ইউজার লগইন
ব্লগ
কিউপিডিয়ান কল্পনাপরি
১.
আমি কখনোই জানতাম না, মানুষের জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে। আজকাল মনে হয় সেটা জানা থাকলে ভালো হতো। এই যে শুধুমাত্র তোমার জন্যই আমার বেঁচে থাকা, মানুষের জীবনে এরচে' সুন্দর কোনো সময় কখনো আসতে পারে- তা আমার একদমই বিশ্বাস হয় না।
আপনজনদের সান্নিধ্যেই নাকি সর্বোচ্চ সুখ নিহিত। আমি নিশ্চিত, তারচেয়েও বেশি সুখ দূরে বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করার মধ্যে লুকিয়ে আছে। রাতের একাকীত্বে তোমার কথা ভাবার মধ্যে লুকিয়ে আছে। তোমার সঙ্গে করা প্রতিটি খুনসুটির মধ্যে লুকিয়ে আছে। আচ্ছা ঠিক করে বলো তো, সর্বোচ্চ সুখের আসলেই কি কোনো সীমা আছে?
জীবনের জে.এস.সি পরীক্ষা
জীবন ক্লাস এইটে পড়ে।সামনে তার জে.এস.সি পরীক্ষা।তার জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হচ্ছে পড়া লেখা।পড়া লেখাটা যে কে আবিষ্কার করেছিল!জীবনের প্রায় ইচ্ছে হয় তাকে খূঁজে বের করে গুলি করে করে মেরে ফেলতে।শুধুমাত্র পড়ালেখার জন্য তার জীবনের সব হাসি আনন্দ মাটি।বলা যায় জীবনটা যন্ত্রণায় একেবারে ভাজা ভাজা হয়ে গেছে।
টিভি দেখতে তার কতো ভালো লাগে।বিশেষ করে ঋত্মিক রোশন আর সালমান খানের হিন্দি ছবিগুলো।সে সালমানের মতো নাচতেও পারে।মাঝে মাঝে এইচবিও চ্যানেলের ইংলিশ ছবিও দেখে।কম্পিউটারে গেম খেলতেও ভালো লাগে।তার বন্ধু প্রান্ত থেকে মাঝে মাঝে সে গেমসের সিডি আনে গোপনে।আবার গোপনেই তা কম্পিউটারে ইনস্টল করে বন্ধুকে ফেরত দিয়ে দেয়।কিছুই গোপনে করতে হতো না,যদি তার আপু বাসায় না থাকতো। তার স্বাধীন জীবন যাপনের একমাত্র বাধা হচ্ছে তার আপু।
ব্লু-মুন = নীল চাঁদোয়া....
নীল চাঁদোয়া...
আকাশটাকে আজ লাগছে যেন,
মাঝে মাঝে কিছু কিছু তারা বোনা...
বৃষ্টি ধোয়া
এই গানটা দূর্দান্ত লাগতো এক সময়... শম্পা রেজা হয়তো সেই আমলেই জানতেন ব্লু মুনের বিষয়ে। আমরা জানলাম হপায়
অধুনা ব্লু-মুনের একটা ক্রেজ দেখলাম। আমাদের বন্ধুদেরই দুইটা গ্রুপ দেশরে দুই প্রান্ত থেকে ব্লু-মুন দেখতেছে সদলবলে। এক দল সুনামগঞ্জে আর এক দল বরগুনা গেছে চাঁদ দেখতে। আজ পত্রিকায় দেখলাম ঢাকার আশে পাশেই নাকি দর্শনার্থীরা ভীর করেছে ব্লু মুন দেখার জন্য। অগত্য আমাদের তো আর দুরে কোথাও যাওয়ার নেই.. তাই মহল্লার চিপা অথবা বাড়ির ছাদই ভরসা। তাই মহল্লার কতিপয় উৎসাহী লোকজন শ্যামলীর কোন এক ছাদে বসছিলো চাঁদ খুজতে...

ফটো ক্রেডিট: ফারহানা জেবীন
ফটো: ঋহান চাঁদ খুজতেছে
শুধু কি ঋহান একাই চাঁদ খোজে?

নতুন টার্ম আইফনুগ্রাফার
01230
ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে ৮ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছিলো, ১৭৮৩ সালের ২রা নভেম্বর ইংল্যান্ড অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রধান সেনাপতি জর্জ ওয়াশিংটন ২৩শে ডিসেম্বর প্রধান সেনাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পরবর্তী ৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলো না।
সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনে ফিলাডেলফিয়ায় চুড়ান্ত সংবিধান বিতর্কে জর্জ ওয়াশিংটন উপস্থিত ছিলেন, যদিও সংবিধান প্রণেতারা জর্জ ওয়াশিংটনের কথা মাথায় রেখেই সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন তারপরও ১৩টি প্রদেশের সর্বসম্মতিতেই সংবিধান গৃহীত হয়।
তবে সংবিধানের গুরুত্ব বিবেচনায় জর্জ ওয়াশিংটনের বক্তব্য ছিলো
"There are four things, which I humbly conceive, are essential to the well being, I may even venture to say, to the existence of the United States as an independent power:
An indissoluble union of the states under one federal head.
A sacred regard to public justice.
ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন, চন্দ্রাহত এই আমি..[এলোমেলো কাব্যকথন!]
চাঁদের আলোয় পড়ছে ছায়া;
সন্ধ্যা রাতের পথে,
স্বপ্নেরা সব আসছে ভেসে;
কল্পলোকের রথে।
স্বচ্ছ আকাশ;
স্নিগ্ধ বাতাস,
আকাশ ভরা তারা -
আজকে চাঁদের ঝলসানো রূপ,
মুগ্ধ বসুন্ধরা।
ফুরফুরে এই হাওয়ায়;
মনে,
শান্তি করে রাজ -
আমার যত ভালোবাসা,
তোমায় দিলাম আজ।

i'm moonstruck!!
# # #
চাঁদের আলোর ছায়ায়..
সন্ধ্যারাতের অবাক ছাদে,
চন্দ্রাহত পথ হেটে যায়..
অন্ধকারে আলোর তোড়ে,
হৃদমাঝারে ঘোর লাগে তায়..
মন ভেসে যায় মায়ায়.. ♥

[ once in a blue moon,listening to the silence..it seems,time stands still..umm,lyf eez b'utiful..♥
]
বাবা হওয়ার অনুভূতি
২৫শে আগষ্ট, ২০১২। আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। কারণ এই দিনে আমি প্রথম বাবা হলাম। বাবা হওয়ার অনুভূতিটা আসলে লিখে ব্যক্ত করার মত নয়। এটা একটা অদ্ভুত স্বর্গীয় অনুভূতি। তারপরও এই অনুভূতিগুলো সবার সাথে শেয়ার করারও একটা আনন্দ আছে, সেই ইচ্ছা থেকেই এই লেখার অবতারণা।
জানুয়ারীর প্রথম দিকে যখন ডাক্তারের কাছ থেকে নিশ্চিত হলাম যে আমি বাবা হতে যাচ্ছি, তখন প্রচন্ড রকম এক উত্তেজনা কাজ করছিল মনের মধ্যে। তার পর থেকেই আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি আমার স্ত্রীর দিকে খেয়াল রাখতাম যেন গর্ভাবস্থায় তার যত্নের কোন ত্রুটি না হয়, একজন স্বামী হিসেবে সবারই এমন করা উচিৎ, কারণ এই সময়টায় মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ফিল করে তার স্বামীর সাহচর্য। স্বামীর সঙ্গ মেয়েদের এই সময়টায় তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
তুমি আমার সকাল বেলার সুর...
খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল মামার ডাকে। মামা অনেকটা জোড় করেই ঘুম থেকে তুলে দিলেন। বললেন দেখ, সকালটা কি সুন্দর ! অনিচ্ছাসত্বেও উঠে গেলাম। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি তমাল ঘরের সামনের বাধাঁনো সিঁড়িতে বসে আছে, আমাকে দেখে হেসে বলে উঠলো তোমাকেও তুলে দিয়েছে ! আমি হেসে বলি- উঠে যখন পড়েছি, চল নদীর পাড়ে যাই। দুজনেই একসাথে নদীর দিকে হাঁটতে লাগলাম। পূব আকাশে তখনো সূর্য উঁকি দেয়নি, তবে অন্ধকার কেটে যাওয়ায় হালকা আলোয় চারিদিক আলোকিত। একটি চমৎকার স্নিগ্ধ সকাল। শরতের সকাল!
বাড়ি থেকে নদী একদম কাছে, খুব বেশী হলে এক’শ গজ হবে। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে অল্প সময়েই পৌছে যাই নদীর পাড়ে। চমৎকার আবহাওয়া। নদীর দিক থেকে হালকা ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই অদ্ভুত এক ভাললাগা অনুভূতি জাগে। মনের গহীন কোনে বাজতে থাকে ইন্দ্রানীর সুরেলা কন্ঠে নজরুলের গান- তুমি আমার সকাল বেলার সুর.....
আমাদের ভারত ভ্রমন -১
এই বার ঈদে লম্বা ছুটি। তাই স্বপন, অঞ্জন, মুসা আর কোলকাতার বন্ধু ছোটনের পীড়াপীড়িতে ভারতে যাবার একটা পরিকল্পনা করলাম। ৬/৭ দিনের জন্য। এর আগেও ভারত গেছি। তবে সেটা শুধু কোলকাতা, শিলিগুড়ি আর দার্জিলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। এই বারের পরিকল্পনা দিল্লী, আগ্রা, আজমীর আর জয়পুর। সেই কারনেই ভিসার জন্য আবেদন করা। তিনবার যখন আমাকে ফিরিয়ে দিলো, তখন ভাবলাম- যাবোনা এই ট্যুরে। শুধুমাত্র অঞ্জনের জন্যই আরেকবার আবেদন করলাম। ও সোজা বলে দিলো, আমি না গেলে সে যাবেনা। বাকী বন্ধুরা সবাই রভিসা পেলো। অঞ্জনের ছিলো মাল্টিপল ভিসা। শুধু আমারটাই বাকী। অবশেষে চতুর্থবারের মত ভিসার জন্য আবেন করলাম গুলশান অফিসে। এইবার আবেদন পত্র নিলো ওরা। পাসপোর্ট দেবার তারিখ দিলো ১৯ আগস্ট। মানে ঈদের আগের দিন। আর যদি সেদিন ঈদ হয় তাহলে ২০ তারিখ। এদিকে আমাদের বাসের টিকেট করা ২০ তারিখ রাতে। আবার ২২ তারিখ করা আছে কোলকাতা টু দিল্লী বিমানের টিকেট।
ঈদের রাজ্যে টেলিভিশন নাকি টেলিভিশনের রাজ্যে ঈদ!
শরীরটা সব সময়ের মতো ভালো না। রাত জাগা ভ্রমনের ক্লান্তি সাথে তীব্র ঘামানো তারপর আবার বিশ্রামে অনীহা সব মিলিয়ে মাথা শরীর সব ব্যাথায় পরিপুর্ন। তার ভেতরে একজন আমাকে কাজ দিছিলো নিজের অবহেলায় করতে পারলাম না সব মিলিয়ে ঢাকায় ফেরায় বেশি আনন্দে নেই। তার ভিতরে প্রতিশ্রুত পোষ্ট লেখার চাপ তাই ঝেকে বসা মাথা ব্যাথা পোষ্টটা লিখছি।
সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো
এই শহরের ফুটপাতেই বেড়ে ওঠা তার। বয়সে হয়তো আমার বড়ো বা আমার ছোট, যেহেতু সঠিক জানি না তাই বয়সের হিসেবটায় যাচ্ছিনা। ছেলেটার নাম অভি। তাকে নিয়ে আমার অনেক কৌতুহল। তার মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় কৌতুহল হলো তার নাম। আমার মাঝে মধ্যে প্রশ্ন জাগতো তার নাম কে রেখেছিলো? প্রশ্ন জাগার কারণ হলো তার তো কোন মা-বাবা নাই, সে তো জানে না তার কোন পরিচয়, সে কেনো কেউ-ই জানে না, ছোটবেলা থেকেই ভেসে ভেসে বড় হয়েছে সে! তবে তার নামটা রাখলো কে?। আমার প্রশ্ন আমার কাছেই থাকলো, আমি কখনও তাকে জিজ্ঞেস করিনি। সে আঘাত পাবে এই ভেবে।
অভি খুব নম্ন-ভদ্র ছিলো। চুপচাপ থাকতো। কেউ কিছু বললে উত্তর দিতো নয়তো সে কোন কথাই বলতো না। তার জীবন যাপনের মধ্যে এক নদী বয়ে যেতো সে নদীতে পাল তুলতো সহস্র কষ্টের নৌকা। আমার যতোদূর মনে হয়, আমি সব সময় তাকে ঝিম মেরে কিছু একটাতে মগ্ন থাকতে দেখতাম। সেই ঝিম ধরা অভি হঠৎ করে হয়ে গেলো এই পাড়ার পাগলা অভি। কবির সুমনের ভাষায় তার সাথে সাপলুডু খেলছে বিধাতা। চুলে উঁকুনের নিরাপদ ঘরবাড়ি। দিন রাতের কোন হিসেব নেই তার, কোন নেতা ভোটের আগে তার কাছে ভোট চাইতে আসনে না।
মনের ভেতরের মন
সোহান ভুল করছে। হয়তো আমিও করছি। আমি যে ভুল করছি তা আমি বুঝতে পারছি। আর এই বুঝতে পারার জন্যই প্রতিটা মুহূর্তে আমি বেশ অস্বস্তি নিয়ে পার করছি। কারণ এভাবে চলতে থাকলে বিষয়টা একদিন সবার নজরেই পড়বে। তখন সমাজ সংস্কারের চিরায়ত নিয়ম অনুসারে নিন্দার ঝড়টা আমার গায়ে এসেই কাটার মতো বিঁধবে।
আমার নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে আমি খুব দ্বিধার মধ্যে আছি। একবার আমার মনে হচ্ছে আমার জীবনটা আমার। শুধু আমার না, প্রতিটা মানুষের জীবনই তার নিজস্ব। তার ভাবনা-চিন্তা, বেঁচে থাকার পদ্ধতি, তার পছন্দ-ভালো লাগা না লাগা সব কিছুই একান্ত তার। আমরা নিজেদের প্রয়োজনেই, নিজেদের স্বার্থ এবং সুবিধার্থেই কিছু বলয় তৈরি করি। আর পরবর্তী সময়ে অন্যের উপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সেই বলয়টাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি। আবার মনে হয়, না আমার জীবনটা শুধু আমার না, আমার সাথে জড়িয়ে আছে আরও অনেকগুলো সম্পর্ক...।
নাগরিক গল্পঃ ১৬- বিষন্ন গলি এবং রাজপথ
Here on the slopes of hills, facing the dusk and the cannon of time
Close to the gardens of broken shadows,
We do what prisoners do,
And what the jobless do:
We cultivate hope.-কবি মাহমুদ দারবিশ
ব্যস্ত ফার্মগেট নীরব! টংদোকানের চা দোকানীরাও ফিরেনি। এক কাপ চা খেতেও যেতে হয় অনেক দূরে। রিক্সা-সি এন জি কিংবা বাস অনেক কম। দুই একটা যাও চোখে পড়ে-চালকের চোখে চৈত্রের বিষন্নতা। সওয়ারী নেই। আধা ঘুমন্ত-আধা জাগরিত এই শহর কেমন যেনো অপরিচিত লাগে অরুপের! কি করা যায়? এতো তাড়া-তাড়ি ফেরা ঠিক হয় নাই। আরো কিছুদিন থেকে আসা যেতো মফস্বলে।আরো দুই একদিন হেলা-ফেলায় কাটিয়ে দেওয়া যেতো। পকেটে সেল ফোন ডেকে উঠেছে।
-তুমি কই মামু? আজাদের ফোন।
-আমি তো ঢাকা।
-কি কও?
-ঠিকি কইতাছি।
-না কইয়া চলে গেলা?
-সেল ফোনের যুগে বলে আসতে হবে? টিকেট তো তুমি দিলা; ভুলে গেলা এতো তাড়া-তাড়ি?
-তা ঠিক। তবুও একটু বিদায় দিতাম।
-আবার আসতেছি কিছুদিন পরেই!
-কবে?
-আগামি সপ্তাহের দিকে।
-আমি ঢাকা আসবো মন্ত্রনালয়ে কাজ আছে-তারপরে দুজনে একসাথে ফিরবো।
আপেল খাইতে মঞ্চায়

১.
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল
জীবনানন্দ দাশ
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল,-
ডালিম ফুলের মতো ঠোঁট যার রাঙা, আপেলের মতো লাল যার গাল,
চুল যার শাঙনের মেঘ, আর আঁখি গোধূলির মতো গোলাপী রঙিন,
আমি দেখিয়াছি তারে ঘুমপথে, স্বপ্নে-কত দিন!
মোর জানালার পাশে তারে দেখিয়াছি রাতের দুপুরে-
তখন শুকনবধু যেতেছিল শ্মশানের পানে উড়ে উড়ে!
মেঘের বুরুজ ভেঙে অস্তচাঁদ দিয়েছিল উঁকি
সে কোন্ বালিকা একা অন্তঃপুরে এল অধোমুখী!
পাথারের পারে মোর প্রাসাদের আঙিনার পরে
দাঁড়াল সে- বাসররাত্রির বধু-মোর তরে, যেন মোর তরে!
তখন নিভিয়া গেছে মণিদীপ-চাঁদ শুধু খেলে লুকোচুরি,-
ঘুমের শিয়রে শুধু ফুটিতেছে-ঝরিতেছে ফুলঝুরি, স্বপনের কুঁড়ি!
অলস আঢুল হাওয়া জানালায় থেকে থেকে ফুঁপায় উদাসী!
কাতর নয়ন কার হাহাকারে চাঁদিনীতে জাগে গো উপাসী!
কিঙ্খারে -গালিচা খাটে রাজবধু-ঝিয়ারীর বেশে
কভু সে দেয় নি দেখা- মোর তোরণের তলে দাঁড়াল সে এসে!
নীলপদ্মের অপেক্ষা - ২
অনেকক্ষণ ধরে কানে আসছিলো নদীর কুলকুল ঢেউয়ের শব্দ। শরীর জুড়ানো একটা ঠান্ডা বাতাসও টের পাচ্ছিলাম। কিন্তু নদীটা যে কোথায়, ঠাহর করতে পারছিলাম না। নগরীর বিভিন্ন পুরানো রাস্তায় চক্কর দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও নদীটাকে খুঁজে পেলাম না। পেলাম আশ্বিনগেটের কোনো এক নির্জন নাম না জানা রাস্তার মোড়ে একটা বিবর্ণ হয়ে পড়া চায়ের দোকান।
ক্ষয়ে যাওয়া লাল রংয়ের গুটিকয় দাঁতওয়ালা কোঁকড়া চুলের দোকানীটা আমাকে তার দোকানের বেঞ্চির দিকে এগোতে দেখে, কোনো আদেশ-নির্দেশ-ফরমায়েশের অপেক্ষা না করেই কাঁচের কাপে টুং টুং শব্দ তুলে চা বানানো শুরু করে দিলো। আমিও কিছু না বলে চুপচাপ বসে চায়ের জন্য অপেক্ষা শুরু করলাম। দোকানীর উপরের পাটির সামনের দু'টো দাঁত নেই। কে জানে পানের সঙ্গে ও দু'টোও খেয়ে ফেলেছে কিনা! তবে লোকটার কাজে এক ধরনের সাজানো-গোছানো ভাব ছিলো, যে কারণে বসে বসে মনোযোগ দিয়ে তার হাতের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে ভালো লাগছিলো।