ইউজার লগইন
ব্লগ
রুচিবোধ এবং সাম্প্রদায়িকতা
রুচিবোধ সাম্প্রদায়িক আচরণ উস্কে দেয়! কাউরে আপনার মনে হইতে পারে ক্ষেত, আবার কাউরে ড্যাম স্মার্ট। ফলে আপনি ক্ষেতরে অবজ্ঞা করলেন। মানে আপনি সাম্প্রদায়িক আচরণ করলেন।
একটা গোপন কথা বলি। আবৃত্তি একাডেমির শুরুর দিন গুলাতে আমি যখন নিজেরে নিয়া ব্যস্ত ছিলাম- মানে অন্যরে গোনার টাইম প্রায় ছিলই না, নিজেকে আমার বিশ্বের সেরা স্মার্ট পুলা মনে হইত। যদিও কেউ কেউ আমারে দ্য ক্ষেতিয়েস্ট পারসন অব দ্য ওয়ার্ল্ড ভাবত। তাতে আমার কিছু যাইত আসত না। আমি আমার মতই ছিলাম। কিন্তু দেখা গেল মানুষের রুচিবোধ বদলাইতাছে। তারা ক্ষেতিয়েস্টরে শুধু গুনতেছে না, মাথায় তুলার ট্রাই করতাছে।
সূর্য নিভে যাবার আগের পৃথিবীতে দারুণ অসহায় আমি
একদিন তো সব খেলা থেমে যাবে। সূর্য আর কিরণ দেবে না অকাতরে। সূর্য নিভে গেলে পৃথিবী তার সমস্ত জ্ঞানভাণ্ডার, সমস্ত নাটক সিনেমা গান গল্প কবিতা সুর আর রাগ নিয়ে কোথায় যাবে সেইদিন?
অথবা তার আগেই যদি নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণে ছাই হয়ে যাই আমরা সবাই?
অত দূর না ভাবলেও হয়ত এটুকু জানা যায় যে আমাদের এই জীবন আর ফিরে আসবে না মরণের ওপারে। জীবন কতো সীমিত সময় নিয়ে এসেছে আমাদের কাছে, আমি ভাবতে পারি না কিছু, আমার খুব অসহায় লাগে সবকিছু ছেড়ে চলে যাব ভাবলে। এইটুকুন জীবন কতোটা অবহেলা করেছি তা ভেবে শুধু খারাপই লাগে।
সার্টিফিকেট ছাড়া
আমি আমার কিছুই খুঁজে পাই না আজকাল। আমি জানি না আমি ডিপ্রেশনে ভুগছি কি না। ভুগে থাকলেও ডাক্তার দ্যাখাতে ইচ্ছে করে না। নিজেই ভালো থাকতে চাই কোনো একটা উপায় বের করে নিয়ে। থেরাপি বা মেডিকেশন ভাল্লাগে না।
কিন্তু কোনো কিছু তো করা দরকার ভালো থাকতে হলে। আমি শুধু খাচ্ছি আর ঘুমাচ্ছি। মাঝে মাঝে মুভি দেখতেছি। সাইকেল চালাতেও ভালো লাগে। আর কোনো কাজে যেতে ইচ্ছে করে না।
লিখতে বসছিলাম এইম ইন লাইফ। কিন্তু সূচনাটা ভালো হয় নাই। আর কথা না বাড়ায়ে আসল পয়েন্টে যাই।
এইম ইন লাইফ রচনা আমি কোনো দিন পড়ছিলাম কিনা বা কোনো পরীক্ষায় লিখছিলাম কি না মনে নাই। অনেক কিছুই মনে নাই। মনে আছে আমি ছোট থাকতে ভাবতাম জাহাজের নাবিক হবো। বন্দরে বন্দরে নেমে পান করবো, ভোগ করবো নারী। কিন্তু সেটা থাকলো না।
ইস্তান্বুলের গল্পের ভূমিকার ভূমিকা
দিনের বেলা ঘুমিয়ে কাদা হয়েছিলাম। এখন উঠে মন খারাপ লাগছে। জানি রাতে ঘুমানোটা কঠিন হয়ে গেল ভীষণ। কিন্তু কি আর করা। ঘুমানোর সময় ভেবেছিলাম খুব বেশি হলে আধা ঘন্টা ঘুমানো যাবে। ওমা পাক্কা আড়াই ঘন্টা পর চোখ খুলেছি। মাঝখানে তো ঘুমের মধ্যেই মনে হচ্ছিল ঘড়ির কাঁটা রাত আর দিন পেরিয়ে চলছে অজানা গন্তব্যের পানে।
সাগরের তীরে যতোবার বেড়াতে গিয়েছি, ততোবারই আমার কি যেন হয়েছে। মনে হয়েছে মাত্রই তো কয়েকদিনের জন্য এখানে আসা। এই আসার কি কোনো অর্থ আছে? এসব ভেবে ভেবে মন খারাপই থাকতো বেশি। বহু চেয়েও কখনও উপভোগ করতে পারি নি। অথচ সাগরপাড়ের বাতাস যদি মুঠোবন্দি করে এনে আমার সামনে কেউ ছেড়ে দেয়, আমি বলে দিতে পারবো সেটা সাগরপাড়ের বাতাস। জানি আর না জানি, সাগরের কাছাকাছি গেলেই আমি টের পেতে শুরু করি।
বাংলাদেশ ডায়েরি ০৩
দুরপাল্লার বাসে প্রচন্ড আতংকে চেপে ড্রাইভারের ঠিক পেছনের সীটে বসে থাকার মতো পেরেশানী দ্বিতীয়টি নেই। পরীক্ষায় প্রথম না হওয়া যত ক্ষিপ্ত- ক্ষুব্ধ মানুষেরা দুরপাল্লার বাসের ড্রাইভার হয়। তাদের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য সবাইকে কাটিয়ে প্রথম হওয়া। যে বাসগুলো গাজীপুর থেকে ঢাকা আসছে, গতির মত্ততায় সেগুলোকে কাটিয়ে রাজশাহী- দিনাজপুরের বাস ঢাকায় ঢুকতে পারবে না কিন্তু গতির মরিয়া লড়াইয়ে রঙ সাইডে আটকে পরা বাসের যাত্রীরা যমুনা ব্রীজের আগে ক্রমাগত ড্রাইভারকে উপদেশ দিচ্ছে।
ঐ মিয়া বাসটা ঐ লাইনে লাগাইলে তো এতক্ষণে ব্রীজের কাছে যাইতাম গা। কি চালাও কিচ্ছু বুঝি না। তোমারে এইখান থামাইতে কইলো কে? অন্য পাশ থেকে দ্রুত বাস ট্রাক আসছে। সেসব বাস-ট্রাকের ড্রাইভারের আসনে বসে আছে আরও সব কখনও প্রথম হতে না পারা ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ছাত্রেরা।
বন্ধু-বান্ধব, হিপ হপ আর দি লাস্ট জেডাই ট্রেলারে মোড়ানো পহেলা বৈশাখ
দেশের বাইরে থাকার সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে। কোনটা বেশি আর কোনটা কম, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক কিছু বলা সম্ভব না। একেকজনের কাছে বিষয়টা একেক রকম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার কাছে যেমন পহেলা বৈশাখের দিনে উৎসব আর আনন্দ-অায়োজনের মধ্যে না থাকতে পারাটা অনেক বড় একটা ইস্যু। ঈদ, কুরবানী কিংবা ভালবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুনের চাইতেও পহেলা বৈশাখটাকে মিস্ করি বেশি। একবার ১৩ এপ্রিল রাত ১১টা-১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলার ফুটপাথ, মিলন চত্বর, টিএসসি, ডাস ইত্যাদি এলাকায় বন্ধুদেরকে নিয়ে হেঁটে দেখিয়েছিলাম ঠিক একদিনের ব্যবধানে কি অবস্থা হতে যাচ্ছে পুরো এলাকাটির। চব্বিশ ঘন্টা পর আবার হেঁটে নিজের অনুমান কতোটা সত্য তা দেখতে গিয়েছিলাম। মিলে গিয়েছিল সেন্ট-পারসেন্ট সবকিছু। পহেলা বৈশাখের দিন কয়টার আগে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লে হুজ্জত কম, কোথাকার লাঞ্চ সেদিনের জন্য আদর্শ কিংবা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে হলে কখন কোথা দিয়ে বে
বাংলাদেশ ডায়েরি ০২
গত রাতেও যেখানে ছিলাম, শুনশান নিরব মফঃস্বল, পাশের বাসার মানুষটা বিছানায় পাশ ফিরলেও চাদরের খসখস শব্দ কানে আসে। পাখীরাও চুপচাপ। যন্ত্রের যন্ত্রনাকাতর দীর্ঘশ্বাস জমাট বেধে আছে শহরের বাতাসে। শিহরন নেই, বরং অহেতুক উৎকণ্ঠা ভাবনায়। ধুলার গন্ধ নাকে আসে, ভয় হয় যদি বুক ভরে শ্বাস নেই, এইসব ধুলো জমে ফুসফুস খসখসে হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ডায়েরি ০১
আকাশখামচে ধরা স্থাপনাগুলোর ভেতর দিয়ে বাঁক নিয়ে যতবার বিমান ঢাকা এয়ারপোর্টে অবতরন করে, সম্পূর্ণ সময়টাতেই আতংকে সিঁটকে থাকি। তীরে এসে তরী ডোবার মতো এয়ারপোর্টে আছড়ে বেমক্কা মরে যাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করি। সাজানো গোছানো কোনো এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে নামলে নানাবিধ অসংগতি দেখে বিব্রত লাগে।
কার্যকরী লেখার বই, Ann-Handley. এর লেখা--Everybody Writes!
প্রথমেই বলে রাখি আমি ইংলিশ নন ফিকশন বই কম পড়ি। কারন বিবিধ। যেমন আমার ইবুক পড়তে কিছুটা বিরক্ত লাগে, আর বাসাতে প্রচুর বাংলা বই যা পড়ার মায়া কাটানো কঠিন। যেমন দুটো বই শেষ করলাম আনিসুজ্জামানের স্মৃতি কথা বিপুলা পৃথিবী, আর তপন রায় চৌধুরীর প্রবন্ধ সমগ্র। তার সাথে সাথে শেষ করলাম এই বইটা, Ann Handley এর লেখা। বইটা খুবই চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। বিভিন্ন মাধ্যমে কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে লেখা এরকম বই আমি কখনো পড়ি নি। তা নিয়ে দু চার লাইন লিখতেই আমার এই পোষ্টের অবতারনা।
আমার সিসিমপুর (৭)
বহুদিন ব্লগে আসি না। যদিও এখন অনেক সময় আমার হাতে, কমবেশি সারাদিনই অনলাইন থাকি, তবু আসি না। আলসেমি করে যে আসি না তাও না। কেন যেন ধৈর্য্যে কুলায় না বড় কিছু লেখা পড়ি, কিছু দেখি বা লিখি।
নিজের সিসিমপুর নিয়ে লেখা গুলা প্রায়ই খুব মিস করি। কত কিছু হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। কিছুই লিখে রাখছি না। কয়দিন পরই ভুলে যাচ্ছি। নিজেই যখন সবটুকু মনে করতে পারি না কি হয়েছিল তখন আবার ভাবি লিখে রাখলে তো আর ভুলতে হত না। মাঝে মাঝে হয়ত একটা ছবি তুলে ফেসবুকে এক লাইনের একটা ক্যাপশন দিয়ে আপলোড করে রাখি। কিন্তু আজকে যা হল সেইটা শুধু এক লাইনের ক্যাপশনে লেখা যাবে না। তাই বসেই গেলাম লিখে রাখতে যেন কোনোদিন ভুলে না যাই।
১।
শুধু ছেঁড়া পাতা হয়ে জীবনের খাতা হতে আস্তাকুড়ের রাস্তাটুকু খুঁজে নিতে খারাপ লাগে
ইও, ওয়াট্সাপ?
জানো, আমার পাষাণ হৃদয়টা না কখনও শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের কথা ভাবে না। কখনও ভাবে না যখন সে কষ্ট পায়, তখন তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয় অন্যদের। সে জাস্ট কষ্টের খনি খুড়ে বেড়ায় সর্বত্র। একবার খুঁজে পেলে খুশিতে লাফাতে থাকে। সামান্য নিকট ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে সেটা জানার জন্য অপেক্ষাও করে না। ঝাপ দেয়ার প্রথম সুযোগটাতেই ঝপাত। একদম পপাত! তারপর দুই কি এক সপ্তাহ বাদে বুঝতে পারা যে, কতোটা ভুল ছিল সিদ্ধান্তটা!
বেচারা তারপর ফিরে যায় ১২ দশমিক চার বর্গমিটারের কুঠুরিটায়। ঠায় তাকিয়ে থাকে ডার্থ ভেডারের সাদা-কালো পোস্টারটার দিকে। রুমের ডেথ স্টারটা তাই দেখে গম্ভীর হয়ে যায়। চারশত বছরের পুরোনো পৃথিবীর ম্যাপটার জায়গায় জায়গায় নীল ছোপ জমা হয়। কম্বলের ওয়ারে আঁকা স্টর্মট্রুপারদের মুখও মলিন দেখায় ক'টা দিন।
মৌনতার কাছাকাছি
বেশী কথা কইবার ক্রান্তিকাল বিদায় হয়েছে নিঃশ্বব্দে এখন
মৌনতার কাছ থেকে চেয়ে নেবার আছে যা কিছু পাওয়া হয় নাই
পাওয়া যায় নাই বেশী বেশী কথা কয়ে এ আমলের দিনমজুর আমি
তাই আর অযথা কথার জালে জড়াতে চাই না কোথাও বরং
চুপচাপ হেটে পথ পেরিয়ে বিছানার কাছে চলে আসা প্রয়োজন দিনটা শেষ করে
ক্লান্তিহীন কথা বলার দিন এভাবেই ফুরিয়ে গেছে কোনো এক পড়ন্ত সূর্জের আলোয়
সুখ আসুক সুখের মতোন
সুখ আসুক সুখের মতোন
আমি খুঁজতে যেতে পারবো না
বহুদিন খুঁজে বেড়িয়ে পা দুটো ক্লান্ত হয়েছে যথেষ্ট আজ
আর তাই ঝুপঝুপে অন্ধকার রাতে কাদাজলে পা রাখতে পারবো না
টুপটাপ বৃষ্টি হতে থাকুক কিংবা মেঘ ডাকুক ঝড় উঠুক কিছুতেই আমি যাব না
সুখ খুঁজতে এই প্রকান্ড অলস দেহ নিয়ে তারচে জানালাটার বাইরে
নিথর দেবদারু গাছের দাঁড়িয়ে থাকা বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে আমার কাছে আজ আমিও
গাছটার মত দাঁড়িয়ে কিংবা অলস বিছানায় শুয়ে শুয়ে এভাবে অসুখের দিন পার করতে বেশ লাগার কথা
লিরিকঃ কতোটা স্মৃতির পাতায় শেষ হবে অতীতের খাতা

-
-
-
রাত্রির অন্ধকারে শূন্যতা গুণে
বুকের ভেতর নিঃসঙ্গতা বুনে
কে কার অপেক্ষায় মেঘ জমায়
চোখ জুড়ে একাকীত্ব নামায়?
ভীষণ আত্মভোলা পথের বাঁকে
ছায়ার আড়ালে রোদ ঢেকে
চুপ করে সয়ে অবহেলা
কে বানালো হাওয়ার জানালা?
বিনম্র র্নিজনতায় উদ্বাস্তু মৃতফুল
ঝরে গেলে বলো কবেকার ভুল
জোনাকীর পিছু হারালে পথ হঠাৎ
কে তবে পাড়ি দিলো তেপান্তর মাঠ?
কেউ কি জানে কতোটা স্মৃতির পাতা
ওল্টালে শেষ হবে অতীতের খাতা?
অভাজনের বইমেলা!
আগে একটা সময় আমি বইমেলা নিয়ে কত কিছু লিখেছি, দু হাতে যা পড়েছি তার রিভিউ লিখতাম। প্রায় বেশীর ভাগ দিন বইমেলা যেতাম, তাই করার মতো গল্প কম ছিল না। এখন সোলসের গানের মতোই-- হঠাৎ শুন্যতা। মেলাতে যাওয়াও হয়েছে অল্প কদিন। তেমন ভাবে দেখাই হয় নি কিছু। না আসলে মেলায় মনে হয় শহরে বইমেলা চলে তাও আসছি না, আর যেদিন যাই সেদিন মনে হয় কেন যে আসি ছাতার মেলায়। আমাদের এই আজব কমপ্লেক্স কাটে না, মেলা শেষ হয়ে যায়- দিন চলে যায়। আগের মত বই কেনা হয় না। আগে আমি চ্যারিটিতে বিশ্বাস করতাম, খালি লেখক পরিচিত বা চেনাজানা মানুষ হয়তো তার অন্য কাজ ভালো লাগে এইজন্য কত বই আমি কিনেছি। এখন আর সেসব দিন নাই, এখন পারতপক্ষে না কেনার জন্য থাকি। এছাড়া সারা বছরেই বই কেনা হয়, ফ্রেন্ডের কাছ থেকে আনা হয়, এভাবেই অনেক বই পড়া হয়ে যায়। তবে বইমেলা তো বইমেলাই তার সাথে তুলনা চলে না কিছুর। না কিনলেও কেনা হয়ে যায় কিছু বই। তার চেয়ে ভালো লাগে অবশ্য অনেক