ইউজার লগইন
ব্লগ
ক্যালেন্ডারে বাঁধা দিনরাত্রীর অযথা হিসাব নিকাশ!
প্রায় গোটা বিশেক দিন পর পিসির সামনে লিখতে বসলাম। পিসিটা নষ্ট ছিল আজ ঠিক করে আনলাম, ভালোই টাকা চলে গেল- তবে খুব আনন্দ পাচ্ছি, কেন তা জানি না। কারন হতে পারে, ব্লগ লিখতে ভালো লাগে। লেখা শেষ করে অনলাইনে প্রকাশ করার একটা আনন্দ আছে। সেই আনন্দ আগেও পেতাম এখনও পাই। বন্ধুরা পড়ে, কেউ কেউ অভিমত জানায়। এতোটুকুই তো। পত্রিকায় ঢাউস ঢাউস সম্পাদকীয় লিখেও তো মানুষ সেই লেখা পড়ে না। কোনো মহান সাহিত্য কর্ম তো আর ব্লগ লিখে সম্ভব না, আর গল্প কবিতা লেখার মতো প্রতিভাও আমার নাই। তবে গত দু চার মাস ধরে আমার সচলায়তনের ফরমেটে অনুগল্প লিখতে ইচ্ছে করে খুব। কয়েকটা লিখেছিও, কিন্তু বই পড়ার নিদারুন অভ্যাস থাকার দরুন, কোনটা কেমন লেখা তা নিয়ে ধারনা করতে পারি। নিতান্তই অখাদ্য কয়েকটি গল্প হয়েছে, তাও আমি অবশ্য আশাবাদী যে খাতা কলম নিয়ে লিখতে তো বসছি। একদিন না একদিন, একটা না একটা পাঠযোগ্য লেখা লিখেই ছাড়বো।
ভাঙাচোরা দিনকাল ৪
প্রবাসে জীবন মানে মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়া। কিছু অভ্যস্ততা, কিছু ভালো লাগার সাথে সমঝোতা করে ভিন্ন একটি সংস্কৃতিতে ভালো থাকার প্রয়াস। টং এর দোকানের চা, সস্তা বিস্কুট আর দোকানের শিশু কর্মচারীর কাছে বাড়তি সালামের বিনিময়ে সস্তা দোকানে সেলফসার্ভিস কফি-ডোনাটের দিনগুলো অনেকটা ভিউকার্ডে বসবাসের মতো মনে হয়। আমাদের বেড়ে ওঠার সময় খুব ভিউকার্ডের চল ছিলো। সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, লেক জেনেভা, এল্পাইন, টিউলিপ বাগান, আমীর খান, মাধুরী শ্রীদেবীর ৪ বাই ৬ ছবি। আমাদের অনেকেই ভিউকার্ড জমাতো, বিদেশের অনুকরণে আমাদের মফঃস্বলে অঞ্জু ঘোষ, চম্পা ববিতার ভিউকার্ড বিক্রী হতো সিনেমা হলের সামনের দোকানে। লুকিয়ে সিগারেট টানার সময় দেখতাম নায়িকার স্ফীতস্তনের দিকে তাকিয়ে কেউ বলছে মালটা সেই রকম।
ভাঙাচোরা দিনকাল ৪
এর আগে যেখানে ছিলাম, সেখানে অক্টোবরেই বাংলাদেশের মাঘমাসের শীত। কাগজে কলমে মার্চের প্রথম সপ্তাহে বসন্তবরন হলেও এপ্রিলের মাঝ পর্যন্ত বরফ পরার সম্ভাবনা ছিলো প্রবল। পহেলা বৈশাখে সবাই যখন ক্যাম্পাসে পাঞ্জাবীর হাতা দিয়ে ঘাম মুচছে আমি তখন একটা সোয়েটারের উপরে হালকা জ্যাকেট পরে বন্ধুর সাথে গল্প করছি, বন্ধু বলছে গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারীর প্রায় সম্পূর্ণটা জুড়েই গভীর রাতে তাপমাত্রা -২ থেকে -১৫তে ঘোরাফেরা করতো। এই প্রচন্ড শীতের ভেতরেও এতটা শীত কাতর হই নি, যতটা ভয়ংকর মনে হচ্ছে জাপানের শীত।
কথাচুরি
পাঁচ মিনিট ধরে ভাবলাম। কিন্তু কিছুতেই কি দিয়ে লেখা শুরু করবো খুঁজে পেলাম না। সারারাত ছুটে বেড়ানোর সময়টাতে লেখার জন্য মন টানে, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা নিজেকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ানোর পর রুমে ফিরে আসি যখন তখন বসতে ইচ্ছে করে না।
কিন্তু কি দিয়ে লেখা শুরু করা যায়? মনের ভিতরে কত কথা ছিল। তারা সব গেল কোথায় যেন হারিয়ে। জেমসের গান প্লেলিস্টে। আঙুলগুলোও নেশাতুর হয়ে থাকতে চায়। কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিনী হয়ে খবর নিও না।
হারিয়ে যাবার ঠিকানা বলে নাকি আসলে কিছু নেই। হারিয়ে যাওয়া মানে নাকি নিজেকে আবার খুঁজে পাওয়া। আমি কেন বার বার হারিয়ে যেতে চাই? অনেক লোকের ভিড়ে কিংবা একা ছাদে গিয়ে? নিজেকে খুঁজে পাবার জন্যই মনে হয়। তার মানে নিশ্চয়ই আমি সব সময় নিজেকে খুঁজতে থাকি। কিন্তু এসব তাত্ত্বিক আলোচনা বৃথা। ফুল নেবে না অশ্রু নেবে বন্ধু?
ফেরা !!
"কত দিন চেষ্টা করেও ফেরা হয় নি,
তখন আকাশ ভরা মেঘ ছিল আর এখন—
আকাশ ভরা কুয়াশা।
নিপুণ চাঁদের আলোয় ভরা রাত,
হেমন্তের শেষ বলে আহাজারিময়
হাসনাহেনার সদ্য ভালবাসার নিপাত।
হ্যাঁ, আমি ফিরেছি।
নির্মল, শুদ্ধ ভালবাসার টানে।"
ছয় মাস পর আবারো ফিরলাম। সবচেয়ে ভাল লাগার বিষয় হচ্ছে আবারো কিছু প্রিয় মানুষের লেখা পড়তে পারব। একটা নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন সব মিলে নতুন যাত্রা। শুভ কামনা থাকল সকলের জন্য। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।
২৭ অগাস্ট, ২০১৪।
আজ মারিই আমাকে অনুরোধ করলো তার সাথে রাতের খাবারটা খেতে। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কারন আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আর আমার রাঁধতে ইচ্ছে করছিলোনা। গতপরশুদিন এখানে আসবার পর থেকে খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো কারণ এখানকার কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। মারিই বা লিসা কাওকেই চিনিনা। মনে হল এই সুযোগে হয়তো কিছুটা সহজ হতে পারবো মারিই’র সাথে।
দিন শেষে আমি ইকারাস
ইকারাসের গল্পটা খুব সাধারণ।
সে আর তার বাবা ডেডেলাস একটা গোলোকধাঁধাঁ
থেকে পালাতে চেয়েছিলো। ডেডেলাসই তৈরি
করেছিলেন সেই মেইজ। পালাবার একমাত্র উপায়
বিশাল আকাশ। মোম গলিয়ে তাতে পালক জোড়া
দিয়ে দুই জোড়া পাখা বানিয়েছিলেন। এক জোড়া
তাঁর নিজের জন্য। আরেকটা ইকারাসের।
ওড়ার আগে ডেডেলাস বারবার ইকারাসকে
সাবধান করে দিয়েছিলেন " বাবা উড়বি, কিন্তু
সুর্যের কাছে যাবি না। মোম গলে যাবে।"
প্রথমে তাতে সায় দিলেও,নভশ্চারী ইকারাসের
শিঘ্রই তা বিস্মৃত হয়। এবং আনন্দে আত্মহারা সে
"আরো উঁচুতে যাবো। আমি স্বর্গ ছোঁব" এমন
কল্পনায় নতুন উদ্দ্যমে উড়তে থাকে। নিচে তার
বাবা চিৎকার করে বলেন " বাবা, আর উপরে যাস
নে, আর উঁচুতে উঠিস নে, মারা যাবি!"
কে শোনে কার কথা। যৌবনমদে মাতাল ইকারাস
আরো আরো আরো আকাশে যায়।
সুয্যিমামা তার বেজায় ইগো আর প্রানশক্তি
দেখে হিংসাই করে বসে বোধ হয়। সুর্য কী আর
পুনশ্চ অথবা শেষের পর..
প্রিয়তমেষু,
অনেক দিন পর আজ আবার তোমায় লিখতে বসলাম। জানি, কিছুই কিছু নয় এখন আর। তবুও, মাঝে মাঝেই খুব ইচ্ছে করে জানতে। ভালো আছো তো? অথবা, এমনিই জিগেস করার, কি করো?
উত্তরটা অবশ্য না বলে দিলেও টের পাওয়া যেত কোন কোন দিন, ভাবছো আমায়।
এখানে বেশ ঠান্ডা পড়েছে এবার, তোমার ওখানে কেমন জানা হয় না এখন আর। অজানায়, শীত জমা থেকে যায় বুকের ভেতর - বছর জুড়ে ঝরা পাতার সুরে।
তুমি কতটা জানো আমি ঠিক জানি না, আমি নিজেও হয়তো এতটা করে জানতাম না যে, নীল আমার এতটাই প্রিয় - সবকিছুতেই। তোমায় না হারিয়ে পেলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না নীলে বাঁচা, অসময়ে ঠিকই হারিয়ে যেতাম লাল থেকে কালোয়।
ভুল আমারই ছিল, না বলা কথাতেই ভালোবাসা খুঁজে নিয়েছিলাম। কল্পলোকের আকাশ জুড়ে ছিল এই ছোট্ট একটা জীবন একসাথে বুড়ো হবার স্বপ্ন।
ধরি নানান বেশ
আকাশে বেড়াই পাতালে বেড়াই
ধরি নানান বেশ
কোথাও যে আর মন টিকে না
ফিরে আপন দেশ
সে যে আমার জন্মভুমি
আমার বাংলাদেশ।
কোথাও যে হায় অতি শীতল
ঠান্ডায় জমে যাই
কোথাও তৃষ্ণায় ছাতি ফাটে
পানি ও না পাইরে মনা
পানি ও না পাই।
কোলার কিংবা হিটার ছাড়া
নিদ্রার হয় যে ক্লেশ।
ধরি নানান বেশ।
আব্দুল করিম লালন শাহী
রবি নজরুলের সুরে
পাখপাখালি ও জীবন হাওয়া
গুন গুন গান ধরে রে মনা
গুন গুন গান ধরে
আবার গোসল খানায় সুরে মাতাল
গোসল হয়না শেষ।
ধরি নানান বেশ।
ভাইয়ে ভাইয়ে বোনে ভাইয়ে
কাধে কাধ মিলাইয়া
যুদ্ধ করি জীবন দিছে
দেশেরও লাগিয়া
হায়রে দেশেরও লাগিয়া।
হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্টান
সকলে গায় একই গান।
সবার প্রিয় সবার সেরা
একটাই আছে দেশ।
সে যে আমার মাতৃভূমি
আমার বাংলাদেশ।
ধরি নানান বেশ।
ডিসেম্বর, ৩০,২০১৪খ্রীঃ
উত্তরা, ঢাকা।
ভাঙাচোরা দিনকাল ৩
নিয়মতান্ত্রিক জটিলতায় ঋক কিংবা ঋত কেউই আসে নি আমাদের সাথে, তারা বাংলাদেশে ছিলো। বাংলাদেশের জাপান এম্বেসী জানালো তারা সার্টিফিকেট ওফ এলিজিবিলিটি ছাড়া কোনো ভিসাই দিবে না আর সার্টিফিকেট ওফ এলিজিবিটির আবেদন করতে হবে জাপানে এসে। এলিজিবিটি এপ্লিকেশন করার পর একদিন ছেলে মেয়ের স্কুল খুঁজতে বের হলাম বিকেল বেলা। গুগল ম্যাপে কাছে পিঠে একটা এলিমেন্টারি স্কুলের অস্তিত্ব দেখে সেদিকে হাঁটা দিলাম। মরিনোসাতো এলিমেন্টারি স্কুল দেখে মরিনোসাতো নার্সারী এবং ডে কেয়ার সেন্টার খোঁজার পালা। রাস্তায় মাঝে মাঝে ইংরেজী লেখা কিছু সাইনবোর্ড চোখে পরলেও অধিকাংশ সাইনবোর্ডই জাপানী ভাষায় লেখা। কানজি লেখার ধাঁচটা কম্পিউটার স্ক্রীনে যতটা সহজ মনে হয় খালি চোখে ততটা সহজ লাগে না। চারকোনা বাক্সে রাজ্যের আঁকিবুকি, কাটাকুটির প্রতিটা দাগই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাক্সগুলো জোরা দিয়ে দিয়ে একটা বাক্য লেখা, যেটার মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, শুরু
শীতকালীন অবকাশ
মিশন সাকসেস ফুল। গুরু দত্তের অভিনীত ও পরিচালিত সব সিনেমা দেখা শেষ। বাজি ধরে বলতে পারি-- এই শতাব্দীতে উনার মতো পরিচালক আর হিন্দি সিনেমায় আসবেন না। ১০ অক্টোবর ১৯৬৪ সালে দেদারছে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর আগেও নাকি তিনবার ট্রাই করেছিলেন সুইসাইডের। তাঁর বন্ধু আবরার আলভির সাথে প্রচুর আলাপ করতেন আত্মহত্যা নিয়ে। piyaasa ও kaagaz ke phool বানিয়েও তিনি নিজেকে নিয়ে দম্ভ করতেন না মোটেও। বলতেন-"Life mein, yaar, kya hai? Do hi toh cheezen hai – kamyaabi aur failure. There is nothing in between.
অভিশপ্ত
আমায় কবর দিয়ে দিতে পারো চাইলে। চিতায় ওঠালেও
রাগ করবো না। অথবা ঢাকা মেডিকেলে পাঠয়ে দাও।
শিক্ষানুবিসরা দেখুক, কাটুক
এক পরাজিতা মৃতদেহ।
আমার শ্বাস চলছে এটা দেখে যেন
না ভাবে আমি বেঁচে।
আহা! ওটা বিভ্রম।
ইশ্বর এমন মায়াজাল খুব ভালোবাসেন। আজ তাই খুব কুয়াশা।
ওখানে যদি হারানো যেতো কিছু সময়ের জন্য!
তাহলে,হয়তো বাঁচতে পারতাম
আসলে
ভেঙে না পরতে পারাটা একটা অভিশাপ।
আর
অভিশপ্ত আমি
ধুমপানের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হয়? আর?
এটি মৃত্যুর কারণ?
বাহ! বেশ তো প্যারাডক্সখানা!
রাবণের চিতাবেশে তোমাদের প্রমাদপ্রমাণ
সন্দেহেও যে শ্বাসপ্রশ্বাসের ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার
উপক্রম! কী মুশকিল! সতর্কীকরণ প্রয়োজন
ছিলো যে!
বারংবার আমাকে অভিযুক্ত যে করো তারপর মৃত্যদন্ড দাও
সেখানা কে দেখলো! তার জন্য সাবধানতাজনিত
বানী কই গো?
নিজেকে বরাবরি সক্রেটিস মনে করি।
অবসন্ন ছন্দ
মগজের ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে মরি ছন্দ,
ঘুরে মরা চিন্তায় মেশা ভাল মন্দ,
খুঁজি কিছু স্বস্তি আর কিছু শান্তি,
কেবল ছিটকে আসে জমে থাকা ক্লান্তি!
বিব্রত নিউরন দ্রোহ গুঁজে পকেটে,
নির্দেশে জুড়ে যায় চিন্তার সকেটে,
ইচ্ছারা ধুয়ে যায়, হয়ে যায় অন্য,
ভুলে যায়, ডুবে হয় অবসাদ-ধন্য!
বিশ্রাম, বিশ্রাম, আহাজারি যুঝতে,
সময় পেরোয় অত আর্তিও বুঝতে,
থেমে যায় চিন্তা, হরতালে শব্দ,
নিজের নিজের কাছে সকাতর জব্দ!
ছুটি নেই, বিরামেও, তাই শত শর্ত,
শান্তি দিতেই পারে, চেনা এই মর্ত্য,
তবে দুশ্চিন্তার দায়সারা কর্ম,
শান্তি মোচনই বুঝি শুধু তার ধর্ম!
কবে শেষ? কবে শেষ! জিজ্ঞাসে নিঃশ্বাস,
যত দিন, তত দিন, থেমে থাক বিশ্বাস!
ঝিম ধরা মগজে ঘুমে থাক ছন্দ,
জেগে নয় উঠবে, আগে যাক মন্দ!
ভাঙাচোড়া দিনকাল ২
জাপানে আসার পর বুঝলাম ভদ্রতা এবং বিনয় পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। বিনয়পীড়িত বাঙালী হিসেবে অসস্তিবোধ করি সময় সময়। আমার সুপারভাইজার অতিশয় বিনয়ী কিন্তু কাজপাগল। তার বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে সময়ে-অসময়ে উপস্থিত হয়ে ভিন্ন জাতির মাতৃভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করে, আমিও ভিন্ন একটা ভাষায় সে আইডিয়া বোঝার চেষ্টা করি, সময়ে-অসময়ে নিজের দুর্বল ইংরেজীতে শব্দ সরবরাহের চেষ্টা করি।
সন্ধ্যায় পরবর্তী সপ্তাহের কাজের তালিকা নিয়ে ফিরে এসে, খোশমেজাজে সিনেমা দেখে সকাল বেলা ইলেক্ট্রনিক চিঠি পেলে প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগতো, এখন সয়ে গেছে। রাত ২টায় পাঠানো চিঠিতে নতুন কাজের ফরমায়েশ দেখলে হতাশ লাগে না এখন।
বৃষ্টিভেজা কিছু মুহূর্ত আর বিস্মিত আমি
বৃষ্টিটা বেশ জোরেই হচ্ছিল। মনে হচ্ছে আকাশ যেন আজ কেঁদে ভাসাবে।
আমি নিশ্চিত যে আমায় ভিজতেই হবে। জোড়াতালির এই কপালে রিক্সা আমার জুটবে না। কিন্তু বিস্ফোরিত চোখে একটা রিক্সা আসতে দেখে যার পর নাই অবাক হলাম। আমার ভাগ্যের বিরোধী দলীয় নেতা মিঃ বিধাতা যে আজ প্রসন্ন চিত্তে এত সহজে আমায় রিক্সা পাইয়ে দেবে তা আমার চিন্তার ও অতীত।
যা হোক বেশ উত্ফুল্ল মনেই রিক্সায় চড়লাম। আর সাথে সাথে মেঘ বাবাজি সজোরে চিল্লানি দিল আর তার সাথে বিদ্যুত মহাশয়ের অটো ফ্লাস।
কিছুদূর যেতেই দেখলাম অনতিদূরে এক অতিমাত্রায় সুন্দরী তরুণী ছাতা হাতে বৃষ্টির বিরুদ্ধে বৃথা লড়াই করে চলেছে। প্রায় পুরোটাই ভিজে গেছে। বাতাসে চুলগুলো উড়ছে আর মেয়েটা এক হাতে ছাতা সামলাচ্ছে আর অন্য হাতে কামিজ। পুরোই বেসামাল অবস্থা। যদিও আমার বেশ খারাপ লাগছিল মেয়েটির জন্য কিন্তু আশেপাশ উত্সুক লোকের লুল দৃষ্টিভঙ্গী আসলেই বিব্রতকর।