ইউজার লগইন
ব্লগ
এবং অপূর্ণতা
এ রাতের নির্জন আলো-আঁধারিতে পিচঢালা সুদীর্ঘ পথ
দুপাশের গাছের ভীড়ে মিলেছে অদূরে ।
অনিয়ত গাছের ফাঁক গলে অক্লান্ত দৃষ্টি ছুটে চলে
দিগন্তে , কুয়াশায় , আকাশে , মেঘে মেঘে , বিস্তীর্ন ধানশূণ্য ক্ষেতে ।
কখনো অপ্রস্তুত দৃষ্টি থেমে যায় দুপাশের সরু খালে , কালো জলে জেগে থাকা কলমিলতার ফাঁকে ফাঁকে কালচে মেঘের উড়ে চলা থরথর প্রতিচ্ছায়ায় , দৃষ্টিজুড়ে অবলীলার নিভৃত আলিঙ্গন ।
উত্তরের শিরশিরে হাওয়ায় নিবিষ্ট হন্টক জোরেসোরে চুমো খায় বেনসনের আড়ষ্ট ঠোঁটে , প্রতিটি চুমোয় ভরে ওঠা শিল্পীর হৃদয়ের সপ্নীল ক্যানভাস যতটা পূর্ণ হয় , ঠিক ততটাই থাকে অপূর্ণতা ।
হহুম
আমি পারতপক্ষে চিত্রপ্রদর্শনীতে যাই না, মুক্ত চলচিত্র উৎসব এড়িয়ে যাই, তারা যা বিবৃত করতে চান আমার ছোট্ট মাথার অনেক উপর দিয়ে সেসব চলে যায়, নিতান্ত বেকুবের মতো কি হলো কি বুঝলাম কি হতে পারতো দ্বন্দ্ব আর ধন্দের ভেতরে সংশয়ে বসবাস আমার নিতান্তই অপছন্দ।
উদ্দেশ্যমুখী শিল্পোৎপাদনের রাজনৈতিক সচেতনতা আমার নেই, অনেকেই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে শিল্প-সংস্কৃতিতে নিজের বক্তব্য কিংবা উপলব্ধি তুলে ধরতে চান, কিন্তু শিল্পকে কিছু না কিছু হয়ে উঠতেই হবে, সেখানে শিক্ষনীয় কিছুর উপস্থিতি একান্তই বাঞ্ছনীয় এমন নীতিবাগিশতাও এক ধরণের নৈতিক শৃঙ্খল।
আত্মমগ্ন কথামালা ১৯
*
শুধু শেষটা ঠিক শেষের মত ছিলো না...
**
দিনগুলো উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে, পাখির কিংবা জেট প্লেনের ডানায় চেপে। বিভিন্ন ঘটনায় ভরা একের পর এক দিন। গাঢ় কুয়াশায় লাইটপোস্টগুলোকে গাছের মত লাগে, আর গাছ গুলোকে মনে হয় ভিনগ্রহের প্রাণী। কুয়াশা জমেই থাকছে মন মগজ চোখ এবং শহর জুড়ে।
***
অনেকের সাথে অনেক দিন কথা হয় না। দু'টো সবুজ সুতো গাঁটছড়া বেঁধে নিয়েছে আজকাল। একসময় হয়তো সবুজের স্থান ধীরে ধীরে দখল করবে খয়েরী রঙ; সুতো-পাতা-মনের। তবুও...
****
চেষ্টা করলেও অনেক কিছুই সরিয়ে রাখা যায় না। ঘুরে-ফিরে-ফিরে-ঘুরে আসে... কত কিছুই করছি আবার কিছুই করছি না, বেশ মজারই জিনিসটা। অনেক কিছু জমে উঠছে, আবার জমতে জমতে অনেক কিছুই গলে গলে যাচ্ছে।
*****
প্রথম...
******
বিষণ্ণ কুয়াশা জেগেছে খয়েরী পাতায়, মাঝবয়েসী গাছে
স্বর্ণলতার আলিঙ্গণে।
দূরে উড়ে যাও বর্ষামেঘ
বিষণ্ণ কুয়াশার ঝাঁকে হারিয়ে যাবে তোমার জলভরা চোখ।
হতাশার চিঠি
প্রিয়তমা,
মেয়ে জেনে রেখো যে তোমায় দেখতে এসেই বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেলো তার ভালোলাগা তোমার শারীরিক সৌন্দর্য্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ। কপাল ভালো হলে শরীরের পরে মনের দিকে তাকালেও তাকাতে পারে, নতুবা নয়।
আর যে ছেলে তিনটি বছর তোমার পানে চেয়েছিলো সে আর যাই হোক তোমার শরীরকে ভালোবাসেনি। যদি তাই হোত তাহলে এত্ত সহজে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে না । আর যদি সে তোমায় তোমার বাবার সম্পদের জন্য ভালোবাসতো তাহলে তোমার আগে তোমার বাবার সাথে সু সম্পর্ক করতো।
আসলে ভালোবাসা পাবার অধিকারও সবার থাকেনা।
যাই হোক তোমার অনাগত জীবনের স্মৃদ্ধি কামনা করছি। ভালো থেকো, আর ভালো রেখো। অন্তত এইবার প্রতিজ্ঞা রাখার চেষ্টা কোরো।
- একজন তৃতীয় পক্ষ ।
অন্ধকার সকাল
হাঁটতে হাঁটতে পুরো ঢাকা শহর চষে ফেললাম তারপরেও ক্লান্তি এলো না। সেই দুপুর থেকে হাঁটছি এখন প্রায় মাঝরাত। এবার কোথাও থামতে হবে নাহলে পুলিশ আবার আদর করে থানায় ভরে দেবে, দেশের যা অবস্থা! আর একটা সিগারেট শেষ করে ঐ মসজিদে রাতটা কাটিয়ে দেই। মনে হচ্ছে মাথাটা পুরো ফাঁকা, বোধশূন্য অবস্থা। জুলাই মাসের দারুন গরম তায় আবার প্রচণ্ড মশার উৎপাত, অথচ আমাকে কিছুই কষ্ট দিচ্ছে না – সত্যই কি বোধ হারাইলাম! পকেটে মোবাইল রাখতেই চিঠিটা বেরিয়ে এলো, একবার পড়েছি মাত্র।রিমি লিখেছে...
‘‘ওগো বাঁশিওয়ালা
এই সম্বোধনে রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা আছে, তুমি জানো আমার খুব পছন্দের। ক্যামন আছো তুমি? বড্ড সাদামাটা প্রশ্ন । তা হোক, তোমার আমার সম্পর্কটাই তো সাধারন কোন ভান-ভনিতা নেই, লুকোচুরি নেই তাইনা? সেই কবে তোমাতে মুগ্ধ হয়েছি সে রেশ এখনো কাটল না । আজো যদি আমায় নাম ধরে ডাকো মনে হয় লক্ষ বকুল ফুটল...
এর মাঝে কেন যে এমন হল! তুমি আমি আমাদের দিন রাত সব কি রকম হয়ে গেল! মজা পুকুরের মত জীবন ছিল আমার।যেখানে কচুরিপানাও প্রান পেত না, সেখানে পদ্ম ফোটালে তুমি। সমস্ত আকাশ আলোকিত করে তুমি গেয়েছ –
`ঝরা পাতার গান ' শেষ পর্ব
সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে আর কাঁদতে কাঁদতে উত্তরের বালুপথ আর নদীর তীর ধরে পদ্মা নদীর তীরে এসে বসলাম। গোদারা ঘাটের মাঝিরা আমার বাবাকে, আমাকে চেনে। তিন পুরুষের যাতায়াত এ নদী দিয়ে। পদ্মা বিধৌত উর্বর মাটির সন্তান আমি এবং আমার পূর্ব পুরুষ। এ নদীকে কেন্দ্র করে এর কাছাকাছি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও বিক্রমপুর-এ হাজার বছর ধরে আমাদের পিতৃগণ ও মাতৃগণের বসবাস। আমার জন্মস্থান বিক্রমপুরের লৌহজং-এ। নদী পার হয়ে দিঘলী বাজারে এসে কিছু চিড়া-মুড়ি খেয়ে কদম বাবার মেলায় চলে এলাম। কদম বাবার মেলা শীত প্রকৃতির আরেক অকৃত্রিম রূপ। নানা জাতের মাঘের পাগল এখানে এসে মাস খানিক ভীড় করে গান করে। ব্যবসায়ীরা আর ভক্তরা খুশী থাকলে এ মেলা সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত চলে। নানা রকমের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা। নানা স্বাদের মুড়ী, চিড়া, খইয়ের মোয়া, সন্দেশ, নাড়ু, বাতাসা, কদমা, মিষ্টি খই, চিনি মাখানো ছোট ছোট গোল মিষ্টি, নিমকী, গজা কত না স্বাদের, গন্ধের খাবার। মাঘ মাসের শীতের মেলায় মানুষের ভীড়ে একটুও শীত লাগে না। ছোট্ট বেলায় তাই আগুন না জ্বালিয়ে উষ্ণতার জন্য মেলায় চলে যেতাম।
একটি ফুলের জন্য, রুশানের জন্য..
রুশানের কথা আমরা সবাই কিছু না কিছু জানি। তারপরও যারা অবগত নন তারা এখানে দেখতে পারেন।
নাওয়ার খান (রুশান) বয়স (তিন বছর)। এই ছোট্ট ছেলেটির এখন হেসে খেলে বেড়ানোর সময়। কিন্ত ভাগ্যের র্নিমম পরিহাস, আজ সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। কারন রুশানের জন্মগতভাবে হার্টের একটি ভাল্ব নেই। তিন বছর যাবত সে ঔষধের সাহায্যে বেঁচে আছে। কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে বাইপাস সার্জারী করার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। একজন সুস্থ মানুষের হার্টে তিনটি ভাল্ব থাকে রুশান জন্ম নিয়েছে দুইটি ভাল্ব নিয়ে এর মধ্যে একটি ভাল্বের মুখ খুব সরু, অন্যটি ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এর ফলে রুশানের মস্তিষ্ককে ঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত করতে পারে না, এর ফলে রুশানের সবসময় মাথা ঘুরায় এবং প্রায়ই তার রক্ত চাপ নীচে নেমে যায়। সেই সাথে বমি হয়। আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছে ছোট্ট রুশানের জীবন প্রদীপ।
নভেম্বর ২৫ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত কাটিংটি দেখুন।
হায়রে, এমনই সময় আমার
ফ্লোরময়, ছড়ানো, এদিক সেদিক।
প্রায় লেপ্টে যাওয়া তোষক, তেলচিটচিটে চাদর, ঘামে ভেজা বালিশ,
ছেড়া শপিং ব্যাগ, জুতোর বাক্স (খালি),
হূমায়ুনের ”বাদশাহ নামদার”
একটিন কাজু বাদাম, দুমড়ানো কোকের ক্যান(খালি),জায়নামাজ,
এরোসল ক্যান, মিনারেল ওয়াটারের বোতল (খালি),
ল্যাপটপের পাওয়ার কর্ড, এলোমেলো প্যাচানো
এবং আমি।
ওহ, ভুল হল
দুটি তেলাপোকা, মৃত, শুকনো ভঙ্গুর পাখা গুড়োগুড়ো নিঃশেষ প্রায়।
রাত গাঢ় হতে হতেই জানালা গলে দগ্ধ প্রায় চাঁদের উঁকিঝুকি,
আর, ঘৃন্য ভুলে ছেঁয়ে যাওয়া চরাচর।
এবং …
এবং আমি।
হায়রে, এমনই সময় আমার
হাঁটু মুড়ে নির্বাক চেয়ে থাকা ।
`ঝরা পাতার গান ' পর্ব-৩
এই বন পথে প্রতিদিন সূর্যের উদয় দেখি, দেখি দূরের টিলা, জঙ্গল; আবার সন্ধায় বন ঝাউ, দীর্ঘ ঘাস (বাঁশ) তথা বনশীর্ষ লাল আভায় মাখিয়ে সূর্য ঘুমিয়ে যায়। ফিরে আসি কিছু কাচা টাকা হাতে নিয়ে। আবার ছুটে চলি লাউয়া ছড়ায়, চিম্বুক পাহাড়ে, ভাওয়াল বনে অথবা অন্য কোথাও। রাতের চর বন আর ভাওয়াল বন একই রূপ ধারন করে। নিঃশব্ধ অরন্যভূমি, নিস্তব্ধ জনহীন নিশীথ রাত্রি, চকচকে সাদা বালু, কোথাও দো-আঁশমাটি মিশানো বন, দিনের রৌদ্রে কাচা শুকনা কাঁশবনে জোৎসার আলো পড়ে অপার্থিব সৌন্দর্যের অপূর্ব মহিমায় ভরে দেয় আমার দৃষ্টির দিগন্ত। জল ডোবায় সাদা-বেগুনি কলমী ফুলের সমারোহ আর এই ভিজা বালু-দো-আঁশ মাটিতে সাদা সাদা (কেউ বলে এর নাম দুধলি ফুল) ফুল--বড় মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায় আশেপাশে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে হঠাৎ করে। এ সময় বৃষ্টি! অবাক হলাম, এটা কি মাস? কখনো কখনো পৌষ মাসে কিছু কিছু বৃষ্টি পড়ে। মাঘ মাসে বৃষ্টি নাই। সবাই বন পথে সাপের ভয়ে গান গেয়ে অথবা হাততালি দিয়ে পথ চলে। আমি সবাইকে ‘শীতনিদ্রা’ সম্পর্কে বললাম--দেহের তাপমাত্রা শীতের সাথে উঠা-নামার কারনে সাপ-ব্যাঙ এখন দেখা যাবে না।
ডাহুক ও রাতের মানচিত্র -৪
ডাহুক, প্রণয় পাখি -সবুজ বিকেল শহিদ মিনার ছবি আর ছবি মনে পড়ে,
উদ্ভিদ উদ্যান -সবুজ ঘাসের মাঠ
হাজারো ফুলের মাঝে দোয়েল দখিনা বাড়ি নিরব কথার ধারা – শুধু মনে পড়ে;
আলাওল দিঘি – জোড়া চোখে প্রজাপতি, জোড়া চোখে জল,
নিজেকে পরখ করি তিমির গভীরে;
একটা বিশের ট্রেন – পাখির প্রথম প্রেম, পৃথিবীর সব রূপ জমে আছে চুলে অন্ধকারে।
ফুলজাগা রাতগুলো রাতজাগা ফুলগুলো তোমার আকাশে উড়ে
কখনো ফুলের রাত, কখনো রাতের ফুল তোমার হৃদয় জুড়ে,
এই ফুল এই রাত তোমার গানের মত শুধুই আমার – আমাকে জাগিয়ে রাখে,
এই কথা এই সুর আমার প্রেমের মত শুধুই তোমার – নিশীথে তোমাকে ডাকে।
বৃশ্চিক গতি
চাঁদ থেকে গড়িয়ে পড়া খেঁজুরের রসে সিক্ত হলে তুমি
এতগুলো দরজা খোলা রেখেছো ছয় কামরার বিশাল বারান্দা জুড়ে
বাবুই পাখির ঘরের সুখ উড়ে গেছে জলে হাওয়ায় মিশে
সমুদ্র ফনা তুলে, ভেসে আসা ফেনা বালুর সৈকতে গা এলিয়েছে
কিছু পোকাও কাঁকড়ার মত বালুজলে সর্বসুখে মধুর ধেয়ে চলছে
তারা আজ নৃত্য করবে গারো মেয়েদের শ্যামল পায়ের তালে তালে।
আমাকে স্থান দেবে না উৎসবে, জলের অতল পুরীর গোপন নারীর নির্দেশ
ধরার ঘাসকে স্পর্শ করে গেলে আমার পাপের বোঝা হবে আরো গভীর
চাপিয়ে দেয়া হরতালের মতই আমার সব কিছু নিষিদ্ধ হয়ে গেছে রে
আমি আর জলে নেমে ডুবে মরে যাবো কি করে তবে
বৃশ্চিকেরা মার্চ করে এগিয়ে আসছে ঘাড় শুষে রক্ত টেনে নেবে বলে।
ঝরা পাতার গান পর্ব-2
মনে পড়ে, কাজের সন্ধানে কয়েকবার যেতে হয়েছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ। বর্ষায় দিগন্তবিহীন হাওর--কূল নাই, কিনারা নাই--এযেন, সাগর। শীতের আগমনে ছোট ছোট নদী-নালা-খাল-বিল হাওর থেকে যেন, জেগে উঠে ফসলের মাঠ। নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর-ডোবা মিলেই এ সুবিশাল হাওর। শীতকালে হাওরের সীমানায় দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য চোখে আমি তাকিয়ে থাকি। ভাবি, হাওরের পানি কোথায় চলে যায়। দেখি, চারদিকে মাছ ধরার মেলা; কোন কোন নৌকার খোলা, মাছে পরিপূর্ণ। কোথাও হাঁটু পানি; গরু-মহিষ সেই পানি পেরিয়ে যাচেছ সবুজ তৃণভুমিতে। বিল-ঝিল হাওরের অতি আপন বৃক্ষ হল হিজল গাছ; মাসের পর মাস পানিতেই কেটে যায় এদের জীবন। শকুন, ভূবন চিল মাছ শিকারের ফাঁকে এ গাছের ডালে ডালে বিশ্রাম করে। ঝাঁকে ঝাঁকে পানকৌড়ি, বক, শালিক ইত্যাদি জানা-অজানা বিদেশী পরিযায়ী পাখিরা ভীড় করে হিজল গাছে, জেগে উঠা জলাশয়ে খুঁজে খাবার। কাজের অবসরে আনমনে ভাবতে থাকি--বর্ষাকালের জলডুবা হাওর আর শীতকালে সেই হাওরে ঢেউ খেলানো সবুজ ফসলের মাঠ--প্রকৃতির কি বিচিত্র খেলা!
তোমাকে..
একটা চিঠি লেখার কথা ছিল - তোমাকে..
কিছু প্রশ্ন ছিল..
ইচ্ছেভুলে হারিয়ে ফেলেছি..
কিছু কথা বলার ছিল - তোমাকে..
কিচ্ছুটি বলার জো হয়ে উঠে না।
কি ই বা বলবো -
'ভালোবাসি'?
হুহ! স্বপ্ন দেখার ঐ চোখ দুটো তো সেই ক'বেই হারিয়ে বসেছি..
বলতে পারো?
পথের শেষে কোন গন্তব্য নেই জেনেও কিভাবে পথ চলতে হয়?
শীতের সন্ধ্যায়,
অথবা বৃষ্টিতে ভিজে একদিন বিকালে -
নয় হারিয়েই যেতাম।
চোখের পাতায় জমা থেকে যেত এক টুকরো রোদ্দুর,
কি ই বা যায় আসতো তাতে?
আজকাল কেবল ঘড়ির কাটার টিক টকে পথ চলছি,
আর কিচ্ছুটি ভাবতে ইচ্ছে করে না..অস্থির লাগে।
আর কি বলবো..
তুমি ভালো থেকো, ভালোবাসা নিও।
আর কোন বইয়ের পাতা,
গানের লাইন কিংবা কবিতার খাতা -
একেকটা অসাবধান বাঁধনহারা মুহূর্তে আমায় মনে পড়িয়ে দিলে..
জেনো, তোমায় বলেছিলেম -
কিছু, না বলা কথা'য়..ভালোবাসি.. <3
তোমাকে নিয়ে কোনো গান লেখা হয় নি চেষ্টা করেছি বহুবার
আজকাল মনে হয় আমি একা একাই নায়াগ্রায় চলে এসেছি। উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে হাঁটছি। একা, ওক গাছের সারির ভেতর। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা খড়িগুলো দেখলে অনেক লোভ হয়। কিন্তু তুলি না। প্রকৃতি সম্ভবত অপচয় পছন্দ করে না। হাঁটার সময় পড়ে থাকা খড়ি তুলে লাভ নেই। শক্তির অপচয়। সন্ধ্যা নামার পর খড়ি খুঁজতে বের হতে হয়। মোটা ধরনের একটা বা দু'টো ডাল হলেই সারারাতের চিন্তা শেষ। আর কিছু শুকনো পাতা। পাতা পাওয়াও যায় প্রচুর পরিমাণে। আমার একটা ঝুড়ি থাকলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা নিয়ে হাঁটাহাটি করাটা খানিক কষ্টের হতো। তারপরও পাতা কুড়ানোর সময় প্রতিদিন একবার ঝুড়ির অভাব অনুভব করি।
তুমি কি দেখতে পাও আমাকে? আমার সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে। শুধু আমি আর থামতে পারছি না। তুমি দেখতে পাচ্ছো? আমি হেঁটে হেঁটে ক্রমাগত দূরে চলে যাচ্ছি। আমি জানি তুমি টের পাচ্ছো। হয়তো হৃদয়ে তোমারও চলচ্ছে ক্ষরণ, অবিরাম। কিন্তু, এই দূরে সরে যাওয়া ছাড়া আমাদের যে আর কোনো উপায় নেই। আমি জানি, এই কথাটা তুমিও জানো।
সময়
ওইখানে ছিল তার ঘর! মাত্র কিছুকাল আগে-
মনে পড়ে; সব!
ভাঙ্গনের খেলা দেখেছে কত এ দুটি চোখ !
ঝাপসা হয়ে আসে!, বারে বারে;
একদিন যৌবন ছিল, লড়েছে কত-
বানের সাথে; ঝড়ের সাথে!
এখন শুধুই স্মৃতি, মনে পড়ে; ক্ষণে ক্ষণে !
বুকের ভিতরে এখনো টের পায় ঢেউয়ের শব্দ -
কাঁপা কাঁপা পায়ে এসে দাঁড়ায়,
ভাঙা পাড়ে-
ওইখানে, ঠিক ওইখানেই ছিল তাঁর ঘর!
ছানি পড়া দু’চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে-
কিছুই নেই এখন আর- ঘর, যৌবন কিংবা সময় !
মনে পড়ে একদা কেটেছে সময়-
সবুজ বৃক্ষের ডালে ডালে পাতায় কিংবা ফুলে;
ধূসর দৃষ্টি মেলে তাকায়
পার হয়ে গেছে সুদীর্ঘ কাল,
জীবন সায়াহ্নের এই বালুকা বেলায়!
বয়ে যায় সময়, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা করে রাত্রি গড়ায়
জীবনের চাকা ক্ষয়ে ক্ষয়ে থমকে দাঁড়ায়;
নিষ্ঠুর নিয়তি-
কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফিরে
ফেলে আসা দিন-
হারিয়েছে কত সাথীরে! কেউ প্রহর গুনছে আজ
তারই মত-
খুঁজে ফিরে উজ্জ্বল আলো; ওখানে আলো নেই!
মেঘলা আকাশ, ফ্যাকাসে, থমথমে!
রাত জাগা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো বুঝতে পারে না এখন আর!
হুক্কা হুয়া শিয়াল ডাকে দূরে কোথাও-
জানান দেয় গভীর হয়েছে রাত!
বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়, অগোচরে-