ইউজার লগইন

ভাস্কর'এর ব্লগ

কনফেশন্স

এক.

পাগলের দিনলিপি (পাঁচ)

যে মানুষদের আমি দিনের আলোতে দেখতে পাই নাই
তাদের রাতের অন্ধকারে বেশ চেনা মনে হয়...
পাহাড়া দেয়ার নাম করে যেনো কিছু ইনসমনিয়াক
কেবল চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে গানের প্রস্তুতি নেয়।

তারপর সপ্তকে ধরে "গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ..."
গানের প্রতিটি শব্দে পাবনার কোনো এক গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়।
সেই গ্রামে রাতের বেলায় মার্চ পাস্ট করে হাটে
রোমান্টিক বিপ্লবীরা, তারাও নিয়মমতো ইনসমনিয়াক।

দিনের আলোতে ভিড় ঠেলে এইসব মানুষ শহর পেরিয়ে যাবার
ফুরসত পায়নাই। ধীরে ধীরে রোদ্দুরের ক্লান্তিতে সুযোগ পেয়েছে
সংশয়ী চাঁদের ম্রিয়মান জোছনায় হেটে বেড়াবার।
পথের আতিথ্য নিতে নিতে তারা থমকে গেছে আদাবর হাউজিঙে।

আলো তো বটেই, অন্ধকারও তাদের পেরিয়ে যাবার সাহস রাখে নাই।
তবে আমি পথের এপার থেকে তাদের অন্তরে থাকা নিঃসঙ্গতা টের পাই...
টের পাই মানুষের ভিড়ে ভীত মানুষেরা, এই শহরের রাজা বনে যায় রাতে।

পাগলের দিনলিপি (চার)

মধ্যরাতে গ্রামের সমস্ত মাটি তারা নিয়ে আসে
শহরের উচ্চতা এইভাবে বেড়ে যায়।
শহরের মানুষেরা মধ্যরাতে চায়ের দোকানে থামে
তাদের আঙুলে আঙুলে চায়ের কাপ ঝোলে।
জুতায় মাটির দাগ আর ঘ্রাণে পাগল হয়েছে
শহুরে কুকুর; অনাবাসী ঘেয়ো কুকুরের নাকে
ইতিহাস জেগে ওঠে, পোড়ামাটি আর পাল পাড়া।

গ্রামগুলো ক্রমশঃ চাঁদের অবয়ব পেতে থাকে।
নভোচারী কৃষকের ঘুম ভাঙে বৃথাই চিন্তায়
বাজারে তখন আয়েশে ঘুমায় ফড়িয়ারা
ভোর হলে ট্রাক ভরে যাবে লালশাকে, করলায়।
তারা স্বপ্ন দেখে আগুনে লালশাকের
মূল্য আর মূল্যবোধ উভয়ই বেড়ে গেছে।
চুপিচুপি স্বপ্ন দেখতে রয়েছে তাহারা...
অভাবী কৃষক যেনো ভুলেও ঠাহর না পায়
সেইমতো তারা লেপমুড়ি দিয়ে স্বপ্নের অবুঝ
লীলাখেলা ঢেকে দ্যায়।

প্রতিরাতের মতোই আমি বাঁদরের মতো
বারান্দায় ঝুলে থাকি। কৃষ্ণপক্ষে চাঁদ ইচ্ছেমতো
অন্ধকার নিয়ে খেলতে থাকে...

পাগলের দিনলিপি (তিন)

শহরটা যখন ঘুমায় গ্রামটা তখন জেগে উঠে
শহরটা যদিও ঘুমায় রাত করে, প্রায় ভোরের নাগালে
আর গ্রামগুলো তখন ঘুমিয়ে কাদা।
তবুও শহরটা গ্রাম হয়, গ্রামের মতোই
মেঠোপথ-উদাসী বাউল-দীর্ঘ যাত্রার পথিক
সকলেই ভিড় করে শীতের সকালে
চায়ের হারানো কাপে চুমুকে চুমুকে
স্মৃতির মেমোরিয়াল বানিয়ে ফেলেছে।

শহরটা যখন গ্রাম হয় তখন কিচ্ছুতে তার
যায় আসেনা যেহেতু রিকশায় নেমেছে শাহানা
পায়ে হেটেই চলেছে...দুচ্ছাই এই মেয়েটার নাম
জানা হয় নি, তাদের প্রেমিকেরা চুমুক দিয়েছে চায়ে;

গ্রীল বেয়ে নেমে যেতে ইচ্ছা করলেও
গ্রামে যাওয়া হয় না আমার...
শহরের বাড়িগুলোতে তালার কারসাজি
তালা'র আড়ালে খুন হয়ে যাচ্ছে
সাগর এবং মেহেরুন রুনি, আর মেঘ
ভাসতে শুরু করে এই গেয়ো শহরের রাতে।

কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা: বালখিল্য ব্লগরব্লগর...

সাগর সারওয়ার কিম্বা মেহেরুন রুনি কাওরেই আমি চিনি না। যদিও টেলিভিশন চ্যানেলের বদৌলতে মেহেরুন রুনি নামটা পরিচিত ঠেকে, কিন্তু তার চেহারা দেইখা চিনতে পারি না। তবে পরিচিত সাংবাদিক আর টেলিভিশনে চাকরীরত বন্ধুবান্ধবের আহাজারীতে আর বিভিন্ন্ আড্ডার ফিসফিসানিতে তাদের সম্পর্কে আমার জানা হইতে থাকে। আমি নিজেও কোনো না কোনো ভাবে টেলিভিশন কেন্দ্রীক পেশাজীবীতায় থাকি। কিন্তু আমার নাম টেলিভিশনে শোনা যায় না বিধায় খানিকটা হতাশাগ্রস্ত হইয়া পড়তে থাকি। জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো একটা স্তরে উঠতে না পারার ডিপ্রেশনে পাইয়া বসে আমারে। মনে হয় আমার যদি এমন অপঘাতে মৃত্যু হয় তাইলে তো এমন কইরা ফেইসবুক ওয়ালে তোলপাড় উঠবো না! তাইলে কি এই জীবনটাই বৃথা!?

পাগলের দিনলিপি (দুই)

নিজেকে ইঁদুর মনে হতে থাকে মাঝে সাঝে।
অনধিকার মেনেও ঢুকেছি গোলায়, ধান ক্ষেতে।
আর কখনো তোমাকে শিশু মনে হয়
গোপনে লজেন্স চুষে দাঁতের গোড়ায় পোকা।
মায়ের খবরদারীতে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে
তাকে ছুড়ে দিলে ইদারায়, ইতিহাস থেকে
বহুদূরে...মৃত্যুর দুয়ারে।

কখনো সখনো আমার সত্যিই ইচ্ছে করে
ইঁদুরের মতো ঢুকে পড়ি তোমাদের গাঁ'য়ে
তারপর আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন
করে দেই, রঙ-তুলিতে সাজানো সূবর্ণরেখা।

অসহায় পাগলের মতো নিজেকে আসলে
বেঁধে ফেলেছি লোহার শেকলে, ঘরের বাইরে
যেতে নিষেধ করেছে চিকিৎসক...সেও আমি!

ভুলে যাওয়া রুম নাম্বার কবিতারে আমি যেইভাবে বুঝতে পারি...

ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর
অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে
সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ
হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে
ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ
নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।

পাগলের দিনলিপি (এক)

লেখাজোখার আগ্রহটারে আমার মাঝে মাঝে
অসুস্থতার মতোন লাগে। ডেফিশিয়েন্সি্।
মাঝে মাঝে আমার লোভে চোখ চক চক করে।
স্বাভাবিকতায় ভেসে যেতে চাইলেই কি আর
সরে যাবে লক্ষ্য আর ভিজে যাবে কুড়োন কার্তুজ!

একটা দিনের আশা নিয়ে শুয়ে থাকি বিছানায়,
সভ্যতার মতোন ক্ষয়িষ্ণু বিছানায় আমার ওজন
আর হারানো ছায়াটা জড়াজড়ি করে...
গড়াগড়ি খায়। আমি স্বাভাবিক হবো বলে
ধ্যানে মগ্ন থাকি। কোত্থেকে যেনো এক যেন সাধু
উড়ে আসে গেরুয়ারে পাখার মতোন মেলে দিয়ে।
ধ্যান টুটে গেলো তার পাখার অসহ পতপত শব্দে।
সে বলে, "দেখো আমি শব্দহীনতায় আছি,
যদি তুমি কিছু শুনে থাকো, সে তোমার কানের বিভ্রান্তি।"

ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৪)

সম্ভবতঃ সেই টাইমে কেজি ওয়ানে উঠছি মাত্র। ক্লাসের মিস সবার নামধামের লগে বাড়তি একটা প্রশ্ন জিগাইতেছিলো; বড় হইলে কে কি হইতে চায়। অলটাইম ব্যাক বেঞ্চার আমি বহুত টেনশনে পইড়া গেলাম। কি হইতে চাই আমি! বড় হইলে আমি আসলেই কি হইতে চাই!

হাইকুগুলো...

..................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার

পথ সহজ হলেই হলো, তাতেই আমোদ-তাতেই উল্লাস।

"কীর্তি কর্মার কীর্তি কে বুঝতে পারে,
সেবা চিত্তে লয়ে কোথায় রাখে ধরে,
এ কথা আর শুধাব কারে,
নিগুঢ় তত্ত্বকথা কে বলবে আমায়?"

ইতিহাস জ্ঞানে নিতান্তই বোকামানুষ আমি সাইজী'র এমন প্রশ্ন শুইনা প্রথমে চমকাইয়া উঠছি। সম্ভবতঃ সিরাজ সাইজীর অন্তর্ধানে শোকগ্রস্ত লালনের অভাগা অন্তরে এই প্রশ্ন জাইগা উঠছিলো আর্তনাদের মতোন। লালন সাই'য়ের কালামে অনেক অনুযোগ টের পাই প্রায়শঃ'ই, কিন্তু অন্তরের এমন আহাজারী হৃদয়ের স্পর্শকাতরতায় আঘাত করে। গুরু-শিষ্যের এই নির্ভরতামূলক সম্পর্কের এই ধরণটারে একেবারেই উপমহাদেশীয় মনে হয়। এর আগে আরেকটা গান শুনছিলাম উকিল মুনশী'র চরনে,

শুয়াচাঁন পাখি,
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!
তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি
আজ কেন হইলে নীরব মেলো দুটি আঁখি।

lalon

পথ সহজ হলেই হলো, তাতেই আমোদ-তাতেই উল্লাস।

"কীর্তি কর্মার কীর্তি কে বুঝতে পারে,
সেবা চিত্তে লয়ে কোথায় রাখে ধরে,
এ কথা আর শুধাব কারে,
নিগুঢ় তত্ত্বকথা কে বলবে আমায়?"

ইতিহাস জ্ঞানে নিতান্তই বোকামানুষ আমি সাইজী'র এমন প্রশ্ন শুইনা প্রথমে চমকাইয়া উঠছি। সম্ভবতঃ সিরাজ সাইজীর অন্তর্ধানে শোকগ্রস্ত লালনের অভাগা অন্তরে এই প্রশ্ন জাইগা উঠছিলো আর্তনাদের মতোন। লালন সাই'য়ের কালামে অনেক অনুযোগ টের পাই প্রায়শঃ'ই, কিন্তু অন্তরের এমন আহাজারী হৃদয়ের স্পর্শকাতরতায় আঘাত করে। গুরু-শিষ্যের এই নির্ভরতামূলক সম্পর্কের এই ধরণটারে একেবারেই উপমহাদেশীয় মনে হয়। এর আগে আরেকটা গান শুনছিলাম উকিল মুনশী'র চরনে,

শুয়াচাঁন পাখি,
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি!
তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি
আজ কেন হইলে নীরব মেলো দুটি আঁখি।

অপেক্ষা

আমার সকল গন্তব্যের পথে দেয়াল দাঁড়িয়ে গেলো,
আত্মহননের পর ওরা নিশ্চিত দলবেঁধে
রোদ্দুর ছাড়খাড় করে দেবে,
তাই কবে লেখা হবে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ লিপি
তার অপেক্ষায় অন্ধকারে থমকে গেছে দুমুখো ইস্পাত।

শায়লার দিকে যাওয়া: রাজনৈতিক সম্পর্কের মেটাফিজিক্স উন্মোচন প্রচেষ্টা...

দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি,

------ আবুল হাসান

মানুষের মরণচক্র

.........................................................................................................
.........................................................................................................
.........................................................................................................

উদ্বেগ

ঘুঘু যেনো মৃত্যুর প্রহরী,
গলা ফুলিয়ে হুংকার দ্যায় ক্রমাগত;
নিরুদ্বিগ্ন রিকশার চাকায় সভ্যতা
আটকে গেলে ছিটকে পড়ে
ইতিহাসের বয়ান, স্মৃতির ফুলেল
ঝাঁপি। তারপর বর্তমানের
শূন্যতায় সুরে বেজে উঠে,
"তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ..."

হনন কাহিনি

বহুদূর গ্রামে জলে ভরা সরোবরে
নেমেছে পার্পল সন্ধ্যা। তারসাথে উৎসব
বেজে উঠে ঢাকে আর বিউগলে, যেনো
আজ মৃত্যুর দেবতা অন্য কোনো নামে,
ছদ্মবেশে, চুপিসারে এসে হানা দেবে