ইউজার লগইন
ব্লগ
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: জ্ঞান-সাধনার সমার্থে এক মহৎ বাঙালি
এ বছর বর্ষাটা বেশ জেঁকে বসেছে। একেবারে আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি-জলের গান। আকাশ অন্ধকার করে, মেঘলা গলির কিনারা ঘেঁষে বৃষ্টি এসে নামছে আমাদের প্রাত্যহিক বারান্দায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যা থেকে রাত্রি। তারপর রাত্রির সুগভীর সুনশান ভেদ করে আবার শুরু হয় বৃষ্টি। এ যেনো পুরো সময় জুড়ে থাকা বৃষ্টির সাহানা সুর- আলিঙ্গন করে রাখে আমাদের একেবারে নিত্য নবীনা মায়ের মতোন।
এ রকম বৃষ্টি যখন ঘরে-বাইরে, হৃদয়ে-বন্দরে নিবিড়তায় ছেয়ে থাকে- তখন ঘরের কোণে বসে কিংবা গরম চায়ের আড্ডায় আমরা প্রায়ই বলে থাকি- এবারে বর্ষাটা যা হচ্ছে- শীতটা এবার কম হবে। অনেকে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায়; সে কী! তুমি কী করে বললে?
বিচ্ছিন্ন আমি, আমার পানির বোতল, লাইটার, অ্যাশ ট্রে
ব্লগিং মিস করতেসি। ভালোভাবেই। এ ব্যপারেও পুরোনো একটা কথাই বলবো। আমার কোনো কিছুতে খারাপ লাগে না। মৃত্যূ ছাড়া পৃথিবীর প্রত্যেকটা বিষয়ের ভেতর থেকে আমি আনন্দ খুঁজে নিতে পারি। আর আমি বিশ্বাস করি, আনন্দ জিনিসটা সংক্রামক। এটা ক্ষনিকের জন্য হলেও মানুষকে তার সবগুলো দুঃখ একসঙ্গে ভুলিয়ে দিতে পারে। তবে এ কথাও সত্য, ব্লগিং এমন একটা বিষয় যেটা সত্যিই পোড়ায়।
মানুষের জীবন ক’দিনের? বন্ধু নাম নাই আর শর্মির সঙ্গে একদিন কথা হচ্ছিলো। জীবন নাকি দুইদিনের। দুইদিন বিষয়টা আসলে কি? ষাট বছরকে কেন দুইদিন বলছি? তখন আমার মনে হলো, মারা গেলে ‘পিসি’র সুইচের মতো সত্যি সত্যিই যদি কোনো সুইচ পারমানেন্টলি অফ হয়ে যায়’ তাহলে কি আসলেই এই সবকিছুর কোনো মূল্য থাকে?
মেঘবন্দী (১) ... বৃষ্টি / মুক্তবয়ান
ব্লগে প্রকাশ হওয়া ইবুকের লেখাগুলি ক্রমান্বয়ে সবার সামনে উপস্থাপনের অনুরোধ ছিলো। আজ থেকে "মেঘবন্দী", আমাদের বৃষ্টি নিয়ে ই বুকের লেখাগুলি ব্লগে প্রকাশ করা শুরু হলো।
বৃষ্টি
মুক্ত বয়ান
ব
কেমন করে তুমি বয়ান করবে সকালের কথা
কেমন করে তুমি বয়ান করবে সকালের কথা
দুরের আকাশে যখন ঠুমরির তালে পাখি ডানা ঝাপটায়
অথবা থৈ থৈ জলের জারজ সন্তানেরা আওয়াজ তোলে নিধুর নৃত্য ধ’রে
কেমন করে তুমি বয়ান করবে শরতের আকাশে মেঘের পালের ভাসমান ভাষা?
কেমন করে পারা যায় অই সব নিরাবতার বয়ান করতে যেখানে আয়নাল হক ও হাল্লাজের আলখেল্লার যুগপৎ বসবাস।
তুমি দেখাতে পারো জলের নিঃশ্বাস থেকে বৃক্ষের আয়ুবর্ধক বৃদ্ধি
বেচে থাকার একমাত্র সুচক জোয়ার ভাটার আঠালো স্বভাব
কীভাবে তুমি বয়ান করতে পারো অঙ্কিত বিন্দুর সীমাবদ্ধতায় আমাদের ইতিহাস রচিত হলো।
বলো নিরুপমা, অনুরোধের আসরে কিভাবে বয়ান করবে ফুটন্ত ফুলের ঘ্রাণ
প্যারিসের বোতলজাত নিঃসঙ্গতা দিয়ে অঙ্গ ঢাকা রমনীয় পুরি
পুড়ে দিলো অক্ষরের ক্ষত;এরপর বাক্যের ঘরে যদি তুমি দেখ সাপ লুডুর খেলায় মত্ত কিছু তরুণ তরু
তাদের হারজিতে যেভাবে তৈরী হয় পরজীবী সেমিকোলন
বাড়ির কাছে আর্শিনগর
এক
মুকুলের বৌভাতে মাইজদী গিয়ে একটা ভুল ভাঙলো। সৈয়দ ওয়ালিউল্লার লাল সালু থেকে ধারণা ছিল শস্যের চেয়ে টুপি বেশি ওখানে। সেরকম চোখে পড়লনা। সাধারণ দশটা মফস্বল শহরের মতই। তবে যে বৃষ্টি পড়ছিল, লোকজন বাইরে ছিল কম। তত্ত্ব পুরাপুরি যাচাই করা যায় নাই।
দুই
এখনকার হরতাল আমার জন্য ভালো। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে। গাড়ি বাস পাওয়া যায়। তাড়াতাড়ি অফিসে যাওয়া যায়। কিন্তু দুইদিন হরতাল থাকলে একদিন অফিসে যাই না। ক্যামেরা নিয়ে বের হই। সেদিন গেলাম বছিলা।

বন্ধুদের ফেসবুক স্ট্যাটাস
পোলাপাইনের ফেইস বুক স্ট্যাটাস দেখে ভাবি। কীসব আজব ধরণের স্ট্যাটাস যে দেয়! গতকাল এবং আজকে আমাদের দুই বন্ধু যেই স্ট্যাটাস দিসে- তা নিয়ে দুই চাইর কথা না বললেই নয়।
গতকাল বন্ধু নওরোজ ইমতিয়াজ স্ট্যাটাস দিলো-
ফারহানা আলম একজন লক্ষী মেয়ে...
তোমার সমীপে
পৃথিবীকে তোমাকে ভালবাসার যোগ্য করে যাবো
এই দিব্যি দিয়েই পৃথিবীতে আসা।
তোমাকে পেতে চাচ্ছিনা, বুঝতে চাচ্ছি
তাই কাছাকাছি যাবার চেষ্টা।
তোমাতে আবর্তীত হচ্ছে যে কুশিলব দিনরাত
তাদের প্রোফাইলটা জানতেই পিছু নেয়া, হিঙসেতে নয় ।
নদীর সংগে তোমাকে মেলাতে চাইনি মোটেও,
বরং নদীর বুকে দেখতে চেয়েছি তোমার প্রতিবিম্ব।
জানো পৃথিবী আজকাল বৃক্ষকে সতিন ভাবে
আর আকাশ ছুই দালানকে ভাবে সই।
মেঘের বিজলীতে নয় আতাশবাজিতেই তার মুগ্ধতা
রঙধনুতেও বিষন্ন নিরবতা।
বিষন্ন চোখে কর্কট মন নিয়ে তোমাকে কি ভালাবাসা যায়?
একটু সবুর করো, ওদের চোখে সূর্যমুখি ফোটাবো
তোমার বন্দনায় জ্বলবে সন্ধা প্রদীপ
তারপরই না হয় ফিরি, এই কয়টা দিন আমায় সয়ে যাও!
আদনানের সাথে ভন্ডামী বিষয়ক কচকচানি
ঘটনাটা পুরো আদনানকে নিয়েই। আদনান মানে সেই ছেলেটা তার সাহিত্য রচনার প্রবল রোগ কিংবা ঝোক আছে, কিন্তু আরও আছে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবনতা। এরপরেও যদি কেউ তাকে চিনতে না পারেন তাহলে দুঃখিত, হয়তো আপনাদের না বলে অন্য কাউকে তার গল্প বলেছিলাম। যদিও আদনানকে নিয়ে যা বলতে চাইছি তা বুঝার জন্য অতীতের গল্প না জানলেও চলবে। আদনান আদনানই, প্রতি গল্পে সেই একই রকম নিত্য, মানসিকতায় শ্রেষ্ঠ ভাবার ভাবালুতায় আক্রান্ত।
আদনান নাম শুনলে যদি গাদুম-গুদুম ললি-পপ টাইপের কোন চেহারা মনে আসে তাহলে তা দুর করে দিন। এই আদনান লম্বা, কৃশ, মাথায় চুল ক্রমহ্রাসমান। সাথে ফর্সা তেকোনা মুখমন্ডল। চেহারায় শান্তির চেয়ে শ্রান্তির ছাপ বেশি, কারন সে সব সময় থাকে উত্তেজিত। সেটা নিজের চারপাশের অন্যায়-অসংলগ্নতার জন্য নাকি অবদমিত কামের বহিঃপ্রকাশ তা অবশ্য বুঝা মুশকিল।
মানুষের কাছে ঋণ, মানুষের জন্য ভালবাসা
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য; একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা?
ভুপেন হাজারিকার এই গানটা প্রথম শুনেছিলাম কোন একটা বাংলা ছবিতে।কিন্তু গানটা যে কত সত্য তা আমরা অনুভব করি প্রতিনিয়ত। তাই না চাইতেও দেখা যায় আমরা অনেক মানুষকে ভালবাসি এবং তাদের জন্য কিছু করতে অন্তর থেকে সাড়া পাই। আর এভাবেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা মানুষেরা একে অপরের ঋণ শোধ করে যাই।কিন্তু মানুষের কাছে যে ঋণ তা কি শেষ হবার? কিছু কিছু মুহুর্তে কিছু কিছু মানুষের কাজ অন্য আরেক মানুষকে আজন্মের জন্য ঋণী করে দেয়।শুধু অন্তর থেকে বয়ে আসা পবিত্র শ্রদ্ধায় এসব মানুষকে প্রতিনিয়ত স্মরন করে যাই আমরা। কারন কোন কিছুতেই যে এ ঋণ শোধ হবার নয়।
নিসর্গের বুক চিরে ছুটে চলেছি
বর্ষার কি এক গূঢ় মন্ত্র আছে―ঘোর লাগা প্রকৃতির পরতে পরতে শিহরণ বুনে রাখে!
হাল আমলের কবি এবং একজন মূর্খ
[আমার এক কবিবন্ধুর লেখা থেকে যে নিজেকে কবি/ লেখক বলে মানতে চান না । নিজেকে একজন পাঠক ছাড়া অন্য কিছু মনে করেন না । যে কারণে লেখকের নামটা দেয়া গেল না ।]
আমার কবি বন্ধু নুরুল ইসলাম ঠাকুর নুরু। রবি ঠাকুরের পর আর এক ঠাকুর- ভিষণ কবি; জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার কাব্যিক মহিমা। ডেকে বললেন- ওরে অর্বাচিন! কিছু তো শিখলি নে- যা ছিলি তাই রইলি- মূর্খ।
প্রবাসী বাঙালনামা
ব্লগ না থাকলে এত পদের মানুষ দেখা হতো না। বাংলা ব্লগ মানুষ এবং মানুষের ভন্ডামী প্রকাশের সবচেয়ে সাবলীল মাধ্যম। মানুষের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে, ক্ষুদ্রতা আছে কিন্তু হাতে কিবোর্ড আর ব্লগে লেখার এক্সেস থাকলে এরা সবাই মহাপুরুষের খোলস লাগিয়ে কিবোর্ড হাতায়।
লেখা যে অর্থে চরিত্র নির্মাণ, সুতরাং কিবোর্ড হাতে নিয়ে সবাই নিজের সৎ চরিত্র নির্মাণের বিভিন্ন প্রচেষ্টা করতে থাকে, এবং কয়েকদিন পরে এরা আবশ্যিক ভাবেই ধর্মপ্রচারে লিপ্ত হয়, তাদের ব্যক্তিগত ভালো লাগা মন্দ লাগাকে সামষ্টিক ভালো লাগা মন্দ লাগায় পর্যবসিত না করা পর্যন্ত এর বিরাম নেই।
স্বাদ বদলাতে থ্রিলার
থ্রিলার দেখার মজাই আলাদা। সিরিয়াস ছবি দেখতে দেখতে স্বাদ বদল করতে থ্রিলারের জুড়ি নেই। থ্রিলারের মধ্যে ক্রাইম থ্রিলারই বেশি পছন্দ। ক্রাইম-স্পাই থ্রিলার আরও বেশি পছন্দ। কিন্তু ভাল, খুব ভাল ক্রাইম-স্পাই থ্রিলার পাওয়া সহজ না।
একসময় জেমস বন্ড ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে দেখতাম। ক্রাইম, স্পাই ও সুন্দরী নারীর মিশেল এই জেমস বন্ড। কিন্তু এখন জেমস বন্ড পানসে লাগে। মনে হয় রূপকথা দেখছি। আর এই যুগে যে আগের ধারার জেমস বন্ড চলবে না সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত।
জেমস বন্ডকে বড় আঘাত দিয়েছে বর্ণ সিরিজ। নি:সন্দেহে জেসন বর্ণ জেমস বন্ডের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। আমার ধারণে মুভিলাভাররা এই সিরিজের তিনটি ছবিই দেখে ফেলেছেন। যারা স্বাদ বদলাতে চান, তাদের জন্য বর্ণ সিরিজ অবশ্যই দেখার তালিকায় থাকা উচিৎ। বর্ণ সিরিজ মূলত স্পাই থ্রিলার। এক সাবেক সিআইএ খুনীর নিজেকে ভুলে যাওয়া নিয়ে মুভি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-৪
যুদ্ধের তীব্রতা যতো বাড়ছে, দেশ স্বাধীনের ক্ষণ যেন ততোই ঘনিয়ে আসছে। পাক হানাদারদের অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-হত্যার মাত্রাও যেন ক্রমে বাড়ছে। এতে দেশের মানুষ কিছুটা বিচলিত হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর মনোবল ভাঙতে পারেনি। যুদ্ধকালীন একটি- স্লোগান মনে পড়ছে। খুব সম্ভব স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো- ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। দেশকে হানাদার-আলবদর মুক্ত করার যুদ্ধ চলছে ৯ মাস।
বৃষ্টিতে আর ভেজা হয়না
এক সময় খুব বৃষ্টিতে ভিজতাম। বাসা থেকে বেরিয়ে পড়তাম দুজনে। ঘন্টা হিসাবে রিকশা নিতাম। ঘন্টা ২৫/৩০ টাকা। ঝাউতলা থেকে পুলিশ লাইন, রেসকোর্স, শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ড পেরিয়ে ডানে মোড় নিতাম। ব্রাক্ষনপাড়া/বুড়িচংয়ের রাস্তায় কিছুদুর গেলেই গোমতি নদী। নামেই নদী। খালের চেয়ে সামান্য বড়। ভরাট হয়ে গেছে সেটা। দুপাশে আবার দখলও হয়েছে। বর্ষাকাল হলেও সামান্য পানি থাকতো তাতে। তার পাশ দিয়ে রিকশা নিয়ে ছুটতাম। চুপচাপ তার হাত ধরে বসে থাকতাম। গল্প করতাম। হঠাৎ করে গলা ছেড়ে বেসুরো গলায় গান গাইতাম। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো সে। ঠান্ডার বাহানায় সেঁটিয়ে আসতো আমার দিকে। কদাচিৎ এদিক সেদিক তাকিয়ে জড়িয়ে ধরতো আমায়...