ইউজার লগইন
ব্লগ
বইমেলা ২০১৪: টুকটাক অভিজ্ঞতার খসড়া
এক.
এত সুখের পৃথিবী ছেড়ে যেতে মন চায় না
আজ ফেব্রোয়ারী ০২, আমার জন্মদিন। তবে আমার সত্যিকার জন্মদিন আমার মনে নেই।আপনারা হয়ত আকাশ থেকে পড়বেন এটা আবার কেমন কথা নিজের জন্মদিন জানে না। আমরা আট ভাইবোন, তদুপরি আমরা গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের গ্রামে কারও জন্মদিন পালন করা হতো না। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কারও মাথাব্যাথা কোনদিন ছিল না। আজকের মত ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটিকর্পোরেশনের কোন বাধ্যবাদকতা তো ছিলই না।
তবু এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময় হেড স্যার চঞ্চল কুমার কুন্ডু যখন জানতে চাইলেন, আমি পরদিন মার কাছ থেকে বাংলা সনের যে তারিখটা স্যারকে প্রদান করলাম,তা দিলে আমি যখন এস এস সি পাশ করব তখন আমার বয়স হবে প্রায় সতের বছর। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্যার আজ পৃথিবীতে নেই,উনি আজকের দিনটি আমার জন্মদিন নির্ধারন করলেন যাতে এস এস সি পাশ করলে আমার বয়স হবে পনের বছর। আর সত্যিকার জন্মদিনটি চর্চা বহির্ভূত থাকার ফলে এক সময় তা স্মৃতি থেকে হাড়িয়ে যায়।
কাছেদূরের বইমেলা (১)
ঢাকা থাকতে প্রতিদিনই যে বইমেলায় যেতাম, তা নয়; কিন্তু একটা স্বান্ত্বনা ছিল যে, চাইলেই যেতে পারবো। যাওয়া হতো অধিকাংশ দিনই, হয়তো বই কেনা হতো না, দেখা হতো না কারোর সঙ্গেই; কিন্তু মেলা চত্বরে খামোকাই বসে থাকতে ভালো লাগতো, কিংবা অনর্থক ঘুরাঘুরি।
হৃদ মাঝারে অশ্রুসারি
তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের হাওয়া লাগছিলো, লহমায় ছুটে যেতাম ঢাকার এ কোণা ওকোণা। সেবার প্রচন্ড শীত পড়েছিলো রাজশাহীতে, কাঁকনহাট শীতের রাতে অদৃশ্যপুরী হয়ে যেতো। দাদা দাদীর কবর উঠোনের কোনায়।রাতভর চুপচাপ বসে থাকতাম, জানালা দিয়ে দেখতাম ঘূটঘূটে আঁধার। প্রতি মঙ্গলবার হাট বসতো। সারা সপ্তাহ যে হাট ঝিমুতো শীর্ণ পাখির মতো, মঙ্গলবার ঠিক উৎসবে সেজে উঠতো। চায়ের দোকানে বসার ঠাই নেই, কুলিদের হাঁকে গমগম অথবা ভ্যানের টুনটুন আওয়াজে কানটা ভরে যেতো।
হাট শেষ হয়ে এল, আবারও সেই নিস্তব্ধতা। সেবার রাত করে হাটে গিয়েছিলাম কেরোসিনের খোঁজে। ঠান্ডায় দাঁত কপাটি একসাথে রাখার চেষ্টার অন্ত ছিলো। দোকান থেকে এক বোতল কেরোসিন কিনে যখন ফিরছিলাম তখন দেখি রসের হাড়ির পাশে একটা ছেলে শুয়ে শুয়ে কোকাচ্ছে। গায়ে ফিনফিনে কাপড়। এতরাতে এভাবে হেটে চলে গেলে রাতে ঘুমাতে পারবো না, তাই ছেলেটাকে ডেকে তুললাম।
: কিরে? শীতে তো মারা যাবি?
: কিছু কইবেন? ঘুম ধরছে। ক্ষুধা আর সহ্য হইতেছে না।
: নাম কি তোর?
: নাম দিয়া কি করবেন? হুদাই আইছে।
বই মেলা প্রিভিউ!
কোনো ভাবেই কেউ আটকাতে পারলো না ফেব্রুয়ারী মাসকে আর, আমি এবার তো ভাবলাম রাজনৈতিক দোলাচলে সব কিছুই আটকে যাবে। কিন্তু আটকানো গেল না ফেব্রুয়ারী মাসকে, তাতে আমি বেজায় খুশী। আমি তো চাই বছরে তিনটা ফেব্রুয়ারী আসুক, তাতে তিনটা বইমেলা হোক। গতবারে বইমেলার শেষ দিনে রাতে যখন রিকশায় বাসায় ফিরছিলাম- একা ভাবছিলাম ফেব্রুয়ারী মাস কেন একত্রিশে হয় না, কেন মেয়াদ বাড়ায় না মেলার কখনো, এইসব যাবতীয় অর্থহীন ভাবনা। কিন্তু আ্মার ভাবনা আমার মতোই ছেলেমানুষ মার্কা। তাই কিছুই হয় না, হবারও কথা না। তবে কাল থেকে ফেব্রুয়ারী এই ভাবতে ভাবতেই আমার মনটা চনমনে হয়ে উঠছে। তবে দুঃখের কথা হলো আমি ঢাকার বাইরে। এখানে অবশ্য আছি স্বর্গ সুখে, কিন্তু মেলা তো কাল শুরু হচ্ছে যেতে পারবো না ভাবতেই সব সুখ মাটি মাটি লাগছে। আমি ঢাকায় যখন থেকে স্থায়ী ভাবে থাকি তার পর থেকে সব মেলাই প্রথমদিনে যাবার একটা বাতিক আছে। প্রাইমিনিস্টার উদ্বোধন করে চলে গেলে, ভিআইপিরা বিদায় নিলে আমজনতাকে লাইন দিয়ে ঢুকানো হয়। সবাই বলে বইমেলার লাইন বিরক্তিকর, লাইন ভেঙ্গে সামনে চলে যায়, আমার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই ভালো লাগে। মধুর এক অপেক্ষা। প্রথম দিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায় অনে
শেষ বিদায়
আর না -আসিব আমি তোমারই মাঝে।
ব্যার্থ হয়োনা যেন, তুমি আমাকে খুঁজে।।
আমি চলে গেলে আসিবে নতুন জন।
তারে তুমি করে নিও একান্ত আপন।।
বিদায়ের স্মৃতি বড় বেদনা দায়ক।
আমি চেয়েছিনু তব স্বপ্নের নায়ক।।
বহু আশা নিয়ে এসেছিনু তব দ্বারে।
শত ব্যাথা বুকে নিয়ে আসিলাম ফিরে।।
তোমাকে মনে থাকবে মোর আমরণ।
যতকাল বেঁচে থাকি করিব স্মরণ।।
বিদায় বেলায়, আমি তাই বলে যায়।
অন্যায় যদি করে থাকি তোমার কাছে,
সব টুকু ফেলে দিও মন থেকে মুছে।
এ জীবনে যত দুঃখ যাবে সব ঘুচে।।
পাহাড়-ঝরনা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী-ক্ষূদ্র নৃগোষ্ঠী আর রহস্যময় পাহাড় / ঘুরে এলাম বগালেক-কেওক্রাডং-তাজিংডং-নাফাকুম
পাহাড়-ঝরনা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী-ক্ষূদ্র নৃগোষ্ঠী আর রহস্যময় পাহাড় / ঘুরে এলাম বগালেক-কেওক্রাডং-তাজিংডং-নাফাকুম
--শাশ্বত স্বপন
১ম পর্ব
আমাদের পাঠশালা
আমাদের চোখের সামনে লাইব্রেরীর তাকগুলো থেকে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের বইগুলোকে হটিয়ে ক্যারিয়ার গাইড আর "৩০ দিনে সহজে শিখুন" জায়গা করে নিলো। সাফল্যের সহজ পথ খুঁজতে খুঁজতে আমরা পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গাইড আর কোচিং এর সাজেশনের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেলাম। স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরামর্শক হয়ে ওঠার তাড়নায় তাদের মৌলিক গবেষণার আগ্রহ কমে গেলো । এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্বাদু পানিতে তেলাপিয়ার প্রজননের ১০টি নিয়ম আর জীববিজ্ঞানের গবেষক উপসম্পাদকীয় পাতায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত লিখে পদোন্নতির সুযোগ পেয়ে যান।
যাদের যা করার কথা ছিলো তারা সে দায়িত্ব পালন করছেন না। অন্তর্বর্তী মেধাশূণ্যতার আঁচর লাগছে শিক্ষায়াতনে, পদলেহী আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন বুদ্ধিজীবী সমাজ কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চায় মননের উন্নয়নের পথ না খুঁজে নৈতিকতা খুঁজছেন ধর্মগ্রন্থে। সাহিত্য-ইতিহাস-ভাষাবিজ্ঞানের ভালো বইগুলোর তালিকা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার পরবর্তী ৪ দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমী থেকে হাতে তোলার মতো গবেষণাগ্রন্থ খুব বেশী প্রকাশিত হয় নি।
সময়ে সময়ে সময় ভেঙ্গে যেতে থাকে
ধবল গন্ধরাজ আমাকে যেদিন মোহিত করেছিল
শিপ্রার নীল স্কুল ড্রেসে তার ছাপ এঁকে দিচ্ছিল
আমি সুবাস নিতে চেয়েছিলাম তখন
সে না গন্ধরাজ না শিপ্রা – বুঝিনি
বহু বছর পর তার ত্রিমূর্তিতেও আমি মোহিত -
তার জলবৎ কথামালার 'পর ভাসমান পোকারা ছুটে
দিক-বিদিক দ্রুত
পদ্ম পাতার মুক্তোও হঠাৎ উঠে নড়ে
মূহুর্তের বিস্ফোরণে সময় পাখা মেলে
সময় থেকে পৌঁছি আমি অন্য আরেক সময়
বোধ থেকে পৌঁছি আমি অন্য আরেক বোধ
রক্তাভ দালিম দানাগুলো এক এক করে
উন্মুক্ত গ্রাসে যেই ছুট দিলো
অগত্যা আমার ডানা মেলে উড়তেই হলো
নিকষ আলোর পাপ
ফিনিক্স জন্মের বোধোদয় নয়
শরীরের মাঝে যদি জেগে যায় অশরীরী কিছু
তবে তো তারস্বরে চীৎকারও ক্ষয়ে যায়
আহ্ শব্দহীন এক আস্ফালন কেন যে ভেতর ভেতর জেগে উঠে
কান্নার সঘন তারস্বর ভেসে আসে না
আমার হৃদয়ের ডান বাম সম্মুখ পশ্চাৎ সব দেখেছি
ধূসর গোধূলিঃ ২৯ - মুক্তির স্বাদ

চাচা-চাচী চলে গেলে ঘরের সামনের উঠানে কিছুক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে বিভা। তারপর ঘুরে পিছনে তাকিয়ে দেখে জ্বর শরীর নিয়ে প্রভা ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে। মেয়েকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয়। অনেক যত্নে সাজিয়ে তোলা কুড়েঘরটির দিকে তাকায় আর ভাবে খুব তাড়াতাড়িই ছেড়ে যেতে হবে এই আশ্রয়টুকুও। ঘরের প্রতিটা কোণে কোণে জমানো হাজারো স্মৃতিরা ভিড় করে মনে। অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় এই নির্জন ঘরের নিভৃত প্রান্তে কাঁদে দুটি অসহায় প্রাণ। কেউ জানে না তাদের মনে কি ঝড় বয়ে যায়। কোথায় যাবে? কে তাদের আশ্রয় দেবে?
-আমার লাইগা তোমার অনেক কষ্ট, তাই না মা? প্রভার কন্ঠ শুনে ঘোর কাটে বিভার
-নারে মা, তোর কি দোষ? সবই আমার ভাগ্য। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে বিভা।
-আমি মইরা গেলেই ভাল হইত, তোমার এত কষ্ট হইত না
-তুই মইরা গ্যালে আমি কারে নিয়া বাচুম? তুই একটু ভাল অইলে আমরা উজানিচরে চইলা যামু
-হেইহানে গিয়া কি অইবো মা? আমগো লাইগা সব জায়গাই সমান
তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
তুমি চোখ মেললেই ফুল ফুটেছে আমার ছাদে এসে
ভোরের শিশির ঠোঁট ছুঁয়ে যায় তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
আমার ক্লান্ত মন ঘর খুঁজেছে যখন
আমি চাইতাম পেতে চাইতাম শুধু তোমার টেলিফোন
ঘর ভরা দুপুর আমার একলা থাকার সূর
রোদ গাইতো আমি ভাবতাম তুমি কোথায় কত দূর
আমার বেসুর গিটার সুর বেঁধেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ চাঁদ চিনেছে তোমার হাসি হেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
অলস মেঘলা মন আমার আবছা ঘরের কোণ
চেয়ে রইতো ছুটে চাইতো তুমি আসবে আর কখন
শ্রান্ত ঘুঘুর ডাক ধুলো মাখা বইয়ের তাক
যেনো বলছে বলে চলছে থাক অপেক্ষাতেই থাক
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।

তিক্কি!
'তিক্কি' শব্দটা জামালপুর- শেরপুরের মানুষদের মুখেই বেশি শুনেছি আমি। আমার আম্মুও ইউস করে, এর অর্থ হলো খুব মনে লাগছে যাকে বলা যায় আঁতে ঘা লাগা। কিছুটা 'সাময়িক উত্তেজনায় মেজাজ খারাপ' এমন কিছু। ঢাকার আম জনতার ভাষায় বলতে গেলে 'বিগাড়' উঠা। গতকালকে আমারও তেমন 'তিক্কি' উঠছিলো নিজের উপরেই। প্রচন্ড শীত জামালপুরে, ঘুম থেকে উঠতে হলো দেরী, মোবাইলে ও ল্যাপটপেও চার্জ নাই এক ফোটা, অনেক দিন পর ভাবলাম বাংলাদেশের খেলা দেখবো টিভিতে তা আর হলো কই?
বড় হতে চাইনা
বড় আমি হতে চাইনা,
হতে চাই ছোট।
আবার যদি হতাম ছোট,
তাহলে কেমন হত ?
ফিরে পেতাম আবার সব !
হারিয়েছে যত-
দুঃখ হাসি কান্না আর পাগলামি।
ছোট ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলা,
আর শয়তানি।
যে ভাবে খেলতাম কানামাছি,
আর পলাপলি,
দোকানদারী করতাম যত,
নিয়ে ধুলা বালি।
কাদার পুতুল দিয়ে বানাইতাম,
বউ আর - বর
সবাই মিলে হৈ চৈ করে বলতাম,
ধর ওরে ধর ;
পাল্কী থেকে পড়েনা যেন নিচে।
আসলে সব কিচু ছিল তো মিছে।
মিছে হলেও ছিলাম যত সুখে।
বড় হয়ে মরি এখন দুখে।
rape as genocide
This is not rape out of control. It is rape under control. It is also rape unto death, rape as massacre, rape to kill and to make the victims wish they were dead. It is rape as an instrument of forced exile, rape to make you leave your home and never want to go back. It is rape to be seen and heard and watched and told to others; rape as spectacle. It is rape to drive a wedge through a community, to shatter a society, to destroy a people. It is rape as genocide. In this genocide through war, mass rape is a tool, a tactic, a policy, a plan, a strategy, and an instrumentality, as well as a practice.
Catharine A. MacKinnon, Rape, Genocide, and Women's Human Rights, 17 HARV. WOMEN'S L. J. 5, 11-12 (1994).
