ইউজার লগইন
ব্লগ
চোর-পুলিশ
সে বহুদিন আগের কথা। চট্টগ্রামে মনা নামে এক চোর ছিল। চট্টগ্রামের চোরদের কাছে সে ছিল দেবতুল্য আর সাধারণ মানুষের কাছে সাক্ষাৎ বিভীষিকা। কারন, মনা-চোরাকে কখনো পুলিশ ধরতে পারেনি বা, কোথাও চুরি করতে যেয়েও সে কখনো ধরা পড়েনি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো মনা চোরাকে কেউ কখনো দেখেনি বা, তার আড্ডাখানা কোথায় বা, কোথা থেকে সে এসেছে, তার হদিসও কেউ জানে না।

মনার অত্যাচারে চট্টগ্রামবাসী তখন অতিষ্ট। সবাই মিলে গেল পুলিশের কাছে; যেভাবেই হোক মনা-চোরাকে ধরতে হবে। পুলিশের বড়কর্তা আশ্বাস দিলেন যেভাবেই হোক তিনি মনা-চোরাকে ধরবেন।
হাম তুমকো দিল দিয়া তোফা সামাঝকে, তুম উসপর বইঠ গিয়া সোফা সামাঝকে!
আমার এক ছোট ভাই সেইদিন খুব আক্ষেপ কইরা কইতাসিলো,” ভাই’ “ও”রে প্রপোজ কইরা কি যে বেকায়দায় পড়লাম!“ জিগাই, “‘ও’ টা কে?” (জানি তো ‘লিলি’ই। প্রেমে পড়ার পর থেইকা হের নাম মুখে লয় না। ক্লাসের নীলা, স্রাবন্তি, সুমনা সবার নাম-ই শুনা যায়। খালি লিলি আইলেই “ও”। আর আমারও চেষ্টা থাকে, নামটা উচ্চারণ করানোর।) ভাবলাম, প্রপোজাল গ্রান্ট হয় নাই। উল্টা হুমকি খাইলো কিনা। সান্ত্বনা আর সাহস দিবার প্রস্তুতি নিতাসি, এর মধধেই কইতে শুরু করলো, “ভাই, এখন তো আর নিজের কোন কিছু নাই। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত, খালি ফোন আর ফোন। বন্ধুগো আড্ডায় ফোন। ট্রাফিক জ্যামের দিবানিদ্রায় ফোন। বাথরুমে গিয়াও ‘ও’র ফোনের আলাদা রিং টোন শুনতে পাই! “কোথায় আছো?” “কি করছো?” “এতক্ষন কোথায় ছিলা?” “তোমার ওই বন্ধুটা ভালো না।“ “এতো রাতে আবার চটপটি খাচ্ছ কেনো!” ভাই’ এ তো কারাগার!”
মাথায় গল্প নিয়ে ঘুরছি...
নীরব রাত। পাতা ঝরার শব্দ পাওয়া যায়। এমনকী নিজের শ্বাসের শব্দে চমকে উঠার পরিবেশে দূর থেকে ভেসে আসে বাঁশির শব্দ। কার এমন মন কেমন লাগা সুর ! জানার উপায় নেই। জানালায় চোখ রাখি। বালিচর। দূরে পানি। ওটা মেঘনা। তারওপর জ্যোন্সার নাচ..
মাথায় ঘুরছে বিকেল থেকে। ছুটির দিনে একটু ঘুম সুখ বিসর্জন দিয়ে ভেবেছিলাম গল্পের চরিত্রের সঙ্গে যাই, সেই আলো প্লাবিত মেঘনার চরে।
যাওয়া হচ্ছে না।
মাথায় ঘুরছে একটা গল্প।
ত নিয়ে বসে আছি।
শব্দে অনুবাদ হবার আগে নিজেই পড়ে নিচ্ছি গল্পটা। বর্ণমালাহীন এ ভাষার নাম কী?
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (৬)
৬.
দ্রুত খান ভাইকে ধরে ফেললাম। আমাকে দেখে তিনিও বেশ অবাক! কি সমাচার জানতে চাইতেই, তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, কই যান আপনি? বললাম গুলশানের দিকে। একটা বিশেষ কাজে।
তার প্রশ্নের পিঠে কেবলই প্রশ্ন। কাজটা কি বিশেষ জরুরি?
আমার মনে হলো তিনি বোধহয় আমাকে দেখে খুশি হয়েছেন। কিন্তু কারণটা বুঝতে পারছিলাম না। যদিও ঢাকা শহরের স্বাভাবিক নাগরিক নিয়ম হচ্ছে, রাস্তায় পরিচিত কাউকে দেখে মুখটা একটু বাড়তি গম্ভীরতার আড়ালে ঢেকে ফেলা। নাহলে আবার বিকাশমান কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং তারও আড়ালে বিকাশমান স্বার্থবাদী মনস্তত্বের চর্চাটুকু বজায় থাকে না। মানুষে মানুষে যে একসময় সুসম্পর্ক ছিলো, তারা যে একে অপরকে দেখলে খুশি হতো; এখনকার মানুষের মেলামেশা দেখলে কে সেই কথা সত্য বলে মানবে?
তুমি অশ্ম হও, তব স্তুতির বিন্যাসে তুমি অংশুমালা !

এক স্নিগ্ধ বিকেল বেলার সতেজ আবেশে তোমাকে খুব করে মনে পড়ছে.. বিশুদ্ধ হিমেল হাওয়ার ঝাপটা যেন কতশত তরীর পাল উড়িয়ে দিয়ে এসে এখন আমার ব্যালকনিতে ঝরে পড়ছে তীব্র আবেগে.. তপ্ত মরুর বুকে অনুতপ্তের গ্লানি টেনে নিয়ে উদাস চিত্তে এদিক সেদিক উদ্ভ্রান্তের মত নিরবিচ্ছিন্ন বিচরণে নির্বিঘ্নে আর্তচিৎকার করে যেতে পারি এখন আমি অনেকটা ক্ষণ ধরে..
নিজগুণে ক্ষমা করার আশ্বাস...।
তানবিরা আফা’র ‘ব্যবচ্ছেদ’ পোস্ট-এর অংশবিশেষ দিয়া শুরু করি, “লেখা আর লেখককে মিলাতে আমি নারাজ। একটা লেখক অনেক মুড থেকেই একটা লেখা লিখেন। প্রত্যেকটা লেখা লেখকের চরিত্রকে ধারন করে, তাই কি?”। সম্পূর্ণ একএকমত।
জন্মতাড়িত
জন্মটা কি অনিবার্য ছিলো?
নাকি বাবা-মায়ের হঠাৎ আবেগরাঙ্গা
টুকটুকে বৃক্ষফল আমি!
জন্মটা যদি নিছক সত্যিই হবে
তবে পৃথিবীর আলো হাওয়া
চন্দ্রাক্রান্ত রমণী, ছোট্ট বাবুই পাখি
কেন লাগে তাপদাহ?
জন্মটা যদি এভাবেই হবে
তবে মানুষ রুপে কেন!
মানুষের বড্ড কষ্ট ক্লান্ত জীবন
মানুষ বড্ড একা।
বরং কাব্য তাড়িত শূণ্য ছাদে
তারের দোলনায় হলুদরঙ্গা কাপড় হলে,
তবুওতো জানতাম- ওই জল আগুনে
জীবন একবার ভেজে, একবার শুকায়।
{(c) MNI, 02.03.2012}
সাগর আর রুনি
সাগর আর রুনিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এ ঘটনা না ঘটলে কোনদিন তাদের নাম সেভাবে জানতাম কি না তাও জানি না। যদিও ফেসবুকে অন্যান্যদের স্ট্যাটাস আর কথোপকথন থেকে বেশ বুঝতে পারি, অনেকেই তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। আবছা আবছা ভাবে মনে পড়ে, হয়তো কোন টিভি কভারেজে কখনো মেহরুন রুনি শব্দটা শুনেছিলাম। তারা বিখ্যাত কিংবা সংবেদনশীল পেশার লোক হন বা না হন, সর্বোপরি তারা বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। দেশকে ভালবাসতেন, বিদেশের মোহ মায়া কাটিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন।
সোহেল ভাই ০১৫
ময়না ভাইয়ের দোকানে বসে চা সাটাচ্ছি হঠাৎ দেখলাম সোহেল ভাইকে, সোহেল ভাই খানিকটা মোটা হয়েছেন, সরকারী অফিসারসুলভ একটা ভারিক্কি ভাব এসেছে শরীরে, ডাক দিলাম
আররে সোহেল ভাই, কখন আসলেন?
এই তো আসলাম, তোমাদের কি খবর?
সোহেল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো প্রায় তিন মাস পরে, এর ভেতরেই সোহেল ভাইয়ের সম্বোধন বদলে গেছে, আগে তো আমাদের তুই করেই বলতো, হঠাৎ আজকে তুমিতে উত্তোরণ ঘটলো কিভাবে?
চলতেছে সোহেল ভাই, টার্ম ফাইনাল শেষ, এখন অপেক্ষা করতেছি কবে কোথায় গতি হয়।
আর বোলো না, দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। সরকারী চাকরি-বাকরির বাজারেও টান, দেখো কি হয়
নান্টু চিৎকার করে বললো
আরে সোহেল ভাই , আপনাকে ফোন দিবো ফোন দিবো ভাবতেছিলাম। কখন আসলেন এইখানে?
দরকার ছাড়া তো তুমি আমাকে খুঁজো না, কি দরকার হয়েছে বলো?
কি যে বলেন সোহেল ভাই, আপনি এই রকম কথা বললেন, দিলে দাগা খাইলাম।
সমুদ্দুরের জন্মদিনে
দুই বছর আগে মার্চের এক তারিখে ঢাকার মিষ্টির দোকানে কোন মিষ্টি নেই, আগেই একজন সব মিষ্টি বুকিং দিয়েছে। তবে কপালে ভাঁজ ফেলে অস্থির সময়ও কাটাচ্ছিলেন সেই তিনি। কারণ যার জন্য এত আয়োজন তার সব কিছু ঠিক থাকবে তো!
বই মেলা আর নেই
বই মেলা আর নেই। পত্রিকায় শেষ দিনের বই মেলা নিয়ে লেখালেখি হয়, সবাই মোটামুটি একই লাইনে লেখেন। শিরোনাম হয়, ভাঙলো মিলনমেলা। ভাবছিলাম, এবার একটু ভিন্ন ভাবে লেখা হোক। না হয় শিরোনামটা এরকমই দিলাম-বই মেলা আর নেই (ইন্না..........)।
বই মেলা যে আর নেই এইটা আমাকেই জানাইতে হইলো। এর জন্য দুইজনকে তীব্র ধিক্কার দিলাম। একজন মেসবাহ য়াজাদ আরেকজন রাসেল। রাসেল গতবার বই মেলা নিয়া অসাধারণ কিছু লেখা লিখেছিল। এবার আর পাইলাম না তেমন। আবার মেসবাহ ভাই কড়চা শুরু করলেও মাঝ পথে থাইমা গেল।
এইটা অবশ্য তার অভ্যাস। খুব খেয়াল কইরা। লুকটা বিয়া করলো, রোদ্দুর হইলো। কিন্তু এরপরই গেল থাইমা, তারপর দীর্ঘ বিরতি দিয়া সমুদ্দুর। সুতরাং বলাই যায় মাঝপথে থাইমা যাওয়া মেসবাহ ভাইয়ের পুরানা অভ্যাস।তারপরেও কড়চা না লেখার জন্য মেসবাহ ভাইরে ধিক্কার। মেসবাহ ভাই আমি কিন্তু রাগ করছি।
মনটা ভালো না!
মনটা ভালো না। এমন এক বিব্রত অবস্থার মধ্যে পরসিলাম। খুইলাই কই...। না থাক...। এই ঘটনা অন্য কোন দিন কমু। আজ অনেক বছর আগের এক ঘটনা কইতাসি। সেই দিন এমুন অবস্থার মধ্যে পরসিলাম!
বইবিয়োগ বইমেলা
জীবনে এই প্রথমবার বইমেলায় গিয়ে বইযোগ হলো না।
ঢাকা গিয়েছিলাম অন্য একটা কাজে। আজকাল ঢাকায় থাকা-খাওয়া-ঘোরা সবকিছুর উপর আমি চরম পরনির্ভরশীল, সবকিছু কতৃপক্ষের(মানে অফিসের) উপর ছেড়ে দেই। ছাত্রজীবনে যেরকম বেহুদা ঘুরে বেড়াতাম ঢাকার রাস্তা ঘাটে, এখন আর সেই ঢাকা নেই। সব রাস্তাঘাট দালানকোঠা অচেনা লাগে। বিশাল দানবীয় সব ব্যাপার। ঢাকার সবকিছু যেন একটু বড় বড়। এমনকি সাইনবোর্ডের সাইজগুলো। দেয়ালের চিকাগুলোও দেখতাম একসময় বিশাল বিশাল। গুলশান বনানী উত্তরা বারিধারার দিকে তো রীতিমতো গোলকধাঁধা। বাকী ঢাকার মধ্যে মতিঝিল কারওয়ান বাজার শাহবাগ টিএসসি এই অঞ্চলগুলো বাদ দিলে বাকী ঢাকায় আমি পথ হারানো বালক।
আলো আর অন্ধকারে থাকি...
উবু হয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করি...
ঘাসমাতা তবে এবার অথবা
আবার সুযোগ করে দাও।
আমি ঠিক বেরিয়ে চলেছি
সেই ঘোর অন্ধকার থেকে।
অন্ধকারে ডুবে থেকে আমি
আসক্ত ছিলাম হাতড়ে বেড়ানোতে,
আঁধার দেখতেই রহস্য মনে হতো।
আসলে আঁধার আসলেই অন্ধকার,
সেখানে কেবল আলোর অভাব।
হাজারো জ্ঞানের ভিড়ে
আমি চিনতে শিখি নাই অন্ধকার,
সে অপরাধে যতোটা শাস্তি ছিলো,
তার থেকে তবে মুক্ত হলাম এবার।
আর অন্ধকার তবে অন্ধকারই রয়ে গেছে...
পাগলের দিনলিপি (আঠারো)
আজ রাতে নিজেকে নদীর মতো লাগে
জলে জলে জ্বলছি চলছি একই দিকে
দূরে কোথাও সমুদ্র আছে ভিন গাঁয়ে।
আঙুল ডুবিয়ে স্রোত আঁকি নিজ গায়ে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যায় আমাদের
ইতিউতি বহু বয়সী বৃক্ষের মতো ইতিহাস।
আমার শরীরে সব একই জল
ঘুরেফিরে আবদ্ধ জলেরাই খেলে
স্রোতধারা কিম্বা মৌনতায় আমৃত্যু চলেছে।
একই জলে আমার অবগাহন চলেছে আমৃত্যু...