ইউজার লগইন
ব্লগ
চন্দ্রালোকের ছায়া-৪
পাগলের দিনলিপি (বারো)
আমি সুঁইয়ের গাদায় আমার হারানো সুঁইয়ের খোঁজ করি।
এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে, জলে ভিজে সুঁই খুঁজতে গিয়ে
আমি জলস্রোতে ভেসে যাই, আহা সুঁই! তোর সাথে আর
বোধহয় কখনো দেখা হবে না একালে...মনে প্রাণে আমি
বাঙালি তখন, পরজন্মে জমে গেছে অগাধ বিশ্বাস যেনো।
জলস্রোতে ভেসে যেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে,
এতোকাল শুকনো জামায় থেকেছি অসুখের বাড়ি।
জলস্রোত আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্মৃতিময়
পুরোন শানদার বন্ধুর নিকটে...সেখানে ঝলসে উঠেছে
কাঁচা লোহা, ধাতব মৃত্যুর মতো।
জলস্রোত নিয়ে গেছে বুড়িগাঙে, সেখানে জল আর ডাঙা
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলে যায় সারাবেলা-সারারাত।
আমি ভেসে যেতে দেখি মায়ের অবৈধ সন্তান, হারিয়ে
যাওয়া শাড়ির আঁচল, দুধের ইস্পাত বাটি...
জলে ভেসেই কাটিয়ে দিতে চাই বাকীটা জীবন।
আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন :ম্যুরাল
আমরা বন্ধু ব্লগের ব্লগারদের আগ্রহ, অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ব্লগের প্রথম সংকলন 'ম্যুরাল' এসেছে এবারের একুশে বইমেলায়। এই ব্লগেরই কয়েকজন মানুষের অক্লান্ত চেষ্টা, অফুরন্ত আবেগ-ভালোবাসা এবং ব্লগারদের ভালোবাসা, উৎসাহে 'ম্যুরাল' আলোর মুখ দেখলো। আমরা বন্ধু ব্লগের ব্লগারদের মুক্তগদ্য, গল্প ও মুক্তিযুক্ত বিষয়ক লেখা থেকে বাছাইকৃত লেখা নিয়ে 'এ বি প্রকাশনীর বই -ম্যুরাল' এর মোড়ক উন্মোচন হলো ১৬ ফ্রেব্রুয়ারী লিটল ম্যাগ চত্বরে। এখনো যারা 'ম্যুরাল' সংগ্রহ করেননি তারা বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন একুশে বইমেলার লিটল ম্যাগ চত্বরে 'গল্পপত্র' ও 'কবিতা সংক্রান্তি' স্টল থেকে। বইটির মূল্য ২০০ টাকা।

শরীরে নতুন অফিস খুলেছি
অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গের সাথে যোগাযোগের জন্য
শরীরে নতুন অফিস খুলেছি
থাকছে একটা বার্তা বিভাগ আর জরুরী অবতরণ কেন্দ্র
প্রতিদিনের সকল স্পর্শ গুলোকে চুলচেরা বিচারে
রেখে দিচ্ছি নির্দিষ্ট দেরাজে
ফোনলাইন লাগেনি এখনও
ইন্টারনেটও আসবে শীঘ্রই - একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ স্যাটেলাইট
আর ক'জন নতুন কর্মীও যোগ দেবে সহসা
যাদের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নতুন গ্রাহকযন্ত্র
শব্দ তরঙ্গ থেকে অচিরেই পৃথক করে দেবে
প্রয়োজনীয় ভালোবাসাবাসি
বিভিন্ন মৃত শরীরে শাখা খুলবো বছর ঘুরলেই
একদম টাটকা বাণিজ্য - কবরে কবরে
চারদিকের শাখা প্রশাখায় পৌঁছে যাবে
আকাঙ্খিত সেবা - কেবল চটকদার বিজ্ঞাপনের জন্য
একজন বিনিয়োগ পার্টনার আবশ্যক
বন্ধুত্ব - যখন তখন
বন্ধুত্ব জিনিসটা একেবারেই হিসাব ছাড়া। কে, কখন, কিভাবে, কোন পরিস্থিতিতে নিছক পরিচিত থেকে প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবে তা আগে থেকে জানা অসম্ভব। আবার সময়ের সাথে সাথে একই বন্ধু বা বন্ধুতার ধরণ ও পালটে যায়। কিছু বন্ধু থাকে আত্মার খুব কাছে। যে কোন দুঃসময়ে এদের কথা সামার প্রথমে মনে আসে। কিছু বন্ধুত্ব অবস্থান ভিত্তিক - একসাথে ঘোরাঘুরি, আড্ডাবাজি টাইপ। আবার কিছু বন্ধুত্ব প্রয়োজনের তাগিদে। কিন্তু বন্ধুত্ব যেমনই হোক, নানা জীবন অভিজ্ঞতার সাথে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পালটে যায়।
সদ্য নারী মহলে ভীষণ জনপ্রিয় এক ব্যাচেলরকে স্বামী বানানো - এক বান্ধবীকে প্রশ্ন করলাম -
আচ্ছা তুমি কী ভাইয়াকে, অন্য ভাবী/ বান্ধবীদের সাথে গল্প করলে বকা দাও?
- অবশ্যই
এটা শুধু ছেলে- মেয়ে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেই নয়, সেইম সেক্স বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রমিত বাংলা ব্যকরণ আর ভাষিক আগ্রাসন বিষয়ে কয়েক প্যারাগ্রাফ
উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করতে চাওয়া কিংবা শব্দের ভেতরে অনেকগুলো আলাদা উচ্চারণকে শনাক্ত করে সেসব আলাদা আলাদা উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করা ভাষাবিকৃতি কিংবা ভাষার বিচ্যুতি রোধে অনেক বেশী কার্যকর হয়ে উঠেছিলো, ছাপাখানার আবিস্কার সেসব চিহ্নকে এক ধরণের স্থিরতা এনে দিয়েছে। বর্তমানের কম্পিউটার যুগে সেসব চিহ্নে নানা ধরণের শৈল্পিকতা এবং বাক্যের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন ফর্মায় সেসব সংবদ্ধ উচ্চারণচিহ্নকে সাজানোর সুবিধাটুকু এসেছে। কিন্তু যখন কোনো উচ্চারণের কোনো চিহ্নই ছিলো না তখন ভাষা কিভাবে প্রবাহিত হয়েছে ভবিষ্যতে?
কাব্য কহন
২৯ জানুয়ারী,২০১২ , সকাল ১০:০০ বাংলােদশ মেিডকেল কলেজ হাসপাতাল এর ৪র্থ তলার ওটি’র সামনে অস্থির পায়চারী, ব্লাড দেবার জন্য েডানার এবং স্বজনদের অপেক্ষা, কিছুক্ষণ পরই আমার ভাবীর কোলে দেখলাম আমাদের ছোট্ট বাবুটাকে। নিজেকে কেমন যেন বোকা বোকা লাগছিল ……… সামনের ছোট্ট শিশুটি আমাদের!!
২১শে ফেব্রুয়ারী কি উৎসবের না শোকের?
পাগলের দিনলিপি (এগারো)
ছেলেটা রক্তের মতো লাল
আর মেয়েটাকে দেখি বেদনার মতো
নীল।
তারা দুজনে মিলেছে সাদা মেঘ আর
বিষণ্ন হলুদ ঝরে যাওয়া
শুকনো পাতার সম্মিলনে।
সব রং তারপর সোনালী রোদে চড়ে
ভেসে গেলো আবেগী আকাশে।
প্রবহমান বাতাসে শোনা গেলো মেয়েটার আর্ত
অথচ মলিন-ম্রিয়মান
উদাসী চিৎকার।
বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা...
মাঝে মাঝে অনেক চিন্তা হঠাৎ আসে আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়। কৌতুহলের অনুভূতি গুলো জাগানোর পর মেমোরি ক্রেস। মনেই পরে না কি নিয়ে ভাবছিলাম যেন... ? আবার যে সব ভাবনা ধীরে ধীরে আসে, আস্তে আস্তে মাথায় জায়গা করে নেয়, সেগুলো বেশির ভাগই অনুর্বর চিন্তা। সে সব মাথায় থাকলেও প্রকাশ করতে সংকোচ হয়। কে না আবার কি ভাবে। অবশ্য এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন।
একুশ এলে
একুশ এলে গর্জে উঠি হটাত্ জাগা সিংহের মত ,
তারপর যে ডুবকি মারি গভীর জলের মত্স্য যত ।
বেড়ার ধারে শেয়াল ডাকে
শ্রী প্রহরী নাকটি ঢাকে
বাচ্চা মেরে পালিয়ে গেলে ঘেউ ঘেউ করি অবিরত ।
ছাল ছড়া লোম পড়া নেড়ি কুত্তা যত ।
ফাগুন এলে আগুন জ্ব্লে কলজে জুড়ে ,
আনত শির হটাত্ করে উঠতে চায় আকাশ ফুঁড়ে ।
কাকেরা সব ময়ুর সাজে
পূচ্ছে ময়ুরপালক গুঁজে
তুচ্ছ করে দু'দিন পড়ে ছুঁড়ে সে সব আস্তাকুঁড়ে ,
বীর শহীদদের আত্মারা সব দূর নীলিমায় গুমরে মরে ।
পাগলের দিনলিপি (দশ)
দূরে একটা পাহাড় ভয়ে কাঁপছিলো
বললাম, "পাহাড়টা আমার।"
দূরে একটা ঘুড়ি উড়ছিলো বিষণ্ন
বললাম, "ঘুড়িটা আমার ছিলো আগে।"
যেদিন আমিও উড়তে শিখেছি আকাশে
তারপর থেকেই ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে
ভেসে যেতে ভালো লাগে এদিক-ওদিক
পাহাড় চূড়ায়, ঘুম নদী ঘেষে,
সমুদ্রের রোদেলা ফসফরাস ঢেউ ছুঁয়ে...
ঘুড়িটাও উড়ছিলো একলা, আমি তার পাশাপাশি
উড়ে দেখি পৃথিবীর সব ছোটলোকদের।
তারা পিপড়ার মতো ছোটাছুটি করে
ঘুড়িকে ঘিরেই তাদের ব্যস্ততা, লোভ
আর সুলভে নিজের করে নেয়ার চক্রান্ত।
ঘুড়িটা বিনয়ী চাহনীতে তাকায় আমার পানে
আমি এড়িয়ে যাওয়ার ভান করে তাকে ছেড়ে
চলে যাই সমুখে কোথাও, ঘুড়িরা তখনো
এতোদূর যেতে অনুমতি পায়নি আমাদের।
দূরের পাহাড়টা যেনো কাঁদছিলো
বললাম, "আমিও আগে সুযোগ পেলেই
কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছি হামেশা।"
ঘুড়িটা আবেগহীন যেতে থাকে
তার পিছু নেয় নিয়মের সুতা, মাঞ্জা দেয়া।
বললাম, "ঘুড়িটা আগে সুতোর বাঁধনে
সেদিনের সেই মেয়েটি
২০০১ সালে আমি উত্তরাতে একটা সাইবার ক্যাফে চালাতাম। তখন ঢাকা শহরে সাইবার ক্যাফে ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। সেসব সাইবার ক্যাফেতে লোকজন ঘন্টা হিসাবে নেট ব্যবহার করত। প্রথমে আমরা শুরু করেছিলাম- ঘন্টা ৬০ টাকা হিসাবে। তবে যে কাউকেই ৩০ মিনিট কমপক্ষে ব্যবহার করতে হত। বা বলা চলে সর্বনিম্ন ব্যবহারকারীকে ৩০ টাকা দিতে হত। তারপর খুব দ্রুতই ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে সাইবার ক্যাফেতে। সর্বশেষ ২০০২ সালে আমি যখন সাইবার ক্যাফে ছেড়ে দেই তখন ঘন্টা প্রতি ব্যবহার কারীকে দিতে হত ১৫ থেকে ২০ টাকা। সে সময়কার একদিনের ঘটনা মনে পড়ল আজ...
বিশ্বাস
হয়তো একটি মুহূর্তের স্কেচ এসব কিছুই, সে মুহূর্তে সবাই পরবাসী, গৃহের অন্তরালে, পলাতক জীবনযাপনে সবাই কোনো না কোনো পক্ষ বাছাইয়ের লড়াইয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন, প্রতেকের ভেতরেই বিভিন্ন রকমের সংশয় ছিলো, কিন্তু দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ আর সামনে আগুণ, দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আগুণে ঝাপিয়ে পড়ার এই ভাবনার দ্বৈরথে অনেকেই আগপাশ বিবেচনা না করেই আগুণে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমি সে সময়ের পরের প্রজন্ম, আমার যাবতীয় রসদ আত্মজীবনির পাতা থেকে খুঁজে নেওয়া, এর সাথে ১৪ আনা কল্পনা মিশিয়ে একটি সময়ের ভাবনা লিখছি সে সময় আমার অপরিচিত এবং আমার বেড়ে ওঠা শৈশবের সাথে যে সময়ের কোনো মিলমিশ নেই।
------------------------------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
একুশে..
একুশ মানে বাংলা ভাষা,
মাতৃভাষার জোর..
একুশ;
সে তো রক্তে ভেঁজা,
স্বাধীনতার ডোর…
একুশ হল হৃদয় মাঝে,
আত্মত্যাগের ঘোর..
একুশ;
লাখো স্বপ্নে দেখা,
সম্ভাবনার ভোর..
![images[9].jpg](/sites/default/files/users/anamika/images%5B9%5D.jpg)
