মীর'এর ব্লগ
গল্প: নোঙরের সঙ্গে উঠে গিয়েছিলো একটি পাঁজরের হাড়
ক্রিং ক্রিং...
-হ্যালো।
একবার রিং বাজতেই যে মিভ ফোনটা রিসিভ করবে, আমি স্বপ্নেও ভাবি নি। একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। একটু না, বলা ভালো বেশ খানিকটাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। আসলে ও যে ফোন ধরবে, সেটাই তো আমি আশা করি নি। কত দিন-মাস-সপ্তাহ ধরে ও আমার কল রিসিভ করে না! তবুও কেন যে সেদিন রাত ৪টা ৫০মিনিটে আনমনে মোবাইল টিপতে টিপতে ওর নাম্বারটাই আমি লিখেছিলাম, জানি না।
লিখে আবার সেটাকে ডায়ালেও পাঠিয়ে দিলাম। আর চটজলদি কলটা চলে গেলো ওর কাছে। অথচ তার আগে বহুদিন একইভাবে ওর নাম্বার লিখেছি আর কেটে দিয়েছি। একবার, দুইবার, একটানা একঘন্টা, দুইঘন্টা; সেসব অর্থহীন কীর্তিকলাপের কোনো হিসেব নেই।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা এ দু'টোর কোনোটাই না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আমার আর যা কিছু সমস্যা আছে- সেইগুলা সব আজো খুঁজে পাই নি। এ দুইটা গন্ডগোলের জন্য নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। সেই যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে।
বললাম, এতো দেখি ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা কোনো জায়গায় না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আর যা কিছু সমস্যা আমার আছে- সেইগুলা আজো খুঁজে পাই নাই। এই দুইটা গোলমালের কারণে নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে রে।
ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৪)
মেয়েটি বলে চললো, আগেই বলেছি আমার সঙ্গে কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে সেটা গোপনে করতে হতো। আমি সেসব গোপন যোগাযোগ আসলে কতটুকু গোপন, তা গোপনে ক্রসচেক করতাম। মেয়ে হওয়ার অনেক সুবিধা আছে জানেন। একটা মেয়ে যদি কোনো আননোন নাম্বারে ফোন করে ছেলেদের মতো করে কিছুক্ষণ ছোঁক ছোঁক করে, তাহলে অপরপাশ থেকে রাজ্য জয় করে আনা সম্ভব। আমি শুধু খোঁজ করতাম, আমার শিকারগুলাকে সেইসব নম্বরের মালিকেরা কতটুকু চেনে বা আদৌ চেনে কিনা। তবে প্রচুর ইনিয়ে-বিনিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাম্বারগুলো হতো ফ্লেক্সিলোডের দোকানের নাম্বার। তাই আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতো। আমি কোনো ছেলের কাছ থেকে টাকা চাই না, বিয়ে করার চাপ দিই না, কখনো ফোন করি না, টেক্সট্ করি না; কিন্তু আমার কাছে এলেই ইচ্ছামতো সেক্স করতে দিই- এ যেন এক কাল্পনিক রাজ্য!
ভালোবাসা তোমার হৃদয়ে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক
মেয়েটি বলে চললো, আগেই বলেছি আমার সঙ্গে কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে সেটা গোপনে করতে হতো। আমি সেসব গোপন যোগাযোগ আসলে কতটুকু গোপন, তা গোপনে ক্রসচেক করতাম। মেয়ে হওয়ার অনেক সুবিধা আছে জানেন। একটা মেয়ে যদি কোনো আননোন নাম্বারে ফোন করে ছেলেদের মতো করে কিছুক্ষণ ছোঁক ছোঁক করে, তাহলে অপরপাশ থেকে রাজ্য জয় করে আনা সম্ভব। আমি শুধু খোঁজ করতাম, আমার শিকারগুলাকে সেইসব নম্বরের মালিকেরা কতটুকু চেনে বা আদৌ চেনে কিনা। তবে প্রচুর ইনিয়ে-বিনিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাম্বারগুলো হতো ফ্লেক্সিলোডের দোকানের নাম্বার। তাই আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতো। আমি কোনো ছেলের কাছ থেকে টাকা চাই না, বিয়ে করার চাপ দিই না, কখনো ফোন করি না, টেক্সট্ করি না; কিন্তু আমার কাছে আসলেই ইচ্ছামতো সেক্স করতে দিই- এ যেন এক কাল্পনিক রাজ্য!
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৩)
আমি গুলশানে কয়েকটা বড় বড় পার্টি অ্যারেঞ্জ করতেই সবাই চিনে ফেললো। সেই সুবাদে হাতে এসে গেলো এই ফ্ল্যাটটার চাবি। টুকটাক বিদেশ ভ্রমণও শুরু হয়ে গেলো সেইসময় থেকে। আর ভ্রমণের সময় পেয়ে গেলাম আরেকটা টাকার খনির সন্ধান। বিদেশে প্রচুর কনজারভেটিভ বাঙালি পরিবার আছে। যারা থাকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে আর চিন্তা করে থার্ড ওয়ার্ল্ডের নাগরিকদের মতো করে। পরিবারের মেয়েকে দেশের ছেলে ছাড়া বিয়ে দিতে তাদের অনেক আপত্তি। হাহ্ আমার জন্য তো ব্যপারটা সোনায় সোহাগা হয়ে গেলো। বুঝতে পারছেন এখন আমার ব্যবসাটা?
আমি মাথা ঝাকালাম। বুঝতে পেরেছি। সে কথা বলেই গেলো।
ডিভোর্স হয়ে যাবার পর আমার আসলে কোনো পিছুটানই ছিলো না। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই অনেক দিন ধরে। নিজের মতো করে চলতাম। ব্যবসাও নিজের মতো করে চলছিলো। আমার যা দরকার তা সহজেই আয় করে ফেলতাম। ছেলেদের সঙ্গে প্রচুর মিশতাম। সবাই ছিলো ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচিত। কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতাম না। ফ্রেন্ড সার্কেল মানেই বাইন্ডিংস্। ভালো লাগে না আমার একদম।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৩)
আমি গুলশানে কয়েকটা বড় বড় পার্টি অ্যারেঞ্জ করতেই সবাই চিনে ফেললো। সেই সুবাদে হাতে এসে গেলো এই ফ্ল্যাটটার চাবি। টুকটাক বিদেশ ভ্রমণও শুরু হয়ে গেলো সেইসময় থেকে। আর ভ্রমণের সময় পেয়ে গেলাম আরেকটা টাকার খনির সন্ধান। বিদেশে প্রচুর কনজারভেটিভ বাঙালি পরিবার আছে। যারা থাকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে আর চিন্তা করে থার্ড ওয়ার্ল্ডের নাগরিকদের মতো করে। পরিবারের মেয়েকে দেশের ছেলে ছাড়া বিয়ে দিতে তাদের অনেক আপত্তি। হাহ্ আমার জন্য তো ব্যপারটা সোনায় সোহাগা হয়ে গেলো। বুঝতে পারছেন এখন আমার ব্যবসাটা?
আমি মাথা ঝাকালাম। বুঝতে পেরেছি। সে কথা বলেই গেলো।
ডিভোর্স হয়ে যাবার পর আমার আসলে কোনো পিছুটানই ছিলো না। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই অনেক দিন ধরে। নিজের মতো করে চলতাম। ব্যবসাও নিজের মতো করে চলছিলো। আমার যা দরকার তা সহজেই আয় করে ফেলতাম। ছেলেদের সঙ্গে প্রচুর মিশতাম। সবাই ছিলো ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচিত। কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতাম না। ফ্রেন্ড সার্কেল মানেই বাইন্ডিংস্। বাইন্ডিংস্ মানেই ঝামেলা।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (২)
মেয়েটির গলার স্বরে এক ধরনের আহ্বান আছে। সেই আহ্বানে আপনার শরীরের ভেতর থেকে আত্মাটা বের হয়ে চলে যাবে, আপনি নিথর শরীর নিয়ে পড়ে থাকবেন; কিন্তু টের পাবেন না। এহেন সিচুয়েশনে পেটে যদি মালপানি পড়ে তাহলে কি হবে, সেটা ভেবে আমি আতংকিত হয়ে পড়লাম। ছাপোষা চাকরীটা আমার মাসাকাবারি খরচ, সিগারেটের টাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মৌজ-ফূর্তি আর অন্যান্য জরুরি পার্সনাল কাজগুলোর একমাত্র অবলম্বন। বস্ ব্যটা এসে যদি দেখে তার ডার্লিংয়ের সঙ্গে আমি শাদা ওয়াইন হাতে ঢলাঢলি করছি, তাহলে আমার সম্বল কেড়ে নেয়ার যে সামান্য অধিকারটুকু সে রাখে; সেটা খাটাতে নির্ঘাৎ বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়বে।
ওদিকে মীমের বকরবকর চলছেই।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (১)
আমি মীম। পেশায় ব্যবসায়ী। কিসের ব্যবসা করি বলেন তো? এক অর্থে আদম ব্যবসা। আবার ঠিক আদম ব্যবসাও না। ঝিক ঝিক টাইপের ব্যপার-স্যপার। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তো? রাখেন, একটু সবুর করেন। সব খুলে বলবো। যদি চান সব খুলে দেখাতেও পারি। দেখতে চান? চাইলে আগেই বলে ফেলেন। কারণ আমার কথা শেষ হবার পর আপনার সেটা চাওয়ার ইচ্ছে নাও থাকতে পারে।
মীম নামের যে ঝকঝকে সুন্দরী ২৮ বছরের তরুণীটির সামনে আমি বসে আছি, তার সমস্যা কি ধরতে পারছি না। পাকে-চক্রে এমন বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই আধপাগলের সামনে বসে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। কি যে দিনকাল পড়লো। এমনকি মালটাকে একটু রগড়ানিও দিতে পারবো না। কারণ এইটা আসলে বসের মাল। আমার ওপর কড়া নির্দেশ আছে। ফিঙ্গারনেইল দিয়েও টাচ করা যাবে না। অথচ আমার হাইজেনিক ফিঙ্গারনেইলের টাচ, বসের গ্যাদগেদে ময়লা ধরে থাকা নখের আঁচড়ের চেয়ে ভালোই হওয়ার কথা। আমি সেসব ভাবনাতেই বেশি করে মনোযোগ দিলাম। আবোল-তাবোল বকতে থাকুক মীম। যেদিক থেকে বেলাশেষে প্রাপ্তির খাতায় কোনো যোগচিহ্ন বসানোর উপায় নেই, আমি সাধারণত সেদিকে বেশি ভ্রুক্ষেপ করি না।
গল্প: নোঙরের সঙ্গে উঠে গিয়েছিলো একটি পাঁজরের হাড়
ক্রিং ক্রিং...
-হ্যালো।
একবার ফোন হতেই মিভ ফোন ধরবে আমি ভাবি নি। তাই একটু হকচকিয়ে গেলাম। আসলে ও যে ফোন ধরবে, সেটাই আমি আশা করি নি। কিন্তু তাও যে কেন সেদিন রাত ৪টা ৫০মিনিটে ওর নাম্বার আনমনে টিপে টিপে লিখলাম সেলফোনের টাচপ্যাডে! জানি না।
লিখে আবার সেটাকে ডায়ালেও পাঠিয়ে দিলাম। আর সঙ্গে সঙ্গেই কলটা চলে গেলো ওর কাছে। অথচ তার আগে কতদিন যে একইভাবে ওর নাম্বার লিখেও বার বার কেটে দিয়েছি, তার হিসেব নেই। কি মনে করে সেদিন ভোরবেলা ওর নাম্বার টিপেছিলাম, আজ আর মনে নেই। চমকে উঠে অনেকক্ষণ ফোনটা কানে ঠেসে ধরে রেখেছিলাম- এটুকু শুধু মনে আছে।
বন্ধু চালতাগাছ ও অন্যদের নিয়ে একটি গল্প
গরমের সময়টা বড় নির্দয় একটা সময়। কোনো কিছু ভালো না লাগার, কোনো কিছুকে ভালো না বাসার এবং কোনো কিছুতে উচ্ছ্বসিত না হওয়ার একটা সময়। ভালো লাগলেও সীমিত আকারে ভালো লাগে। ভালোবাসলেও পরিমিতহারে ভালবাসি। উচ্ছ্বাসটাও বন্দি হয়ে থাকে কোনো এক অদৃশ্য লিমিটের মধ্যে, যেটাকে আমরা কখনোই দেখতে পাই না। অথচ না দেখা এই লিমিট যেন কখনো ক্রস্ না হয়ে যায়, তা নিয়ে জীবনভর উদ্বিগ্ন থাকি।
একটি সুদীর্ঘ প্রায় বাস্তব-আর-কল্পনার-দুরত্বের-সমান দিনলিপি
মাঝে মাঝে এমন হয়। সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা শুধু লিখতে ইচ্ছা করে। অবশ্য বন্ধু-বান্ধবদের এতে ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। কেননা আমার ধারণা, আমি পৃথিবীর সবচে' আকর্ষণীয় বিষয়টির ওপরেও খুব বেশি হলে দিন দু'য়েক আকর্ষণ ধরে রাখতে পারবো। তারপরে সেটা আমার আর ভালো লাগবে না। তাই এই লিখার ইচ্ছার যন্ত্রণা থেকে হয়তো গোটা দু'য়েক অপ্রয়োজনীয় পোস্ট পয়দা হবে। তারপরে আবারো নিজের আঠালো, অন্ধকার জীবনটাতে ফিরে যাবো বলে আশা রাখি।
এই লেখার কোনো বিষয়বস্তু নেই। সারাদিন কি করে কাটালাম লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠেছিলাম পৌনে একটায়। ঘুমুতে গিয়েছিলাম সকাল সাতটায়। সারারাতে কোনো মুভি দেখি নি। গল্পের বই পড়ি নি বা কোনো কাজ করি নি। অকারণ জেগে ছিলাম। জানি না কেন। শরীরে আমেরিকান সৈন্যদের মতো অনুভূতি কাজ করছিলো। মনে হচ্ছিলো দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে আমি পাহারা দিতে পারি আমার ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার। যেখানে একটি সামাজিক গেকো আমায় আশ্রয় দিয়েছে পরম বন্ধুর মতো করে।
ববি রায়ের সাথে চলে যেও না- অঞ্জন দত্ত
অঞ্জনের ব্যপারে আমার ভেতরে ভালোলাগা কাজ করে অনেকানেক আগে থেকে। কেন কাজ করে, সেটা জানি না। তোমার জঙলাপাড়ের ঢাকেশ্বরী শাড়ি (মালা) গানটা কত-কতবার শুনেছি? ঠিক নেই। অনেক সময় গানটা চালাই শুধু অনেকদিন পরে অঞ্জনের গলা শোনার জন্যই। এখনো মাঝে মাঝে হাইকোর্ট মাজারের রাস্তা দিয়ে ফেরার সময়, কদম ফোয়ারার জলের ছিটে মুখে-চোখে মাখার সময় গুনগুন করে গেয়ে উঠি- ২৪৪১১৩৯...হ্যালো তুমি শুনতে পাচ্ছো কি?
অসমাপ্ত ঝিকিমিকি গল্প
সেবার আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ছেলেমেয়েদের জন্য ইন্টার্নশীপ অফার করা হয়েছিলো। প্রতিবছর এ অফার করা হয় না। ডানিডা নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে। শুধু ওরা যখন টাকা দেয়, তখন ছেলেমেয়েরা সুযোগটা পায়। আমাকে বলা হলো, ক্লাসের ফার্স্টবয় সজলের সঙ্গে ডেনমার্কে গিয়ে ইন্টার্নী করতে হবে। ভালো লাগলো। এই সুযোগে বিমানভ্রমণ হবে। কিছুদিন পোড়ামন নিয়ে পোড়া শহরে ঘুর ঘুর করতে হবে না এবং একই ছকে বাঁধা জীবনটাকে রিপিট করতে হবে না। অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনা নিয়ে আমরা দু'জন ভাইকিংদের রাজ্যে পদার্পণ করার জন্য অপেক্ষা শুরু করলাম। ভিসা পেতে জটিলতা পোহাতে হলো না। ডানিডা'র সব বন্দোবস্ত যারপরনাই ভালো ছিলো।
আশায় আছি, ভালোবাসায়, দুরাশায়, অস্থিরতায় আর দুঃসময়ে; সবসময় তোমার পাশেই আছি
আজকে মনটা দারুণ ভালো! একজন আমাকে বলেছে, আমি নাকি খুব জোরে সাইকেল চালাই কিন্তু আমার কন্ট্রোল ভালো। এইটা শোনার পর থেকে মন ভালো।
বন্ধুবান্ধবের বিষয়টাই আসলে এমন। ছোট-খাটো কথা বা কাজের মধ্য দিয়ে কখন যে তারা মনের অনেক গভীরে ঢুকে নাড়া দিয়ে আসে, টেরই পাওয়া যায় না।
তবে এটা সবসময় ইতিবাচক ভাবেই ঘটে, তা কিন্তু না। অনেক সময় নিজের অজান্তে আমরা বন্ধুকে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলি। তাই সময় পেলেই ভাবুন, আজ-কাল বা পরশু যদি সে এসে দাঁড়ায়… (কথার মধ্যে গানে ঢুকে পড়লাম! ধুত্তোরি। বলতে চাচ্ছিলাম, ভাবুন রিসেন্টলি না বুঝে কাউকে কষ্ট দিয়েছেন কিনা। মন দিয়ে ভাবলে ঠিকই বুঝতে পারবেন। আর বুঝতে পারলে ঘটিয়ে দিতে পারবেন পৃথিবীর সবচে' সুন্দর ঘটনাটি। সেটা কি জানেন না? সেটা হচ্ছে বন্ধুত্ব ভাঙার মতো একটা বিষয়কে ঠেকিয়ে দেয়া। বলেন এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ঘটনা না?)