমেলো অচেনা ছায়ায়।
বেখেয়ালে প্রাণে বাজে মন কেমনের সুর,
না পাওয়া আর পেয়ে হারানোর কথকতা।
অভিমান লাগে খুব, নেশার মতন।
মনের জানলা জুড়ে সমুদ্দুরের উদাস হাওয়ার বাক্স খুলে বসে অরিজিত্ আর কৌশিকী।
"কিছু কিছু কথা
বসে আছে ভিজে,
মিছি মিছি ব্যাথা
হয় নিজে নিজে।
ঝরে যাওয়া পাতা
জুড়ে বসে ডালে,
মেঘে মেঘে কথা
শোনে সে আড়ালে।
আকাশ যখন গাইবে বলে
বাদলেরই গান,
বাতাস তখন বইতে গিয়েও
দেখায় অভিমান..অভিমান।
আকাশ যখন ফিরতি পথে
মন খারাপের সুর,
বাতাস তখন নিরব চিঠি
পাঠায় বহুদুর..বহুদুর।
কিছু কিছু ধুলো
জমে আছে কাঁচে,
ডাকনাম গুলো
ভীষণই ছোঁয়াচে।
মরে যাওয়া জমি
ভিজে গেলে জলে,
চারাগাছ গুলো
কত কি যে বলে।
তোমার
এমনি আসা এমনি যাওয়া,
এমনি হাজার ছল;
সাজিয়েছো যেনো -
তোমার
এমনি খেলা খেয়াল খুশি,
অতঃপর অভিমানী আঁখি পল্লব !!!!!
সেই ভোরবেলা উঠেছি শুধু তোমার কারনে, তোমার যে কি হয়েছে কিছুই বুঝে আসে না আমার। আমাকে কি তুমি একটুও বিশ্রাম নিতে দিবে না, হ্যাঁ কি শুরু করছো, বলবা আমায় প্লিজ!!!!
ঘুম থেকে উঠে দাত ব্রাশ করবা ভাল কথা, আমাকে কেন সংগে নিবা? আমাকে ছাড়া চলতে পার না তুমি?
আচ্ছা মানলাম রাতে ভাল ঘুম হয় নাই,তাই তুমি টায়ার্ড। কিন্তু নাস্তার টেবিলে একা একা খেতে পার না, তা না আমাকে ছাড়া একফোটা জলও খাবে না। তোমার এইসব ঢং আমার আর সহ্য হয় না। যখন দরকার হয় তখন ভালবাসা উতলাইয়া পড়ে......
তারপর খাওয়া শেষে রেডি হতে গেলেও আমাকে লাগবে। শার্টের কোথায় ময়লা আছে কিনা তা আমাকেই দেখতে হবে।
দ্রূতগামী অতীত
কেউ ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো জমিয়ে রাখে না। ডায়েরীর মতো মূল্যবান নয় বলেই, তবে যারা ডায়েরী লেখে না, তারাও কি জমিয়ে রাখে? আমাদের স্মৃতিগুলো জমা হয় ঝাপসা সেলুলয়েডের মতো। মাঝে মাঝে কিছু স্বপ্নে স্মৃতিগুলো ফিরে আসে। ঘুমের মধ্যে অনুভব করতে থাকি এই বুঝি সেই সোনালী দিনে ফিরে গিয়েছি। টাইম মেশিন সত্যি কেউ বানিয়েছে, যদি তাকে কাছে পেতাম, বড্ড করে জড়িয়ে ধরে বলতাম,"তুমি আমার স্বপ্ন পূরন করেছো।" মাঝে মাঝে স্বপ্নের মাঝে এসব ভাবতে ভাবতে স্মৃতিমাখা আসল স্বপ্নটা দেখা হয় না। ঘুম ভাংতেই ভর করে এক শূন্য হাহাকার।
তুমি এলেনা
তুমি এলেনা
তোমার জন্য আমি অপেক্ষার প্রহর গুণে চলছি,
ভালোবাসার পসরা সাজিয়ে গাঁথছি নকশি কাঁথার বুনন,
আমার চোখের জলে হাসছে সুতোয় আঁকা জলকন্যা।
তুমি এলেনা
তোমার পথ ভিজে পথ ভিজে আছে শিশিরের কান্নায়,
রোজ রাতে জেগে থাকে বাগানের চারাগাছগুলি,
ওদের কান্নার শব্দে আমার চোখের পাতা মেলেনা,
তুমি এলেনা।
তোমার জন্য নিষ্ঠুর আকাশ আর আবির মাখেনা,
বিমুগ্ধ বাতাস কনকনে জল নিয়ে ফিরে আসে
মলিন সন্নাসী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাধাচূড়ার মাতৃগর্ভ।
তবু তুমি এলেনা
তোমার অপেক্ষায় বিনিদ্র রজনী কাটছেনা আমার,
তোমার স্পর্শ ফিরে আসছেনা বরফশীতল হয়ে,
চিবুক গড়িয়েও ঝরছেনা এক বিন্দু নোনা জল।
একটু একটু করে শুধু চির ধরছে ধমনী, শিরা, উপশিরায়।
তুমি আসবেও না, জানি।
হাঁটবে না আমার পাথরে গড়া হাত ধরে,
তোমার ছোঁয়ায়ও আর থামবেনা আমার চুলের উড্ডয়ন,
নিঃশব্দ চুম্বনে কাটবেনা কোন পুর্ণিমা,
ক্যাপ্টেন হায়দার
রুমীর মৃত্যুর পরের ঘটনা। একদিন কয়েকজন
সহকর্মী নিয়ে জাহানারা ইমামের বাসায় এসে হাজির হলেন
ক্যাপ্টেন হায়দার্। জাহানারা ইমাম তখন স্বামী আর
ছেলে হারিয়ে শোকার্ত অবস্থায়। কোথাও
সমবেদনা জানাবে তা না। ক্যাপ্টেন হায়দার করে বসলেন
অন্য কাজ। জাহানারা ইমাম কে বললেন,
- আমার একজন বডিগার্ড দরকার্।
আমি কি জামী কে কিছুদিনের জন্য আমার
কাছে রাখতে পারি
বুঝতে হবে ,ক্যাপ্টেম হায়দার বলে কথা। কনভেনশাল
ওয়েতে শোক জ্ঞ্যাপনের আনুষ্ঠানিকতা তার সাথে যায়না।
বরং উল্টো এক কথায় প্রিয়জন হারানো বাড়িতে নতুন এক
বিশ্বাস ফিরিয়ে আনলেন।
এমনি ক্যারিজম্যাটিক ছিলেন হায়দার
মেলাঘরের প্রশিক্ষনে প্রথম দিন যখন ১৮-১৯ বছরের
সদ্য কৌশোর পেরোনো আপাত
বাচ্চা ছেলেগুলো কে দেখে আর্মির অন্যরা মুখ
টিপে হাসছিল।
খালেদ মোশাররফ এনে দাড় করিয়ে দিলেন
পাকিস্তান আর্মির স্পেশাল কমান্ডো ব্যাটিলিয়নের ক্যাপ্টেন
আশা
শুধু একটাই আশা
সুখ নয়, চাই শান্তি,
হোক না সে এক চিমটি
স্রষ্টার কাছে এই মোর মিনতি।
শুধু একটাই আশা
সরকারী কিংবা প্রাইভেট, হোক না সে একটা চাকুরী
যেন করতে পারি শুধু হালাল রুজি।
শুধু একটাই আশা
সুন্দর চেহেরা নয়,চাই সুন্দর মন
হোক না সে কৃষঙ্কলির মতন।
শুধু একটাই আশা
অট্টলিকা নয়, চাই একটা কুঁড়েঘর
যেখানে হবে মোর স্বপ্নের বাসর।
শুধু একটাই আশা
ছেলে কিংবা মেয়ে নয়,চাই সুসন্তান
যে করবে মা –বাবায় সম্মান।
শুধু একটাই আশা
মরুভুমি নয়,চাই সবুজে ঘেরা গ্রাম
যা দেখলে জুড়াবে মন ও প্রান।
শুধু একটাই আশা
এ প্লাস নয়, চাই শিক্ষার আলো
যা দিয়ে শিশুরা ঘুচাবে সমাজের কালো।
শুধু একটাই আশা
ইডেন গার্ডেন চাই না, চাই ছোট একটা মাঠ
যেখানে খেলবে শিশুরা এক ঝাক।
শুধু একটাই আশা
ঝগড়া কিংবা বিবাদ নয়, চাই শান্তির বার্তা
মিলেমিশে থাকবে প্রজা আর কর্তা।
শুধু একটাই আশা
দ্রুতগামী সময়, মায়ার খেলা!
অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লিখবো লিখবো করেও আর হয়ে উঠে না। আর যখন লেখার জন্য বসি তখন মনে হয় জমে থাক কথা, সব লিখে লাভ কি। কিন্তু আজ আমি লিখবোই। একটা বিশাল পোষ্ট লেখার ইচ্ছে। কারন আমার কত বন্ধু আছে যারা এক লেখাই সাতদিন ধরে লিখে, ড্রাফট করে, শেষে আর লেখাটা ব্লগে তো থাক কোথাও আলোর মুখ দেখে না। আমি অবশ্য সেরকম না। আমি তাৎক্ষনিক স্বকীয়তায় বিশ্বাসী। যা যখন ভাবি, তাই নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে। সেই ভাবনা শেষ, লেখার তেমন ইচ্ছেও থাকে না। তবে এখন সেই অবস্থার সামান্য চেঞ্জ আনার চেষ্টায় আছি, কিছু লেখার বিষয় জমিয়ে রেখে, এক সাথে এক পোষ্টে তা লিখে দেয়া। দেখা যাক কত দূর কি হয়!
সুন্দর পৃথিবী অসুন্দর মানুষ...
আমার একমাত্র মেয়েটা ধর্ষিত হয়েছে আজ ৪দিন।হাসপাতালের বেডে শুয়ে সে তার আঠারো বছরের জীবনের সব সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতিচারণ করছে,আমার খেয়াল সেদিকে ছিলো না।মেয়ের বিছানার সাদা চাদরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম,দেখছিলাম কিভাবে সাদা চাদর রক্তে লাল হয় আপন মনেই ভাবছিলাম হাসপাতালের বিছানার চাদরগুলোর রঙ সাদা হওয়ার কি খুব প্রয়োজন ছিলো??
মেয়ের মা বেঁচে থাকলে এইরকম বিব্রতকর অবস্থায় আমাকে পরতে হত না।আমি সামনে থাকায় ডাক্তারের কোনো প্রশ্নের উত্তরই মেয়ে দিতে পারছে না।
৫ম দিন রাতে আমার মেয়ে হঠাৎ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলো "আচ্ছা বাবা পৃথিবীটা এতো কুৎছিত কেনো'??
সে উত্তরের অপেক্ষা না করেই কুৎছিত পৃথিবীকে বিদায় জানালো।
লেট নাইট কুকিং
দরজা জানালা বন্ধ করা। তারপরও মনে হচ্ছে বেড়ার ফুটো দিয়ে শির শির করে বাতাস ঢুকছে ঘরে। রাত প্রায় শেষ। একটু পরেই মাইকে আজান দেবে। ঘণ্টা কয়েক ধরে ইন্টারনেটে বার্তাচালাচালি করে যখন খুব খিদে লেগেছে তখন একটু ফেসবুকে ঢুকে পড়লাম। আর দেখি একটু আগেই সুফিয়া কামাল হলের একটি রুমে "লেট নাইট কুকিং'' শেষে খাবার দাবারগুলো সযত্নে পরিবেশন করে রাখা হয়েছে।
থালার মাঝখানে একবাটি ভাত উল্টো করে রাখা, চাইনিজদের মত করে। তার পাশে চিংড়ি মাছের কি একটা তরকারি। ভাতের উপরে একটু ধনে পাতা। আর গোলাপ ফুলের মত করে কাঁটা একটা টমেটো। ছবির ক্যাপশনে লিখেছে ''লেট নাইট কুকিং। শ্রিম্প উইথ সবজি, আর কি চাই? কার কার খিদে পেয়েছে??''
আগুন পাখি এবং স্বপ্ন
আজকাল স্বপ্ন দেখাটা অভ্যাস হয়ে গেছে।দেখতে না চাইলেও জোর করে স্বপ্ন দেখায় চোখ জোড়া।বিছানায় শুলেই স্বপ্ন দেখি।পাবলিক বাসে বসে স্বপ্ন দেখি।জেগে থেকে স্বপ্ন দেখি।দেখতে চাই না,তবু দেখি.....
শুয়ে থেকেই আকাশ ছোঁয়া যায়, স্বপ্নগুলোর কালার
প্রিন্ট-আউট নেয়া যায়, তারপর
সেগুলো দুমড়ে মুচড়ে ছুঁড়ে ফেলা যায় বাস্তবতার
ওয়েইস্ট বক্সের পাকস্থলীতে।
শুয়ে থেকেই আকাশ দেখা যায়। মাথার ওপর হাহাকার,পায়ের
পাতায় অবসন্নতা।
আকাশ ছুঁই শুয়ে থেকেই।বাস্তবতা নাড়া দেয়।ঘরে ১৮ বছরের ছেলে।বেকার।কোথাও চান্স হয় নি।স্বপ্ন গুলো কালার প্রিন্ট আউট থেকে সাদাকালো হতে সময় নেয় না মোটেও। উ হু,সাদাকালো না।ধূসর। মরুভূমির মরিচীকার মতন।এক পা এগুলেই ভাবি এই তো আর কিছুদূর। বৃদ্ধ, ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত দেহটাকে টেনে নিয়ে যাই স্বপ্নের কাছে।গন্তব্যে আবিষ্কার করি সবই মিছে,প্রতারণা। আর কিছু দূর.....
যুদ্ধের খেরোপাতা!
ছোটবেলা বাবা শোনাত অদ্ভুত সব গল্প। তার গল্পের ঝুড়ি থেকে ছড়িয়ে শব্দমালাগুলো আমার শৈশব কৈশোরের বড় একটা সময় মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। কখনো মনে হতো যদি আমি হতেম দিগ্বীজয়ী হালাকু খাঁ তাহলে আমার পতাকা চীন ছাড়িয়ে আরও দক্ষিনে সম্প্রসারিত করতাম। যে আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে এসে তার বিজয় রথ থামিয়ে দেয় আমি সেই ভারতবর্ষকে আমার রাজধানী। অথবা যদি হতেম সেই এলেন কোয়ার্টারমাইন, তাহলে তাহলে প্রেইরী অঞ্চলের সবুজ বুক চীড়ে জেগে উঠা পাহাড়ের গোপন গূহ্যদ্বার পেরিয়ে চলে যেতাম সেই চিরযৌবনের দেশে যেখানে মৃত্যু জরা ব্যাধী কখনো কাউকে ছিনিয়ে নেবে না।
গ্রন্থালোচনাঃ বোবাকাহিনী
ক্রীসমাসের ছুটিতে কিছুটা কাউচ পটেটো হয়ে বাইরের তুষারপাত দেখেছি আর হাতে ছিলো গরমা গরম সবুজ চায়ের সাথে পড়া না পড়া কয়েকটি বই আর কিছু দুর্দান্ত সিনেমা। ছোটবেলা থেকে পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের কবিতা পড়েছি তবে সেগুলো বেশীরভাগই টেক্সট বইয়ে। সহজ সরল জীবন কথা, গ্রামীন রুপ এই তার লেখার প্রধান উপজীব্য বলে ধারনা ছিলো। নিজেদের শহুরে জীবনের সাথে অনেক সময় রিলেট করতে পারিনি বলে বেশীর ভাগ সময় আগের যুগে গ্রামে এমন হতো এই মনোভাব নিয়ে পড়ে গেছি।
আমার বাড়ি যাইও ভোমর, বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব শালি ধানের চিঁড়ে।
শালি ধানের চিঁড়ে দেব, বিন্নি ধানের খই,
বাড়ির গাছের কবরী কলা গামছা বাঁধা দই।
কিংবা
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
অপেক্ষা !!!
অপেক্ষা!!!
ব্যস্ত মানুষ, ব্যস্ত গাড়ী
রাস্তায় দাঁড়িয়ে একলা আমি।
ব্যস্ত রাস্তায় খুজি তাকে
হারিয়েছি যাকে অনেক আগে।
ভোরের শিশির হয়ে আসবে সে
হয়তো কোন সবুজ মাঠে,
বলাকা বাসের জানালা দিয়ে
হয়তো সে ডাকবে আমাকে।
ক্লান্ত দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেলে
আসবে সে নদীর জলে।
কোন এক গোধূলি লগ্নে
আসবে সে চায়ের কাপে।
মাঝ রাতে সপ্নের ঘোরে
হয়তো আসবে সে গল্প শোনাতে,
কোন এক ছুটির সকালে
হয়তো আসবে সে চিলেকোঠার কোনে।
আসবে যখনি পাবে আমায়
আছি শুধু তোমারি অপেক্ষায়!!!