নিভৃত স্বপ্নচারী'এর ব্লগ
অপেক্ষার বৃষ্টি
ঠিক পাঁচটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল শান্তনার। প্রতিদিন এই সময়ই ঘুম ভাঙ্গে তার। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা ভারী বরষায়ও। কাকভোরে উঠে তড়িঘড়ি করে ছুটতে হয় কাজে। সংসারে তার আপন বলতে একমাত্র ছোট ভাই অপু। কিশোরী সান্তনা যখন মাত্র প্রাইমারীর গণ্ডি পেরিয়ে হাই স্কুলে প্রবেশ করল তখনই বাবা ওকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। আর মা, কয়েক বছর ওদের দু ভাই বোনকে আগলে রেখে সেই যে বিছানায় পড়ল, আর উঠলো না। দুই বছর ভোগে, শুধু ভোগে না বলে বলা যায় সবাইকে ভোগায়। তারপর সব শেষ! সেই থেকেই সান্তনার মাথার উপর আর কেউ থাকে না। পাশে থাকে শুধু অপু। ওর জন্য অপু আর অপুর জন্য ও।
আলোর পথযাত্রী
সবেমাত্র এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করেছি। অফুরন্ত অবসর। আর ক’দিন পর ভর্তি কোচিং এ ব্যাস্ত হয়ে পড়তে হবে। তাই কোচিং এ ভর্তির আগে কিছুদিন বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার এই বেড়ানোর সাথে বাবা তাঁর কিছু কাজ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিলেন। বাবার সেই বিশেষ কাজে আমাকে পটুয়াখালী যেতে হয়েছিল । অনেক দিন পর ওখানে গেলাম ! একটা সময় বাবার চাকুরীর সুবাদে কয়েকটা বছর আমাদের ওখানে থাকতে হয়েছিল। ছোট্ট শহর, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম। তখন ছিল, এখন চেহারা বদলে গেছে অনেকটাই। পটুয়াখালীতে আমার অনেক ভালো লাগা স্মৃতি আছে, যেগুলো মনে পড়লে প্রায়শঃই নস্টালজিক হয়ে যাই। মনে আছে শহর ঘেঁসে দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নদীটা, নামটা ঠিক মনে নেই কিন্তু ভাল লাগা রয়ে গেছে এখনও।
স্মৃতিতে অম্লান – অন্য রকম জোছনা !

নাগরিক জীবনে নানা ব্যাস্ততার মাঝে ফেলে আসা দিনগুলোর কিছু কিছু স্মৃতি কখনো কখনো মনকে আন্দোলিত করে। আমরা অনেকেই হয়ত এগুলো ভেবে মাঝে মাঝে নস্টালজিক হয়ে যাই।
আমাদের কাজিনদের একটা বড় গ্রুপ ছিল। প্রতি বছরই পরীক্ষা শেষ হলে সাবই মিলে একসাথে গ্রামে বেড়াতে যেতাম। কমপক্ষে পনের দিন গ্রামে থাকা হত, সবাই মিলে বেশ মজা করতাম। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, গ্রামে বেড়াতে গেছি।
একদিন সন্ধ্যার পর আমরা ঠিক করলাম রাতে খেঁজুরের রসের পায়েস খাব। নানাদের খেঁজুর গাছ তখনও কাটা শুরু করেনি, তাই মামাত ভাই শ্যামলকে নিয়ে খেঁজুরের রসের সন্ধানে নেমে পরলাম। ও বলল নদীর ওপাড়ে ওর বন্ধুদের বাড়ি থেকে রস পাওয়া যাবে তবে রাত একটু বেশি না হলে হাঁড়িতে তেমন রস জমে না। আমরা ঠিক করলাম রাত দশটার পরেই যাব, তবুও খেঁজুরের রসের পায়েস খাওয়া চাই।
শিকড় ছেঁড়ার কষ্ট এবং বিপন্ন মানবতা
ভদ্রলোকের নাম ছিল রনবীর গুহ। পেশায় হোমিও ডাক্তার। সবাই বলত রবি ডাক্তার। আমাদের বাড়ির আনতিদূরেই ছিল ওনাদের বাড়ি। ওনার ছেলে স্বপন ডাক্তার ছিল আমার বাবার ছেলেবেলার বন্ধু, তাই ও বাড়িতে যাতায়াতও ছিল অবারিত। ভদ্রলোককে আমি ডাকতাম দাদু।
রবি দাদুর হোমিও ফার্মেসিটি ছিল আমাদের বাজারেই। আমি বাজারে গেলে ওনার ফার্মেসিতে যাওয়া ছিল অবধারিত। ওনার ফার্মেসির দুটি জিনিসের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল প্রবল। প্রথমত ওখানে গেলে উনি মিষ্টি হোমিও ঔষধ (এক ধরনের মিষ্টি ছোট্ট সাদা দানা বিশেষ) খাওয়াতেন যা ছিল আমার অনেক পছন্দের আর ছিল ওনার ফার্মেসির সেলফে রাখা একটা ছোট্ট সাদা পুতুল। আহামরি কিছু না, তুলা দিয়ে তৈরি হাঁটু ভাঁজ করে বসা এক বৃদ্ধ, দেখতে ছিল অনেকটা রবি দাদুর মতই। পুতুলটির মাথাটি একটি স্প্রিং দিয়ে ওটার শরীরের সাথে আটকানো, হাত দিয়ে মাথাটি ছুঁয়ে দিলেই ওটা দুলত। ওখানে গেলে আমি মুগ্ধ হয়ে ওটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
একাকীত্বের অবসরে

-এক্সকিউজ মি!
-আমাকে বলছেন?
-এখানে তো আর কেউ নেই!
চারিদিকে তাকিয়ে উত্তরদাতা বলে- হ্যাঁ, বলুন কি করতে পারি আপনার জন্য ?
-এটা কি অনিরুদ্ধ সাহেবের বাসা?
লোকটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অপরিচিত ভদ্রমহিলার দিকে, তারপর বলে- জি, এটাই অনিরুদ্ধ সাহেবের বাসা। আপনি কোত্থেকে এসেছেন?
-চিটাগাং থেকে, ওনাকে একটু ডেকে দিবেন?
-নিশ্চয়ই! বসুন, বাগানের পাশে রাখা চেয়ারটা দেখিয়ে বলল লোকটি, আপনার পরিচয়টা কি জানতে পারি?
-আমি শম্পা
-জি আপনি শম্পা, আমি আসলে অনি’র সাথে আপনার সম্পর্কটা জানতে চাচ্ছিলাম। ভদ্রলোক হেসে জবাব দেয়
-সম্পর্কটা কি জরুরী?
-না, মানে জানতে চাচ্ছিলাম অনিকে ঠিক কতদিন ধরে চেনেন? আপনাকে তো এর আগে কখনো দেখিনি!
-দেখেন, আসলে প্রয়োজনটা ওনার সাথে, কাইন্ডলি ওনাকে ডেকে দিলে ভাল হয়!
স্মৃতিকথা - ৪
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
জীবন গিয়েছে চলে, আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার
তখন, আবার যদি দেখা হয়ে তোমার আমার!
তখন, মুখোমুখি আমি আর শৈশব, মাঝখানে ব্যবধান-
কুড়ি অথবা ত্রিশ অথবা চল্লিশ...
অস্থির সময়ের ভিড়ে কিছুক্ষণ!
অস্থির সময় আমাদেরকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা প্রত্যেকেই কম বেশী আতঙ্কিত। তবুও জীবন থেমে থাকবে না, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, মৃত্যু সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ এগিয়ে যাবে জীবনের প্রয়োজনে! এতদিনের পরিচিত যাপিত জীবনে এখন যোগ হয়েছে নতুন আকাঙ্খা! অনেকদিন ধরে বয়ে বেড়ানো স্বপ্নের বাস্তবায়ন! জানি এ পথ মোটেও সহজ নয়, তবুও স্বপ্নের হাত ধরে সবাই এগিয়ে চলি আগামীর পথে!
সেই ছোটবেলা থেকেই গানের সাথে বন্ধুত্ব! ভায়োলিন আমার খুব প্রিয় একটি মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, কিছুদিন অবশ্য এটা শেখার ভীমরতিতে পেয়ে বসেছিল তবে সময় আর প্রাক্টিসের অভাবে ভাটা পড়েছে সে চেষ্টায়! তবুও মাঝে মাঝে প্রিয় কিছু সুর শুনি, সবার সাথে শেয়ার করতেই লিঙ্কগুলো দিলাম!
নিঃশব্দ প্রহর

মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় কদাচিৎ
গভীর নৈঃশব্দে জেগে থাকি, একাকী !
পাশে ঘুমন্ত চেনা মানুষ, অচেনা লাগে- কখনো;
নিদ্রাহীন স্বপ্নের মাঝে খুঁজে ফিরি নিজেকে
সুখি জীবনের ভিড়ে!
জেগে ওঠে দুঃখ-বেদনা-বিষন্নতা
নিঃশব্দ প্রহর গুনি চাঁদ ডোবা রাতের অচেনা আঁধারে,
বিস্মৃতির অতল হতে ছুটে আসে দুঃস্বপ্নের ঘুণপোকারা
নিশীথের নিস্তব্ধতায়, নির্ঘুম রাতের প্রহরে
রাত জাগা, একা; চেনা-জানা অনেকের মাঝেও!
অদম্য আকর্ষণে অবিরাম ছুটে চলা
আনাদিকালের তরে; এক ঘোর স্বপ্নযাত্রায় !
উদাসী প্রহরে রাত জাগা, হাজারো নক্ষত্রের মত!
গভীর নিশীথে স্বপ্নগুলো বিবর্ণ হয় কখনো,
বুকের ভিতরে জমাটবাধা কষ্টগুলো
গাঢ় নীলাভ হয় শঙ্খনীল বেদনায়!
স্মৃতির আগল খুলে খুঁজে বেড়াই অস্তিত্বের কঙ্কাল,
জোছনা বিহীন আকাশে মেঘের ছায়ার মত জেগে থাকে
ঘুমহীন ক্লান্ত দু’চোখ, অশরীরি অন্ধকারে;
স্বপ্নের শহরঃ নিঃশব্দ প্রহরের কান্না !
শীত বেশ জেঁকে বসেছে এবার, দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই হাড় কাঁপানো শীতে খোলা আকাশের নিচে বাঁচার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলে কিছু মানুষ। রঙিন কাঁচের আড়ালে ঝলমলে বর্নীল জীবন নয়, বরং শক্ত মাটির উপর কনক্রিটের বিছানাই ওদের সম্বল। পশমি কম্বলের আরামদায়ক উষ্ণতার প্রত্যাশা ওরা করে না, হাড় কাঁপানো তীব্র শীত আর হিম শীতল বাতাসের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে পাতলা পুরাতন কাপড় কিংবা চটের আচ্ছাদনে উষ্ণতা খুঁজে ফিরে এই সব অস্পৃশ্য মানুষ নামের জীব! সীমাহীন শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে এদের দিকে দু’হাত বাড়াতে এগিয়ে আসে না কেউ, দেখায় না সামান্য সহানুভূতি! সারা শহর জুড়ে বিভিন্ন খোলা জায়গায়, পার্কে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে গেলে দেখা যায় বাস্তব চিত্র। রাতের ঢাকার এই চিত্র বেশীর ভাগ মানুষের কাছেই থেকে যায় অজানা!
শীত রাতের কিছু দৃশ্যঃ

পেছন পথের ধুলো

এটি একটি কাল্পনিক গল্প, জীবিত বা মৃত কারো সংগে গল্পের কোন চরিত্রের মিল নেই। মিলে গেলে কাকতাল মাত্র।
মাধবপুর স্কুল মাঠ আজ রঙীন সাজে সেজেছে। মাঠের এক পাশে বড় স্টেজ করা হয়েছে। সারা গ্রাম আজ আনন্দের বন্যায় ভাসছে। চারিদিকে একটা উৎসব উৎসব ভাব। ইমতিয়াজ সাহেব আসবেন, তাই এই বিশাল আয়োজন! গ্রামের সব গন্য মান্য ব্যক্তিবর্গ- চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে শুরু করে তরুন-যুবারা আজ মহা ব্যাস্ত।
ইমতিয়াজ সাহেব এই গ্রামের গর্ব। খুব জ্ঞানী মানুষ। তার অনেকগুলো পরিচয়- তিনি এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা, নাট্যকার এবং লেখক। তার আরও একটা বড় পরিচয় আছে- তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থী। তাঁর নিজের গ্রাম থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন; তাই আজ এই জনসভার আয়োজন।
থমকে যাওয়া দিন

থমকে যাওয়া দিন,
কাঁপন জাগা হিমেল শীতের ভোর, কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা
দিনের সবটুকু উষ্ণতা কেড়ে নেয় মাতাল বাতাস
নাগরিক ব্যস্ততা, রিক্সার টুং টাং কিংবা গাড়ির হর্ন-
বিষণ্ণ সড়কদ্বীপে ভেজা ল্যাম্পপোস্ট, ছায়ার মত দাঁড়িয়ে-
বিবর্ণ ঝরা পাতা-স্যাঁতসেঁতে ধুলোর আস্তরণ !
কষ্টের নদী ছুটে চলে নিত্য পথে
বুকে নিয়ে কুয়াশা প্রহর,
বিষণ্ণ মেঘের ভাঁজে ভাঁজে বয়ে যায় অলস সময়
ঝুপ করে আঁধার নামে বিকেল জুড়ে
জানালার কার্নিসে ভেঁজা কাক, একাকী !
বিমর্স নিঝুম সন্ধ্যা-
উদাসী সন্ধ্যায় অধীর প্রতীক্ষা তোমার-
পাশাপাশি-কাছাকাছি, ক্লান্ত দিনের শেষে
কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে উষ্ণ চায়ের চুমুক
রুপালী রাত-মানবিক বোঝাপড়া
ঘোর লাগা দু’চোখে স্বপ্ন খেলা করে
বলে যায়- না বলা অনেক কথা!
ভোরের কনকনে হিমেল হাওয়ায়
কুঁকড়ে যাওয়া উন্নয়নের কারিগর- দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে
ছুটে চলে ব্যস্ত গলিপথে; রোজকার আয়োজনে!
থমকে যাওয়া চোখের কোণে তপ্ত জল জমে কখনো-
স্মৃতিকথা – ৩
স্মৃতিকথা – ১
স্মৃতিকথা – ২
বছর শেষ হতে চলল কিন্তু বেড়াতে যাওয়া হল না এখনো ! মামা বাড়ি থেকে বার বার তাগাদা দিচ্ছে- তোরা কবে আসবি? ধান উঠে গেছে, তোরা এলে একসাথে পিঠা খাব। আমি বলি, মামা এখন ছুটি পাব না। অন্যদের সাথে যোগাযোগ করে ঠিক একই উত্তর পান মামা। তাই নিয়ে খুব আক্ষেপ মামার- খুব শহুরে হয়ে গেছিস, গ্রামের প্রতি তোদের আর কোন টানই নেই!
সময়
ওইখানে ছিল তার ঘর! মাত্র কিছুকাল আগে-
মনে পড়ে; সব!
ভাঙ্গনের খেলা দেখেছে কত এ দুটি চোখ !
ঝাপসা হয়ে আসে!, বারে বারে;
একদিন যৌবন ছিল, লড়েছে কত-
বানের সাথে; ঝড়ের সাথে!
এখন শুধুই স্মৃতি, মনে পড়ে; ক্ষণে ক্ষণে !
বুকের ভিতরে এখনো টের পায় ঢেউয়ের শব্দ -
কাঁপা কাঁপা পায়ে এসে দাঁড়ায়,
ভাঙা পাড়ে-
ওইখানে, ঠিক ওইখানেই ছিল তাঁর ঘর!
ছানি পড়া দু’চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে-
কিছুই নেই এখন আর- ঘর, যৌবন কিংবা সময় !
মনে পড়ে একদা কেটেছে সময়-
সবুজ বৃক্ষের ডালে ডালে পাতায় কিংবা ফুলে;
ধূসর দৃষ্টি মেলে তাকায়
পার হয়ে গেছে সুদীর্ঘ কাল,
জীবন সায়াহ্নের এই বালুকা বেলায়!
বয়ে যায় সময়, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা করে রাত্রি গড়ায়
জীবনের চাকা ক্ষয়ে ক্ষয়ে থমকে দাঁড়ায়;
নিষ্ঠুর নিয়তি-
কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফিরে
ফেলে আসা দিন-
হারিয়েছে কত সাথীরে! কেউ প্রহর গুনছে আজ
তারই মত-
খুঁজে ফিরে উজ্জ্বল আলো; ওখানে আলো নেই!
মেঘলা আকাশ, ফ্যাকাসে, থমথমে!
রাত জাগা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো বুঝতে পারে না এখন আর!
হুক্কা হুয়া শিয়াল ডাকে দূরে কোথাও-
জানান দেয় গভীর হয়েছে রাত!
বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়, অগোচরে-
এইসব দিনরাত্রি (একটি হাজিরা পোষ্ট)
আজকের সকালটা শুরু হল একটু অন্যরকমভাবে। ছুটির দিনে সাধারণত সকালে একটু দেরী করে ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু আজকে অন্যদিনের মতই সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠতে হল। প্রতিদিন সকালে একটা তাড়া থাকে অফিসে যাবার জন্যে তবে আজকের তাড়াহুড়াটা অফিসে যাবার জন্যে নয়, আমার মেয়ে রিয়াসা’র নতুন স্কুলে যাওয়ার জন্য। আজ তার স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। সে খুব খুশি, গত পনের দিন ধরে শুধু প্রশ্ন করে যাচ্ছিল কবে সে স্কুলে যাবে। স্কুলে গিয়ে দেখি পরীক্ষার জন্যে অপেক্ষমান বাচ্চা ও অভিভাবকদের সংখ্যাটা নিতান্ত নগন্য না । ভাবতে অবাক লাগে মাত্র চার বছরের একটা বাচ্চাকে ভর্তির জন্যে পরীক্ষা দিতে হয়, এই বয়সে আমরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাও করি নাই!
কীর্তনখোলার বাঁকে !
স্মৃতির দুয়ার খুলি,
খুঁজে ফিরি আজো মনের গহীনে
আজি হতে কত বর্ষা আগের
ফেলে আসা দিনগুলি !
বুনো ফুল ঘেরা মেঠো পথ আর
ফসলের মাঠে মাঠে,
দিন কাটাতাম হেলায় খেলায়
কাকতাড়ুয়ার সাথে।
অলস প্রহর পেড়িয়ে যেত
বট-শিমুলের ছায়ায় !
জড়িয়ে রাখতো আমায় তখন
কি এক নিবিড় মায়ায় !
গাঁয়ের পুকুরে উদাস দুপুরে
কচুরীপানার ভিড়ে,
ঘুঘু-ডাহুকের ডাকাডাকি
আমায় রাখতো ঘিরে !
ডানপিটে সব সাথীরা মিলে
ধবল বকের ঝাঁকে !
হারিয়েছি মোর রাঙা শৈশব
কীর্তনখোলার বাঁকে !
দিনের শেষে দিঘীর পাড়ে
সুর্য ডোবার ক্ষণে !
হারিয়ে যেতাম ঝিঁঝিঁপোকার
সন্ধ্যা রাতের গানে !
সাঁঝ বেলাতে ডাকত পাখি
জুঁই-চামেলীর শাখে,
আঁধার হলে জমতো খেলা
জোনাক পোকার সাথে !
সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ততা আর
হাজার কাজের ভিড়ে,
যখন তখন মন চলে যায়
বাবুই পাখির নীড়ে !