ইউজার লগইন
ব্লগ
শিরোণামহীন
অনেক দিন ব্লগ লেখা হয় না, অবশ্য তেমন বিখ্যাত লেখক না তাই গলা উঁচিয়ে বলতেও পারছি না " বুঝলে আসলে রাইটার্স ব্লক, লেখা আসছে না।" বেশ কয়েকবারই লেখা শুরু করতে গিয়ে মনে হয়েছে আসলে বিছানার উষ্ণতা মনোহর, রক্তচোষা মশা আর শীতের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তি না করে আরামদায়ক উষ্ণতায় নিজেকে সমর্পন করলেই ভালো। এলেমেলো ভাবনা মনে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েক দফায় কিন্তু সেসব গুছিয়ে লেখার আগ্রহ হয় নি।
যদিও ইংরেজী উপন্যাস কবিতা পড়া হয় না তারপরও একটানা ইংরেজী পড়ার কিছু সমস্যা আছে, ইংরেজী গদ্য বাংলা গদ্যের চেয়ে অনেক বেশী সাবলীল বলিষ্ঠ ঋজু এবং গোছানো, যদিও গত এক শতকে ইংরেজী গদ্য বিশেষত প্রবন্ধ নিবন্ধজাতীয় লেখায় গদ্যের ব্যবহারে ভিন্নতা এসেছে কিন্তু একটানা যতিচিহ্নবিহীন জটিল বাক্যের এক ধরণের মোহ আছে, কিছুটা সময় লাগে অভ্যস্ত হতে কিন্তু একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে গদ্যের মজাটা উপলব্ধি করা যায়।
এক ধরণের দিনলিপিও বলা যায়
১.
ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রো স্টেশনে লোকটি বেহালা বাজাতে শুরু করলো। জানুয়ারির সকাল। তিনি ৪৫ মিনিট ধরে বেহালা বাজালেন। ব্যস্ত সময় তখন। ওই ৪৫ মিনিটে ১১শ' মানুষ স্টেশনে এসেছিল। কিন্তু সবাই ব্যস্ত। তিন মিনিট পরে একজন বৃদ্ধ চলতে গিয়ে একটু থামলেন, তার দ্রুত চলে গেলেন। এক মেয়ে চলার পথে একটা ডলার রেখে গেলেন। একজন কয়েক সেকেন্ড থেমে বেহালা বাদন শুনে চলে গেলেন। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বেহালা শুনলো তিন বছরের এক শিশু। কিন্তু মা তাকেও নিয়ে গেলেন।
ওই ৪৫ মিনিটে মাত্র ৬ জন খানিক সময়ে থেমেছিলেন, ২০ জন চলার পথে অর্থ দেওয়ায় বেহালা বাদক পেলেন ৩২ ডলার। যখন বেহালা থামিয়ে লোকটা চলে গেল, কেউ তা খেয়ালও করলো না।
পুরো বেহালা বাদনের আয়োজন করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। মানুষের পছন্দ ও অগ্রাধিকার নিয়ে একটা জরিপের অংশ হিসাবে।
বেহালা বাদক হলেন জশুয়া বেল। এই সময়ের সেরা বেহালা বাদক। এর দুইদিন আগে তিনি বস্টন থিয়েটারে বেহালা বাজিয়েছেন, টিকেটের গড় মূল্য ছিল ১শ ডলার, প্রতিটি টিকিটই বিক্রি হয়ে যায়। অথচ মেট্রো স্টেশনে তাঁরই বেহালা বাদন কেউ শুনলো না।
ম্যুরাল রিভিউঃ অদিতি কবির
"ম্যুরাল", আমরাবন্ধু ব্লগ সংকলন ১ নিয়ে ব্লগার অদিতি কবিরের একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে অনন্যা ম্যাগাজিনে! এবি ব্লগারদের সুবিধার্থে পুরো লেখা টুকু তুলে দিলাম এই পোস্টেঃ




মূল লেখাটি পাওয়া যাবে এইখানে অথবা এইখানে।
মূল লেখার স্ক্রিনশট আপনার পিসিতে নামিয়ে পড়ার জন্য এইখানে ক্লিক করুন।
ক্ষ ব্যান্ডের গান নিয়ে বিতর্ক
শুরু হইছে 'ক্ষ' ব্যান্ডের একটি গান নিয়ে সামাজিক গনমাধ্যমে ব্যাপক ঝড়। গানটা আমার কাছে শুনতে ভালোই লাগছে। যে আবেগ দিয়ে সে গানটা গেয়েছে ... তার সেই আবেগ আমাকে কিছুটা হলেও নাড়া দিতে পেরেছে।
কথা হচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে। জাতীয় সঙ্গীতের একটা প্যাটার্ণ রাষ্ট্র নির্ধারণ করে দেয়। তার বাইরে যাওয়াটা আসলে নিয়মের অনিয়ম বলা হয়ে থাকে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটির প্রথম দশ লাইনকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয় স্বাধীনতার পরে। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে স্বরলিপিসহ জাতীয় সংগীত বিল পাস হয়। পরে সংগীতজ্ঞ সমর দাসের (প্রয়াত) তত্ত্বাবধানে ব্রিটেনের বিবিসি স্টুডিও থেকে জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রেশন তৈরি করে আনা হয়। এই সুরই বাজানো হয় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদিতে। কিন্তু অধিকাংশ শিল্পী জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় অনুমোদিত স্বরলিপি ও সুর অনুসরণ না করে তাঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত গায়কী অনুসরণ করছেন।
ও সুবাতাস
সুবাতাস, এপিঠ ওপিঠ বয়ে নাও বাতাবিলেবুর ঘ্রান
কাদা জলে ভিজেছে উন্মাতাল নক্ষত্র ঘর
আজ কবে কোথায় তার গান গেছে মিশে
বুকের খোলা মাঠ, ব্যালকনি কার্নিশে
জানি না, কখনো তার রাখিনি উত্তর।
ও সুবাতাস, উড়ে যাও এমাথা ওমাথা
ক্লান্তিহীন সাদা রঙ হাঁস
তাহার ঠোঁটেতে বয়ে চলে ফসফরাসের ঢেউ
আজন্ম র্তীথ, তেমাথা তিতাস।
সুবাতাস, এ কেমন নিরক্ষ দাগ
জল মিলে যার জানকির পরিণাম
পারমিতার চোখে পৃথিবীর ভূভাগ
আমার হৃদয়ে হেমলক, কালঘাম।
(১০.০১.১৩ {c}MNI)
বড়দিন ১৯৬২ - যে রাতের কথা অজানা অনেকেরই
যেভাবে বিকৃত হয়েছে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পরে আমাদের ইতিহাস, তাতে ২৫শে মার্চ মধ্যরাত্রিতে বঙ্গবন্ধুর বেতারে ভেসে আসা সেই বাণীগুলোর আগ পর্যন্ত কিংবা ৭ই মার্চের আগ পর্যন্ত অনেকেই মনে করি স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও নাকি চেয়েছিলেন স্বায়ত্ত শাসন। দোষ আমাদের নয়, ঠিক এভাবেই প্রচার করা হয়েছে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে। আজ জানবো জাতির এই মহান নেতা কত আগেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন স্বাধীন রাষ্ট্রের, কত আগেই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলার তার অন্যতম এক ঘটনা।
র্যাগিং! বন্ধ হোক বিকৃত আনন্দের উৎসব।

আনন্দ ভাল, তবে সেটি করতে গিয়ে অন্যের বেদনার কারণ হওয়ার অধিকার কারও থাকতে পারেনা। অথচ র্যাগিং নামের এক অদ্ভূৎ ও আদিম আচরন রয়েছে যা আমাদের দেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাতে দেখা যায়। র্যাগিং এর নামে বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিনিওর ছাত্র/ছাত্রীরা নবীন ছাত্র/ছাত্রীদের মানসিক ও শারিরীক ভাবে পীড়ন করে থাকে। এর চর্চা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এর ফল হয় ভয়াবহ। বহু নবীন ছাত্র/ছাত্রী মানসিক আঘাতের কারণে পরবর্তীতে আর স্বাভাবিক আচরন করতে পারেনা, কেও কেও আত্মহত্যাও করে ফেলে। র্যাগিং এ শ্রীলংকার পরিস্তিতি বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ। ভারতে এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সরকারী উদ্যোগে ওয়েবসাইট করা হয়েছে, টোল-ফ্রী টেলিফোনসহ দ্রুত অভিযোগ ও সত্যতা প্রমান সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
একটি রোবটের আবেগ
সময় কত দ্রুত কেটে যায় !!! এই তো সেদিনের কথা, সারাদিন অফিস করে গিয়েছিলাম একটা পার্টিতে। পার্টি যখন প্রায় শেষ তখন, হঠাত বড় আপার ফোন, ধরতেই জিজ্ঞেস করলো, কোথায় তুমি ?
আমি বললাম, এইতো একটু বাইরে আসছি।
তখন হঠাত বড় আপার কন্ঠ ভারী হয়ে গেলো, বললো তারাতারি বাড়ির উদ্দেশ্যে রউনা দাও । কাদতে কাদতে বললো, আব্বা আর নেই ।
আমি আর কিছুই জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না। শুধু নিজেকে অস্তিত্বহীন মনেহল । বললাম আচ্ছা।
তারপর ঠিক এমন সময়েই রউনা হয়েছিলাম মৃত বাবার মুখটি দেখতে।
আজ আবার যাচ্ছি , দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেলো, ছায়াহীন অবস্থায় বেচে আছি। কোথায় যেন একরাশ শূন্যতা। এখন আর শীতের দিনে কেউ কল করে আমায় বলে না, বেশিরাত পর্যন্ত বাইরে থেকো না, আর ঠান্ডা লাগিও না, তোমার তো আবার ঠান্ডার সমস্যা। এই বুঝি আমার একমাত্র হাহাকার।
মাঝে মাঝে বন্ধুদেরকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় যখন দেখি ওদের বাবারা ওদের খোজ নিচ্ছে। তখন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপন মনে বলি, বাবা যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। হয়তো তোমার ভালো ছেলে হতে পারিনি, কিন্তু বিশ্বাস করো খারাপ ছেলে ও হইনি । আর কথা দিচ্ছি হবোও না।
শিরোনাম হীন-১
১.
কিছু দিন আগে আমার এক ছোট বোন হঠাৎ মজার একটি বিষয় জানায়। গুগল চাচাকে আমার নাম দিয়ে সার্চ দিলে নাকী আমার লেখার লিংক-টিংক চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত এবং চিন্তিত হলাম। কারণ ইন্টারনেট জিনিষটা এদেশের অর্ধ শিক্ষিত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পাল্লায় পড়ে চরিত্রহীণ অবস্থায় আছে! কে কি ছেড়ে দিবে ইন্টারনেটে পরে আমাকেই বিব্রত হতে হবে। ফলে নিজে সতর্কভাবে সার্চ করা শুরু করলাম আমার অপ্রিয় বন্ধুরা কোন মশকরা করেছে কিনা তা দেখার জন্য। সার্চ দিয়ে দেখছি, কোনই ঝামেলা নেই। কিন্তু একটি খবর পেয়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। ২০১০ সালে আমারই জন্মদিনে আমারই নামের একটি মেয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছণার শিকার হয়েছে পাবনা এলাকায়। কি অদ্ভুদ একটা খারাপ লাগা। কি যে বাজে অনুভূতি! সেদিন সারাদিন কারো সাথে কথা বলতে পারিনি। যেদিন আনন্দে আমার দিনটি কেটেছে সেদিনই প্রকাশ্যে আমার নামের অন্য একটি মেয়ে কত কষ্ট পেল... হয়তো সারাজীবন মুখোমুখি থাকা কষ্টটা পেল!
২.
ব্লগর ব্লগর
............................................................................................................................................................................................................................
১.
বাফড়া অবশেষে বিবাহ করলো। কোন বাফড়া?
এই বাফড়া.......

বিবাহ করলেও বাফড়া কিন্তু খুব একটা বদলায় নাই। সামান্য বদলাইছে। আগে এরম কইরা শুইতো, এখন খালি জাস্ট শোয়ার ধরণটা বদলাইছে। চিৎ পজিশন বদলে উপুর পজিশন হইছে আর কি
২.
একটা পুরানা গল্প কই। এক ছেলে খুব মিস্টি পছন্দ করতো। খালি মিস্টি খাইতো। একবার তার হইল জ্বর, গরমে গা পুইড়া যায়। ডাক্তার দিলো ট্যাবলেট। পোলাডা ট্যাবলেট খাইবো না। তখন তার মা মিস্টির মধ্যে ট্যাবলেট দিয়া তারে খাইতে দিল। কিন্তু জ্বর আর যায় না। মা জিগাইলো মিস্টি খাইছিলি। ফাজিল পোলা কয়, খাইছি, তয় বিচিটা ফালাইয়া দিছি।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নঃ বি-কিউব ফাউন্ডেশন
হৃদয়ে বুদবুদ-মত ওঠে শুভ্র চিন্তা কত ...
বাসায় একসময় মামা-ভাগ্নেরা মিলে আড্ডা হত খুব। ছোট্ট রুমে আবহসঙ্গীত হিসেবে হাবিবের ‘সহে না যাতনা’ আর ‘একটু দাঁড়াবে কি’ আর খাটে ছড়ানো কম্বলে পা ঢুকিয়ে শীতার্ত আলাপের পাশাপাশি গানালাপ, কখনো কখনো ‘খানালাপ’ আর কখনো বিষয়বিহীন ডালপাতা গজানো নির্ভেজাল আড্ডা।
এমনি এক সন্ধ্যার আড্ডায় ছোট মামার এক তীব্র প্রশ্নের মুখোমুখি পড়ে হয়রান হলাম-
“সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তো ৫-১০ টাকা বেতনে পড়েছো এতদিন ধরে- সুবিধা তো কম পাওনি কিছু, বেশিই পেয়েছ বরং- তোমার সবচাইতে সেরা সুবিধাটুকু দেয়ার চেষ্টা যে হচ্ছে সে কার টাকায়? সরকারের? সরকার সে টাকা কোথা থেকে পায়? সাধারণ মানুষগুলোর ট্যাক্সের টাকায়। সাধারণ মানুষগুলোর ঘাড়ে চাপা ঋণের টাকায়। কেবল পাওয়ার হিসেব তো কর, কখনো কি চিন্তা করেছ তুমি কি দিচ্ছ ওদের?
দেশ তো তোমাকে দেয়ার চেষ্টা করছে, তুমি কী দেয়ার চেষ্টা করেছ তোমার দেশকে?”
না পাওয়ার হিসেব তো হাতের নাগালে, পাওয়ার হিসেব আবার সে পাওয়া চুকিয়ে দেওয়ার হিসেব তো করিনি কখনো, মনেই হয়নি সেকথা।
No Cull Dhaka!
ঠান্ডা আবার ফিরে আসছে। কুয়াশা নেই কিন্তু রাতে ব্যাপক বাতাস। আমারো শরীরটার অবস্থা বিশেষ সুবিধার না। তাও হাসছি ঘুরছি দোড় ঝাপ করছি মন খারাপ হয়ে পড়ে থাকি সব চলছে এক সাথে। সাধারনত দিনলিপির পোষ্ট তাৎক্ষনিক যে দিন গেলো তাই নিয়ে বললেই ভালো। কালকে পোষ্ট দিতাম ভাবলাম চব্বিশ ঘন্টার ভেতরে দুইটা পোষ্ট দেয়া আবার নীতিমালার খেলাপ কিনা কে জানে দরকার কি ঝামেলার কাল তো পড়ে আছেই রাতে বসে লিখে দিবো। আর ব্লগে দেখলাম জেবীন আপু পোস্টাইছে, মীর ভাই পোস্টাইছে, হাসান আদনান,স্বপ্নচারী, শাহরিন রহমান এদেরও দারুন পোষ্ট আরো অনেকে হয়তো পোস্ট দিবে এইটা ভাবতে ভালো লাগতেছে ব্লগটাও আমার মতো। স্লথ গতিতে চলছে থেমে নাই। দেখা যাক কী হয়!
টুনির কাছে টোনার চিঠি
ওহে আমার টুনটনি বউ,
আমায় কথায় কথায় এত বকিও না। তোমার সুমধুর কন্ঠ হইতে রোজ যে ভৈরবী রাগ আমার প্রতি ঝরিয়া পড়ে তাহা আমার হার্টের জন্য বেশি সুখকর নহে। ডাক্তার টিয়া ভাই বলিয়াছেন আমায় শব্দ হইতে দূরে থাকিতে। টিয়া ভাইয়ের বউটা কি চুপচাপ! খুবই ভালো লাগলো। মেয়েরা এত চুপচাপ হয় ভাবাই যায় না।
বউ আমার, তোমার খোটা খাইতে খাইতে আমার স্নায়ুগুলি দূর্বল হইয়া গিয়াছে। বিশ্বাস না হইলে টিয়া ভাইয়ের বউকে জিজ্ঞাস করিয়া দেখ।
কথায় কথায় তুমি বলিয়া ওঠ আমায় বিয়া করিয়া নাকি তোমার কপাল পুড়িয়াছে। তাহলে টিয়া ভাইয়ের বউয়ের কথা শুনিয়া তুমি এত জ্বলিয়া উঠিয়াছো কেন? তোমার অকর্মণ্য বরকে কেউ কাড়িয়া লইলে তো তোমার বাঁচিয়া যাইবার কথা।
পরিশেষে বলিতে চাই, তোমায় ভালোবাসি। মিলমিশ করিয়া চল আগের খুনসুটি দিনগুলিতে ফিরিয়া যাই। ছানাগুলি কাহার দোষে পড়িয়া যাইতে যাইতে বাঁচিয়াছে এই লইয়া ঝগড়া না করিয়া চল দুইজনই সাবধান হইয়া তাহাদের উড়াইতে শিখাই। পাতার ছায়ায় বসিয়া গান গাওয়া, বালুতে রোদ পোহানোর মত কত সুন্দর স্মৃতিই না আমাদের রহিয়াছে।
বউ, তুমি কি আমার সাথে সেই দিন গুলিতে ফিরিয়া যাইবে?
ইতি
তোমার টোনা বর
গল্প : ২০ কাপ চা আর ২০ টার বেশি সিগারেট খাওয়া দিনগুলো
১.
আমাদের অফিসের রানা ভাই তার নামের বানান লিখেন Shuhel Rana. তাকে যতই বলি এটা সোহেল রানা হয় নাই, এটা হইসে সুহেল রানা- তিনি ততই উদাসী হাসি দেন। বলেন; ভাইজান, বাপ-মায়ে আকিকা কইরা নাম রাখসে সোহেল রানা, বানান রাখসে Shuhel Rana. আমি কি করুম কন?
আমি তার যুক্তি শুনে হাসি। জানতে চাই, বাপ-মায়ে এই বানান রাখসে নাকি মেট্রিকের ফর্ম ফিলাপের সময় কোনো ইংরেজি মাস্টার এই কাহিনী করছে? রানা ভাই বলেন, নারে ভাই। আমার ঘটনা বাপ-মায়েই ঘটাইসে। আর কেউ এর মধ্যে নাক গলানোর সাহস পায় নাই।
শান্ত, নিরীহ, নিরামিশাষী এই ভদ্রলোকের সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি সবার প্রক্সি দিয়ে দেন। তার আর আমার ডিপার্টমেন্ট এক না। তাই আমাকে কখনো তার প্রক্সি নিতে হয় না। কিন্তু তার ডিপার্টমেন্টের কতজনের প্রক্সি যে তাকে আমি দিতে দেখি!
র্যাগিং নামের নোংরামি বন্ধ হোক!
র্যাগিং নিয়ে যুগে যুগেই নানান কেচ্ছা-কাহিনী প্রচলিত। সিনিয়ররা নবীনবরন নামের গালভরা শব্দের আড়ালে জুনিয়রদের নিয়ে যথেচ্ছা যন্ত্রনা দিয়ে থাকে, যা কিনা র্যাগিং নামেই পরিচিত। সেসবের কোনটাই ভিক্টটিমের জন্যে সুখকর কিছু নয়। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ইউনিভার্সিটি/একাডেমী ছেড়ে দেয়া এমনকি আত্মহত্যা করতে যাওয়ার পর্যায়েও চলে যায় এইসব র্যাগিং এ আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা। দুষ্টুমি করা/মজা করা আর নির্যাতন করার মাঝে একটা সীমারেখা আছে র্যাগিং এ মত্ত কিছুসব নোংরা উন্মত্তরা ভুলে যায়!
এতোদিন ছেলেদের হলগুলোতে র্যাগিং এর কথা শুনে আসছি আমরা, মেয়েদের হলগুলোতে এক্সট্রিম পর্যায়ের কিছু সামনে আসেনি, কিবা আমার অজ্ঞতার কারনেই জানতে পারিনি। আজ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা হলের র্যাগিংএর কথা শুনে হতবাক না কষ্ট লাগছে, কি করে হয় এত্তো নোংরা মানষিকতার মানুষ যারা কিনা সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী, যারা কিনা মায়াময়ী/কোমলমতি নারী!
ফেসবুকে শেয়ার করা লেখাটা পড়ুন, তারপর ভাবুন এরা কারা