ইউজার লগইন
ব্লগ
"দেভদাস" - শেষ পর্ব
দেভু আর চন্দ্রার প্রেমের ঝড়ে আকাশ পাতাল উথাল-পাতাল হইতে লাগিলো, মর্ত্যের শুষ্ক বালু উড়িয়া ঘরবাড়ি তলাইয়া গেল। সেই বালুতে মুখ গুঁজিয়া সকলে যেন উটপাখির ন্যায় জীবন যাপন করিতে লাগিলো। তাহা দেখিয়া কোন কোন পত্রিকা উটপাখি নয়, মানুষের জীবন চাই শ্লোগান নিয়া আগাইয়া আসিলো।
তাহাতেও তাহাদের প্রেমের জোয়ার কমিলো না। দেভু আর চন্দ্রা প্রত্যহ সাক্ষাৎ করিতে লাগিলো , চন্দ্রার শপিং জোর কদমে চলিতে লাগিলো , কখনো বা তাঁহার জন্য কখনো বা তাঁহার কাজিনের জন্য কিংবা সাথে আসা কোন বান্ধবীর জন্যে। প্রতিবারই তাহারা শপিং এর পর বাহিরে খাইতে লাগিলো। কখনো বা তাহারা দুই জন কখনো চন্দ্রার কয়েকজন বান্ধবী সহ তাহারা বাহিরে খাইতে লাগিলো। পাশা পাশি তাঁহাদের ডি-জে পার্টিও সমানতালে আগাইতেছিলো । অপরদিকে দেভুর সঞ্চয়কৃত পাউন্ড কমিতে কমিতে তলানিতে আসিয়া ঠেকিলো।
একদিন সকালে দেভু তাঁহার মানিব্যাগ ঘাটিতে ঘাটিতে ভাবিল, এরূপ চলিতে লাগিলে সামনের দিনগুলিতে তাহাকে পাড়ার মোড়ের ভাই ভাই হোটেল এন্ড রস্টুরেন্টে চন্দ্রা কে নিয়া বসিয়া আলু পুরি আর চা খাইতে হইবে।
আমার দেশ আমার পরিচয়
প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো এ লেখা মূলত রূম্পার দেশকে জানো দেশকে জানাও ব্লগের মন্তব্যের সম্প্রসারণ।
আমরা যে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করি সম্ভবত পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করে না। ছোটোবেলা জ্ঞান,মেধা প্রমাণের জন্য আমরা ১৪০ দেশের নাম, ভাষা, রাজধানী মুখস্ত করে বসে থাকি। সেটা আমাদের অক্লান্ত জ্ঞানতৃষ্ণার প্রমাণ না বরং এইসব জানলে ভবিষ্যত উজ্জল হলে হতেও পারে এমন একটা অবচেতন ধারণা আছে।
সমস্যাটা আরও বেশী কারণ আমাদের দেশে প্রায় বিনামূল্যেই বিদেশী সব চ্যানেল দেখা যায়, ৩০০ টাকায় ৮০টা স্যাটেলাইট চ্যানেল, রাস্তায় হিন্দি,উর্দু, ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ সিনেমা, গান, বিনোদনের জগত এবং একই সময়ে আমাদের বিনোদনের জগতে শূন্যতা কিংবা অপদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আমরা পার্থিব এবং মানসিক সকল প্রয়োজন পুরণে বিদেশমুখাপেক্ষী। । সুতরাং আমরা বিদেশীদের খরবাখবর বেশী রাখি।
জলে ভাসা পদ্ম আমি
অনেকদিন পর চেনামুখগুলো দেখলেও হঠাৎ একটু সময় লাগে সবকিছুতো আগেরমতো হয়ে উঠতে। অনেকদিনের না দেখা, না ছোঁয়ার একটা প্রতিক্রিয়া আছেই। স্কাইপি, এসএমএস কিংবা দূরালপনী যন্ত্র পুরোটা দূরত্ব মনে হয় অতিক্রম করতে পারে না। এর রেশ কাটতে কিছুটা সময় যায়। আমি বাড়িতে এলে আমার ছেলে মেয়েগুলো কিছুদিন একটু দূর দূর দিয়ে ঘুরে ফিরে দেখে। তারপর একসময় জেনে যায়, আমি এদেরই লোক। তখন ওপরে এসে ঝাপিয়ে ঘুপিয়ে পড়ে। মেঘলার ভাষায় আসো তোমাকে চ্যাপ্টা ভ্যাপ্টা করে দেই। এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটালো আমাদের দুই ছেলে। আমাদের রাজাবেটা এমনিতে চুপচাপ কিন্তু কোলে ওঠার ব্যাপারে একটু চুজি। সবার কোলে তিনি যেতে চান না। আমি অনেক রাতে বাসায় ঢুকলেও একটু হাউকাউতো হয়ই। তাতে তার নিদ্রা টুটে গেলো। তিনি তার মাতৃদেবীর কোলে উঠে ডাইনীং এ এলেন খুবই গম্ভীরমুখ করে। এতো রাতে কিসের উৎপাত। ছোট্ট আঙ্গুলটা তার চেয়েও ছোট্ট গালে ঢুকিয়ে অবাক বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। হয়তো ভাবছেন এ আবার কে?
স্মৃতির বালিহাঁস
অন্ধ আগন্তুক হে, তুমি কি নি:সঙ্গ, কোন এক বাদামী খরগোশ
কিংবা একাকী বনবিড়ালের মত? নিমগ্ন সন্ধ্যালোকের
নৈ:শব্দের শেরপা কী তুমি? কান পেতে শোন কী কখনো
বিদীর্ণ হৃদয়ের কান্না? আনকোরা দু:খের নিষিদ্ধ সংলাপ?
- বিদীর্ণ হৃদয়! হাহ । যা কিছু ছেড়া, যা কিছু পোড়া, চাপ
চাপ ক্ষত নিয়ে যে ঘোরে, যে আমাদের ঘোরায় নিয়ত, তাদের
কেউ কি দেখা দেয় অবিনাশী কান্না ধারায়?
কান্না, দু:খ-সে তো ভ্রান্তিবিলাসী আমারই আরেকটা অংশ
সুখপাখি। তোমাদের হাওয়াবাড়ির খোজে নিয়ত ছোটে
আমার বালুচরি বেদনা। রোজ সকালে সোনালি রৌদ্রের
তেজ যে চিলের পাখনায় দেয় কাব্যময় প্রেরণা, সন্ধ্যায়
সেই ডানা ভেঙে কুলায় ফেরে একরাশ ক্লান্তিতে।
অস্তমিত সূর্য তার ডানা থেকে কেড়ে নেয় উড়বার নিগূঢ় প্রেরণা।
ওধারে অনন্ত অন্ধকারে কাঁদে বালিহাঁস, ছাইরঙা বালিহাঁস।
কান্নায় তার কালিগঙ্গার ধারা!
সুখপবনে একে একে ভেসে যায় জ্যোৎস্নার রঙ, ধুলো
ধোয়া মেঘ, বহতা বাতাসের ঝাঁক। কাকের কর্কশ
চিৎকার থেমে যায়, ঢেকে যায় পাতার করুণ মর্মর,
অদ্ভুত বিষাদের ঝি ঝি ধ্বনিতে।
আমাদের কারোই মনে পড়ে না এখন আর,
এইটুকু সময় আগে
চাঁদ ছিল,
চাঁদোয়া ছিল,
আমাদের তরুণ সুখ ছিল
কাঁটাতার
আচ্ছা তবে ,
আমার দেয়া নামটা এবার ফিরিয়ে নিলাম ,
সত্য এবং মিথ্যার মাঝখানে
রক্তাক্ত কাঁটাতারের বেড়া
মজবুত করে গেঁথে দিলাম ।
শোনো তবে ,
অজান্তে কোনো দিনও ,
ছুঁই ছুঁই করে তবু ছুঁয়োনাকো যেন
ফারাকের এই প্রচন্ড কাঁটাতার ।
শুধু জেনো ,
ওপাশের মেকি ক্ষতের রক্তে
এপাশের আদি শুকনো ক্ষতটা
ভিজবে না কভু আর ।
তাই বলছি শোনো ,
জেনে শুনে ,
আর পেড়োতে এসো না
ফারাকের এই নিদারুন কাঁটাতার ।
খেরোখাতা (২)
ঈদের ছুটির ৯ দিন কিভাবে কেটে গেলো টেরই পেলাম না
। রবিবার থেকে আবার কাজ শুরু। ভাবতেই একটা বিরক্তি বোধ হয়
। ২০১০ এর পর সবাই চারিদিকে ছড়িয়ে পরার পর প্রায় সব ঈদ ছিলো ছন্ন ছাড়ার মত। এবারের ঈদে একরকম সবাই একসাথে হলাম অনেক দিন পর শুধু একজন বন্ধু ছাড়া। আমাদের কাছে শুনে সেও খোমাখাতায় দুঃখ প্রকাশ করে গেলো। ঈদের পর দিন আবার যে যার জায়গায় ফেরত। আমি একলা বসে বসে ভাবলাম আর এইভাবে হয়ত একসাথে ঈদ করা হবে না। জীবিকা মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াবে। হয়ত মাঝে মাঝে এইভাবে ২/৩ জনের সাথে দেখা হবে কথা হবে। সবাই একসাথে সম্ভাবনা খুব কম। এখন মনে হয় ছাত্র জীবন অনেক ভালো ছিলো
। খুব মিস করি।
ছায়াবাজির পুতুল (৩)
১.
‘বাম চোখ লাফালে খারাপ খবর পাওয়া যায়। ডান চোখ লাফানো ভালো’। ছোটবেলা থেকে অনেক শুনসি এই কথাটা। এই কথার ভিত্তি কতটুকু আর যুক্তি কি জানি না। কিন্তু গত প্রায় এক মাসেরও বেশি হবে আমার বাম চোখ অনবরত লাফায়। সারাদিনে এক মূহুর্তের জন্যও যেন থামে না। ঈদের আগে ভাইয়া একটা বড় দূর্ঘটনা থেকে ফিরে আসছে। আল্লাহই জানেন আর কি অপেক্ষা করতিসে। মাঝে মাঝে অবশ্য ডান চোখও লাফায়। এই লাফালাফির কারণে কেমন কোরবানির গরুর মতো একটা ফিলিংস হচ্ছে। কোরবানির পর মাংস পিস করে বাসায় আনার পরও পিস গুলা যেমন কাঁপতে থাকে তেমন লাগতিসে।
২.
ফেরার গল্প (দুইখন্ড একত্রে)
_________( পাঠকের সুবিধার্থে দুই খন্ডকে একসাথে করে দিলাম)___________
এখানে একটা সত্যিকারের পুকুর ছিলো। আর কেউ না মনে রাখলেও আমি সেটা মনে রেখেছি। সেই পুকুর পাড়ে কত শত উদাসী দুপুর যে কাটিয়েছি ভাবলেই এই খড়খড়ে রোদের দুপুরটাও বেশ মায়াময় হয়ে ওঠে। আমি অনেকদিন পরে এই রাস্তায় ফিরছি। ঐ যে ওখানে একটা বিষণ্ণ আতাগাছ দেখছেন, ওটার পাশের গলিটা দিয়ে পঞ্চাশ গজ মত গেলেই আমার বাড়ী। কিংবা বলতে পারেন আমার বাড়ী ছিলো। এখন কেউ আছে কি না, সেটা জানা নেই।
একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা, আমি আসলেই ফিরে এসেছি। যদিও চেনা রাস্তাটা আর আগের মতো চেনা নেই। কালাম মামার চা সিগারেটের দোকানটা যেখানে ছিলো, সেখানে একটা কিম্ভুত আকৃতির হাইরাইজ দেখছি। কে জানে, কালাম মামাই এটার মালিক কি না।
আমার নবজাতিকা মেয়েও তার নাম সমাচার...
গত ২৫ জুলাই তারিখ আমার ২য় কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে। আজ ১ মাস পূর্ণ হলো তার। কিন্তু এখনো এই বাবুটির জন্য আমরা কোনো নাম ঠিক করিনি। কারণ আমি এখনো এই মেয়েটির জন্য কোনো নামই খুজে পাচ্ছিনা; তাই আপনাদের শরনাপন্ন হলাম।
আমি আরবী নাম চাচ্ছি। আসলে আমি না বলে বলা উচিৎ আমার অভিভাবক-কুল (মানে ছোট্ট খুকীর নানু-দাদু) তা চাচ্ছেন এবং এই বিষয়ে আমাকে তারা সতর্কও করে দিয়েছেন।
আমার প্রথমা কন্যার নামঃ জাওয়াতা আফনান (অর্থঃ বেহেশতের দুটি উদ্যানের অধিশ্বর। সুরা আল রহমান-এর আয়াত হতে নেয়া)।
আশা করি আপনাদের সহযোগীতা পাবো।
ও; ভালো কথা, বাবুটার কিছু ছবি লোড করে দিলামঃ
এলোমেলো ৪
আজকে নিচে নামতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের সিনিয়র হস্তির সাথে দেখা, সালাম দিলাম, মুরুব্বি আমাকে দেখেই এমন ভাবে কথা শুরু করলেন, যেন আমি তার জামাই, হাতের কাছে অনেক দিন পরে পেলেন, জামাই এর পালিয়ে বেড়ানো স্বভাবের জন্যই হয়তো প্রথম প্রশ্ন ,“আরে বাবা, তুমি থাকো কোথায়, দেখাই যায় না”।
মনে মনে বললাম, দেখলাম আপনাকে আজকে নিয়ে দুবার, তাতেই এই অবস্থা! আমাকে কল্পনার জগত থেকে টেনে আনলেন এভাবে “ তুমি সারাদিন কি সব গান শোনো ঘরে বসে, তোমাদের বয়সে আমরা বাসাতেই থাকতাম না, সারাদিন বাইরে বাইরে থাকতাম, একটা সময় ছিল যখন লোহা চিবায় খেয়েছি”।
“লোহা চিবায় খাওয়া যায় নাকি?” প্রশ্নটা করা আর কুড়ালে পা ফেলা একই মনে হলো ঠিক তার পরেই।
“আরে তুমি বাসায় আসো একদিন, তোমাকে দেখায় দেই, আজকেই আসো।”
“আসবো চাচা, আরেকদিন”
“আরে তোমাদের ইয়াং ম্যান দের নিয়ে এই এক প্রব্লেম, যখনকার কাজ তখন করো না, অলস কেন তোমাদের জেনারেশন এত? তোমাদের বয়সে পকেটে লোহা নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতাম”।
নীলপদ্মের অপেক্ষা
আমি নীলপদ্ম। একটি বালি হাঁস। শরের আঘাতে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়েছি। হারিয়ে আপনাদের হাওড়ের বিলে আমার হাঁসজীবনের শেষ বাসাটি বানিয়েছি। সেখানে বসে বসে অনেক মজার ঘটনার সাক্ষী আম হই। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো কাউকে জানাই। এই সেদিনই যেমন এক মুহূর্তের ব্যাবধানে সময় পরিভ্রমণ করে আসলাম।
স্বপ্ন, আমার পথচলা.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
যাক চুরি নয় স্বপ্ন কিছু..
নেই তো বাধা;
দেখতে কিছু স্বপন আবার,
চলার পথে..।
হতাশা; দুঃখ কিছু মিলবে,
এতো-
সবার জানা..
সময়ে;
সুখের ক্ষনে -
হৃদয়ে শান্তি এসে,
করবে জীবন স্বর্গসম..।
ক্ষতি কি?
রাখতে আশা, এমনতর..
চাওয়া এ নয়তো বেশি,
'এট্টুখানি'..।
'ভাল আছি' এমন ভেবে,
থাকলে 'ভাল'..
নীলাকাশ বুকের মাঝে;
নিজের করে,
মেললে ডানা..।
স্বপনে;
আশার ভেলায়,
দারুন সুখে ভাসতে..
জেনো,
নেইকো মানা..। 
[ আমার খুব খুব খুব প্রিয় কিছু বন্ধু;
মীর ভাই, শান্ত ভাই, তানবীরা আপু, মায়াবতী আপু, প্রিয় আপু আর লাবনী আপুর জন্য!
আপনাদের সব্বাইরে একটু বেশি বেশি ভালু পাই, অনেক অনেক ভালুবাসা আপনাদের জন্য।
ভাল থাকেন, অনেক অনেক ভাল। সবসময়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষন। আনন্দম! ]
অফ-সিজনে পর্যটন
বছরকয়েক আগে এক তুমুল বর্ষার দিনে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে হাজির হয়েছিলাম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে তুলনামূলকভাবে নতুন কলাতলী বিচে নামি যখন, সেখানে তখন আমরা ছাড়া আর মাত্র ৫-৬ জন পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। অফ-সিজনে কক্সবাজারে বেড়ানোর ওই স্মৃতি এখনও আমাদের মনে পড়ে। বেড়াতে ও অন্যান্য কাজে বেশ কয়েকবার কক্সবাজার যাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই ভ্রমণে যে আনন্দ করেছিলাম আমরা, তার সঙ্গে অন্য ভ্রমণগুলোর তুলনা করা দায়। সেই স্মৃতির কথা মনে রেখে এবারও দিন কয়েক আগে ঘুরে এলাম কক্সবাজার থেকে। বলতে দ্বিধা নেই, অফ-সিজনে কক্সবাজারে বেড়ানোর আনন্দ একেবারেই অন্যরকম। অন-সিজনে পাওয়া সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনা করলে অফ-সিজনে বেড়ানো রীতিমতো ঈর্ষণীয়।
ফেরার গল্প-১
এখানে একটা সত্যিকারের পুকুর ছিলো। আর কেউ না মনে রাখলেও আমি সেটা মনে রেখেছি। সেই পুকুর পাড়ে কত শত উদাসী দুপুর যে কাটিয়েছি ভাবলেই এই খড়খড়ে রোদের দুপুরটাও বেশ মায়াময় হয়ে ওঠে। আমি অনেকদিন পরে এই রাস্তায় ফিরছি। ঐ যে ওখানে একটা বিষণ্ণ আতাগাছ দেখছেন, ওটার পাশের গলিটা দিয়ে পঞ্চাশ গজ মত গেলেই আমার বাড়ী। কিংবা বলতে পারেন আমার বাড়ী ছিলো। এখন কেউ আছে কি না, সেটা জানা নেই।
একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা, আমি আসলেই ফিরে এসেছি। যদিও চেনা রাস্তাটা আর আগের মতো চেনা নেই। কালাম মামার চা সিগারেটের দোকানটা যেখানে ছিলো, সেখানে একটা কিম্ভুত আকৃতির হাইরাইজ দেখছি। কে জানে, কালাম মামাই এটার মালিক কি না।
দেশকে জানো দেশকে জানাও..
সাম্প্রতিককালে ভারতভ্রমণ থেকে পাওয়া কিছু আলাপ বাংলায় তুলে দিচ্ছি হুবুহু। বিশ্বাস করুন এক ফোঁটাও বানোয়াট নয়।
কথোপত্থন-১
রাজধানী ট্রেন।দিল্লী থেকে জম্মু। আমি, আমার বর। মুখোমুখি জম্মুবাসী সোনালি কৌড় আর আকাশ। সোনালি আইটি প্রফেশনাল। ব্যাঙ্গালোরে পড়ালেখা করে মৌসুরিতে চাকরী করছে। এই আলাপ সেই আলাপে বললাম আমরা বাংলাদেশি। শুরু হলো আলাপ। আলাপের একাংশ-
সোনালি: আপনারা মুসলিম?
আমরা: হ্যা..
সোনালি: তাহলে তো আপনাদের ভাষা উর্দু .. তাই না?
আমরা: ক্যানো? নোপ আমাদের ভাষা বাংলা..
সোনালি: মজা করছেন? ক্যানো বাংলা হবে? আপনারা মুসলিম, উর্দুই হওয়া উচিৎ..মানে পাকিস্তানেও তো ভাষা উর্দু...
আমরা: মানে সোনালি, আমরা তো পাকিস্তানের সাখে যুক্ত না..আমাদের দেশে বাংলাভাষা নিয়ে ভাষা আন্দোলন পযর্ন্ত হয়েছে..আমাদের দেশের নাম আমাদের ভাষার নামে.. সো উর্দু হওয়ার কোন কারণ নাই..
সোনালি: ও তোমরা বাঙালি তাহলে!! নিশ্চয়ই দূর্গা পূজা করো সবাই মিলে?
আমরা: আমরা সবাই সবার ধর্মীয় অনুষ্টানে অংশ নেই..কিন্তু মুসলিমরা পূজা করেনা..
সোনালি: না, আমি তো জানি বাঙালিরা সবাই দূর্গা পূজা করে...