ইউজার লগইন
ব্লগ
দয়াল তোমায় প্রনাম
আকাশপানে খুঁজে বেড়াই
কোথায় তোমার বাস-
দয়াল তুমি দয়ার সাগর
মিটাও মনের আশ ।
গয়া-কাশি-মক্কা শহর
রেশমপথে রেশম নগর
দুনিয়া তার পাগলা নাগর
খেল খেলে যাও পাগলা ডাগর।
তুমি বুদ্ধ-তুমি যীশু
তুমি মালিক-পথের শিশু
উড়াইয়া নাও মেঘপাখি
সকাল বিকাল তোমায় আঁকি-
অনিমেষ কয়-সবি ফাঁকি
হৃদমাঝারে আঁকি-বুকি
দমে দমে দমের খেলা
সময় যে নাই-গেলো বেলা।
আগুন নিভাও-আগুন জ্বালাও
কষ্টেরে দুধ কলা খাওয়াও
তুমি আল্লাহ তুমি খোদা
তুমি কৃষ্ণ-তুমি রাধা।
তোমাতে আমি থাকি
আমাতে থাকো তুমি-
আকাশ ছুঁয়ে ভুমি থাকে
দয়াল তোমায় প্রণমি।
বন্ধুত্বের আকাশের নক্ষত্ররা
প্রতিবছর বন্ধু দিবসে আর কোন মানুষকে এতটা মিস করি কি না জানি না, যতটুকু করি আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধু সেলিম কে, সেলিম আমার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসুচির প্রথম সমবয়সী ছেলে বন্ধু। বছর কয়েক আগে সবাই এসে বলল, সেলিম চলে গেছে না ফেরার দেশে।যা এখনও আমি বিশ্বাস করি না, প্রায়ই ভাবি, ও হয়তো আবার ফিরে আসবে, এসে বলবে, “রত্না আমরা সবাই এক সাথে উঠবো, আমাদের অনেক বড় হতে হবে”। খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, “ সেলিম, শুনতে পাচ্ছিস, আমরা অনেক বড় হয়ে গেছি, একবার ফিরে আয়, দেখে যা আমাদের”। যারা এখনও আছে তাদের সবার নাম নিয়ে তো আর শেষ করা যাবে না আর তাই ধন্যবাদ ও জানাবো না, কারন আমি জানি আমি না বললেও তারা আমার পাশে থাকবে।কারন তারা প্রত্যেকেই জানে আমি তাদেরকে অনেক ভালোবাসি।নাম না হয় নাই বললাম ।তবুও কয়েকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই, প্রথমেই বিপ্লব তোর কাছে, সারা জীবন তোকে অনেক জ্বালিয়েছি, গত এক বছর তো শুধুই মিথ্যা ভুল বুঝেছি, ক্ষমা করে দিস আমাকে। তারপর মিনা, তোর কাঁধে মাথা রেখে কান্নার যায়গাটা কখনো আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবি না, প্রমিজ কর। তানি গত একবছর তুমি পাশে ছিলে, হতে পারো তুমি অফিস কলিগ,
আরেক খান গবিতা - একসেস দিয়া দেখরে পাগলা...
সাহিত্যিক ধুন্দুর-মুন্দুর যদি করতারতামরে, ময়না,
তাইলে তো ধাচানো ল্যংগুয়েজে, অনেক ক্যাওয়াজের লাইন লিইখ্যা বেড়াইতাম,
পরতে পরতে থাকতো তুমার ক্ল্যাসিক ক্যারিশমার বাখানিয়া...
আহা.. তুমার সেই ইশটাইল, সেই গরিমার প্রকাশ।
আর প্রতি রাইত্রে উছলেজিত চউক্ষে তুমার কানের কাছে আমার সুকুমার কোবতের ফিসফাস।
প্রেম যদি আমার প্রতিগ্যা হইতোরে যাদু,
টাইম-স্পেস কন্টিনামের বারোটা বাজায়া, তুমার রিদয়ে কেল্লা গাড়তাম,
আর কেল্লার নিচে খড়ায়া রোমিওর লাহান বিয়ান থিকা হাইন্জা তুমার প্রশংসার নহর ছুটায়া দিতাম; তুমার প্রাণের প্রয়োজনে আস্ত রিপাবলিকরেই কিবা সিটিএন দেখাইতাম।
সংগীতে পারদর্শী হইলেরে পুতলা,
তানসেন রে ভুমচক্করে ফেলায়া বিশবার জন্ম নিতাম, সুরের বিলাসে ফুটতো তুমার
''ক্লাসি বেইব'' ভাবচক্কেরের উপযুক্ত উপমা, তুমি বেশী পিক আপ নিলে বেটোভেন রেও
হয়তো ছাড়তাম না রে , মোতসার্ট রে নিয়া টান দিতাম যখন তখন।
আমি লাহুরীর মত মিস্ত্রি হইলে,
দেখতা গলিতে গলিতে তাজমহলের খেলা...ইধার তো উধার...
একেকটা যেনবা তুমার স্বর্গীয় হাসির একেক পার্থিব বয়ান।
মধ্যরাতের আয়নায়..[এলোমেলো কাব্যকথন!]
#
সময় -
মধ্যরাত।
একলা আকাশে একলা চাঁদের মসৃন পথচলা,
দূরের তারার হঠাত্ আলো;
জ্বলে জ্বলে নিভে যায়,
ঝরে যায় সহসাই।
নিঝুম আঁধারে অচেনা আলোর ঝলকানি,
ঘুমঘোর পৃথিবীর এক বেমানান জানালায় ফ্লুরোসেন্ট বাতির আনাগোনা।
অগোছালো পড়ার টেবিলে,
মধ্যরাতের আয়নায়;
দিনভর -
ক্লান্ত সময়ের ফাঁকে পাওয়া টুকরো সুখের ছোঁয়া।
একলা রাতের প্রহর -
চায়ের কাপে মিষ্টি সুবাস,
মৃদু চুমুকে স্বস্তির তৃপ্তি।
সময়ে,
বাতি নিভে যায়।
আঁধারের চাদরে,
নিশ্চুপ জেগে থাকা।
দূরে কোথাও,
নিঃশ্বাসে;
বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ।
চার দেয়ালের আড়ালে বদ্ধ জানালা,
পথ ভুলে আসা ঝড়ো হাওয়ায় কালবোশেখীর নিমন্ত্রন।
ঘুমাচ্ছন্ন দুচোখে,
স্বপ্নমাখা মৃদু হাসি;
অকারন -
ছুঁয়ে যায় মন।।
[সচলায়তন, ১৯-০৪-১০খ্রীঃ]
'অপেক্ষাতে' ও 'দিনযাপন' [এলোমেলো কাব্যকথন!]
#
*অপেক্ষাতে*
দিন কাটে,
কাটে দিন..
আধেক জেগে আধেক ঘুমে;
একটু দুঃখ আর আধেক সুখে,
মন খারাপ আর খানিক হেসে..
সূয্যিমামার কল্যানে ফের,
দুঃসহ দিন..
আসে রাত,
নির্ঘুম রাত..
স্বপ্নে ভাসা;
চা'য়ের কাপ আর কফি'র সাথে,
মন-আকাশে টর্নেডো ঝড়..
যায় চলে দিন,
রোজ এমনি..
অপেক্ষাতে,
বৃষ্টিবিহীন..।।
[সচলায়তন, ২৪০৮১০খ্রীঃ]
#
*দিনযাপন*
অনেক দেরীর ভোর,
দুপুর রোদের গরমে অলস পথচলা।
বরফ কুঁচি ঠান্ডা চুমুকে স্বস্তির মৃদু উচ্ছ্বাস;
অসময়ের বিকেল ঘুমে ভাঙা স্বপন,
টুকরো জীবনের ছন্দ।
নির্বান্ধব একলা ছাদ,
মন মাতানো এলোচুল হাওয়ায়;
গোধুলি আভার পরশে মনে বাজে বিদায়ের বিষণ্ণ সুর।
[সচলায়তন, ২১-০৪-১০খ্রীঃ]
মা দিবস উপলক্ষ্যেঃ অভিমানী মা আমার
একটা চিঠি। সে অনেকদিন আগের কথা; আমার বয়স পাঁচ কি ছয় হবে। হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ঐ সময়টা খুব একটা কারো মনে থাকার কথা নয়। পরবর্তীতে মা আবার সেই স্মৃতিটা গল্পের মত বলেছিল এবং কেঁদেছিল, যখন আমি পড়তে পারি। পদ্মা বিধৌত উর্বর মাটির সন্তান আমি এবং আমার পূর্ব পুরুষ। এ নদীকে কেন্দ্র করে এর কাছাকাছি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও বিক্রমপুর-এ হাজার বছর ধরে আমাদের পিতৃগণ ও মাতৃগণের বসবাস। ’৪৭ ও ’৭১ এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে আমাদের মাতৃ ও পিতৃকূলের অধিকাংশ সদস্য ভবিষ্যতের কথা ভেবে ক্রমান্বয়ে ভারতে চলে যায়। আমার মা বাদে দাদু তার পুরো পরিবার নিয়ে নদীয়ায় চলে যায়। চিরতরে মা-বাবা হারানোর মত করে মা টানা পাঁচ-সাত দিন কেঁদেছিল।
আইসক্রিম
আমার এক বড় বোন গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ক্রমাগত মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে,
যে, মা দিবস আসছে একটি লেখা দে। মনে মনে ভাবি, কি লিখবো? যাই
লিখবো মা কি সেই লেখার টানে ফিরে আসবে। শেষ পর্যন্ত লিখতে বসলাম, কি
লিখবো জানি না, শুধু কম্পিউটারে কিছু শব্দ টাইপ করলেই কি মা কে নিয়ে
লেখা যায়? জানি না। আমার মা চলে গেছেন আজ দেড় বছর হলো। ছোট
বেলায় মা যখন মারতো, তখন ভাবতাম, আমি যখন বড় হব, তখন আমিও
আম্মুকে মারতে পারবো, আম্মু আমার চাইতে লম্বা বলেই, তার পাওয়ার দেখায়
আমাকে, আমার ছোট মনে ধারনা ছিল, লম্বা হলেই বোধহয় বড় হওয়া যায়,
এখানে উল্লেখ্য যে, আমার মা লম্বায় খাটো ছিলেন।কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে
এই ভুলটি যখন ভাঙলো, দেখলাম আমি লম্বা হই ঠিকই, বয়স যেন কেমন দুরন্ত
গতীতে আম্মুর বাড়ে। আমি কোন মতেই তার সমকক্ষ হতে পারি না। মা
দিবসে প্রতি বছর আম্মুর জন্য এক বাটি আইসক্রিম নিয়ে যেতাম, ডায়বেটিকস
ছিল বলে মিষ্টি ছিল তার জন্য হারাম, কিন্তু ঐ একদিন আইসক্রিমের উপর তার
সেই হুমড়ি খেয়ে পড়া দেখে খুব মায়া হতো।আমাকে বলতো, একটুও দিব না,
সব আমি একাই খাবো। আমি বলতাম খাও, যতক্ষন তার মন না ভরতো খেতে
বড় হও
খুব ছেলেবেলায় আমি প্রতিধ্বনিকে ভয় পেতাম।
সিড়ি ভাঙ্গার কালে আড়াল হওয়া মায়ের ভরসায়
যখন 'মা' বলে চিৎকার দিয়ে উঠতাম
প্রতিধ্বনি শুনে আমি ভয় পেতাম।
এখন আমি বড় হয়ে গেছি
তুমি যে আজো প্রতিধ্বনি মত খড় কাদার
পুতুল দেখলেই ভয় পাও,
অস্ত্র হাতে আসো ভেঙে দিতে।
তার যত হাতই থাকুক,
হাতে যতই অস্ত্র থাকুক
খড়টুকু সে নাড়াতে পারে না।
প্রতিবাদটুকু সে করতে পারে না।
অথচ যতবার তুমি একটা করে মূর্তি ভাঙ
ততবার তোমার একটা করে ভাবমূর্তি ভাঙে।

ক্ষেতের মাঝে কাকতাড়ুয়া দেখে
পিচ্চি বেলায় ভয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরতাম।
দিদি বলত এটা যে তোকে ভয় দেখানোর জন্য না
পাখিকে ভয় দেখানোর তরে রাখা।
এখন আমি বড় হয়ে গেছি আমি বুঝি
মানুষ নেই অথচ মানুষের রেপ্লিকা তাড়িয়ে দিচ্ছে কাক!

ছেলে বেলায় মণ্ডপে যখন যেতাম
দেখতাম মায়ের মতই সুন্দর করে সাঁজ
কোন এক বধু মাথায় সুন্দর তাজ
কত স্নেহ তার চোখে ঝরছে।
নিছক বিষাদ ও শিরোনামহীন [এলোমেলো কাব্যকথন!]
#
#নিছক বিষাদ#
আজি মেঘমেদুর হাওয়া লাগে প্রানে;
নিছক বিষাদে,
জেগে থাকে বিষণ্ণ দুপুর..
উদাসীন আপনমনে আনমনা কথকতা,
কানে বাঁজে;
বৃষ্টি ধ্বনি টাপুর-টুপুর..
অবসন্ন সময় কাটে;
এক দু'চুমুক চা'য়ের কাপে,
রবির সুরে গুন্জরিত প্রানে..
আকাশের যত মেঘ;
ছায়া পড়ে যেনো হৃদয়ের গা'য়, অলীক মায়ায়..
বয়ে চলে অকারন অভিমানে, ভেজা-চোখ;
বৃষ্টিস্নাত অলস দ্বিপ্রহর..
নিছক বিষাদে..।।
সচলায়তন, ৩০-০৬-১০ খ্রীঃ
#
#শিরোনামহীন#
..পথ চলছে,
খেয়াল থাকুক আর নাই থাকুক..
তারপর কোন একদিন..
প্রতিদিনকার চেনা ঘুম,
অচেনা পথের পথিক করে দিবে..
প্রিয় ডায়রী'র লেখা পাতাগুলো হঠাৎ
করেই দিশেহারা,
শুকনো ঝরা পাতা যেন..
এক নিমিশেই
স্তদ্ধ..
ক'ফোটা চোখের জল আর ঠোটের
কোণে আলতো হাসি,
হঠাৎ করেই কোন
একদিন..ফিকে হয়ে আসবে..
অতঃপর..
পথচলার খেরোখাতা আর
এলোমেলো স্মৃতিধূলো,
বয়ে যাবে নিরন্তর..
রয়ে যাবে..অমলিন..
অসীম পথের
সায়াহ্নে..শিরোনামহীন..।।
[সচলায়তন,২৬-০৮-১০খ্রীঃ]
অসুখ
এক.
ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে এসে জানালার
কার্নিশে বসলো দাঁড়কাকটা, কিছুক্ষণ
এদিক ওদিক চেয়ে দেখলো, তারপর গা-
টা একটু ঝাড়া দিয়ে, ঠোঁট দিয়ে গায়ের
চকচকে পালকগুলো ঠিকঠাক করায় মন
দিলো।
জানালার লালচে খয়েরি শিকগুলোর
ফাঁক দিয়ে এতোক্ষণ কাকটাকেই
দেখছিলো অতীন- কিছুক্ষণ বাসার
সামনের রাস্তাটার ওপাশের কাঁঠাল
গাছটায় বসে ছিলো কাকটা, এখন
একটা চিল এর তাড়া খেয়ে বসেছে এই
জানালার নীচের কার্নিশটায়।
অতীন অবাক হয়ে দেখলো কাকটার
গা একদম ভিজে চুবচুব হয়ে আছে- আজব
ব্যাপার তো! বৃষ্টি হলো নাকি? ইশ!
কতদিন বৃষ্টিতে বাসার
ছাদে দৌড়াদৌড়ি করা হয়না!
হু, আস্তে আস্তে দীর্ঘশ্বাস
ছাড়লো অতীন। শুধু কি বৃষ্টি? ওর
তো বাসার বাইরে যাওয়াই নিষেধ।
অতীন ক্লাশ সেভেনে পড়ে। দুই মাস পর
ফাইনাল এক্সাম অথচ স্কুলেই
যাওয়া হয়না কতদিন হয়ে গেলো। ডক্টর
আঙ্কেল তো খালি বলে রেস্ট নিতে। মা-
কে বন্ধুদের সাথে খেলতে যাওয়ার
কথা বলতেই এমনভাবে তাকায়, মনে হয়
না জানি কী অপরাধ
করে ফেলছে খেলতে চেয়ে! উফফ, এক
কার্টুন দেখে আর পিসি গেমস
খেলে কয়দিনই বা ভালো লাগে।
আয়নায় চোখ পড়তেই একটু
চমকে গেলো অতীন, ওর নিজের কাছেই
সত্য
ওই তুই ভালোবাসার অর্থ বুঝিস ?
একবেলা ওয়েস্টার্ন গ্রিলে খাইলে
আর আই লাভ ইউ পাখি বললেই
ভালোবাসা হয় না ।
ভালবাসতে মন লাগে,
মনেতে তৃতীয় চক্ষু লাগে,
বৃষ্টির রাতে হাতে হাত রেখে হাঁটা লাগে,
ভ্যালেন্টাইনের ভোঁরে একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে অবাক করা লাগে ।
মন যদি থাকে আপন সিদ্ধান্তে দুর্বল,
হৃদয়ে যদি রাখিস অন্যকারো ভালোবাসা প্রবল,
তাহলে তো লোকে বলবেই
ধুরো শালী ভালোবেসেছিলি কোন বাল !
পিতা বড়ই আজব প্রাণী
না হারালে বুঝবি না,
নিজেকে নিজের ঘেন্না হবে
যেদিন তোর কারনে বটগাছটা থাকবে না ।
মায়ের পা'এর নিচে জান্নাত
এ কথা কভু ভুলিস না,
স্বর্গে গিয়েও সুখ পাবিনা
যদি কষ্ট পায় মা ।
সখি আমি দিয়েছলেম তোকে
এক মুহূর্তের সুখের সাথে তিন প্রহরের ভালোবাসা,
হয়তো সেটুকু যথেষ্ট ছিলনা
কাটাতে তোর বাবা-মা'র হতাশা ।
তালগাছ
চক্কুনি মাছ। তাল গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে উঠছে। পানির মৃদু নড়ন। তালগাছটার বয়স খুব একটা হয়নি। এতেই ঝুকে পড়েছে। বয়সের ভারে ঝুকে পড়াটা হয়তো স্বাভাবিক ছিলো। তার জন্মটাই হয়েছিলো ভুল জায়গায়। পুকুরের পাড় ঘেষে বেড়ে উঠেছিলো। পুকুরের পাড়গুলোও কেমন যেনো ভেঙ্গে পড়ে বৃষ্টি-বাদলে। আপ্রান চেষ্টা ছিলো পাড়টাকে আকঁড়ে ধরার। ধরেছেও। নিজের ভারটা তো আর আকড়ে ধরা যায়না। নুয়ে পড়তে পড়তে এখন পুকুরের পানির সাথে বসবাস। তারপরও গাছের আগাটা জিইয়ে রেখেছে। বাচার শখ। উঁকি দিয়ে আছে উপরের দিকে।
এই গাছে কত কাল লাফিয়ে লাফিয়ে পড়েছে কতো রথি মহারথিগণ। যারা কিনা কোন এক কালে এই গাছের উপর ভর করেই পানিতে ডিগবাজি খেতো। বাড়ির নতুন বধু থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া হাফপ্যান্ট পড়া মেয়েটাও এই গাছটাতে ভর করে পানিতে পা ভিজিয়েছে। আলমের ১নং পঁচা সাবানের যুগে সে মোটামুটি আধ্মরা। কাপড় কাচার যন্ত্রনায়।
আমাদের ঐতিহ্যময় শিক্ষাব্যবস্থা
অ্যান জেরাল্ডাইন স্টক ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে যোগ দেন। তিনি যে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন সে সময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভবিষ্যত দার্শণিক সংকটগুলোর চারা জন্মাচ্ছে আমলাতন্ত্রে, সেই চারা পরবর্তীতে শেকড়ে বাকলে বেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাবনার সাথে এতটাই সাংঘর্ষিক হয়ে যায় পরিণতিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র মৃত্যুবরণ করে। এ জি স্টকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সময়কালীন স্মৃতিকথা মুলত গোরখননের দিনলিপি। মোবাশ্বেরা খানমের অনুবাদ যথার্থই অনুবাদ কখনও তিনি পাঠককে এ সত্য বিস্মৃত হতে দেন না। মূলানুগ আক্ষরিক অনুবাদ সম্ভবত তার প্রাক্তন শিক্ষিকার প্রতি তার নৈবদ্য কিন্তু তার শিক্ষিকার রচনায় যেটুকু কাব্যময়তা ছিলো তা সুনিপূন হাতে হত্যা করে তিনি সবটুকুই গদ্যায়িত করতে পেরেছেন। ফলে বর্ণনায় এক ধরণের আখের ছোবরা চোষার অনুভুতি পাওয়া যায়। তবে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, একজন পাঠ্যক্রম নির্দেশনার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এবং একই সাথে তার অতীত কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকে তিনি বাংলাদেশ কিংবা সার্বজনিন শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষা বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটার খোঁচা অস্বীকার করতে পারলাম না। ব
দেশের স্বার্থে আরও একবার আমরা...!!
জাগো বাঙালি জাগো !!
••• একটু লক্ষ্য করুন •••
জামদানি শাড়ি, নকশীকাঁথা এবং ফজলি আম এখন আর আমাদের ঐতিহ্যের অংশ নেই, কারণ ভারত ইতিমধ্যে এই সকল পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বত্ব নিয়ে নিয়েছে। এই পণ্যগুলো বিশ্বে এখন ভারতীয় পণ্য হিসেবে পরিচিতি পাবে। তারা স্বত্ব করে নিলেও আমরা জানি এগুলা আমাদের পণ্য, আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখন তারা ইলিশের স্বত্ব নেবার চেষ্টা করতেছে। যেটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই মুহূর্তে আমাদের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে আমাদের দেশিয় পণ্যগুলো চিহ্নিত করা এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার ‘Geographical Indicator (GL)’ আইনের অধীনে নিবন্ধন করা। এ সকল পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঢাকার ‘জামদানি শাড়ি’, ফরিদপুরের ‘নকশীকাঁথা’,
চাঁদপুরের ‘ইলিশ’, রাজশাহীর ‘ফজলি আম’, বগুড়ার ‘দধি’, সুন্দরবনের ‘মধু’ সহ আরও অনেক পণ্য।
************************
মনে রাখবেন, আমাদের ঐতিহ্যকে আমাদেরই বাঁচাতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। বাইরের দেশের কেউ এসে রক্ষা করে দিয়ে যাবে না।
দেশের স্বার্থে একাত্ম হোন...
আত্মমগ্ন কথামালা - ১৬
ঘুরেফিরে বার বার চলে আসি নিজের পাশেই। বসে থাকি চুপচাপ, হাতটা বাড়িয়ে একটা মশা মারি, ঠাস্! করে শব্দ হয়। নিজের তৈরী শব্দের প্রতি নিজেরই মুগ্ধতা তৈরী হয়। মৃত মশার প্রতি সহানুভুতি জাগে। হাতে বা পা'এ লেগে থাকা নিজের রক্তের রঙের দিকে ভালোবাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকি। একটু ওপাশ থেকে কখনো ভেসে আসে বাঁশির শব্দ, কখনো ভেসে আসে সেতার বা গীটারের সুর, কখনোবা দ্রুততাল আর লয়ে ড্রামের বিট। এগুলোর সাথে সঙ্গত করে বিভিন্ন স্বর। ভালো লাগে বা লাগেনা...
উড়ে যাবার শখ ছিলো একটা সময়। বয়সের সাথে সাথে পিঠে গজানো ডানার পালকে ধুসর ছোঁয়া লাগে। হয়তো কিছুদিনের ভেতর মরে যাবে পালকের জন্মদাত্রীরা। সেখানে জমে উঠবে মৃত ঘাসের দঙ্গল। পিঙ্গল না আরো ফিকে কোনো রঙের?
একঝাঁক পাখি মরে গিয়েছে পার করতে থাকা সময় জুড়ে। তাদের জন্য একটা ব্যক্তিগত গোরস্থান তৈরী জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নয়তো তাদের এপিটাফের পদ্যে ভুল পালকের ছন্দ আঁকা হয়ে চলেছে প্রতিটা সেকেন্ড-মিনিট-ঘন্টা-প্রহর-দিন-সপ্তা-মাস-বছর ধরে। স্মৃতি যতই বেদনাদায়ক হোক না কেন, সেটাকে উপভোগ করার চাইতে অন্য কোনো উপায় জানা নেই যে...