ইউজার লগইন
ব্লগ
প্রমিত বাংলা ব্যকরণ আর ভাষিক আগ্রাসন বিষয়ে কয়েক প্যারাগ্রাফ
উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করতে চাওয়া কিংবা শব্দের ভেতরে অনেকগুলো আলাদা উচ্চারণকে শনাক্ত করে সেসব আলাদা আলাদা উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করা ভাষাবিকৃতি কিংবা ভাষার বিচ্যুতি রোধে অনেক বেশী কার্যকর হয়ে উঠেছিলো, ছাপাখানার আবিস্কার সেসব চিহ্নকে এক ধরণের স্থিরতা এনে দিয়েছে। বর্তমানের কম্পিউটার যুগে সেসব চিহ্নে নানা ধরণের শৈল্পিকতা এবং বাক্যের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন ফর্মায় সেসব সংবদ্ধ উচ্চারণচিহ্নকে সাজানোর সুবিধাটুকু এসেছে। কিন্তু যখন কোনো উচ্চারণের কোনো চিহ্নই ছিলো না তখন ভাষা কিভাবে প্রবাহিত হয়েছে ভবিষ্যতে?
কাব্য কহন
২৯ জানুয়ারী,২০১২ , সকাল ১০:০০ বাংলােদশ মেিডকেল কলেজ হাসপাতাল এর ৪র্থ তলার ওটি’র সামনে অস্থির পায়চারী, ব্লাড দেবার জন্য েডানার এবং স্বজনদের অপেক্ষা, কিছুক্ষণ পরই আমার ভাবীর কোলে দেখলাম আমাদের ছোট্ট বাবুটাকে। নিজেকে কেমন যেন বোকা বোকা লাগছিল ……… সামনের ছোট্ট শিশুটি আমাদের!!
২১শে ফেব্রুয়ারী কি উৎসবের না শোকের?
পাগলের দিনলিপি (এগারো)
ছেলেটা রক্তের মতো লাল
আর মেয়েটাকে দেখি বেদনার মতো
নীল।
তারা দুজনে মিলেছে সাদা মেঘ আর
বিষণ্ন হলুদ ঝরে যাওয়া
শুকনো পাতার সম্মিলনে।
সব রং তারপর সোনালী রোদে চড়ে
ভেসে গেলো আবেগী আকাশে।
প্রবহমান বাতাসে শোনা গেলো মেয়েটার আর্ত
অথচ মলিন-ম্রিয়মান
উদাসী চিৎকার।
বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা...
মাঝে মাঝে অনেক চিন্তা হঠাৎ আসে আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়। কৌতুহলের অনুভূতি গুলো জাগানোর পর মেমোরি ক্রেস। মনেই পরে না কি নিয়ে ভাবছিলাম যেন... ? আবার যে সব ভাবনা ধীরে ধীরে আসে, আস্তে আস্তে মাথায় জায়গা করে নেয়, সেগুলো বেশির ভাগই অনুর্বর চিন্তা। সে সব মাথায় থাকলেও প্রকাশ করতে সংকোচ হয়। কে না আবার কি ভাবে। অবশ্য এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন।
একুশ এলে
একুশ এলে গর্জে উঠি হটাত্ জাগা সিংহের মত ,
তারপর যে ডুবকি মারি গভীর জলের মত্স্য যত ।
বেড়ার ধারে শেয়াল ডাকে
শ্রী প্রহরী নাকটি ঢাকে
বাচ্চা মেরে পালিয়ে গেলে ঘেউ ঘেউ করি অবিরত ।
ছাল ছড়া লোম পড়া নেড়ি কুত্তা যত ।
ফাগুন এলে আগুন জ্ব্লে কলজে জুড়ে ,
আনত শির হটাত্ করে উঠতে চায় আকাশ ফুঁড়ে ।
কাকেরা সব ময়ুর সাজে
পূচ্ছে ময়ুরপালক গুঁজে
তুচ্ছ করে দু'দিন পড়ে ছুঁড়ে সে সব আস্তাকুঁড়ে ,
বীর শহীদদের আত্মারা সব দূর নীলিমায় গুমরে মরে ।
পাগলের দিনলিপি (দশ)
দূরে একটা পাহাড় ভয়ে কাঁপছিলো
বললাম, "পাহাড়টা আমার।"
দূরে একটা ঘুড়ি উড়ছিলো বিষণ্ন
বললাম, "ঘুড়িটা আমার ছিলো আগে।"
যেদিন আমিও উড়তে শিখেছি আকাশে
তারপর থেকেই ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে
ভেসে যেতে ভালো লাগে এদিক-ওদিক
পাহাড় চূড়ায়, ঘুম নদী ঘেষে,
সমুদ্রের রোদেলা ফসফরাস ঢেউ ছুঁয়ে...
ঘুড়িটাও উড়ছিলো একলা, আমি তার পাশাপাশি
উড়ে দেখি পৃথিবীর সব ছোটলোকদের।
তারা পিপড়ার মতো ছোটাছুটি করে
ঘুড়িকে ঘিরেই তাদের ব্যস্ততা, লোভ
আর সুলভে নিজের করে নেয়ার চক্রান্ত।
ঘুড়িটা বিনয়ী চাহনীতে তাকায় আমার পানে
আমি এড়িয়ে যাওয়ার ভান করে তাকে ছেড়ে
চলে যাই সমুখে কোথাও, ঘুড়িরা তখনো
এতোদূর যেতে অনুমতি পায়নি আমাদের।
দূরের পাহাড়টা যেনো কাঁদছিলো
বললাম, "আমিও আগে সুযোগ পেলেই
কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছি হামেশা।"
ঘুড়িটা আবেগহীন যেতে থাকে
তার পিছু নেয় নিয়মের সুতা, মাঞ্জা দেয়া।
বললাম, "ঘুড়িটা আগে সুতোর বাঁধনে
সেদিনের সেই মেয়েটি
২০০১ সালে আমি উত্তরাতে একটা সাইবার ক্যাফে চালাতাম। তখন ঢাকা শহরে সাইবার ক্যাফে ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। সেসব সাইবার ক্যাফেতে লোকজন ঘন্টা হিসাবে নেট ব্যবহার করত। প্রথমে আমরা শুরু করেছিলাম- ঘন্টা ৬০ টাকা হিসাবে। তবে যে কাউকেই ৩০ মিনিট কমপক্ষে ব্যবহার করতে হত। বা বলা চলে সর্বনিম্ন ব্যবহারকারীকে ৩০ টাকা দিতে হত। তারপর খুব দ্রুতই ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে সাইবার ক্যাফেতে। সর্বশেষ ২০০২ সালে আমি যখন সাইবার ক্যাফে ছেড়ে দেই তখন ঘন্টা প্রতি ব্যবহার কারীকে দিতে হত ১৫ থেকে ২০ টাকা। সে সময়কার একদিনের ঘটনা মনে পড়ল আজ...
বিশ্বাস
হয়তো একটি মুহূর্তের স্কেচ এসব কিছুই, সে মুহূর্তে সবাই পরবাসী, গৃহের অন্তরালে, পলাতক জীবনযাপনে সবাই কোনো না কোনো পক্ষ বাছাইয়ের লড়াইয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন, প্রতেকের ভেতরেই বিভিন্ন রকমের সংশয় ছিলো, কিন্তু দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ আর সামনে আগুণ, দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আগুণে ঝাপিয়ে পড়ার এই ভাবনার দ্বৈরথে অনেকেই আগপাশ বিবেচনা না করেই আগুণে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমি সে সময়ের পরের প্রজন্ম, আমার যাবতীয় রসদ আত্মজীবনির পাতা থেকে খুঁজে নেওয়া, এর সাথে ১৪ আনা কল্পনা মিশিয়ে একটি সময়ের ভাবনা লিখছি সে সময় আমার অপরিচিত এবং আমার বেড়ে ওঠা শৈশবের সাথে যে সময়ের কোনো মিলমিশ নেই।
------------------------------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------------------------------
একুশে..
একুশ মানে বাংলা ভাষা,
মাতৃভাষার জোর..
একুশ;
সে তো রক্তে ভেঁজা,
স্বাধীনতার ডোর…
একুশ হল হৃদয় মাঝে,
আত্মত্যাগের ঘোর..
একুশ;
লাখো স্বপ্নে দেখা,
সম্ভাবনার ভোর..
আর বইমেলা
সেদিন বই মেলায় গেলাম বড় সাধ নিয়ে, আড্ডাবো। সবাই প্রতিদিন কত কত আড্ডায়!!! আর আমি আড্ডাবো তো দূরে থাক ব্লগ বা খোমাখাতায় সে সব আড্ডা নিয়মিত দেখতেও পাই না। কারণ বাসার নেট কানেকশন কাট করা হইসে। আপুর বাসায় আসলে বা ক্যাম্পাসে ল্যাব থেকে একটু আধটু দেখি, বইমেলা কড়চা পড়ি, আফসোস করি।
যাই হোক মেলার কথা বলছিলাম।। আড্ডানির আশা নিয়া আমি আর সুমি আপু গেলাম মেলায়। নিজেরা প্রথমে একটু ঘুরাঘুরি আর কয়েকটা বই কিনে গেলাম লিটলম্যাগ চত্বরে। কিন্তু হায় কারো দেখা নাই। আমাকে কেউ না চিনলেও আমি তো মোটামুটি সবাইকে চিনি। চারদিকে খোঁজ দ্যা সার্চ দিয়ে দেখলাম, কেউ নাই। এরপর একদফা মোবাইলেও খোঁজ দ্যা সার্চ দিয়ে বুঝলাম কারো নম্বরও আমার কাছে নাই। এমনকি ম্যুরালও খুঁজে পেলাম না। তারপর আর কি, সুমি আপু একটু ঝাড়ি দিল কারণ তারও-
অনেক সাধ ছিল মনে,
আড্ডাবে সবার সনে।
শাহরুখ খান এবং প্রথম আলূর জনগনদ্রোহিতা ... (১৮+)
সকাল বেলা মুরগীর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে শাহরুখ খানের।
পাশ ফিরেই গৌরির সাজ সজ্জা বহুল ঘুমন্ত মুখখানি দেখে ইচ্ছে হয় একটা চুমু খাওয়ার । বেড চা এর মতো বেড চুমু। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো অধিকাংশ চুমুতো বেড-এই হয়। একটা মুচকি হাসির রেখা দেখা গেলো তার মুখে। হঠাৎ তার সকালের নতুন কর্তব্যের কথা মনে পড়ে যেতেই তড়িগড়ি করে উঠে যায় বিছানা থেকে।
আত্মমগ্ন কথামালা- ৬
নিজেরে কোনোদিনই এক্সপ্রেসিভ রোমান্টিক হিসাবে ভাবি নাই। রোমান্টিকতা কেমনে দেখাইতে হয় সেইটাও জানি না। তয় মাঝে মাঝে নিজের একটা আচরণের পর যখন আরেকজনের আচরণ ব্যাকফায়ার করে তখন বুঝি আসলে কি করা উচিত আছিলো। কিন্তু তখন আর সেইটা শুধরানির কোনো উপায় নাই। মইধ্যে দিয়া চেহারা, মন ইত্যাদি ভেচকাইয়া যায়। এই টাইপের রোমান্টিকতার অসুখ ছুইড়া ফালায়া রাখছিলাম বহুতদিন ধইরাই। কিন্তু, কিছুদিন হইলো সেই রোগ আবার ফেরত আসছে। নিজেরে নিয়া কিছু উচ্চাশা তৈরী হইছিলো, সেইটা পুরাই ধুলিস্মাৎ হইয়া গেছে। একসপ্তা হইয়া যাইতেছে এই গ্লুমি ভাবটা কাটতেছে না। যারে লইয়া এই ভাব চক্কর, সেও ভীষণ ভাবে চুপচাপ হইয়া আছে। এইটা আরো বেশী প্রদাহ দিতেছে...
সেদিন ভাস্করদার লিংক থিকা পটা'র গাওয়া কলঙ্কিনী রাধা গানটা নামাইছি। এত সুন্দর ভাবে কেমনে মানুষ গান গায়, খালি শুনতেই ইচ্ছা হইতেছে। লগে জাগরনে যায় বিভাবরী...
পাগলের দিনলিপি (নয়)
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! আঁধার থাকে
টগবগিয়ে বল্কানো সুর বাতাসে দুন্দুভি থাকে,
আলোকের তেজে পোড়া চোখ আর ব্যথাতুর দৃষ্টি থাকে।
নিঙরানো প্রাণে ক্লান্ত শ্রান্ত নগ্ন বাঁধার পাহাড় থাকে।
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! প্রতিশোধের
ইচ্ছাগুলো জটলা বাঁধে, তাদের নীরব ভিড় থাকে;
অস্থিরতায় নিমগ্ন এক পশুজাত অমানুষ থাকে;
শুকনো ঠোটে স্তব্ধতা নয় অবোধ্য বিড়বিড় থাকে।
চক্র
#১#কোন এক দিন..
শুক্রবারের সকাল। সাইফ আর সায়েম দুই ভাই, আর কেউ নেই বাসায়। গরমের ছুটি চলছে। বাবা মা দুজনেই বেড়াতে গেছেন গ্রামের বাড়িতে, জমিজমার কি যেন একটা কাজে।
সাইফ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আছে এইবার, ছোট ভাই সায়েম ক্লাস সেভেনে।
সাইফের প্ল্যান ছিল আজ বারোটা পর্যন্ত ঘুমাবে, একে ছুটির দিন তার উপর বাসায় মা বাবার ডাকাডাকিও নাই। যাকে বলে, একেবারে সোনায় সোহাগা।
কিসের কি, ঘুম ভেঙে গেছে সেই ভোর ছয়টায়।
নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ছাঁদে হাটলো সাইফ, ভোর হতে দেখার মত সুন্দর দৃশ্য মনে হয় কম-ই আছে।
ছাঁদের ফুলগাছ গুলাতে পানি দিয়ে সায়েমকে ডেকে তুললো সাইফ। সায়েম প্রথমে স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে ভেবে ধড়ফড় করে উঠতে নিচ্ছিল,
দিনটা শুক্রবার মনে পড়ায় আরো ঘন্টাখানেক আড়মোড়া ভেঙে তারপর গিয়ে উঠেছে।
