ইউজার লগইন
ব্লগ
গল্প: কোনো এক ফেব্রুয়ারির রাতে একসাথে
শিখা অনির্বাণকে চোখের সীমানায় রেখে পার্কের এক সবুজ ঢালে সাধনা করতে বসেছিলাম। যদিও শান্তি করে বসার উপায় ছিলো না। আশপাশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্ধকার খোঁজার দৃষ্টিকটু রেষারেষি দেখে বিরক্ত হতে হচ্ছিলো। ওদের পিছে আবার বোলতার মতো বোঁ বোঁ করছে বখাটে ছেলের দল। সুযোগ পেলেই হয়তো একটা কমেন্ট পাস্ করে দেয় কিংবা পাশে বসে বিকট স্বরে গানের মহড়া শুরু করে, খুবই বিচ্ছিরি ব্যাপার।
যদিও বিচ্ছিরি লাগার কিছু নেই। হিসেব অনুযায়ী আমার তখন চার-পাঁচটা পরগাছা জুটিয়ে আপনমনে সাধনায় ডুবে থাকার কথা। পার্কে পরগাছা পাওয়া কোনো কঠিন ব্যপার না।
বকুলকথা (শেষ পর্ব)
খোঁজ নিয়ে কাকিমার অনুমতি নিয়ে বকুল পাড়ার কাছাকাছি একটা পার্লারে ঢুকলো কাজ শেখার জন্য। মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে বকুল কাজ শিখতে লাগলো। ভুরু প্লাক দিয়ে শুরু করে খুব দ্রুতই স্কীন কেয়ারে পৌঁছে গেলো সে। কাজের জায়গায় আস্তে আস্তে অনেকের সাথে তার বেশ ভাব হলো। ভাগ্য বিড়ম্বিত অনেকেই আছে এ পৃথিবীতে তাহলে সে শুধু একা নয়। দুর্ভাগিনীরা দায়িত্ব নিয়েছে সুখী মানুষদের সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে তোলার। অন্যদের দুঃখের কথা শুনে, নিজের দুঃখ ভাগ করে এক রকম দিন কেটে যাচ্ছিলো। সেখানে একটা আলাদা পরিবার তৈরী হলো তার। সবচেয়ে বেশি ভাব হলো ঝর্ণাদির সাথে। গোপন থেকে গোপন দুঃখও দুজন দুজনের মধ্যে ভাগ করে নিতে লাগলো। স্বামী সন্তান নিয়ে ঝর্ণাদিকেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় দৈনন্দিন জীবনে। একদিন ঝর্ণাদি বকুলকে বললো, এতো ভালো কাজ শিখে এখানে কেনো পড়ে থাকবি তুই? আমি চলে যাচ্ছি ভালো পার্লারে, তুই যাবি সাথে?
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০২
কোরআন তেলাওয়াত করতে করতে হাঁটছে যে ছেলেটা, যে ছেলেটার ঠোঁটে হিন্দি গানের সুর, সবারই গন্তব্য একটাই- এই এক মাস শুধুই বইয়ের। দুপুরের ঝকঝকে রোদের লাফিয়ে লাফিয়ে গাছে মগডালে উঠবার তাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটছে মানুষ, সবাই বইমেলা যাচ্ছে। রাজু ভাস্কর্য থেকে দোয়েল চত্ত্বর পায়ে হাঁটা মানুষের মিছিলের একটাই গন্তব্য, আলো নিভে যাওয়ার আগেই কোনোভাবে বর্ধমান হাউস পৌঁছাতে হবে। সেখানেই পরিচিতেরা সবাই আসবে একটু পরেই, সন্ধ্যাগুলো পরিচিত মানুষের হাসিঠাট্টায় মুখর হয়ে উঠবে।
একটুখানি ছোটবেলা ২
শীত শেষ হয়ে আসছে । আর মাত্র কদিন পরেই ফাল্গুন । চারিদিকে ফাগুনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে । কোন এক নিবিড় আঁধারে লুকিয়ে থাকা সবুজ পাতার ঝাঁক উঁকি দিয়ে দেখছে এই প্রাচীন বৃদ্ধা ধরণীকে । সেই সাথে বিদায় নেবে পুরনো শুকনো পাতারা । সবাই ভুলে যাবো বিগত শীতের যত কষ্টগুলো । কষ্ট ভুলানোর জন্যই হয়তো প্রকৃতি দান করে এই সুদর্শন স্নিগ্ধ ঋতুকে ।
অনেক ছোট বেলায় যখন চিনতামনা ফাল্গুন বা হেমন্ত , শুধু বুঝতাম শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষা । আর জানতাম শুকনো পাতা ঝরা শেষ হলে আসবে নতুন পাতা গজানোর দিন । বাতাসে মৌ মৌ ঘ্রাণ । তখন যে , আমের ফুল ফোটারও দিন । আর সেই পাগল করা ঘ্রাণ আসে আমের মুকুল থেকে ।
ভালো করি-য়ে
অস্কার ওয়াইল্ডের একটা লেখা অনুবাদ করতে চেষ্টা করলাম, কি দাঁড়াচ্ছে বুঝতে পারছিনা। অনুবাদ করতে গিয়ে নিজের ভাষার ঝামেলাটা ভালোমতো টের পাওয়া যাচ্ছে, কতো কি জানার আর শেখার বাকি!
---------------------------------------------------
তখন ছিলো রাতের বেলা আর তিনি ছিলেন একাকী।
তিনি দূরে দেখতে পেলেন এক গোলাকার নগরীর দেয়াল এবং নগরীর অভিমুখে চলতে লাগলেন।
নগরীর কাছাকাছি আসবার পরে, তিনি শুনতে পেলেন ভেতর থেকে ভেসে আসছে খুশির দম্ভময় পদধ্বনি , আনন্দের হাসি আর অনেক বাঁশীর কোলাহল। দরোজায় করাঘাত করলেন তিনি আর কোন এক দ্বাররক্ষী দরোজা খুলে দিলো।
দেখতে পেলেন এক মর্মরে তৈরী বাড়ি, যার সামনেও মর্মরস্তম্ভ। স্তম্ভ থেকে ঝুলছিলো ফুলের মালা আর ভেতরে বাইরে জ্বলছিলো সেডার এর মশাল। তিনি ঢুকে পড়লেন বাড়িটিতে।
বকুলকথা (২)
আস্তে আস্তে বকুল অনুভব করতে লাগলো তার ওপর কাকু-কাকিমার এ নির্ভরতা নিতান্তই স্বার্থ নির্ভর, ভালোবাসা নির্ভর নয়। আগে পাড়ার কেউ যদি বকুলকে ডেকে জিজ্ঞেস করতো, ও বকুল কি খবর তোর? এভাবে বোস বাড়ি পড়ে থাকলেই চলবে? পরের সেবা করেই যাবি? বিয়ে থা, চাকরি কিছুই করবি না?
হুমায়ুন আজাদ স্মরনে
ভয় নেই গোলাপ, তুমি পুষ্পিত হও
মেলে ধরো তোমার পাঁপড়ি।
আমরা আছি, জেগে আছি তোমায় ঘিরে।
ভয় নেই কাক, তুমি আবর্জনা বিনাশ করো
একে একে গিলে নাও পচে যাওয়া শরীর।
আমরা আছি, চেয়ে আছি তোমার পানে।
ভয় নেই বসন্ত, ভয় নেই পলাশ,
ভয় নেই শহীদ বেদী।
আমরা আছি, এখনো জেগে আছি।
পচন ধরা শিশ্নের ভয় নেই ঊর্বশী,
ক্ষরিত বিষের ভয় নেই ষোড়শী।
পাঠাগুলো কে চোখে চোখে রেখেছি।
ভয় নেই আজাদ, তুমি ঘুমাও
নষ্টগুলো খোঁজা হচ্ছে ধীরে ধীরে
কিছুই যেতে দেব না নষ্টের অধিকারে।
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০১
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করে যাওয়ার ক্ষণিকক্ষণ পরেই আমি সপরিবারে বইমেলায় পৌঁছেছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বই নিয়ে ঘুমাতে যান, দুষ্টু লোকেরা বলে তিনি বই দেখলেই ঘুমিয়ে পড়েন, সেসব কারণেই সম্ভবত যেকোনো ছাপানো রিপোর্ট তার সামনে আসলেই তিনি ঘুমিয়ে পরেন, কিন্তু তিনি যেহেতু ঘুমিয়ে পড়তে পারেন না তাই অধিকাংশ রিপোর্টে কি লেখা আছে তা তার জানা নেই। তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে বলেছেন তার সরকার বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিরসনে সাম্ভাব্য সকল কিছুই করেছে,
আড়িয়ল বিল
কিছুদিন আগেই শেয়ার মার্কেট নিয়ে রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। সরকারের হস্তক্ষেপে এখন আস্থা হারানো মানুষগুলো সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্ক্রিনের সামনে বসে বসে কত লস কমলো সেই হিসাব করছে। এবারের মত হয়তো সামাল দেয়া গেল।
হঠাৎ আবার উত্তপ্ত জনপদ। এবার
নিয়ে
আড়িয়ল বিল রক্ষা করুন : ডা. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী / শাহজাহান বাদল / সাইদুর রহমান সাইদ
১. ঐতিহাসিক পটভূমি
থাপড়াইতে চাই...
আমগো মহল্লায় নানান জাতের মানুষ থাকে। আগে ছিল খালি বাড়িওয়ালা আর পরিবারশুদ্ধ ভাড়াটিয়া। গত ২/৩ বছর থেইকা বিভিন্ন রকমের মানুষ বসবাস শুরু করছে পাড়ায়। ব্যাচেলার পোলাগো লাইগা মেস বাড়ি আছে। ব্যাচেলার মাইয়াগো লাইগা মহিলা হোস্টেল আছে। পাড়ায় ৩/৪ টা দোকান হৈছে। গত ৩/৪ দিন আগে দেখলাম পাড়ার এক বাড়িওয়ালা তার নিচতলার গ্যারেজের জায়গা কমাইয়া একটা দোকান খুলছে। সেইটারে নাকি বিউটি পার্লার বানাইবো। আজব সব কাজ-কাম।
মহল্লায় মহিলা হোস্টেল আর পোলাগো মেস থাকার কারনে সারা মহল্লা জুড়ে দিন রাইত ডি-জুস পোলা-মাইয়ারা খালি আড্ডা দেয়। সকালে বাইরে যাওনের সময় তাগোরে দেখি জোড়ায় জোড়ায়। রাইতে ফিরনের সময়ও দেখি...। ওগোরে এইভাবে দেখতে দেখতে একটা পুরানো গপ মনে পইড়া গেল।
সভ্য মানুষের মহল্লায়
আমার মা বেশ দীর্ঘ দিন ধরেই আমার উপরে মহাক্ষ্যাপা কিংবা বিরক্ত, আমার নিজের মতো জীবনযাপনের কোথাও তিনি উচ্চাকাঙ্খা কিংবা অর্থনৈতিক পরিপক্কতা খুঁজে পান না, আমার চিরকালীন আড্ডাবাজী আমার প্রশ্রয় এবং আদিখ্যেতার নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেও আমার সাথে তেমন বাক্যালাপ না থাকায় আমি সেসব সংবাদ শুনতে পাই অন্যসব বোনদের কাছে, মাঝে মাঝে নিজেও ক্ষুব্ধ হই, ভাবি পৃথিবীর সকল অর্জন কেনো অর্থমূল্যে নির্ধারিত হবে-
আমি কম্পিউটারের সামনে বসে দিন-রাত কি দুনিয়া উদ্ধার করছি তিনি জানেন না, তবে সৌভাগ্য হলো তিনি আমার কম্পিউটারের লেখা কিংবা আমি যে আদৌ কোথাও লিখি তা জানেন না। সুতরাং আমি নিশ্চিত আমার এইসব লেখালেখি এবং অধঃপতনের সংবাদ তার জানা হবে না।
'চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং' আমার প্রথম উপন্যাস

প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
জাগৃতি প্রকাশনী
উপন্যাসটি প্রথম যখন সামুতে শুরু হয়, সেসময়ের অনকেই বর্তমানে 'আমরা বন্ধুতে' নিয়মিত , যাঁরা নানাভাবে উৎসাহ আর সহযোগিতা যুগিয়েছিলেন । টুটুল ভাই সবসময়ই খোঁজ -খবর রেখেছেন, উপন্যাসটি কবে আসছে । আমাদের জনদরদী প্রিয় মেসবাহ ভাইও উপন্যাস প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন যথাসাধ্য । 'কৃতজ্ঞ' শব্দটাতে সবটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়না আসলে সবসময় । তবু, আন্তিরকভাবেই বলছি, আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ।
২০১১ এর বইমেলাতে মলাটবদ্ধ হয়ে নতুন রূপে, নতুন সাজে আসছে 'চন্দ্রাবতী । মাঝের বছরগুলোতে অনেক পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত আর পরিণত হয়েই সে আসছে ।
আমাদের সাম্প্রতিক ব্লগিং, আর তারপর
১.
সাম্প্রতিক ব্লগিং সিনারিও দেখে মনে হলো একটা পোস্ট লিখা যেতেই পারে, যদিওবা এতে করে ''সুশীল'' আখ্যায়িত হওয়ার আশংকা থেকেই যায়। তবুও এই আশংকাকে গুরুত্ব না দিয়ে, বরং ''সুশীল'' শব্দের অর্থ বদলে গিয়ে এর রুঢ় (নাকি যোগরুঢ়?) টাইপ শব্দ হওয়ার প্রসেসের সাথে নিজের যুক্ত হবার সম্ভাবনাটাকেই বড় করে দেখছি।
বাংলা ব্লগিংয়ে নিজেকে প্রবীণ দাবি করা যাবেনা কোনভাবেই যেহেতু আমার ব্লগিং এর বয়েস মাত্র সাড়ে তিন বছর, তবে এর সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়ার জন্য এই সময়টুকু যথেষ্ট বলেই মনে হয়। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত যদ্দুর দেখেছি তাতে করে জানি বাংলা ব্লগে যত আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা তার সিংহভাগ জুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ব, এবং ধর্ম; কখনোবা ব্লগীয় ইন্ট্যার্যকশানের ফর্মে, কখনোবা ব্লগীয় অস্হিরতা বাকবিতন্ডার বেশ ধরে।
২.
যায় বেলা - অবেলায়
একটা সময় ছিল যখন সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটা বা রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত মাথায় লাল ব্যান্ড বেঁধে মিছিল করতাম। মিছিলে গলা ফাটিয়ে শ্লোগান দিতামঃ
এই সমাজ জীর্ণ সমাজ
এই সমাজ ভাঙতে হবে
ভাঙতে গেলে বাঁধবে লড়াই
এই লড়াইয়ে জিততে হবে
এই লড়াইয়ে জিতবে কারা
কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা
ইতিহাসে জিতেছে কারা
কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা
দুনিয়ার মজদুর
এক হও, লড়াই কর
এক হও, যুদ্ধ কর
দুনিয়ার মজদুর
বিশ্বে আছে এক বাদ
মার্কসবাদ - লেনিনবাদ
সর্বহারার মতবাদ
মার্কসবাদ - লেনিনবাদ
বকুলকথা (১)
বকুল একবার উঠছেতো আবার বসছে বিছানায়। অস্থির লাগছে প্রচণ্ড কিন্তু কিছু করার নেই তার, জানে না কি করলে অস্থিরতা কমবে। টেবিলের ওপরে থাকা বইগুলো উল্টাচ্ছে, বাণী বসু’র লেখা ইদানীং খুব টানে তাকে। বহুবার পড়া “একুশে পা” আবারো খুলে বসলো, যদি মনটাকে ব্যস্ত রাখা যায়। কিছুক্ষণ অক্ষরগুলো চোখের পরে নাচানাচি করলো, অক্ষরগুলোকেই চিনতে পারছে না সে। পড়ার বৃথা চেষ্টা বন্ধ করে আবার বসলো। আজ ছুটির দিন হয়েছে বলেই জ্বালা। কোথাও যাওয়ার নেই তার, বন্ধু নেই বান্ধবী নেই। পার্লার আর বাড়ি আর বাড়ি আর পার্লার এইই জীবন প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বকুলের। কর্মঠ মেদহীন শরীর দেখে কেউ ধারণাই করতে পারবে না আটত্রিশ কাটাচ্ছে বকুল এখন। সবাই ভাবে বড়জোর ত্রিশ। যদিও আজকাল কেশে রূপালী রেখে দেখা দিতে শুরু করেছে। সেদিন ঝর্ণাদিকে বলে মেহেদী রঙে ডাই করেছে নিয়েছে চুল সে। পরিচ্ছন্ন থাকতে বকুল খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলার অভ্যাস, রাঙা কাকিমা করিয়ে দিয়ে