ভাস্কর'এর ব্লগ
দিননামা...
আজকে বাসায় ফেরার সময় পরিচয় ঘটলো লোকটার সাথে। জগদ্দুনিয়ার উপর মহা বিলা খাওয়া। বাসের ভাড়া, তেলের দাম, মোহাম্মদপুর-শ্যামলী এলাকার বাসের টিকিট সিস্টেম তুইলা দেওয়া, বড়লোকদের ট্যাক্স ফাকি দেওয়ার অভ্যাস ব্লা ব্লা ব্লা। লোকটার দাবী অনুযায়ী তার বয়স ৬২। যদিও আধো অন্ধকারে তার গলার ত্বকে রিংকেল খুঁজতে অপারগ হইলাম আমি। আলোতে গেলে কিছু দেখা যাইতো হয়তো। তার পরনের ব্লেজারটা শাব্দিক অর্থেই ব্লেজার। পুরানা স্যুটের কোট না পইরা এই বয়সেও তার স্টাইল সচেতনতা ইন্টারেস্টিং; চশমার বাইফোকালবাহী অক্সিডাইজ্ড ফ্রেইমটা হয়তো বাজারের সবচে দামী উদাহরণ নয় কিন্তু রুচিশীলতায় এই বয়সের মানে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২২ বছরের যুবকের জন্য বেশ আইডেন্টিফাইড। শুদ্ধ প্রমিত উচ্চারনের শব্দচয়নে রাজশাহীর হালকা টানটারে আমার চাঁদের কলঙ্কের মতোন লাগলো।
রাত আর নীরবতা
রাত মানে শুনশান নীরবতা।
তবে এই শহর কখনো শিখে নাই
কিভাবে নীরব হতে হয়।
গভীরতার ভেতরে বেজে ওঠে ক্রিং ক্রিং
রিকশা চালকের সতর্কতা,
আলো আর আঁধারীর ব্যর্থ মেমোরান্ডাম।
কেউ একজন চিৎকার করে ওঠে
আজকে চাঁদের আলোয় বড্ড
অসমান চলেছে পৃথিবী।
অভিযোগে অভিযোগে রাত্তিরের নীরবতা-শুনশান নীরবতা
ভেঙে যায় মুহুর্তে মুহুর্তে। রাত গভীর হলেও
আঁধারের সাদাকালো অভ্যন্তরে
রঙীন নাচের মহড়া চলেছে।
কতো শত সেলিব্রিটি
সেই নাচে
আইটেম নাচে।
খুঁজে দেখতে চেয়ে, খুড়ে দেখতে চেয়ে
আমি কেঁচো বের করে ফেলি
অতীতের সকল গহ্বর থেকে।
এই রাতে, নীরবতা ভেঙে ভীষণ আওয়াজে
আমার রাতের ডিসকোর্সে ফাটল ধরেছে,
পিপাসায় জিহ্বা শুকিয়ে কাঠ।
রাতের আঁধারে তুমি এসে জলের গেলাস,
আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত আর্দ্র করে দেবে
তার অপেক্ষায় থাকি...
মুখোশে কি বিষণ্নতা ঢাকে!
শুভ'র কবিতাটা পড়তে পড়তে মনে হইলো এই অনুভূতিগুলি আসলে আজকে ছবির হাটে যারা ছিলো তাদের সবার। তাই এই লেখাটারে রায়েহাত শুভ'র নামেই উৎসর্গ করতেছি। আশা করি একইরকম বিষয়ে কবিতা লেখাটারে কাবিল কর্ম হিসাবে নিবেন না কেউ, এইটা একান্তই ইচ্ছার স্বাধীনতা। মানে লেখাটারে নিজের স্বাধীনতা ধইরা নিয়াই লিখলাম। ...............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
জেন যেভাবে জেন হয়ে উঠে...
......................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
দেখলাম ২০১২ নামলেন আমাদের শ্যামলীতে
শ্যামলী এলাকার যেই প্রান্তে থাকতেছি সেইখানে হৈ-হল্লা চলতেছে। মহল্লার ছেলেরা রাস্তায় মরিচ বাতিতে আগুন দিয়া ছোটাছুটি করতেছে, বেশ শবেবরাত-শবেবরাত আমেজ। তাদের সাথে এলাকার রিকসাওয়ালা-দিনমজুর শ্রেণীর সমবয়সী কিছু তরুণও হাততালি ফাইফরমাসে ব্যস্ত। অ্যালকোহলের শ্লথ ভাবটা টের পাওয়া যায় ছেলেদের দৌড়াদৌড়িতে। বেশ ট্রান্সকালচারাল ব্যাপার-স্যাপার। বারান্দায় দাঁড়াইয়া মানুষের ভেতরকার প্রাণের ছটা দেখি। দূরে অন্য কোনো উৎসবে বাজী ফুটলো বেশ কয়েকটা। পথের জমায়েত বাড়তেছে ধীরে ধীরে। যদিও কোনো নারীর উপস্থিতি নাই সেইখানে। তারা আছে জানালায় আর বারান্দার গ্রীলে। মানুষের উত্তেজনায় ঈর্ষান্বিত হইয়া ঘরে ঢুকি। ধারাবিবরণী লিখতে লিখতে খেয়াল হয় শব্দহীন হইছে চারপাশ। বুঝতে পারি সবার চোখ আর মনযোগ ঘড়ির কাঁটার সাথে টিক টিক। ডিজিটাল ঘড়িতে যেনো বোধি আছে। শব্দহীনতার শব্দ টের পাওয়া যায়।
ব্লগরব্লগর
দারিদ্র অবস্থাটারে আমার বেশ রহস্যময় লাগে। এক্কেবারে শীতের কুয়াশার মতোন। ঘন কুয়াশার দেয়াল ভেদ কইরা মাঝে সাঝেই কিছু দেখা যায় না, এরম সময় মনে হয় কুয়াশার ঐপারে যাওনটা অসম্ভব! কিন্তু বাস্তবতাটাও কিন্তু স্মরণে থাকে...কুয়াশার দেয়াল আসলে দেয়ালই না; এইটারে আস্তরণ বলা যাইতে পারে। যার মধ্যে মায়াবী একরম ব্যাপার আছে। একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মাইনা সে আসলে ঘিরা রাখে মানুষরে.
বিপদসঙ্কুল বর্তমান, বালকবেলার স্মৃতিরে এলোমেলো করে দিয়ে যায়...
১.
সনাতন হতে হতে আমি গণিত ভুলেছি,
প্রকৃতিরে সর্বময় জেনে ভুলেছি অতীত।
তবে জানালায় মৃত্যুর সমন ঝুলতে দেখে
ভবিষ্যত ভাবি; নিয়মের ব্যতিরেকে,
লুকিয়ে লুকিয়ে, নিরাপত্তার সংকেত শিখি।
আমরা যদি রক্ষার নিয়ম শিখে যাই,
তাহলে কী কামে লাগে বলো দারোগা পুলিশ!
২.
গঙ্গীমার গল্প শুনাইছিলো সাদেকালী
চেটানো পাজরে তার মিলেছিলো রূপসী মায়ার
তরুণীরা। লোভ জয় করে সাদেকালী
ফিরে আসে মর্ত্তধামে; সে আবার ফসলের মাঠে যায়
নদী গহ্বরে সে সাহস করে নাই যৌবন বিলাইতে...
যেহেতু দুয়ারে কানতেছিলো সুর্য্য বানু।
বালকের স্মৃতিগুলি পুরাতন হলে,
দেখে নদীর বিদীর্ণ জলে ভাসে
ক্ষমতা অথবা অক্ষমের বিকীর্ণ ধরেরা
করোটির ভারে ডুবে গেছে মস্তিষ্ক, নয়ন
আর স্মৃতি। স্বপ্নে তার সাদেকালী হাসে...
"কইছিলাম না গঙ্গীমা টোপ ফালায়
কলিজার লোভে..."
৩.
যদি জিগাও, "গন্তব্য কতোদূর?"
আমিও লজ্জিত হবো সাদেকালীর মতোন
টিলো এক্সপ্রেস
.................................................
প্রেমের কবিতা
আমি ভালোবেসে শিশির নিরব পলিমাঠে
আয়েশে তোমার চুলে ছুঁয়ে ছুঁয়ে এই শীতঋতু
কাটিয়ে দিয়েছি।
চোখ নেই, নেই বুদ্ধিবৃত্তি
কেবল ঘ্রাণেরা রয়েছে অটুট আর
স্মৃতির কোষেরা ভরে যায়
নির্ঘ্রাণ অথবা নির্বেদ সংলাপে।
কখনোই পাশে থাকি নাই
আমি...আমি যেনো তোমাতেই থাকি।
গুম হয়ে যাক যতো ক্ষমতার লেহ্যপেয়ীরা
আমার ঠিকানা লেখা থাকে
নৈঃশব্দের ঘরে ঘরে, শব্দে
আরো শব্দে...চতুর্মাত্রা মেনে।
ধীরে ধীরে আমার পৃথিবী
আকার পেয়েছে।
আয়তক্ষেত্রের অবয়বে, পাঁচ
ফিট বাই সাত ফিট...
চিরায়ত ইংরেজ নিয়ম মেনে মেনে।
আমি স্থিতু হয়ে পড়ে রয়েছি তোমার বিছানায়
একান্তই অর্থনীতি বুঝে...কেবল শিশির হতে
শিখে গেছি বলে।
শিখে গেছি কিভাবে ঘ্রাণ নিতে হয়,
কিভাবে জড়িয়ে থাকা যায় চুলের সকল বাঁকে
বিলি কেটে কেটে;
কিভাবে কাটিয়ে দেয়া যায়
একটা জীবন...
বাকীটা জীবন।
বিজয়ের মাসে ভারতের প্রাণে আমরা ফুল চন্দন ছিটাতে চাই...
সঠিক উত্তরের ঘরে টিক চিহ্ন প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১ ।
কোন পণ্যটি জনগণের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশেই উৎপাদিত হয়:
ক) চাল।
খ) ডাল।
গ) রসুন।
ঘ) সিনেমা।
প্রশ্ন ২ ।
কোন শিল্পখাতে কোনো ধরনের উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেয়া হয়:
ক) টেলিযোগাযোগ।
খ) আইসিটি।
গ) গার্মেন্ট।
ঘ) চলচ্চিত্র।
প্রশ্ন ৩ ।
জনগণের কাছে সবচেয়ে সহজে যেকোনো ধরনের বক্তব্য পৌছে দিতে কোন মাধ্যমটি অধিক কার্যকর:
ক) এসএমএস।
খ) দৈনিক পত্রিকা।
গ) এফ এম রেডিও।
ঘ) চলচ্চিত্র।
প্রশ্ন ৪ ।
অবকাঠামোগত এবং প্রশিক্ষণ খাতে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত খাত কোনটি:
ক) মন্ত্রণালয়।
খ) সঙ্গীত।
গ) চিত্রকলা।
ঘ) চলচ্চিত্র।
একজন ধনী মানুষের গল্প
হা জিন। চাইনিজ আমেরিকান গল্প লেখক। সমকালীন মার্কিন সাহিত্যে তার নামডাক আছে। বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। জন্ম ১৯৫৩ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লব চলতে থাকা চীনের লিয়াওনিং শহরে। তিয়েনয়ানমেন স্কয়ারে বিদ্রোহের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। ঐ সময়েই চীন থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বর্তমানে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক তিনি। অনুবাদিত গল্পটা তার আন্ডার দ্যা রেড ফ্ল্যাগ বই থেকে নেয়া হয়েছে।
একজন ধনী মানুষের গল্প
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (২)
স্কুল পাশ দিয়া যখন শাহবাগের সিলভানা, পিজি'র পেছনের বটতলার বেদীমূল আর আজিজ মার্কেটের পাঠক সমাবেশের পেছনের সিড়ির উপর বইসা গাঞ্জা টানা শিখি, সেইসময় গ্যোটে কালচারাল সেন্টারে যাওয়াটাও নিয়মিত হয়। সেইকালে সিনেমাকেন্দ্রীক সংগঠনের জয়জয়কার। চলচ্চিত্রম, ঋত্বিক, সত্যজিৎ, রেইনবো, জহির রায়হান বিভিন্ন নামের চলচ্চিত্র সংসদ তখন ভীষণ রকম অ্যাকটিভ। ঢাকা শহরের বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে তখন ইউরোপিয়ান চলচ্চিত্র দেখতাম তখন। তবে সিনেমা দেখার অভ্যাস তৈরী হইছিলো বিটিভি থেইকা। ম্যুভি অফ দ্য উইকে ঐ আমলে হলিউডের সব নামকরা সিনেমাই দেখাইতো মাঝে মাঝে উপরি পাওনা হইতো কালজয়ী ইউরোপিয়ান ক্লাসিক। বিটিভি'র সিনেমা বাছাইয়ে যদিও জনপ্রিয়তা একটা মাপকাঠি আছিলো। কিন্তু চলচ্চিত্র সংসদগুলির মাপকাঠি ছিলো বিকল্প ধারা। আমলটাই ছিলো এমন যে তখন ঢাকা শহরের সিনেমা হলগুলিতেও মেগাহিট ছবি গুলি নিয়া আসতো। পরিবারসহ সেইসব সিনেমা দেখতে যাইতো মধ্যবিত্তরা।
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা
কর্মজীবী বাপ-মা পোলাপাইনের যত্নআত্তির কথা মাথায় রাইখা নানিবাড়ির ৫০ গজের মধ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়া থাকতো। আমাগো সেই ভাড়া বাড়িটারে মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখি। একটা ট্রাই সাইকেলে কইরা বিশাল লিভিং রুমের এই পার থেইকা ঐ পার পর্যন্ত ঘুইরা বেরাইতেছি প্রায় চল্লিশের আমি। ওল্ড টাউন কইলেই মানুষের কল্পনায় যেই চিপা রাস্তা, নোংরা ডাস্টবিন আর চওড়া ড্রেনের ছবি ভাইসা উঠে বালক আমি সেইটার লগে খুবেকটা তাল মিলাইবার পারি না। পুরান ঢাকা মানেই চকবাজারের ব্যবসায়িগো রাইতে ঘুমানের জায়গা...এরা সকাল হইলেই ভীড় ঠেইলা বাজারে যায়, সকালে ডাইল-ভাজি পরোটা, দুপুরে তেহারী আর রাইতে কাচ্চি বিরিয়ানি খায়। পুরান ঢাকা মানেই সাদা আদ্দির পাঞ্জাবী আর ভুড়িওয়ালা মানুষের আনাগোনা। যখন এমনসব ছবি আঁকতে দেখি আমার পরিচিত অভিবাসী বন্ধুগো তখন আসলেই তালগোল পাকাই। আমার শৈশবের পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ি নাসির ছিলো, মেডিক্যাল কলেজে পড়া চশমা পরা ভদ্রমামুন ভাই ছিলো,
তিনটা কবিতা...
পলায়ণ পর্ব
ছেলেটা শৈশবে সহজেই লুকিয়েছে
যেখানে-সেখানে
মায়ের আঁচল, চৌকির তলায়।
বালক বেলার সাথে শহরের পরিচয়
হলে; লুকোতে চাইলেই
শহরের আড়ালে চলে যেতো
ডুবন্ত সুর্যের সাথে
চোখেচোখে, গল্পে গল্পে সময় কাটাতে।
কখনোবা পথরেখা আঁকতে আঁকতে
পাল্টে দিতো শহরের পুরনো চেহারা,
শহরটার শরীরে যতো বাঁক, চড়াই-উৎড়াই,
রূপের তিলক...সবটার ঘ্রাণ নিতো
লুকিয়ে লুকিয়ে।
রোমাঞ্চিত, শিহরিত আর
অনিয়মের কৈশোর থিতু হলে
নানা রঙ – নানা ঘ্রাণ – নানা ঘোরে
ঘোরাঘুরি, ঘুড়ির মতোন
বাউলি কাটতে কাটতে
সুযোগ-সন্ধানী।
লুকোবার জন্য বেছে নিলো অরণ্য, পাহাড়,
সাগরের ঢেউ...
তাকে খুঁজতে গেলে
রহস্যের বেড়া এসে পথ আটকাতো।
তবু,
বয়সের সাথে কীযে হোলো!
ছেলেটা চাইলেই নিজেকে অদৃশ্য করে দেয়ার ক্ষমতা
হারিয়েছে, হারিয়েছে হারিয়ে যাবার
সাধ্য, মায়া জনিত বন্ধনে...
সারাজীবন লুকিয়ে থাকা
অন্ধকারের উৎস থেকে তিনি আলোকবার্তা নিয়ে এলেন...
একদিন যা কিছু স্পষ্ট মনে হয়েছিল
সে-সব এখন আর স্থির
নির্ধারিত সত্য নয়;
আলো বেড়ে গেছে; আবছায়া আরো
বেড়ে গেছে;
--- আমাদের বুদ্ধি আজ; জীবননানন্দ দাশ
ভূমিকায় অহমিকা