ইউজার লগইন
ব্লগ
ভুলতে পারিনা
কখনো ভুলতে পারিনা, আমি তাহাকে।
গভীর রাতে কত কাঁদি, খোদার কাছে ;
হে খোদা মহান ! আমাকে দাও সে শক্তি,
তাকে ভুলে থেকে, আমি পাই যেন তৃপ্তি।
না পেলাম তাকে, তবু নেই কোন ক্ষতি।
আমি তো শুধু ভুলতে চাই, তার স্মৃতি !
তার'ই করুণ সুর এ হৃদয় মাঝে,
ছন্দ-তালে, আর ও করুণ হয়ে বাজে।
কি করে মুছবো আমি হৃদয়ের ব্যাথা।
সারাক্ষণ ভর করে শুধু অস্থিরতা।
জানিনা কোনদিন পারব কি ভুলতে,
নাকি আজীবন থাকব শুধু জ্বলতে !
মনের মুকুরে ভেসে ওঠে তার ছবি,
তাকেই ভেবে আজ আমি হয়েছি কবি।
সময় কেবল, সময় শুধু-সময় নিয়ে যাবে!
টেকনিক্যাল হিসেবে আজ, আমার হিসেবে কাল বাড়ীতে যাচ্ছি ট্রেনে। সকালের ট্রেন। এই ট্রেনটার নামটা অসাধারণ- অগ্নিবীনা। কিন্তু নাম যতো সুন্দর এই ট্রেনের সার্ভিস ততই বাজে। নয়টা চল্লিশে ছাড়ার কথা, কিন্তু ছাড়ে মাঝে মাঝে একটায়। কপাল সুপ্রসন্ন থাকলে সাড়ে দশটা কিংবা এগারোটায় ছাড়বে, ততক্ষণ বলদের মত প্লাটফর্মে বসে বসে পত্রিকা মুখস্থ করতে হবে কিংবা মানুষের দিকে চেয়ে থেকে থেকে উজবুকের মত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভেবেছিলাম পাভেলরা এত দামী ফ্ল্যাট কিনলো কমলাপুরে, এখন গেলে সময় কাটবে আনন্দে আড্ডায়। কিন্তু কাল পাভেলের এক্সাম, তাই ফ্রি নাই। সেই সাত সকালে বাসে ঝুলতে ঝুলতে এসে খালি পেটে আমাকে একা একাই থাকতে হবে। তবে এত কিছুর ভেতরেও বাড়ী যাওয়ার আনন্দের কমতি নাই। আড়াই তিন মাস পর বাড়ীতে যাচ্ছি কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক দিন পর বাড়ীতে যাচ্ছি। কারন নভেম্বরে যখন গিয়েছিলাম তখন মামার বিয়ে শাদী নিয়েই হন্তদন্ত, বাড়ী যাওয়ার ফিলই পেলাম না কোনো। আমার আবার ৯-১০ দিন বাড়ীতে বসে ভালো মন্দ খেয়ে, টিভি দেখে বোর না হলে বাড়ী যাওয়ার ফিলিংস পাই না। কী এক সমস্যা!
শেষ অনুরোধ
এ আমার শেষ অনুরোধ তোমার প্রতি।
আর কাউকে করবেনা এমন,
যেমন করেছ আমার ক্ষতি।
মন ভাঙলে কাঁচের মত,
বুঝলেনা সে কাঁচের মুল্য কত।
আমার ভুলেই তাই,
আমি আজ কেঁদে যায়।
ছিল এই পরিণতি।
নিঠুর হাতে মেরো না, আর কার অনুভূতি!
এ আমার শেষ অনুরোধ তোমার প্রতি।
অনেক কিছুই চেয়েছিলাম দিতে,
বিনিময়ে চাইনি কিছুই নিতে।
ব্যাথায় আজ আমার আঁখি ছল্ ছল্ !
হয়ত দিয়ে গেলাম, এক টুকরো কলঙ্ক,
আর দু ফোঁটা চোখের জল।
হে নিষ্টুর, নির্দয় রূপবতী !
আর কাউকে দিও না কষ্ট,
কনো জীবন করনা নষ্ট,
এ আমার শেষ অনুরোধ তোমার প্রতি।
কিছু সুপ্ত ভালোবাসা আর নির্লিপ্ত প্রকৃতি
সুপ্ত সামাজিকতার এই যুগে ভুল করে জন্ম নেয়া একটি ছেলে। অসামাজিক হলেও সামাজিক সাইটে তার একটি একাউন্ট আছে। সকলের অলক্ষ্যে থেকে সবার লেখা পড়ে বেড়ায়। ভালো লাগলে লাইক দিয়ে সহমত জানায়। এছাড়া ওই নিভৃতচারীই থেকে যায় সকলের অগোচরে।
তার ইনবক্সে কতশত জিজ্ঞাসু মানুষের ভীড়। সবাই পরিচিত হতে চায়। কিন্তু সে ভেবে পায় না, কোথা থেকে শুরুকরে কি বলবে। সবাই তার এই চুপচাপ থাকাকে তার দেমাগ মনে করে। বিরক্ত হয়ে সাথ ছেড়ে যায়।
কিন্তু এই ছেলেটিই এক কথায় দুই কথায় পরিচিত হয় প্রকৃতির সাথে। ওদের দুজনের খুব জমে। কিসের একটা অজানা টানে যে এরা ভালো সংগীতে পরিনত হয় তা কেউ জানেনা। প্রকৃতির নীরবতা সুপ্তকে বিমুগ্ধ করে। প্রবল বেগে কাছে টানে। এই টানকেই হয়তো সবাই ভালোবাসা বলে।
সাধারনের কাছে সুপ্ত একজন আহাম্মকই রয়ে যায়। যে তার আবেগ প্রকাশে ব্যার্থ। কিন্তু সুপ্ত তার হৃদয়ের কোথায় যেনো একটি দুর্বলতা অনুভব করে প্রকৃতির জন্য। হয়তো প্রকৃতি সেটা বোঝে, হয়তোবা বোঝেনা। তাতে কি ই বা যায় আসে?
কবিতা
হায়! বড়ই দুর্ভাগ্য আমার জীবন।
সারাক্ষণ হাত ছানি দিতেছে মরণ।।
এ জীবনে স্বাধ করে চাইলাম যারে।
অনেক চেষ্টা করে পাইলাম না তারে।।
অন্তরে ভরে আছে, শত ব্যাথা বেদনা।
মনকে বুঝালাম তুমি আর কেঁদো না।।
জীবনে সব "চাওয়া "পাওয়া যায়না।
সবাই' সব কিছু চাইতে ও হয়না।।
তবু, মন তো আমার মানতে চায়না।
ছোট বাচ্ছার মত ধরে শুধু বায়না।।
জীবনের প্রতি আর নেই কনো মায়া।
যেখানে থাকি অন্তরে পড়ে তার ছায়া।।
নিজেকে করে চলেছি, শুধু অবহেলা।
জীবন আমার হয়ে গেলো মিছে খেলা।।
শুভেচ্ছা বাণী
আমরা বন্ধু" ব্লগে আমি আজ নতুন এসেছি, তাই সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা! সবাই যদি আমাকে আপনাদের বন্ধু হিসাবে যোগ করে নেন তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করিব। নতুন এসেছি তাই ভুল হওয়া সাভাবিক ; সবার কাছে একান্ত আবেদন আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুন্দর কিছু লিখতে পারি। সকলের সুন্দর সাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে এখানেই শেষ করছি।
যন্ত্রনাদায়ক প্রশ্নের বিব্রতকর উত্তর ১৮+
বঙ্কিম এর জীবনিতে পড়েছিলাম , তাকে যখন ম্যাজিস্ট্রেসির জন্য মৌখিক পরীক্ষায় একজন বিলেতী সাহেব জিজ্ঞাসা করেছিল " হোয়াটস দা ডিফারেন্স বিটুইন আপড এন্ড বিপড। তিনি জববে অনেকটা এমনই বলেছিলেন ---একজন বাঙালী হয়ে বিলেতী র সামনে বাংলা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে এটা বিপদ আর যে পরীক্ষা নিচ্ছে সে আপদ।
আমি এই আপদ বিপদের আশে পাশে পড়ি কিনা বুঝি না ,বা জানি না ,তবে যার মাঝে পরেছিলাম তাই বয়ানে বসেছি।
সময় রাত ১০:৩০।
স্থান: শোবার ঘর।টিভির সামনে মাটিতে কার্পেটের উপর বসা ১০+ ও ৭+ দুই পুত্র কন্যা। আমি হাতে " নট উইদয়াউট মাই ডটার " বইটি নিয়ে সোফায় শুয়ে কেবল মন দিতে যাচ্ছি।
টিভি চ্যানেল : ডিসকভারি, ওয়াইল্ড ভার্সের ম্যান বা ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড। যাই হোক মনে নাই মনে করার ইচ্ছাও নাই।
১০+ বাচ্চা ----মা মা
আমি: বলো
বাচ্চা: দেখন না।
মা: হ্যঁা শুনছি বলো কি?
বাচ্চা: সেক্স না করলে তো বাচ্চা হয় না।
তাকালাম বাচ্চার দিকে।এক সেকেন্ডের ও কম সময় ভেবে বললাম --হ্যাঁ ।
বাচ্চা : তার মানে তুমি সেক্স করছ ?!
মা:
এবার তিন সেকেন্ড সময় নিয়ে উত্তর দিলাম, ---হ্যাঁ।
হ্যাপি বার্থডে লিল ব্রো "আরাফাত শান্ত"
“আরাফাত শান্ত” “আমরা বন্ধু” ব্লগের সবচেয়ে একনিষ্ঠ ব্লগারের নাম। সবচেয়ে নিবিষ্ট মনে যে তার চাওয়া পাওয়া, আনন্দ বেদনা, দিনলিপি, সিনেমা, বই, ঈদের টিভির অনুষ্ঠানের কড়চা আমাদের সাথে সততার সাথে ভাগাভাগি করে যায়, কে পড়লো কে পড়লো না কিংবা কে মন্তব্য করলো আর করলো না, কে তার পোষ্ট পড়ে তাকে কী ভাবলো আর ভাবলো না তার তোয়াক্কা না করে। এক কথায় আমাদের ব্লগের প্রাণ এই ছেলেটা। অনেক ব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে অফিস রুটিনের ফাঁকে এক ঝলক ব্লগে উঁকি দেয়ার কারণ এই ছেলেটা। আজ তার শুভ জন্মদিন। অনেক অল্পদিনে অনেক কাছের মানুষ হয়ে যাওয়া এই ছেলেটাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেয়ার জন্যে আজকের এই লেখা। শুভেচ্ছা লেখার মান যেমনই হোক, ভালবাসা, স্নেহ, শুভ কামনা অফুরন্ত তাই জানাতে চাই।
স্ক্রিবলস...
২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...
২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...
২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...
০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..
০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..
১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...
১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?
২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।
পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।
পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।
২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...
২৪১০১৩
উত্তরসূরী

চাপাতলায় ফুলের গন্ধ নেই-
ওখানে আজ শুধুই বুকের আর্তনাদ।
আর্তনাদ! তোমাদের তাতে কি?
তোমরা অধিকারের কথা বলছ?
অধিকার তো হয় কেবল মানুষের।
ওরা কি মানুষ?
ওখানে তো সংখ্যালঘু নামের
কিছু আজব জীবের বাস !
কি দরকার ওদের কথা ভেবে?
ওদের জ্বলে যাওয়া ঘরের আগুনে
কারো উল্লাস হলে তোমাদের কি আসে যায়?
জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও-
জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাক সব,
হিংসার আগুনে, লোভের দাবানলে
রচিত হোক নতুন সম্প্রীতির ইতিহাস।
ত্রিশ লক্ষের উত্তরসূরীরা
আজ আবার নতুন করে জেনে যাক-
একাত্তর এমনই ছিল!
বিত্তশালী উপহাস
হিটলারের নাম এখন অস্পৃশ্য। ছোটশিশুদের সামনে এই নামটি একসময় উচ্চারন করা হতো না। ভাবতো ইবলিশ বা শুকর প্রানীর নাম যেমন মুসলমানেরা মুখে নিতে পারে না, তেমনি হিটলারের নাম কোনো সভ্য মানুষ মুখে নিতে পারে না।
লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে হিটলারের উন্মাদনা থেকে মুক্তি পায়। হিটলারের ফ্যাসিজম, একনায়কতন্ত্রের নির্যাতনের গুমোট কান্না ইউরোপের দেয়ালে দেয়ালে একসময় গুমড়ে কাঁদতো। এখন সেসব গল্পগুলো অনেকটা রূপকথা হয়ে গেছে। মানুষ দারিদ্র্যতাকে দূর করেছে, মুছে ফেলেছে প্রায় ধনী দরিদ্রের ব্যাবধান। মেধা দিয়ে যে পৃথিবী হাতের মুঠোয় আনা যায় তার দৃষ্টান্ত নতুন করে বলার প্রয়োজনীয়তা রাখে না।
দেশে ভয়ে ফোন দেয়া হয় না। দেশে আজ সবকিছুই আছে: আছে সরকারী সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ, জঙ্গী, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। বিস্তৃত এক জনপদ ধুকছে নিজেদের গড়ে তোলা ফ্রান্কেনস্টাইনের আঘাতে। ক্যান্সারের মতো আমরা নিত্য ব্যাথায় ধুকছি। অপরের পিঠে দোষ দিয়ে ক্লান্ত হইনি, তবে যখন ক্লান্ত হবো তখন নিজেদেরকে দোষ দিতে শুরু করবো। এভাবেই একটা সোনালী দেশে আগুন লাগবে, জ্বলতে থাকবে।
তখন থাকবে পরে এক ফালি এই দিন!
দিন যাচ্ছে যত বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের যত স্মৃতিময় সময়ের গল্পগুলো ছিল, সেই গল্পের মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সুচিত্রা সেন তো সেই কবেই সিনেমার সোনালী দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, থাকতেন একেবারেই অন্তরালে। এবার সেই অন্তরাল থেকেও হারিয়ে গেলেন। আমার অবশ্য তাতে খুব একটা কষ্ট নাই, অনেস্টলি স্পিকিং আমি সুচিত্রা সেনকে আমার সময়ের সঙ্গে রিলেট করতেও ফেইল করেছি। তাঁর সপ্তপদী কিংবা হারানো সুর আমিও টিভিতে দেখছি কিন্তু আগের মানুষদের মত সেরকম মুগ্ধ হই নাই। ফ্যান্টাসীও জাগে নাই। তার চেয়ে রাজ্জাক ববিতার সিনেমা কম্পারেটিভলি আমার বেশী স্টানিং লাগছে টিভিতে। আর আমরা এমন এক নষ্ট প্রজন্মে জন্ম নিছি যারা সিনেমা হলের চেয়ে টেলিভিশন কিংবা কমিকস বইকে বেশী আপন করে পেয়েছে। তাই সিনেমার যে চার্ম তা আমি খুব বেশী ফিল করতে পারেন না। তাই সুচিত্রা সেনের গ্ল্যামারের বর্ননা আমার মুরুব্বীদের মুখেই শুনতে হয় আর পত্রিকাতেই পড়তে হয়। এরকম একটা গল্প আছে- জানি না সত্য মিথ্যা, পাকিস্তান আমলে একবার নাকি বোর্ডের কোন পরীক্ষায় আসছিলো বাংলায় উত্তমের বিপরীত শব্দ, সবাই নিঃসংকোচে লেখে আসছে- সুচিত্রা। আসলে সময় মানুষকে নানান ভাবে ভাবায় ও নানান কিছুতে আচ্
আমি চাই না সে বেহেশত
আমার আব্বা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন আজ ৩৩ বছর আগে।কেন জানি না এতদিন পরও বাবার প্রতি ভালবাসা বেড়েছে বই কমেনি।আমার ছেলে জোনয়েদ যত বড় হচ্ছে, ওকে আমি যত দেখি ততই বাবার স্মৃতি আমার কাছে স্মৃতির অবয়ব ছেড়ে বাস্তবতার রূপ পরিগ্রহ করে।ছেলে মেয়ের প্রতি আমার আবেগ অনুভূতি বাবার উপর প্রতিস্থাপন করে যখন দেখি, আজ অনেক অনেক নিজেকে অপরাধী মনে হয়। ভাবি আমার মত বাবারও নিশ্চয়ই এমনি অনুভূতি ছিল। মা বাবার সাথে সন্তানের একি এক অমোঘ বন্ধন, একি অমোঘ মায়ার অভেদ্য জাল।এ জাল তো কোন গার্মেন্টসে তৈরী সুতার জাল নয়।এ জাল যে শরীর নামক অবয়ব খানির শিরা উপশিরা, রিদয় থেকে রিদয় নামক অদেখা অনুভুতির ভান্ডারের অনু পরমানুর সমন্বয়ে বা মানুষের জ্ঞানের পরিধির বাইরে আরও অনেক অনেক কিছুর সমন্বয়ে গঠিত।যা পলকে আক্রান্ত করে। অথচ তখন কেন বুঝিনি?
একটি মৃত্যুবিষয়ক ব্লগ
২০১৪। ব্লগার জীবনের সাত বছরে পা দিলাম। সাত বছর এক জীবনের জন্য অনেক দীর্ঘ সময়। অনেক দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছু নিয়ে অনেক কথা বলে ফেলেছি অথচ অমোচনীয় নিয়তি "মৃত্যু" নিয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি। হয়ত প্রচ্ছন্ন ভয়, হয়ত অজ্ঞাত অবজ্ঞা, জানা নাই কেন।
সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যক্রমে কারও জীবনের অন্তিম সময়ের সাক্ষী হতে হয়নি কখনো। খুব কাছের মানুষ বলতে যাদের বোঝায় তাদের মাঝে আমার দাদা গত হয়েছেন আজ বহু বছর। সত্যিকারের স্মৃতি বলতে যা বোঝায় তাঁকে নিয়ে সেসব কিছু নাই। হয়ত বাবা মনে রাখেন।
নানার স্মৃতি কিছু আছে আবছায়া, তাঁর সাদা পঞ্জাবী তুষার শুভ্র চুল, হোমিওপ্যথ ওষুধ-পত্তরের বাক্সে ছোট ছোট মিষ্টি সাদা দানা, হাত ধরে রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো সাদাকালো ছবি ..... তাঁর মৃত্যুকালীন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ মগজ মুছে ফেলেছে। হয়ত মা মনে রাখেন।
মায়া

আজি হতে বহুবর্ষ আগে
একদা ফেলে এসেছিলাম তারে
কীর্তনখোলার তীরে,
শ্যামা ষোড়শীর হরিণী নয়নের
মায়াবী দৃষ্টি ছাড়িয়ে
চলে এসেছিলাম; একেবারে।
এই হেমন্তের দিনে
গাশ্বীর রাতে আশ্বিন চলে যায়-
কার্তিকের নবান্নের আহবানে;
সবকিছু মনে পড়ে যায়।
হারানো দিনের তরে
মনটা কেবলই কেঁদে ওঠে
ফেলে আসা দিনগুলি
হাতছানি দেয়-
বারে বারে।
তারপর, বহুকাল কেটে যায়-
কখনও ভোলা হয়নি তারে
একটি দিনের তরেও।
সোনারোদে ঝিলমিল হাসির
ঝলকের প্রবল আকর্ষণে
মনটা ছুটে যায়, ক্ষণে ক্ষণে;
কালো তিলকের মায়া জড়ানো
সবুজের অলঙ্কারে।
আজও এই ক্ষয়ে যাওয়া
পাথর সময়ের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি এড়িয়ে
মন ছুটে যায়,
অবলীলায়-
সেই শ্যামলিমায়!
হিজলের ছায়ায়,
কাঠবিড়ালী, ঘুঘু-ডাহুকের
নিবিড় ভালবাসায়।