ইউজার লগইন

ভাস্কর'এর ব্লগ

bbbbbbbbbb

উন্মুক্ত সার্বজনীন উৎসব পরিকল্পণায় সবচে আগে কোন আয়োজনটি মাথায় আসে? একটা শোভাযাত্রা বা র‌্যালী ছাড়া কি আমরা ভাবতে পারি পহেলা বৈশাখ-বিজয় দিবস কিম্বা স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনকে! আমি অন্ততঃ পারি না। এই আয়োজনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আমার জানা নাই, কিন্তু পশ্চিমা প্রবণতা হিসাবে চিহ্নিত করতে পারি পশ্চিমা জীবনযাপন সম্পর্কীত আগ্রহসূচীত হওয়ার উৎস হিসেবে। তবে এই আয়োজনের সাথে শোভাযাত্রা শব্দটা যেনো র‌্যালী বা ম্যারাথনের চাইতে এগিয়ে থাকে। যদিও তাতে বাহ্যিক রূপে কোনো পরিবর্তন আসে না। শোভাযাত্রা শুরু হয় শেষ হয়; মানুষের মনে ছাপ রেখে যায়। মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে শোভাযাত্রা থাকার প্রধান কারণ শোভা হিসেবে প্রতিবছর এর থিমাটিক এক্সপ্রেশন। বিশাল আকারের প্রতিমূর্তি আর অসংখ্য মুখোশের উপস্থিতি।

দেয়াল নিয়ে ভাবতে গিয়ে যেকটি কথা মনে পড়লো...

.................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

এক.
ইচ্ছে হলে দেয়ালের গায়ে জমে থাকা

বাংলা ব্লগিংয়ের তকমাশিল্প বিষয়ে একটি চরম ব্যক্তিগত ব্লগপোস্ট...

সামহোয়্যার ইন আমলের শুরুর দিকে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির জটিলতায় তিনবারের বার একটা রিপ্লাই পাইছিলাম। পারমুটেশন-কম্বিনেশনের তৃতীয় পর্যায়ে যেই আইডিটা আমার হইলো সেইটা শুনতে বেশ খ্যাত লাগলেও মাইনা নিলাম ধৈর্য্যের অভাবে। সেইসময় জানতামই না যে নিকের চেহারা পাল্টাইতে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যায়। মূলতঃ ব্রাত্য রাইসু'র প্ররোচনায় বাংলা ব্লগিঙের স্বরূপ দেখতে ২০০৬'এর মার্চের দিকে ব্লগের প্রথম পাতা দেখা হইছিলো। রাইসু তখন রাসেল ও তার বাহিনীর হাতে গালি খায় কথায় কথায়। রাইসু আমারে স্বাধীনচেতা বাঙালির এইরূপ দেখাইতেই আমন্ত্রণ জানাইছিলো সেই আসরে। সেইসময়ের সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রথম পাতা দেখতে ভীষণ ক্লামজি লাগাতে খুবেকটা আগ্রহ পাই নাই শুরুতে তখনো আমরা ইয়াহু গ্রুপেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করি বেশি। সেইখানে সাহিত্য আর সমাজনীতি কপচাই। গালাগালির ব্যবহারে সারাক্ষণ সচেতন থাকতে হয়, মডারেটররা ভীষণ কড়া ছিলেন সেইসব ইয়াহু গ্রুপে।

পাগলের দিনলিপি (উনত্রিশ)

....................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

আমিতো ছিলাম ছায়ায় ছায়ায় আড়ালে আড়ালে
আলোকোজ্জ্বল তোমার পথে আড়চোখে ঠারেঠোরে
কখনো দেখেছি। শব্দের অভাবে নীরব নিথর
হয়ে চুপ বসে রয়েছি আঁধারে, ভেবেছি দেখোনি
কেউ; অদৃশ্য মানব আমি ভুল সমর্পনে আছি

পাগলের দিনলিপি (আটাশ)

পাগলের দিনলিপি (সাতাশ)

................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

পাগলের দিনলিপি (ছাব্বিশ)

......................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

তবে তুমি চলে এলে প্রথম পাতায়
আমার খাতায় কতোগুলো পাতা আছে
কখনোই তারে গোনা হয় নাই আগে
এইবার প্রথম পাতা ধরে সবটারে গুনি।

গন্তব্য ছিলো না বলে আমাকে শোনালে

পাগলের দিনলিপি (পঁচিশ)

বিচ্ছেদের অক্ষর সারিতে দেখি বসে আছে
আমার নিজের নাম। সাক্ষরে সাক্ষরে বিচ্ছেদের মুক্তি
দরজায় কোনো পাহারাদার দাঁড়িয়ে নেই।
এতোকাল নিজেই পাহারা দিচ্ছিলাম
আজ থেকে আসলে চাকুরী নেই...
এইবার তবে ক্ষয়ে যাবে স্যান্ডাল, ঠিকানা, পরিচয়, নামাবলী।
নিজেকে সাজিয়ে তুলে রাখবো কখনো সখনো
আহা! এমন বালখিল্যতা মানেই বিচ্ছেদ!

বিচ্ছেদ সাক্ষরে আগুন থাকার কথা
শুনতে পাই...অথৈ জলরাশি স্রোত কেটে
আমি বহুদূর চলে গেছি; আগুনের শিখা?
কোথাও জ্বলেনি তারা।
বিচ্ছেদের জল লুকিয়ে লুকিয়ে চলতে হয় বলে
ভাব দেখাই, জলেরো দেখা নেই
কেবলি বিচ্ছেদ চলে।
সাক্ষর এবং সাক্ষরহীনতা খেলা...

আমি এখন রাতের স্বপ্নে আর দিনের ব্রেক কে বাদ
সাক্ষর চর্চায় আছি, বিচ্ছেদের সাক্ষর নিখুঁত হতে হয়।
হা হা হা হা হা হা...

পাগলের দিনলিপি (চব্বিশ)

..............................................................................
................................................................................
..............................................................................

..........................................................................
..........................................................................

তোমার কালির রঙ নীল ছিলো
তুমি তাড়াহুড়ো করে এলে তারপর কীসব
লিখে রেখে গেলে আমার ভূগোলে।
দিক হারা আমি তখন স্বদেশ চিনি নাই...

আমার কেবলি মনে পড়ছিলো তখন ক্ষণে ক্ষণে
কোনো এক পাহাড় পুড়েছে খ্রীষ্টেরো আগে
সেই পাহাড়ের ধার ঘেষে এখন দাঁড়িয়ে থাকে ব্যবসায়িরা
আর নারীরা অপেক্ষা মেলে দিয়ে তাকিয়ে রয়েছে
সুরমায় রাঙাবে তাদের জলের ছোঁয়া মাখা চোখ...

আমার তখন ইচ্ছে করছিলো সুরমার অঙ্গারে তোমাকে,

পাগলের দিনলিপি (তেইশ)

শুভ্র শ্বেত বরফের গা'য়ে টুপ করে পড়লো এক ফোটা টকটকে লাল রক্ত
তারপর সাদার মাঝে লাল রক্ত ছড়াতে ছড়াতে গোলাপের ঘ্রাণ পেলো
আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেলো স্নো হোয়াইট নামের কুমারী মেয়েটার কথা।
সাত বামন দাঁড়ালো বিছানার পাশে, নীরব নিথর বৃদ্ধ বামনেরা চুপ করে
আমার ঘুমহীন রাত দেখেই পার করে দিলো ফিরে যাওয়ার সময় সীমানা
ভোর হতে দেখি একে একে তারা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে থাকে।
আমার তখনি মনে পড়েছে স্নো হোয়াইট জগতের সুন্দরীতমা প্রেয়সী...
আয়নার জগতে তার এভাবেই পরিচিতি,

"আয়না আমার দেয়াল ঝোলা আয়না
সবচেয়ে রূপবতী কে, শুনতে প্রাণ সয়না"

"আপনার রূপে চোখ ধাধায় তবে
সুন্দরীতমা হলো স্নো হোয়াইট এই ভবে..."

স্নো হোয়াইট একলা একলা বনের শনের ঘরে মন দুলিয়ে প্রাণ দুলিয়ে নাচে...
আমার কেবল ইচ্ছে করে ডেকে নিয়ে যাই সেই রাজকুমার, আরবী ঘোড়ার সওয়ারী
যে একহাতে শুভ্র বরফের কন্যারে ঘোড়ায় তুলে নিয়ে ছুটে যাবে নিশ্চিত শহরে।

পাগলের দিনলিপি (বাইশ)

আজ কিছু লিখবো না
যে শব্দটাই গড়িয়ে পড়েছে তাতে কাঁদা জল মাখামাখি
অথচ আমার আকাশে তখন রোদ্দুর দাপট দেখাচ্ছিলো
আজ কিছু লিখবো না
লিখতে গেলেই ইতিহাসের পাতা চুয়ে গড়াচ্ছে রক্তের স্রোত,
তার সাথে গড়িয়ে চলেছে পচা-গলা লাশের দুর্ঘ্রাণ,
মিথ্যের বিলাসী ফুলঝুড়ি অবিরত গান।

পাগলের দিনলিপি (একুশ)

................................................................
................................................................
..................................................................
................................................................
...............................................................
...............................................................

একটা মেঘে ঢাকা সকাল বেরিয়ে এলো,
তার জিহ্বার মতো পথ বেয়ে চলে গেলো
একটা ভাড়া খেটে বুড়ো হয়ে যাওয়া
নিখাদ স্কুটার। চলে গেলো শহরের পেটে।
শহরের ক্ষুধা মিটিয়ে দেবে বলে দলে দলে
হেটে চললো গার্মেন্ট কন্যারা, উপন্যাসে নাম লিখে
রেখেছে তাদের বিবিধ চুলের ফ্যাশন দুরস্ত লেখকেরা।
তাদের ছায়ায় ছায়ার স্কুলের কিছু বালক-বালিকাও
ব্যাঙ লাফে, ব্যাঙ লাফে চলে যাচ্ছে নিরাপত্তাহীন

পাগলের দিনলিপি (বিশ)

তুলো বনে ওলো শিমুল কেমন উড়ো?
উড়ো চিঠি তোমার পাখায় কদ্দূরে যায়?
শব্দরাশি আজ আকাশে বাতাস পেলে
কোন নিয়মে সহজ ভাবে বাক্য থাকে?
গাঁথুনিতে কি মেখেছো তাদের শরীর
আটকে দিতে? ভাব প্রকাশের অস্ত্রগুলো
কেমন সজীব নিপাট উড়েছে দিবানিশি
এতো উড়েও কেমন করে চিঠির খবর শান্ত থাকে?

তুলো বনে ওলো শিমুল উড়তে উড়তে ক্লান্ত হলে
কোন ছায়াতে আবীর মেখে রোদ্দুরকে বিশ্রাম দাও?
আমার বেলায় আলসেমিতে আয়েশী এক ছন্দ খেলে
জল ছলছল কান্না এলে চোখের পরিধী যায় ভেসে যায়
পৌরুষেরে ভেংচি কেটে আমার নাগাল পেরিয়ে যাবার
সময় মেনেছো, অথচ আমার অশ্রু মাখা শব্দে শব্দে
প্রাচীন কঠোর বিশ্বাসেরা ঠিক কেঁদেছে বিষম বেলা।

কৃষ্ণরে দেখি রাইয়ের পায়ের ধুলো মেখে কাঁদায় কাঁদায়
মান ভাঙানোর কঠিন খেলায় লেগে আছে অবিরত দিন
রাইয়ের নিকট চকচকে চোখে করুণ তাকায় অবতারে,
তার পৌরুষে কালিমা লাগেনি এমন আবেগী প্রকাশ হলে।

শের-এ-শায়েরী

...............................................................
..............................................................
...............................................................
................................................................
................................................................
১.
আগুন ছুঁয়েছে তার হাত,
আগুন ছুঁয়েছে তার হাত...
এখন চলেছে বরফের আয়োজন,
বরফ এবার ছোঁবে তার হাত;
আমার কেবল লোভাতুর চেয়ে
আগুন এবং বরফের পানে,
কেটে গেছে উদাসী অবুঝ রাত।

২.
এইভাবে তার চলে যাওয়া,
এইভাবে তার চলে যাওয়া দূরে...
জলের অভাবে শুকিয়েছে দেখি
শিকায় ঝোলানো মানিপ্ল্যান্ট
যেভাবে সে চলে গেছে দূরে
কাটাময় পথে রক্তস্রোত ঝরে,
ছুঁয়ে যাই তবে ফোঁটায় ফোঁটায়
দূর কল্পনার গানে তারে ফিরে পাওয়া।

৩.
অন্ধকারে ফুটে আছে এক চাঁদ,
অন্ধকারে ফুটে আছে এক চাঁদ...

পাগলের দিনলিপি (উনিশ)

.............................................................................
..............................................................................
...............................................................................
.................................................................................
.................................................................................

ঘুড়িতে ঘুড়িতে শত্রুতারেই মেনেছে মানুষেরা
আর তাই ভোকাট্টা বলেই আমরা দৌড়েছি ঈষাণে
সেখানে জমাট হয়ে ছিলো একদল মেঘ-কালোমেঘ
ঠিক যেনো মোমপালিশে ঝলক মেরে দিলো একবার।

আমাদের ঘুড়িটা উড়ছিলো যার পাশে, তার বাদুরের চোখ,
কলাবতী নাক আর রক্তলাল ঠোটের কোনায় কুকুরের দাঁত
উঁকি মেরে যায়। প্রতি টানে শব্দে শব্দে জানান দিচ্ছিলো
তার অস্তিত্ব-অভ্যাস আর মন-মানসিকতা...