ইউজার লগইন
ব্লগ
বন্ধু আমার---১
![bleeding_rose[1].jpg](/sites/default/files/users/anamika/bleeding_rose%5B1%5D.jpg)
হঠাৎ সহনীয় অথচ একঘেঁয়ে একটা শব্দে ঘুম ভাঙ্গে স্বাতীর। ঘুমের মধ্যে প্রথমে ঠিক ঠাহর করতে পারে না, কিসের শব্দ এটা?
হাতড়ে মুঠো ফোনটা যখন হাতের নাগালে চলে আসে, তখনই স্বাতী সম্বিত ফিরে পায়, না এটা এলার্ম ক্লক নয়। ঘরের কোনায় ল্যান্ড ফোনটা বেজেই চলেছে। ঝটপট উঠে পড়ে সে। আলসেমি করলেই--আর উঠতে পারবে না জানে।
হ্যালো, মে আই নো হু ইজ দিস? ঘুমে জড়ানো অস্পষ্ট কণ্ঠ স্বাতীর।
-মর্নিং স্যাটি, দিস ইজ কারিনা।
কুড ইউ কাম টু দ্যা অফিস এ্যাজ সুন এ্যাজ পসিবল।
-হোয়াট? ঘুমের মধ্যে স্বাতী কিছু ঠাহর করতে পারে না।
-"রাইট নাউ।" কারিনা লাইনটা কেটে দেয়।
এবি'র পিকনিক সংক্রান্ত বিশেষ সংবাদ
অত্যন্ত আনন্দচিত্তে জানানো যাচ্ছে, ইতোমধ্যে এবির পিকনিকের প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সবার অবগতির জন্য পিকনিকের বিস্তারিত জানানো হলো:
পিকনিকের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০১০, শুক্রবার
যাত্রার সময় : সকাল ৭.৩০ টা ল্যাবএইড... ৮:০০ তে শাহবাগ যাদুঘরের সামনে... ৮:৩০ এ সংসদ ভবনের সামনে রাজধানী স্কুলের গেইটে
যাত্রার স্থান : ল্যাবএইড, শাহবাগ যাদুঘর এবং সংসদ ভবনের সামনে রাজধানী স্কুলের গেইট
পিকনিকের স্থান : গাজীপুর এলাকার কোনো এক বাগান বাড়ি (কৃতজ্ঞতা: শখত মামা মানে আমার প্রিয় দুলাভাই আর আপনাদের শওকত হোসেন মাসুম ভাই)
খাবার : পোলাউ, দেশি মুরগীর রোস্ট, গরুর গোশত, মিক্সড সব্জী, সালাদ, মিনারেল ওয়াটার, সফট্ পানীয়... এবং সারাদিনব্যাপি শীতের ভাঁপা পিঠা... বিকালে একখান করে কমলা খাওয়ানোর ইচ্ছা আছে...
চাঁদা (জন প্রতি) : ৫০০ টাকা (এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩৫ জন সদস্য লাগবে... অন্যথায় আমরাতো আছিই ...
)
অনুভূতির প্রকাশ
এই তো মাত্র ক’দিন আগে ‘আমার বন্ধু’র সাথে পরিচয়, অচেনা এক বন্ধুর হাত ধরে এ আঙিনায় আমার প্রথম পদার্পণ । আমার আসবার পথে পুষ্প বর্ষণ আমাকে আপ্লুত করে । চোখে না দেখা বন্ধুদের সাথে দৃষ্টির আড়ালেই অন্তরঙ্গতা বাড়তে থাকে । বন্ধুদের সাদর সম্ভাষণ ও সহাস্য হস্ত প্রসারণ, আন্তরিকতাপূর্ণ মতবিনিময় আর আগ্রহে অনুপ্রাণিত হয়ে অনভ্যস্ত হাতে কয়েকটি পোস্ট দেই । উৎসাহিত করেন বন্ধুরা, ভাল না লাগলেও ‘ভাল হয়েছে’ মন্তব্য করে আমাকে উদ্দীপিত করার সেকি আন্তরিক প্রয়াস তাদের!
অনুগল্পঃ ঘুনপোঁকা
দোতালা বাড়ী। বিশাল টানা বারান্দা। আশি সালের দিকে তৈরী করা এই মফস্বল এলাকার প্রথম বড় বাড়ী। লতা পাতার ডিজাইনে বারান্দার গ্রীল। বড় বড় কক্ষের লাল মেঝে তে কালো বর্ডার।
রুদ্র দুপুর থেকেই চুপ করে বসে আছে এই দোতলা বাড়ীর দ্বীতিয় তলার টানা বারান্দায়। পুরো বাড়ী যথারীতি নিরব। চোখ বুজে বসে আছে সে, তাঁর দাদার আরাম কেদারায়। রুদ্রর দাদা যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রতিদিন নিয়ম করে বিকাল হলে এই আরাম কেদারায় এসে বসতেন। নানান লোকজন আসতো তাঁর কাছে। ভিতর থেকে রুদ্রর দাদী পান বানিয়ে দিতেন তাদের জন্য। দাদা মারা যাবার পর থেকে কেউ আর আসেনা , আর তাঁর দাদীও অসুস্থ্য হয়ে এখন বিছানায় শুয়ে থাকেন সারাক্ষন। পাচুর মা'ই এখন সব সামলায়। দোতলার পুরো বাড়িতে এই তিনটি প্রানী। নিচ তলা ভাড়া দেয়া একটা এন জি ও এর কাছে। অফিসের কারনেই সেখানে কিছুটা লোকজন আসা যাওয়া রয়েছে।
হাড় কালা অন্তর কালা
নানা কারণে একটা খুব খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনকিছুতেই বিশেষ আনন্দযোগ খুঁজে পাচ্ছি না। যে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে, কেন সবসময় আমার চারপাশেই মেজাজ খারাপ করার বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে থাকবে? আমি একটু নড়তে চড়তে চাইলেই কেন সেগুলো আমার শরীরে ভাঙা কাঁচের টুকরার মতো ফুটবে? এটা কি জন্মদাগের মতো কোন কিছু? যেটা থাকবেই এবং কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া যেটাকে মেনে নিতে হবেই।
ছোটগল্প : উকুন বাছা রাত কিম্বা সর্ষেফুল দিনের গল্প
১.
আমরা এখন বৈদ্যুতিক আলোয় উকুন বাছি । বিদ্যুৎ আমাদের ফাঁকি দেয়, যেমন আমাদের ভাগ্য প্রায়শই আমাদের ফাঁকি দিতে থাকে । বিদ্যুতের ফাঁকিবাজিকে ফাঁকিবাজ ভাগ্যের মতনই আমরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাই । কারণ, ভাগ্য বদলের কথা যদি বলি, যদি বলি ভাগ্যকে ধরবার জন্যই আমরা গ্রাম ছেড়ে নগরে এসেছি, তবে এ কথা বলা সঙ্গত হবে যে, রামপুর বস্তির দুর্গন্ধময় গলি-ঘুপচিতে আমাদের অনুপ্রবেশ নিশ্চিত করবার আগ মুহূর্তগুলোতে রায়পুর গ্রামের সবুজের পরতে পরতে আমরা আমাদের সারল্যকে লুকিয়ে রেখে এসেছি । আমরা যথেষ্ট নির্লিপ্ত, খানিকটা নিষ্ঠুর আর আত্মপরায়ণ হতে শিখেছি ।
২.
উইকিএডাল্টসলিকস: দি বাংলাদেশ ভার্সন
একসময় ব্লগটা ভাল ছিল। মন খুইলা কথা কইতাম। এখন কেমন যেন সুশীল সুশীল লাগে। আমার এই সুশীল ব্লগ ভাল লাগে না। সুতরাং যারা আমার সাথে একমত না তারা এই পোস্টে ঢুইকেন না।
১.
অবশেষে আমগাছ হইল জাতীয় গাছ। আমার তো মনে হয় জাতীয় গাছ বাঁশ হইলেই বেশি মানাইতো। মন্ত্রীসভার বৈঠকে অবশ্য বাঁশের সাথে কোনো রকম প্রতিযোগিতা ছাড়াই আম গাছ জাতীয় গাছের স্বীকৃতি পাইছে। এই তথ্য সবারই জানা। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ না। আরও আছে।
আবোল-তাবোল
ঠান্ডায় কাহিল হয়ে গেছি, কাশি আর গলার ব্যাথা। হুনছি অরজিনাল ফেন্সি খাইলে কাশি লুকানোর পথ খুইজা পায় না,
রিস্ক নিবো ভাবলাম, কিন্তু দাম শুইনা চান্দি
গরম হইয়া গ্যাছে। ১০০০ টাকা অনলি।
কমদামের ও আছে, কিন্তু প্রশাব মিশ্রিত থাকার সম্ভাবনায় গলার ব্যথা আর কাশিরে হজম কইরা কম্পুর সামনে বসে আছি।
:[ বোকা বিভিন্ন ধরণের হয়। দেখেন তো এইগুলার সাথে নিজের মিল খুইজা পান কিনা
* কেউ মিসকল দিলে আপনি সাথে সাথে কলব্যাক করেন।
* মশা কামড়ালে আপনিও মশাকে কামড়াতে চান।
* ছ্যাঁকা গিফট করার পরও আপনি প্রেমিকার পিছু হাঁটেন।
* বিয়েবাড়িতে উপহার দিয়েও আপনি না খেয়ে চলে আসেন।
* ছাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে বৃষ্টিতে আপনি ছাতা মাথায় দেন না।
* জুতার তলা ক্ষয় হবে বলে জুতা আপনি মাথায় করে পথ চলেন।
মানিব্যাগের বিভিন্ন ব্যবহার সম্বন্ধে একটু উপদেশ দেয়। 
একটি ফটো স্টোরি: শেষ পর্ব
প্রথমেই স্বীকার করে নিই, আগের পর্বে মহাস্থান গড় জাদুঘরে ঢোকার রাস্তার ছবি দিলেও ওইটা ছিলো একটা শুভংকরের ফাঁকি প্রায়। কারণ জাদুঘরের ভেতরে ক্যামেরা ব্যবহার করতে অনুমতি লাগে। এত বড় প্রত্নতাত্তিক জাদুঘর আমি আগে দেখি নি। এখানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সময় যা কিছু সম্পদ খুঁজে-খুঁড়ে পাওয়া গেছে, যুগ ভাগ করে করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে মুসলমান যুগের নিদর্শনগুলোর সংখ্যা হাস্যকর রকমের কম এবং সেগুলোর মানও তত উন্নত নয়।
এক্ষেত্রে হিন্দুদের মহিমা স্বীকার করতেই হবে। বিশেষ করে তাদের তৈরী দেব-দেবীর মূর্তিগুলোর ভেতরে যে বহুমুখী অর্থ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, অবিশ্বাস্য ব্যপার-স্যপার! এছাড়া যুদ্ধের পোশাক, মেয়েদের অলংকার, গৃহস্থালী সামগ্রী'র যা নমুনা দেখলাম, এককথায় অ-সা-ধা-র-ণ।
হঠাৎ পড়লো মনে
পুষির কথা মনে পড়লো হঠাৎ। না, না, আমার পুষি বিড়ালের কথা না । যদিও আমার ধবধবে সাদা পুষি বিড়ালটা ছিল বিড়ালকূলের গর্ব এক অনন্য ব্যতিক্রম । তাকে মনে পড়ে প্রায়ই । এত বাধ্য একটা বিড়াল নিয়ে যে কেউ গর্ব করতেই পারে, কারণ সে কথনও চুরি করে খেতনা । বরং অন্য বিড়াল, এমনকি কুকুরকেও সে আটকে দিত আমার কোন খাবার চুরি করা হতে । উঠোনে বসে খাবার খেলেও সে কাক বা হাঁস-মুরগীদের কাছে ভিড়তে দিত না । তার নির্দিষ্ট পাত্র ছাড়া অন্য কোন পাত্রের খাবারের দিকে সে ফিরেও তাকাতোনা । তবু আজ তার কথা নয় । সেই ছোট্টবেলায় তার অকাল প্রস্থানে ধূলায় গড়াগড়ি দিয়ে কত যে কান্নাকাটি করেছিলাম, সে কথাও আজ নয় । আজ অন্য এক পুষির কথা হঠাৎ করে মনে পড়লো । এই পুষিটা হচ্ছে একটা মেয়ে, আমাদেরই প্রতিবেশী ।
বুদ্ধিমানের প্যাচালী
অনেকগুলা খালাতো-মামাতো-চাচাতো ভাইবোন থাকলে অনেক প্যাচ লাগে যেমন মজাও হয় তেমনি, একেকবারের আড্ডায় শুরু হয় কাউকে নিয়ে পচাঁনি দেয়া, তাতে বের হয় কতো কতো না জানা কাহিনী! সাধারনত একজনের একের বেশি কাহিনী থাকে না তবে ব্যতিক্রম ও থাকে। তেমনি এক আড্ডায় পাওয়া এক কাজিনের কাহিনী, যা কি না দেখা গেলো ছোটকাল থেকেই ঘটনাবহুল! 
বিয়ের পরের শব্দ...গুলো
মাকে খুশি করতে পারার মতো আনন্দ আর নেই। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি মা পান খান। এবং এক খিলি পান এগিয়ে দিলেই মা খুশি। মাকে খুশি করা যে খুব সহজ- এটা জানতাম ২৯ বছর পর্যন্ত।
এরপর জীবনের কোনো এক লগ্নে এসে বিয়ে করতে হলো। আমার আড়াই যুগের ধারণা পাল্টাতে সময় লাগল আড়াই দিনেরও কম। পান আনতে মনে ছিল না। কিন্তু ব্যাখ্যাটা হলো এরকম- বিয়ে করে পাল্টে গিয়েছি! অথচ আগেও কতদিন ভুলে গিয়েছি পান আনতে। তখন এমন কথা শুনিনি। ওদিকে মায়ের কাছে গেলে, মায়ের সঙ্গে গল্প করলে বউকে তার জবাবদিহি করতে হয়। হায়, এ কোন জীবনে প্রবেশ করলাম আমি! মা আর বউয়ের মাঝে একটা দেয়াল খুঁজে পেলাম। এপাশে গেলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে, ওপাশে গেলেও ঠেকে যায়।
আড়ালের মানুষ
বাবা শব্দটা আসলে মা শব্দটার মত অত মধুর নয়। মা বললেই আমাদের সামনে আসে মমতাময়ী নারী যিনি বাসায় আসতে দেরী হলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। পাশে বসে ভাত খাইয়ে দেন। আর বাবা!! বাবা বলতে আমরা সাধারনত বুঝি গুম্ফধারী এক ব্যক্তিকে যিনি বাসায় আসতে দেরী হলে কোমড়ে হাত দিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, আর বিরবির করে বলতে থাকেন “হারমজাদাটা আজকে আসুক। পিটিয়ে আড্ডাগিরি যদি না ছুটাইছি??” ইনিও প্রায়ই খাবার টেবিলে সঙ্গপ্রদান করে থাকেন। তবে তা মার তুলনায় চিরতার রসের মত সঙ্গ। এই সময় আলোচনা চলে পাশের বাসার অমুকের ছেলে তমুকের জীবনের সাফল্যের কথা।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।
(এক বন্ধুবরকে উৎসর্গিত)
১।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
গতকাল শুক্রবারে মসজিদে নামাজে একটাও ফ্যান চলেনি
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
অফিসে অনেক টাইস্যুট, সুয়েটার চাদর পরা দেখছি
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
ব্লগে ব্লগে পিকনিকের আমেজে খুশির বন্যা চলছে
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।
২।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
সকালে ঘাসের পাতায় শিশির বিন্দু দেখার দিন এলো
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
গ্রামীণমেলায় মিঠাই নিয়ে নগরদোলায় দোলার দিন এলো
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
স্বামী স্ত্রীদের একই কম্বলে ঘুমানোর দিন এলো
শীত এলো, শীত এলো।