ইউজার লগইন
ব্লগ
আমি ক্ষুদ্ধ... হতাশ সরকারের আচরনে...
কি যে লিখি.. কি যে লিখবো... বুঝতেছি না ... পুরাই তব্দা মাইরা আছি... কষ্টটা গলার কাছে আটকাইয়া আছে... গিলতেও পারছি না ... কীভাবে রাসেল'এর সামনে গিয়ে দাঁড়াব? ওর বাচ্চাটার দিকে তাকালে হুহু করে কান্না আসে... নিজের ছেলের কথা মনে হয় ... রাসেলের ছেলে ঋক জানে না ওর বাবার কি দোষ... লেখালিখিই যদি দোষ হয় তাইলে কি ঋক লেখাপড়া শেখা ছেড়ে দিবে? লেখাপড়া শিখে যদি বাবার মত লেখালিখি করতে আগ্রহ হয় তাহলে আবার জেলে যেতে হবে... শুধু কি জেল? আমাদের বাইঞ্চোৎ মিডিয়া গুলো ডিবির প্রেসক্রাইব করা ছবি তাদের মিডিয়াতে প্রচার করছে সমানে। সামনে তাদের প্রিয় কম্পিউটার গুলো। ভাবটা এরম যে, তারা এই কম্পিউটার গুলো চুরি করেছে এবং ডিবি সেইগুলো উদ্ধার করেছে। কি এক অসভ্য দেশে বাস করছি। পুরাই তব্দা মাইরা গেলাম
কয়েকদিন আগে একজন বিচারককে এভাবে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার অপরাধে আদালত খেইপা গেলো... তাও মাদকদ্রব্য সহ হাতেনাতে ধরাপরার পরও বিচারে অপরাধী প্রমানের আগে অপরাধী হিসেবে ছবি ছাপানোর জন্য আদালত পুলিশকে জবাবদিহি করতে বলে।
ইজ্জতের মুল্য ও দাম
কোন এক দেশের সর্বোচ্চ পাহাড়ের নিচে একটা ছিমছাম গ্রাম আছে- নাম দার্জিলিং পাড়া। আট-দশটা পরিবার নিয়ে পাহাড়টাকে মাথায় করে গ্রামটা দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রমনকালে, এখানে আমরা একবার বিশ্রাম নেয়ার জন্য দাঁড়াই, এবং একটুপর একটা বাড়ির পাশের পেয়ারা গাছে হামলা চালাই। যত পারি খেয়ে এবং যত পারি নিয়ে যখন দাম চুকাতে যাব, তখন খুব বিপদে পড়লাম। গাছের মালিক টাকা নেবেনা। কারন, তারা পেয়ারা বিক্রী করে না। তো তারা কি বিক্রী করে? খোঁজ নিয়ে জানলাম তারা খুব টক কি জানি একটা ফল বিক্রী করে। একটা ফল মুখে দিয়ে দেখলাম: জন্মের টক।
ভাবলাম লোকটাকে একটু মার্কেট ইকোনমি বুঝাই। বললাম, "বুঝলেন দাদা, যার চাহিদা আছে, তা বিক্রী করুন। যেটার চাহিদা নাই, তা বিক্রী করা টাফ।"
-কে শোনে কার কথা, ঐ লোক টাকা নিলোই না।
-তার ধারনা সব কিছু বিক্রী করা যায় না।
গ্রামের পাব্লিকতো! এখনো লাভ-লসের হিসাব বোঝে নাই, মানলাম। কিন্তু আমাদের শহুরে প্রতুলকুমারও যদি একই কথা বলে, কেমনডা লাগে! ওনি গান ধরেন: "আলু বেচ, ছোলা বেচ, বেচ বাকেরখানি, বেচোনা বেচোনা বন্ধু তোমার চোখের পানি।" ইত্যাদি, ইত্যাদি।
বাদলা হাওয়ার রাত, হাওয়া বদল গান..
ইদানিং বেশ কিছু গান জমে আছে। শুনেছি তবুও যেন শোনা হয় নি।
কাল মধ্যরাতের কথা হবে। নাহ, আরো বেশ কিছু সময় পরে। বলা যায় প্রায় ভোর, ঘুমাবো বলে শুয়ে আছি।
তখনই শুনেও না শোনা এমনই কিছু গান শুনছিলাম। শুনতে শুনতেই হঠাত্ ঝড়ো হাওয়া আর শিলাবৃষ্টির ঝাপটা যেন আমার ছোট্ট ঘরটাকে মুগ্ধতায় ভরে দিল কোন কথা না বলেই।
খেয়াল করা হয় নি কখন যেন দুইটা গানে ঘুরেফিরে বারেবার হারিয়ে যাচ্ছি। আরো একটু মন দিয়ে শুনবো বলে ভাবতেই হাওয়াবদল নামের একটা মুভির দুটা গান মন পুরো আওলে দিল নিমিষেই।
প্রথমেই অরিজিত্ সিং এর গাওয়া 'মনে পড়লে'। শুনে নিতে পারেন এখানে ।
গানের কথাগুলো এরকম -
মনে পড়লে
অকারন
কাউকে বলা বারণ।রিম ঝিমঝিম
বরষায়
তুই আজ ভেঁজার কারন।মেঘেদের ডাকবাক্সে
তোর চিঠি পৌছে দিলাম।হাওয়ায়
রাতপাখি গান গায়
চোঁখ মুঁছে যায়
রুমালে শুকায়
জ্বরের আরামে
ঘুম এসে যায়।লাস্ট ট্রেন
হলে মিস
তোর কাছে করি আবদার।
ঈশ্বরবাবু আসছেন...
নাটকটা শুরু হয় একস্তুপ জঞ্জালের পাশে বসা দু’জন ভবঘুরের আলাপে-- ভ্লাদিমির ও এস্ট্রাগন। তারা প্রতিদিন এসে বসেন এক মরা গাছের নিচে, বসে অপেক্ষা করেন ঈশ্বরবাবু (Godot) নামক এক ভদ্রলোকের জন্য। তিনি আসবেন তা নিশ্চিত; কিন্তু আসলে কি হবে, কি বলবেন তিনি, কি পাবে দুই ভবঘুরে-- জানা নাই কারও। তারা দিনের পর দিন কাটিয়ে দেন জঞ্জালের পাশে অপেক্ষায় দিনগুনে। তারা নিজেদের মাঝে ঝগড়াঝাটি করে, একে অন্যকে গালাগালি দিয়ে যায়, ছেড়ে যায় একে অন্যকে, কিন্তু পরক্ষনেই আবার মিটমাট। সেখানেই তারা হাসে, কাঁদে, গান গায়, প্রাতঃকৃত্য সারে। খালি মাঝে মাঝে একজন বলে উঠে, “ধুর বাল, চল গলায় দড়ি দেই এরচেয়ে।” অন্যজন তৎক্ষণাৎ মনে করিয়ে দেয়, “তবে ঈশ্বরবাবু যে আসছেন...।” "ও হ্যাঁ হ্যাঁ। অপেক্ষা করতে তো হবে”- বলে আবার শুরু হয় তাদের কালক্ষেপন।
বিলাসী (২০১৩) - ১
পাকা ২ ঘন্টা বসিয়া ব্লগ লিখিতে যাই । আমি নই, কয়েকশত জন। যাহাদেরই বাটী কিংবা অফিস এরুপ আইটি পল্লী তে তাহাদের সকলকেই এরুপ করিয়া ব্লগ লিখিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহার হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে , সকাল বিকাল ৪ ঘন্টা বসিয়া থাকিয়া ব্লগ লিখিতে হয় তাহাই নহে, ঢেড় বেশী - বারে বারে কানেকশন কাটিয়া যায়, আন্তর্জালের গোলাকার চাকতি ক্রমাগত ঘুরিতে দেখিয়া , মশক দংশন সহিয়া, একনাগাড়ে বসিয়া ব্লগে যাইতে হয় সে দুর্ভাগা বালকদের মা-সরস্বতী খুশি হইয়া বর দিবেন কি, তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া কোথায় যে তিনি মুখ লুকাইবেন, ভাবিয়া পান না।
তাহার পরে এই কৃতবিদ্য ব্লগারের দল বড় হইয়া একদিন ব্লগেই বসুন, আর ফেসবুকেই যান —তাঁদের চার-ঘন্টা ব্লগিং এর তেজ আত্মপ্রকাশ করিবেই করিবে। কেহ কেহ বলেন শুনিয়াছি, আচ্ছা, যাহাদের লেখার জ্বালা, তাহাদের কথা না হয় নাই ধরিলাম, কিন্তু যাঁদের সে জ্বালা নাই, তেমন সব ভদ্রলোকেই বা কি সুখে ব্লগ ছাড়িয়া পলায়ন করেন? তাঁরা বাস করিতে থাকিলে ত ব্লগিঙের এত দুর্দশা হয় না!
লাল সবুজের মাঝের হলুদ মানচিত্র

খুব সাধারণ একজন ব্লগার, হয়তো ব্লগার হিসেবে খুব কম মানুষের কাছেই পরিচিত, তবুও আজ মনের কিছু অব্যক্ত কথা আর চেপে রাখতে না পেরে কি-বোর্ড নিয়ে বসে পড়ি।
গত চারদিন, খুব বেশি অনিচ্ছা স্বত্তে অনলাইন থেকে দূরে ছিলাম। না, আমি দূরে ছিলাম না। কৌশলে চোখ রাখছিলাম কিছু পুরোন বন্ধুর উপর। হ্যাঁ। কারণ, তারা বার বার আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পূর্বে বলছিলো তারা নাকি চায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ। আমি তাদের কথায় দ্বিধান্বিত ছিলাম না মোটেই, কিন্তু তাদের জন্য করুণা হচ্ছিলো আমার খুব। কেন? কারণ তারা তাই করছিলো যা তাদের দ্বারা করাতে চাচ্ছে তাদের পরিচালকবৃন্দ তথা জামায়াত-শিবির।
খুব ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে যা এর আগের পোস্টে উল্লেখ করার কারণে কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কারণে জানেন অনেকেই। আজ কি তার কথা বলবো? হ্যাঁ কিছুটা তবে আজ শুধু তার কথায় বলবো না।
ম্যাঙ্গো পিপল এবং আমের "আঁটিখেলা "
বাড়িতে শেষ দিনটা কাটালাম আজ। আক্ষরিক অর্থেই শেষ দিন কাটালাম, ভাবতেও অবাক লাগে সারা দিন বাড়িতে কাটানোর পর এখন রাত বারটায় শুয়ে আছি বাড়ি থেকে আশি কিলোমিটার দূরে!
আমার পুলাপান বেলা ১.১
আমরা দুই ভাই, বড় ভাই আমার চেয়ে দুই বছরের বড়। যার কারনে আমার ছুটো বয়সের সব কিছুই দুই বছর আগে আগে ঘটছে। যেমন ধরেন অ আ পড়া A B C D পড়া আলিফ বা তা সা পড়া ইত্যাদি। আবার যেমন ধরেন আমাদের দুই ভাইয়ের মুসলমানি এক সাথেই হইছে। মানে ভাইয়ার তখন মুসলমানির বয়স হইছে তাই সেইটা ঠিক আছে কিন্তু ফ্রীতে আমি দুই বছর আগেই মুসলমান হইয়া গেছি
সেই ছোট বয়সে একদিন আমার দাদা আম্বরশাহ মসজিদ থিকা এক হুজুর নিয়োগ দিলেন আমাদের আরবী পড়ানির জন্য। সেই হুজুরের নাম ছিলো 'বড় চানপুইড়া হুজুর' (বলা বাহুল্য উনার পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরে ছিলো) তিনি বেশ রাশভারী লোক ছিলেন, সেই হুজুরকে আমার বেশ পছন্দ হইলো। চিকন একটা বেত নিয়া প্রতিদিন ভোরে তিনি আমাদের দুই ভাইকে পড়াইতে আসতেন, তবে তিনি সেই বেত আমাদের উপর কখনো প্রয়োগ করেন নাই, শুধু ভয় দেখাইতেন। উনার মুখে সব সময় পান এবং বেশ সুন্দর গন্ধওয়ালা জর্দা খাইতেন, সেই সুঘ্রান আমার খারাপ লাগতো না। আমার দাদীও পান খাইতেন পান খাইতে খাইতে তিনি সন্ধ্যায় উঠানের কোনায় বসে শচীন দেব বর্মন গাইতেন ..... 'কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া', তবে আমার দাদীর মুখের পানের ঘ্রান ছিলো পৃথিবীর সব চাইতে বড় সুগন্ধি।
ভয়ঙ্কর এক তালিকা
‘নাস্তিক’ ব্লগারদের তওবার দাবিতে সায় কমিটির
ফেইসবুক ও ব্লগে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যকারীদের ‘তওবা’ করানোর সুপারিশ করেছে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা, যাতে সায় জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
রোববার কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ব্লগ ও ফেইসবুক ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলা করে কঠোর শান্তি দেয়ার সুপারিশ করেন।
‘নাস্তিক’ ও অপপ্রচারকারীদের তালিকা দিয়ে আলেমরা বলেন, “এরা তওবা করলে ভাল, নইলে শাস্তির আওতায় আনুন।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে এ সুপারিশের প্রেক্ষিতে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার বলেন, “তওবা পড়ার সুযোগ দেয়া যেতে পারে, এর পরও তারা এ অপপ্রচার চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তিনি বলেন “অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে, এজন্যই নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কমিটি থেকে।”
জীবনের যত ইস !
জীবনে খুব ইচ্ছে ছিলো পত্রিকার পাতায় নিজের লেখা ছাপা হোক। সে লক্ষ্যে আবোল-তাবোল লেখা পাঠাতে শুরু করি। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় ইত্তেফাকের চিঠিপত্র কলামে। তারপর লেখা শুরু করলাম সাপ্তাহিক চিত্রালীতে। এরপর সিনেমা এবং পূর্বানী। নিয়মিত লিখতাম। ছাপাও হত। কত পত্রিকাতেই যে লিখেছি ! ছায়াছন্দ, বিচিত্রা, বিচিন্তা, যায়যায়দিন, মৌচাকে ঢিল, আনন্দ বিচিত্রা। তারপর দৈনিক পত্রিকায় লেখা শুরু। ভোরের কাগজ আর প্রথম আলোতে অনেক লেখা ছাপা হয়েছিলো আমার। সেসময় লেখা ছাপা হলে তা কেটে রেখে দিতাম। এক সময় সে লেখার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। আমি তখন ঢাকায়। বড় ভাইয়ার সাথে থাকি। ৯৫ সালের ঘটনা। আমি অফিসে। ভাবী বাসার কাগজ বেচতে গিয়ে আমার সারা জীবনের সব লেখাগুলোও বেচে দিলেন হকারের কাছে। অফিস থেকে ফিরে শুনলাম ঘটনাটা। ভাবীর মুখেই। আমি বজ্রাহতের মত ভাবীর দিকে তাকিয়ে রইলাম...
আবারও বাড়ী থেকে ফিরে!
ফিরে এলাম এই শহরে। যে শহরে ২ কিলোমিটার রিক্সায় যেতে লাগে এক ঘন্টা সেই শহরেই। বাড়ী আমার কাছে খুব আপন কারন সেখানে বাবা মা থাকে আর এই নষ্ট শহরটাও আমার আপন কারন এখানেই আমার দিন যাপনের ভুবন। নিজের ভুবনে ফিরতে সবারই ভালো লাগে আমারও তাই। তবে এই শহরে ফেরার খুব একটা উচ্ছাস ধরা দেয় না মনে। কারন কারো কাছেই এই শহরটা আপন মনে হয় না এখন। স্রেফ প্রয়োজনেই টিস্যু পেপারের মতো ব্যাবহার করা। ইউস শেষে ফেলে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া। আমি এমন দুই জন লোককে চিনি যারা দেশে অত্যন্ত সুখে ব্যাপক টাকা পয়সায় দিন কাটাচ্ছিলো অযথাই তারা পরবাসী। প্রবাস থেকে ফিরে তাদের কথা বারতা শুনলে মনে হয় তারা জন্ম থেকেই ইউরোপে। এই মানসিকতা আমার ভালো লাগে না। অনিশ্চয়তা নিরাপত্তাহীনতা কবে ছিলো না বাংলাদেশে?
নর-নারী (৪র্থ অংশ)
বিখণ্ডকাহন
আমার মা একজন মেয়ে, আমার বাবা একজন ছেলে। আমার বোন হলো মেয়ে, আর আমার ভাই, যে মাঝে মাঝে আমার সামনে এসে চোখ বড় বড় করে নির্বাক তাকিয়ে থাকতো সে একজন ছেলে। কিন্তু আমি তোমার কি হই মা? আমি তোমার কে? নিশুতি রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে মা কাঁদতেন জরিয়ে ধরে আমাকে। বলতেন, তুই আমার সন্তান, কেবলই সন্তান। বাবার মুখে দেখতাম ঘন অন্ধকার। যেন তীব্র কোন আঘাতে ব্যাথায় নীল হয়ে গেছেন।
ভাই বোনদের মত বাইরে খেলতে যেতাম না, এমনকি কোথাও বেড়াতেও না। একটা ঘরই হয়ে গিয়েছিলো আমার পুরো পৃথিবী। এই সব স্মৃতি এখনো মনের কোণে উজ্বল। কিন্তু যেসব স্মৃতি মনে পড়ে না, কেমন ছিলো সেসব! জানি না, জানতে চাইও না। তবু কেন জানতে চাই? আমার জন্ম, প্রথম নাড়ি কাটা, প্রথম চিৎকার, মায়ের চোখের জল, বাবার লজ্জা কেমন ছিলো সেসব?
আনন্দ-বেদনার গল্প
প্রায়ই ভাবি কত কি লিখব! কিন্তু লেখা আর হয় না। ধৈর্য্য নিয়ে লিখতে বসা হয় না, অলস সময় পার হয়ে যায় রোজ একইভাবে। একইভাবে চলা জীবনেও কত কি ঘটে! ভালোলাগার, খারাপ লাগার, কষ্টের, আনন্দের। আবার মাঝে মাঝে নানা জটিলতায় / ব্যস্ততায় পড়ে কিভাবে সকাল রাতে গড়িয়ে ভোর হয় নিজেই বুঝি না যেন। অনেকের মাঝেও একা হয়ে যাই, পর হয়ে যাই অকারণেই। কেন জানি না সবকিছুই মানতে পারি না- আর তাই কাছের বন্ধুও পর করে দেয়। বিষন্নতায় আঁকড়ে ধরে আমাকে। কোন কিছুতেই মন বসাতে পারি না।
বিপ্লবের ভেতর-বাহির: ৪
হুমায়ুন কবির ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক। তিনি কবি ছিলেন। জীবনানন্দ দাশ নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রথম কাব্যগ্রস্থ কুসুমিত ইস্পাত ছাপা হয়েছিল ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে।
আজকাল হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। তবে সেই সময়ের অনেকের লেখার মধ্যেই পাওয়া যাবে হুমায়ুন কবিরকে। হেলাল হাফিজের কথা আমরা শুনতে পারি-
স্বর্গপতন
একটা দুইটা করে দশটা বৃষ্টির ফোঁটা
শুষে নেয় দশ বিশ করে নব্বইটা মরুর কণা।
একটা দুইটা কান্নার শব্দ মাটিতে না পড়ে
যায় হারিয়ে দৈরথের ডামাডোলে।
. . . . তারা আশ্বাসে পাশে থাকে!
টাকার থলের দামে যৌনতা বেচে
. . . . . . . . . . . . জীবন বাঁচে
মায়ের দামে একাত্তোর বেচে
. . . . . . . . . . . . বেশ্যা সাঁজে।
প্রশংসা সকল সানির দ্বারে
আমার অনুভুতি সকাল বিকাল মরে।
চেতনার মরুভূমিতে বেড়ে ওঠা বিছে
চেপে ধরেছে মুখের স্বাধীনতা।
. . . . আজ তাদের চোখে গান্ধারীর পট্টি!
