ভাস্কর'এর ব্লগ
ডাইরী ৭৫
এক.
প্রায়শঃ বিলীন হয়ে যাই শূন্যে, যা ছিলো উদ্যম, আগ্রহের বলিরেখা, প্রাণের পরশ...সব ভেসে যায় শূন্যতার আহ্বানে। আমার ডাইরীর পাতা শূন্য পড়ে থাকে। শব্দের সায়ক উড়ে বেড়ায় শূন্যের খোলা মাঠে, বিধ'বার জন্য কোন লক্ষ্য নাই, নাই কোন ষাড়ের নয়ন।
যথার্থ জীবন কে খুঁজেছে কবে...বেঁচে থাকাটাই যেনো জীবন হয়ে যায়। আর শূন্যতারে কে কবে পেরেছে এড়াবার মন্ত্র! শূন্যতায় ভেসে আসে গন্তব্যের হাতছানি...
দুই.
নতুন পৃথিবীর পথে, হলিউডি সিনেমার নতুন যাত্রা...
সিনেমা দেখাটা আসলে একধরণের অভ্যাস। মানুষ আসলে বিনোদিত হইতে চায় বইলাই সিনেমা দেখে, মানুষ সিনেমা দেখে নিজেরে সামাজিক সম্পর্কের অ্যাসপেক্টে যাচাই করতে, মানুষ সিনেমা দেখে উদ্বুদ্ধ হইতে...এইরম অসংখ্য সাবটেক্সটের উল্লেখ করা যায় সিনেমার উপস্থাপণ বিষয়ক আলোচনায়। কিন্তু যে সিনেমা দেখে এইটারে আসলে তার অভ্যাস মনে হয় আমার কাছে। তার এই অভ্যাসরে জায়েজ করতে গিয়া সে হেতু নির্ধারণ করে। আমিও অভ্যাসবশতঃ সিনেমা দেখি।
রাঙ্গামাটির রঙে চোখ জুড়ানো? (ছয়)
রাঙ্গামাটি ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখতে গিয়া আমি নিজেই খানিকটা ক্লান্তি অনুভব করতেছিলাম...পাঠকের ক্লান্তিটাও ঠাহর করবার পারি সেই নিরীখে। একই পথের গল্প, স্মৃতির স্পর্শ নিয়া বাঁইচা থাকনের গল্প...এইসব বহুত পুরানা কেচ্ছা...ট্রাভেলগ লিখনের মজাটা তৈরী হয় তখনই, যখন সেইসব বৃত্তান্ত নষ্ট হইয়া যাওয়া স্মৃতি হয়। আমি নিজে এই স্মৃতিকাতরতা উপভোগ করি। যেই কারনে সেই কিশোরকালের ডায়েরীর ক্ষয়াটে চেহারার মাঝেও পুরানা বর্ণমালা
ডাইরী ৭৪
এক.
আমি বুঝে পাই নাই কখনো ভালোবাসারে, আর তাহারে। অথচ নিজের মতো বুঝে নিতে চাইছিলাম...অন্য সুরে, পরিচিত গান গাইছিলাম। যখন একান্তে ছিলো হারাবার ভয়, তখনো কখনো চাইনাই তাহারে...আহারে, আহারে!
ডাইরী ৭৩
এক.
আহা সমারোহ! হাজার প্রান্তর থেকে আসা সব অভিজ্ঞতা মিলে যায় সমারোহে। আমার নিকট যেসব অস্ত্রের খোঁজ ছিলো সব প্রয়োগের মিলেছে সুযোগ...আমি মেলে দেই একান্ত নিজের বহুকিছু। তারপর আতশবাজীর মতোন খেলেছে দক্ষতারা।
তবু একসময় ফুরিয়ে যায় সকল চটকদার প্রকাশের খেলা। আমি আবারো মেলেছি রোদেলা বারান্দাময় একাকী শরীর...একাকীত্বে ভেজা শরীর, শুকিয়ে যাবে এইরম আশায় আশায়।
দুই.
ডাইরী ৭২
এক.
চোখের পলক ফেলতেও দ্বিধা লাগে, যদি প্রকাশিত হয় আমি কতোটা ছিলাম অপরাধী...স্থির নয়নে তারপর পথ হেটে ছুঁয়ে দেই কানাগলির দেয়াল, যেখানে থমকে দাঁড়ানোটাই নিয়তি। যেখানে থমকে গেলে আর কোন পথ থাকে না পলায়নের। তবুও চোখের পলক পড়ে নাই, আমি শক্ত চোয়ালে অনুভূতি লুকিয়ে দেয়ালে পিঠ সেটে, দাঁড়িয়েছি হাত প্রসারিত করে।
দুই.
ডাইরী ৭১
এক.
শহরটা গিয়েছে থেমে রূপবতী বৃষ্টিরে সামাল দিতে। আহা বৃষ্টি তুমি বড়ো অসময়ে এলে! গরাদের মতো বৃষ্টি দেখে যে কবির বিবমিষা ছিলো তারে আমি ভালোবাসি আজ। শহরের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে আমারে যদিবা যেতে হয় কোন এক নারীর ভালোবাসায় আমি তারে কেনো দূরে ঠেলে যাবো...সে নারী ভালোবেসেছে সব লেখকজনেরে।
দুই.
ডাইরী ৭০
I can't remove the past nor the present...
carrying the smell of her favorite scent...
going through,
5th avenue...
এক.
ডাইরী ৬৯
এক.
পুরো একটা দিবস হয় সিনেমার...ঘুম ভাঙতেই সিনেমা, দুপুরে খেয়েছি সিনেমার সংলাপের সাথে ভাত-মাছ। বৈকালিক ভ্রমণেও ছিলো সিনেমার জগিং শু...আর রাতের আঁধারে সিনেমা আলোক বর্তীকার মতো ধরা দেয়।
যদিও রুচীর ভিন্নতায় থাকে মন ও মেজাজ। বেলা করে আসে অ্যাকশন আর প্রতিশোধ। দুপুর পেরিয়ে বিকেলের রোদে ডার্ক হিউমার...আর আঁধারের সাথে গাটছড়া বেধে ফেলে বিল গেট্স আর স্টিভ জব্স।
ডাইরী ৬৮
এক.
সারাদিন আমার কেটেছে ভুল দেখে। ভুল দেখারেই চেয়েছি অভ্যাস মতো...ভুল দেখারেই আমি উপভোগ করি। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়েছি ভুল স্বপ্ন...ভুল ঘ্রাণ...ভুলের পরান।
ক্রুঢ় বাস্তবের চেয়ে ভুল দেখে চলারেই বরং আমার নিয়তির মতো লাগে। আর তাই ভুলে যাই তাহার অভাব। ভুলের মুখোশে সে আমার পাশাপাশি থাকে। পাশ ফিরে চাইনি ভয়ে যদি ভুল বুঝে ফেলি...
দুই.
ডাইরী ৬৭
এক.
আমার সবটাই অনুমেয়। আমি কিছু বলার আগেই তুমি বুঝে ফেলতে আমার মিথ্যাগুলো...কিছুতেই লুকোতে পারিনি আমার আবেগ। রহস্যহীনতায় আমি গদ্য ভাষা হয়ে উঠি। শস্যপর্ব যেমন আবর্তনের নিয়ম মেনেই চলে, প্রাণীকূলের জীবনচক্র নিয়ে যেমন নিশ্চিত হয়ে যায় প্রাচীন মানুষ। আমাকেও তুমি তেমন পড়েছ নিষ্পলকে...
ডাইরী ৬৬
এক.
মানুষ গোপনীয়তা ভালোবাসে। জানিনা কেবল আমিই কি তবে নিজেরে মেলে দিতে চাই উঠোনে উঠোনে। আর তাই আড়ালে কখনো আস্থা রাখি নাই। কে আমার কোন কথাগুলো রটিয়ে বেড়াবে ভয়ে, চুপচাপ তারে বয়ে বেড়াবো কেবল, আর নিজের ভেতর তারা রাক্ষসের মতো তৈরী হবে...
বধ করবে তারা, কোন ভবিষ্যতের রাখাল, ভাবতেও পারিনি এমন...
দুই.
ডাইরী ৬৫
এক.
শুদ্ধ বালক ছিলাম না কোনদিন। পবিত্র মুখোশ পরে হয়তো হেটেছি ফুটপাতে। সবাই তখন মুখোশের রঙ-বুনোট অথবা কারুকাজ দেখে মোহিত রয়েছে। আমি আড়চোখে নারীদের শরীর কাঠামো দেখি নাই কইলে নিজেরেই প্রতারনা করি তবে।
দুই.
ডাইরী ৬৩
এক.
আজ ইচ্ছে ছিলো তারে বিদায় জানাবো। তার হাত ছুঁয়ে দেবো। যে হাতে সে অচীরেই ছোঁবে ভালোবাসা। অতএব আমিও ভালোবাসার নৈকট্যে চলেছি বলে সাজাই সুখের সওদা। জানি এমন চিন্তারে অসুস্থ মনে হবে তোমার নিকট। নিকট নৈকট্য কেবলি সংকটে চলে ভবিতব্যহীন...