ভাস্কর'এর ব্লগ
ভালো লাগার-ভালোবাসার টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ...
বেশ কয়েক মাস আগে রায়হান ভাইয়ের সাথে কথার পিঠে কথা চড়াইতে চড়াইতে আমি বলছিলাম বাংলাদেশের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা হইলে আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাপোর্ট করুম। তুলনামূলকভাবে যূক্তিপ্রবণ মানুষ হওয়াতে রায়হান ভাই আমার সেই সিদ্ধান্ত নিয়া মারাত্মক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান নাই। কিন্তু আমি যা কইছিলাম তাতে সত্যতা ছিলো। বাচ্চাকালে আমি যেই স্কুলে পড়ছি সেই স্কুলের গেইম টিচার ছিলেন একজন জাতীয় ক্রিকেটার, সেই টিচার আজম স্যারের কল্যাণে আমার ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরী হইছিলো ৭/৮ বছর বয়সেই। আর সেই আগ্রহ তৈরী হওয়ার সময়টাতে যেই বিশ্বকাপটা মনোযোগ দিয়া অনুসরণ করি, সেই ৭৯'তে দ্বিতীয়বারের মতোন চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেই দলের নেতৃত্ব তখন ক্লাইভ লয়েডের হাতে, বোলার জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং, এন্ডি রবার্টস আর কলিন ক্রফ্ট। গ্রীনিজ-লয়েড-কলিন কিং আর ভিভিয়ান কিং রিচার্ডস যেই দলের ব্যাটিং তান্ডব চালায়। তারে বাদ দিয়া অন্য
প্রতিশোধের রাজনীতি: প্রেক্ষিত ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের অপসারণ
২০০৬ সালে যখন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস নোবেল প্রাইজ পাইলেন তার স্বপ্নের গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে, তখন সারাবিশ্বের বাঙালিরা দুই অংশে বিভক্ত হইয়া পড়ছিলো। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তি আসলেই যথার্থ হইছে কি না এই ছিলো বিতর্কের বিষয়। যারা বিরুদ্ধে ছিলো তাগো বক্তব্য ছিলো গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নয়ণ প্রচেষ্টা একটা ব্যবসা ছাড়া আর কিছু না। এই প্রক্রিয়ায় অমানবিকতা আছে, এর মাধ্যমে যতোটা না দারিদ্র বিমোচন হইছে তার চাইতে বেশি বাড়ছে ঋণ নির্ভরশীলতা। আর যারা পক্ষে ছিলো তারা কইতেছিলো ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের ফিলানথ্রোপিতে দেশে অনাহার আর দারিদ্র নিয়ন্ত্রণে আসছে, দেশের সম্মান বাড়ছে প্রবাসে, বিদেশীরা এতোকাল বাঙালিরে চিনতো বন্যা-জলোচ্ছ্বাস-দারিদ্র দিয়া, ইউনুস সাহেবের মাধ্যমে এই দেশের একটা নতুন পরিচয় খাড়া হইলো।
ডাইরী ১১৮
.................................................................................................
এক.
পায়ে পায়ে ঘুরতে ঘুরতে আমার কখনো নিজেকে কুকুর আবার কখনো একপাটি স্যান্ডাল মনে হয়। যখন মানুষ প্রাণভয়ে ভীত হয়ে দৌড়ে পালাবার কথা ভাবে তখন সবার আগে সে ছুড়ে ফেলে দেয় পুরনো জুতার পাটি। অহেতুক সেই জুতার মতোন আমি এদিক ওদিক হয়ে পড়ে থাকি পথে। প্রত্যাশায় থাকি পায়ের...প্রত্যাশিত পায়েরা শোনেনা আর্তনাদ।
তবু আমি পায়ে পায়ে ঘুরে জানান দিয়েছি, রয়েছি তোমার পায়ের কাছে...সুযোগ পেলেই নুপুরের মতো আকড়ে থাকার ইচ্ছা...
দুই.
শৈশবে কুকুরে ভয় ছিলো। হিংস্রতায় নয়। বরং কুকুর বড্ড ন্যাওটা। এখন নিজেই আমি সেই কুকুরের মতোন অবসেসিভ থাকি প্রভূর নাগাল পাওয়ার প্রত্যাশায়। জানি প্রভূ আর আমারে রাখেনি এমনকি তার স্মৃতির মনি কোঠায়...তবু।
তিন.
কারখানা...(নয়)
ভডকায় সিপ দিতে দিতে ফোন বেজে উঠে। এমন সময়গুলোতে সাদ সাধারণতঃ কল রিসিভ করে না। কিন্তু কি মনে করে আন নোওন নাম্বারটাও সে ধরে ফেলে।
: হ্যালো! সাদ...
: হ্যা বলছি...
: সাদ আমি তোমার রমিলা ফুফু...বাবা একটা খবর দিতে তোমারে ফোন করলাম। আজকে সকালে তোমার এহতেশাম দাদু মারা গেছেন।
সাদ ঠিক ভেবে উঠতে পারে না এমন একটা খবর প্রাপ্তির পর তার কি প্রতিক্রিয়া থাকা দরকার। কিন্তু তার কেমন অস্থির লাগতে শুরু করে। সাদ কেমন নিষ্পৃহ টোনে বলে,
: আচ্ছা...
: তুমি ভালো আছো বাবা?
: হ্যা ফুফু...আপনাদের ওদিকে অনেকদিন যাওয়া হয় না।
: হ্যা বাবা, তুমি ব্যস্ত থাকো শুনছি তোমার মা’র কাছে...
গতোকালকের খেলা আর আবারো মাশরাফি প্রসঙ্গ...
গতোকাল বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ার খেলা দেইখা বাঙালির প্রতিক্রিয়া দেইখা বেশ ভালো বোধ করতেছি। দল হাইরা যাওনের পরেও সম্ভাবনার আলোকবিন্দু ধরা পড়তেছে সবার চোখে বিষয়টা বেশ আশাব্যঞ্জক লাগে আমার কাছে। মনে হয় একটা দলের এমন মানসিকতারই প্রয়োজন কোনো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় টিকা থাকতে। আম বাংলাদেশীগো মতোন বাংলাদেশের খেলোয়ারগো মাঝেও যদি এই অনুভবের বিস্তার ঘটে তাইলে সামনেই সুখ সংবাদ অপেক্ষা করতেছে বাংলাদেশীদের জন্য।
মাশরাফি বিষয়ে আরো কিছু উপলব্ধি...
মাশরাফিরে জাতীয় দল থেইকা বাদ দেওনের পর আমি একটা পোস্ট দিছিলাম। নো মাশরাফি নো ক্রিকেট শিরোনামের সেই পোস্টের পর নদীর জল বহুঘাট ঘুরছে, পৌষের কনকনা শীত শেষে আজ বসন্ত সমীরনে মন উচাটন, মৌসুমী পাখিরা আবার উড়াল দিছে নতুন ঠিকানায়। কিন্তু মাশরাফি আর দলে অন্তর্ভূক্ত হয় নাই। সেই পোস্টের পর মাশরাফি তার শল্য চিকিৎসক বন্ধু ডাক্তার ইয়াংয়ের কাছ থেইকা ছাড়পত্র পাইয়াও লীগের একটা মাত্র ম্যাচ খেলনের পার্মিশন পাইছে। সেই ম্যাচে তার বোলিং দেইখা আমাগো সংগঠকগো মুখ হা হইছে, নির্বাচকরা কইছে ছেলেটা নিজের সর্বনাশ করতেছে।
ছবি ব্লগ: হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা...
বুড়া বয়সেই ছবি তোলার শখটা মাথায় চাপলো। যখন তারুণ্যে উদ্দাম ছিলাম, তখন ক্যামেরা কিননের সামর্থ্য ছিলো না...তখন ছবি নিয়া নানারকম এক্সপেরিমেন্টাল আগ্রহ কাজ করতো। তখন এলোমেলো হাটতাম-ঘুরতাম। এর ফাকে ফাকে খালি চোখে অবলোকন করতাম লাখো ছবির ফ্রেইম। মধ্যবয়স পার কইরা এখন আর আগের মতোন উদ্দেশ্যহীন থাকতে পারি না। কোথাও ঘুরতে যাওনের লেইগা পরিকল্পণা লাগে। পরিকল্পণার পারফেকশনের ভক্তও হইয়া উঠি মাঝে সাঝে।
গতোমাসের শেষ দিনে পেশাগত কাজে ঢাকার পাশেই মানিকগঞ্জের ত্বরা গ্রামে গেছিলাম। সাধারণতঃ কাজের সময় আমার কেনো জানি ছবি তুলতে শখ হয় না। তয় ঐদিন এক তরুণ বন্ধু আমার সাথে যাইবো বইলা গো ধরলো। সে উঠতি ফটোগ্রাফার। অকুস্থলে পৌছাইয়া তারে ক্যামেরা বাইর করতে দেইখা আমিও ভাব ধইরা কয়টা ছবি তুললাম। মনে হইলো ছবিগুলি ব্লগে শেয়ার করা যায়...
ডাইরী ১১৭
১.
দূরত্ব আসলে কিছু নয়। দূরত্ব আসলে ছদ্মবেশ-অযূহাত। সূর্যের থেকে বহুদূরে থেকেও পুড়েছি অহর্নিশ। আবার তোমার পাশে থেকেও পেয়েছি টের শীতলতা। দূরত্ব কেবল পারে স্মৃতির পসরা সাজাতে-গোছাতে। দূরত্বের মানে তবে স্মৃতির ফ্যাক্টরী...
২.
দূরত্ব ঘোচাতে আমি যতো এগিয়েছি, গন্তব্য ততোই সরেছে সুদূর। আমি একবার মরিচীকা ভেবে এগোতে এগোতে পৌছে গিয়েছিলাম পরীরাজ্যে...ফুল-পাখি-প্রাণীজেরা সেথা মিলেমিশে থাকে। আমি জল ঢালি বৃক্ষের শেকড়ে। বৃক্ষের সাথে আমার দূরত্ব ঘোচে। আমি পরশের ছোয়া দিলে তড়তড়িয়ে বেড়েছে লতা...একদিন গাছ বেয়ে আমি পৌছবো স্মৃতির কাছাকাছি, এমত আশার হাসাহাসি চলে...
৩.
আমার থেকে তুমি
কারখানা...(আট)
অপ্রত্যাশিতভাবেই সাদ বেশ স্বাভাবিক পেইসেই প্রেজেন্টেশন শেষ করে। সবাই বেশ খুশি-সুখী চেহারা নিয়ে বেরিয়ে যখন প্ল্যান করছিলো ওয়েস্টিনে লাঞ্চের জন্য সাদ তখন ছুটি চাওয়ায় বিষয়টা সবার কাছেই আন ইউজ্যুয়াল লাগে। কিন্তু কারো কথায় কান না দিয়ে সে নিজের গাড়িতে উঠে সাই করে বেরিয়ে যায়। যদিও সে নিজেও জানে না তার প্ল্যানটা কি, বাকী দিনটায় সে কি করবে কিংবা আদৌ আজ সে ছুটি কাটাবে কিনা...কিন্তু সাদের মনে হয় আজ তার অস্থিরতার দিন। সে মনে করতে পারে না তার জীবনে ২৫ সেপ্টেম্বরের কোনো মর্তবা রয়েছে কিনা, অথচ তার মনে খচ খচ করতে থাকে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, আজ তার জীবনে কিছু একটা ঘটেছিলো। কিন্তু ঘটনাটা সে কোনো কারনে ভুলে গিয়েছে। এই ভুলে যাওয়াটা অপরাধ। অপরাধের কথা মাথায় আসতে আবার তার নিরুপমার কথা মনে পড়ে। নিরুপমা নিষ্পাপ চেহারার আপটাউন মেয়ে। যে হয়তো রেসপন্সিবলিটির সংজ্ঞা শিখেনি কখনো। জল গড়িয়ে খাওয়ার জন্যও হয়তো তার বাবার বাড়িতে
একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মেইল শভিনিস্ট গল্প...
১৯৭১, ২১ জুন, দিবাগত রাত্র।
কাটা গ্রিলের ফাক দিয়ে ঘরে ঢুকতে গিয়ে ফজলু চোরের মনে পড়ে তার বয়স প্রায় ৪৫ ছাড়িয়েছে। আর সে কারনেই আগের মতোন বাউলি কেটে কোনো রকম শব্দ না করে, গায়ে কোনো আচর না ফেলে ঘরে ঢোকাটা আর সম্ভব হয় না তার পক্ষে। যদিও এসব দক্ষতার কোনো প্রয়োজনই নেই আজকের কাজটা শেষ করার জন্য। সে বেশ ভালোমতোই খবর নিয়েই বেরিয়েছে। গ্রিল না কেটে যদি দরোজার তালা ভেঙেও সে ঢুকতো তাহলেও প্রতিরোধের সম্মুখিন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিলো না। কিন্তু পেশাদারী সততা বজায় রাখতেই ফজলু সময়টা বেছে নিয়েছে সেই আগের মতোন মধ্যরাত, দরোজা ভেঙে না ঢুকে জানালার সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকার বিষয়টা তার কাছে বেশি পছন্দ হয়েছে।
কারখানা...(সাত)
ঘরে ঢুকতেই সাদ দেখে রুনা কিচেনে ঢুকছে। সে টিপটো করে কিচেনের দিকে গেলে দেখে রুনা তার প্রিয় চিঙড়ি ভুনা করছে নারিকেল দিয়ে। সাদ রুনার ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়, পেছন ফিরে তাকায় আলভী। ওকে রুনার টিশার্ট আর ট্রাউজারে কেমন উদ্ভট দেখাচ্ছে। আলভী রান্নাঘরে সাদের পছন্দের ডিশ রান্না করছে বিষয়টা কেমন অস্বস্তিকর লাগে সাদের কাছে। আলভীও কেমন অপ্রকৃতিস্থের মতোন হেসে হাত বাড়িয়ে দেয় তার দিকে। সাদ হাত ধরতে গিয়ে দেখে হাত কই! এতো পাখির পালক। আলভী কিম্বা রুনা, রুনা কিম্বা আলভী পালক ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে যায় কিচেন থেকে। সাদও তার পেছনে ছুটে যায়...ব্যালকনিতে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় নিরুপমা, সাদের দিকে তাকিয়ে বিভৎস স্বরে আঙুল তুলে বাচ্চাদের মতোন লাফিয়ে লাফিয়ে বলতে থাকে,
: তুমি খুনী, তুমি খুনী...হা হা হা!
কারখানা...(ছয়)
উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে লুকোছাপা কেমন? কতোজন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুবরণকারীর পোস্টমর্টেম হয় এই বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখতে হবে। থ্যালামিয়ার প্রতিক্রিয়া নাকি তিনদিন পরেও দেখা দিতে পারে। এই তিনদিন যদি শরীর খারাপের বাহানা থাকে তবুও কি বিষয়টা নিয়ে নাড়াচাড়া হবে খুব বেশিদূর? সাদ একটু এলোমেলো হয়ে যায়। তার মনে হয় নিরুপমার মৃত্যু যদি নিজ চোখে না দেখে তাহলে তার কি খুব ভালো লাগবে? নিরুপমা তার সামনেই ভেসে যাচ্ছে রক্তের স্রোতে, উপড়ানো চোখে কেবল একজন পরাজিত রমনীর করুণামাখা দৃষ্টি এমন নাহলে কি তার মৃত্যুর কোন অর্থ তৈরী হবে সাদের বিক্ষুব্ধ হৃদয়ে?
কারখানা...(পাঁচ)
বারিস্তার কাঁচ ঘেরা লাউঞ্জে বসে সাদ অপেক্ষা করে নিরুপমার জন্য। তখন সন্ধ্যা প্রায় সমাগত। ক্যাফে’তে লোকজনের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি ঝরছে। সাদ কাঁচের দেয়ালে চোখ রেখে জলের গড়িয়ে পড়া দেখে। গ্রাফিতি’র উপর দিয়ে গেলে জলেরা যেনো অন্যরকম মুখোশ পরে। সাদ অপেক্ষা করে। তার পকেটে হোমিওপ্যাথির শিশি বোতলে ১৫০ গ্রাম থ্যালামিয়া লিকুইড। স্বাদ আর গন্ধহীন থ্যালামিয়া মানুষের রক্তের সাথে মিশে যেতে খানিকটা সময় নেয়। তাই সাথে সাথে অচেতন হওয়ার ঝুঁকিটা নেই। ধীরে ধীরে হয়তো শরীর বিবমিষা বোধ করবে, মাথা ঘুরবে, খাবারে অনীহা দেখা দেবে। তারপর সেই একই প্রতিক্রিয়া, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। মৃত্যু ঘটবে হঠাৎ করেই।
কারখানা...(চার)
বাড়ি ফেরার পথে একটা জটলা দেখে গাড়ি থামায় সাদ। গাড়িটা একটু সামনে নিয়ে পার্ক করে, টিপসি ফিলিঙের শরীর নিয়ে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে গিয়ে দেখে অনেক লোকের ভীড়ের মাঝে একজন লোক প্রায় হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদছে। তার মাথা তাৎক্ষণিক ভাবে কাজ করে না। একজনের কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে,
: কি হইছে ভাই?
: আর কইয়েন না এই লোকের মাইয়ার বিয়া সামনের রবিবার। মাইয়ার বয়স হইছে বিশের মতোন। পোলায় করে ব্যবসা। পোলার বাপে যৌতুক চাইছে ৩ লাখ টাকা নগদ আর একটা সোনার চেইন। তো সে এই টাকা যোগাড় করতে রক্তপানি কইরা গতো কয়দিন ধইরা এই দিক ঐদিকে দৌড়াইছে। এখনো পুরা টাকাটা কালেক্ট করবার পারে নাই। তো আইজকা রাইতে কোত্থেইকা হাজার দশেক টাকা আনছিলো।
এদ্দূর বলে সে খেয়াল করে সাদের মনোযোগ কতোটা রয়েছে কাহিনী শোনায়। তারপর আবার শুরু করে...
কারখানা...(তিন)
বিয়েশাদি করে তিন বাচ্চার বাবা হওয়ার পরেও আলভী একটুও পাল্টায় নি। সেই আগের মতোন ঝুটি বেধে ঘোরাঘুরি করে। চল্লিশ বছর বয়স কিন্তু তার রঙ পসন্দ এখনো সেই এলভিস প্রিসলি, গান পসন্দ লেড জেপলিন। একমাস আগে তার জন্মদিনের পার্টিতে বেলুন ফুলিয়ে ঘর সাজানোর বাহানা দেখে জাহিদ টিপ্পনি কেটে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই রাইট হ্যান্ড আপারকাটে নক আউট। কিচ্ছু আসে যায় না আলভীর, জাহিদকে টেনে তুলে ডেটলে ভেজানো তুলোয় রক্ত মুছে এমন ভাব করলো যেনো কিছু হয় নি। কিন্তু এরপর থেকে জাহিদ আড্ডায় আসেনি একবারো। কিন্তু শুক্রবার জুম’আর জামাত শেষ হলেই আলভী সবাইকে ফোন করতে শুরু করে। জাহিদও নিশ্চিত বাদ যায় না। সাদ জানে না জাহিদের সাথে আলভীর কি কথা হয়, কিন্তু নিশ্চিত করে ভাবতে পারে জাহিদের অপমানিত হওয়ার বোধটা আলভী হয়তো বুঝতেই পারেনি। সে একাই যেনো রয়ে গেছে সেই আঠারোর উত্তেজনায় আর বাকীরা চল্লিশ পেরিয়ে খোড়াতে শুরু করেছে বার্ধক্যের পানে।