ভাস্কর'এর ব্লগ
সংশয় অথবা প্রশ্ন বিষয়ক দুই পয়সার আলোচনা...
আধুনিক দর্শনের প্রারম্ভিক পর্বের দার্শনিক হিসাবে রেনে দেকার্তরেই ধরা হয়। এই আধুনিকতার মূল শর্ত হইলো সংশয়। আগের আমলের প্রায় সকল দার্শনিক চর্চাতে বিশ্বাস বিষয়টার বড় ভূমিকা থাকতো। রেনে দেকার্ত দেখাইলেন জগতের যেই পরিবর্তনশীলতা তাতে আসলে কোনো ঘটনারেই বিশ্বাসের গন্ডীতে আবদ্ধ করন যায় না আর। হেরাক্লিটাস নামের একজন আইয়োনিয়ান দার্শনিক যিনি এই পরিবর্তনশীলতার কথা দেকার্তের জন্মের আড়াই হাজার বছর আগে কইছিলেন তারে স্মরণ কইরা দেকার্ত তার সংশয় পদবাচ্যের শুরু করেন।
টুকরো-টাকরা ৪
এক.
প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে দেখতেই প্রায় চল্লিশ বছর পার কইরা দিলাম। আওয়ামি সরকারের আমলে এই রাজনৈতিক আচরণ একেবারে তার চরমে পৌছাইয়া গেলো অবশেষে। ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত আসামীগো মাপ কইরা দিলো আমাগো অথর্ব রাষ্ট্রপতি; তিনি একজন দলীয় রাষ্ট্রপতি। আর তার একমাস যাইতে না যাইতেই আসামীগো এলাকায় খুন হইলো আরেকজন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা। যারে খুন করা হইলো সে হয়তো ধোয়া তুলসী পাতা না। কিন্তু প্রতিহিংসার রাজনীতি আসলে নিম পাতা ধ্বংসের রাজনীতির অঙ্কে চলে না। এই রাজনীতির অঙ্ক অন্য।
টুকরো-টাকরা ৩
এক.
১৯৫৩ সালে এডমান্ড হিলারী আর তেনজিং নরগে শেরপা যখন হিমালয়ে উঠছিলেন তখন তারা প্রমাণ হিসাবে কি দেখাইছিলেন সেইটা আমি জানিনা। কিন্তু ঐ ঘটনার প্রায় ৫৭ বছর পর মুসা ইব্রাহীমের লেইগা প্রমাণের অনেক পরিসর তৈরী হইছে। শেরপারা একটা বুদ্ধমূর্তি লইয়া গেছে উপরে, তার চাইর পাশে লাখে লাখে প্রার্থনার পতাকা জড়ো কইরা রাখে পর্বতারোহীরা। মুসা ইব্রাহীম বুদ্ধমূর্তি পাশে লইয়া কোনো ছবি তুলেন নাই। উপরের ছবিটাতে সেইটাই দেখতে পাই আমরা।
টুকরো-টাকরা ২
ক.
দেশের বেশিরভাগ মানুষের মতোন সংবিধান বিষয়ে আমার জ্ঞানও বেশ সীমিত। ৭২'এর সংবিধানটা পড়ছিলাম নাদান বাঙালি' র মতোন। পরবর্তী বেশ কিছু সংশোধনি বিষয়েও জানা ছিলো, কিন্তু গতো কয়েকদিন ধইরা ৭২'এর সংবিধান পূণস্থাপিত হওয়া নিয়া আপীল বিভাগের মূল্যায়ণ বা সিদ্ধান্ত দেওনের ধরণ দেইখা খুব একটা জুইত পাইতেছিনা। সংবিধান কি কেবল কিছু আইনের সন্নিবেশন? নাইলে জাতিগতভাবে বাংলাদেশি হইলেও ৭১'এর সংবিধানে আমাগো কোনো সমস্যা হইবো না? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার পর কি সংবিধানে সংশোধিত হইয়া আসা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাতিল হইয়া যাইবো? এইটা কি সরকারী অধিবেশনগুলিতে পালিত হইবো? আমি সংশয়ি মানুষ, আদালতের এহেন আচরণে আরো বেশি বিভ্রান্ত হইয়া পড়ি।
টুকরো-টাকরা ১
১.
তালেবানগো বিরুদ্ধে লড়াই করতে হইবো, এইরম জেহাদি ঘোষণা আমাগো অধিকাংশ প্রগতিশীল বন্ধুগো চেতনায় আসা যাওয়া করে। কিন্তু আমরা জানি না আফঘানিস্তানে তালেবানি শাসন কায়েমের রাজনীতি। আমরা অধিকাংশই জানি না কেমনে মধ্যবিত্ত আফঘানিস্তিয়ান তৈরী কইরা দিছে আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা জানি না বা জানতে চাইনা এই রাজনীতির সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কদ্দূর সম্পর্ক বিরাজমান।
সে একটা গল্প বলতে চেয়েছিলো (দুই)
কি ভাই, আরেক কাপ চা খাওয়াইবেন না!
সে একটা গল্প বলতে চেয়েছিলো...(এক)
দিগন্ত বিস্তৃত নদী। ছোট্ট ঘাট। অন্ধকারে যদিও নদীর কিছুই প্রায় দৃশ্যমান নয়। দূরে কিছু আলোকবর্তীকা দেখা যায়। তারা ভাসে। আলোর সাথে কিছু শব্দও ভেসে আসে। যদিও লঞ্চ ঘাটে কোনো শব্দ নাই। কেবল মাঝে মাঝে জলস্রোত এসে লোহার জেটিতে আছড়ে পড়লে যতোটা শব্দ হয় ততোটুকুনই। তাতে নীরবতা ভাঙে না। বরং নিথর লঞ্চঘাটের রহস্যময় নীরবতা আরো গাঢ় হয়। একজন পুলিশ অবশ্য ঘুমে ঢলে পড়লে তার রাইফেলটা পিছলে গিয়ে খানিকটা শব্দ করে আর তাতে
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (পাঁচ)
টুটুল ভাইয়ের বাসায় সাত্তার সাহেবের স্ত্রী'র ভুত ঘোরাফেরা করে বইলা যেই আবু সন্ধ্যার পর হইলেই উশখুশ করতো বাড়ি ফেরার তাড়ায়, সেই আবু প্রেম করলো তার চাইতে দুই বছরের বড়ো প্রাপ্তি আপার সাথে। সময়ের পার্থক্যটা মাত্র বছর পচিশেকের হইলেও সেই আমলে এইরম সামাজিক মূল্যবোধের ব্যত্যয়ে সম্পর্ক খুব একটা হইতো না। হইলেও সেইটারে সামাজিক বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে দুষ্ট হইতে হইতো। আর এর শাস্তির বিধান কি হইতে পারতো তা অনুমেয় না
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (চার)
আশির দশকের রাজনৈতিকতার পটভূমিতে যেইসব শিশু কৈশোরত্ত্ব অর্জন করছে তাদের প্রাণে রাজনীতির অর্থ অন্যরম ছিলো সেইটা আজ হাড়ে হাড়ে বুঝি। নূর হোসেনের আত্মাহুতি আমাগো হৃৎপিন্ডের স্পন্দনে ছন্দপতন ঘটায়। আমার মনে পড়ে এমন আত্মাহুতির নজীর আমার পরিচিতজনগো মধ্যেও আছে। সম্পর্কের দূরত্বে বেশ দূরে অবস্থান করলেও বন্ধুত্বে বাপের নিকটতর এক আত্মীয়, যার কাছে আমরা চকলেট চাইতাম ফজল মামা বইলা, সেনা সদস্য হিসাবে কর্নেল আহসান
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (তিন)
সাত্তার সাহেব, যিনি একমাসের ভাড়া বাকী রাইখা পালাইয়া যাওয়ার অপরাধে আমাদের চোখে দোষী সাব্যস্ত হইছিলেন। যার সম্পর্কে আমরা আর কোনো তথ্য জাননের প্রয়োজন বোধ করি নাই, আমাদের কাছে তারে অপরাধী মনে হয় যেকোনো মূল্যায়ণে; তার অপরাধ সে একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক তরুণীরে বিয়া করছে, যেইখানে প্রলোভনের সম্ভাবনা দেখা যায়। এই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী বইলা গুজব রটলে মহল্লাবাসী বেশ আহত হয়, যেনো দ্বিতীয় বিবাহ কিম্বা দ্বিতীয় সংস
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (দুই)
সাত্তার সাবে'র অপেক্ষায় সেইদিন পুরা মহল্লাবাসীরে অনেক উদ্বিগ্ন চেহারায় দেখি। এই উদ্বেগে সাত্তার সাবে'র তরুণী ভার্যার প্রতি আবেগের চাইতে আত্মহত্যা বিষয়ক রোমাঞ্চ - আর তৎসম্পর্কীত লুকোছাপার অর্থাৎ নিষিদ্ধ আচরনের প্রতি না জানা আগ্রহের বিচরণ বেশি ছিলো। মহল্লাবাসীগো আচরনে আমি সংশয়ী হইয়া পড়ি, মহাপাপ আসলে জাগতিক দুনিয়ার অভ্যস্ততায় এমন কনফ্লিকটিং কেনো হয়?
আত্মহত্যা বিষয়ে যে সকল কথা আমার জানা ছিলো (এক)
আমার পরিচিত কেউ কখনো আত্মহত্যা করে নাই।
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (একাদশ কিস্তি)
স্কুলে যাবার আগেই জেরোমিল পড়তে আর লিখতে শিখেছিলো, আর তাই মা তাকে সরাসরি দ্বিতীয় গ্রেডে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়; মন্ত্রণালয় থেকে এজন্য বিশেষ অনুমতিও বের করে ফেলে, বিশেষ ব্যবস্থায় স্কুল কমিটির সামনে দেয়া পরীক্ষায় পাশের পর জেরোমিল তার চেয়ে এক বছরের বড় ছাত্রদের সাথে ভর্তি হওয়ার অনুমতি পেয়ে যায়। সবাই তার মেধার প্রশংসা করতে থাকায় তার কাছে ক্লাসরুমটাকে পরিবারেরই একটা বর্ধিত অংশ মনে হতে থাকে। মা দিবসে স
জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (দশম কিস্তি)
ঠিক জন্মবার্ষিকীর আগের দিন তাকে দিদার ঘরে শুতে পাঠিয়ে দিয়ে বাবা আর মা মিলে তার নতুন ঘরের আসবাব আর দেয়াল সাজালো। পরেরদিন সকালে যখন তারা ছেলেকে নিয়ে নতুন সাজানো ঘরে এলো, মা খানিকটা উদ্বিগ্ন বোধ করছিলো, কিন্তু জেরোমিল মায়ের অস্থিরতা দূর করতে কোনোরকম কিছু করলো না; সে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ঘরের মাঝখানে; তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো (যদিও তাকে আড়ষ্ট মনে হচ্ছিলো) কাঠের ছোট্ট ডেস্কটা; পুরনো আমলের এই ফার্নিচার