ইউজার লগইন
ব্লগ
প্রথম বইয়ের প্রথম প্রকাশ

রাতে বসে বসে স্বামী স্ত্রী রোজকারের খেজুরে আলাপটা সেরে নিচ্ছিলাম। স্বামী টিভি অফ করে প্রায় ওপরে যাচ্ছেন যাচ্ছেন পর্যায়ে আছেন, আর আমাকে তাগাদা দিচ্ছেন যেনো আমিও শুয়ে পড়ি। পতিদেবের ধারনা রোজ কম ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমার মেজাজটা দিন দিন আরো খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। তিনি নিয়ম করে দিয়েছেন, উইকডেজে রাত এগারোটার পর বাড়িতে কেউ আর জেগে থাকতে পারবে না। আমি ল্যাপি অফ করবো করবো অবস্থায় আছি, এমন সময় শেষবারের মতো ফেবুটা চেক করতে যেয়ে দেখি জাগৃতি প্রকাশনী তাদের এবারের বইমেলার প্রকাশনার এ্যালবাম আপলোড করেছেন।
দশ বছর!
মিশ্রিত দিন রজনী পার আমার পছন্দ না। হয় দিন ভালো কাটবে নয়তো দিন খারাপ কাটবে, হয়তো মন ভালো থাকবে নয়তো মন তুমুল খারাপ থাকবে। এই মোটামুটি ভালো খারাপের মিশ্রনের দিন আমার পছন্দ না। নানক সাহেব রাস্তার উন্নয়ন করবে খাল কাল্ভার্ট দিয়ে ঢেকে দিবে তাই নান্নুর দোকান চলে গেলো। অবশ্য দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তা তিন চারদিন ধরেই জানা। নান্নু সাহেবের ইচ্ছা ছিলো দোকান চলে গেলেও খোলা আকাশের নিচে দশ পনেরো দিন রেখে ব্যাবসা পাতি করবে বাকীর টাকা উদ্ধার করবে। কিন্তু তা আর হলো না। কাল যদিও বালুর বস্তায় বসে খোলা আকাশে বসে নান্নুর অস্থায়ী বাক্সো দোকানে চা খেলাম। আজ আর কপাল নেই। সকালেই পুলক ফোন করে বলে দিছি নান্নু বন্ধ। তাও বের হলাম গা গোসল করে। সেলিমের দোকান আছে সোসাইটি পাচের মেইনরোডে সেইখানে যেয়ে নিজেরে এতীম এতীম লাগলো। তাও বসে রং চা খেলাম। চাদপুরে বাড়ী সেলিম সাহেবের তার দোকানে কম বসা হলেও পুলকের কারনে তিনি আমারে পায়া অত্যন্ত খুশী। চা খেলাম বসে থাকলাম। এমন সময় এক সমবয়সী লোক তার বন্ধুকে বলতেছে আওয়ামীলীগ বাদে আর কেউ জনস্বার্থ দেখে না। কথাটা নান্নুর দোকানে কইলে তারে আমি জিগাইতাম জনস্বার্থ জিনিসটা কি আগে বুঝায়া কন। কিন
চিঠি

একটা সময় ছিল যখন চিঠি লিখতাম প্রচুর। শৈশবের বন্ধুদের কাছে, ছোটবোনের কাছে, ভাইদের কাছে, আত্মীয়স্বজন পরিচিতজনদের কাছে। নিজেও চিঠি পেতাম প্রায় প্রতিদিন। চিঠির জন্য সে কি অপেক্ষা।
আজ বহুদিন কাউকে চিঠি লিখি না। কারো চিঠি পাইনা। মোবাইল ফোনের হাতে চিঠি খুন হয়েছে। খুন হয়েছে রক্তমাংসের আবেগ অনুভূতি।
মাঝেমধ্যেই পুরোনো চিঠিগুলো বের করে পড়ি। ধুলোবালি ঝেড়ে পরিস্কার করে যত্ন সহকারে আবার বাক্সে ভরে রাখি। নানান রকমের চিঠি - কোনটা দুই পাতার, কোনটা দশ পাতার, কোনটা রোলটানা কাগজে লেখা, কোনটা লেখা রঙীন প্যাডে।
বইমেলা সরগরম - ০২
ঢাকা আমার অবৈধ প্রণয়, শহরের বিশ্রী জ্যাম, ধুলো, নোংরা আবর্জনাভর্তি রাস্তা আর হকার পতিতায় বেদখল হয়ে যাওয়া পাবলিক প্লেস নিয়ে আক্ষেপ করে কাটিয়ে দিলাম দুই দশক, শহরটা মফস্বলের ছোঁয়াচ মুছে ধীরে ধীরে আরও জগদ্দল স্থবির মন্থর শহরে পরিণত হলো, রাস্তার দুপাশের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া ল্যান্ডস্কেপের সবুজহীনতার কষ্ট রুমালে মুছি আর মুছি ঠোঁটের ধুলোর দাগ, ঢাকা আমাকে মাটিতে টেনে নিয়ে প্রগাঢ় চুম্বন করে আর আমার ফুসফুস তার কালো নোংরা ধোঁয়া আর বীজাণুতে ভরে ওঠে প্রতিদিন।
এই শহরে নতুন কিছুই ঘটে না ইদানিং, আমাদের গল্পগুলো কেটে যাওয়া লংপ্লে রেকর্ড প্রতিবারই ঘ্যাচাং করে পুরোনো দাগের জায়গা থেকেই বেজে ওঠে নির্লিপ্ত, প্রতিবারই ভাবি বদলে নিতে হবে সবকিছু, বদলে যাওয়ার শ্লোগান দেখি রাস্তার বিলবোর্ডে কিন্তু আমার বদলে যাওয়া হয় না।
সাংবাদিকের দিনলিপি
১.
পদ্মা সেতু নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে টানা লিখে যাচ্ছি। সেই লেখার একটা অধ্যায়ের শেষ হল শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠেই দেখি বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তার এসএমএস। বললো, মেইল চেক করেন। মেইল দেখলাম, জানলাম যে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অধ্যায় শেষ।
অফিসে গিয়েই দেখি আমার টেবিলে একটা চিঠি। লিখেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। এইটা একটা মজার কাহিনী। যতবার আমি বা আমার অন্য সহকর্মীরা পদ্মা নিয়ে লিখেছেন, তারপর দিনই অবধারিত ভাবে আসবে একটা চিঠি। লেখেন সৈয়দ আবুল হোসেন নিজেই। লম্বা লম্বা চিঠি। তিনি যে ফুলের পতো পবিত্র সেটিই ইনিয়ে বিনিয়ে লেখা হয। তবে মজা হয় যদি শিশিরদার কার্টুন থাকে। কার্টুন জিনিষটা সম্ভবত তিনি একদমই সহ্য করতে পারেন না। কার্টুন ছাপা হলে চিঠির দৈর্ঘ আরও বাড়ে।
একাধিকবার অফিসে ফোনও করেছেন। বার বার বলেছেন, দয়া করে যেন কার্টুনটা না দেই। কিন্তু কে শোনে তাঁর কথা। কালকেও নতুন একটা কার্টুন যাচ্ছে।
কেবল চিঠি না, ফোনও করেন। নামে কোনো রিপোর্ট ছাপা হলে, অফিসে তাকেই ফোন করেন। আর ফোন ধরলে আরেক যন্ত্রণা। কথা বলতেই থাকেন। বিষয় একটাই, তিনি ফুলের মতো পবিত্র।
শোনা কথায় বইমেলা: ফেব্রুয়ারি ১
থাকি ঢাকার বাইরে। আগে মতো আর প্রতিদিন বইমেলায় যাওয়া হবে না। এ এক বড় দুঃখ!
১৯৯৩ সাল, নবম শ্রেণীতে উঠেছি। পিসিরা খ্যাপায়- নাইনে নাকি ‘লাইন’ করে। শুনে কিছুটা লাজরাঙা হই; কৈশোর বয়স। দাড়িগোফ উঠতে শুরু করেছে। আভাস দিচ্ছে বড় হওয়ার কিংবা বড়ত্বের। পিসিদের কথার প্রবল প্রতিবাদ করি- না, না, লাইন-টাইন করবো না। তাহলে কী করবি?- পিসিদের প্রশ্নের উত্তরে বলি, কবিতা লিখবো। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ছড়া লিখেছি, আস্তে আস্তে ভাবছিলাম কবিতার দিকে যাবো কিনা। কবিতা আমার কাছে তখনো বড়দের ব্যাপার। ভেবেছিলাম লাইনের বদলে পিসিদের কবিতার দিকে ডাইভার্ট করা যাবে; কিন্তু শুনে তারা বললো- মানুষ নাকি প্রেমে পড়লে কবিতা লিখে!
তাই কি?
আমার বই
'রোদ কিংবা জ্যোৎস্না হতে চাইনি কখনও। কবি তো নয়-ই। তবু শব্দের করতালিতে জেগে ওঠে মধ্য রাতে কলম। বরফ হয়ে যাওয়া পাঁজরে চাষবাস করবো শব্দের, কখনও ভাবিনি। আমি কবি নয়, কবিতা হতে পারলে ভালো হতো। কোন কিশোরী লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে সে কবিতা বা সেই কবিতা উপহার দিতো তার প্রেমিককে, আর সেই প্রেমিক কবিতাটি রেখে দিতো বালিশের নিচে।
হতে পারিনি কবিতা। হতে পারিনি বলে কোন আফসোস পোষে রাখিনি।
অথচ কবি হয়ে আমি আফসোস এর স্রোতে ভাসি ক্রমশ, কারণ আমি কবি হতে পারিনি। যা আমি লিখি তা কবিতা নয়! কবিতা বলতে যা বোঝায় সেই কবিতা আমি লিখতে জানিনা।
আমি যা বলতে পারি না কারো কাছে, যে কথাগুলো বলা যায় না, যে কথা শুধু দীর্ঘশ্বাস হতে পারে, যে কথা প্রেমিকটির বালিশের নিচে গোপন থাকা চিঠির মতো গোপন! সেই সকল-ই আমি লিখি, আর আমার এক একটা লেখা পড়ে ছিঁড়ে ফেলে দেই, আমার মনে হয়, আমার লেখা কেউ পাঠ করলে আমার সব ভেসে উঠবে, কারণ শব্দ দিয়ে আমি ঢেকে রেখেছি জীবনের ক্ষতগুলো।
সময়ের লাশ ২য় পর্ব
দাদুর কাছে পড়তে গেলে আগে দু’একদিন বন্ধ দিতাম। এখন পারলে দিনে দু’বার যাই। কারণ যখনই পড়তে যাই, তখনই ওকে দেখি। হয়, মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে; নয়তো, অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। দু’মাস বয়ে গেছে শুধু দেখা-দেখি। আমাদের বাসা থেকে খানিক দূরে দাদুর বাসা। দাদু, দীননাথ চক্রবর্তী আমার বাবারও শিক্ষক, তাই মায়ের কথামত দাদু বলি। আজ মা দাদুর জন্য পিঠা দিয়েছে। আমি পিঠা নিয়ে যাচ্ছি। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বুকটা কেঁপে উঠল। যাকে দূর থেকে আড়চোখে দেখতাম, সে আজ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কি করছে? ভয়ে ভয়ে এগোতে লাগলাম। দেখি, একটা কাগজ ইট দ্বারা চাপা দিয়ে ও সরে গেল। বুঝতে আমার বাকী রইল না। হেঁটে সোজা দাদুর বাসায় চলে গেলাম। চিঠির দিকে ভ্রুক্ষেপও নেই আমার। পরের দিনও দেখি চিঠি একই অবস্থায় ইটে চাপা পড়ে আছে। কিছুক্ষণ কাগজটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ কি যেন অনুভূতি জাগল মনে। ভয়ে ভয়ে কাগজটি উঠায়ে চারদিকে তাকালাম। না, কোথাও কেউ নেই। বেশ পাকা হাতে বুকের ভিতর কাগজটা লুকিয়ে রাখলাম। যেন, কেউ না দেখে।
গল্প : শেষ বিকেলের সোনালি আলো মিলেছে যখন চোখের কোণায়
অচেনা বন্ধুকে আমি সুন্দরী মনে করতাম। কিন্তু দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারি, ধারণাটায় কি মারাত্মক রকমের ভুল ছিলো!
বই পুস্তকের মেলা খেলায়!
অনেক দিন দুপুরে পোষ্ট লেখি না। সেই সামুর আমলে দুপুরে পোষ্ট লিখতাম সকাল জুড়ে ব্লগে বসে থাকতাম। দিনগুলো ছিলো অন্যরকম। তখন মনে হতো ব্লগে থাকার চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কোনো কাজ থাকতে পারে না আর। যাই হোক ব্লগের জায়গায় এখন ফেসবুক। মোবাইল দিয়ে ফেসবুক দেখা সংযোগ থাকা খুব ইজি কাজ। তার জন্য কোনো বাড়তি এফোর্টের প্রয়োজন নাই। কিন্তু ব্লগিংটা আসলে পিসিতে বসেই করার জিনিস। যদিও আমি মোবাইলে লিখতে পারি পোস্ট ভালোই। তাও সেটা ঠেকায় পড়েই। কিন্তু ব্লগিং জিনিসটা কম্পিউটার ল্যাপটপেরই ব্যাপার। ফেসবুকের মতো তা এতো ইউজার ফ্রেন্ডলী আইটেম না। আর ফেসবুক দিয়ে দ্রুত সবার কাছে চলে যাওয়া যায়। ধরেন আমি কালকে একটা লেখা শেয়ার দিলাম বা ইদানিং দিতেছি তাতে চায়ের দোকানের বন্ধু বান্ধবেরা পড়ছে আর এসেমেস করে বলে শান্ত ভাই আপনি তো আমাদের নিয়া সেরকম লেখা লিখে ফেলেন। আপনার লেখার হাত দারুন। অথচ আমি যে ব্লগে লিখি কোন ব্লগে কি লিখি তা কেউ জানে না অথচ ফেসবুকের এক শেয়ারের উসিলায় সব কিছু পড়ে ফেললো। এইটাই ফেসবুকের শক্তি।
বইমেলা সরগরম - ০১
পড়াশোনা সীমিত হতে হতে এখন ইতিহাসমুখী, গত ১ বছর কিংবা ২ বছরে মূলত ইতিহাস আর আত্মজীবনি পড়েই সময় কাটলো। উপন্যাস গল্প পড়া হয় নি, এ বছরও বইমেলা মূলত এমন বইয়ের খোঁজেই কাটবে। এক ধরণের তালিকা তৈরি হয়েই আছে মাথার ভেতরে, বই খোঁজার সময় সে তালিকা ধরেই অসচেতন খোঁজটা অব্যহত থাকবে, তবে পুরোনো প্রকাশনীর সাথে পুরোনো বইগুলোও বইমেলার স্টল থেকে হারিয়ে যায় ব্যক্তিগত সংগ্রহে অনাদরে পরে থাকে, সেসবের গায়ে ধুলো জমে এবং কোনো একদিন পরবর্তী প্রজ্ম ঘরের ঝুল ঝেড়ে পরিস্কার করতে গিয়ে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রী করে দেয় কাগজের দোকানীর কাছে।
সেসব বই বাছাই হয়ে চলে আসে পুরোনো বইয়ের দোকানে ফুটপাতে, সেখানে হয়তো আগ্রহী মানুষ খুঁজে পায় সেসবের হদিশ এবং পুনরায় সেসব চলে যায় বইয়ের তাকের পেছনের সারিতে, অপেক্ষা করে প্রজন্ম বদলের।
স্থায়ী অপেক্ষা
স্থায়ী অপেক্ষা
কাঁচের ওপারে জাফরি রোদ
ব্যস্ত রাস্তা, হুড়োহুড়ি বেশ
এপারে আয়না ঘরে আমাদেরও
দমবন্ধ, বাতাসে কর্মযজ্ঞের রেশ।
রবি থেকে বৃহস্পতি একই বৃত্ত
এক ই মুখ, একই অসন্তুষ্ট চিত্ত;
জীবন মানে আদতে নারদ নৃত্য,
তোমাকে মাড়িয়ে আমি চলে যাব,
কেউ বোঝে না সবাই-ই
”কর্পোরেট ভৃত্য”।
স্থায়ী নয় সুখ, নয় স্থায়ী নিঃশ্বাস
অপেক্ষায় সেই পুরানো-
’তিন এবং আধ’ মাটির আবাস।।
ভীড়ের মানুষেরা ভীড় ঠেলছে যদিও আমি কুম্ভকর্ণের ঘুমে
ব্লগিং তবে ছেড়ে দেয়া হয়নি বুঝতে পারি। মাঝে মাঝে ঢুঁ মারা নেহায়েত খারাপ না। অনলাইন-অফলাইন-টিকেটের লাইন, বে-লাইনে লাইন বাড়ছে। আমরা কেবল মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছি লাইনের বাইরে। ঠ্যালা সামলা বাবা!
পাখি হবার সাধ ছিল সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আরো সাধ ছিল বড় হবার সাধ। সময়ে-সময়ে গায়ে-গতরে বড় হয়ে গেছি। এই বড় বেলায় এসে দেখি আর বড় হবার আকাঙ্ক্ষা মরে গেছে। তবে কি আমি কিছু হতে পেরেছি-প্রশ্ন বিশাল। অথচ উত্তর সহজ- কিছুই হতে পারিনি! মাঝপথ দিয়ে মিলিয়ে গেছে বড় হবার সাধ। ছোটবেলার পাখিই হওয়া হয়ে ওঠেনি আর হতেও পারিনি ঠ্যালা সামলাবার বড় কেউ!
পথিকের পা থেকে পথের জন্ম। ভীড় ঠেলে মানুষেরা জন্ম দেয় আরেক ভীড়ের। কেউ কেউ এখানে জায়গা করে নতুন জায়গার। কেউ কেউ ঘুমায়, কেউ কেউ জাগে। কেউ জাগে না, কেউ জাগতে চায় না। এ কেউ কেউদের ভীড়ে আমিও এক পরিচিয় লুকানো কেউ। আমাকে আমি খুঁজি, আমাকে অন্যে খুঁজে। আমি তাই আমরা হই, আমরা ভেঙে আমিতে নামি। পৌণপুনিক বৃত্ত। বৃত্ত ভাঙছে, বৃত্ত গড়ছে। ভাঙুক; গড়ুক!
ভোর নামুক
ছোপ ছোপ রক্ত কেন নীল তোয়ালে-
তোমার শরীর জুড়ে মিশে আছে কামনার রঙ
ব্ল্যাক টিশার্ট
কালকের ঘটনা এক ছোটো ভাই চায়ের দোকানের। তার সাথে রিক্সায় গিয়েছিলাম আজিজে। সাধারনত আমি আজিজে গিয়ে বিদিত বাদে আর মনির সাহেবের চায়ের দোকান এইটুকুতেই যাত্রা মাঝে মধ্যে প্রথমাতে বই দেখা সেইখানে কিছু স্টার টাইপের লোকজনের আনাগোনা হজম করা এতোটুকুই কাজ আমার। আগে লিটল ম্যাগের ওদিকে খুব যেতাম একা একাই পড়তাম কিনতাম কিন্তু লিটলম্যাগ ওয়ালারাও যেমন সাহিত্যের ভরংবাজ আমিও তেমনি তাই আর যাই না। কিন্তু সাইফের সাথে গেলাম সাইফ কিনবে ব্যাগ। ব্যাগ পছন্দ করে রাখছে গ্রাসহুপারসের কিনে ফেলবে। সাথে তার কোর্তা কেনার খায়েশ হইছে আমি তাকে বুদ্ধি দিলাম আরটিস্টিতে গেলে ভালো পাবা সে কইলো ভাই ব্রাকে পড়লেও আমার অতো হেডম নাই তাই আজিজেই খুজি। আজিজে কোর্তা পাওয়া গেলো না। ব্যাগও শেষ লাভের লাভ হলো আমি একটা লেইড জ্যাপলিন মার্কা গেঞ্জী পাইলাম আর গ্রাসহুপারস থেকে কিছু খাতা আর কলম কিনলাম। ফেরার সময় ডিভিডি কিনলাম। দোকানদার আশস্ত করলো আমারে অন্তত সতেরোটা ছবি ভালো দেখতে পারবেন। আমি হাসতে হাসতে উনারে কই বাংলাদেশের চেয়ে সস্তা সিনেমা দেখার দেশ আর হয় না ৭০-৮০ টাকাতে গড়ে আটটা নয়টা ছবি কোনওরকমে দেখা যায় এরকম কপাল কয়দেশের আছে।
ফেইসবুক স্টেটাসমালা ৪
এক.
ভালো ছিলে কৃষকায় মেঘ, সংবিগ্ন তাড়ায় উড়ে
যাবে দূরবর্তী দেয়ালের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত
হাজারো কাহিনী মেলে রাখা বিপন্ন পলেস্তারায়।
তবুও নিয়তি জেনো, বেতার বার্তার মতো ঠিক
ছুঁয়ে দেবে আঁধারের পাখিকূল - অসহায় মোহে।
দুই.
শহরের পথে পড়ে থাকা রোদকণা
ধীরে কুয়াশায় বিলীন হবার কালে
আমি দাঁড়াবো সেখানে; লাল শার্ট,
ক্ষয়ে যাওয়া জিন। সিগারেট জ্বেলে
দিলেই আমার ম্লান বলিরেখাগুলো
আপনার চোখে পড়বে...বয়সের ভার;
তিন.
কার বা কাদের সহযোগিতায় বাচ্চু রাজাকার পালিয়ে গেলো সেইটার তদন্ত আর বিচার জরুরী এখন। পুলিশী নজরদারীর পরেও কিভাবে একজন যুদ্ধাপরাধী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে তার জবাব সরকারকেই দিতে হবে...
চার.
আহারে দেবদূত! তুমিও ভূতের ভয়ে ভয়ে
রয়ে গেছো পূত পবিত্র শরীর
অবদমনে দমনে ক্ষয়ে গেছে
তোমার মনন, প্রাণ ও মন বিষণ্ন...
পাঁচ.
কুয়াশায় দৃষ্টি সীমানা ঘোলাটে হয়ে আসে;
তবু তারে আরামদায়ক মনে হয়...
কুয়াশায় আড়াল হয়ে যায় জাগতিক নানা রূপ,
তবু সে যেনো নতুন রূপের সূচনা...
ছয়.