ইউজার লগইন
ব্লগ
পছন্দের ১০ বাংলা ছবির গান
ঈদের টিভি অনুষ্ঠানের মধ্যে তুলনামূলক নতুন সংযোজন সরাসরি গানের অনুষ্ঠান। সম্ভবত এটি শুরু করেছিল একুশে টিভি, এখন সবাই করছে। রাত ১২টার দিকে শুরু হয়ে চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। গত ঈদে তো আইয়ুব বাচ্চু ভোর সাতটা পর্যন্ত গান গেয়েছিলেন। এবার আবার দেশটিভি কোলকাতা থেকে চন্দ্রবিন্দু ও দোহার ব্যান্ড এনে গান শুনালো।
গতরাতে ছিল সামিনা ও ফাহমিদা-দুই বোনের গান। আমি আবার সামিনার বিশাল বিশাল ভক্ত। দুই বোন একসঙ্গে গাইল তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো..... মাহমুদুন নবীর সেই বিখ্যাত গান। অসাধারণ একটা গান, তার দুই মেয়ে গাইলোও অসাধারণ। গানটা শুনতে শুনতে ভাবছিলাম সেরা বাংলা গান কোনগুলো? বিশেষ করে সিনেমার।
আমার সেই বন্ধুর সরল স্বীকারোক্তি - ১
আমার খুব কাছে এক বন্ধুর একন্তই নিজের কিছু কথা বলতে আমার এই পোষ্ট, যদিও এটি আমার প্রথম পোষ্ট। গত দু'বছর যাবত আমি আমার এক বন্ধুর সাথে আছি, প্রতি রাতেই প্রায় ২/৩ ঘন্টা আমি শুধু চুপচাপ তার কথা শুনি। সে বলে, আমি শুধু শুনে যাই। হয়তো তার এই কথাগুলো সে কোনদিন কাউকে বলতে পারেনি। কথাগুলো তার নিজের জীবন নিয়ে। এখানে আমি আমার বন্ধুর ছদ্মনাম 'প্লাবন' ব্যবহার করে কথা গুলো বলবো। জানি একটি পোষ্টে সবটুকু শেষ করা যাবেনা।
একটি ফটো স্টোরি: প্রথম পর্ব
প্রথমেই বলে নিই, বিশখানা ছবি আছে, সুতরাং একটু সাবধানে। রোজার ঈদের সময় বগুড়া গিয়েছিলাম। সেখানে কয়েকদিনের জন্য ছিলো শুধুই দিনে ঘুরা-ঘুরি আর রাতে বয়েজ পার্টির বন্দোবস্ত। ব্যপক একটা ট্রিপ হইসিলো। এইরকম সুযোগ আমি জীবনে আরো অসংখ্যবার চাই।
১. এইটা কিসের ছবি বলেন।

২. তোমার জন্য আলো হব, বাতাস হব শিহরণে/ ভেজা বৃষ্টির বান হব ছায়ার আবরণে। রাস্তার মইধ্যে কি জুক্স!

৩. যাত্রাপথে জ্যাম ছিলো ভয়াবহ।

হাসপাতাল নিবাস ও কয়েকটি টুকরো ঘটনার সমাপ্তি
গত রোজা থেকে এই কোরাবানি ঈদ পর্যন্ত হাসপাতালের গল্প আসলে অসংখ্য। সব যদি লেখা শুরু করি তাহলে হয়তো কিছু কিছু বাংলাদেশি চ্যানেল গুলোর ঈদ আয়োজনের মতোই অতিরিক্ত বেদনাদায়ক হয়ে যাবে। কারো কষ্টকে সামনে এনে নিজে আরো কষ্ট পাওয়ার চেয়ে এগুলোর মাঝে জমে থাকা অন্য কিছু গল্প নিয়েই হাসপাতাল নিবাস।
নানু তো হাসপাতালে আছেন বহুদিন। আমাদের মোটামুটি অভ্যাস হয়ে গেছে নানুর হাসপাতালে থাকার বিষয়টি। রেডিও থেরাপি এবং কেমো থেরাপি চলছে সমান তালে.. হাসপাতালের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের খুব কাছের আত্মীয় বলে নানুর সেবা চলছে চমৎকারভাবে। তা নাহলে ইতিহাস বলে এদেশের "হাসপাতাল" ড. হুমায়ুন আহমেদ-ড. জাফর ইকবাল- আহসান হাবীবের মাকেও সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়!!
আলোর মিছিল চাই- চাই আলোকিত মানুষ- বিসাকে কলেজ কর্মসূচি ২৫ বছরপূর্তি
নিজের নদী সবার থাকে। কেউ চায় সেই নদীতে ভেসে যেতে, কেউ চায় স্রোতের টানে ভেসে আসা খরকুটোকে সম্বল করে নতুন গতি বেছে নিতে। চিরায়ত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন ধারাকে অবলম্বন করাটা অনেকেরই কাছেই অসম্ভব। আর সেই না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় নানা রকমের আফসোস। আর ভাবে আমার দেশ কেনো এমন নেই, কেনো ওমন হলোনা! অথচ জীবনকে নতুন গতি দেয়ার, নিজের মতো করে চালানোর যে আলোকিত পথ সবাই খোঁজে, তা কিন্তু ছিল চোখের সামনে।
ছিলেন, আছেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আর ইন্দিরা রোডের ছোট্ট একটি কামড়া থেকে আজ বাংলা মোটরের আকাশ ছোয়া বাড়িতে যে স্বপ্নের কারখানা, তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
পদ্মার ঢেউরে .....
এখন আমি পদ্মার বুকে । কিন্তু কোথায় সে ঢেউ ! কোথায় সে ঘূর্ণাবর্ত আর কাদা গোলা ঘোলা পানি ! টলটলে সবুজাভ শান্ত নীর, স্পীড বোটে বন্ধুদের নিরাপদ নৌবিহার । আরও ঘন্টা খানিক পরে মাওয়া ঘাটে ফেরী ভিড়বে বলে সময় মাপছিলাম । কি যেন কি হল, টেনে বের করলাম এই ম্যাজিক বক্স । আমার কাছে এখনও পর্যন্ত এটা তাই-ই ।
ফেরী তো নয়, নয়রে ভাই, এ যে দেখছি গাদা বোট ! যে কোন দূরপাল্লার যাত্রায় অতি প্রয়োজনীয় টয়লেট এতে আছে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম - খোঁজ করে পাওয়া গেল । ইউরিয়ার গন্ধসমৃদ্ধ অতিক্ষুদ্র পানিবিহীন অত্যান্ধকার একটি পিচ্ছিল প্রকোষ্ঠ । প্রয়োজনে সেটিই মনে হল সকলকে স্বর্গসুখ দিচ্ছে । বাস, কার, পিকআপ, মোটর সাইকেল, রিক্সা, রিক্সাভ্যান, বিভিন্ন জাতের ফেরিওয়ালা, ডাব-আপেল বিক্রেতা আর জনতার ভিড়ে এ এক অন্য জগৎ ।
দু’টি মানুষ
দু’টি মানুষ চোখে চোখ রাখলেই
দু’টি মানুষ একযোগে হেসে উঠলেই
দু’টি মানুষ চেনাজানার ঝাঁপি খুললেই,
সম্পর্কের আকিকার প্রয়োজন।
তাদের বন্ধু হতে আয়োজন,
কখনো দেয়াল ঘের দিতে চায় স্বজন
কখনো বা তারা করে রাখী বন্ধন।
দু’টি মানুষ মুছতেই পারে একে অন্যের
অশ্রু অথবা জল
দু’টি মানুষ হতেই পারে একসঙ্গে
শোকে কিংবা সুখে বিহ্বল!
দু’টি মানুষ কোন সংজ্ঞায় পড়ে না
থাকতেই পারে এমনভাবে সম্পর্কিত
হোক তা বিরল,
দু’টি মানুষ হতেই পারে সহযোদ্ধা,
শুধু তাদের রয়েছে লড়াইয়ের ভিন্ন ভূ-গোল।
(১৯.১১.১০)
চমৎকার এক আড্ডার কাহিনী
ঈদের তিনদিন বন্ধ। সাথে এক শুক্রবার। ফলে সবমিলিয়ে ৪দিন বন্ধ। আর শনিবার যাদের অফিস করতে হয় না, তাদের অবস্থা আরও ভাল। তারপরও কথা থাকে। টানা চার-পাঁচ দিন ঘরে বসে বসে টিভি দেখা সহজ না। হয় টিভি দেখতে হবে, না হয় বউ দেখতে হবে। আমরা যারা বউদের ভয় পাই না এবং বউ কিছু বললে চুপচাপ থাকি তাদের পক্ষে টানা ঘরে বসে থাকা আরও কঠিন।
এদিক থেকে এবির একটা ভাল অভ্যাস আছে। এবির লুকজন আড্ডা মারতে বড়ই ভালবাসে। এদিক থেকে রায়হান ভাইয়ের উৎসাহ বরাবরই (লুকটা কেন যে ঘরে থাকতে চায় না?)। আর মেসবাহ ভাইয়ের ব্লগার হওয়ার একমাত্র যোগ্যতাই হল তার ওখানে আড্ডার একটা ভাল জায়গা আছে।
মাহীনের গরুগুলো...
তখন বয়স আর কতই হবে... দশ কি এগারো... আমি আর চাচাতো ভাই রাসেল ক্রো বইসা বইসা আমগাছের ছায়ার নীচে ব্যাং নিয়া খেলতাছিলাম... ব্যাং কাকু রে ধইরা তার চার হাত পা চারটা কন্চি দিয়ে পেরেক মারার মত কইরা মাটিতে আটকায়া দিলাম ... সে এক তুমুল মজার কাজ... শখত মামা (আসলে উনার নাম শওকত) রে ডাক দিয়া নিয়া আসলাম মজা দেখার জন্য... সে আইসা উল্টা আমগোরে ঝাড়ি মাড়ি দিয়া ব্যাং রে ''খ্রীষ্টের সম্মান '' লাভের হাত থিকা বাচাইল...
ব্যাং তো ছাড়া পায়া বাইচা গেল... কিন্তুক আমাদের এন্টারটেইনমেন লস টা পোষাইব কেডা ?!!! লস পোষানোর লিগা শখত মামারে বাধ্য করা হইল আমাদের দুইজনরে কিচ্ছা শোনাইতে... শখত মামার ছিল কিচ্ছার অফুরন্ত ভান্ডার... আর কিচ্ছা শেষে মাঝেসাঝে মহামূল্যবান দুই একটা শিক্ষা... তো মামা রাখাল রিলেটেড এক কিচ্ছা কয়া শেষে যে শিক্ষা টা দিল তা হইল মহিষ চুরি করা উচিত না... কারণ মহিষ নাকি খুব জোরে জোরে হাটে... নিশুতি রাতের বেলা তাই মহিষের ক্ষুরের আওয়াজে চাইরদিক ভাইংগা পড়ে... তাই চোরের কপালে উল্টা মাইর জোটে!!! শখত মামার কাছ থিকা মওকা বেমওকায় ইরাম জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা আরো বহুত পাইছি...
শখত মামা মনে হয় এই কিচ্ছা আরো অনেকেরে শুনাইছে... তাই গ্রামান্চলে মহিষ চুরি কম, গরু চুরি বেশী হয়... ইরামই এক গরু চুরির মামলা উঠল এডিশনাল জজের আদালতে... এই জজ আবার বহুত পাকনা জাজ.. অনেক মামলা নিপটায়া আসছেন বিধায় মামলার বিষয়বস্তু, অভিযোগের ধরণ শুইনাই মামলার মেরিট বুইঝা ফেলেন... যাউগ্গা... মামলার অভিযোগ এই যে আসামী লাল মিয়া নাকি মতি মিয়ার তিনটা হালের গরু গাপ কইরা দিছে!!! কোর্টে মামলা শুরু হওয়ার পর আর কেউ মুখ খোলার আগেই এডিশনাল জজ মুখ খুললেন... তিনি কৃষকরে কইলেন, ''ঐ ব্যাটা তুইতো মিথ্যা মামলা করছস!! ইডাতো সাজানো মামলা!!''
- ''হিককক ... এইডা কি কন??!!!''
- হ, এইসব ক্যারফা অনেক দেখছি... আজকাল মামলা দেইখলেই বুঝতাম পারি কোনটা সিরিয়াস আর কোনডা ফাও
- কিন্তু ইডাতো স্যার জেনুইন কেস... সে তো আমার গরু সত্যই চুরি করছে
- আরে রাখ তোর জেনুইন কেস!!! সারা দুনিয়ার সব গেরস্তের দুইটা কইরা হালের গরু থাকে; এই পয়লা তোরে দেখলাম যার তিনটা হালের গরু আছে... তোর সাজানো মামলার শুরুতেই দুইটার জায়গায় তিনটা গরুর অভিযোগ কইরা ভুল করছস রে গাধা
অনাদি আদি
আনন্দ অন্তহীন অসীম, বিস্তৃত আদিগন্ত
উথাল-পাথাল দুঃখ অনন্ত সীমাহীন,
পারেনা কেউ আটকাতে কোন কিছু দিয়ে -
কমাতে পারে যে সময়, তা বহে নিরন্তর ।
অন্তর অনন্তর দুমড়ে মুচড়ে হয় ঝুরঝুরে,
ভাঙেনা তবু্ও, যদি তা ভেঙেও হয় চুরমার ।
বারবার আসে ধেয়ে বর্বর বর্বরতা ,
ধেয়ে আসে, আর যায় ফিরে বারবার,
নিয়ে আসে দিয়ে যায় রেখে যায় অজস্র সংঘাত ।
সদানন্দ হাসিমুখ আর বেদনা বিধুর হৃদয়
আবেগ আর বেগ দিয়ে একত্রিত একাকার,
শান্ত-অশান্ত মিশেল - দূরন্ত-দুর্মর
গোঁজামিল নহে তাহা মিল-অমিলের;
তবে যে তা কি, বুঝাবে তা’ কে, কিবা দিয়ে ।
কোরবানীর বাণী
গতকাল সন্ধ্যায় ঈশান মাহমুদের বাসায় গেলাম। বাসার সামনে বড়সড় একটা কালো গরু। ঈশান পরিবার পরিজন নিয়ে গরুর সাথে ফটোশেসনে ব্যস্ত। ১২/১৩ ঘন্টা পরেই গরুটাকে জবাই হবে। ডিজিটাল ভালবাসার স্মৃতিটুকু ধরের রাখার প্রচেষ্টা। কোরবানী জন্য কালোগরুর এত কদর কেন বলতে পারেন কেউ।
বন্ধু শাহাদত উদরাজী, কোরবানীর ছুরিটা একটু সামলে রাখো, কারন ইদানীং তোমার স্বল্প স্পর্শেই উত্তেজিত হবার প্রবনতা বেড়েছে, এই মন্তব্য তোমাকে আরো উত্তেজিত করতে পারে। এইডস্ বিষয়ে সতর্ক করার প্রচেষ্টা কি - ব্লগে লেখার অনুপযুক্ততা প্রমান করে। এইডস শব্দটা কি এবি তে নিষিদ্ধ কোন শব্দ? অন্যান্য বন্ধুরা কি বলেন? জরায়ু মুখের কান্সার নিয়ে তুমি লিখতে পারলে আমি এইড্স্ নিয়ে কেন লিখতে পারবো না। একজন যুবক ইন্ডিয়ার হোটেলে হোটেলে ৫টা রাত কাটিয়ে এলো- সেই মানুষটাকে এইড্স্ নিয়ে সচেতন করাটা একটা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ঈদের আগের রাতে তোমার বউএর চেপে ধরা ছবিগুলো দেখে মনে হলো বউএর চাপাচাপি বেশ ভালই উপভোগ করেছ।
যে কোন ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে। তোমার চোহারা আজকাল যা হচ্ছে না! কি মিষ্টি চোহারা ছিল আর কি বানিয়েছ!
ভাবী ফেসিয়াল ট্রেনিংটা কোথায় শিখেছে একটু জানাইও তো। বউকে পাঠাবো।
মেযবাহ য়াযাদ কোরবানী করছেন না জেনে গরু সমাজে খুশীর বন্যা। একটা গরুর অন্তত প্রানে বাচলো। গরুটি নিশ্চয়ই রোদ্দুর আর সমুদ্দুর এর গর্বিত পিতার জন্য খাশদিলে দোয়া করবে। গরুরা নিস্পাপ তাদের দোয়া কবুল হবার সম্ভবনা ১০০%।
মাংস কাটা পেনডিং রেখে লেখাটা শুরু করেছিলাম, ডাক পড়েছে- অতএব আজকের মতো ইতি।
আজ ঈদের এই সকালে তাই- সবার জন্য বিএনপি আওয়ামীলীগ মুক্ত ঈদের শুভেচ্ছা।
কোরবানীর গরু!
কাল কোরবানীর ঈদ। বড় রাস্তার পাশে আমাদের অফিস। মাঝে মাঝে পাঁচ তলা থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়াই। মানুষ দেখি, মানুষ দেখার মত মজা এই দুনিয়াতে আর নাই। আজ অনেকক্ষন গরু দেখে এলাম। ভাই কত? ভাই কত? অনেক গরুর দাম জিজ্ঞেস করে অনেকে বিরক্ত করেছি মনে হয়। প্রতিশোধ! ছোট বেলায় আমাকেও এভাবে গরু নিয়ে যেতে হয়েছে বহুবার, অনেকবার। আমিও দাম বলতে বলতে গরুর সাথে দৌড়েছি অনেক! আজ গরুর দাম অনেক সস্তা মনে হচ্ছে, গতকালের তুলনায়। গতকালকেও অনেকের কাছে দাম জেনেছি।
আমার মনটা ভাল নেই। আজ অফিস করছি, কাল ঈদের দিনেও আমাকে অফিস করতে হবে! তবে এই অফিস করাটা আমি মেনে নিয়েছি। আমি একা নই, প্রায় বারশত লোকবল আমরা অন্যের সেবায় কাজ করব - ঈদের দিনে, এ আনন্দ বলে শেষ করা যাবে না। আজকাল অফিসে থাকতেই ভাল লাগে। মানুষ অভ্যাসের দাস! মানুষ কি না পারে! প্রথম প্রথম দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, নাইট ডিউটি সহ শুক্রবারে অফিস করা ভাল লাগত না। আজকাল ভালোই লাগে। অফিসে থাকলে টাকা পয়সা খরচ হয় না। নানাবিধ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। খালি সালাম আর সালাম পাই, মাঝে মাঝে সালাম দিতেও হয়! তারপর সারাদিন এয়ারকুলার! কি মজা রে! কেমন খাসা চোহারা হয়ে যাচ্ছে!
চোহারার কথা যখন উঠল, তখন বলেই ফেলি। যে কোন ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে। তোমার চোহারা আজকাল যা হচ্ছে না! কি মিষ্টি চোহারা ছিল আর কি বানিয়েছ! মাথার চুল পড়ে, দুই চাপা ফুলে আমি নাকি আফ্রিকান গুলতি মাছের মত হয়ে যাচ্ছি! গুলতি মাছটা আমিও চিনি না, চিনতে চাইও না! আমি বলি, অফিসে বড় সাহেব হয়ে যাচ্ছি, ধাপে ধাপে এগুচ্ছি! পেট সহ গালগুল একটু মোটা না হলে কি চলে? আপনারাই বলেন বাংলাদেশে প্রাইভেট কোম্পানীর এমন কোন একটা জেনারেল ম্যানেজার দেখাতে পারবেন, যার ভুঁড়ি নাই! গাদুম ঘুদুম!
আমাদের অফিসের সিংহভাগ ম্যানেজারদের পেট! মাশাআল্লাহ! হাতী চালান হয়ে যাবে! ডাইরেক্টর সাহেবদের কথা ছাড়েন। এই যে ধরুন আমাদের মিডিয়া কোর্ডিনেটর! যিনি আমাদের নানা সাংবাদিক বিপদ থেকে বাঁচান। মাশাআল্লাহ, কম পেট বানান নাই! আসলে আমার কি দোষ, আমি এদের সাথে থাকতে থাকতে!
কোন দিকের কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি! যা বলছিলাম, আজ ঈদের আগের রাত! বিবাহিতদের জন্য বিশেষ ভালবাসা নিয়ে আসে! যা বলছিলাম আগে, আমার বউয়ের কথা - ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে! আপনাদের না দেখিয়ে আর পারছি না। দেখুন -
জীবন যেখানে যেমন (শেষ পর্ব)
ঘুমের মধ্যেও যেনো আজকাল গানের শব্দ পায় রেনু, ঘুমোলেও আজকাল নাচের মাষ্টারমশায়কে স্বপ্নে দেখে সে। মাস্টারমশায় যেনো এক দুই তিন বলে নাচের প্র্যাকটিস করাচ্ছেন সব বাচ্চাদেরকে একসাথে, আর তারা সবাই ভীত মন নিয়ে প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে। একটু ভুল হলেই গালাগালির সাথে আছে মার আর তার চেয়েও বড় ভয় হলো কাজ থেকে বের করে দেয়া। আর কাজ না থাকলে তারা খাবে কি? এমনিতেই তার স্বাস্থ্য খারাপ দেখে কাজ দিতে চায় না তাকে বেশী কেউ। সিনেমায়তো আর তার মতো রোগা পটকা চেহারার বাচ্চার তেমন দরকার হয় না, দরকার থাকে সুন্দর সুন্দর গোলগাল চেহারার বাচ্চাদের। কিন্তু নাদুস নুদুস চেহারা কোথায় পাবে রেনু?
আজাইরা দিনপঞ্জী.... ১৪
আমি এই বছরটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশায় দিন গুণছি। কিছু দিন আগে দেখা একটা পপুলার হিন্দি মুভির প্রোটাগনিস্ট প্রার্থনা করছিলো এই বলে যে, '' অনেক এক্সাইটমেন্ট হয়েছে প্রভু, দোহাই লাগে এইবার বাকি সময়টা বোরিং বানিয়ে দাও।'' আমার খানিকটা ওইরকমই অবস্থা। নিজেকে ছাড়া তো এক্সপেরিমেন্ট করার কেউ নাই, কিছুদিন তাই নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখে দেখছিলাম কোথায় কেমন করে কি হচ্ছে। একটা অনেক পুরনো সত্যি কথাই কেবল টের পেলাম নতুন করে, কোন কিছুই কারো জন্যে কোথাও আটকে থাকেনা। আমি যদি নাই হয়ে যাই সেইটা একটা বিশাল স্পেসে একটুখানি ছোট্ট ঢেউ হয়ে মিলিয়ে যাবে, আমার যতো গুরুত্ব সেইটা নিজের কাছেই। আর ব্যাপারটা সবার জন্যে একইরকম।
এক বোকা নানার বোকামী - ৩
(পাঁচ)
প্রতীক্ষার প্রহর আর শেষ হয়না । দুঃখের সুদীর্ঘ নিশি শেষ হয়ে প্রভাতের আলোর অপেক্ষায় সময় অতিবাহিত হতে থাকে । এরই মধ্যে নানা খোঁজ পায় Walk for Life নামের একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের । এ প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার কাছে নানা পাঠায় তার অশ্রুভেজা বার্তা আরীবের ছবিসহ ।
“সুহৃদয়েষু সাকিনা সুলতানা, একটি মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন সে জন্য আপনাকে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক অভিনন্দন । অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাঃ কোবাইদুর রহমানের কাছে আপনাদের মহতী কর্মযজ্ঞের বিষয় জানতে পেরে আপনাকে বিরক্ত করা অযৌক্তিক হবে না বলে মনে হলো । শিশুর কান্না স্বর্গীয় ও সুষমামন্ডিত, কিন্তু বৃদ্ধের কান্না বড্ড অশোভন ও অসুন্দর । তাই আপনার মোবাইল নম্বর জানা সত্ত্বেও কথা বলতে ভরসা পাচ্ছিনা । কানেও তো ভাল শুনতে পাইনা, তাই সামনাসামনি কথা বলতেও দ্বিধা আমার ।
এবার কাজের কথা । একটি শিশু, তার নাম আরীব (AREEB) । আজ তার বয়স ১ বছর ৮ মাস ১৮ দিন । জন্ম অবধি সে পৃথিবীর আলো দেখেনি । বাতাস তাকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিতে ব্যর্থ হয়েছে । এখন তার ওজন ১০ কেজি । ছেলেটির হাত ও পা যথাযথ কাজ করেনা । খাবার চলে যায় শ্বাসনালীতে । এ বয়সে ৪ বার নিউমোনিয়ায় ভুগেছে । মাথাটি ছোট । অর্থহীন শব্দ ছাড়া কোন কথা মুখে আসে না । আরীবের মেরুদন্ড ও ঘাড় শক্ত হয়নি, সে বসতে পারেনা, হাঁটার তো প্রশ্নই ওঠেনা । শ্রবণযন্ত্র ব্যতীত তার কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক নয় । এমন একটা শিশুকে এ পৃথিবীর সম্পদে পরিণত করা কি সম্ভব ? Walk for Life কি তার জন্য কিছু করতে পারে ?
তাকে নিয়ে আমার একমাত্র মেয়ের জীবনটা ব্যর্থ হতে চলেছে । সাংসারিক, সামাজিক, আর্থিক, মানসিক সব কিছুতে আরীবের অস্তিত্বের ছাপ পড়ে সব কিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে । আমি শুরু থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি । ফল হয়নি কিছুই । আমি ব্যর্থ ; আমার অক্ষমতা সীমাহীন । আপনি কি আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা আমাকে দিবেন ? উত্তরের প্রত্যাশায় রইলাম।” নানার এ প্রত্যাশাও পূরণ হয়না, কোন উত্তর আসেনা ।