ইউজার লগইন
ব্লগ
চিন্তার মৃত্যুচিন্তা
ভাবনারা নেমে এলে, কংক্রীটের পথটা নদী হয়ে যায়
উথাল পাথাল ঢেউ।
ছলোছলো জল
চোখে নিয়ে জেগে ওঠে সূর্যমুখী সাগর
সুদূরের অপেক্ষায় থাকা সাম্পান ছুঁয়ে বেড়ানো সুনির্দিষ্ট কুকুর
খুঁজে পায় কাঁকড়ার খোলস আর মরে যাওয়া স্টারফিশ।
গ্রাফিটি জুড়ে আনন্দ আঁকা হয় মানুষগুলোর
রাংতায় গড়িয়ে আসা ধোঁয়াময়তা, ছড়িয়ে পড়ে ওদিকে।
টুপটাপ শব্দে চেতনা, চিন্তা ও ভাবনা এলোমেলো ছড়িয়ে পড়ে মাটি লেপা মেঝেতে।
মাঝরাতে মৃত্যুর শব্দ, শাঁ শাঁ দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায়
ধরা হয়ে ওঠেনা, ছোঁয়া হয়ে ওঠেনা,
মৃত্যু নিজেই মরে যায় মৃতদের রাজ্যে...
নিঃসঙ্গ নিঝুপদ্বীপ এবং একটি হুমায়ুনকাব্য
যাত্রী সংখ্যা ষোল। পাঁচ জোড়া দম্পতি। দুইজন বন্ধু। এক জোড়া কলিগ। একটি বোন। একজন সহকর্মী। ওহো, আর সতেরোতম ব্যক্তি একটা উদ্ভট পথপ্রদর্শক। এই হলো নিঝুম দ্বিপ বাহিনী। এদের নাম বলে নেয়া ভালো। তাহলে গল্পটা বলা যাবে আয়েশ করে।
পাগলের দিনলিপি (উনিশ)
.............................................................................
..............................................................................
...............................................................................
.................................................................................
.................................................................................
ঘুড়িতে ঘুড়িতে শত্রুতারেই মেনেছে মানুষেরা
আর তাই ভোকাট্টা বলেই আমরা দৌড়েছি ঈষাণে
সেখানে জমাট হয়ে ছিলো একদল মেঘ-কালোমেঘ
ঠিক যেনো মোমপালিশে ঝলক মেরে দিলো একবার।
আমাদের ঘুড়িটা উড়ছিলো যার পাশে, তার বাদুরের চোখ,
কলাবতী নাক আর রক্তলাল ঠোটের কোনায় কুকুরের দাঁত
উঁকি মেরে যায়। প্রতি টানে শব্দে শব্দে জানান দিচ্ছিলো
তার অস্তিত্ব-অভ্যাস আর মন-মানসিকতা...
অলৌকিক লন্ঠন
কেমন এলোমেলো দাঁড়িয়ে আছো তুমি
হাতে নিয়ে অনিশ্চয়তার অলৌকিক লন্ঠন
যে যখন ভিক্ষা মাগে পথ
কেমন নির্লিপ্ত হাতেম তাইয়ের মত, তুমি নাকি
এদিক ওদিক দোলাও লন্ঠনের আলো।
পথ ভুলে কানাগলিতে চলে এলে কোন বেভুল, শুনেছি
নিঃশব্দে তাকেও চিনিয়ে আনো হাত ধরে।
তোমার অলৌকিক লন্ঠন যেন ক্রমাগত দোল খায় বাতাসে
অন্ধকার রাত্রিতে তুমিই নাকি হও নাবিকের শেষ বাতিঘর।
প্রবল শীতে বেড়ে গেলে রক্তের ডাক
তোমার লন্ঠনই নাকি উম হয়ে ধরা দেয় শহরগামী কোন শ্রমিকের কাছে
অথচ আমি, এই ঘোর দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে রইলামতো রইলামই
সেকেন্ড গেছে, মিনিট গেছে, দিন গেছে, চলে গেছে ঘুমের পরে ঘুম
অথচ তোমার অলৌকিক লন্ঠন কেবল দুলতেই লাগলো পেন্ডুলামের মত
আর যখনি ছুঁতে গেলাম, হয়ে গেলো পলায়নপর
অস্পস্ট ধুধু মরিচিকা
{(c) MNI, 04/03/2012}
সময়গুলো দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে
ইদানীং সময়গুলো খুব দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। এটা বোধহয় আমাদের সবারই হচ্ছে। সেদিন সাকিব আল হাসানকে দেখলাম, এ নিয়ে আক্ষেপ করতে। বিপিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সম্পর্কিত নিজের একটা লেখায়। সাকিবকে আমি পছন্দ করি ওর রেগুলার পার্ফর্মেন্স আর পজিটিভ অ্যটিটিউডের জন্য। আর প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া ওর লেখাগুলো পড়ে পড়ে যেটা মনে হয়েছে, এ কাজটাও বেশ পারে ছেলেটা। সব মিলিয়ে একজন অলরাউন্ডার যাকে বলে আরকি। আমার আরেকজন পছন্দের খেলোয়াড় হচ্ছে আশরাফুল। যদিও বেচারা এখন পর্যন্ত নিজের সেরা সময়টা খুঁজে পায় নি এবং নিজের সেরা খেলাটাও খেলতে পারে নি। তবু আমি আশায় আছি, একদিন সে ফর্মে ফিরবে এবং অনেকদিন পর্যন্ত একটানা স্বীয় ঝলকানিতে প্রকম্পিত করে রাখবে চারদিক। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, আমার অপছন্দের একজন খেলোয়াড় হচ্ছে তামিম ইকবাল। ছোকড়াকে ডেঁপো আর বেয়াদপ ধরনের মনে হয়েছে আমার। এ ধরনের ধারণা অবশ্য এমনি এমনি তৈরি হয় নি আমার ভেতরে। তার
দাসবিদানীয়া
শব্দটা Dasvidaniya, দাসবিদানীয়া, এটা একটা রাশিয়ান শব্দ, এর অর্থ বিদায় বা গুডবাই।

এই বিদায় মানে চিরবিদায়, আর কখনো দেখা হবে না।
It's Russian, a common way to say goodbye to someone that you will see again later. In Cyrillic it's written as До свидания.
До = until
свидание, свидания = meeting
"Until meeting," in other words "until we meet again."
I should have clarified that you wouldn't say "До свидание", but свидание is the form of the word you'd find if you looked in a dictionary. It means "meeting" or "rendezvous". To say "until meeting" as a goodbye, you change the case so it becomes "До свидания".
বিহারী জনগোষ্ঠী
মাত্র ৫ শত বছর আগেও মৈথিলী, বাংলা, ঊড়িয়া অসমীয়া ভাষার ভেতরে এতটা ব্যবধান ছিলো না। বিহার তারপরও কৌশলগত দিক থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধারণ করে ছিলো, উত্তর ভারত থেকে বাংলা মুল্লুকে আসবার গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এখানেই মুসলমান শাসকেরা তাদের দুর্গ বানিয়েছেন।
উত্তর ভারতের ভাষা, মৈথিলী আর ফার্সী, তুর্কি বিভিন্ন ভাষা মিলে মিশে এক ধরণের মিশ্রভাষারীতির উৎপত্তি হলো এখানে। এখন যেটাকে হিন্দী হিসেবে দেখা হয়, এই মিশ্র ভাষা আদতে সে ভাষারই পূর্বপুরুষ। আরবি হরফে লিখিত সে ভাষার পোশাকী নাম হলো উর্দু, মৈথিলীর বিবর্তন এটাকে সম্পূর্ণ উর্দু কিংবা হিন্দীর আকার দেয় নি, বরং তাদের ভাষাটা একটু উর্দু-হিন্দীঘেঁষা এক ধরণের আলাদা উচ্চারণরীতি-
শাশ্বত ছাব্বিশ
১
-‘মুক্তি’ আর ‘স্বাধীন’ ! প্রজন্ম ,৭১ আর প্রজন্ম ’৭৫ ! কাকতালীয়ভাবে দু’জনই মাতৃ-পিতৃ হারা ! আমার মায়ের কোলেই মানুষ, আমার মাকেই মা ডাকে !
চোর-পুলিশ
সে বহুদিন আগের কথা। চট্টগ্রামে মনা নামে এক চোর ছিল। চট্টগ্রামের চোরদের কাছে সে ছিল দেবতুল্য আর সাধারণ মানুষের কাছে সাক্ষাৎ বিভীষিকা। কারন, মনা-চোরাকে কখনো পুলিশ ধরতে পারেনি বা, কোথাও চুরি করতে যেয়েও সে কখনো ধরা পড়েনি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো মনা চোরাকে কেউ কখনো দেখেনি বা, তার আড্ডাখানা কোথায় বা, কোথা থেকে সে এসেছে, তার হদিসও কেউ জানে না।

মনার অত্যাচারে চট্টগ্রামবাসী তখন অতিষ্ট। সবাই মিলে গেল পুলিশের কাছে; যেভাবেই হোক মনা-চোরাকে ধরতে হবে। পুলিশের বড়কর্তা আশ্বাস দিলেন যেভাবেই হোক তিনি মনা-চোরাকে ধরবেন।
হাম তুমকো দিল দিয়া তোফা সামাঝকে, তুম উসপর বইঠ গিয়া সোফা সামাঝকে!
আমার এক ছোট ভাই সেইদিন খুব আক্ষেপ কইরা কইতাসিলো,” ভাই’ “ও”রে প্রপোজ কইরা কি যে বেকায়দায় পড়লাম!“ জিগাই, “‘ও’ টা কে?” (জানি তো ‘লিলি’ই। প্রেমে পড়ার পর থেইকা হের নাম মুখে লয় না। ক্লাসের নীলা, স্রাবন্তি, সুমনা সবার নাম-ই শুনা যায়। খালি লিলি আইলেই “ও”। আর আমারও চেষ্টা থাকে, নামটা উচ্চারণ করানোর।) ভাবলাম, প্রপোজাল গ্রান্ট হয় নাই। উল্টা হুমকি খাইলো কিনা। সান্ত্বনা আর সাহস দিবার প্রস্তুতি নিতাসি, এর মধধেই কইতে শুরু করলো, “ভাই, এখন তো আর নিজের কোন কিছু নাই। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত, খালি ফোন আর ফোন। বন্ধুগো আড্ডায় ফোন। ট্রাফিক জ্যামের দিবানিদ্রায় ফোন। বাথরুমে গিয়াও ‘ও’র ফোনের আলাদা রিং টোন শুনতে পাই! “কোথায় আছো?” “কি করছো?” “এতক্ষন কোথায় ছিলা?” “তোমার ওই বন্ধুটা ভালো না।“ “এতো রাতে আবার চটপটি খাচ্ছ কেনো!” ভাই’ এ তো কারাগার!”
মাথায় গল্প নিয়ে ঘুরছি...
নীরব রাত। পাতা ঝরার শব্দ পাওয়া যায়। এমনকী নিজের শ্বাসের শব্দে চমকে উঠার পরিবেশে দূর থেকে ভেসে আসে বাঁশির শব্দ। কার এমন মন কেমন লাগা সুর ! জানার উপায় নেই। জানালায় চোখ রাখি। বালিচর। দূরে পানি। ওটা মেঘনা। তারওপর জ্যোন্সার নাচ..
মাথায় ঘুরছে বিকেল থেকে। ছুটির দিনে একটু ঘুম সুখ বিসর্জন দিয়ে ভেবেছিলাম গল্পের চরিত্রের সঙ্গে যাই, সেই আলো প্লাবিত মেঘনার চরে।
যাওয়া হচ্ছে না।
মাথায় ঘুরছে একটা গল্প।
ত নিয়ে বসে আছি।
শব্দে অনুবাদ হবার আগে নিজেই পড়ে নিচ্ছি গল্পটা। বর্ণমালাহীন এ ভাষার নাম কী?
উপন্যাস : অচল পয়সার জবানবন্দি (৬)
৬.
দ্রুত খান ভাইকে ধরে ফেললাম। আমাকে দেখে তিনিও বেশ অবাক! কি সমাচার জানতে চাইতেই, তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, কই যান আপনি? বললাম গুলশানের দিকে। একটা বিশেষ কাজে।
তার প্রশ্নের পিঠে কেবলই প্রশ্ন। কাজটা কি বিশেষ জরুরি?
আমার মনে হলো তিনি বোধহয় আমাকে দেখে খুশি হয়েছেন। কিন্তু কারণটা বুঝতে পারছিলাম না। যদিও ঢাকা শহরের স্বাভাবিক নাগরিক নিয়ম হচ্ছে, রাস্তায় পরিচিত কাউকে দেখে মুখটা একটু বাড়তি গম্ভীরতার আড়ালে ঢেকে ফেলা। নাহলে আবার বিকাশমান কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং তারও আড়ালে বিকাশমান স্বার্থবাদী মনস্তত্বের চর্চাটুকু বজায় থাকে না। মানুষে মানুষে যে একসময় সুসম্পর্ক ছিলো, তারা যে একে অপরকে দেখলে খুশি হতো; এখনকার মানুষের মেলামেশা দেখলে কে সেই কথা সত্য বলে মানবে?
তুমি অশ্ম হও, তব স্তুতির বিন্যাসে তুমি অংশুমালা !

এক স্নিগ্ধ বিকেল বেলার সতেজ আবেশে তোমাকে খুব করে মনে পড়ছে.. বিশুদ্ধ হিমেল হাওয়ার ঝাপটা যেন কতশত তরীর পাল উড়িয়ে দিয়ে এসে এখন আমার ব্যালকনিতে ঝরে পড়ছে তীব্র আবেগে.. তপ্ত মরুর বুকে অনুতপ্তের গ্লানি টেনে নিয়ে উদাস চিত্তে এদিক সেদিক উদ্ভ্রান্তের মত নিরবিচ্ছিন্ন বিচরণে নির্বিঘ্নে আর্তচিৎকার করে যেতে পারি এখন আমি অনেকটা ক্ষণ ধরে..
নিজগুণে ক্ষমা করার আশ্বাস...।
তানবিরা আফা’র ‘ব্যবচ্ছেদ’ পোস্ট-এর অংশবিশেষ দিয়া শুরু করি, “লেখা আর লেখককে মিলাতে আমি নারাজ। একটা লেখক অনেক মুড থেকেই একটা লেখা লিখেন। প্রত্যেকটা লেখা লেখকের চরিত্রকে ধারন করে, তাই কি?”। সম্পূর্ণ একএকমত।
জন্মতাড়িত
জন্মটা কি অনিবার্য ছিলো?
নাকি বাবা-মায়ের হঠাৎ আবেগরাঙ্গা
টুকটুকে বৃক্ষফল আমি!
জন্মটা যদি নিছক সত্যিই হবে
তবে পৃথিবীর আলো হাওয়া
চন্দ্রাক্রান্ত রমণী, ছোট্ট বাবুই পাখি
কেন লাগে তাপদাহ?
জন্মটা যদি এভাবেই হবে
তবে মানুষ রুপে কেন!
মানুষের বড্ড কষ্ট ক্লান্ত জীবন
মানুষ বড্ড একা।
বরং কাব্য তাড়িত শূণ্য ছাদে
তারের দোলনায় হলুদরঙ্গা কাপড় হলে,
তবুওতো জানতাম- ওই জল আগুনে
জীবন একবার ভেজে, একবার শুকায়।
{(c) MNI, 02.03.2012}