ইউজার লগইন
ব্লগ
৩৬ মাস
আমি আবেগের গাট্টি বস্তা নিয়ে চলাচল করা মানুষ। অতি সাধারন জীবন যাপনের মাঝেও এতো বেশী নানান কারনে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ি যা দেখে নিজেই বিরক্ত হই বারবার। অনেক চেষ্টা করছি জীবনে যুক্তিশীলতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করতে পারি নাই। তাই সেই ব্যার্থতা ঢাকার কোনো চেষ্টা করি নাই। আমার অনেক বন্ধুরা আমাকে নিয়ে বলে শান্তর আবেগ মাইয়া মানুষের মতো। কোনো একটা ঘটনা শোনার দুই তিনদিন পরে তা যখন কাউকে বলতে যাই চোখে পানি এসে যায় অবলীলায়। এ এক বিপদ। যার বিপদ তার খবর নাই চোখে পানি আসে আমার। বা কোনো বই পড়তে গেলাম সেখানে আবেগের কিস্তা কারবার দেইখা নিজের চোখেই পানি এসে গেছে। এমন না যে আমি কঠিন আবেগী মানুষ। অনেক জায়গাতেই আমি ঠিক ঠাক কেদেঁ উঠতে পারি নাই। এই যেমন আজ থেকে ১২ বছর আগে আমার নানু যে দিন মারা যায় সেদিনই আমার চোখ দিয়ে পানি আসে নাই এমনকি ৬ বছর আগে বন্ধু কামরুলের বাবা মেরে গেলো আমার ভালো বন্ধু কামরুলের যত মন খারাপ তার কাছাকাছি আমারো। আমার কাধে মাথা রেখে কামরুল সেমি চিতকার করে কাদছে সেদিন আমার তীব্র মন খারাপ তাও কান্না আসে নি এ এক নিদারুন মন খারাপের কথা। অথচ কিছু দিন উত্তরখন্ড আহমদ ছফার লেখা যখন পড়ছি সেখানে কর্নফ
আবোল তাবোল - ১৪
#
আর মাত্র কয়েকটা দিন। আরেকটা বছর শেষ হয়ে এলো।
২০১২, কেমন গেল তা নিয়ে কিছু বলে লাভ নেই আসলে। বছর শেষ হতে নিলেই মানুষজনের হিসাবনিকাশের বহর দেখলে একটু অবাক-ই হতে হয়। একদিকে চলে চলে যাওয়া বছর নিয়ে পোস্টমর্টেম, আরেকদিকে চলে যত নিউ ইয়ার রেজ্যুল্যুশনের লিস্ট বানানোর কাজ। এসব আমার ভাল্লাগে না। কি লাভ!
প্রত্যেকটা দিন পার হয় নানা রকমের দুঃসংবাদ হজম করে। এতসবকিছুর পরেও যে খেয়েপড়ে বেঁচে মুভি দেখে গান শুনে দিব্যি প্রতিদিন চায়ের কাপে ঝড় তুলে চলছি, এই জমানায় এর চাইতে বড় আশীর্বাদ আর কি ই বা হতে পারে!
বছর শেষে বেঁচে যখন আছি; বলতে হবে ভাল-ই আছি।
আর আসছে বছর কি কি করব তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করেও আসলে লাভের লাভ কিছুই হয় না। আমাদের একেকটা প্রিয় প্ল্যান ভণ্ডুল করে দেওয়ার চাইতে প্রিয় কাজ মনে হয় নেই অসময়ের হাতে। আগে করতাম, এখন তাই লাইফ নিয়ে বড়সড় কোন প্ল্যান করি না আর। আর কাউকে কোনরকম কষ্ট না দিয়ে নিজের মত থাকতে পারলেই অনেক, আর কিছু চাই না আমার।
উপরে তো একজন আছেনই, বাকিটা উনিই দেখবেন। তাইলে, যা হবার ভালই হবে!
#
ওয়েব লগ ১
..................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
এক.
নিয়মিত বাড়িগুলো বদলে যাচ্ছে
বদলে যাচ্ছে আলো-বাতাস, পাখির ডাক
রিকসার ক্রিং ক্রিং, ব্যর্থ চাকা,
পাশের ফ্ল্যাট, স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা মেয়েটার বিনুনীর ফিতা
বদলে যাচ্ছে লঙ্গিচিউড-ল্যাটিচিউড
এবং কাহারো কাহারো অ্যাটিচিউড।
তবে আমি ঠিক আগের মতোই
বরং কিছুটা বেশি আগের মতোন
আমি যদি ভীড় হয়ে যাই!
মন মেজাজ বলা যায় যথেষ্ট আমোদে ছিলো। কাল শেষ হলো বিসিএস রিটেন। ভালোই দিলাম মানে পার করলাম আর কি। সেমিস্টার ফাইনালও চলে গেলো। মনে করছিলাম যে সময়গুলো যাবে আগের মতো হেসে খেলেই অবসরে চায়ের দোকানে আড্ডায় সময় যাবে দারুন। কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা আর কি হয় ইহাই সবচেয়ে বড় ফেইলোর। এমনিতেই সকালে একা একা চায়ের দোকানে বোর হচ্ছিলাম। তারভেতরে দুপুরে বাসায় ফিরে দেখি ফেসবুকে কি কান্ড। এক বন্ধু আমারে জব ক্যারিয়ার নিয়ে হেদায়েতের বানী দেয় মেসেজে। আমি শুধু জানতে চাইছিলাম লোক নিলে জানাইস। সে আমার জব সংক্রান্ত হেদায়েত দেয় সাথে আমার এটিচিউড টাইম ওয়েস্ট নিয়া নসিহত দেয়। মেজাজটা হান্ড্রেডের উপরে খারাপ হইলো। জানতে চাইছি সামান্য কথা সে দেখি দেয় হাদীসের বানী। আরে শালা হাদীস মানলে তো তোদের আগে চাকরী পাইতাম। ফাজায়েলে আমল পড়ে আমল করে বেহেশতের খোয়াব তো সবাই দেখে। সেইটা বয়ান দেয়ার ঠেকা কেন তোদের এতো?
একটা ভ্রান্ত কথা মনে পড়বার অপেক্ষায়
নির্মলেন্দু গুণ একজন দারুণ কবি! এই কবির কবিতা আমার আপাদমস্তক ভালো লাগে। আজ অন্তর্জালে ঘুরে ঘুরে শুধু কবিতা পড়ছি সকাল থেকে। মন ভালো নেই। আকাশটারও মনে হয় একই অবস্থা। এখন পর্যন্ত এক টুকরো রোদও উঠতে দেখলাম না কোথাও। কাশেম ভাইএর দোকানে হয়তো কিছু বিমর্ষ ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করে চা-সিগারেট টানছে। আমি নিরাবেগ শুয়ে কবিতার পাতা উল্টে যাচ্ছি। চোখে পড়লো নির্মলেন্দু গুণের 'যাত্রা-ভঙ্গ' কবিতাটি-
"হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই৷
হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি৷
তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই৷
তখন আমি একটু ছোঁব,
হাত বাড়িয়ে জাড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরনী নায়ে৷
নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব৷
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ,
দু:খ দিয়ে ছোঁব৷
তুই কেমন করে যাবি?"
এবং অপূর্ণতা
এ রাতের নির্জন আলো-আঁধারিতে পিচঢালা সুদীর্ঘ পথ
দুপাশের গাছের ভীড়ে মিলেছে অদূরে ।
অনিয়ত গাছের ফাঁক গলে অক্লান্ত দৃষ্টি ছুটে চলে
দিগন্তে , কুয়াশায় , আকাশে , মেঘে মেঘে , বিস্তীর্ন ধানশূণ্য ক্ষেতে ।
কখনো অপ্রস্তুত দৃষ্টি থেমে যায় দুপাশের সরু খালে , কালো জলে জেগে থাকা কলমিলতার ফাঁকে ফাঁকে কালচে মেঘের উড়ে চলা থরথর প্রতিচ্ছায়ায় , দৃষ্টিজুড়ে অবলীলার নিভৃত আলিঙ্গন ।
উত্তরের শিরশিরে হাওয়ায় নিবিষ্ট হন্টক জোরেসোরে চুমো খায় বেনসনের আড়ষ্ট ঠোঁটে , প্রতিটি চুমোয় ভরে ওঠা শিল্পীর হৃদয়ের সপ্নীল ক্যানভাস যতটা পূর্ণ হয় , ঠিক ততটাই থাকে অপূর্ণতা ।
হহুম
আমি পারতপক্ষে চিত্রপ্রদর্শনীতে যাই না, মুক্ত চলচিত্র উৎসব এড়িয়ে যাই, তারা যা বিবৃত করতে চান আমার ছোট্ট মাথার অনেক উপর দিয়ে সেসব চলে যায়, নিতান্ত বেকুবের মতো কি হলো কি বুঝলাম কি হতে পারতো দ্বন্দ্ব আর ধন্দের ভেতরে সংশয়ে বসবাস আমার নিতান্তই অপছন্দ।
উদ্দেশ্যমুখী শিল্পোৎপাদনের রাজনৈতিক সচেতনতা আমার নেই, অনেকেই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে শিল্প-সংস্কৃতিতে নিজের বক্তব্য কিংবা উপলব্ধি তুলে ধরতে চান, কিন্তু শিল্পকে কিছু না কিছু হয়ে উঠতেই হবে, সেখানে শিক্ষনীয় কিছুর উপস্থিতি একান্তই বাঞ্ছনীয় এমন নীতিবাগিশতাও এক ধরণের নৈতিক শৃঙ্খল।
আত্মমগ্ন কথামালা ১৯
*
শুধু শেষটা ঠিক শেষের মত ছিলো না...
**
দিনগুলো উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে, পাখির কিংবা জেট প্লেনের ডানায় চেপে। বিভিন্ন ঘটনায় ভরা একের পর এক দিন। গাঢ় কুয়াশায় লাইটপোস্টগুলোকে গাছের মত লাগে, আর গাছ গুলোকে মনে হয় ভিনগ্রহের প্রাণী। কুয়াশা জমেই থাকছে মন মগজ চোখ এবং শহর জুড়ে।
***
অনেকের সাথে অনেক দিন কথা হয় না। দু'টো সবুজ সুতো গাঁটছড়া বেঁধে নিয়েছে আজকাল। একসময় হয়তো সবুজের স্থান ধীরে ধীরে দখল করবে খয়েরী রঙ; সুতো-পাতা-মনের। তবুও...
****
চেষ্টা করলেও অনেক কিছুই সরিয়ে রাখা যায় না। ঘুরে-ফিরে-ফিরে-ঘুরে আসে... কত কিছুই করছি আবার কিছুই করছি না, বেশ মজারই জিনিসটা। অনেক কিছু জমে উঠছে, আবার জমতে জমতে অনেক কিছুই গলে গলে যাচ্ছে।
*****
প্রথম...
******
বিষণ্ণ কুয়াশা জেগেছে খয়েরী পাতায়, মাঝবয়েসী গাছে
স্বর্ণলতার আলিঙ্গণে।
দূরে উড়ে যাও বর্ষামেঘ
বিষণ্ণ কুয়াশার ঝাঁকে হারিয়ে যাবে তোমার জলভরা চোখ।
হতাশার চিঠি
প্রিয়তমা,
মেয়ে জেনে রেখো যে তোমায় দেখতে এসেই বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেলো তার ভালোলাগা তোমার শারীরিক সৌন্দর্য্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ। কপাল ভালো হলে শরীরের পরে মনের দিকে তাকালেও তাকাতে পারে, নতুবা নয়।
আর যে ছেলে তিনটি বছর তোমার পানে চেয়েছিলো সে আর যাই হোক তোমার শরীরকে ভালোবাসেনি। যদি তাই হোত তাহলে এত্ত সহজে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে না । আর যদি সে তোমায় তোমার বাবার সম্পদের জন্য ভালোবাসতো তাহলে তোমার আগে তোমার বাবার সাথে সু সম্পর্ক করতো।
আসলে ভালোবাসা পাবার অধিকারও সবার থাকেনা।
যাই হোক তোমার অনাগত জীবনের স্মৃদ্ধি কামনা করছি। ভালো থেকো, আর ভালো রেখো। অন্তত এইবার প্রতিজ্ঞা রাখার চেষ্টা কোরো।
- একজন তৃতীয় পক্ষ ।
অন্ধকার সকাল
হাঁটতে হাঁটতে পুরো ঢাকা শহর চষে ফেললাম তারপরেও ক্লান্তি এলো না। সেই দুপুর থেকে হাঁটছি এখন প্রায় মাঝরাত। এবার কোথাও থামতে হবে নাহলে পুলিশ আবার আদর করে থানায় ভরে দেবে, দেশের যা অবস্থা! আর একটা সিগারেট শেষ করে ঐ মসজিদে রাতটা কাটিয়ে দেই। মনে হচ্ছে মাথাটা পুরো ফাঁকা, বোধশূন্য অবস্থা। জুলাই মাসের দারুন গরম তায় আবার প্রচণ্ড মশার উৎপাত, অথচ আমাকে কিছুই কষ্ট দিচ্ছে না – সত্যই কি বোধ হারাইলাম! পকেটে মোবাইল রাখতেই চিঠিটা বেরিয়ে এলো, একবার পড়েছি মাত্র।রিমি লিখেছে...
‘‘ওগো বাঁশিওয়ালা
এই সম্বোধনে রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা আছে, তুমি জানো আমার খুব পছন্দের। ক্যামন আছো তুমি? বড্ড সাদামাটা প্রশ্ন । তা হোক, তোমার আমার সম্পর্কটাই তো সাধারন কোন ভান-ভনিতা নেই, লুকোচুরি নেই তাইনা? সেই কবে তোমাতে মুগ্ধ হয়েছি সে রেশ এখনো কাটল না । আজো যদি আমায় নাম ধরে ডাকো মনে হয় লক্ষ বকুল ফুটল...
এর মাঝে কেন যে এমন হল! তুমি আমি আমাদের দিন রাত সব কি রকম হয়ে গেল! মজা পুকুরের মত জীবন ছিল আমার।যেখানে কচুরিপানাও প্রান পেত না, সেখানে পদ্ম ফোটালে তুমি। সমস্ত আকাশ আলোকিত করে তুমি গেয়েছ –
`ঝরা পাতার গান ' শেষ পর্ব
সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে আর কাঁদতে কাঁদতে উত্তরের বালুপথ আর নদীর তীর ধরে পদ্মা নদীর তীরে এসে বসলাম। গোদারা ঘাটের মাঝিরা আমার বাবাকে, আমাকে চেনে। তিন পুরুষের যাতায়াত এ নদী দিয়ে। পদ্মা বিধৌত উর্বর মাটির সন্তান আমি এবং আমার পূর্ব পুরুষ। এ নদীকে কেন্দ্র করে এর কাছাকাছি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও বিক্রমপুর-এ হাজার বছর ধরে আমাদের পিতৃগণ ও মাতৃগণের বসবাস। আমার জন্মস্থান বিক্রমপুরের লৌহজং-এ। নদী পার হয়ে দিঘলী বাজারে এসে কিছু চিড়া-মুড়ি খেয়ে কদম বাবার মেলায় চলে এলাম। কদম বাবার মেলা শীত প্রকৃতির আরেক অকৃত্রিম রূপ। নানা জাতের মাঘের পাগল এখানে এসে মাস খানিক ভীড় করে গান করে। ব্যবসায়ীরা আর ভক্তরা খুশী থাকলে এ মেলা সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত চলে। নানা রকমের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা। নানা স্বাদের মুড়ী, চিড়া, খইয়ের মোয়া, সন্দেশ, নাড়ু, বাতাসা, কদমা, মিষ্টি খই, চিনি মাখানো ছোট ছোট গোল মিষ্টি, নিমকী, গজা কত না স্বাদের, গন্ধের খাবার। মাঘ মাসের শীতের মেলায় মানুষের ভীড়ে একটুও শীত লাগে না। ছোট্ট বেলায় তাই আগুন না জ্বালিয়ে উষ্ণতার জন্য মেলায় চলে যেতাম।
একটি ফুলের জন্য, রুশানের জন্য..
রুশানের কথা আমরা সবাই কিছু না কিছু জানি। তারপরও যারা অবগত নন তারা এখানে দেখতে পারেন।
নাওয়ার খান (রুশান) বয়স (তিন বছর)। এই ছোট্ট ছেলেটির এখন হেসে খেলে বেড়ানোর সময়। কিন্ত ভাগ্যের র্নিমম পরিহাস, আজ সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। কারন রুশানের জন্মগতভাবে হার্টের একটি ভাল্ব নেই। তিন বছর যাবত সে ঔষধের সাহায্যে বেঁচে আছে। কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে বাইপাস সার্জারী করার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। একজন সুস্থ মানুষের হার্টে তিনটি ভাল্ব থাকে রুশান জন্ম নিয়েছে দুইটি ভাল্ব নিয়ে এর মধ্যে একটি ভাল্বের মুখ খুব সরু, অন্যটি ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এর ফলে রুশানের মস্তিষ্ককে ঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত করতে পারে না, এর ফলে রুশানের সবসময় মাথা ঘুরায় এবং প্রায়ই তার রক্ত চাপ নীচে নেমে যায়। সেই সাথে বমি হয়। আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছে ছোট্ট রুশানের জীবন প্রদীপ।
নভেম্বর ২৫ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত কাটিংটি দেখুন।
হায়রে, এমনই সময় আমার
ফ্লোরময়, ছড়ানো, এদিক সেদিক।
প্রায় লেপ্টে যাওয়া তোষক, তেলচিটচিটে চাদর, ঘামে ভেজা বালিশ,
ছেড়া শপিং ব্যাগ, জুতোর বাক্স (খালি),
হূমায়ুনের ”বাদশাহ নামদার”
একটিন কাজু বাদাম, দুমড়ানো কোকের ক্যান(খালি),জায়নামাজ,
এরোসল ক্যান, মিনারেল ওয়াটারের বোতল (খালি),
ল্যাপটপের পাওয়ার কর্ড, এলোমেলো প্যাচানো
এবং আমি।
ওহ, ভুল হল
দুটি তেলাপোকা, মৃত, শুকনো ভঙ্গুর পাখা গুড়োগুড়ো নিঃশেষ প্রায়।
রাত গাঢ় হতে হতেই জানালা গলে দগ্ধ প্রায় চাঁদের উঁকিঝুকি,
আর, ঘৃন্য ভুলে ছেঁয়ে যাওয়া চরাচর।
এবং …
এবং আমি।
হায়রে, এমনই সময় আমার
হাঁটু মুড়ে নির্বাক চেয়ে থাকা ।
`ঝরা পাতার গান ' পর্ব-৩
এই বন পথে প্রতিদিন সূর্যের উদয় দেখি, দেখি দূরের টিলা, জঙ্গল; আবার সন্ধায় বন ঝাউ, দীর্ঘ ঘাস (বাঁশ) তথা বনশীর্ষ লাল আভায় মাখিয়ে সূর্য ঘুমিয়ে যায়। ফিরে আসি কিছু কাচা টাকা হাতে নিয়ে। আবার ছুটে চলি লাউয়া ছড়ায়, চিম্বুক পাহাড়ে, ভাওয়াল বনে অথবা অন্য কোথাও। রাতের চর বন আর ভাওয়াল বন একই রূপ ধারন করে। নিঃশব্ধ অরন্যভূমি, নিস্তব্ধ জনহীন নিশীথ রাত্রি, চকচকে সাদা বালু, কোথাও দো-আঁশমাটি মিশানো বন, দিনের রৌদ্রে কাচা শুকনা কাঁশবনে জোৎসার আলো পড়ে অপার্থিব সৌন্দর্যের অপূর্ব মহিমায় ভরে দেয় আমার দৃষ্টির দিগন্ত। জল ডোবায় সাদা-বেগুনি কলমী ফুলের সমারোহ আর এই ভিজা বালু-দো-আঁশ মাটিতে সাদা সাদা (কেউ বলে এর নাম দুধলি ফুল) ফুল--বড় মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায় আশেপাশে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে হঠাৎ করে। এ সময় বৃষ্টি! অবাক হলাম, এটা কি মাস? কখনো কখনো পৌষ মাসে কিছু কিছু বৃষ্টি পড়ে। মাঘ মাসে বৃষ্টি নাই। সবাই বন পথে সাপের ভয়ে গান গেয়ে অথবা হাততালি দিয়ে পথ চলে। আমি সবাইকে ‘শীতনিদ্রা’ সম্পর্কে বললাম--দেহের তাপমাত্রা শীতের সাথে উঠা-নামার কারনে সাপ-ব্যাঙ এখন দেখা যাবে না।
ডাহুক ও রাতের মানচিত্র -৪
ডাহুক, প্রণয় পাখি -সবুজ বিকেল শহিদ মিনার ছবি আর ছবি মনে পড়ে,
উদ্ভিদ উদ্যান -সবুজ ঘাসের মাঠ
হাজারো ফুলের মাঝে দোয়েল দখিনা বাড়ি নিরব কথার ধারা – শুধু মনে পড়ে;
আলাওল দিঘি – জোড়া চোখে প্রজাপতি, জোড়া চোখে জল,
নিজেকে পরখ করি তিমির গভীরে;
একটা বিশের ট্রেন – পাখির প্রথম প্রেম, পৃথিবীর সব রূপ জমে আছে চুলে অন্ধকারে।
ফুলজাগা রাতগুলো রাতজাগা ফুলগুলো তোমার আকাশে উড়ে
কখনো ফুলের রাত, কখনো রাতের ফুল তোমার হৃদয় জুড়ে,
এই ফুল এই রাত তোমার গানের মত শুধুই আমার – আমাকে জাগিয়ে রাখে,
এই কথা এই সুর আমার প্রেমের মত শুধুই তোমার – নিশীথে তোমাকে ডাকে।