ইউজার লগইন
ব্লগ
বাবা হওয়ার অনুভূতি
২৫শে আগষ্ট, ২০১২। আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। কারণ এই দিনে আমি প্রথম বাবা হলাম। বাবা হওয়ার অনুভূতিটা আসলে লিখে ব্যক্ত করার মত নয়। এটা একটা অদ্ভুত স্বর্গীয় অনুভূতি। তারপরও এই অনুভূতিগুলো সবার সাথে শেয়ার করারও একটা আনন্দ আছে, সেই ইচ্ছা থেকেই এই লেখার অবতারণা।
জানুয়ারীর প্রথম দিকে যখন ডাক্তারের কাছ থেকে নিশ্চিত হলাম যে আমি বাবা হতে যাচ্ছি, তখন প্রচন্ড রকম এক উত্তেজনা কাজ করছিল মনের মধ্যে। তার পর থেকেই আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি আমার স্ত্রীর দিকে খেয়াল রাখতাম যেন গর্ভাবস্থায় তার যত্নের কোন ত্রুটি না হয়, একজন স্বামী হিসেবে সবারই এমন করা উচিৎ, কারণ এই সময়টায় মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ফিল করে তার স্বামীর সাহচর্য। স্বামীর সঙ্গ মেয়েদের এই সময়টায় তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
তুমি আমার সকাল বেলার সুর...
খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল মামার ডাকে। মামা অনেকটা জোড় করেই ঘুম থেকে তুলে দিলেন। বললেন দেখ, সকালটা কি সুন্দর ! অনিচ্ছাসত্বেও উঠে গেলাম। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি তমাল ঘরের সামনের বাধাঁনো সিঁড়িতে বসে আছে, আমাকে দেখে হেসে বলে উঠলো তোমাকেও তুলে দিয়েছে ! আমি হেসে বলি- উঠে যখন পড়েছি, চল নদীর পাড়ে যাই। দুজনেই একসাথে নদীর দিকে হাঁটতে লাগলাম। পূব আকাশে তখনো সূর্য উঁকি দেয়নি, তবে অন্ধকার কেটে যাওয়ায় হালকা আলোয় চারিদিক আলোকিত। একটি চমৎকার স্নিগ্ধ সকাল। শরতের সকাল!
বাড়ি থেকে নদী একদম কাছে, খুব বেশী হলে এক’শ গজ হবে। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে অল্প সময়েই পৌছে যাই নদীর পাড়ে। চমৎকার আবহাওয়া। নদীর দিক থেকে হালকা ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই অদ্ভুত এক ভাললাগা অনুভূতি জাগে। মনের গহীন কোনে বাজতে থাকে ইন্দ্রানীর সুরেলা কন্ঠে নজরুলের গান- তুমি আমার সকাল বেলার সুর.....
আমাদের ভারত ভ্রমন -১
এই বার ঈদে লম্বা ছুটি। তাই স্বপন, অঞ্জন, মুসা আর কোলকাতার বন্ধু ছোটনের পীড়াপীড়িতে ভারতে যাবার একটা পরিকল্পনা করলাম। ৬/৭ দিনের জন্য। এর আগেও ভারত গেছি। তবে সেটা শুধু কোলকাতা, শিলিগুড়ি আর দার্জিলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। এই বারের পরিকল্পনা দিল্লী, আগ্রা, আজমীর আর জয়পুর। সেই কারনেই ভিসার জন্য আবেদন করা। তিনবার যখন আমাকে ফিরিয়ে দিলো, তখন ভাবলাম- যাবোনা এই ট্যুরে। শুধুমাত্র অঞ্জনের জন্যই আরেকবার আবেদন করলাম। ও সোজা বলে দিলো, আমি না গেলে সে যাবেনা। বাকী বন্ধুরা সবাই রভিসা পেলো। অঞ্জনের ছিলো মাল্টিপল ভিসা। শুধু আমারটাই বাকী। অবশেষে চতুর্থবারের মত ভিসার জন্য আবেন করলাম গুলশান অফিসে। এইবার আবেদন পত্র নিলো ওরা। পাসপোর্ট দেবার তারিখ দিলো ১৯ আগস্ট। মানে ঈদের আগের দিন। আর যদি সেদিন ঈদ হয় তাহলে ২০ তারিখ। এদিকে আমাদের বাসের টিকেট করা ২০ তারিখ রাতে। আবার ২২ তারিখ করা আছে কোলকাতা টু দিল্লী বিমানের টিকেট।
ঈদের রাজ্যে টেলিভিশন নাকি টেলিভিশনের রাজ্যে ঈদ!
শরীরটা সব সময়ের মতো ভালো না। রাত জাগা ভ্রমনের ক্লান্তি সাথে তীব্র ঘামানো তারপর আবার বিশ্রামে অনীহা সব মিলিয়ে মাথা শরীর সব ব্যাথায় পরিপুর্ন। তার ভেতরে একজন আমাকে কাজ দিছিলো নিজের অবহেলায় করতে পারলাম না সব মিলিয়ে ঢাকায় ফেরায় বেশি আনন্দে নেই। তার ভিতরে প্রতিশ্রুত পোষ্ট লেখার চাপ তাই ঝেকে বসা মাথা ব্যাথা পোষ্টটা লিখছি।
সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো
এই শহরের ফুটপাতেই বেড়ে ওঠা তার। বয়সে হয়তো আমার বড়ো বা আমার ছোট, যেহেতু সঠিক জানি না তাই বয়সের হিসেবটায় যাচ্ছিনা। ছেলেটার নাম অভি। তাকে নিয়ে আমার অনেক কৌতুহল। তার মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় কৌতুহল হলো তার নাম। আমার মাঝে মধ্যে প্রশ্ন জাগতো তার নাম কে রেখেছিলো? প্রশ্ন জাগার কারণ হলো তার তো কোন মা-বাবা নাই, সে তো জানে না তার কোন পরিচয়, সে কেনো কেউ-ই জানে না, ছোটবেলা থেকেই ভেসে ভেসে বড় হয়েছে সে! তবে তার নামটা রাখলো কে?। আমার প্রশ্ন আমার কাছেই থাকলো, আমি কখনও তাকে জিজ্ঞেস করিনি। সে আঘাত পাবে এই ভেবে।
অভি খুব নম্ন-ভদ্র ছিলো। চুপচাপ থাকতো। কেউ কিছু বললে উত্তর দিতো নয়তো সে কোন কথাই বলতো না। তার জীবন যাপনের মধ্যে এক নদী বয়ে যেতো সে নদীতে পাল তুলতো সহস্র কষ্টের নৌকা। আমার যতোদূর মনে হয়, আমি সব সময় তাকে ঝিম মেরে কিছু একটাতে মগ্ন থাকতে দেখতাম। সেই ঝিম ধরা অভি হঠৎ করে হয়ে গেলো এই পাড়ার পাগলা অভি। কবির সুমনের ভাষায় তার সাথে সাপলুডু খেলছে বিধাতা। চুলে উঁকুনের নিরাপদ ঘরবাড়ি। দিন রাতের কোন হিসেব নেই তার, কোন নেতা ভোটের আগে তার কাছে ভোট চাইতে আসনে না।
মনের ভেতরের মন
সোহান ভুল করছে। হয়তো আমিও করছি। আমি যে ভুল করছি তা আমি বুঝতে পারছি। আর এই বুঝতে পারার জন্যই প্রতিটা মুহূর্তে আমি বেশ অস্বস্তি নিয়ে পার করছি। কারণ এভাবে চলতে থাকলে বিষয়টা একদিন সবার নজরেই পড়বে। তখন সমাজ সংস্কারের চিরায়ত নিয়ম অনুসারে নিন্দার ঝড়টা আমার গায়ে এসেই কাটার মতো বিঁধবে।
আমার নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে আমি খুব দ্বিধার মধ্যে আছি। একবার আমার মনে হচ্ছে আমার জীবনটা আমার। শুধু আমার না, প্রতিটা মানুষের জীবনই তার নিজস্ব। তার ভাবনা-চিন্তা, বেঁচে থাকার পদ্ধতি, তার পছন্দ-ভালো লাগা না লাগা সব কিছুই একান্ত তার। আমরা নিজেদের প্রয়োজনেই, নিজেদের স্বার্থ এবং সুবিধার্থেই কিছু বলয় তৈরি করি। আর পরবর্তী সময়ে অন্যের উপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সেই বলয়টাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি। আবার মনে হয়, না আমার জীবনটা শুধু আমার না, আমার সাথে জড়িয়ে আছে আরও অনেকগুলো সম্পর্ক...।
নাগরিক গল্পঃ ১৬- বিষন্ন গলি এবং রাজপথ
Here on the slopes of hills, facing the dusk and the cannon of time
Close to the gardens of broken shadows,
We do what prisoners do,
And what the jobless do:
We cultivate hope.-কবি মাহমুদ দারবিশ
ব্যস্ত ফার্মগেট নীরব! টংদোকানের চা দোকানীরাও ফিরেনি। এক কাপ চা খেতেও যেতে হয় অনেক দূরে। রিক্সা-সি এন জি কিংবা বাস অনেক কম। দুই একটা যাও চোখে পড়ে-চালকের চোখে চৈত্রের বিষন্নতা। সওয়ারী নেই। আধা ঘুমন্ত-আধা জাগরিত এই শহর কেমন যেনো অপরিচিত লাগে অরুপের! কি করা যায়? এতো তাড়া-তাড়ি ফেরা ঠিক হয় নাই। আরো কিছুদিন থেকে আসা যেতো মফস্বলে।আরো দুই একদিন হেলা-ফেলায় কাটিয়ে দেওয়া যেতো। পকেটে সেল ফোন ডেকে উঠেছে।
-তুমি কই মামু? আজাদের ফোন।
-আমি তো ঢাকা।
-কি কও?
-ঠিকি কইতাছি।
-না কইয়া চলে গেলা?
-সেল ফোনের যুগে বলে আসতে হবে? টিকেট তো তুমি দিলা; ভুলে গেলা এতো তাড়া-তাড়ি?
-তা ঠিক। তবুও একটু বিদায় দিতাম।
-আবার আসতেছি কিছুদিন পরেই!
-কবে?
-আগামি সপ্তাহের দিকে।
-আমি ঢাকা আসবো মন্ত্রনালয়ে কাজ আছে-তারপরে দুজনে একসাথে ফিরবো।
আপেল খাইতে মঞ্চায়

১.
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল
জীবনানন্দ দাশ
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল,-
ডালিম ফুলের মতো ঠোঁট যার রাঙা, আপেলের মতো লাল যার গাল,
চুল যার শাঙনের মেঘ, আর আঁখি গোধূলির মতো গোলাপী রঙিন,
আমি দেখিয়াছি তারে ঘুমপথে, স্বপ্নে-কত দিন!
মোর জানালার পাশে তারে দেখিয়াছি রাতের দুপুরে-
তখন শুকনবধু যেতেছিল শ্মশানের পানে উড়ে উড়ে!
মেঘের বুরুজ ভেঙে অস্তচাঁদ দিয়েছিল উঁকি
সে কোন্ বালিকা একা অন্তঃপুরে এল অধোমুখী!
পাথারের পারে মোর প্রাসাদের আঙিনার পরে
দাঁড়াল সে- বাসররাত্রির বধু-মোর তরে, যেন মোর তরে!
তখন নিভিয়া গেছে মণিদীপ-চাঁদ শুধু খেলে লুকোচুরি,-
ঘুমের শিয়রে শুধু ফুটিতেছে-ঝরিতেছে ফুলঝুরি, স্বপনের কুঁড়ি!
অলস আঢুল হাওয়া জানালায় থেকে থেকে ফুঁপায় উদাসী!
কাতর নয়ন কার হাহাকারে চাঁদিনীতে জাগে গো উপাসী!
কিঙ্খারে -গালিচা খাটে রাজবধু-ঝিয়ারীর বেশে
কভু সে দেয় নি দেখা- মোর তোরণের তলে দাঁড়াল সে এসে!
নীলপদ্মের অপেক্ষা - ২
অনেকক্ষণ ধরে কানে আসছিলো নদীর কুলকুল ঢেউয়ের শব্দ। শরীর জুড়ানো একটা ঠান্ডা বাতাসও টের পাচ্ছিলাম। কিন্তু নদীটা যে কোথায়, ঠাহর করতে পারছিলাম না। নগরীর বিভিন্ন পুরানো রাস্তায় চক্কর দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও নদীটাকে খুঁজে পেলাম না। পেলাম আশ্বিনগেটের কোনো এক নির্জন নাম না জানা রাস্তার মোড়ে একটা বিবর্ণ হয়ে পড়া চায়ের দোকান।
ক্ষয়ে যাওয়া লাল রংয়ের গুটিকয় দাঁতওয়ালা কোঁকড়া চুলের দোকানীটা আমাকে তার দোকানের বেঞ্চির দিকে এগোতে দেখে, কোনো আদেশ-নির্দেশ-ফরমায়েশের অপেক্ষা না করেই কাঁচের কাপে টুং টুং শব্দ তুলে চা বানানো শুরু করে দিলো। আমিও কিছু না বলে চুপচাপ বসে চায়ের জন্য অপেক্ষা শুরু করলাম। দোকানীর উপরের পাটির সামনের দু'টো দাঁত নেই। কে জানে পানের সঙ্গে ও দু'টোও খেয়ে ফেলেছে কিনা! তবে লোকটার কাজে এক ধরনের সাজানো-গোছানো ভাব ছিলো, যে কারণে বসে বসে মনোযোগ দিয়ে তার হাতের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে ভালো লাগছিলো।
ভাল লাগছে; ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারি না..! :D
প্রায় ঘণ্টা খানেক হল গুনগুন করছি শ্রীকান্তের একটা গান।
' ভাল লাগছে; ভাল লাগছে, কেন তা বলতে পারি না'।
আজ রাতে এই মুহূর্তে এই লাইনটা দারুন ভাবে মানিয়ে গেছে আমার সাথে। নির্দিষ্ট কোন কারন নেই কিন্তু তবুও ছোট খাট সাইজের অনেকগুলি ভাল লাগায় মন ফুরফুরে হয়ে আছে। এমনিতে তো সব সময়ই মন খারাপ মন খারাপ করি, আজ মনে হল একটু ভাল লাগাও শেয়ার করা দরকার। তাই এই হাবিজাবি।
ইচ্ছে করতেছে, আমার প্রিয় যত মানুষ আছে আমার লাইফে - তাদের সবাইরে নিয়া লাফালাফি করি। শুধু শুধুই সব কিছুতেই বেশ মজা লাগতাছে! আজব ব্যাপার, সবসময় এমন ফিল করতে পারলে দুর্দান্ত হইত!
ও যদি খেতে চায়
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,- অসম অসুখ।
দুরত্বের ক্ষত
কিংবা মহৎ অবদান।
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,-বিষাক্ত সুখ।
প্রান্তীক পোকা বা পক্ষ
অলস ঝুলে থাকা গাভীর বান
কিংবা আদান-প্রদান।
ও যদি খেতে চায়
খেতে দাও,-
ঘর-গেরস্থালির অস্থি,-
উৎপাদন যন্ত্র।
মন ও মন্ত্র কিংবা কুসুমের ভেতর থেকে বিযুক্ত ওম।
সুপ্ত ঘ্রান যদি-
খেতে চায়,খেতে দাও।
ফুলপরীরে ঢিল- কান নিয়েছে চিল..
বরিশালের গহীণে কোন একগ্রামে নানাবাড়ি। ঈদের লম্বা ছুটি.. কোথাও না গেলেই নয়। বাড়ির একদল ঠিক করলো, এবার না হয় বরিশাল। কিছু দিন সবুজ আর পাখির সাথে বসবাসের ইচ্ছা আর ইচ্ছে কংক্রিটের মাঝে বড় হতে থাকা ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটিকে শাপলার পুকুর দেখানো।
যেই ভাবা সেই কাজ। দুই খালা আর ছোট খালার দুই মেয়ে পুষ্পা-পরমা ঈদের তৃতীয় দিন (ঈদের প্রোগ্রামের তালিকা অনুযায়ী) কাক-ডাকা ভোরে রওনা দিলেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। নিতান্তই গ্রামের বাড়ি বলতে যা বোঝায়, সেখানেই তাদের বাড়ি। ঝিঁঝি পোকার ঢাকে সন্ধ্যা. জোনাকির আলোয় রাতের ঝিকিমিকি উঠোন আর পাখির ডাকে সকাল। বেশ চমৎকার পরিবেশ। ছোট্ট ডিঙ্গিতে করে শাপলার ঢেউ ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাঝির মুখের হাসি আজকাল কয়টা জায়গায় দেখা যায়! শহরে তো একদমই না। এখনও যেখানে বিদ্যুৎ চমক দেখাতে পারেনা, সেখানে শহরের চঞ্চলতা তো নেইই - তেমন নেই কোলাহল..
একারণেই হয়তো প্রাগৌতিহাসিক অনেক বিষয় আজও এলাকাবাসীর মনে মনে পুষে রাখে নিষ্ঠার সাথে। কি যে বিপদ!
ঈদ উদযাপন, ঢাকায় ফেরার বিড়ম্বনা ও মৃত্যু সংবাদ!
ভেবেছিলাম ঢাকাতে ফিরেই পোষ্ট দিবো। তা আর হলো না। কারন পরীক্ষা পেছালো আর জামালপুরে ট্রেনের টিকেটের খুব গেন্জাম। ছাত্রলীগের পোলাপাইন তারা আমার মতোই বেকার। টিকেট কালোবাজারী করেই তাদের দিন চলে। তাই তাদের এই কর্মসংস্থানে কেউ বাধা দেয় না। জামালপুরে একটা লোকাল পত্রিকা অফিসে গতবার গেছিলাম। আমার বাড়ী থেকে বেশি দুরে না। অফিসটায় সাইজ ঢাকার একটা মাঝারী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সমান। ভদ্রলোক তিনজন বাংলা সিনেমা দেখছিলো ভিডিও চ্যানেলে। আমি তাদের তিনটাকা দিয়ে পত্রিকা কিনলাম। জিগেষ করলাম ট্রেনের টিকেট সব ব্ল্যাকে চলে যায় এইটা নিয়ে আপনারা সোচ্চার না কেনো। উল্টা আপনাদের পত্রিকা জুড়ে দেখি খালি সব জাতীয় খবরে ঠাসা। তিনি হেসে বললেন বাবাজী দেশের টাকা তো দেশেই থাকলে ভালো। যেভাবে কামাচ্ছে কামাক।রেব পুলিশ তো ঐখানেই থাকে। তারাই কিছু বলে না আর আমরা বলে কি হবে!
শো-বিজে হাইব্রীড ‘তারকা’ ও আমাদের মিডিয়া
বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সময়। বেশ ভালো সময় । গত একবছর ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক হাইব্রীড হিরো একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছে। ওই হাইব্রীড হিরো নাকি তাঁর অভিনীত ছবিগুলোর প্রযোজকও। ‘গাঁজাখরি’ গল্পের ওই ছবিগুলোতে ওই ‘হিরো’র ভুল উচ্চারণের সংলাপ শোনার জন্যই নাকি ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভেঙে পড়ছে। দুই আড়াইঘন্টা হলে ‘হো’ হো’ করে হেসে বেরিয়ে এসে জনতা আবার দেদার গালিও দিচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ওই হাইব্রীড হিরো বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত হয়ে দেশের মানুষকে চলচ্চিত্র ও অভিনয় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়াও শুরু করেছে। ওই টকশোগুলোও ইতিমধ্যে তাঁর উচ্চারণের ক্যারিশমায় দমফাটানো হাসির উেস পরিণত হয়েছে। হাইব্রীড ‘হিরো’কে নিয়ে চ্যানেল মালিক ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্যটা এই মুহূর্তে ঠিক পরিষ্কার নয়। যতদূর জানি, ওই হাইব্রীড হিরো অগাধ অর্থের মালিক ও সে ইতিমধ্যে এদেশের নিম্নরুচির শোবিজ জগতের মজা পেয়ে গেছে। তাঁর হিসেবহীন অর্থকে টার্গেট করে ‘মৌ-লোভী’রা তাঁর চারপাশে ভীড় করেছে কীনা-সেটা আমার কাছে পরিস্কার নয়। কিন্তু আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো এই হা