ইউজার লগইন
ব্লগ
আমার ঈদ পর্যবেক্ষণ
সবাইকে ঈদ মোবারক। যদিও বৃষ্টির কারণে একটু প্যাঁচপ্যাঁচে অবস্থা ছিলো আজকে চারিদিকে, তাও সবাই ছাতি মাথায়, ভাঁজ করা প্যান্টে ঠিকই ঘর থেকে বেরিয়ে যার যার মত করে ঈদের আনন্দ ষোলআনা উপভোগ করেছেন। আর, এখন এই অবেলায় জনশূণ্য রাত্রিতে ক্লান্ত দেহে বিছানায় গা এলিয়ে ধৈর্য্যের চরমতম পরীক্ষা দিয়ে উপভোগ করছেন বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে নাটক। আর, যারা পরীক্ষায় উতরাতে পারেননি, তাদের জন্যেও আছে চিকিতসা!! ভিন দেশী চ্যানেল তৈরি হাজারো পসরা সাজিয়ে!
যাই হোক, যে যাই করতেছেন, করতে থাকেন, যদি কোন ফাঁকে- ঝুঁকে ব্লগে ঢুকে থাকেন, আর অন্যান্য ব্লগ পড়তে পড়তে তারো কোন চিপা দিয়ে এইখানে চলে আসেন, তাইলে আমার আজকের পর্যবেক্ষণ পইড়া ফেলান এক দমে। কথা দিলাম, বেশিক্ষণ লাগবে না। যদি এইটুকু পড়ার পর আর ধৈর্য্যে না কুলায়, কী-বোর্ডের end বোতামে ক্লিক করে তলায় গিয়া জানান দিয়ে আসেন, "টায়ার্ড। খালি উপস্থিতি জানান দিতে আইলাম!!" আরো যদি টায়ার্ড হইয়া থাকেন, তাইলে এখনই ব্রাউজারের এই ট্যাবটার ডান কোণায় ক্রস বোতামে ক্লিক কইরা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাইতে যান..
এলোমেলো ৩
সবাই বলছে এত বৃষ্টি, ঈদ টাই এইবার মাটি, আমার মতামত ভিন্ন। যে ৫ জিনিসে আমার অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বৃষ্টি তার একটা। জ্বর নিয়ে প্রায় সময় ভিজি, আবার জ্বর বাধাই, সারাবছর এভাবেই চলে কম বেশী। ওষুধ হলো মাঝখানে নীল পরীর বাড়তি কিছু বকা।
সারাদিন বাইরেই ছিলাম, আজিমপুর গেলাম বিকেলে বাবার কবর জিয়ারত করতে, ১০ বছর বাবাকে ছাড়া ঈদ করলাম, কিভাবে এতগুলো সময় পার হলো বলতে পারি না, কেবল জানি বাবা প্রায়ই ডাকে, বলে তাঁর কাছে যেতে। গিয়েই তাঁর একটা পোর্টেট করে চমকে দিলে কেমন হয়? অনেক অবাক হবে? যে ছেলেকে আঙ্গুল ধরে ছবি তুলাতে নিয়ে যেতেন, এখন সেই তাঁরই ছবি তুলছে?
বৃষ্টির সব থেকে বড় সুবিধা,এটা যেমন সব কিছু মুছে দেয়, অনেক কিছু ঢেকেও দেয়, বৃষ্টির পানিতে চোখের পানি আলাদা করা যায় না, আজকেও যায়নি......
ঈদ আনন্দের সেকাল-একাল
ছোটবেলার ঈদের দিনগুলো একেবারে অন্যরকম ছিল। ঈদের পোষাক কেনার পর থেকেই শুরু হত উত্তেজনা। নতুন জামা-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল সব আলমারীতে লুকিয়ে রাখতাম পুরনো হয়ে যাবে এই ভেবে
। ২৯ রোজার পর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম চাঁদ দেখার জন্য। চাঁদ দেখা গেলেই খুশীতে আটখানা হয়ে পড়তাম আর পরেরদিন অর্থাৎ ঈদের দিনের প্ল্যান-প্রোগ্রাম চিন্তা করতাম। ২৯ রোজা না হয়ে যদি ৩০টা হতো, তখন খুব মন খারাপ হত, ইস!
স্বপ্নে আমি আলো জ্বেলেছি অন্তরে
আমি তখন স্কুলে পড়ি। কোন ক্লাসে মনে নেই। বাজারে হঠাৎ নতুন এক ধরনের কলম এলো। সেটার সঙ্গে টেলিফোনের তারের মতো প্যাঁচানো চিকন প্লাস্টিকের তার ছিলো, যার শেষমাথায় লাগানো ছিলো একটা গোলমতো রাবার। রাবারটার গায়ে লাগানো ছিলো আঠা। ঐ রাবারটা টেবিলের সঙ্গে আটকে দেয়া যেতো। ছেলেভুলোনো কৌশল। যেন আঠা দিয়ে না আটকে দিলে ছেলেদের হাতে কলম থাকছেই না কোনমতে আর।
তবে যতই ছেলেভুলোনো কৌশল হোক না কেন, সহসাই সবার হাতে একটা করে অমন কলম দেখা যেতে লাগলো। ছেলেরা স্কুলে এসে নিজের সিটে বসে প্রথমে ব্যাগ থেকে কলমটা বের করতো। তারপর গোল রাবারটা বেঞ্চির সঙ্গে আটকে কলমটাকে খুব সুন্দর করে ব্যাগের পাশে শুইয়ে রাখতো। রাখার পর এদিক-সেদিক তাকাতো। যেন কতই না চমৎকার লাগছে! দুইদিন পর রাবারের আঠা উঠে গেলে আর সেটা কোনোকিছুর সঙ্গে আটকাতো না। পুরো ভাবটাই মার খেয়ে যেতো তখন। সে কথা জানার পরও আমি একদিন বাসায় আব্দার ধরলাম, আমার ঐ কলমটা লাগবে।
এলোমেলো ২
রাত ৩ টা, সকালে ছবি তুলতে যাবো। মাঝে বেশ কিছু দিন ছবি তুলিনি , ক্যামেরা দেখলেই কেমন জানি ভয় লাগে এখন।ঘুমের ঔষধ নিলাম, জানা কথা কাজ হবে না, তাও নিলাম....ভোতা একটা ব্যাথা মাথায় কয়দিন ধরেই, বুঝতে পারছি না।
মোবাইল বাজছে, বাইরের নাম্বার ,এতো রাতে কে করল বাইরে থেকে? ধরতে ইচ্ছা করছেনা... ব্যাথা টা বেড়েই যাচ্ছে। ছবির হাটে অনেক দিন পরে আড্ডাটা জমে উঠছিলো আজকে, সবাই ছিল। গান গুল ভালই লাগছিল শুনতে, গুড়ের চা সাথে ...আহ, জীবনের আরেক রূপ......
আজকে চাঁদ রাত, আসলেও কি চাঁদ দেখা যাবে? গতবার পাইছিলাম। গাড়িতে ছিলাম, চলন্ত গাড়ি থেকেই তুল্লাম। প্রত্যেকটা পূর্ণিমায় নীল পরীর জন্য ছবি তুলতাম, ওর যে কয়টা ছোটখাটো জিনিস পছন্দ, তার মধ্যে পূর্ণিমা একটা। ছবি দেখার পরে চুপ থেকে কিছুক্ষন বলতো "আমার দিকে তাকাতে সময় পাও না, চাঁদের দিকে তো ঠিকই তাকাও" ।
হাই তুলছি ঠিকই, কিন্তু ঘুম নাই......ঘুমানো দরকার
উপোষের দিন রাত্রী এই বছরের শেষ কিস্তি!
রোজা ৩০ টাই হলো কপাল ভালো একত্রিশটা হবার কোনো চান্স নাই এইটাই একমাত্র শুকরিয়া। ৩০ বা ২৯ যাই হোক রাখা কোনো ঘটনা না। তবে ২৯টা হলে একটা মনে শান্তি লাগে। একটা রোজা থেকে তো বেচে গেলাম। প্রকৃত মুমিন রা অবশ্য তা নিয়ে ভাবে না কিন্তু আমি সেরকম না। সকালে চা না খেতে পারার আমি প্রতিটা দিন হাড়ে হাড়ে বুঝি। এই কষ্টটা এড়ানোর জন্যই সকালে ঘুমাই একটায় উঠি। তাতে আমার আব্বু নাখোশ। বলে এই জীবনে খালি যারা ওয়াচকিপারের ডিউটি করে তাদেরকেই এরকম দিনে ঘুমাতে দেখছি তুই তো তাও না তাইলে এতো ঘুমাস কেন? উত্তর দেই না মনে মনে বলি আমি হইলাম ফ্রিল্যান্স বুদ্ধিজীবি মানুষ রাতে ঘুমালে চলে?
asasas
১.
আমাদের অফিসের রানা ভাই তার নামের বানান লিখে shuhel rana. তাকে যতই বলি এটা সোহেল রানা হয় নাই, এটা হইসে সুহেল রানা- সে ততই উদাসী হাসি দেয়। ভাইজান, বাপ-মায়ে আকিকা কইরা নাম রাখসে সোহেল রানা, বানান রাখসে shuhel rana. আমি কি করুম কন? আমি তার যুক্তি শুনে হাসি। জানতে চাই, বাপ-মায়ে এই বানান রাখসে নাকি মেট্রিকের ফর্ম ফিলাপের সময় কোনো ক্ষ্যাপাটে ইংরেজি মাস্টার এই অবস্থা করছে? রানা ভাই বলে, নারে ভাই। আমার ঘটনা বাপ-মায়েই ঘটাইসে। আর কেউ এর মধ্যে নাক গলানোর সাহস পায় নাই।
এলোমেলো
পাশের ফ্ল্যাট একদল হস্তি ভাড়া নিসে মনে হয়, সারাদিন দুপদাপ আওয়াজ লেগেই থাকে, দরজা খুল্লেও ধড়াম করে শব্দ, সিঁড়ি দিয়ে নামলে কি হয়, তা আর না বলি।
ঘুমটা ঠিক মত হলোনা, ঘরের পরেই সিঁড়ি, হস্তির নেমে যাওয়ার শব্দে কাঁথার নিচ থেকে উকি মারলাম “নাস্তা বানাও মা, আজকে সকাল সকাল খাব", মা একবার তাকিয়েই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। কাহিনী কি বুঝলাম না কিছুই।
এত বয়স হলো, চা বানাতে শিখতে পারলাম না, যতবার ভাবি শিখবো, ততবার মনে হয় পাত্তি আগে দেয় না চিনি? দোকানে মামারা কত সহজেই না বানায়, আমি কেন পারব না তাহলে? নীল পরীকে যতবারই এটা বলছি নগদে ধমক “তোমাকে দিয়ে হইছে আজ পর্যন্ত কিছু?” ...... বলার মত কিছু নাই, কথা সত্য/মিথ্যা যাচাই করার সময় ওইটা না, নীল পরীর সামনে কথার পিঠে কথা বলা মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
জোরে বৃষ্টির শব্দ আসছে, জানালা খুলেই অন্ধকার। তারমানে ইফতারি করে কখন ঘুমাইসি টেরই পাইনি, মা’র ওইভাবে চলে যাওয়ার কারণ পরিস্কার হলো। জ্বর আসছে আবার, ইদানিং একটু বেশীই হচ্ছে। ম্যাক বলে তোর বাচ্চাদের মত জ্বর লাইগা থাকে কেন অল টাইম? ডক দেখা তাড়াতাড়ি। খেক করে একটা হাসি দেই আমি।
"দেভদাস" ৬
দেভু নাচিতে নাচিতে সকলের সঙ্গে মিশিয়া গেল । শব্দ বাক্সে গান বাজিতেছে। হিন্দি গান চলিতেছে সেথায়। গানের কথা এইরূপ - একজনের নাম শীলা, সে তাহার যৌবন নিয়ে খুবই উৎফুল্ল। তাহার যৌবন ভিত্তিক গানের সহিত একদল ছেলে মেয়ে উদ্দাম নৃত্য করিতেছে সেই বিশাল বাড়ীতে।
দেভু কতক্ষন ধরিয়া নাচিলো , হুঁশ করিতে পারিলো না। নাচিতে নাচিতে একসময় তাহার তেষ্টা পাইলো। নাচ থামাইয়া এদিক ওদিক করিতে করিতে নাচের আসর হইতে চুপিসারে বাহির হইয়া জল খোঁজ করিতে লাগিলো । একজন কে শুধাইয়া সে সেখানের জলপানের স্থানে পৌছাইলো। এক বোতল শীতল মিনারেল ওয়াটার লইয়া গলায় ঢালিতেই দেখিলো চুনিলাল আসিয়া হাজির। তাহার সহিত এক আকর্ষনীয় তন্বী । চুনিলাল কহিলোঃ
- কি হে , খুব মৌজ করলা দেখলাম। নাচতে নাচতে ঘামায় গ্যাছো মামু।
- এই আর কি। মজা লাগলো। দেশে আইসা ঘরে বসে থেকে থেকে হাত পা এ গিট ধরে গেছিলো। তাই ছুটাইলাম।
- ভালো ভালো। গিট ছুটছে তাইলে ? পরিচিত হও - এ হইলো চন্দ্রা।
কেয়া পাতাদের দঙ্গলে এক নামধামহীন নীল পিচ্চিপিঁপড়া
গভীর রাত। এ সময় চড়াই ঠিকই মায়-দিন-মান মাঠ, ঘাট, বন, বাদাড় চষা শেষে ঘাসফড়িঙ বা আরো সুস্বাদু কোনো খাদ্যযোগে ডিনার সেরে নিজের নীড়ে ফিরে গেছে। হয়তো গভীর নিদ্রায় ডুবেও আছে। অথচ আমি টুইটারে বসে চড়াইয়ের ডাক দেবার অক্ষম চেষ্টা চালাচ্ছি!
ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য চুরি-টুরি করে দু'টো দিন বের করেছিলাম মহাকালের ভেতর থেকে। জলে-ডাঙ্গায় বইটা পড়লাম। অসাধারণ ভ্রমণকাহিনী। রবীঠাকুরের একটা লাইন পেলাম সেখানে। মৃত্যূ বিষয়ক লাইন। মাথায় গেঁথে গেলো।
কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়
জয় অজানার জয়।
উপোষের দিনরাত্রী কিস্তি তিন
এই পোষ্টটা একবার লিখে ফেলছিলাম। অনেক সময় মোবাইল হাতে নিয়ে অনেক বড় করে পোষ্ট লিখলাম নিজের ও সেটের কারনে গায়েব হয়ে গেলো কি যে সাংঘাতিক মেজাজ খারাপ হলো বলে বুঝাতে পারবো না. একরকম জেদ করেই এই পোষ্টটা আবার লিখতেছি মোবাইলে। তবে যা লিখতেছিলাম তা দারুন ভাবে আগাচ্ছিলো এখন বুড়ো আংগুলে প্রচন্ড ব্যাথা তাও লিখতেছি জানি না কি হবে। আর আমার অপেরা মিনিতে একটা ঝামেলা হইছে ভাগ্য শব্দ পেচায়া যায়। তাতে একটু সমস্যা হতে পারে লিখতে গিয়ে। বানান একটু ভুল হতে পারে মাফ করে দিবেন। আসলে লিখছিলাম বাড়ীতে থাকা নিয়ে। ১০ ঘন্টা ক্লান্তিকর বাস জার্নি শেষে বাড়ীতে এসে শান্তি পেলাম না। কারেন্ট থাকে না কারেন্ট থাকলে ডিস থাকেনা। টিভি নিয়ে ভাবলাম লিখবো ইদে তা আর হবেনা কারন যদি নাই দেখি তাহলে লিখি কিভাবে। বাড়ীতে এসে সেই আগের রুটিন বহাল আছে। তবে বাসায় থাকতে বকা দেয়ার কেউ ছিলোনা যতক্ষনই ঘুমাই না কেন। কিন্তু বারোটা একটা বাজলেই আম্মুয় কথা বলা শুরু 'তুই আগে কতো ভোরে উঠতি? একি অবস্থা হলো তোর! এতো বিকাল পর্যন্ত কেউ ঘুমায়? আমিও জবাব দেই কারেন্ট নাই খাবার নাই উঠে কি করবো?
আজ জানলা খুলে দেখ.. [গানের কথা কিংবা কাব্য প্রয়াস!]
আজ জানলা খুলে দেখ,
তোমার চোখের পাতায় জল।
বৃষ্টি যাচ্ছে ছুঁয়ে তোমার,
মনের গোপন ছল।
মুছে যাক -
আজ রাতের আঁধার,
আর যত অভিমান।
মেঘের দলের হোক আজকে ছুটি,
গাও জোছনার গান।
নীল - বেদনার এ রাত;
কেটে যাক, কেটে যাক..
অপেক্ষায় দুটি চোখ -
ভোর আসবেই,
বিশ্বাস..।
শুন্য হৃদয় ভরে যাক আলোয় -
ছুঁয়ে হাত,
ছুঁয়ে প্রাণ..।
আজ জানলা খুলে দেখ,
নাও ভালোবেসে নিশ্বাস..।
আজ জানলা খুলে দেখ..।
আমার শেখ মুজিব
আজকের দিনেই তোমাকে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছিল! যেই দেশকে তুমি নিজ হাতে তৈরি করেছ এবং চেয়েছিলে সাজাতে আরো সুন্দর করে, যেই দেশের মানুষকে বেসেছ এতো ভাল, সেই দেশেরই কিছু মানুষ তোমাকে চিরতরে তোমার এই প্রিয় দেশ ছাড়া করেছে!
তোমার অভিশাপেই হয়ত আজকে আমাদের এই অবস্থা! জানি তুমি অভিশাপ তো দুরের কথা, যেখানেই আছো এখনো তোমার এই দেশটাকে সুন্দর করে দেখতে চাও! আমি তোমার এই চাওয়াটা অনুভব করি! তোমাকে আমি দেখিনি, তোমার সময়ে আমার জন্মই হয়নি, তারপরেও তোমাকে অনেক আপন মনে হয় আমার! তোমাকে অনেক ভালবাসি শেখ মুজিব! তোমাকে ভালবাসার জন্য টিভিতে প্রচারিত তোমার ভাষণ গুলোই যথেস্ট! তোমার ছবি গুলোই অনেক!
স্বাধীনতার পরে তুমি তোমার দেশের মানুষ গুলোকে জড়িয়ে যখন তোমাকে কাদতে দেখি, তখনই বুঝে ফেলি তুমি কতটা ভালবাসতে এই বাংলার মানুষ গুলোকে! বুঝতে পারি, কি চেয়েছিলে আসলে তুমি আমাদের জন্য! বুঝতে পারি তুমি আসলে কতটা মহান ছিলে!
সিলেটে হুদাই
নৈসর্গ , প্রাকৃতিক সৈন্দর্য আমাকে খুব বেশী টানে না, ক্যারিবিয়ানের গাঢ় নীল সমুদ্র টিভিতে দেখে ভালো লাগে, ট্রাভেল চ্যানেলে মাঝে মাঝে কোনো কোনো দ্বীপ দেখে মুগ্ধ হই কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয় স্মৃতি-মানুষ কিংবা ইতিহাসের বাইরে কোনো লোকালয় আমাকে আকর্ষণ করে না।
প্রথমবার কোলকাতায় গিয়ে ভালো লেগেছিলো, এর সাথে আমার অনেক ধরণের স্মৃতি জড়ানো, বইয়ে পড়া মাঠ-রাস্তাঘাট একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠেছিলো- তাই অবাঙালী অধ্যুষিত কোলকাতায় বাংলা ভাঙা হিন্দিতে কিংবা ইশারায় কথা বলতে বাধ্য হলেও শহরটাকে ভালো লেগেছিলো। মনে হয়েছিলো স্মৃতির বিস্মৃত কোনো অঞ্চল হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভ্রমণ সেভাবে ভাবলে আমার কাছে অনেকটাই মানসিক অভিজ্ঞতার সাথে বাস্তবকে মিলিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
“শুভ সকাল”
ভোরের সূর্যটা জেগে যাচ্ছে,
একটু একটু করে পূর্বাকাশটা রক্তিম আভা লাভ করছে,
হয়তো সূর্যটা তোমার অপেক্ষায় আছে।
তুমি হয়তো ঘুমে আচ্ছন্ন,
তাই দেখোনা ভোরের শেষ হলুদ পাখিটাও ডানা মেলেছে আকাশে,
হয়তো তোমার কাছে পৌঁছুতে চায়।
তুমি লক্ষ্য করো না,
তোমার দখিনের জানালায় ম্লান হয়ে আসে শেষ জ্যোৎস্নাটুকু,
হয়তো তোমার কাছে ফিরে আসার অপেক্ষায় নিজেকে নতুন করে সাজাতে গেল।
তুমি চেয়ে দেখোনা,
পদ্মপুকুরের পাশে ঘাসফুলেরা নাচানাচি করে,
হয়তো তোমার সাথে জলস্নানে যাবে তাই।
তুমি এখনও চোখ মেলোনা,
হঠাৎ ভেজা ছায়ারা আড়মোড়া ভাঙ্গে,
তোমার সাথে মেঘরোদ্দুর লুকোচুরি খেলবে বলে।
তোমার চোখ আধবোজা, আলসেমি কাটে না,
ঝরা বকুল আর শিউলীরা সারারাত অস্ফুট সৌরভ ছড়ায়,
তোমাকে নবীন সৌরভে সুরভিত করবে বলে।
আমি বসে বসে এসব দেখছি আর ভাবছি,
কখন তুমি জেগে উঠবে আর আমি বলবো “শুভ সকাল”।