ভাস্কর'এর ব্লগ
কারখানা...(দুই)
রুনার জন্মদিন ঠিক কয় তারিখে তা নিয়ে গতো তিন বছর ধরেই সাদ কনফিউশনে থাকে। তবে শেষ মুহুর্তে হয়তো ঠিকঠাক তারিখেই কোনো একটা কিছু সে অ্যারেঞ্জ করেছে। কিন্তু জন্মদিনের তিন মাস আগ থেকেই তার মাথায় খেলতে থাকে ১১ মার্চ নাকি ১৩?
নো মাশরাফি, নো ক্রিকেট
(রায়হান ভাইয়ের অনুরোধে আসলে এই পোস্টের অবতারণা করতে হইলো। ৬০ দশকে ভারতের ব্যাটসম্যান মুস্তাক আলীরে ইডেন গার্ডেন টেস্টে দলভূক্ত না করনের পর সারা ভারত জুইড়া বিক্ষোভ শুরু হয়, তখনকার একটা শ্লোগান থেইকা শিরোনামটা ধার করলাম)
তিউনিশিয়া, মন আমুর!
নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করছিলো। নয় বছর সংগ্রাম শেষে খুনি স্বৈরাচার এরশাদররে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করছিলো এই দেশেরই ছাত্র-জনতা। তথ্য দুইটা আজকাল মাঝে সাঝে আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যদি সরকারের সাথে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয় আজকে আমার মনে হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়া পক্ষ-বিপক্ষের তর্ক শুরু হইবো বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে। হরতালে বা অসহযোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতোটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, দেশের শিল্প-কলকারখানা কতোটা হুমকীর সম্মুখিন হইবো সেই বিষয়ে তথ্য উপাত্ত এখন মানুষের মাথায় মাথায় খেলা করে। প্রতিবাদের ভাষা কতোটা সভ্য-ভব্য হওয়ার প্রয়োজন আছে সেই বিষয় নিয়াও বিতর্ক শুরু হওনের সম্ভাবনা তৈরী হয় এমন সব সময়ে।
ফেলানির মৃত্যুর দায় এই রাষ্ট্রের...
আশির দশকের মাঝামাঝি একবার খুব শোরগোল শুরু হইলো; ভারত নাকি বাংলাদেশের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দিতেছে। তখন আমি সম্ভবতঃ ক্লাস সিক্সে পড়ি। আমার মনে হইছিলো মানে কি! এতোদিন কোন বেড়া ছিলো না নাকি!?
জীবনের প্রথম ছবি ব্লগ...
আমার বাবার একটা কমদামী ইয়াশিকা ক্যামেরা ছিলো। তবে তার ছবি তোলার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখি নাই কোনো দিন। আমার মায়ের পর্যন্ত সেই ক্যামেরায় হাত দেওনের পার্মিশন ছিলো না। মাঝে সাঝে সেই ক্যামেরা আলমিরা থেইকা বের করা হইতো বাড়িতে বড় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হইলে। যদ্দূর মনে পড়ে আমার আর ছোট বোনের পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ জন্মদিনে বাবা ক্যামেরা বের কইরা আনলো কিন্তু হাজারো চেষ্টার পরও তাতে কোনো ছবি উঠতেছিলো না। সেই থেইকা কোনো দিন আমাগো বাড়িতে আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলতে দেখি নাই। আর যেই কারনে আমার কিশোর বয়স থেইকা তারুণ্য পর্যন্ত পাসপোর্ট সাইজ ছাড়া ছবিতে আবদ্ধ কোনো স্মৃতি নাই। ঘটনাবহুল জীবনের সেইসব পাসপোর্ট সাইজ ছবি গুলিও সংগ্রহের কোনো আগ্রহ হয় নাই আমার।
ডাইরী ১১৬
১.
ঘরের মেঝেতে পৃথিবীর মানচিত্র দেখতে দেখতে আমি ঘরকুনো হয়ে যাই। পথ গুলো যদি এমন সরল শূন্য হতো তবে আমি পথিক হতাম। শরীরময় যার এমন অনেক বাস্তবতা লেখা তার পাশে গুটিশুটি মেরে বসে থাকতে পারি এক মহাকাল। যতোক্ষণে মানুষ সৌরজগতের আনাচ কানাচ বেয়ে ইকারুসের মতোন গলে পরে সূর্য্যের শরীরে।
২.
একটা লাইন হঠাৎ করেই জপতে থাকি। কিন্তু তারে চিত্রকল্প বানানোর ফাঁকেই ভুলে যাই সমস্ত শরীর। ভালোবাসা তবে আমার অ্যামনেশিয়া! শব্দের চে' ভালোবাসি শূন্যতারে। স্মৃতির চে ভালোবাসি চাঁদের সাতকাহন। সিঁড়ি বেয়ে যখন ছাদের আড়ালে বসেছি তখন মাথার ভেতরে চাঁদ আর হৃদয়ে অমাবশ্যা।
৩.
ইচ্ছে হলো কারো কন্ঠে ভৈরবী শুনি। আর তাই সেলফোন। তারপর বিডিনিউজ ২৪। কে কোথায় কিভাবে উদযাপন করে নববর্ষ-উইকেন্ড কিম্বা লেইট নাইট পার্টি।
এভাবেই রয়ে গেলো তো পুষ্টি বাকী!
ডাইরী ১১৫
১.
দরজা খোলা থাকলেও আমি দাঁড়িয়ে থেকেছি। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ।
২.
মন খারাপ হতেই হারিয়ে ফেলেছি পথ। মন ভালো হলে পথ ভুলে যাই।
৩.
ক্রমশঃ নিখূত হতে থাকি। বিষের পেয়ালা সামনে রেখে মরনের সাথে একরাত কথা বলি। বিষ বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে আমি বেঁচে যাই। মৃত্যুর চাইতে বড় খুত আর কি আছে জগতে!
৪.
সবকিছু জড়িয়ে ধরতে নেই। তবু আমি অপেক্ষায় থাকি, ভুল করে পা হড়কে থেমে গেলে সময়, আমি আলগোছে তারে ধরে তুলে নেবো মুঠোয় মুঠোয়।
ডাইরী ১১৪
১.
দৌড়তে দৌড়তে টের পাই বয়সী বায়স এসে খুটে খেয়ে গেছে ফুসফুস-হৃৎপিন্ড এবং যকৃত। অথচ থামলেই স্মৃতির চাবুক আছড়ে পরবে পিঠে ও পাজরে। দৌড়তে দৌড়তে টের পেয়েছি বন্ধুর পথ বড় সমতল ঠেকে মায়োপিক চোখে। যদিও ছন্দপতন হলে সম্ভাবনার গিলোটিন বিভাজন এঁকে দিবে শরীরে ও শিরে।
দৌড়ে দৌড়ে কোথাও পৌছবো নাকি...দৌড়ে দৌড়ে কতদূর যায় ঘূণে ও ঘোরে আবিষ্ট শরীর?
২.
শীতে ও সর্দিতে বেঁচে বর্তে থাকা যায়। একেকটা হাঁচিতে মনে হয় ফিরে এসেছি সম্বিতে। কান খাঁড়া করে যখন শুনেছি অপসংস্কৃতি...তখন তারা শিল্প হয়ে বেজে যায় এক বিকাল-দুই সকাল-স্বপ্নাবধি। বৈচিত্রের মনোটনিতে গিয়েছি ফেসে এই বেলা।
৩.
বহুদিন পর এক টুকরো সময় পেয়েছি কুড়িয়ে। আবারো তাই সাদা কালো, হরফে হরফ, আবেগের অ্যালিগরি...
হোয়াইট রিবন নামক ম্যুভির রিভিউয়েরএকটা প্রচেষ্টা...গল্প কিম্বা চরিত্র কিচ্ছু নাই
জীবন অস্থিরতায় আছে...অনেক অপশন বা চয়েস নিয়া দোটানায় আছি কিন্তু এতো অপরচ্যুনিটি আসলে বিপদে ফেলে। কোনটা ছাইড়া কোনটায় মনোনিবেশ করতে হইবো এই কনফিউশন অনেক যন্ত্রণার। এই অস্থিরতায় আত্মতৃপ্তি থাকে, কিন্তু তাতে কোনো গন্তব্য নির্দিষ্ট করা যায় না। চরম স্বাধীনতার এই ডিলেমা আসলেই প্রব্লেমেটিক। প্যাশনের সাথে ভীষণ রকমের কনফ্লিক্টিং। অথচ প্যাশনের সাথে কনফ্লিক্ট নিজেরে অনেক অপরাধী করে,,,ঠিক অপরাধী না অনুশোচনা তৈরী করে। স্বাভাবিক সময়ে রুটি রুজি এই লেইম এক্সকিউজ থেইকা বাইর হইয়া আসনের লেইগা যূক্তির অবকাশ তৈরী কইরা দ্যায়...কিন্তু আজকে কিছুটা ফ্রাস্টেটেড আছি হানেকের হোয়াইট রিবন দেখনে পর থেইকা।
একটা ছবি আসলে সাধারণ ঘটনাগুলিরে, মানে যেইসবরে আমরা সভ্যতার বিকাশের সাথে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করছি তার ডি-কিম্বা রিকন্সট্রাকশন নিয়া ভাবায় তার প্রভাব ফেলে আমার চলচ্চিত্র ভাবনায়। কেবল চলচ্চিত্র ভাবনায় না প্রতিদিনকার জীবন যাপনেও তারা অনেক বড় বিষয় নিয়া আবির্ভূত হয়। একটা শহরে অনেক কিছু ঘটে নৈতিক অনৈতিক সম্পর্ক সেইখানে বেশ স্বাভাবিক পাশ্চাত্যের আল্ট্রা স্বাধীনতাও সেইখানে থামাইতে পারে না রহস্য কিম্বা টেনশন। আমাগো মতোন কনজারভেটিভ শহরের প্রেক্ষাপটে তাই প্রাসঙ্গিক হইয়া হইয়া উঠে এই গল্প। হানেকের মাস্টারীটা হইলো এইসব মিস্ট্রিরে সে রিভিল করনের চেষ্টায় যাইতে চায় নাই আদৌ। সে কেবল মানুষের সম্পর্কের ধরণ আর দায় নেয়া আর অনেয়ার গল্প বইলা যায়।
ক্ষমতার যেই বহিপ্রকাশ আমরা দেখি তারেক জিয়া কিম্বা নানকের কূটকৌশলে এই ছবিতেও তার সম্ভাবনা টের পাওয়া যায়...কিন্তু হানেকে তার ৭০ বছর বয়সেও পোস্ট মডার্ অ্যাটিটউডারে আত্মস্থ করেছেন তার নিজস্ব মতাদদর্শিক অবস্থান থেইকা। একটা থ্রিলার গল্প তার বলার ধরনে তাই হইয়া উঠে মানুষের বিহেইভিয়ারাল এক্সপ্রেশনের গল্প, ভালোবাসার আর তার প্যাশনের ইতিবৃত্ত। (পাম ডি অরতো সাধে পায় নাই)।
নির্বাসিতজনের আত্মকথা...
নির্বাসিত শরীর চলেছে পৃথিবীর পথে। নির্বাসনের পথেরা গন্তব্যহীন...যদিও অধিবাসীরা ঠিকি পৌছে যায় তাদের ঘর-গৃহস্থালিতে। বিকেলে আরাম করে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবে নিজস্ব এক টুকরো জমির কথা। নির্বাসিত আমার অধিকার নাই ভূমির ভূমিকায়।
তুমিও পেয়েছ খুঁজে একটা মেইল বক্স। আর আমার দরোজা পেরিয়ে খবরের কাগজটাও নিয়মিত এসে পৌছায় না প্রায়শঃ। সিঁড়ি বেয়ে যদি কোনদিন দুধওয়ালা কিম্বা মাছ বিক্রেতা এলে খাবার জুটে যায়...দুপুরটা নিশ্চিন্তে কাটে। তবে রাতে অন্ধকার ছাড়া আর কোনো খাবার থাকে না।
তোমার মেইল বক্সে আমি রোজ একটা করে চিঠি লিখে আসবো বলে ভাবি। কাগজ অথবা কলমের অভাব আমাকে অসহায় করে তোলে। মেইল বক্স খুলতেই তুমি একতাড়া মেইলে হাবুডুবু খেয়ে আবার বাড়িতেই ফিরে যাও। আমি তোমার মেইল আর তোমাকে চলে যেতে দেখি। আমাদের দূরত্ব বাড়ে। আমার জানালা থেকে তোমার দরোজা বেশ অনেকটা দূর...
আমি গরাদে মুষ্টিবদ্ধ হাত আর চিবুক রেখে নির্বাসনের জ্বালাটা টের পাই। টের পাই এইখানে নির্বাসিতজনেরা খুব সুখে থাকে না...
রূপগঞ্জে জনতার প্রতিরোধ: কবর রচনা হোক সকল আধিপত্যবাদী শক্তির...
রাষ্ট্রের কাছে আমাগো প্রত্যাশা অনেক। ক্ষমতার ভাগাভাগিতে প্রতিযোগিতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আমাগো প্রত্যাশা সীমাহীন। রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারকগো জ্ঞানে আজো আমাগো বিপুল আস্থা। সেবামূলক সংস্থাগুলি থেইকা আমরা আজো প্রত্যাশা করি সেবার ফুলঝুড়ি। আবার এই আমরাই জানি রাজনৈতিক দলগুলি সুবিধাবাদী মুনাফাখোর ব্যবসায়ি আর মাস্তানগো ক্লাব। নীতি-নির্ধারকেরা মানে পলিসি মেইকাররা দেশের বাস্তবতাজ্ঞান বিবর্জিত একটা গোষ্ঠী। সেবামূলক সংস্থায় চাকরি পাইতেও একজন চাকরী প্রার্থীরে বহুত টাকা ঘূষ দিতে হয়। আমাগো সেনাবাহিনী আমাগো কাছে আজো দেশরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। আমরা ভাবি সেনাবাহিনীতে মানুষ পিটাইয়া ফেরেশতা বানাইয়া দেয়া হয়। কিন্তু আমরা জানি যূগে যূগে কালে কালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই দেশের প্রতিবাদী মানুষরে নির্যাতন করছে। চাকরী শেষে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার কইরা এই দেশের রাজনীতি আর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সুবিধাভোগী দানব হইয়া
এইবার সংশয় অথবা প্রশ্ন বিষয়ক আরো তিন পয়সার আলোচনা...
যে কোনো ধইরা নেয়া সত্যরে প্রশ্নের মুখামুখি করনের প্রবণতাটা শুরু হইছিলো রেনে দেকার্তের পথ ধইরা। কিন্তু তার এই পথ আসলে মানুষরে সমস্যায়ও ফেললো। পরম সত্য খুঁইজা নেওনের যেই উদগ্র বাসনা দেকার্ত সাহেবের ছিলো, সেইটা মানুষরে অনিশ্চয়তার হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে ফেইলা দ্যায়। দেকার্ত সাহেব অনেক কিছুরেই প্রশ্ন করতে শিখাইলেন, মধ্যযূগীয় মানুষের স্টিগমাটিক প্রবণতারে প্রশ্নবিদ্ধ কইরা অনুসন্ধিৎসু আধুনিক মানুষ হইয়া উঠনের প্রেরণা জোগাইলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজে গিয়া পড়লেন ধর্মানুভূতির খপ্পরে। এই ধর্মানুভূতি পরম সত্যের আশ্রয়স্থল আর একমাত্র বিশ্বাস্য পথ হইলো তার প্রক্রিয়াতে।
