ভাস্কর'এর ব্লগ
মানুষের সময় চক্র
.............................................................................
.............................................................................
.............................................................................
.............................................................................
সকাল
আইসক্রীম মোড়কে রোদ্দুর ঝলসালো
প্রতিরোধ ভেঙে চুইয়ে চুইয়ে নামলো
লোহার চৌকিতে; চোখ মেলতেই মিলেছে
সময়ের দুই কাটা। সময় কি মেলে তবে?
জল কেটে দ্বীপভূমি আর ওপারে পথের
চিহ্ন দেখা যায়; রোদ্দুরে শুকিয়ে গেলে
হাটুজল পেরোতেই একমুখী বাহন অপেক্ষা
মেলে দিয়ে বসে আছে কবে তার কথামালা
সুর ঢেলে দিয়ে গান হয়ে যাবে...
দুপুর
শহুরে চড়ুই গুলো মেঠো ঘুঘু সেজে ডাকে
সেই ডাকে পথ ভুল করে, ভুল পথে চলি।
প্রতারক পাখিগুলো হেসে গড়াগড়ি খায়
মানুষের জীবনচক্র
............................................................................................
............................................................................................
............................................................................................
ঘুম
স্পন্দন ঠাহর পেলো ঘুঘু পাখি
তার ক্রমাগত ডাকে টুটে গেলো
মৌনতার বিসদ মেমোরান্ডাম
চোখ তুলে তাকাতেই অনিশ্চিত
ভিখিরি চাহনী ছুঁয়ে দিলো এলো
চুল; তারপর ঘুঘুটা উড়ে গিয়ে
দূরের পাকুর ডালে ঠাই নিলো।
জাগরণ
চোখ বুজে এলো কোলাহলে
তার চুলে সোনালী পাথর
চমকাতেই "গুলশান! গুলশান!"
বলে ডাকাডাকি শুরু হলো।
মানুষেরা নেমে এলো পথে
আরো দূর যাবে বলে থির
বসে রইলো অমানুষেরা।
দূর বলে কোনো দূরত্বের
সীমারেখা পৃথিবীর পথে
মানা হয় নাই বহুকাল।
আড্ডা
ফোনকল
সকাল সকাল অফিসে পৌছাইতে না পৌছাইতেই হাসানের মনে হইতে থাকে এখন একটা ফোনকল আসতে পারে। বাড়ি থেইকা বাইর হওনের পর থেইকা অফিসের রিসেপশনে আইডেন্টিটি কার্ড পাঞ্চ কইরা উপস্থিতি জানান দেওন পর্যন্ত সময় লাগছে এক ঘণ্টা চৌত্রিশ মিনিট। এই দেড় ঘণ্টা পার হওয়া সময়ে হয়তো রিমি কেবল দরজায় মিনিট তিনেক কাটাইয়া অভ্যাসমতোন সেকেন্ড কাপ কড়া কফির কাপে শেষ চুমুকটা দিয়া পত্রিকার বিশাল বাংলা সেকশনে মনোযোগ দিয়া মুক্তিযোদ্ধা গফুর মিয়ার অভাব অনটনের সংবাদ পড়তেছে; এরপর তার মন খারাপ কইরা উদাস হওনের সময় দিতে হইবো মিনিট বিশেক। ততোক্ষণে তার মনে পড়বো বিছানার চাদরটা প্রায় তিন দিন হইয়া গেছে তোলা হয় না। শুচিবায়ুতার ফর্মুলামতে বিছানার নোংরা চাদরটাও সে ভাঁজ কইরা তুইলা রাখবো ময়লা কাপড়ের বাস্কেটে, বদলে নতুন সাদা ফুলতোলা চাদরটা ভাঁজ খুইলা আল্টিমেট কন্সেন্ট্রেশনে বিছাইতে বিছাইতে আরো প্রায় বিশ মিনিট। তেতাল্লিশ মিনিট পর আটটা পঞ্চাশের দিকে ক
একটা ননসেন্স সন্ধ্যা
সারা সন্ধ্যা তার হাত ধরা ছিলো
মৃতদেহের মতোন শীতল বরফ
মনে হইতেছিলো কবর অভ্যন্তরে
রাত্তির যাপন করতেছিলাম দুইজন।
একজন প্রহরী চেহারার লোক হাক দিলে
সম্বিত ফিরলো তোমার-আমার।
চোখে তার লাল লাল আগুন জ্বলতেছিলো
আর কণ্ঠস্বরে ড্রাগন হুঙ্কার...
এইসব আগুনের হাকডাকে আমি চমকাই;
মনে পড়ে সেই বালক বেলায়
আগুনের ভয়ে নির্দোষ মোমবাতি আর
ড্রাগন বান্ধব হইতে পারি নাই।
আগুনের ভয়ে প্রহরীদের লালাভ চোখে
আমার অরুচি। আগুনের ভয়ে আমি
মৃতদেহ ভালোবাসি...হিম শীতলতা
আমারে এখনো আবেশিত করে।
ড্রাগনের ভয়ে আমি চীনদেশীয় রূপকথার বইয়ের
পাতা উল্টাইতে ভুলছিলাম অনেক,
মা বলতো অ্যামনেশিয়া; অ্যামনেশিয়ায় আচ্ছন্ন আমি
ভুলতে থাকি শুরু, ভুলতে থাকি শেষ।
শুরু আর শেষই যদি না খুঁজে পাওয়া যায়,
শরীরের দ্রষ্টব্য আর কিছু বাকী থাকে!?
রোদ্দুরের কবিতা ৩
খুড়েছি হৃদয়, বেদনারা জেগে উঠলো সহসাই
অনাহুত এভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্পর্ধায়
করজোড় করে কেবল ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া
আর কোনো সমাধান জানা নাই অক্ষম আমার।
রোদ্দুর, যেভাবে পুরাতন রূপে ছড়াতে দিগ্বিদিকে
ঠিক একইরূপে আবার আমারে উষ্ণতা দাও;
হিমঘরে অশ্রু-ঘাম আবেগের সকল প্রকাশ
কেমন বরফ হয়ে যায়...অনুভূতি ছোঁয়া গেলে
তারে আর মানবিক লাগে না, কেবলি বরফের কুচি
হয়ে নির্বোধ ত্বকের কোষে কোষে গড়িয়েছে।
ক্ষমা প্রার্থনা ব্যতীত আর কোনো শাপমোচনের মন্ত্র
শিখি নাই। শব্দে শব্দে কেবলি করজোড় করে
ক্ষমা চাই রোদ্দুর তোমার কাছে।
বোধিসত্ত্ব
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
রেললাইনে শরীর ফেলে রাখতে গিয়ে ভুল ক্রমে চড়েছি রেলগাড়িতে
তারপর কেবলি ফেলে আসা জংশনের মায়া জাগে; চোখে লেগে থাকে
পতাকার লাল রঙ, সিগনালের সবুজ বাতি।
উৎস বিন্দু থেকে বহুদূর চলে এলে পেছনে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই
সেখানে তখন তুলির ব্রিসল টেনে অগণন রঙ চাপা হয়ে গেছে...
ক্যানভাসের শূন্যতা বলে কিছু নেই; জেন সন্ন্যাসে তারে
শব্দহীনতার শব্দ নামে ডাকা হয়।
অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (দুই)
যতোক্ষণ বাসায় থাকি ততোক্ষণ টেনশন থাকে। দুইজন রুগ্ন মানুষ, যেকোনো সময় তাদের অসুস্থতা বাড়তে পারে। তাদের ডাক্তার দেখানো-হাসপাতালে নেওয়া-নিয়মিত আপডেট রাখা, এর কোনোটাতেই আমি খুব অভ্যস্ত মানুষ না। বাপ আর মা দুইজন আমার চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বইলা তারা আমার আচরণরে স্বাভাবিক মানলেও আশেপাশে এমনসব লোকজন জড়ো হইতেছে যারা সারাক্ষণ শিক্ষামূলক বয়ান শুনাইয়া চলে। এমনিতেই খুবেকটা সামাজিক মানুষ বইলা আমার গ্রহণযোগ্যতা নাই, দিনে দিনে আরো আসামাজিক হইতে থাকি।
অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (এক)
বেশ ক্লীশে শুনাইলেও আমি আসলে বিলীয়মান মানুষে পরিণত হইছি। যতোক্ষণ নিজের সত্ত্বায় আছি ততোক্ষণ আমি আর বাকিটা সময় আমি জেনব্রত পালনের নামে আসলে স্মৃতি মোছামুছির তাগীদে থাকি। যার কোনো ভিত্তি নাই। জেনরাও পারে নাই সমর্পনের ধারণারে মুইছা ফেলতে। তারা মনহীন স্তরের নামে বাস্তবিক ধর্মের বা ঈশ্বরের বা গৌতম বুদ্ধের কাছে যাইতে চায়। ইহজাগতিকতার সকল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাইয়া তারা অপার্থিব কোনো স্তরের খোঁজাখুঁজি করে। তাতেই তাদের প্রেম। তবে পার্থিব ধারণার বিষয়ে তাদের অনাগ্রহের সূচনা হয় অপার্থিবরে পাইবার বাসনা থেইকাই। কিন্তু যদি ঈশ্বর কিম্বা ধর্ম অথবা গৌতম বুদ্ধ যদি পার্থিব হয়! তাইলে এই বিষয় জেন ধারণা কি বলে?
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৩)
(এই পোস্টটা হয়তো লিখতাম না কখনো। রায়েহাত শুভ নামের পছন্দের মানুষটার সাথে বেশ কয়েকদিন দেখা না হইলেও তার অনুরোধটা হঠাৎ মনে পড়লো...তারেই উৎসর্গ করলাম এই শহরে আমার জন্মবিষয়ক পাঁচালী)
রোদ্দুরের কবিতা ২
ভেসে যাক রোদ্দুর যেখানে তার উদারতা ছড়াবে বিস্তৃত
আমাদের নীল সরোবর বয়ে যাক মৃত্যুর মতোন হিমবাহে;
বেগুনি নৌকার পাল কুয়াশার আড়ালে ক্ষয়ে গেলে কার কী!
একা থাক তবে সাদা ঘর, অথবা দখল করে নিক ডাইনী বুড়ি
সুদীর্ঘ পাহাড় বেয়ে ওঠা সিঁড়িতে শ্যাওলা জমে ঢেকে দিক
পায়ের আওয়াজ কিম্বা ইতিহাসের সকল বিবর্ণ অক্ষর।
কুলফি মালাইগুলো বরফের আস্তরনে ধীরে সভ্যতারে
ডাকুক নতুন নামে। নামহীন মরে যাক পরাজিত জন;
রোদ্দুর কখনো যার কোনো নাম রাখে নাই, না রাখুক!
চলে যাক রোদ্দুর নতুন কোনো দেশে। এই ভূমি মৃত্যুর কাছেই
বাঁধা রয়ে যাবে, কোনো এক জ্ঞানী বৃদ্ধ বহুকাল আগে
বলেছিলো দৃঢ় কণ্ঠে, এই ভূমি মৃত্যুর মতোন বিরক্তির!
শীতল শীতল মিহি বরফ বাতাসে চাপা থাকুক মর্গের নীরবতা।
কোনো এক প্রত্নবিদ এসে একদিন ঠিক জেনে যাবে
রোদ্দুর চলে গেছে একবিংশ শতকে আমাদের ছেড়ে...
রোদ্দুরের কবিতা
দিনশেষে ঘরে ফিরতেই হারে রেরে রেরে করে তেড়ে আসে রোদ্দুর
মিহি বাতাসে তার ঘরবাড়ি উড়ে গেছে, জনপদে ছেয়ে গেছে ধুলোবালিময়
চায়ের গেলাস; চুপসে যাওয়া মানুষেরা চুপচাপ চুমুকে চুমুকে
খেয়ে যায় মেকী উষ্ণতারে, ভরপেট মদিরায় ডুবে গেলে ভালো ছিলো ভেবে
স্বপ্ন নামের দুঃস্বপ্নগুলোকেই ভাসালো এবার কুশিয়ারা কিম্বা তুরাগের বুকে...
যেইভাবে দূর্গাদেবী ডুবে যায় আগামীর বারতায়; বোকা মানুষেরা জানে নাই
দূর্গা চলে গেলে কখনোই ফেরে নাই ভূমণ্ডলে। প্রক্সি দিয়ে যায় সুধীর পাল ও
তার দলবল...রঙতুলিময় দেবী ফাঁকি দিয়ে ভক্তি নিয়ে চলে গেছে দূরে।
অভিযোগের তালিকা মেলে দিয়ে রোদ্দুর, ফোলানো গালে বসে আছে
ঘরের দাওয়ায়। তার চোখ থেকে গড়ানো অশ্রুর রেখায় রেখায় বরফের শ্বেত
শুভ্রতা উজ্জ্বল জ্বলে উঠে।
সানশাইন অন মাই শোল্ডার...
................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
আউট অফ দ্য বক্স
পৃথিবীর কতোজন গহ্বর খুলে চলে গেছে অনাহারে?
কতোজন ধুলোবালি হলো বলিহারী রক্তস্রোতে
এমনো অনেকে ভেসে যায় লবনাক্ত ঢেউ ঢেউ জোছনায়
সমুদ্র যাদের ফিরিয়ে দিয়েছে আবার লোকালয়ে।
কোনো ভোরে চমকালো একজন চতুর্দশী, মৃত্যুময়
ব্যর্থতায় কুকড়ে যাওয়া যুবকের অলস চাহনী দেখে,
যার চোখ নেভে নাই মরনের আগে, অথবা জলের
ভেতরেই চন্দ্রালোক ভেঙে যায়, ভেঙে যায় নীরবতা
আর চাঁদের রূপালী শরীর কেমন রেশম কোমল দোলে।
মৃত্যুর ঠিকানা লিখে রেখে স্টিকি নোটে, কানা ভোরে
সবুজ ঘাসের গায়ে পদছাপ আঁক তুলে হেটে গেছে
যে তরুণ, তার দেহের প্রতিটি ভাঁজে কেমন অপার
ঘ্রাণ ছেয়ে থাকে, ভালোবেসে ঘ্রাণ অনায়াসে চেনা যায়।
আমি ঠিক প্রতিরাতে এমন মৃত্যুর আবেশ টের পেলে
হাতটাকে কাছে এনে দেখি...খানিক্ষণ আগে মৃত্যু
এইখানে ছুঁয়ে গেছে। সমনের কপিখানা পৌছে গেলো
তবে...ফুরিয়েছে বছরের গুণিতক, মাসের গণিত
শুরু হলো আজ থেকে; দিনের গণিত প্রত্যাশায় এলে
আলসেমি'র লিরিক
এক.
আমার ঘুমেও আলসেমী, চুমুতেও;
হাটতে হাটতে মনে হয়
রাস্তাগুলো না থাকলেই ভালো ছিলো
তবে যোগাযোগ কমে যেতো আমার এবং
আমাদের।
দুই.
আসলে অলস আমি
বিছানাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি
বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিজেকে অলস ভাবতে।
বিছানারে ভালোবাসা সবচে সহজ
কেবল শরীরটাকে পেতে দিতে হয়...
তিন.
উপন্যাস লিখিনি কখনো;
আলসেমি। বয়সেরা আলসেমি রূপে
লুকিয়ে রয়েছে আমার কুষ্ঠি জুড়ে...
আলসেমিটাকে বাদ দিলে,
আমায় নবীন বলে ভাবতে পারো
চিরনবীন...মৃত্যুহীন!