ইউজার লগইন
ব্লগ
সভ্য মানুষের মহল্লায়
আমার মা বেশ দীর্ঘ দিন ধরেই আমার উপরে মহাক্ষ্যাপা কিংবা বিরক্ত, আমার নিজের মতো জীবনযাপনের কোথাও তিনি উচ্চাকাঙ্খা কিংবা অর্থনৈতিক পরিপক্কতা খুঁজে পান না, আমার চিরকালীন আড্ডাবাজী আমার প্রশ্রয় এবং আদিখ্যেতার নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেও আমার সাথে তেমন বাক্যালাপ না থাকায় আমি সেসব সংবাদ শুনতে পাই অন্যসব বোনদের কাছে, মাঝে মাঝে নিজেও ক্ষুব্ধ হই, ভাবি পৃথিবীর সকল অর্জন কেনো অর্থমূল্যে নির্ধারিত হবে-
আমি কম্পিউটারের সামনে বসে দিন-রাত কি দুনিয়া উদ্ধার করছি তিনি জানেন না, তবে সৌভাগ্য হলো তিনি আমার কম্পিউটারের লেখা কিংবা আমি যে আদৌ কোথাও লিখি তা জানেন না। সুতরাং আমি নিশ্চিত আমার এইসব লেখালেখি এবং অধঃপতনের সংবাদ তার জানা হবে না।
'চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং' আমার প্রথম উপন্যাস

প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
জাগৃতি প্রকাশনী
উপন্যাসটি প্রথম যখন সামুতে শুরু হয়, সেসময়ের অনকেই বর্তমানে 'আমরা বন্ধুতে' নিয়মিত , যাঁরা নানাভাবে উৎসাহ আর সহযোগিতা যুগিয়েছিলেন । টুটুল ভাই সবসময়ই খোঁজ -খবর রেখেছেন, উপন্যাসটি কবে আসছে । আমাদের জনদরদী প্রিয় মেসবাহ ভাইও উপন্যাস প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন যথাসাধ্য । 'কৃতজ্ঞ' শব্দটাতে সবটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়না আসলে সবসময় । তবু, আন্তিরকভাবেই বলছি, আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ।
২০১১ এর বইমেলাতে মলাটবদ্ধ হয়ে নতুন রূপে, নতুন সাজে আসছে 'চন্দ্রাবতী । মাঝের বছরগুলোতে অনেক পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত আর পরিণত হয়েই সে আসছে ।
আমাদের সাম্প্রতিক ব্লগিং, আর তারপর
১.
সাম্প্রতিক ব্লগিং সিনারিও দেখে মনে হলো একটা পোস্ট লিখা যেতেই পারে, যদিওবা এতে করে ''সুশীল'' আখ্যায়িত হওয়ার আশংকা থেকেই যায়। তবুও এই আশংকাকে গুরুত্ব না দিয়ে, বরং ''সুশীল'' শব্দের অর্থ বদলে গিয়ে এর রুঢ় (নাকি যোগরুঢ়?) টাইপ শব্দ হওয়ার প্রসেসের সাথে নিজের যুক্ত হবার সম্ভাবনাটাকেই বড় করে দেখছি।
বাংলা ব্লগিংয়ে নিজেকে প্রবীণ দাবি করা যাবেনা কোনভাবেই যেহেতু আমার ব্লগিং এর বয়েস মাত্র সাড়ে তিন বছর, তবে এর সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়ার জন্য এই সময়টুকু যথেষ্ট বলেই মনে হয়। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত যদ্দুর দেখেছি তাতে করে জানি বাংলা ব্লগে যত আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা তার সিংহভাগ জুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ব, এবং ধর্ম; কখনোবা ব্লগীয় ইন্ট্যার্যকশানের ফর্মে, কখনোবা ব্লগীয় অস্হিরতা বাকবিতন্ডার বেশ ধরে।
২.
যায় বেলা - অবেলায়
একটা সময় ছিল যখন সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটা বা রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত মাথায় লাল ব্যান্ড বেঁধে মিছিল করতাম। মিছিলে গলা ফাটিয়ে শ্লোগান দিতামঃ
এই সমাজ জীর্ণ সমাজ
এই সমাজ ভাঙতে হবে
ভাঙতে গেলে বাঁধবে লড়াই
এই লড়াইয়ে জিততে হবে
এই লড়াইয়ে জিতবে কারা
কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা
ইতিহাসে জিতেছে কারা
কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা
দুনিয়ার মজদুর
এক হও, লড়াই কর
এক হও, যুদ্ধ কর
দুনিয়ার মজদুর
বিশ্বে আছে এক বাদ
মার্কসবাদ - লেনিনবাদ
সর্বহারার মতবাদ
মার্কসবাদ - লেনিনবাদ
বকুলকথা (১)
বকুল একবার উঠছেতো আবার বসছে বিছানায়। অস্থির লাগছে প্রচণ্ড কিন্তু কিছু করার নেই তার, জানে না কি করলে অস্থিরতা কমবে। টেবিলের ওপরে থাকা বইগুলো উল্টাচ্ছে, বাণী বসু’র লেখা ইদানীং খুব টানে তাকে। বহুবার পড়া “একুশে পা” আবারো খুলে বসলো, যদি মনটাকে ব্যস্ত রাখা যায়। কিছুক্ষণ অক্ষরগুলো চোখের পরে নাচানাচি করলো, অক্ষরগুলোকেই চিনতে পারছে না সে। পড়ার বৃথা চেষ্টা বন্ধ করে আবার বসলো। আজ ছুটির দিন হয়েছে বলেই জ্বালা। কোথাও যাওয়ার নেই তার, বন্ধু নেই বান্ধবী নেই। পার্লার আর বাড়ি আর বাড়ি আর পার্লার এইই জীবন প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বকুলের। কর্মঠ মেদহীন শরীর দেখে কেউ ধারণাই করতে পারবে না আটত্রিশ কাটাচ্ছে বকুল এখন। সবাই ভাবে বড়জোর ত্রিশ। যদিও আজকাল কেশে রূপালী রেখে দেখা দিতে শুরু করেছে। সেদিন ঝর্ণাদিকে বলে মেহেদী রঙে ডাই করেছে নিয়েছে চুল সে। পরিচ্ছন্ন থাকতে বকুল খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলার অভ্যাস, রাঙা কাকিমা করিয়ে দিয়ে
ঈভ টিজিং ; অধরা প্রেম
বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাধারণ তথ্য যতো দ্রুত পৌঁছে যায় ততো দ্রুত এমন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে থাকা দেশ গুলোর মানুষের কাছে দেশ বা মানুষ সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছায় না । এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রায় পুরো দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সমতা এবং ঐতিহ্য গত সাদৃশ্য, এ ছাড়াও আছে বিস্তৃত সমভূমির ভূ-প্রকৃ্তি এবং মুঠো ফোনের সহজ লভ্যতা ।
জীবিকা অথবা জীবন- ৯
খুব ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে রহমান সাহেব মনু মিয়ার রুমে উঁকি দিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে কিছুটা অবাক হয়ে গেলেন। তারপর কিছু একটা ভাবতে ভাবতে গেট খুলে বাইরে বেরোবার আগে আজগরকে ডেকে তুলে বললেন, আমি আইতাছি। ঘুমাইয়া পরিস না জানি!
আজগর বিছানায় উঠে বসে চোখ ডলতে ডলতে হাই তুলে বললো, আইচ্ছা যান!
আজগর তার ঘরের জানালা দিয়ে একবার বাইরে উঁকি দিয়ে ফের বিছানায় গিয়ে বসে। জানালা পথে দেখতে পায় মনু মিয়া মোরগ-মুরগিগুলোকে খোঁয়াড় থেকে বের করে তারের খাঁচায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তখনই সে আবার উঠে জানালায় মুখ বাড়িয়ে শব্দ করে থুতু ফেলে।
শব্দ শুনে মনু মিয়া একবার ফিরে তাকালেও কিছু বললো না। বাসিমুখে কেউ কথা বললে তার মনে হয় যে, সেই মুখ থেকে ভকভক করে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি
আমি নেই।
আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই।
শেষবার যখন দেখা গিয়েছিল তখন আমার হাতে ছিল নীল প্রজাপতি
পায়ে চাপ চাপ কাদা, মেঠো পথের
বয়স হরিণ চপল
গায়ে রংধনু বর্ণ
তারপর উবে গেছি
গুম হয়ে গেছি
বলা নেই কওয়া নেই।
আমি নেই
আমাকে যাচ্ছে না পাওয়া কিছুতেই।
খোঁজকেরা দেখে নেয় পেঁজা মেঘ সরিয়ে
যদি ছেলেখেলা করে আড়ালে থাকি লুকিয়ে!
আমাকে গেল না পাওয়া ঘাসের গোড়াতেও
কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
সাম্পানের পালে,
ঝিনুকের খোলে,
আমি নেই!
আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই।
আর কোথায় কিভাবে হারায় কেউ?
জানে না ওরা।
অভয় ঘোষনায় জোর প্রলোভন চলে। বলে,
পৃথিবী কে মুড়ে শব্দ খাতার মলাট করে দেবে সত্যি সত্যি ···
আমি ফিরি না তবু ।
আমি বামপন্থী আলাপে নেই
ডানপন্থী মেজাজে নেই
ওরা আমাকে পেল না খুঁজে কোনভাবেই।
অবশেষে,
খোঁজ থেমে আসে।
স্বজনের অশ্রু মুছে গেছে ওই গণ্ডদেশে।
লাবড়া
বহুদিন যাবৎ বাইরে বাইরে থাকার ফলে একটা ভাল অভ্যাস হইছে যে আমি কোন খাবারেই না করি না, তেলাপোকার মতন যা পাই তাই খাই। এমন কি মাঝে মাঝে অখাদ্যরেও খাদ্য মনে হয়, যেমন কবি সুকান্ত পূর্ণিমার চাঁদের মতন অখাদ্য বস্তুরে রুটি ভাবতেন। আমি অবশ্য কবি টবি না তবে ক্ষুধা লাগলে নিতান্ত গদ্যময় মানুষেরও কবি হইতে ইচ্ছা করে ব্যাপারটা আমি খিয়াল করে দেখেছি। চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমিও একদা একটা কবিতা লিখেছিলাম ….
নীল নীল চাঁদের আলো যেন নরম পেলব মাখন
পিচ ঢালা পথটাকে পাউরুটির স্লাইস বানিয়ে খেয়ে নিতে পারলে
এ যাত্রা বেঁচে যেতাম
আকাশটা যদি হত বিরাট বড় এক পাত্র
অনন্ত নক্ষত্রেরা কর্ণ ফ্লেক্সের দানা
ফ্রিজে রাখা আধা নষ্ট দুধের সাথে খেয়ে নিতে পারলে
এ যাত্রা বেঁচে যেতাম
কান পেতে শোন....
অদূরে কোথাও ডেকে চলেছে রাত জাগা পাখী
তার কণ্ঠ সুমধুর, আরো মধুর হবে নিশ্চয় তার রোস্ট
পাখিটাকে খেয়ে নিতে পারলে
অপচেষ্টায় ব্লান্ট
একদিন সাব-ওয়েতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাউনটাউনের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। অফিস যেতে হবে, অসংখ্য ফাইল জমে আছে, সেগুলোকে কুপোকাৎ করতে হবে। বাড়িতে ফোন করি না অনেকদিন। কবে যে এ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবো জানি না। মাথার ভেতর ঘুরছে হাজারটা চিন্তা।
হঠাৎ চোখের সামনে আকাশ থেকে নেমে আসা অ্যঞ্জেল দেখতে পেলাম এবং স্তম্ভিত হলাম। ওর ঠোঁটের কোণার সত্যিকারের মিষ্টি হাসিটুকু প্রায় মাথা খারাপ করে দিলো। কিন্তু খুবই দুঃখের কথা, শী ওয়াজ উইদ আনাদার ম্যন। মেয়েটি যে সত্যিই প্রাণে মেরে রেখে গেছে তার প্রমাণ পেলাম, যখন দেখলাম সারারাত আর আমার চোখে ঘুম আসলো না। খুবই কষ্টের একটা রাত ছিলো সেটা। ট্রেনের কাঁচের ওপাশ থেকে সে আমার দিকে যে হ্যলো-হাসিটা দিয়েছিলো, সেটা ভুলতে পারছিলাম না।
একটা রাগী মাথার ব্লগ
গত নির্বাচনে আমি প্রথম ভোট দেবার অধিকার অর্জন করি । আমি আওয়ামিলীগকেই ভোট দিতে চাইছিলাম । কিন্তু চোখের ঝাপসা দৃষ্টি নাকি নতুন ভোট দেবার উত্তেজনায় উতফুল্ল হয়ে সিল মারার পরে দেখি সেটা কোন এক পাখা প্রতীকের উপর জ্বলজ্বল করছে । মন খারাপ হয় । পরে অবশ্যই লীগকেই দেব । যতদিন না একটা সত্যিকারের ভালো কোন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব না হয় লীগকেই দিয়ে যাব ভোট ।
এটা আমার জেদ না , একপেশে দৃষ্টিভঙ্গী না , আওয়ামিলীগের অন্ধভক্তিও না , এটা শুধুমাত্র শেখ মুজিব আর তাজুদ্দিনের মত নেতাদের জন্য । যাদেরকে আমি দেখার সুযোগ পাইনি , যাদের সাথে এককাতারে নেমে আন্দোলন করার সুযোগ পাইনি . তাদেরকে ভালোবেসে এই কাজটুকু করা । আমার এ মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে দেখতেছি ।
অভিশপ্ত ঘড়ি
এক............দুই...........তিন ...........চার
কেরোসিন স্টোভ জ্বেলে ভাত আর আলু একসঙ্গে সেদ্ধ করতে দিল ধনু। হঠাৎ করে মাছ খেতে ইচ্ছে করলো আমার।
আবদার পাড়লাম, খালি ভাত আর আলু সেদ্ধ খাওয়াবি? মাছ খাইতে মন চায়, তোদের এই নদীতে মাছ নেই?
ধনু চোখ টেরা করে তাকালো, তারপর হেসে ফেললো, তোর দেখি খায়েশ কম না। এই রাতে মাছ ধরবো কেমনে?
আমি জানি মাছ খেতে ইচ্ছে করাটাই সার। রাতের বেলা মাছ ধরা অসম্ভব। কথার কথা বলা।
কিন্তু ধনু ভাত চুলায় দিয়ে নৌকার পেছনে চলে গেল। ওখান থেকে দুটো বাঁশ বের করলো। বাঁশ দুটোতে গামছামতো কিছু বাঁধা আছে। আমি অন্ধকারে বুঝতে পারলাম না কি ওটা। জাল নাকি?
আমার যাদুমনি (১)
ঋহানের ছবি দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন অনেকেই, তাদের সেই ইচ্ছা পূরন করার সামান্য চেষ্টা.....
(যদিও অনেকেই এই ছবি গুলো অনেক আগেই ফেইসবুক এ দেখেছেন, তাও আবারো একবার সবার জন্য)

বিড়াল বাবা আমার, নিজেই নিজেকে খামচি কেটেছে 


বসা'র চেষ্টা

mommy's little monster

জীবিকা অথবা জীবন- ৯ (জুলিয়ান সিদ্দিকী)
সকালে হাটতে বের হয়েছেন রহমান সাহেব। আজকাল দুবেলা করে হাটেন, এতে যদি কিছু দিন বেশী বাচা যায় মন্দ কি! দুনিয়া থেকে চলে গেলে তো সব শেষ। তার চেয়ে কিছু দিন বেশী বাচার চেষ্টা করা সবার উচিত। এই পৃথিবীর রঙ্গশালায় যত দিন অভিনয় করে মজা পাওয়া যায় ততই লাভ!
পথিমধ্য বাল্যবন্ধু ডাক্তার শৈলেশ বর্মনকে পেয়ে গেলেন। কি রে কেমন আছিস? আজকাল তো আর দেখা পাচ্ছি না। সে কবে স্যালাইন দিয়ে ঘুমপাড়িয়ে রেখে এসেছিস আর তো এলি না। তোরা ডাক্তারাও পারিস বটে! দিনে এত রোগী দেখিস কেন। যত গুলো রোগী দেখিস তাদের বর্তমান কি হালচাল, কে আছে, কে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছে তা জানতে ইচ্ছা হয় না।
ডাক্তার শৈলেশ বাবু রহমান সাহেবের কথা শুনছিলেন। আসলে বলার কি আছে? রহমানের কথা তো সত্যি। দিনে যদি একজন ডাক্তার পাঞ্চাশ/ষাট জন রোগী দেখে তবে ডাক্তার মশাই কাকে কাকে মনে রাখবে। আজ দিনে তার দেখা কেন রোগী মারা গেছে তা জানবে কি করে।
প্রেসার, চারিদিকে প্রেসার
১.
আমাদের অফিসে ব্লাড প্রেসার মাপার একটা যন্ত্র আছে। সেইটা থাকে প্রশাসনে। সেখানে কাজ করে কুসুম (ছদ্ম নাম)। আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে এসে আমার সামনে এসে জানতে চাইছিল তাকে কেমন লাগছে। আমি সেই ঐতিহাসিক বাণী দিছিলাম। বলছিলাম, 'পরের বউয়ের মতোই লাগছে'।
তাকে অবশ্য সবসময়ই এরকম লাগে।
প্রায়ই দেখি অফিসের কেউ না কেউ কুসুমের কাছে যাচ্ছে এবং ব্লাড প্রেশার মাপছে। সবারই প্রেসার অস্বাভাবিক। দেখা গেল আমাদের অফিসের সবাই উচ্চ ব্লাড প্রেশারের সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করলো।
অফিসের কাজের চাপ বেশি। সবাইকে অতিরিক্ত খাটায়। এই ধারণাটা সবার মধ্যে বেশ পোক্ত হয়ে গেল। সবারই ধারণা কাজের চাপেই ব্লাড প্রেসার বাড়ছে। অসন্তোষ ধুমায়িত হল।