ইউজার লগইন
ব্লগ
জানালা প্রেম
মেয়েটা প্রতিদিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে। এক দৃষ্টিতে ; ড্যাব ড্যাব করে। মাঝে মাঝে আমিও তাকাই; ভর্য়াত চোখে। আসলে এই রকম হয় ঢাকা শহরের প্রতিটি বহুতল বাড়ির জানালাতেই। একে কী বলা যায়? জানালা প্রেম? হু, চালানো যায়। জানালা প্রেম ; কথাহীন, রিক্সাহীন, ঘোরাঘুরিহীন নির্বাক প্রেম।
আমারো একটা জানালা প্রেম আছে। একান্তই আমার। তখন থাকতাম বাড্ডায়। একটা ৭ তলা ভবনের ৩য় তলায়। ব্যাচেলর বাসা। নিজের রুমে থাকতাম তিনজন। আমার বেড জানালার পাশে, দক্ষিনমুখী। বাতাস আসত। সুশীতল বাতাস।
জানালার সাথে বরাবরই আমার সর্ম্পক শীতল। জানতাম না জানালার প্রেমে পড়া যায়। তাই হয়ত সপ্তাহান্তে একবার জানালা খুলতাম আকাশ দেখার জন্য। কালো আকাশ, আলোময় আকাশ, মেঘলা আকাশ ! মধ্য রাতেও উটে মাঝে মাঝে হোসেন র্মাকেটের উপরে লেখা এ জি হাইয়েস্ট লেখা লাল আলোটা দেখতাম। দিনগুলো যাচ্ছিলো ভালোই।
বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রিয় লেখক আহমাদ মোস্তফা কামালের 'প্রেম-অপ্রেমের গল্প'
আবারও লিখতে বসলাম, কারন না লিখলেও রাতটা চলে যায় আর লিখলেও চলে যায় রীতি মেনে। তাই লেখা শেষের অনুভুতিটাই ভালো, রাতে ভালো ঘুম আসে। সকালটাও আনন্দময় কাটে। যদিও শরীরের অবস্থা বিশেষ ভালো না। টুকটাক শরীর খারাপ, গলা ভেঙ্গে কাঠ, নিজের কন্ঠস্বর নিজেরই অচেনা লাগে। বলি টিএসসি, শুনে রিকশাওয়ালা কেএফসি। কী যে বিপদময় অবস্থা তাও আমার তাফালিং কমে না দৈনন্দিনের। সোমবারে এক বন্ধুর বাসায় গেলাম সন্ধ্যের দিকে। আড্ডা জমলো, দারুণ নাস্তা হলো, ফেরার সময় তিনটা বইও ধার আনলাম। ধার করে ও বই কিনতে কিনতে টেবিলে অপঠিত বইয়ের স্তুপ। এত বই আমার পড়ার অপেক্ষায় বসে আছে তা ভাবতেও অনেক শান্তির। তবে শান্তি নাই মানুষের, বিভিন্ন কাছের দুরের মানুষ সমন্ধে আমার কিছু উচ্চ উচ্চ ধারনা থাকে, নানান ঘটনার কারনে সেই উচ্চ ধারনার কাচ গুলো ভেঙ্গে পড়ে হুট করে, তখন নিজের উপর তীব্র মেজাজ খারাপ হয়। আমি না হয় সুবিধের লোক না, কিন্তু সবাই কেন আমার মতই হব
সর্বনাশ, জহির রায়হান ইসলাম-বিদ্বেষী!!
মাদ্রাসা শিক্ষার সেকাল এবং একাল
"হেফাজতের মূল আস্তানা হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তির সময় সব ছাত্রকে উর্দুতে লেখা একটি হলফনামায় সই করতে হয়। মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা কতটা দাসত্বশৃঙ্খলে আবদ্ধ তা বুঝতে এ হলফনামাই যথেষ্ট। এতে ছাত্ররা শপথ নেয়,কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিবে না,কোনো ছাত্র সংগঠনে যুক্ত হবে না,অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সংবাদপত্র,সাময়িকী ও বই পড়বে না,অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষা দেবে না, টেলিভিশন দেখবে না,খেলাধূলাসহ যে কোনো ধরনের পাঠ্যবহির্ভূত কাজে (এক্সট্রা কারিকুলার) অংশ নেবে না, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবে ইত্যাদি!” দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় একই ব্যবস্থা চালু আছে বলে জানিয়েছেন হ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুমতাজ আহমদ।"
(মাদ্রাসায় দাসত্বের অবসান হোক, মুজতবা হাকিম প্লেটো, মে ১১, ২০১৩)
একজন কারিগর
বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো ইতিহাস। এক সাগর পরিমাণ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার ইতিহাস। সবার নাম হয়তো লিখা নেই ইতিহাসের পাতায়, তবুও কি তাদের অবদান অস্বীকার করা যায়?

দেখছিলাম, টেলিফিল্ম "কারিগর"। আর্টফিল্ম বলে শুরুর দিকে বেশ ধীরগতির কারণে একটু বিরক্ত লাগছিলো। তবুও, ধৈর্য্য নিয়ে বসে থাকি মূল কাহিনীর অপেক্ষায়। মূলকাহিনী খুব বেশী কিছুনা আবার অনেক কিছু। একগ্রামে ছিলেন একজন "ওস্তাকার" যাকে সবাই "কারিগর" বলে ডাকতো। গ্রামের ছেলেদের খৎনা করানো ছিল তার পারিবারিক পেশা। তাই, বাচ্চা ছেলেরা তাকে দূর থেকে দেখলে ছুটে পালাতো ভয়ে, পরিবারের বয়স্করা দেখলে শ্রদ্ধা করতো আর খৎনা হয়ে গেছে এমন ছেলেরা দেখলে সালাম দিত।
বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ একদিন অহনার অভিবাসন
এত অপেক্ষার বইমেলাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবন থেকে তরতর করে খালি দিন গুলো চলে যাচ্ছে, ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। অনেকে বলে সময় তাদের কাটে না, আমি তো দেখি সময় থাকেই না কোনোক্রমে। যেভাবেই থাকি, যাই করি সময় দ্বিগুন গতিতে চলে যায়। সে কথা যাক, সময় নিয়ে হতাশা আগের অসংখ্য পোষ্টে করেছি। এখন বাদ দিয়ে অন্য কথা বলি। ধুলোর সমুদ্রের যে বই মেলা, যাচ্ছি নিয়ম করে। কিন্তু সমস্যা হলো- মেলায় কোনো কাজ থাকলে তা মিস করে ফেলি, অথচ এমনিতে মেলায় যাই প্রায় প্রতিদিনই। যেমন কালকের কথাই ধরুন না, বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, মেলায় আর যাবো না। কিন্তু কি মনে হলো হুট করে বাসায় আসলাম, বুয়া রান্না করে নাই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে গেছে চাল নাই। আমি বের হয়ে গেলাম সাথে সাথেই। রহীমকে ফোন দিলাম, রহীম হলো গিয়ে সেই রিকশাচালক যার ফোন নাম্বার আমার মোবাইলে সেইভ করা আছে, দূরে কোথাও যাবার নাম নিলেই রহীমকে ফোন দেই। পুলক ও আস
অনৈসলামিক স্ট্যাটাস - ৩
বাংলায় কি পড়ানো হয় মাদ্রাসাগুলোতে? শুধু অ আ ক খ? বাংলা সাহিত্য পড়ানো হয়, যেমন স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে বাংলা সাহিত্য রয়েছে। ওটার কথা উঠলে তো নাউজুবিল্লাহ। রবীন্দ্রনাথ ওনাদের কছে বিধর্মী। এমনকি জাতীয় কবি নজরুলও যায়েজ নয়। আর সাহিত্যচর্চা মানেই বেশরিয়তি কাজ। সুতরাং যা বাংলা শিখতেছে, তা তাদের আরবী-উর্দুর প্রচারের কারণে।
যে শিক্ষায় নিজেকে চেনা যায় না, নিজের জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-মুক্তিযুদ্ধকে জানা যায় না, সেটা কুশিক্ষা। মাদ্রাসাগুলোতে মানুষ তার নিজের জাতিকে চেনা তো দূরে থাক, নিজেকে চেনার সুযোগ নেই। কেননা ধর্মের নিম্নমানের এবং স্থান বিশেষে বিকৃত চর্চার মাধ্যমে এক ধরণের দাসত্বের বেড়াজালে নিজেদের এবং নিজেদের মানুষদের বন্দী করার রুচিহীন শিক্ষা চলে। এ বন্দীত্বটা মনোজগতের, চেতনার।
দেখুন তো আপনাদের এম ন হয় কি??
আজ কিছুতে যায় না,
যায় না মনেরও ভার
এটা কবি গুরুর একটি গানে স্থায়ী তাও পুরোটা না।আমি জানি না তাই লিখতে পারলাম না।কবি গুরুর কেন মন খারাপ হয়েছিল জানিনা।
বিনা কারনে কারও কি মন খারাপ হয়, হয়ত বা হয়, হয়ত বা না।আমার কখনও কখনও বিনা কারণে মন খারাপ হয়।আমাকে তখন মনের গভীরে খুজে বেড়াতে হয়,কেন মনটা খারাপ।বউ ছেলে মেয়ের সাথে আছি তখনও হয়ত ভাল লাগছে না।
আবার হয়ত ওদের ছেড়ে দূরে আছি,অনেক চাপে আছি,কিন্তু মনে অনেক ফুর্তি।কাজ করছি, গাড়ী ড্রাইভ করছি, গান করছি,এম্ন কি একেবারেই নিঃসঙ্গ,রাত্রি গভীর, তা আলোময় বা অন্ধকারাচ্ছন্ন তাতে কি, আমার মনের অফুরন্ত অপ্রকাশাতীত আবেগ,আবেশ মহাকাশের গন্ডি পেরিয়ে কোন অজানা অচেনা গ্রহে বিচরন করছে।আমি তখন আমার মনের রাজা।এ পৃথিবী সম হাজারটা পৃথিবী যেন আমার করতলগত।
তখন ও আমার একটা অভাব থাকেই তা হল আমি কেন কবি গুরু বা কোন লেখক কবির মত লিখতে পারি না,
ধূসর গোধূলিঃ ৩২ - লড়াই
ধীরে ধীরে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শিউলি। দু’জনের ছোট্ট সংসারে ঝক্কি-ঝামেলা নেই বললেই চলে। দুপুরের পর একাকী ঘরে শিউলির অফুরন্ত অবসর যেন আর ফুরোতেই চায় না। সময় কাটানোর সঙ্গী রেডিও কিংবা বইও একসময় একঘেয়ে হয়ে যায়। তখন শুরু হয় নাহিদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। বেশীর ভাগ দিন সন্ধ্যা নাগাদ ঘরে ফেরে নাহিদ, টোনাটুনির ছোট্ট সংসার তখন হাসি গল্পে ভরে ওঠে। নাহিদের ফিরতে দেরী হলেই একা ঘরে অস্থির হয়ে ওঠে শিউলি। অজান্তেই ওর মনটা তখন চলে যায় শ্যামলপুরে। সবুজ শ্যামল গ্রামটা ওকে প্রায়ই হাতছানি দিয়ে ডাকে। বাবা-মার আদর, বকুল আর অয়নের খুনসুটি, আর বাড়ির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতির মধ্যেই ঘুরে বেড়িয়েই পার করে অলস সময়গুলো। মাঝে মাঝে মনে হয় একটা সঙ্গী হলে বেঁচে যেত এই একাকীত্ব থেকে। ও প্রায়শঃই স্বপ্ন দেখে কচি দু’টি হাত, নরম তুলতুলে গাল, বড় বড় দু’টি চোখ আর খিলখিল হাসির ঝংকার। নাহিদ অনেকটাই চাপা স্বভ
শুধু ফুরিয়ে যাবার এই ভয়
হাত পা ধুয়ে ব্যালকনিতে বসে একটা সিগারেট জ্বালানোর পর দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার দৃশ্যগুলো ফিরে আসে।
ঘুম ভেঙ্গেছিলো দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। অথচ সেই সকাল ৮ টায় লিজা নামের বান্ধবী ফোন করে ডেকে দিয়েছে, আমি বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে ওর সাথে ৫ মিনিট কথা বলেছি। দুপুর দুটোয় পরীক্ষা। বিনিয়োগের কঠিন দুটো চ্যাপ্টার পড়তে হবে। তবুও হেরে গেলাম আলসেমির কাছে।
পরীক্ষাটা খারাপ হল যথারীতি। আরেকজনের খাতার দিকে তাকিয়ে একটা অংক দেখার চেষ্টা করার সময় ম্যাডাম চীৎকার করে উঠলেন- এই যে ঝাঁকড়া চুল, আপনাকে কিন্তু পরীক্ষা দিতে দেবো না।
যখন থাকব নাকো অবনী পরে
আজি হতে বহু বছর পরে
আমি থাকব নাকো এ অবনী পরে
আমার রক্তহীন শরীর,হাড় মাংস
গলে পচে হবে সবুজ সার
খাটিয়ায় উপর দেয়া মাটিতে
ত্র তর করে বেড়ে উঠবে সবুজ ঘাস
হয়ত বা কোন বড় কোন বৃক্ষও
কবর নামক আমার ঘরটিতে
আমার এ সুন্দর দেহ খানি হবে বিলীন
কেউ জানবেও না আমার নাম ধাম।
আমার ও আছে ছবি, পোট্রেট, আছে লেখনী,
আমার গুলো কেউ কি এভাবে করবে সংরক্ষন?
না, কক্ষনো না।
কেন করবে?
আমি কি শেখ মজিব,
আমার কি আছে বজ্র কন্ঠ
আমার কি আছে দেড় যুগ জেলে
পচার সুখ অভিজ্ঞতা,
আমার চিত্ত কি তার মত নির্ভিক।
আমার জন্য ছাগল দোয়ানু এক গ্লাস দুধ,
চার আনা পয়সা নিয়ে কোন ভিখারিনী
রাস্তায় দাড়িয়ে কি অপেক্ষা করে?
আমার কন্ঠ শুনে লাখ লাখ মানুষ তো
দুরের কথা,
একটি পিপড়াও ছুটে আসে না।
আমি কে পেরেছি আমার উত্তসুরীর জন্য
একটি দেশ,
সে তো সুদুর পরাহত,
এক খন্ড নিরাপদ ভুমির ব্যবস্থা করতে।
না পারিনি।
বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়া- অয়নান্ত সূর্যের দিন
ঘুরে ফিরে ফেব্রুয়ারী এলেই বাংলা বই নিয়ে হন্তদন্ত শুরু হয়ে যায়, মানের প্রশ্ন আসে, সাপ্লাইয়ের সমস্যা ধরা পড়ে, প্রাপ্তি ও দোকানের সংখ্যা নিয়ে হা হুতাশ উঠে, দাম নিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ হয় অনেকের, লেখকের রয়েলিটির প্রসঙ্গ আসে, দেশে কত জন লোক বই পড়ে আর কত লোক মেলায় আসে ঘুরতে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত চারিদিকে শুনতে হয়। আমার কাছে বই হলো প্রতিদিনের জিনিস, প্রতিমাসে সংগ্রহের জিনিস, জীবন যাপনের প্রতিটা বাকে নিজেকে ঋদ্ধ করার জিনিস। আমার এই সীমিত অর্থের দিন যাপনে প্রতিমাসেই বই কিনে সংগ্রহ করি, ধার নেই ও পড়ি। অথচ এই দেশে মাত্র এক মাসেই বই নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা হয়, এক মাসের কয়েকদিন সামান্য কিছু মানুষ অল্প কিছু বই কিনে, ভুষিখোর লেখকেরা বস্তায় বস্তায় বই লেখে, তা কখন মেলায় আসে আর কখন চলে যায় তার হিসাব কেউ রাখে না, এক মাসেই টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা গুলোতে বই প্রেম ভাতের ফেনের মত উতলে উঠে, সব শেষ হয়ে শুধু থেকে যা
ভুলে যেওনা
তুমি আমার চোখের মনি,
যা ছাড়া আমি অন্ধ।
তুমি আমার চির সাথী,
জীবনের ছন্দ।
পৃথিবীর সকল মানুষ,
আমাই কই যদি মন্দ।
একটু ও করনা তুমি,
আমার প্রতি সন্দেহ।
কথা দাও মন প্রাণ খুলে,
কখনো কোনদিন তুমি -
যাবেনা আমাই ভুলে।
আমাই যদি যাওগো তুমি ভুলে,
নষ্ট হবে জীবন আমার -
দুই নয়নের জলে।
পাগল করেছ তুমি আমাই ,
আই, লাভ, ইউ, বলে।
কথা দাও, ভুলবেনা আমাই !
কোন দিন কোন কালে।
আমার যত কাছে এসেছ,
যেওনা আর ফিরে ।
মনের মাঝে কত রংগের স্বপ্ন আঁকি,
শুধু তোমাই ঘিরে।
মা
“তোমার কি মনে হয়, আত্মহত্যা করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?”
মৃত্তিকার পেছন থেকে অচেনা নারী কণ্ঠ। একজন মধ্যবয়স্কা দাঁড়িয়ে। পরনে সবুজ শাড়ি, চুল উষ্কশুষ্ক, চোখের নীচে কালি পড়া, ঠোঁটে অম্লান মৃদু হাসি।
“এছাড়া তো আমার আর কোন পথ নেই”, কোনদিকে না তাকিয়েই উত্তর দিল মৃত্তিকা।
“কী আর এমন হয়েছে তোমার?”, নারীকণ্ঠের ব্যঙ্গাত্বক জিজ্ঞাসা।
“এর চেয়ে খারাপই বা কী হতে পারে?”
“তুমি অবহেলিত?”
“যাকে জীবনে সবচেয়ে বেশি ভালবেসেছিলাম তার কাছেই।”
“এই মানুষটিই কি তোমাকে ছোট থেকে বড় করেছে? ভালোবাসতে শেখার উপযোগী করে তুলেছে?”
“ভালোবাসতে শিখেছি বলেই সে এসেছে।”
“সেটাই স্বাভাবিক। ভালোবাসতে জানলেই তারা কাছে আসে। সম্পদের পাহাড়ই তাদের একমাত্র কাম্য।”
“সম্পদের তো ওর অভাব ছিল না!”
“এ জগতে হায়, সেই বেশি চায়, যার আছে ভুড়ি ভুড়ি,
রাজার হস্ত করে, সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি।
আমরা কাঙ্গালের চেয়ে কম কিসে?”
“তুমিও কি আমার মত...”
“তুমি নির্যাতিত?”
“আগে কখনও ছিলাম না।”
“এই নির্যাতন নিশ্চয়ই ওই স্বার্থপর মানুষটির দ্বারা!”
“ও স্বার্থপর না। ও ভালোবাসতে জানে, তবু বাসেনা।”
“এটাই কি তোমার ওপর নির্যাতন?”
চলে যায় বসন্তের দিন!
শেষমেষ ব্লগের শিরোনাম হুমায়ূন আহমেদের এক বইয়ের নাম থেকে মেরে দিলাম- এই বাকী ছিল মনে হয়। বইটা মনে হয় আমার পড়া ছিল আগে। আজ কোন স্টলে গিয়ে জানি দেখলাম বইটা, সাত বছর ধরে হুমায়ুন সাহেবের বই কিনি না মেলায়। আমার এক ক্লাসমেট বন্ধু আছে আবুল খায়েরে স্টিলের ইঞ্জিনিয়ার, সে কঠিন হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত। এখন আমার এইসব নাক সিটকানো দেখলে বলে উঠে নাইন টেনে তো সমানে গিলতি, এখন সমস্যা কি?
ডামি লেখক বইয়ের ফ্ল্যাপ লিখলে...
অনেক তরুণ লেখকই চান বইয়ের ফ্যাপটি বিশিষ্ট কোনো লেখককে দিয়ে লিখিয়ে নিতে। এতে মূল্যায়নের পাশাপাশি একটা ‘সনদ’ও জুটে যায়! দুর্ভাগা তরুণরা জানতেই পারেন না, প্রিয় মানুষটি ব্যস্ততা কিংবা উন্নাসিকতার কারণে বই ছুঁয়েও দেখেন না! নবীন লেখক যদি নাছোড়বান্দা হন, প্রতিষ্ঠিত লেখক অবলম্বন করেন ভিন্ন পদ্ধতি! অগুরুত্বপূর্ণ কাউকে দিয়ে ফ্ল্যাপ লিখিয়ে, সেটা নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে তরুণ লেখককে ‘বুঝ’ দেন! হাতে ললিপপ ধরিয়ে দেয়া ফ্যাপগুলো কেমন? দেখুন-
লেখকের বউয়ের ফ্ল্যাপ
বই : বাঁশগাছের মাথার উপর চাঁদবাগান (গল্পগ্রন্থ) 