ইউজার লগইন
ব্লগ
বইবিয়োগ বইমেলা
জীবনে এই প্রথমবার বইমেলায় গিয়ে বইযোগ হলো না।
ঢাকা গিয়েছিলাম অন্য একটা কাজে। আজকাল ঢাকায় থাকা-খাওয়া-ঘোরা সবকিছুর উপর আমি চরম পরনির্ভরশীল, সবকিছু কতৃপক্ষের(মানে অফিসের) উপর ছেড়ে দেই। ছাত্রজীবনে যেরকম বেহুদা ঘুরে বেড়াতাম ঢাকার রাস্তা ঘাটে, এখন আর সেই ঢাকা নেই। সব রাস্তাঘাট দালানকোঠা অচেনা লাগে। বিশাল দানবীয় সব ব্যাপার। ঢাকার সবকিছু যেন একটু বড় বড়। এমনকি সাইনবোর্ডের সাইজগুলো। দেয়ালের চিকাগুলোও দেখতাম একসময় বিশাল বিশাল। গুলশান বনানী উত্তরা বারিধারার দিকে তো রীতিমতো গোলকধাঁধা। বাকী ঢাকার মধ্যে মতিঝিল কারওয়ান বাজার শাহবাগ টিএসসি এই অঞ্চলগুলো বাদ দিলে বাকী ঢাকায় আমি পথ হারানো বালক।
আলো আর অন্ধকারে থাকি...
উবু হয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করি...
ঘাসমাতা তবে এবার অথবা
আবার সুযোগ করে দাও।
আমি ঠিক বেরিয়ে চলেছি
সেই ঘোর অন্ধকার থেকে।
অন্ধকারে ডুবে থেকে আমি
আসক্ত ছিলাম হাতড়ে বেড়ানোতে,
আঁধার দেখতেই রহস্য মনে হতো।
আসলে আঁধার আসলেই অন্ধকার,
সেখানে কেবল আলোর অভাব।
হাজারো জ্ঞানের ভিড়ে
আমি চিনতে শিখি নাই অন্ধকার,
সে অপরাধে যতোটা শাস্তি ছিলো,
তার থেকে তবে মুক্ত হলাম এবার।
আর অন্ধকার তবে অন্ধকারই রয়ে গেছে...
পাগলের দিনলিপি (আঠারো)
আজ রাতে নিজেকে নদীর মতো লাগে
জলে জলে জ্বলছি চলছি একই দিকে
দূরে কোথাও সমুদ্র আছে ভিন গাঁয়ে।
আঙুল ডুবিয়ে স্রোত আঁকি নিজ গায়ে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যায় আমাদের
ইতিউতি বহু বয়সী বৃক্ষের মতো ইতিহাস।
আমার শরীরে সব একই জল
ঘুরেফিরে আবদ্ধ জলেরাই খেলে
স্রোতধারা কিম্বা মৌনতায় আমৃত্যু চলেছে।
একই জলে আমার অবগাহন চলেছে আমৃত্যু...
সমুদ্রবিলাসে বাউন্ডুলে.. [কাব্য লগ!]
#
রাতের ট্রেন..
জানলার অন্ধকারে;
তারা হয়ে পথ দেখায়,
প্রিয় কোন স্বপ্ন..।
আড্ডামুখর পথচলার কথকতায়;
ভুল সুরে গাওয়া প্রিয় গানে,
মৃদু হাসিতে ছুঁয়ে যায় বিষাদ..
অস্বাদিত কোন উচ্ছ্বাসে,
বুকে বেঁজে উঠে অবাক আক্ষেপ..
আর গাওয়া হবে না-
‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি…’।
#
অপেক্ষার রাত শেষ হয়ে আসে..
চোখ খুলতেই,
নতুন দিনের আলো..
কল্পনার অনুভূতিতে;
মিছিমিছি-
দোলা দিয়ে যায়,
লোনা জল হাওয়া..।
গুনগুন গুঞ্জনে গুঞ্জরিত গান,
সাগর ডাকে..আয়..আয়..আয়..।
#
বিষণ্ণ দুপুর,
কিছু রোদ্দুর..
অলস হাওয়ায়;
ভেসে আসে ঘ্রাণ,
বহুদূরের সমুদ্দুর..
কালান্তক সময় আজ,
নির্বিষের বিষে নীল..
জলে তার ছায়া..
সমুদ্দুর ডুবে যায়,
আকাশনীলায়...।
#
চিরচেনা বিকেল হাওয়ার গান,
বদলে গেছে আজ..
তপ্ত ধুলির বাঁধ পেরুতেই;
অপার্থিব জলরাশি,
স্বপ্নছোঁয়া আবেশের সমুদ্দুর..
শুধুই চেয়ে থাকা,
পেরেশানীময় জীবন-যাপন
বহুত পেরেশানীর মধ্যে আছি। এতটাই পেরেশানী যে, এবার ঘুড়ি উৎসবেও যেতে পারছিনা। এটি আমাদের ছবির হাটের ৮ম ঘুড়ি উৎসব। প্রতিটি উৎসবের সাথে আমার সম্পৃক্ততা থাকে। সেটা এক্কেবারে এ.এম/ পি.এম। আরে মশাই, এ.এম/ পি.এম বুঝলেন না ? এ.এম মানে হচ্ছে- আপাদমস্তক। আর পি.এম মানে- পা থেকে মাথা। মানে ঘুড়ি উৎসবের সব পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সাথে আমি থাকি। এবারও ছিলাম। শেষের দিকে এসে পারিবারিক ঝামেলায় এতটাই আস্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলাম যে, যেতেই পারছিনা আর।
এক সকালে..
-মুকু, এই মুকু..শুনে যা তো একটু..
বাসা থেকে বের হতে গিয়ে-ও দাড়িয়ে গেল মুকু, ভাইয়া ডাকছে ভেতরের ঘর থেকে।
ওর ভার্সিটি পড়ুয়া একমাত্র ভাই স্নিগ্ধ'র ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ভ্রু কুঁচকে গেল মুকুর। ঘর অগোছালো রাখা মুকুর একদম সহ্য হয়না।
সকাল দশটা বাজে, এখনও বিছানাই ছাড়া হয়নি!
- কীরে, এক কাপ চা করে দে না..
- কলেজ যাচ্ছি তো ভাইয়া, এখন তো একদম সময় নেই।
তাড়াহুড়া করে বের হয়ে এলো মুকু।
ফার্স্ট পিরিয়ডে আজ ওর প্রিয় রাবেয়া মিস্ এর বাংলা ক্লাস।
এত্ত সুন্দর করে কবিতা গুলা পড়েন মিস্, প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে!
বাসার গেইট টা খুলতেই - একটা লেজ ফোলা লাল সাদা বেড়াল হেটে যাচ্ছে, সাথে দু'টা পুচকি ছানা।
ইস্, কি সুন্দর দেখতে! সকাল সকাল এত্ত সুন্দর কিছু দেখলে কার না মন ভাল হয়ে যায়?!
কি ভেবে আবার বাসায় ঢুকল মুকু।
ধীরে সুস্থে এক কাপ চা বানিয়ে ঢুকল ভাইয়া'র ঘরে।
এক্টি অতীন্দ্রীয় প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য
বাসের থিকা পইড়া যাওয়া ডিমটা
ট্যাঁ ট্যাঁ কৈরা কাইন্দা দিলেই
হেল্পারের মুবাইলে ওয়াজের সুরে নাইচা ওঠে সিরিয়াস স্বাস্থ্যবান পুলিশের ভুড়ি।
গল্প: একটা সাধারণ ছেলের গল্প
১.
মধ্যরাত আজকাল এত দ্রুত পার হয়ে যায় যে, পুরো রাতটাকেই কিঞ্চিৎ একটা সময়ের গণ্ডির মতো লাগে আমার কাছে। মানুষ বাস করে একটা দ্বিধার ভেতর। ভালো-খারাপের দ্বন্দ। এর কোনোটাই গ্রহণের ক্ষমতা তার নেই। খারাপ ও ভালো কোনোটাই ধারণ করতে পারে না সে। তাই যখন মানুষের ভালো সময় যায়, তখন সে শঙ্কিত থাকে। আবার যখন খারাপ সময় চলে, তখন তার মনের একটা অংশ সান্তনাস্বরূপ এই ভেবে খুশি হয় যে, মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। মানুষ শুধু সবসময় চায় একটা ভিন্ন কোনোকিছু। কিন্তু সেই ভিন্ন কোনোকিছুটা কি, সেটা সে জানে না।
একটি প্রেমের কবিতা কষছি
একটি প্রেমের কবিতা কষছি মনে মনে
এমন হবে
যে ভালোবাসা - অন্ধ অথবা আলোকিত নয়
যে আবেগ - প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্ন নয়
যে স্বপ্ন - ঘুমিয়ে নয় , জেগে জেগে ও নয়
যে বাস্তবতা - স্বপ্নহীন নয় , কুসুমাস্তীর্ণও নয় ।
আমি সেই প্রেমের কবিতা লিখতে যাচ্ছি
যে প্রেমে - দুই এক এ দুই নয় , এক হয় ।
যে প্রেমের সমীকরন তুমি ছাড়া সিদ্ধ নয়
যে প্রেমের স্বতস্ফূরণ তুমিহীনা সম্ভব নয়
যে প্রেমের অনুসঙ্গে তুমিই পুরো শব্দভান্ডার
সে প্রেমের কবিতা লেখা
আজ আর হলোনা আমার ।
আমি ঘরের হইনি বাহির আমায় টানে!
এমনিতেই কচ্ছপ গতির ইন্টারনেটে দিন চলে না তার ভিতরে জিপির মডেমও কানেক্ট হয় না। কি দিনকালে আছি আজ নিতান্তই কপালগুনে জিপি মডেম কানেক্ট হলো। তাই ভাবলাম পোষ্টটা লিখে ফেলি। কিন্তু জিপির নেট তাই ২০ মিনিটে পেজ লোড হলো। কি যে ধৈর্য নিয়ে থাকি তা পাবলিকরে কেমনে বুঝাই!
পাগলের দিনলিপি (সতর)
তারপর হাটলাম বহুকাল যেনো,
হাটতে হাটতে ঘুরতে ঘুরতে
যেই না পেরিয়ে গেলাম নিয়নের আওতা
দেখি তুমি সেইখানে নিরতিশয় বালিকা
আঁধারে কেরোসিন কুঁপি নিয়ে
লুকোচুরি খেলো। তোমার অচেনা
নামটা ধরে ডাকতেই তাকালে ফিরে;
আমি জেনে গেলাম পৃথিবী জুড়ে সব শিশুদের ডাকনাম।
তোমার আঙুল ছুঁতেই আমাকে তুমি
নিয়ে গেলে ঠিক যেখান যাবার কথা ছিলো
আঁল ভেঙে আমরা যখন পৌছলাম সেই খানে
তখন চাঁদের শরীর বাড়ানো হাতে ছুঁয়ে দেয়া
যাচ্ছিলো, ঈর্ষায় জ্বলছিলো জোনাকীরা...
তুমি আলোটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে গিয়ে
খেলনা আগুনটাকেও ছড়িয়ে দিলে চারপাশে,
হতভম্ভ হয়ে অবশ শরীরে তাকিয়ে তাকিয়ে
দেখলাম আমি-তুমি-চাঁদ-জোনাকীরা
কি করে আগুনে পুড়ে ছাই হলো।
তোমার অজানা নাম ধরে ডাকতেও কোনো সাড়া
না পেয়ে পোড়া ঘ্রাণ মুছতে মুছতে আমি পাশ ফিরে
ঘুমিয়ে পড়লাম...
কেন এসেছিলে
বসন্ত তুমি কেন এসেছিলে
কোকিলের কুহু ডাকে ,
মুকুলের ঘ্রাণে , শিমুলের ডালে ,
কাদাজল নদী বাঁকে ।
দাঁড়কাক এক উঠোনের কোনে
সারাদিন কাচ্ছিল আনমনে ।
কোথা থেকে উড়ে এসে হেসে ওঠে
কোকিল ধুরন্ধর ।
ভুলে যায় কাক মানায়না তার
কোকিলের মধুস্বর ।
চন্দ্রালোকের ছায়া-৫

চন্দ্রালোকের ছায়া-৩
চন্দ্রালোকের ছায়া-৪
“তুমি তাহলে জগিং শুরু করেছ?” হিরাগি বলল।
“হুম।“
“ জগিং করলে তো মোটা হবার কথা না, দিন দিন এরকম মোটা হয়ে যাচ্ছ কেন?”
“কি করব, সারা বিকেল যে শুয়ে শুয়ে কাটাই। আমি হাসতে হাসতে বলি। কারণ আসল সত্যটা হল, আমি অসম্ভব শুকিয়ে গেছি।“
মৃত্যু বিষয়ক একটা কথোপকথন দৃশ্য
বন্ধুরে জিগাই, "তুই মারা যাবি কবে?"
বন্ধু কয়, " একদিন হঠাৎ..."
মৃত্যু বিষয়ে আমার খুব একটা ফেটিশ ছিলো না,
আমি কই, "সেরম তো আমার প্রয়াত ঠাকুরদারো
হইছিলো হঠাৎ কইরা একদিন সে বিছানায় কাইত...
বয়স হইলে এমনটাই হয়..." তারপর উদ্বিগ্ন চোখে
চোখ রাইখা কই, " তর কেমনে মরতে শখ জাগে?"
বন্ধু আমার দৃষ্টিতে ধরা দিতে চায় না
সে চোখ বন্ধ কইরা রাখে
অনেক্ষণ চোখ বুইজা রাখে চুপচাপ।
একসময় হঠাৎ চোখ খুইলা কয়,
" ঠিক যেমনে আমার পরদাদীরে মরতে হইছিলো..."
আমি বন্ধুর বংশের গল্প জানি না, জানি না তার
পর দাদী কেমনে মরছিলো...কিন্তু তার মৃত্যুর রহস্য জানতেও আগ্রহ
হয়না আর।
তয় আমার পরদাদি মরছিলো জীবন্ত...
দাদা মরনের পর একলগে কবরে যাইতে হইছিলো তারে,
সতীত্বের পরীক্ষা দেওনের লেইগা...
কুশিয়ারা ও একজন লেখকের গল্প
ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হতে চলল। বইমেলায় যেতে পারিনি। চট্টগ্রাম থেকে দু’এক দিনের জন্য ঢাকা যাওয়া খুব যে কঠিন তা নয়। তার ওপর আমার একটা উপন্যাস এসেছে মেলায়। কিন্তু আমি একা তো আর যেতে পারি না। মেয়ের বায়না- সেও যাবে। মেলা থেকে বই কিনবে। আমার স্ত্রী একটা স্কুলে চাকরি করেন। তাঁর আর আমার ছুটির সময়টা মেলেনি বলে যাওয়া হয়নি।
কিন্তু মেয়েকে কী করে সামলাই? তার বই চাই। নিয়ে গেলাম আন্দরকিল্লা। লাভ কিছু হয়নি। মেয়ে বইমেলা থেকেই বই কিনবে।