ইউজার লগইন
ব্লগ
দীর্ঘশ্বাস
আমার কবিতার
খাতা হারিয়ে গেছে কোথাও। অনেকদিন
কিছু লেখা হয় না। সাদা পাতাগুলোর
দিকে তাকালে মায়া হয় নিজেরই। তাই
গল্প খুঁজতে বসি প্রতিদিন। রাস্তার
পাতায়, শহরের খাতায়। গল্প
জমা হয়ে আছে অনেকগুলো। সকালের গল্প,
বিকেলের গল্প,অনেকগুলো গল্প রাতেরও।
সব গল্পের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি ভাবি কোন
গল্পটাকে নিয়ে ভাববো। আর সব
গুলিয়ে যায়। বিলুর ঘুড়ি ওড়ানো থেকে শুরু
করে লতা মাসির কাজ করা- গোটা দিনটাই
তো গল্প। শুধু বাঁধুনি নেই শব্দের। তাই
শেষ অবধি পড়া হয় নাহ। পড়া না হওয়ার
দরুণ শেষটা খুঁজতে আমরা দৌড়ই অকারণ।
শেষটা পাই নাহ। আকাদেমি অফ ফাইন
আর্টসের বন্ধ গ্যালারির সামনের রাস্তায়
দাঁড়িয়ে আকণ্ঠ ভিজি। আর ঠিক বিপরীত
মুখে কোনও এক আলোর শেডের উপর
বসে থাকা কাক সঙ্গী হয় আমার। আকণ্ঠ
ভেজে সেও। আমারই মতন। অথবা আমার
চেয়ে বেশি। বৃষ্টি থামার
মুহূর্তে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নাহ।
শুধু গল্পটা থাকে। ট্রাফিক পুলিশের
সিগন্যাল
পেয়ে ডোরাকাটা ক্রসিং পেরোনোর মত
গল্প। যে গল্পে অল্প দূর দিয়েই হাত
ধরে দুজন হেঁটে যায় আর নায়ক একা থাকে।
বোধয় নরম বিকেলের হাত ধরতে। রোদ
এসে নরম ভাবটা মুছিয়ে দেওয়ায় নায়ক
হায় ব্লগিং...
এখন টকশোতে নতুন টপিকস... ব্লগার - বলগার - বোলগার... এটা দিয়ে নাকি ইন্টারনেটে ঢোকা যায়। এরা সব নাস্তিক... এদের পেছনে এরম আক্রমণ ক্যান?
ব্লগাররা কারো নুন খায়না... সেই কারণে কারো গুণ গাওয়ারও দরকার পরে না... কারো ধারও ধারে না তারা। ভাবনায় শুধু দেশ এবং দেশের মানুষ... আর এই কারণেই ব্লগাররা অনেকের চক্ষুশূল... সে হোক না কোন রাজনৈতিক দলের নেতা অথবা ধর্মীয় নেতা অথবা ফেসবুক সেলিব্রেটি।
ব্লগাররা চোখে আঙ্গুল দিয়ে সব দেখাইয়া দেয় কেনু? কেনু? কেনু?
আর এই জ্বলুনির কারণে সকল তিড় এখন ব্লগারদের দিকে
... দেখা যাক কতদূর যায়...
যেই কীবোর্ড আমরা সমাজের অন্ধকার গলি ঘুপচি জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য হাতে নিয়েছিলাম... সেই কীবোর্ডের কারণে জেল খাটতে হয় আমাদের। জনসম্মুখে আমাদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আবার আমাদের বলা হয়, তোমাগো লাইগ্যা এই সরকার ছাড়া কোন উপায় নাই... এই সরকারকে ক্ষমতায় না আনলে ব্লগারগো কেউ আস্তা রাখবে না। মানুষের কি মিনিমাম ভব্যতা বোধও নেই... এত অসভ্য হয় কীভাবে? কথা শ্রী দেখলে গা জ্বলে রাগে।
বিলাসী (২০১৩) - শেষ পর্ব
অবশেষে একদিন আন্দোলনের সহিত মিশিয়া গেলাম। সবাই বলাবলি করিতে লাগিল, হ্যাঁ, ন্যাড়া একজন গুণী লোক বটে। এত দ্রুত আন্দোলনে মিশিয়া যাইতে দেখিয়া সকলে বাহবা দিতে লাগিলো।
শ্লোগানের মাঝে মাঝে চোখাচোখি হইলে বিলাসী একখানা স্মিত হাসি দিতো। আসল কথা হইতেছে আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য একাত্ম হইয়াছি। খাইয়া না খাইয়া দিন-রাত প্রজন্ম চত্বরে পড়িয়া রহিয়াছি।
আমাদের এরূপ অবস্থা যখন চলিতেছে ঐদিকে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ো গেল গেল সব গেল বলিয়া কলরব করিতেছে। তিনি সমাবেশ ডাকিয়া সকলকে বুঝাইতে লাগিলেন ইহা নাস্তিক দের মিলনমেলা, শাহবাগে সকল প্রকার খারাপ কাজ হইয়া থাকে। ছেলে-মেয়ে একত্রে মিলামিশা করিতেছে, উহারা গাঞ্জা মদ খাইতেছে । এখানে কেহ ধার্মিক নহে। খুড়োর কথায় কেহ কেহ সায় দিয়া কহিলো - তাহা হইলে শাহবাগ বন্ধ করিতে হইবে বৈকি ! । এরূপ তো চলিতে দেয়া যায়না। দেশ জাতি ধর্ম সব উচ্ছন্নে যাইবে। ৪২ বছর আগের বিষয় নিয়া রাস্তা বন্ধ করিয়া এরূপ তো চলিতে পারে না ।
পায়ের ধুলো নেই-১১
স্যার ফুল নিবেন? তাজা গোলাপ ফুল। মাত্র বিশ টাকা।
দুই তোড়া ফুলসহ নিজের মাথা গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে জানতে চায় মেয়েটি। বয়স কত হবে ? বিশ বা বাইশ। কোলে শিশু। শিশুটি মাথায় ছোট ছোট চুল তেল দিয়ে ল্যাপ্টানো। মেয়েটির চুল বেণী করা। সেই বেণী ঝুলিয়ে দেয়া আছে মাথার দুদিকে। একদিকের বেণী আঁকড়ে আছে শিশুটি।
গাড়ি মানে বাংলাভিশনের গাড়ি। আট ঘণ্টা ডিউটির ক্লান্তি দূর করতে মিশে আছি সিটের সঙ্গে। মেয়েটির বয়স বেশি বলে কৌতুহল একটু কম। আট দশ বছরের কেউ বা কোন কিশোর বা কিশোরী ফুল বেচতে এলে তার কৌতুহলের কমতি থাকে না। প্রথমে তারা জানতে চায় ফুল কিনবো কি না? তারপর উঁকিঝুঁকি দেয় নায়ক-নায়িকা দেখার আগ্রহ থেকে। তাদের কাউকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়। তারপর দুয়েকটা মন্তব্য করে কেটে পড়ে। তাদের খাতায় বাকী দেয়া বলে কিছু থাকে না। পনের টাকা দাম চাইলে দশ টাকায় কেনা যায়। সে অভিজ্ঞতা এখন আর মিলছে না। মেয়েটার কৌতূহল কম কিংবা সন্ধ্যার অন্ধকারে বুঝতে পারে না এটা টিভির গাড়ি।
নিবেন? তাজা আছে।
কনফেশনের এই দুনিয়ায় কেউ কারো নয়!
কনফেশন ও সিক্রেট পেইজ গুলা নিয়ে এখন ফেসবুকে যে গজব চালু হয়েছে তা সমন্ধে আমি প্রথম জানি ১০-১১ দিন আগে সকাল বেলা হাটতে গিয়ে ছোট ভাই সাইফের মুখে শুনে। সে বলতেছে যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান পোলাপান কি সব কনফেশন পেইজ লিখতেছে তার বয়ান। সাত সকালে এই সব ফাউল প্যাচাল শুনতে আমার ইচ্ছা করে নাই। তাও যা বুঝলাম ওখানে ছেলে মেয়েরা কনফেশনের নামে একে অন্যের ক্রাশ ও প্রপোস করার ধান্দা করতেছে। আমি সাইফরে কইলাম তুমিও একটা পোস্ট দাও যে ' হে প্রিয় লম্বু তুমি আমার খুব ভালো বন্ধু। তুমি এয়ার কমোডরের ওই পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ ফেরত নসু হাওলাদারের চকলেট বয়কে ছাড়ো আমি তুমার প্রেমে হাবুডুবু'। সাইফ আমার কথায় হেসে বলে উঠলো শান্ত ভাই আপনার একটা প্রিয় গান আছে আমাকে আমার মতো থাকতে দাও তার একটা লাইন আছে যেটা ছিলো না ছিলো না সেটা না পাওয়াই থাক/ সব পেলে নষ্ট জীবন। আমার আর লম্বুরে দরকার নাই। একা একাই প্যারা খাই। আমি বললাম খাও একাই। কি আর করবা!
ব্লগ এবং ব্লগর ব্লগর
লিখতে তো বসলাম। মনে যে কত কথা, কত ক্ষোভ, রাগ, হতাশা, অস্থিরতা! কিন্তু সব কথা বলার মতো অবস্থা বোধ হয় এখন আর আমাদের নেই। অস্থিরতা, অনিশ্চয়তায় কাটছে আমার মতো অনেকেরই দিনকাল। দিন দিন বদলে যাওয়া মানুষ, পরিস্থিতি, সময় সবকিছু দেখে হতাশা বাড়ছে দিন দিন, খুবই ব্যর্থ মানুষ মনে হয় নিজেকে। টিভিতে তাকিয়ে দেখি, পত্রিকায় দেখি মানুষ মরছে, গুরুতর আহত হচ্ছে। এসব দেখে চোখে পানি আসে। আহারে আমার প্রিয় দেশ! এই দেশে এমন অস্থিরতা! কিছুই করতে পারি না বলে কি ভীষণ কষ্ট হয়! জানি সেটা আমাদের সবারই হয়।
কিছুদিন আগে সকালে ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম ৩ জন ব্লগার আটক। তাদের একজন রাসেল ভাই। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। যখন নিশ্চিত হলাম সত্যিই রাসেল ভাইকে আটক করা হয়েছে... স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ব্লগে যারা আছে তারা সবাই জানে কি অসাধারণ এক মানুষ রাসেল ভাই! দুর্দান্ত এক লেখক। অসাধারণ এক মানুষ। তাকে কেন আটক থাকতে হবে? জানিনা কেন এমন হচ্ছে, আরো কি হবে! আমাদের কি স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকারটুকুও চলে যাচ্ছে!!!!
ওই দেখো, মানিকজোড় যায়
‘Long, long afterward, in an oak
I found the arrow, still unbroke;
And the song, from beginning to end,
I found again in the heart of a friend.’
―Henry Wadsworth Longfellow
১.
ভুলু বাঁশি বাজায় এবং টুলু পশুপাখি শিকার করে; শিকারী ও বংশীবাদক―দুই বন্ধু।
গাঁয়ের এক কোণায় দুই বন্ধুর দু’টো কুঁড়েঘর; মাটির দেয়াল, শনপাতায় ছাওয়া। দুর থেকে খুব সহজে চোখে পড়ে না―ঘন গাছপালার সবুজ আড়ালে ঘেরা। দু’জনের বয়স কাছাকাছি।
জরির স্বামী টুলু শিকারে যায় আর পরির স্বামী ভুলু বাঁশি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
জরি ও পরি―হরি হর আত্মা; এক অপরকে পছন্দ করে ও ভালোবাসে। তারাও সই পাতায়; বিপদে আপদে পরস্পর কাছে এসে দাঁড়ায়।
সবাই কেনো সবাই হয়ে যায়!
কি নিয়ে লিখবো ভেবে পাচ্ছি না। লেখা দরকার ছিলো অনেক কিছু কিন্তু ইচ্ছা করেনা এই সব দিনলিপির কচলাকচলির একই জিনিস লেখার মুড থাকেনা সব সময় তাও লিখে বেড়াচ্ছি। কতো কিছু ঘটে চোখের সামনে কত নিদারুন এক্সপিরিয়েন্সের ভেতর দিয়ে দিন যাপন,তা নিয়ে যদি গল্প লিখতে পারতাম তাহলে হতো একটা কিছু। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমি মোটেও গল্প লিখতে পারি না। চেষ্টাও করি নি কখনো। আসলে গল্প লেখার একটা ভঙ্গি আছে সেইটাই আমার আসে না। আমার যেটা আছে সেটা হলো উপন্যাস লেখার চেষ্টা করার ক্ষমতা তা নিয়ে বিশেষ ভাবি নাই। কারন সাহিত্য টাহিত্য আসলে এতো সহজে আসার জিনিস না। দীর্ঘজীবনের পড়াশুনা, জীবনকে নিয়ে ভাবার দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষন করা ক্ষমতা থাকতে হয় এবং তা প্রকাশের স্বকীয় ভঙ্গি থাকতে হয় সব কিছু ছাপিয়ে আসলে একটা জন্মগত প্রতিভা থাকতে হয় আমার তা কিছুই নেই। নিজেরে খুব নালায়েক মনে হয় যে প্রতিভাও নাই পরিশ্রমও করতে পারিনা। খালি পড়তে পারি তাও আলসেমী লাগে আর আড্ডাবাজিতে অলস দিন কাটাতে পারি। এর ভেতরে বর্ণ আবার বলছে জলের গান ব্যান্ডের গান গুলা নিয়ে পোস্ট দিতে। এ্যালবামটাই এখনো কিনতে পারলাম না। টাকা পয়সার টানাটানি। লিখবো কি করে?
অন্য কোথাও; অন্য কোনদিন, এইসব দিনরাত্রি.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
একটা সকাল..
বৃষ্টিস্নাত;
স্নিগ্ধ হাওয়ায়,
নীল..।
একটা দুপুর..
তীব্র রোদে;
হাজার মুখোশ,
মন পুড়ে যায়..
তেপান্তরের,
পথ পানে ধায়..
ছিন্ন কায়া
ভিন্ন ছায়ায়;
মনের মানুষ
আপন মায়ায়,
পথ খুঁজে পথ
পথেই হারায়..।
একটা বিকাল..
ছন্নছাড়া;
গানের তালে,
এক পা দু পা -
হঠাত্ বুঝি;
আনমনা মন,
একলাটি গাঙচিল..।
এক দুটা রাত,
একলা ভীষন..
চোঁখ ধোয়া সব;
আলোর ভিড়েও,
আঁধার কথন..
ক্ষুদ্র প্রাণের;
আহ্বাণে সায়,
এক ফোঁটা জল..
বিসর্জনের মুক্তবায়ে,
আলোর মিছিল..
হারার পরেও;
জয়ের ছলে,
নতুন ভোরের ডাক..।
বিলাসী (২০১৩) - ৪
বছর খানেক গত হইয়াছে। ছাগুর উৎপাত সহ্য করিতে না পারিয়া ব্লগিং এ ইস্তফা দিয়া ফেসবুকে ফিরিয়াছি। একদিন ফেসবুকে নানান প্রোফাইল ঘাটিতে ঘাটিতে হঠাৎ দেখি মৃত্যঞ্জয়ের ছবি। শাহবাগে বসিয়া শ্লোগান দিতেছে। কপালে "রাজাকারের ফাঁসি চাই" লেখা কাপড় লাগানো , হাত মুষ্ঠিবদ্ধ। কে বলিবে এ আমাদের সেই মৃত্যুঞ্জয়! ধীর স্থির ছেলে এরই মধ্যেই জাত দিয়া একেবারে পুরাদস্তুর আন্দোলনকারী হইয়া গেছে। তৎক্ষণাৎ তাহাকে ফ্রেন্ড রিকোসেট পাঠাইলাম।
আমিও শুনিয়াছিলাম শাহবাগে একদল ব্লগার রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে আন্দোলন শুরু করিয়াছে। আশে পাশে অনেকেই গিয়াছে, তদ্যাপি আমি যাই নাই। কী দরকার বাবা !!! গা বাঁচাইয়া চলিতে পারিলেই তো হইলো। নাম ধাম হইয়াছে, টক শোতে যাইতেছি , এখন এই আন্দোলন করিয়া আবার কী না কী ঝামেলায় পড়িতে হয়। আমি ফেসবুকে বসিয়া বসিয়া আন্দোলনকারী দের স্ট্যাটাস দেখিলেই "সাথে আছি" কমেন্ট করিয়া আমার দায় সারিতেছি।
আটককৃত সকল ব্লগারের মুক্তির দাবীতে ফেসবুকের ইভেন্টে সকলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশায়
আটককৃত ব্লগারদের মুক্তির দাবীতে ফেসবুকে "আটককৃত সকল ব্লগারের মুক্তি চাই" নামে একটা ইভেন্ট তৈরী করা হয়েছে। ইভেন্টের কর্মসূচী, বক্তব্য এবং লিং ক নীচে যোগ করে দিলাম। সবার অংশগ্রহণ একান্তভাবে কাম্য।
বন্ধুরা,
আমাদের চারজন ব্লগারকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছে অনেক দিন ধরে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও সরকার তাতে কোনোরকম ভ্রুক্ষেপ করছে না। বরং তারা হেফাজতে ইসলাম নামের একটি ভূইফোড় সংগঠনের দাবীতে সমর্থন দিয়ে ব্লগারদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা পত্র-পত্রিকায় বলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যারা ব্লগারদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই তারা কি পারিনা একদিনের জন্য হলেও আমাদের ফেইসবুক স্টেটাসে আমাদের দাবীটা জানাতে?
আগামী ২১ এপ্রিল রোববার ২০১৩ তারিখে সকাল ৯টায় আমরা একযোগে আমাদের স্টেটাস পরিবর্তন করে "অবিলম্বে আটককৃত ব্লগারদের মুক্তি চাই" বলে ঘোষণা দিতে চাই। আশাকরি সকল সচেতন ব্লগার ও ফেইসবুক বন্ধুরাই আমাদের এই কর্মসূচীতে সমর্থন দিয়ে অংশগ্রহণ করবেন ও বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাবেন।
তারিখ: ২১ এপ্রিল রোববার ২০১৩
রাসেল কেন?
ব্লগে আছি অনেকদিন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে কেবল আমরাবন্ধুতে থাকায় আগের মতো ব্লগের অনেক কিছুই জানি না, বুঝতেও পারি না। অনেককে চিনিও না। যেমন, সুব্রত শুভকে চিনতাম না। তাঁর লেখাও কখনো পড়িনি। তাঁকে প্রথম দেখলাম আটক হওয়ার পর।
ছোট্ট একটা ছেলে। মায়াময় একটা চেহারা। হেফাজতকে খুশী করতে শুভকে আটক করা হয়। একমাত্র শুভকেই ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে উঠিয়ে এনেছিল ডিবি পুলিশ।
সত্যি কথা বলতে আমি আগে আসিফকেও চিনতাম না। আসিফের নাম শুনি প্রথমবার আটক হওয়ার পর। তবে তাঁর ব্লগে গিয়ে কখনো লেখা পড়িনি। কিছু পড়েছি পরে, ফেসবুকের কল্যানে।
বিপ্লবকে চিনতাম, তবে কখনো হাই-হ্যালোর বাইরে কথা হয়নি। কিন্তু তার লেখা খুব ফলো করেছি বলা যাবে না।
খুব ভাল চিনতাম রাসলেকে। রাসেল পারভেজ। তাঁর লেখার আমি একজন কঠিন ভক্ত। আমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফোরামে বলেছি, ব্লগে এমন অনেকে আছেন যাদের লেখার মান অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়েও ভাল। আমার অফিসেও বলেছি। এ কথা বলার সময় আমার মাথায় থাকতো রাসেল। সেই রাসেলও এখন জেলে।
শাশ্বতরা এমনি করে ভালো থাকুক
কাল শাশ্বত আমার অফিসে আসার কথা ছিল। রাস্তায় জ্যামের কারনে আসতে পারেনি। কারওয়ান বাজারে একুশের টিভির সামনে অপেক্ষা করছিল আমার জন্য। অফিস থেকে ওকে দেখতে গেলাম। ওকে দেখে আমি হতভম্ব। জড়িয়ে ধরলাম বুকে।
এই আমাদের শাশ্বত। যে কীনা এখন দিব্যি হাঁটতে পারছে। একা একা চলে এসছে রাজশাহী থেকে। শরীরে এখনও সমস্যা আছে ওর। আগামী মাসে আবার ভেলরে যাবে ডাক্তার দেখাতে। তারপরও ওর চোখে ঝিলিক দিচ্ছে স্বপ্ন। ও একটা পত্রিকায় কাজ করতে চায়। পড়াশুনাটাও চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। আগামী বছরে ওর অনার্স ফাইনাল।
মনে পড়ে গেল রাজশাহীর সেই দিনের কথা। শাশ্বতদের বাড়িতে গেলাম আমরা কজন ব্লগার। ওর চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু টাকা তুলেছিলাম আমরা। সে টাকা দিতেই আমাদের রাজশাহী যাওয়া। তখন কী যে অবস্থা ছিল শাশ্বতর। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতো আর যন্ত্রণায় কাতরাতো। তারপর কত দিন ওর সাথে কথা হয়েছে আমার। কালকেই ওকে প্রথম দেখলাম। আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠলো।
নির্ঘুম কাটছে রাত
ঘুমের ঔষধ খেয়েও নির্ঘুম কাটছে রাত ।
ক্লান্তিতে,
ভীতিতে,
আতংকে,
বোনের মৃত্যুতে,
মায়ের অসুখে,
সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানের কান্না শোনার তৃষ্ণাতে,
অভিমানে
ও নানাবিধ কষ্টে
আমার অনেক ঘুম জমা আছে ।
এসব ঘুমের বিনিময়ে আমি বানাবো কবিতা ।
কবিতা পুড়ালে সেই অগ্নিতে স্নান করে মায়কোভস্কি হবো।
মৃত্যুই হবে আমার শেষ অভিমান ।
মৃত্যুর অপচয় থামাই:: শাশ্বত এবং রাসেলকে নিয়ে ...
অনিবার্যকে উপেক্ষা করে মানুষের বেঁচে থাকবার লড়াই চিরন্তন। কিছু কিছু সংগ্রামী মানুষের দৃঢ়তা দেখে শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়।
আজ শ্বাশত সত্যকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদন পড়ে শ্বাশত সত্যের সংগ্রাম দেখে শ্রদ্ধায় অবনত হলাম। মৃত্যুকে অবজ্ঞা করে তার বেঁচে উঠবার লড়াইয়ে সঙ্গী হতে অনুরোধ করতে পারি। কাউকে বাধ্য করতে পারি না।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মরিয়া মানুষ অসম্ভবের ডানায় ভর করে বেঁচে উঠবার স্বপ্ন দেখে। মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পারে শুধু মানুষ।
আমারা সম্মিলিত ভাবে একজন শাশ্বত সত্যকে বাঁচিয়ে তুলতে পারি।

ক্যাম্পেইনে ঋককে নিয়ে রাসেলের অংশগ্রহন।