ইউজার লগইন
ব্লগ
জনক জননীর গল্প /মোস্তফা কামাল--------------একটি বই যা আমার অমূল্য সম্পদ।


"জনক জননীর গল্প" বইটি মোস্তফা কামালের লেখা।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্র সম্মান না জানালেও মুক্তিযোদ্ধারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েছে। এটাই সোলায়মান মন্ডলের বড় পাওয়া।
এবারে বই মেলা শুরু হবার পর পরই আমাকে ফোন করে বললো --আপু ঢাকায় কবে আসছেন? আপনাদের জন্য একটা সামান্য উপহার আছে।
আমি হাসলাম,বললাম-- কি আমাকে কোন বই উৎসর্গ করেছ?
সে হাসলো-- আপনি কি বই উৎসর্গ করার মত বড় কিছু হয়েছেন?
আমি ও কপট রাগ দেখিয়ে বললাম ---ইস্ আমি তোমাকে কত কি খাওয়াই তবুও একটা বই আমাকে উৎসর্গ করা যায় না।
মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো
মাঝে মাঝে তিতলি আর সায়ানের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়ে যায়। পরে ঝগড়ার কারণ দুজনের একজনও খুঁজে পায় না। কখনো খুঁজে পেলেও অবাক লাগে এটা কী এতো তীব্র অভিমানের কোন ব্যাপার ছিল?
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০৩
ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য ঢাকা শহরের শ্রীবর্ধন প্রকল্প চলছে, শহরের ভাঙাচোড়া পথঘাট কালো পিচে মসৃণ করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর, প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোর দু-পাশের নির্মানাধীন এপার্টমেন্ট হাউজিংগুলোর বাইরের টিনের দেয়াল রং এ ঢেকে ফেলছে শ্রমিকেরা, পুরোনো শ্লোগান আর বিজ্ঞাপনে ঢেকে থাকা দেয়ালগুলোতে নতুন রংএর পরত লাগছে, একটা সাজ সাজ রব শহর জুড়ে, সেখানেই পেপসি খাও গেম বদলে দাও শ্লোগানের পোষ্টারে বিচিত্র যোদ্ধাভঙ্গিতে মুখব্যাদন করে আছে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল আর মাশরাফি মোর্তজা।
সিরাজীর তিন ‘প’
মাইনুল এইচ সিরাজীর লেখা প্রেম পৃথিবীর পাঁচালি (তিন ‘প’) পড়া শেষ করলাম । কবিতার আবহে রচিত বইটি পড়বার সময় কাহিনীটাকে অন্য রকম কিছু মনে হচ্ছিল, কিছুতেই ধরতে পারছিলাম না সেই অন্য রকমটা কী ? সন্তানের প্রতি পিতামাতার স্নেহ, পিতামাতার প্রতি সন্তানের ভালবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তিলেতিলে গড়ে ওঠে যেমন করে; তেমনই ঘৃণা আর অবহেলা ক্রমশ বাড়তে থাকে আর শেষ পর্যন্ত তা প্রতিশোধের মাধ্যমে নিরসনের পথ খুঁজে পায় । সে প্রতিশোধ হতে পারে নির্মম কোন প্রক্রিয়ায়, কখনও বা অন্য কোন উপায়ে । সিরাজী তার লেখনীতে এমনই এক প্রতিশোধের পথ নির্দেশ করেছেন যা আগে কোন গল্প-কাহিনীতে আমার চোখে পড়েনি ।
আড়িয়ল বিলঃ আবার ফাইদা
রাজনীতি নিয়ে কোন কিছু লেখার যোগ্যতা বা সাহস আমার তেমনটা নাই, আর থাকলেও কি বা হতো দুটো বড় দলের যে কোন একটা অথবা পালাক্রমে দুটোরই কৃতদাস রূপে বিবেকের সাথে বেঈমানি করে বেঁচে থাকতাম । আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণের ইস্যু নিয়ে সারা দেশ ভাবিত, এমন সময়ে একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে দেশে নতুন বিমান বন্দর নির্মাণের বিষয়টা মাথায় পজেটিভ ভাবে আসছে না।
গল্প: কোনো এক ফেব্রুয়ারির রাতে একসাথে
শিখা অনির্বাণকে চোখের সীমানায় রেখে পার্কের এক সবুজ ঢালে সাধনা করতে বসেছিলাম। যদিও শান্তি করে বসার উপায় ছিলো না। আশপাশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্ধকার খোঁজার দৃষ্টিকটু রেষারেষি দেখে বিরক্ত হতে হচ্ছিলো। ওদের পিছে আবার বোলতার মতো বোঁ বোঁ করছে বখাটে ছেলের দল। সুযোগ পেলেই হয়তো একটা কমেন্ট পাস্ করে দেয় কিংবা পাশে বসে বিকট স্বরে গানের মহড়া শুরু করে, খুবই বিচ্ছিরি ব্যাপার।
যদিও বিচ্ছিরি লাগার কিছু নেই। হিসেব অনুযায়ী আমার তখন চার-পাঁচটা পরগাছা জুটিয়ে আপনমনে সাধনায় ডুবে থাকার কথা। পার্কে পরগাছা পাওয়া কোনো কঠিন ব্যপার না।
বকুলকথা (শেষ পর্ব)
খোঁজ নিয়ে কাকিমার অনুমতি নিয়ে বকুল পাড়ার কাছাকাছি একটা পার্লারে ঢুকলো কাজ শেখার জন্য। মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে বকুল কাজ শিখতে লাগলো। ভুরু প্লাক দিয়ে শুরু করে খুব দ্রুতই স্কীন কেয়ারে পৌঁছে গেলো সে। কাজের জায়গায় আস্তে আস্তে অনেকের সাথে তার বেশ ভাব হলো। ভাগ্য বিড়ম্বিত অনেকেই আছে এ পৃথিবীতে তাহলে সে শুধু একা নয়। দুর্ভাগিনীরা দায়িত্ব নিয়েছে সুখী মানুষদের সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে তোলার। অন্যদের দুঃখের কথা শুনে, নিজের দুঃখ ভাগ করে এক রকম দিন কেটে যাচ্ছিলো। সেখানে একটা আলাদা পরিবার তৈরী হলো তার। সবচেয়ে বেশি ভাব হলো ঝর্ণাদির সাথে। গোপন থেকে গোপন দুঃখও দুজন দুজনের মধ্যে ভাগ করে নিতে লাগলো। স্বামী সন্তান নিয়ে ঝর্ণাদিকেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় দৈনন্দিন জীবনে। একদিন ঝর্ণাদি বকুলকে বললো, এতো ভালো কাজ শিখে এখানে কেনো পড়ে থাকবি তুই? আমি চলে যাচ্ছি ভালো পার্লারে, তুই যাবি সাথে?
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০২
কোরআন তেলাওয়াত করতে করতে হাঁটছে যে ছেলেটা, যে ছেলেটার ঠোঁটে হিন্দি গানের সুর, সবারই গন্তব্য একটাই- এই এক মাস শুধুই বইয়ের। দুপুরের ঝকঝকে রোদের লাফিয়ে লাফিয়ে গাছে মগডালে উঠবার তাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটছে মানুষ, সবাই বইমেলা যাচ্ছে। রাজু ভাস্কর্য থেকে দোয়েল চত্ত্বর পায়ে হাঁটা মানুষের মিছিলের একটাই গন্তব্য, আলো নিভে যাওয়ার আগেই কোনোভাবে বর্ধমান হাউস পৌঁছাতে হবে। সেখানেই পরিচিতেরা সবাই আসবে একটু পরেই, সন্ধ্যাগুলো পরিচিত মানুষের হাসিঠাট্টায় মুখর হয়ে উঠবে।
একটুখানি ছোটবেলা ২
শীত শেষ হয়ে আসছে । আর মাত্র কদিন পরেই ফাল্গুন । চারিদিকে ফাগুনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে । কোন এক নিবিড় আঁধারে লুকিয়ে থাকা সবুজ পাতার ঝাঁক উঁকি দিয়ে দেখছে এই প্রাচীন বৃদ্ধা ধরণীকে । সেই সাথে বিদায় নেবে পুরনো শুকনো পাতারা । সবাই ভুলে যাবো বিগত শীতের যত কষ্টগুলো । কষ্ট ভুলানোর জন্যই হয়তো প্রকৃতি দান করে এই সুদর্শন স্নিগ্ধ ঋতুকে ।
অনেক ছোট বেলায় যখন চিনতামনা ফাল্গুন বা হেমন্ত , শুধু বুঝতাম শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষা । আর জানতাম শুকনো পাতা ঝরা শেষ হলে আসবে নতুন পাতা গজানোর দিন । বাতাসে মৌ মৌ ঘ্রাণ । তখন যে , আমের ফুল ফোটারও দিন । আর সেই পাগল করা ঘ্রাণ আসে আমের মুকুল থেকে ।
ভালো করি-য়ে
অস্কার ওয়াইল্ডের একটা লেখা অনুবাদ করতে চেষ্টা করলাম, কি দাঁড়াচ্ছে বুঝতে পারছিনা। অনুবাদ করতে গিয়ে নিজের ভাষার ঝামেলাটা ভালোমতো টের পাওয়া যাচ্ছে, কতো কি জানার আর শেখার বাকি!
---------------------------------------------------
তখন ছিলো রাতের বেলা আর তিনি ছিলেন একাকী।
তিনি দূরে দেখতে পেলেন এক গোলাকার নগরীর দেয়াল এবং নগরীর অভিমুখে চলতে লাগলেন।
নগরীর কাছাকাছি আসবার পরে, তিনি শুনতে পেলেন ভেতর থেকে ভেসে আসছে খুশির দম্ভময় পদধ্বনি , আনন্দের হাসি আর অনেক বাঁশীর কোলাহল। দরোজায় করাঘাত করলেন তিনি আর কোন এক দ্বাররক্ষী দরোজা খুলে দিলো।
দেখতে পেলেন এক মর্মরে তৈরী বাড়ি, যার সামনেও মর্মরস্তম্ভ। স্তম্ভ থেকে ঝুলছিলো ফুলের মালা আর ভেতরে বাইরে জ্বলছিলো সেডার এর মশাল। তিনি ঢুকে পড়লেন বাড়িটিতে।
বকুলকথা (২)
আস্তে আস্তে বকুল অনুভব করতে লাগলো তার ওপর কাকু-কাকিমার এ নির্ভরতা নিতান্তই স্বার্থ নির্ভর, ভালোবাসা নির্ভর নয়। আগে পাড়ার কেউ যদি বকুলকে ডেকে জিজ্ঞেস করতো, ও বকুল কি খবর তোর? এভাবে বোস বাড়ি পড়ে থাকলেই চলবে? পরের সেবা করেই যাবি? বিয়ে থা, চাকরি কিছুই করবি না?
হুমায়ুন আজাদ স্মরনে
ভয় নেই গোলাপ, তুমি পুষ্পিত হও
মেলে ধরো তোমার পাঁপড়ি।
আমরা আছি, জেগে আছি তোমায় ঘিরে।
ভয় নেই কাক, তুমি আবর্জনা বিনাশ করো
একে একে গিলে নাও পচে যাওয়া শরীর।
আমরা আছি, চেয়ে আছি তোমার পানে।
ভয় নেই বসন্ত, ভয় নেই পলাশ,
ভয় নেই শহীদ বেদী।
আমরা আছি, এখনো জেগে আছি।
পচন ধরা শিশ্নের ভয় নেই ঊর্বশী,
ক্ষরিত বিষের ভয় নেই ষোড়শী।
পাঠাগুলো কে চোখে চোখে রেখেছি।
ভয় নেই আজাদ, তুমি ঘুমাও
নষ্টগুলো খোঁজা হচ্ছে ধীরে ধীরে
কিছুই যেতে দেব না নষ্টের অধিকারে।
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০১
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করে যাওয়ার ক্ষণিকক্ষণ পরেই আমি সপরিবারে বইমেলায় পৌঁছেছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বই নিয়ে ঘুমাতে যান, দুষ্টু লোকেরা বলে তিনি বই দেখলেই ঘুমিয়ে পড়েন, সেসব কারণেই সম্ভবত যেকোনো ছাপানো রিপোর্ট তার সামনে আসলেই তিনি ঘুমিয়ে পরেন, কিন্তু তিনি যেহেতু ঘুমিয়ে পড়তে পারেন না তাই অধিকাংশ রিপোর্টে কি লেখা আছে তা তার জানা নেই। তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে বলেছেন তার সরকার বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিরসনে সাম্ভাব্য সকল কিছুই করেছে,
আড়িয়ল বিল
কিছুদিন আগেই শেয়ার মার্কেট নিয়ে রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। সরকারের হস্তক্ষেপে এখন আস্থা হারানো মানুষগুলো সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্ক্রিনের সামনে বসে বসে কত লস কমলো সেই হিসাব করছে। এবারের মত হয়তো সামাল দেয়া গেল।
হঠাৎ আবার উত্তপ্ত জনপদ। এবার
নিয়ে
আড়িয়ল বিল রক্ষা করুন : ডা. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী / শাহজাহান বাদল / সাইদুর রহমান সাইদ
১. ঐতিহাসিক পটভূমি
থাপড়াইতে চাই...
আমগো মহল্লায় নানান জাতের মানুষ থাকে। আগে ছিল খালি বাড়িওয়ালা আর পরিবারশুদ্ধ ভাড়াটিয়া। গত ২/৩ বছর থেইকা বিভিন্ন রকমের মানুষ বসবাস শুরু করছে পাড়ায়। ব্যাচেলার পোলাগো লাইগা মেস বাড়ি আছে। ব্যাচেলার মাইয়াগো লাইগা মহিলা হোস্টেল আছে। পাড়ায় ৩/৪ টা দোকান হৈছে। গত ৩/৪ দিন আগে দেখলাম পাড়ার এক বাড়িওয়ালা তার নিচতলার গ্যারেজের জায়গা কমাইয়া একটা দোকান খুলছে। সেইটারে নাকি বিউটি পার্লার বানাইবো। আজব সব কাজ-কাম।
মহল্লায় মহিলা হোস্টেল আর পোলাগো মেস থাকার কারনে সারা মহল্লা জুড়ে দিন রাইত ডি-জুস পোলা-মাইয়ারা খালি আড্ডা দেয়। সকালে বাইরে যাওনের সময় তাগোরে দেখি জোড়ায় জোড়ায়। রাইতে ফিরনের সময়ও দেখি...। ওগোরে এইভাবে দেখতে দেখতে একটা পুরানো গপ মনে পইড়া গেল।