ইউজার লগইন
ব্লগ
একদিনের বার্নআউট, আর তারপর পড়ে থাকা হাউশগুলা
কি অবস্থা সকলের? চারটা জলজ্যন্ত দিন পার হয়ে গেল শেষ লেখাটার পর। অলিম্পিকে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেল এর মধ্যে। উসেইন বোল্ট নিজেকে পেলে, মোহাম্মদ আলীদের কাতারে বিচারের দাবি জানিয়ে গেল।দেখা যাক, কিংবদন্তীত্বের পথে হাঁটা সহজ নয় বন্ধু। অল দি বেস্ট।
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরটা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল ওসামার সাথে সেদিন। দুপুরের লাঞ্চের পর এক মগ কালো কফি হাতে নিয়ে। প্রায় দশ হাজার বছরেরও বেশি বয়স শহরটার। বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে প্রতিদিন। এই শহরগুলো এমন না যে, সেখানকার ঘর-বাড়ি আর রাস্তা-ঘাট দশ-বিশ বছর আগে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন পরবর্তী ইশতেহারনামা বাস্তবায়ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বানানো। কিংবা দুই-চারশ' বছর আগে মানুষ জঙ্গল সাফ করেও এমন আলেপ্পো, দামাস্কাসের মতো শহর গড়ে তোলে নি।
অনির্দিষ্টকালের ট্রিবিউট
আজকের লেখাটার শুরু এই সময়ে না। এক বছর আগে। সেই লেখাটায় যাওয়ার আগে এই কথাটা বলে নিতে ইচ্ছে হলো। সে সময়ের জীবনের সাথে এখনকার জীবনের অনেক কিছুই মিলবে না। তবে মূল সুরটায় কোথায় যেন মিল আছে। সে সময়ও মধ্যরাতে হঠাৎ হঠাৎ লিখার ইচ্ছে চেপে ধরতো। এখনও ধরে। সে সময়েও সেসব ইচ্ছেকে চাপা দিয়ে দেয়ার একটা প্রবল তাড়না যথাসময়েই হাজির হতো। এখনও হয়। মাঝে মাঝে তাড়নাগুলো লিখার ইচ্ছের কাছে হেরে এ ধরনের কিছু একটা হয়ে বের হয়। বের হওয়ার পর বেগুনী রংয়ের ফুলের খামারের পরাগরেণুর মতো ক্ষুদ্র কণার আকারে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। অষ্টাদশ শতাব্দীর কোনো সোনালী গোধূলির আলো মাখা পথে ড্রিন্ডল পরে হেঁটে যাওয়া কিশোরীর চিবুক ছুঁয়ে থাকা গোছাটার সবচেয়ে বড় চুলটা ঠিক যেখানটায় প্রতি মুহূর্তে একবার করে গিয়ে আছড়ে পড়ার চেষ্টায় দিন কাটায়, তার আশেপাশে ঘুরে-ফেরে।
দ্বৈধ
তখন মাঘ মাসের শুরুর দিক। তারিখটা ঠিক মনে নেই। আমাদের গ্রামের বাড়িতে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। চারদিক কুয়াশায় ঢেকে আছে। দুদিন হলো সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছেনা। দাদাজান সেদিন ফজরের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠে ভোর হয়নি ভেবে আবার শুয়ে পড়লেন। দাদাজানের আবার ঘড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস নেই, ঘরের ভেতর ঘড়ি থাকলে নাকি তার মনে হয় ঘড়ির কাঁটার সাথে আজরাইল তাঁর চারপাশে ঘুরছে। এই সমস্যা তাঁর শুরু হয়েছে দুই বছর আগে। তখন তিনি জণ্ডিসে ভুগছেন। সারাদিন কিছু খেতে পারেননা, সন্ধ্যা হলেই তাঁর মেজবানী খাবারের প্রয়োজন হয়। আর তিনি দশ বারোজনের খাবার একাই খেয়ে ফেলেন। ডাক্তাররা মানা করার পরও দাদাজানের এই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করা গেলনা। এর কারণটাও কেউ উদ্ধার করতে পারলনা অবশেষে বাড়িতে ওঝা ডেকে আনা হল। ওঝা সারা বাড়ি ঝাড় ফুঁক করে বললেন, মাগরিবের ওয়াক্ত শুরুর আগে বাড়িতে খারাপ জ্বিনের আনাগোনা শুরু হয়। তারা বাড়ির অসুস্থ মানুষের ওপর ভর করে। তারপর পেট
যেহেতু, এ শহরে কেবলই রাত হয়ে যায়..
দেখলাম অনেক ভেবে আকাশ পাতাল,
বলেছো যা; নেই কোন ভুল।
যথাযথ নেইকো কারন বলার মতন,
যাবে না কেন ছেড়ে এই ধুসর শহর?
এ শহর বড্ড বেশি কেমন যেন -
ক্লান্তি মাখায় মনের ঘরে যখন তখন।
বাজে ভীড়, গুমোট ধোঁয়ায় পথ চলা দায় -
গল্প আঁকার তুলোট মেঘের অভাব ভীষন।
সাদা মন মানুষদেরও বড্ড আকাল,
বাঁকা পথে না চললে ফের নিত্য নাকাল।
এ শহর পিছন ফেলে আলোয় দাড়াও,
আঁধারেও; আপন সুখের নেশায় হারাও।
চায়ের কাপে একলা হবার সময় এখন,
চিনি কম বলার ভুলে হাসার মতন।
পারাপারের রাস্তা পাশের যত্ত ছায়া,
ফিকে হয়ে আসবে কেবল অবাক মায়া
দেখো ঠিক বদলে যাবো হঠাত করেই,
কি আসে যায়; ডাক না দেবার কারন পেলে?
ভেজা কাক বৃষ্টি ছুঁয়ে বুকপকেটে জমুক চিঠি
ডাকঘর হারাচ্ছে রোজ রাখবে কে খোঁজ নেই শহরে।
ভালো থেকো নদীর ওপার সবুজ ছুঁয়ে,
এপারে মেঘ ছু্ঁয়ে যাক নরম রোদের সাঁঝ প্রহরে..।।
আমার মায়ের কোন ফেসবুক আইডি ছিলো না
মানুষ উত্তরাধিকার সুত্রে অনেক কিছু পায় মায়ের, কিছু শাড়ি গহনা ছাড়াও আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম আমার মায়ের বিছানা। মা চলে যাওয়ার পর আব্বু কোনদিন এই রুমে একা থাকেনি। তাই আমার রুম শিফট হয়ে গেছে। আম্মুর এই বিছনায় আগে আমি শুতে পারতাম না, আম্মু চিৎকার করত কারন বিছানার চাদর কুচকে ফেলার এক বড় বদ অভ্যাস ছিলো আমার। তাই একই রুমে আমার জন্য একটা সিংগেল খাট বিছানো ছিলো। টিভি যেহেতু এই রুমে তাই আরাম করে টিভি দেখার এই ব্যবস্থা। যেদিন আম্মুর ব্রেন হ্যামারেজ হলো ঠিক সেদিনও আমি পাশের সেই বিছানাতে শুয়ে ছিলাম, আম্মু ছিলো পাশের বাথরুমে। যখন টের পেয়ে ঘরে আনলাম, এবং শুইয়ে দিলাম আমার বিছানাটাতে, তার কিছুক্ষন পর সে যখন অবচেতনে বিছানাটা নষ্ট করে ফেলল, বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু একটুও চিৎকার করি নি। তাকে আবার তার নিজের বিছানায় শুইয়ে দিয়েছি। সেটাও কিছুক্ষন পর নষ্ট হয়ে গেছে। সেই যে তাকে তুলে বাড়ীর বাইরে নিয়ে গেছি, আর
বন্ধু , আমি আসব...
বহুদিন লেখি না। ফোনের নোটে কত লেখা জমেছে। সবাইকে বলব বলব করেও বলা হয় না। গ্রীষ্মের ছুটির আরও কত দিন আছে। পড়ার চাপ নেই একদম। কাজের চাপ আছে।আজ অসম্ভব ক্লান্ত। কাল সারারাত কাজ করে আজ সারাদিনও কাজ করেছি। ঘুমাতে এসে ঘুমাতে পারছি না। বন্ধুত্ব দিবসে কোন মজাই হয় নি। অবশ্য হবেই বা কেমন করে? বন্ধুই তো নেই।
কিন্তু নেই বললে তো ভুল হবে। ওরা সবাই আমার চারপাশে থাকে।
কারও সাথে আমার যোগাযোগ নেই। কিন্তু তাই বলে তাদের খবর জানি না তা তো না। আমার অনেক বন্ধুই এখন বন্যার ত্রাণ সংগ্রহে ব্যাস্ত। অনেকেই বিভিন্ন কাজে ভলান্টিয়ার। একদিন আমিও স্বপ্ন দেখতাম, বন্যার্তদের ত্রাণ জোগাড় করছি, অসহায়দের সাহায্য করছি, বন্ধুদের আড্ডায় একবার জোড় গলায় সবাইকে বলেছিলাম, বাংলাদেশ সুন্দর হবেই। কারণ আমাদের হাতে গড়বে বাংলাদেশ। আমরা করব সুন্দর।
কান্নার রাত
বিষাদ বিষাদ-
অনন্ত বিষাদ এসে ছুঁয়ে যায় স্মৃতির খেলাঘর;
দু’ঠোঁটের ভাঁজে বিদ্রূপের হাসি,
কটাক্ষে অচেনা রহস্যময়তা
আর, অভিশপ্ত নিষ্ঠুর সময়ের দহন।
দেয়ালে সাঁটানো ছবিটা- স্থির, ম্লান;
মায়ায় জড়ানো ইতিহাসের সাক্ষী।
নীরব রাত্রির অশ্রুত অন্ধকারে
ছায়ার মত কেবলই খুঁজে ফেরা
ক্ষয়ে যাওয়া অতীতের একমুঠো জোছনা প্রহর,
রূপালি কঙ্কণ পড়া বিহঙ্গী, কলকল হাসির ঝংকার;
তারপর, সীমাহীন অন্ধকারে মিশে যেতে যেতে
বিলীন হয়ে যাওয়া আবার, রাত্রির মাঝে।
বিষাদের সব ঘোর লাগা কালরাত্রিতে-
নিস্তব্ধতা গ্রাস করে নেয় ভেতর-বাহির,
অস্থিরতার চাদর মুড়ি দিয়ে কেটে যায় সময়,
স্মৃতির চোখের নদীটাও জলশূন্য বেলাভূমি;
নির্বাসন শেষে বুকে বাজে-কান্নার রাত।
শ্রাবণের সন্ধ্যা...
শ্রাবণের ঘোলাটে মেঘের বিকেলে, সরু পাকা পথ ধরে হেঁটে এসেছি বহুদূর। তেজহীন মৃদু আলোর বিষণ্ণ বিকেল, বরষার আহাজারি, মেঘদলের অন্তহীন ছুটে চলা, প্রেমাসক্ত হৃদয়ে ক্ষরণ, চঞ্চল হওয়ার উন্মাদ ছুটে চলা সবই প্রাণ ছুয়ে গেছে। দেখেছি– সীমানা ছেড়ে আসা গরুর পাল, ভেজা বাতাসে কাকের স্বর, সীমান্তহীন আকাশের অকারণ গর্জন, সন্ধ্যার আধারের স্বচ্ছ আচ্ছাদন। ভেজা কাপড়ে পথিক চলেছে উওর দক্ষিণ বরাবর। এখানে জীবনের স্থবিরতা আছে, তবু মিলে চাঞ্চল্যের দৃশ্য। দূরের বিলে জাল ঠেলে যাচ্ছে কেউ, কেউ ছুটছে গরু নিয়ে, রিক্সা চলছে দুই একটা, আকাশ মিলে যাওয়া দূরের গ্রাম থেকে আসছে আযানের ধ্বণি। আমি তবু হেঁটে চলেছি নিরুদ্দেশ পথে, অকারণে। দিনান্তে ঘরে ফেরা পথিক, সাদা আকাশে ডানা মেলা বলাকা, আপন দ্রুতিতে ছুটে চলা রেল, পাটের আঁশ ছাড়ানো বৃদ্ধ কেউ ভ্রুক্ষেপ করছে না আমায়। দিন দিন ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে মন, আজকের দিনকে অর্ভ্যথনা জানাতে ইচ্ছা হয় না, কৌ
সন্ধ্যাবাতি জ্বলছে কোথাও টিমটিমে
১.
''আমাদের সময় আসবে একদিন
এবং আমরা পাবো সবকিছু...''
শোনার ফাঁকে ফাঁকে এরফুর্টের রংধনু শিশুনিকেতনের মেঝে ফিনাইল মেশানো পানি দিয়ে পরিস্কার করতে করতে ভাবি- গানটা গাওয়ার সময় এমি কি সত্যিই বিশ্বাস থেকে গাইছিল, নাকি শুধুই দায়িত্ব পালন করছিল? যদি দায়িত্ব পালনেও সীমিত থেকে থাকে, তাও সে সেটা এত ভালভাবে পালন করেছে যে, ভক্তদের সামনে একটা চিরকেলে চূড়ান্ত মাত্রার দ্বিধান্বিত পথ ছাড়া আর কিছু খোলা থাকতে পারে নি। সবকিছুকে বন্ধ হয়ে যেতে হয়েছে প্রবলভাবে।
ময়না কাহিনী
ছোট বোনের নাম সুলতানা শিপলু। তার এক বান্ধবীর নাম মিতু। ক্ষাণিকটা 'স্থুল' স্বাস্থ্যের অধিকারীনি বলে তাকে ছাত্রজীবন থেকেই 'পরোটা' ডাকা হয়। আরে না, আমি না। ডাকে আমার ছোট বোন আর তার অন্য বান্ধবীরা। সম্প্রতি ছোট বোনের বাচ্চা হবার পরে হাসপাতালে সেই 'পরোটা'র সাথে দেখা হয়েছে। তিনি এখন আর পরোটা নাই। মাশাল্লাহ দেখতে তিনি 'পাঁচ পয়সা'র মতন। বাংলাদেশে একসময় পাঁচ পয়সার মুদ্রা ছিলো, যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারছেন আশা করি। আর যারা দেখেননি, তাদের জন্য বলি, পরোটা আপা এখন আক্ষরিক অর্থেই চারকোনা। নায়িকা মৌসুমি, শাবনুরের মতন। তো, আজকের লেখার ক্যারেকটার কিন্তু পরোটা আপা না। তার খালাতো বোন ময়না।
কখ
জ্ঞুলশান হত্যাযজ্ঞের বিহ্বলতা আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারি নি। গত দশকের বাঁশখালী ঘটনা যখন ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো কিংবা ৩ বছর আগে বিহারী ক্যাম্পের অন্তত ৪টি ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে ৬-৭ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, ঘটনাগুলোর বীভৎসতা আমাদের ভেতরে ততটা দাগ কাটতে পারে নি। বাঁশখালীর ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারটি সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো এবং বিহারী ক্যাম্পের ঘটনায় আক্রান্ত মানুষগুলো মোটা দাগে ঘৃনিত উর্দুভাষী বাংলাদেশী বলেই সম্ভবত জিঘাংসা এত মর্মান্তিক হয়ে বাজে নি।
সেবা প্রকাশনীর রূপান্তর/অনুবাদ কড়চা
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বাড়িতে আর কিছু দেখি আর না দেখি, সব সময়ই অল্প-বিস্তর বই দেখে এসেছি। তাই পড়া কম হলেও বইয়ের প্রতি আলাদা একটা টান আছে। বইয়ের জন্য ভালোবাসার সিংহভাগের দখল নিয়ে আছে প্রজাপতির মনোগ্রামওয়ালা একটা প্রকাশনী। প্রজাপতির কথা বলার সাথে সাথেই নিশ্চয়ই সবাই বুঝে ফেলেছেন সেবা প্রকাশনীর কথা বলেছি। সেবার প্রতি এই গাঢ় ভালোবাসার কারণ হচ্ছে, হাফপ্যান্ট ছেড়ে প্যান্ট পরতে শুরু করেছি সেবার বই পড়তে পড়তে, স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে ভার্সিটি ধরেছি সেবার বই পড়তে পড়তে। তাই সেবার জন্য কলিজায় আলাদা একটা টান বরাদ্দ থাকেই। এজন্য প্রিয় এই প্রকাশনীর দিকে যখন দেখি কেউ অহেতুক আঙুল তোলে, তখন কষ্ট লাগে।
কবিতা: মাঝির বিভ্রম কিংবা জোনাকি
অন্ধকারের ভেতর থেকে সুধার মতো উঠে আসা আলোর ঝলকানি
রাংতা মোড়ানো উপহারের বাক্সে সাজানো নতুন জীবন হাতে নিয়ে,
খুঁজে বের করে নীল দরিয়ায় লুকিয়ে থাকা এক অশরীরি মাঝিরে,
ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে আবার, এই পুরোনো গোলক-সংসারে।
কারা যেন সে সময় ফিস ফিস করে বলে- মাঝি শোনো,
যে জীবন আলনায় বহুকাল ঝুলে ছিল জমানো
নতুন শাড়িটার মতো, পড়া হবে কোনো এক নবান্ন-সন্ধ্যায়
দেখা হবে দু'জনের, হাসি ছড়িয়ে পড়বে তারায় তারায়,
সে জীবন ঝরে গেছে; গোলাপের কুঁড়ি যেভাবে
শুকিয়ে যায় যত্নের অভাবে।
আজও কি জেনেছো মাঝি এ জীবন বিভ্রম না জোনাকি?
সাগরের হাতছানি আবার দাঁড়িয়েছে ধরে ভাঙা দুয়ার
সজনের ডালে ধরেছে শাদা রঙয়ের বাহার, আর তুমি কি
ঠিক-ঠাক জানো ওদের সাথে সময় কাটাতে পারে মন এখনও?
নাকি মাঝি তুমি ভুলে গেছো?
তোমার হয় না, হয় নি কখনো।
---
তানবীরা আপু, জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিন!
শিরোনামটা কি দিবো ভাবছিলাম, বেশীর ভাগ এক্সপেক্টেড শিরোনাম দিয়ে আগেই পোষ্ট লিখে ফেলেছি। গুগলে ক্লিক করলেই ভেসে উঠে আমার আগের লেখা। দিন তো খালি চলেই যাচ্ছে। চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে সময়গুলো। সেদিন ২০১৬ শুরু হলো। এখন চলে জুলাই, নিমিষেই আসবে সেপ্টেম্বর অক্টোবর, ব্যস বছর শেষ। অঞ্জন দত্ত তাই আগেই হুশিয়ার করে গেছেন, কিছুই তো হলো না বাজানো গেল না সময়। সেই আমাদের কিছুই হলো না, এই দেশটার অবস্থাও দিন দিন জঘন্য। জীবনে ভাবি নাই, ঈদের দিন সকাল বেলা, শোলাকিয়াতে মানুষ মরবে, জংগীদের উন্মত্ত আক্রমণে। ঈদ এমনিতেই আমার বোরিং কাটে, এবারের ঈদ গেল অবষাদ আর বিষণ্ণতায়। আমাদের জন্যেও অঞ্জন দত্তের গান আছে, কত কি করার ছিল যে। আসলেই আমরা কিছুই করি নাই, তাই তিলে তিলে এই দশা, এই পরিনতি। তবুও দিন চলে যায়, ঘটনা দুর্ঘটনায়। এসে পড়লো দিন, তানবীরা আপুর জন্মদিন। আমার প্রিয় সিস্টার কাম বন্ধুর এত খুশীর দিনে একটা ব্লগ
নিজেদেরকে স্তব্ধ হয়ে যেতে দেয়ার ক্ষমতা আছে কেবল আমাদেরই
পথভ্রষ্ট কিছু মানুষ আর ভ্রান্ত কিছু ধারণা মানুষের পর মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। গুলশান ট্র্যাজেডীর রেশ কাটতে না কাটতেই শোলাকিয়ায় হামলা হলো। প্রতিটি ঘটনায় এমন সব মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যারা শেষ মুহূর্তের আগ পর্যন্তও জানতো না, সময় শেষ হয়ে এসেছে।
সন্ত্রাসবাদ এখন পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি। সমস্যার কারণ হিসেবে কতজন, কতোই না সমীকরণ দেখাচ্ছে। আমি শুধু দেখতে পাচ্ছি সমীকরণের আড়ালে চাপা পড়ে থাকছে মানুষের মরদেহ। নির্মমভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হওয়ার হতাশার ছাপ স্থায়ীভাবে পড়ে যাওয়া মুখের মরদেহ। তাদের স্বজনদের বিহ্বল দৃষ্টি। অসহায়ের মতো নিজের জন্মদাত্রীকেকে মরে যেতে দেখা সেই যুবক কি তার চোখ দিয়ে পৃথিবীর কোনো রং আর কখনও দেখতে পাবে? আর কি কখনও তার পক্ষে মন খুলে হাসা সম্ভব হবে? আর কি কখনও সে পারবে ভালবেসে কারও জন্য হৃদয়ের আগল খুলে দিতে?