ইউজার লগইন
ব্লগ
হৈমন্তী... (শেষ পর্ব)
আমার মনে একটা ভাবনা ছিল রাজনীতি করা বড়ো মেয়ে না জানি কি করিয়া বসে। কিন্তু অতি অল্পদিনেই দেখিলাম টেলিভিশনের হিন্দি চ্যানেলের সিরিয়ালের সঙ্গে নারী মনের কোনো জায়গায় কোনো কাটাকাটি নাই। বসিয়া দিনরাত হিন্দি সিরিয়াল দেখিতে লাগিলো। দেখিতে দেখিতে চোখে ঘোর লাগিয়া উঠিলে ঘুমাইয়া বিশ্রাম লয়।
এ তো গেল এক দিকের কথা । আবার অন্য দিকও আছে , সেটা বিস্তারিত বলিবার সময় আসিয়াছে ।
এবার ঘুমাতে দাও
এবার ঘুমাতে দাও
অনেক প্রহর জাগা ক্লান্ত দুটো চোখ
এবার বুজিয়ে দাও
আঁধার ঘরেই রেখো আমায় - ক্ষতি কি ?
শুধু ভেজা মাটির প্রলেপ দিও
সবুজ ঘাসের আচ্ছাদনে আমার বেদনা দিও ঢেকে
খুব যদি কষ্ট না হয়
মাথার কাছে রোপে দিও অবুঝ বাতাবি চারা
আর কি চাইব
একটা এপিটাফ - জীবন বাবুর অবাক কাব্য লিখা
তোমরাই বলো
খুব কি বেশি চাওয়া আমার
খুব কি বেশি চাওয়া ?
অন্তর্দহন বা অশ্রুবর্ষণ
জেগে ওঠে পুরানো মোচড়
হৃতপিন্ডে অনাগত ।
বিদগ্ধ দিন শেষে বেড়ে ওঠে
হৃদয়ের আদিম ক্ষত ।
অন্তর্দহনে ছাই গহীনের
বিমূর্ত নন্দনকানন ।
অলখে আঠারো বর্ষার পদচারণ ,
অতঃপর অশ্রুবর্ষণ ।
(c) by Ekanto Ovajon
“মা”
“মা” শব্দটি বিশ্ব নন্দিত ভাষার নামের মধ্যে অন্যতম একটি নাম। যার কথা উচ্চারণ করার সময় অন্তরের গভীর থেকে একরাশ আবেগ, ভালবাস, একমাত্র আশ্রয়স্থল এর কথা মনে আসে। আজ ১৩ মে, ২০১২ইং বিশ্ব “মা” দিবস, যথাযথ মর্যাদায় আজকে বিশ্ব মা দিবস পালিত হচ্ছে, সবাই সবার মা’কে কাছে নিয়ে ভালবাসা উপভোগ করছে, কিন্তু আজ আমার মা’ আমার কাছে নেই (বি:দ্র: মা’ বর্তমানে গ্রামের বাড়ীতে আছেন)। তবে তাই বলে, মা’র ভালবাসা তার সন্তানের প্রতি কমে যাবে এমনটি নয়।
দিবস ধরে না, মা ভালোবাসি, ভালোবাসবো, ভালোবাসছি জন্মাবধি ...
শবেবরাত খুব করে মানি, ছোটকাল থেকেই যত্ন করে নামায-কোরান পড়তাম। সাধারনত শীতকালেই শবেবরাত হতো। খুব হিম থাকলেও গোসল করে নামায পড়তাম পাল্লা দিয়ে ভাইবোনেরা, কে কতদূর কোরানশরীফ পড়বো তাও ঠিক করতাম, একজন ঝিমানো শুরু করলে অন্যে গিয়ে চা বানিয়ে এনে ঘুম তাড়াতাম। মন মতোন সব হলে, পরেরদিন অন্যরকম এক মজা পেতাম, সারা বছরের জন্যে বরাতে অবশ্যই ভালোকিছু হবে ভেবে! ভবিষ্যতের চিন্তা কি ধীরে ধীরে ছেড়ে দিয়েছিলাম, নয়তো ইদানিং আগের মতোন সেই উদ্যোমে শবেবরাত পালন করি না কেন যে। অন্যকিছুর জন্যে একটুও আফসোস নাই, কিন্তু গত প্রায় দু’বছর সে এক ভীষন না পাওয়া এই ভাবনাটা এনে দিয়েছে, কোন পাপে আল্লাহ বরাতে এই শাস্তি দিলেন!
আমার মা
মাকে বুঝতে শুরু করতে না করতেই একদিন মা নাই হয়ে গেলেন। মা ছিলেন আমাদের পরিবারের সব মুশকিল আসানের নাম। বাবার কাছে আমাদের ছয় ভাইবোনের কোনো আব্দার বা আল্লাদ ছিলোনা। সব মায়ের কাছে। মা কী করে জানি সামাল দিতেন। বাবা সরকারি চাকরীজীবি। সামান্য আয়ের মানুষ। মাস পহেলা তার আয়ের বেশিরভাগ তুলে দিতেন মায়ের হাতে। মা সে টাকায় সারা মাস জোড়া তালি দিয়ে চালিয়ে নিতেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সামাজিকতা, আমাদের স্কুলের খরচ সবই ম্যানেজ করতেন মা। বছরে দুই ঈদেই শুধু নতুন জামা পেতাম আমরা। ছোট ভাই বোন তিনটা তখনো বেশ ছোট। বাকী আমরা তিনজন মোটামুটি বড়। অতশত না বুঝলেও এটা বুঝতাম- বাবা-মার সামর্থ খুব সামান্য।
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আগ্রহীদের আহবান জানাই বর্ষার ই-বুক 'বৃষ্টির দিনে' -র জন্য লেখা জমা দিন
![]()
সম্মানিত ব্লগারগণ,
আপনারা অবগত আছেন প্রতীতি প্রকাশনী থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম এবং একমাত্র আন্তর্জালিক ই-বুক এক মুঠো চলচ্ছবি-র দুটো সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতীতি'র এবারের প্রয়াস হল 'বৃষ্টির দিনে'। এবার আমাদের ই-বুকের বিষয় হল বর্ষা এবং বৃষ্টি। বর্ষা এবং বৃষ্টি নিয়ে যে কোনো ধরনের লেখা, কবিতা, ছড়া, গল্প , প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণমূলক লেখা, ব্যানার, ছবিব্লগ নিয়ে আমরা আমাদের এবারের ই-বুক 'বৃষ্টির দিনে' করতে চাচ্ছি। আশা করছি বৃষ্টির দিনের জন্য 'আমরা বন্ধু' ব্লগারদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাবো।
তিনটা ফেইসবুক স্টেটাস...
..........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
১.
একদিন একসাথে কফি খেতে পারি...
বরফে আর কোনো নতুন ফ্লেভারে
আমি সব দেবতারে ছেড়ে আমার মায়ের কাছে চলে আসি
সারাদিন সকল কাজ শেষে ‘আমি সব দেবতারে ছেড়ে’ আমার মায়ের কাছে চলে আসি। আমার আম্মু শুধু মা নয় আমার কাছে, আমার আম্মু একজন বন্ধু, আমার যাবতীয় কথা আমার আম্মুর সাথে ভাগাভাগি না করলে আমার অশান্তি লাগে। আমার রাগ দেখানোর জায়গা, আমার আনন্দ উপভোগ করার জায়গা আমার আম্মুর কাছে। আমি যে এতো বড় হয়েছি সেটা মনেই থাকে না যখন আমি আম্মুর কাছে থাকি, যখন আমি আম্মুকে ধরে শুয়ে থাকি, সেই ছোটবেলার মতোই বলি আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দাও। জীবনের সাথে প্রায় যুদ্ধ করে নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে আমার আম্মু আগলে রেখেছেন আমরা ভাই-বোনদের। কখনও বুঝতে দেননি বাবার শূন্যতা। এখনও এই যে এতো বড় হয়েছি তারপরও কি রকম যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছি সেই যন্ত্রণাটাকেও ভালোবাসায়, ¯েœহে গ্রহণ করছেন আর মাথায় হাত রেখে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এভাবে যে আর কেউ হাত রাখতে জানেনা আম্মু, এই পরশ যে আর কারো হাতে নেই আম্মু, তাই বুঝি এখনও খাবার টেবিলে একা খেতে পারিনা যদি ন
'গুরু' তোমাকে সালাম
সন ১৯৭৪ - যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ - বিধ্বস্ত অর্থনীতি - অত্যাসন্ন দুর্ভিক্ষের আহাজারি চারদিকে - রাজধানী ঢাকাও এর ব্যতিক্রম নয় - এরকম সময়ে - বিষন্ন এক সন্ধ্যা - কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন বস্তির পাশ দিয়ে হাঁটছেন দীর্ঘদেহী একজন মানুষ - লম্বা পাঞ্জাবি - কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল - কিছুটা যেন অন্যমনস্ক - তারপর কেন যেন থমকে গেলেন তিনি - তীব্র কান্নার শব্দ ভেসে আসছে বস্তির কোনও ঘর থেকে - একটু এগিয়ে যেতেই দেখলেন - এক মা তার শিশুর মাথা কোলে নিয়ে কাঁদছেন - সেটা ছিল ক্ষুধা আর দারিদ্রের বিরুদ্ধে এক মায়ের ব্যর্থ করুণ আহাজারি - সাদা পাঞ্জাবির আড়ালে লুকানো একটি হৃদয় সেদিনকার সেই আহাজারি ভুলতে পারেনি - সেই সন্ধ্যায় জন্ম হয়েছিল একটি বিখ্যাত গানের (রেললাইনের ওই বস্তিতে - জন্মেছিল একটি ছেলে) - জন্ম হয়েছিল একজন শিল্পীর - আমি আসলে খুব কম বললাম - ওই সন্ধ্যা ছিল বাংলা গানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের জন
আহবান
জীবন আমায় রিক্ত কর
পূর্ণ কর সকল তোমার সাধ ।
যদি কাঁদাতেই চাও কাঁদাও
তবে মুক্ত কর অশ্রু নদীর বাঁধ ।
ব্যর্থ গ্লানি লিখে দিয়ে কপালে
কেন মিথ্যে আশায় জুড়াও বুক আমার ।
যদি চির আঁধারেই ঠাঁই দিলে
তবে রঙিন স্বপ্ন দেখিওনা তুমি আর ।
জীবন আমায় পরাজিত কর
গেয়ে যাও তবে আপনার জয়গান ।
জীবন আমায় পরিত্যাগ কর
তোমাকে জানাই সাদর আহবান ।
(c) by Ekanto Ovajon
[রচনাকাল : সম্ভবত ২০০৭ সাল ]
বাবা, শুনতে পাচ্ছ কি তুমি আমার কথা ?
দাদীর কবরের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম - বাবা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন কিভাবে জিয়ারত করতে হয় - আমার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছিলেন - আমি শিখলাম - তারপর বেশিদিনের কথা নয় - একদিন দেখলাম - আমি একা দাড়িয়ে আছি - আর আমার সামনে একটার পরিবর্তে দুটো কবর - দাদীর পাশে তুমিও ঠাই নিয়েছ -আমার এখনো ভুল হয়ে যায় - বাবা - তোমার মত করে পারি না - তুমি আমাকে নিয়ে গোরস্থানে যেতে - সবার কবর চিনিয়ে দিতে আর আমাকে অভয় দিয়ে বলতে - 'আদনান- ভয় পাস না - এখানে সবাইকে আসতে হবে - ওই দেখ তোর টুকু চাচার কবর - চাচার জন্য দোয়া করিস - ওই তোর মিঠু ভাইয়ের কবর - আর এখানে শুয়ে আছেন ওই যে তোর দাড়িওয়ালা চাচা-তোর মনে নাই-তোকে খুব আদর করতেন- সবার জন্য দোয়া করিস '- আমি সবার জন্যই দোয়া করি বাবা - সবার জন্য করি - খালি তোমার জন্য যখন হাত তুলি - সব এলোমেলো হয়ে যায় বাবা - আমি গুছিয়ে কিছুই বলতে পারি না - চোখ খালি ঝাপসা হয়ে যায় - আমি হৃদয়হীন মানুষ - কিন্তু তোমার চলে
জল পাতা ঝিকিমিকি
জল ও জ্যোৎস্নার সাথে অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি। ।
হাতের তালুতে অন্ধকারের গাছপালা ভালো করে জেগে ওঠার আগেই প্রতিবার কেমন অস্বস্তিকর সকালের আলো ফোটে।।। আজ ঠিক করেছি এই অরণ্যের মধ্যে আমি পথিকের মতন হাঁটবো। কোনো অস্বস্তির মধ্যে যাবোনা। অনেক হয়েছে। এখন নিজের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন-প্রাপ্তির কাছে জবাবদিহিটা জরুরী।
ইদানীং প্রায়ই এমন প্রতিবিম্বের একেকীত্ব ভালো লাগে। জলের মধ্যে যে্মন রাত্রির ছায়া গাঢ হয়, নিজের সাথে নিজের কথা বলাটাও তেমনি গভীর ভাবে সাম্প্রতিক সময়ের জীবনযাপনের ধরণটার অসাড়তা সামনে এনে ফেলে রাখে। একদম অবাঞ্ছিতের মতন সেই অনুভূতি পায়ের কাছে এসে বসে থাকে। আমি তাকে এড়াতে পারিনা এখন। ইদানিং নিজের কথা ভাবতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে একা, অন্ধকারে এই সময়গুলি পেতে। আঁধার আমার ভালোলাগে।
বইমেলা কড়চা – (চার) মালাইয়ের স্বাদ পনিরে
ঢাকায় বইমেলা চলার সময় খুব নষ্টালজিক অনুভব করছিলাম। সেই নষ্টালজিয়া কাটানোর জন্যে ফান করে স্যাটায়ার লেখায় হাত দিয়েছিলাম। আমার সমস্ত শখের কাজের মতো যথারীতি এটিও অসম্পূর্ণ আর আধ খ্যাচড়া রয়ে গেলো। এ বছরের মতো এ পর্বটিই আমার এই সিরিজের শেষ লেখা। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরীন আমার এ পর্বের লেখিকা। তার প্রকাশিতব্য বই কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমার আজকের কল্পনা। তসলিমা নাসরীনের উপন্যাস প্রায় প্রত্যেক বইমেলাতেই বের হয় এবং যথারীতি পালাক্রমে বাংলাদেশ ও কোলকাতায় নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। বই নিষিদ্ধ ঘোষনার এ রীতি এশিয়া ছাড়া আর কোথাও আছে কি না, আমার জানা নেই। আমার ব্যক্তিগত ধারনা তিনিও নির্বাসনে বসে একটি পাশবিক আনন্দ উপভোগ করেন, বই নিষিদ্ধের এই হুল্লোড় থেকে। বেছে বেছে কখনো কখনো অকারণে এমন জিনিসই লিখে পাঠান, যাতে বইটা যেকোন মূল্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। অক্ষম মানুষের হতাশ প্রতিশোধ নেয়া। আমি তসলিমার
এই জনপদে
শুনুন, আমি হলফ করে বলছি-এই শহরে আর একবারও আসবে না জাদুকর কোনদিন।কালো টুপির মায়াবি ওড়না সে আর উড়াবে না এইখানের বাতাসে। গোলামের ভেতর বিবি অথবা বিবির পেটে গোলাম তেড়েফুঁড়ে টেক্কা দিয়েছে মায়াজাল। স্বর্ণাভ রুমালের পায়রা যে খুদ খেয়ে গেছে প্রান্তরে তা আজ বিরান, ছাই। জাদুকরের ঝুলি এখন শূণ্য, গতিহীন। বলেছে সব জাড়িজুড়ি ব্যার্থ তার। নড়ছে না ফুল, পড়ছে না মন্ত্রের কলকাঠি। কেবল বরাহের মত পা টিপে টিপে এগিয়ে আসছে চক্রান্ত। সাড় দেয়া নরকের মত চিমনির ধোঁয়া হাসছে খিকখিক চারপাশে। এখানে আর জাদু চলে না, পাখিরা উড়ে না আলস্য বাতাসে।