ইউজার লগইন
ব্লগ
একজন বলরাম এবং কিছু কথা

আজ ছুটির দিন। ছুটির দিনটি আনন্দেই কাটে অমিয়র। বিকালে রুপা ও একমাত্র মেয়ে আদৃতা নিয়ে ফ্যামিলি এলবাম দেখছিল। অমিয়র তিন বছরের মেয়ে এটা ওটা প্রশ্ন করছে, অমিয় উত্তর দিচ্ছে। এটা আমার দাদা, এটা দাদী। আচ্ছা বাবা দাদী তোমার কি হয়? তোমার দাদী তো আমার মা হয়। আদৃতা বলে আমি তোমার মা না ? অমিয় উত্তর দেয় হ্যাঁ, তুমি তো আমার মা। আদৃতা দুহাত প্রসারিত করে বলে আমি তোমাকে এতগুলো ভালবাসি। বুক ভরে যায় আনন্দে। দুহাতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অমিয় আর মনে মনে ভাবে আমার কোন দুঃখ নেই, এই তো আমার সব। এর জন্যে তো আমি যে কোন কিছু ত্যাগ করতে পারি। মনে পড়ে বাবা বলতেন আগে বাবা হ, বুঝবি সন্তান কি । তখন বুঝিনি এখন বুঝি বাবা ঠিকই বলেছিলেন।
এমনই গহীন অন্ধকার
স্বপ্ন, হয় এমনই।
রমনার বুকে
সবুজ সবুজ প্রমোদ,
নীল আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
সাদা মেঘ এলো-মেলো,
কখনো বা এ-ওকে জড়ানো।
বাবুই বাসা,
ঝড়ের পরেই চুপসানো দরজায় বাবুই জোড়ার খুনসুটি।
ঝিরঝির মৃদু বাতাসের তাড়ায়
লালচে শেওলা নিরুপায়,
একে ওকে জড়িয়ে লালাভ ভালবাসা। আহা।
সব ছাপিয়েও কিছু অস্থির,
স্বপ্ন ভাঙার স্বপ্ন,
কালো মেঘে ছাওয়া ধবল চরাচর
এমনই গহীন অন্ধকার।
নীলে নীলে ছেঁয়ে যাওয়া সময়।আহা।
মার চিৎকার,
খোকা, জেগে উঠ।
দেশে যেমন; এই প্রবাসেও আমরা তেমনটি কেনো?

অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ক্যালগেরিস্থ বাংলাদেশ সেন্টারে ক্যালগেরির স্বনামধন্য ফুটবল ক্লাব বেঙ্গল টাইগার্সের ক্ষুদে ফুটবলারদের মাঝে সার্টিফকেট বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় গত ১৪ এপ্রিল। দিনটি ছিলো বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ। সংগঠনের ক্ষুদে ফুটবলাররা ছাড়াও, তাদের অভিভাবকসহ বেশ কিছু দর্শক-স্রোতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। ব্যাপক পরিসরে না হলেও আয়োজনটি এক কথায় ছিলো চমৎকার। বন্ধু আজহারুল ইসলাম মাখনের সাথে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম একজন দর্শক হিসেবেই। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে উপস্থাপক জুবায়ের সিদ্দিকী আমার নাম ঘোষণা করে বিশেষ অতিথির আসনে নিয়ে বসালেন। যার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। ক্যালগেরি আসার পর এমন আয়োজনে এটাই আমার প্রথম উপস্থিতি। অনেকদিন থেকেই অসুস্থ। আর তাই অনিচ্ছা সত্বেও নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে রাখার একটা প্রবণতা কাজ করে। তবে হ্যাঁ, বেশ কিছুদিন পর এমন একটি চমৎকার আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে।
আস্তিক বা নাস্তিক-২য় পর্ব
আস্তিক বা নাস্তিক-২য় পর্ব
ফেবুতে এক জনের পোষ্ট দেখলাম শেখ হাসিনা তো ব্লগার নাস্তিক ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান মন্ত্রী মুসলমানদের প্রধান মন্ত্রী নন। বাংলাদেশে ৮৫-৯০% লোক মুসলমান বাকী সব মিলে ১০-১৫% বাংলা মায়ের সন্তান অন্যান্য ধর্মাবলম্বি। নাস্তিক যে দু চারজন আছে তাদের যদি % এর হিসেবে নিতে যাই তবে দশমিকের পর এতই শুন্য আসবে যে তা জিরো পাওয়ারের ভাল্বের নামান্তর হবে। তাই তাদের আমি কখনই হিসেবে ধরি না। আবার নাস্তিকদের মাঝেও অনেক প্রকার নাস্তিক আছে যেমন প্রকৃতি বাদী নাস্তিক, আবার কোন কোন নাস্তিক উপাস্যে বিশ্বাসী নন কিন্তু সৃষ্টি কর্তা একজন আছেন তা বিশ্বাস করেন। আমার মতে সে কি করে নাস্তিক হন। কারন আমরা যারা আমাদের আল্লাহকে ঊপাস্য হিসেবে মানি তাঁর একটি নাম খালেক যার অর্থ হল সৃষ্টি কর্তা। তাহলে সে কি করে নাস্তিক হয়। তাই আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম আওয়ামীলীগ ভোট যে ৩৫-৪২% ভোট পায় ২৫-৩২% ভোট তো মুসলিমদের হওয়ার কথা, অথচ তাদের তুমি অমুসলিম বললে কি করে।
সে বলল প্রমান দেখাও
একজন মুসলমান শুধু আল্লাহতায়ালার কাছেই তার ইমানের বা মুসলমানিত্বের প্রমান দেন।(চলবে)
সাভার ট্রাজেডি
কষ্টের নীল ঢেউ
উড়ে যায় শ্বেত কবুতর
ভেসে যায় সাদা মেঘের ভেলা
সোনালী রোদ্দুরে, স্বপ্নীল দু’চোখ
নীলাকাশে সুখের পাখনা মেলা।
বাজপাখির তীক্ষ্ণ নখের থাবায়
কেঁপে ওঠে ধরণি,
স্বপ্নের হয় অবসান
অশ্রুসজল জননী চেয়ে রয়-
নির্বাক,
ঈশাণ কোণে কালবৈশাখী
থমকে যাওয়া জীবন।
মরে যাওয়া পদ্ম পুকুরে
কষ্টের চাষবাস,
তপ্ত মাটির বুকে
ধূসর বৃক্ষের অবিরাম ক্রন্দন,
নিস্পলক চেয়ে থাকা
ছল ছল চোখ-
আতিপাতি করে খোঁজে
জীবনের স্পন্দন
ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের আর্তনাদ-
লাল রঙের ভেঁজা মাটি
তুলোর মত সাদা পালক,
ছড়ানো-
পোড়া মাটির প’রে,
ধুলোয় লুটোপুটি।
হাজার মনের মেঘ কাটাতে
অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামেনা
পাঁজর ভাঙার শব্দ
দিকে দিকে শুধু বাজে
শূন্য বুকের কান্না থামেনা!
লাল সাগরের বুকে
কষ্টের নীল ঢেউ
আছড়ে পড়ে তীরে বার বার,
পাথর চোখের শূন্য দৃষ্টি মেলে
চেয়ে চেয়ে শুধু দেখা-
শবের পাহাড়।
অসহায় মানুষের মুখে মুখে
শুধুই হাহাকার,
বাতাসে লাশের গন্ধ শুকে শুকে
ধেয়ে আসে অপেক্ষার শকুণ
এবার সময় হল তার!
"ভয় পেয়ো না, আমি আর পিছু ফিরে আসব না"
যদি কখনও শোনো এই আমি আর নেই এই সুনীল ধরায়,
জানি কাঁদবে হয়ে অসহায়,
কিন্তু ভয় পেয়ো না আমি আর পিছু ফিরে আসব না ।
কাক ভোরে অথবা কোনো এক সকালে,
যদি মনে পরে যায় অতীতের কোনো কথা,
এক ফোঁটা হলেও ঝরিও তোমার দুটি চোখের পানি,
না না ভয় পেয়ো না আমি আর পিছু ফিরে আসব না ।
যদি কখনও হাঁটতে হাঁটতে একলা মনে হয় নিজেকে,
চোখ বন্ধ করে ডেকো একটিবার এই আমাকে,
ছাঁয়ার মতো থাকব তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে,
ভয় পেয়ো না চিরো কালের মতো তোমার কাছে পিছু ফিরে আমি আসব না।
যদি কখনো মেঘলা আকাশে দেখতে পাও ঐ চাঁদটাকে,
বইছে মাতাল হাওয়া এমন কোনো রাতে,
চাঁদের মাঝে যদি দেখো আমার সেই চেহারা,
একটু মনে করো বলেছিলাম তোমায় এমন কোনো একটি রাতের কথা,
যে রাতে আমার স্মরণে পরবে চোখের পানি হাজার জনের মাঝে থেকেও একলা হবে তুমি যাকে বলে ভীরের মাঝেও একা,
একটু কেঁদো মন খুলে,
না না ভয় পেয়ো না আসব নাকো আমি ।
জানি থাকবে না মনে এই আমাকে,
তোমার প্রথম ভালোবাসা নই আমি।
জানি অনেক ভুল করেছি ক্ষমা করো তুমি।
সত্যি বলছি আর কোনোদিনও ফিরব নাকো আমি।
"পারলে আমায় মনে রেখো আর ভালো থেকো তুমি ।"
শোক প্রকাশ নয়, চাই কঠোর আন্দোলন!
সাভারের রানা টাওয়ারে সংঘটিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক মৃত্যুর ও সাত শতাধিক আহত হওয়া অসংখ্য শ্রমিক কর্মচারী নিখোঁজ থাকার ঘটনায় আজ সারা জাতি গভীরভাবে শোকাহত।
এ জাতি আর কতদিন এভাবে শোক পালন করবে? এ জাতি আর কতকাল নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করবে? এ জাতি আর কত আহত ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য কামনা করবে?
স্পেকটা থেকে এই রানা টাওয়ায় প্রতিটি ঘটনার পর জাতি শোক প্রকাশ করে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত আর আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের কামনা করতে করতে আমরা আজ ক্লান্ত।
তাই আর শোক প্রকাশ নয়, নয় কোন নিহত ব্যক্তির আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা বা আহত ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য কামনা!
এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ করার, এখন সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার। মুখ বুঝে সহ্য না করে এই খুনি আর খুনির দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আর রুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার এখনই সময়!
বন্ধ হবে কি অসহায় মানুষের মৃত্যুর এ মিছিল।
বন্ধ হবে কি অসহায় মানুষের মৃত্যুর এ মিছিল।
হায় প্রভু তুমি আমাদের কত অসহায় করে সৃষ্টি করেছ। কত মায়ের আহাজারি, বাবাগো একটু বাচাও, কিশোরী বোন সাড়া পৃথিবীর ভাইদের ডেকে ডেকে বলছে আমাকে বাচাও ভাইয়া, আমি বাঁচতে চাই। পাঁচ ছয় ইঞ্চি দূরে বোনটিকে সাড়া পৃথিবীর ভাইয়েরা আপ্রাণ চেষ্টা করছে বাঁচাতে। আজ যে সে অবহেলিত বলতে গেলে ঘৃনিত ১৫০০ টাকা মাসিক বেতনের গার্মেন্টস শ্রমিক নন। আজ সে মানুষ, সাড়া পৃথিবীর সকল ভাইদের বোন। একজন ভাই হাত নেড়ে নেড়ে বলছে ভাই আর কত সময় লাগবে আমাকে বের করতে। ভাইদের মুখে জবাব নেই। কি জবাব দিবে তারা নিজেরাই যে জানেনা কখন পারবে তাকে তার পরিচিত আলো ঝলমলে নির্মল বাতাসে ফিরিয় আনতে নাকি আর ফিরে আসা হবে না তার পরিচিত ভালবাসার পৃথিবীতে অথবা তার প্রানপ্রিয় আপনজনের কাছে।
আমার শেষ স্মৃতিটা মার কাছে পৌঁছে দিও

আহা বোন!
সূঁচ-সুতো দিয়ে কেবল নিজেদের মৃত্যু বুনে যাচ্ছো...
- ভাষ্কর
বুধবার বিকাল চারটায় অনেক চেষ্টা করেও যখন দিপঙ্কর বের হতে পারেনি তখন এক উদ্ধারকর্মীর হাতে তুলে দিয়েছে নিজের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ।
দিপঙ্করের চাচা সুদাংশু ঘোষ বলেন, “আমি কাল ১০টায় মোবাইলে এই খবর শোনার পর কুষ্টিয়া থেকে এসেছি কেবলমাত্র লাশের আশায়। তবে এসে শুনি ও তখনও বেঁচেছিলো। উদ্ধারকর্মীদের নাকি বলছিলো যে, আমার হাতটা কেটে হলেও আমাকে বের করো। আমি মরতে চাই না।”
অলিখিত আমার তুমি
তুমি আমার জীবনের অলিখিত অধ্যায় কিন্তু তোমাকে নিয়ে আমি বেশি লিখি। অলিখিত অধ্যায় বলেই যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে। অবশ্য এটাও ঠিক যে জ্বালা-যন্ত্রণা-দুঃখের মাঝেও একটা সুক্ষ আনন্দ বোধ থাকে। আর তাছাড়া দুঃখ কে যেচে আপন করে নেয়া মানুষের স্বভাবচারিতার বড় দিক।
মনের কোনে অতি গোপনে অভিমানী একটা মন লুকিয়ে থাকে। সেই মনটা খেয়াল চায়, সঙ্গী চায়, গুরুত্ব পেতে চায়।সেই মনটা চায় তাকে একান্ত করে কেউ ভালবাসুক।
সেই মনটা চায় তার কাছের মানুষগুলো সবার আগে তার দিকটা দেখুক,তারপর অন্যকিছু।
বিবেক কিন্তু বাঁধ সাধে কারন একটু স্বার্থপরতা তো হয়েই যায় আর যখনই মনের কথা বাদ দিয়ে বিবেকের সাথে মত মিলাই তখন ই হয় সবচাইতে বড় স্বার্থপরতা।তবে সেটা নিজের সাথে।কিন্তু এ স্বার্থ-পরতায় নিজের ছাড়া আর কারো কোন ক্ষতিই হয় না।
আমি সবার কথা ভাবি কিন্তু কারো একটু সময় হয় না আমার কথা গুলা শুনার, আমি সবার সব কথা শুনি কিন্তু কারো একটু সময় হয় না আমার হাসির মাঝে লুকানো কান্নাগুলকে বুঝার। বড্ড একা লাগে এই বিশাল ধরণীর বুকে।
আমি ভাবি সব মানুষ্ই কিন্তূ একা।
পায়ের ধুলো নেই-১২
ওটা কি বল? নাতো ওটা দেখি শক্ত। বা রে, গায়ে আবার প্যাঁচানো আছে ট্যাপ। লাল রঙের। এই ট্যাপ দিয়েই টেনিস বলকে ট্যাপ-টেনিস বানানো যাবে। দারুণ আনন্দ হয় ছেলেটির। সে আনন্দ বিজয়ের। টেনিস বল একটা থাকলেও তাকে ট্যাপ -টেনিস বানানোর শখ পূরণ করা যাচ্ছিল না কোনভাবেই। হাসিতে উজ্জল হয় দিন।
অবশ্য দিনটা একটু অন্যরকম। গাড়ির প্যা পো খুব একটা নেই। মাঠেও জমছে না খেলা। অনেক মানুষ নেই বলে মাঠটিকে লাগছে বেশ বড়। এটা ছেলেটির কাছে এক বিস্ময়। মানুষ কম থাকলে মাঠ কেন বড় হয়ে যায়! আবার কেউতো মাঠের কোন অংশ বাড়ি নিয়ে যায় না।তাহলে বেশি মানুষ হলে মাঠ কেন ছোট লাগে! যাহোক, শক্ত কৌটাটা আপাতত বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাক।
লাল রঙ দেখে ছোট বোনটা ঘুর ঘুর করে ভাইয়ের পাশে।সে পড়ে টু-তে।তোমার হাতে ওইটা কী ভাই?
কী জানি। এইটা থেকে ট্যাপ এনে টেনিস বলে লাগাবো। ট্যাপ টেনিস হবে।
আমারে খেলতে দিবা।
দিমুনে। বাবা কাজে গেলে আসিস।
বাবা কাজে যায়।মা রান্নায় ব্যস্ত হয়। ঘরের দরজা বন্ধ করে ভাইয়ের কাছে আসে মেয়েটি।সে টু-তে পড়ে। জানালা দিয়ে আসা রোদ ঘরকে যথেষ্ট আলোকিত রাখে।
কই ভাই, ট্যাপ-টেনিস বল বানানো শেষ?
দ্বিধা

আমার কিছু কথা ছিল
তোমাকে বলার, শুধু তোমাকেই,
শুনবে?
আমার মনের মধ্যে এক নদীর বাস,
সে নদীর দুদিকে দু'টি ধারা
দুদিকেই টানে,
কোনদিকে যে যাই! বুঝতে পারিনা।
নিজেকে বড় অচেনা লাগে
এই বদলে যাওয়া নিষ্ঠুর সময়ের ভিড়ে
নিজেকে ঠিক মেলাতে পারিনা,
হয়ত এই সময়ে বড়ই অচল!
অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া ধূসর এ্যালবামে
হাতড়ে বেড়াই ক্ষয়ে যাওয়া অতীত,
ধ্বংশস্তুপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
দুমড়ে ফেলা মানচিত্র হাতে নিয়ে
ক্ষত বিক্ষত আমি মিলাতে চাই
জীবনের ভগ্নাংশের হিসাব নিকাষ,
মেলেনা, অপেক্ষার বৃষ্টিও নামেনা
কেন, বলতে পারো?
কখনো মনে হয় মনটাকে
ভাসিয়ে দেই সময়ের স্রোতে
যাক না ভেসে জোয়ারের টানে, যেদিকে খুশি!
হয়না, দ্বিধায় পড়ে যাই
কেন যে এত দ্বিধা !
তাও বুঝি না।
অনেক কিছুই করা হয়নি-
পারিনি মেঘলা দুপুরে ঝরা পাতার মর্মর
ধ্বনি মাড়িয়ে মেঘ বালিকার পিছু নিতে,
উদাসী পথে হেঁটে হেঁটে রঙধনুর
সাতরঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে,
কিংবা পিচঢালা পথে হেঁটে যেতে
অচেনা রোদ্দুরে!
সস্তা মানুষদের নিয়ে সস্তা কথা
সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে গেছে। দুপুর একটা পর্যন্ত পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা ৮২। এতক্ষণে এ সংখ্যা নিশ্চয় একশ ছাড়িয়ে গেছে । আহত ছয় শতাধিক ।মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি.........।।
আমরা সবুজ
আজকে বরং আমরা চল টিভির খবর বন্ধ রাখি,
আজকে চল ন্যাট জিওতে দেখব যত গাছ আর পাখি,
রক্ত দেখে হৃদয় টানে, কোমল প্রাণে আঘাত লাগে,
মন ভিজে যায় ভাপ আর জলে,
ব্যথায় ব্যাকুল দুঃখ কাতর রাগে,
কয়টা হল, লাশ গুণে যাই চল,
স্ক্রল করে যাই এপি'র কোমল পাতায়,
বাংলাদেশের নাম ফেটেছে আবার
কয়টা ঢ্যাঁড়া কেবল নামের খাতায়!
মন খারাপের সময় কোথায় অত
চুকবে তো দাম টিপসইয়ে আর চেকে,
আমরা সবুজ অবুজ কচিই থাকি
ঘাসের চাদর গন্ধ ফেলুক ঢেকে!!