ইউজার লগইন

ভাস্কর'এর ব্লগ

দুই পংক্তির লঘু পয়ার

এক.
ভাটিবাসী মেয়ে তুমি উজানেতে যাও
ঐখানে বিষধর সাপের নিবাস।

দুই.
নিয়মিত শ্বাস ফেলে অনিয়মে বাঁচি
ঘুম চোখে ঘুম ভুলে একেছি স্বপন।

তিন.
ফেরার সময় হলে জানি ফিরেছে সবাই
ঘরের মেঝেতে বাজে পায়ের আওয়াজ।

চার.
বহুদিন পথ ভুলে গিয়েছি সেথায়
পথ চিনে যেতে হলে ভুলেছি শপথ।

পাঁচ.
অপরাধে অপরাধী নিজেকে জেনেছি
জেনেছি এমন হলে মাথা নত হয়।

ডাইরী ৮৯

এক.
নিজেরে আরশোলা ভেবে স্বস্তি পেতে চাইলেও কখনো ভালোবাসি নাই আরশোলারে। যূগ যূগ ধরে তাহাদের জানিয়াছি স্মৃতিময়, আবর্জনাময়। মেঝেময় তারা চড়ে বেড়ালে, আমিও তক্কে তক্কে থেকেছি, সুযোগ পেলেই পিষে ফেলেছি তাহারে...

আজ যখন আরশোলা গেছে তোমার দরজায়...আমি ভয়ে শিউরে উঠেছি!

দুই.

ডাইরী ৮৮

এক.
ঘুমের অষুধ খেয়ে যখন অপেক্ষা মেলেছি এবার...তখনি আঁধার এলো। ভেড়াগুলো নামলো সবুজ মাঠে। আমি গুনতে ভুলে গেছি এই বেলা।

দুই.
তুমি যদি গুনে দিতে অন্ধকার আকাশের নিভু নিভু তারা সমূহরে...আমি একে একে সংখ্যা গুলিরে নিতাম শিখে। এমন দুরাশা একেছি মননে...

তিন.

ডাইরী ৮৭

এক.
নিজেরে আরশোলা ভেবে উড়িয়ে দিয়েছি, অস্থিরতায় উড়েছে সে দিনের পুরোটা। আর তক্কে তক্কে থাকি রাতভর, আন্ধারে সজীব হবো বলে। সভ্যতারে পিঠে নিয়ে আরশোলার মতো আমিও হয়েছি ইতিহাস।

আহা স্মৃতিময় মানুষেরা বোধয় এমনি বাঁচে...

দুই.
তুমি আরশোলারে ভয় পাবে জেনে আমি মুখোশে ঢেকেছি মুখ। এ যেনোবা মেটা-মেটামরফোসিস। বহুবিধ জানাজানি ঘটে যায় এইবেলা।

মনে মনে স্বগতঃ নিজেরে কথা দেই,
তুমি ফিরে এলে আবারো মানুষ হবো।

ডাইরী ৮৬

এক.
আজ তবে থাক শূন্য তোমার প্রান্তর,
নোনা জলে ঢেকে যাক আমার জানালা।

দুই.
আরশোলা গুলো যখন গা বেয়ে উঠেছে
আমি চোখ বুজে পড়ে থাকি ভয়ে।

তিন.
চোখ বুজতেই তুমি এলে
চোখ খুলতেই তোমার প্রস্থান...

ডাইরী ৮৫

এক.
আমার চারপাশে আরশোলা কেরম আয়েশে ঘুরেছে, তাদের পা ফেলা দেখে যে কেউ ভেবেছে পোষ্যবত। সাদা চক দিয়ে গন্ডী নির্দিষ্ট করেছি...তাকিয়েছি হেলা করে, তবু আরশোলা প্রায়শঃ ভুল করে আমার শরীরে উঠে আসতে গিয়ে অচেতন পড়ে গেছে পৃথিবীর পথে।

আরশোলাদের জানা নাই, তাহাদের আমি ভালোবাসি নাই কোনকালে।

দুই.

ডাইরী ৮৪

এক.
গতোকাল গিয়েছে আগুনে, আজ জলে সাতার কাটি। জলের ঘনত্ব আমারেও নিয়ে গ্যাছে স্বপ্নের সমব্রানিয়ায়। ডুব সাতারের খেলা চলেছে সেখানে।

দুই.
আমাদের জলপ্রীতি ছিলো এই কথা শত্রুও কখনো কয় নাই। আমরা স্থলজ আবেগে ছিলাম আজীবন।

তিন.
আমি অপেক্ষায় থাকি...তুমি এসে দাঁড়াতেই খুলে যাবে দরোজা, বেষ্টনী। হুল বের করে বসে থাকি যদি কোন মৌখোর বিবাগী এসে হানা দ্যায়...

ডাইরী ৮৩

এক.
লোকটা পাগড়ি বেধে হাটছিলো...লাল আচকানে তার জড়িবুটি, পায়ে মল, চোঙা হাতে ডাকছিলো লালে লাল শাহজালাল। আমি তার পিছু হেটে চলে যাই পুরনো শহরে। যে শহরে বেড়ে উঠবার সময়ে শিখেছি বহুকিছু। ব্যর্থতা-বেদনা-সাফল্যের আর বিচ্ছেদের সমগীত।

এ শহরে একদিন আগুণ জ্বলছিলো। আগুণে বারুদ ঢালছিলাম আমরা চরম আয়েশে।

দুই.

ডাইরী ৮২

এক.
আমি বাড়ি ফিরবার পথটারে ভুলে যাই। নাকি বাড়িটারে ভুলে যেতে চাই...রাত গড়িয়ে গড়িয়ে কোথাও যদিবা যেতে চায়, চলে যাক। আমি ঠায় বসে থাকি অন্ধকারের ফুলটারে দেখবো বলে। যদিও আজকের এই রাতের আঁধারে কোন গাছেই ফুটেনি সেই ফুল...আমি গো ধরে বসেছি তবু, বসেছি কিছু একটা দেখার আশায়...হতে পারে সে অন্ধকারের ফুল, পাগলের পাশা খেলা কিম্বা পথভ্রান্ত পথিকের দীর্ঘায়িত ছায়া...

অন্ধকারে আমি নিজের ছায়াটারে আঁকি।

দুই.

ডাইরী ৮১

এক.
রাতের আঁধারে বৃষ্টি ফোঁটা দেখতে পারিনি...বিদ্যুৎ মন্ত্রী দু'ঘন্টা নিভিয়ে রেখেছিলেন সব আলো। তবুও ভিজেছে আমার সময়, তারে ঠেকাতে পারেনি কোন মন্ত্রণালয়ের কেউ। জলের তোড়ে যখন ভেসেছে শব্দগুচ্ছ, কোন প্রহরী আসেনি...স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চুপ থেকেছে।

দুই.

ডাইরী ৮০

I am just waiting to see my fate crawling along your exposure...

এক.
আমি ক্রমাগত গড়িয়ে চলেছি পৃথিবীর পথে। সুনির্দিষ্ট করে কই, তোমার দৃষ্টির সীমানায়। যদ্দূর আলোর চলাচল। পিক্সেলে পিক্সেলে যদ্দূর ধরা পড়ে। কাঁদামাটি, জলের আধার, টিলাময় খরমাটি পেরিয়ে যখন মনে করি এইতো তোমার কাছে পৌছেছি এবার...চোখ তুলে চাইলে দেখি তুমি আসলেই বহুদূর দেখো...

বহুদূর...

দুই.

ডাইরী ৭৯

এক.
কেবল সুখের স্মৃতি সমূহেই তবে আমরা মনযোগ দেই। আহা মৃত মানুষ, তোমার মানবিক অস্তিত্ব নিয়েছে কেড়ে...সামাজিক নিয়ম কানুন এমনি নচ্ছার। মানুষ মরলে পরে তার দায় তবে কার ঘাড়ে চাপে? মৃত মানুষেরে যদি পবিত্র বেড়ার আড়ালেই সমাহিত করি তবে কইলাম এইবেলা,

হেইল হিটলার!

দুই.

ডাইরী ৭৮

এক.
কিছু স্বাধীনতা আসলেই পরাধীনতার মতো।
কিছু মুক্তি আসলে অনাকাঙ্খার বেশে আসে।
কিছু সময় নিজেরে আঁধার ঘরে
বন্দি ভাবতে ভালো লাগে।
কিছু অর্গল ভাঙার ইচ্ছা কখনো জাগে নাই।

দুই.
দেয়ালময় শ্যাওলা আর মেঝেময় জল। তবু আমি ঘরের ভেতর ভাসি আর ভাসিয়েছি কাগজের নৌকা। জানালার গরাদগুলো সুর্যালোকে ভেসে গেলে কিছু আলো আসে...আলোদেরো সাধ জেগেছে স্বাধীনতার স্রোতে ভাসবার।

ডাইরী ৭৭

ফিরে এসো এ্যামনেশিয়া, ভুল খেলবার রাতের আঁধার...

এক.

ডাইরী ৭৬

এক.
একবার এক কথিত পয়গম্বর আমারে কয়, আপোষকামী হইতে শিখো...আমি পয়গম্বররে আসলেই তার অন্য পরিচয়ে চিনতাম, আর তাই তারে কখনোই মানি নাই। আপোষের অধ্যায় রচনা করে যেই বিশ্বস্ত মানব...তারে আমি পয়গম্বরের বেশে চোখ বুজলেও ভাবতে পারি নাই...চোখ খুললে তারে দেখি ময়ুরপুচ্ছ ঝুলাইতে।

দুই.