ইউজার লগইন
ব্লগ
প্রেম ও অপ্রেমের ডিকন্সট্রাকটেড ব্যভিচার
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
যদি সত্যি হতো সব
আমি দু আঙুল বিপ্রতীপ রেখে
তোমার উঠোনে গিয়ে গ্যাট মেরে
বসে বিড়ি ধরাতাম...অনেক প্রস্তুতি নিয়ে;
বলা তো যায়না কদিন ওভাবেই কেটে যেতো
নিঃসঙ্গ একাকিনী

স্বপ্নিল আঁখি দেখছে স্বপন মধুর আবিষ্টতায়,
সুখ সুখ খেলা চলছে ভীষণ মনের নির্জনতায়।
প্রফুল্ল হৃদয়, উত্তাল চিত্তে মাতাল হাওয়া বয়;
বাঁশরীর সুরে মাতোয়ারা মন, একলা পড়ে রয়।।
অভিমানের কপট আভায় বদনে মলিন ছায়া,
থরে থরে সাজানো সুখকে শুধু ধিক্কার দেয়,
ক্ষণিকেই সব ভুল ভেঙ্গে উল্লাসে ভেসে যাওয়া,
অনুতাপের সূক্ষ্ম স্পর্শে কিছুটা কাতরও হওয়া।।
মানসপটে তার স্বচ্ছ ছবি, নিষ্পাপ তার চাহনি,
এলোমেলো সব ভাবনায় সৃষ্ট কল্প-কাহিনী।
ভবিষ্যত এতো মসৃণ নয়, বন্ধুর পথের হাতছানি
বাস্তবতা ভেবে আকুল আমি নিঃসঙ্গ একাকিনী।।
আবেশমাখা স্মৃতির তরে তবু জাগে মগ্ন বিভোরতা
হারিয়ে পাওয়া সাধের ফোন!
হারানো কিছু ফিরে পাওনের আনন্দ যে কি, যার এই অভিজ্ঞতা না হইছে বুঝানো যাবে না। জিনিসটা হারানোর পর হাল না ছেড়ে দিয়া লাগ্লো হতাশ না হইয়া একটা চেষ্টা করে দেখি। ভাব্লাম কারো উপরে ভরসা না করে নিজেই একটু চেষ্টা করে দেখিনা, কতটুকু আগাইতে পারি! কিভাবে কি হইলো অনেকেই জানতে চাইতেসে! জনে জনে তো এক কথা বার বার বলা সম্ভব না তাই এই পোস্টের সহযোগীতা নিলাম!
আচ্ছা এই পোস্টা টা দিতেসি সব বুড়াপান আর পোলাপানের ধাক্কাধাক্কি তে! আমার একটা হ্যান্ডসাম স্মার্ট ফোন আছে, যারে দেখেই অনেকের হিংসায় গা জ্বলে যায়, নাম HTC Desire HD
ঘাসফুল
উঠোন কোণে এমনি বসা ভাত-শালিকের দল,
পোষ মানালেই বলতে শেখে
লক্ষ টাকার ময়না থেকে-
শিখিয়ে দেওয়া সকল বুলি অধিক অনর্গল।
কাকের বাসায় আজকে ফোঁটা ছোট্ট কোকিল পাখি,
হয়তো কোন এক ফাগুনে
'আশ্রিত' নাম মুছিয়ে গুণে-
কাকের চেয়ে মধুর স্বরেই করবে ডাকাডাকি।
এমনি হেলায় মাড়িয়ে যাওয়া এক ছোট ঘাসফুল,
হয়তো কখন গড়িয়ে বেলা
উঠবে হয়ে ঘুঁচিয়ে হেলা-
গ্রাম-কিশোরীর যত্নে তোলা শখের কানের দুল।
আত্মমগ্ন কথামালা-১১
আমি অনেক বড় ফটোতোলক। আমার বিরাআআআট সাইজের একখানা ক্যাম আছে, লেটেস মডেল। লেন্সও আছে গোটা পাচেক, যুম, ম্যাক্র, টেলি, প্রাইম, ফিস আই। সবরকমের। আমার একটা নীতি আছে। কষ্ট কইরা ছবি তুলুম না কখনই। ছবি কি কষ্ট কইরা তোলনের জিনিস? আরামে আরামে গিয়া অল্প হাঁটাহাটি করমু। পায়ে ধুলা বা কাদা যাতে না লাগে সেইদিকে খেয়াল রাখমু বেশি। উত্তর-দক্ষিন-পুর্ব-পচ্চিম-ইশান-বায়ু-নৈঋত-অগ্নি-উধ্ব-অধ সবদিকে বিভিন্ন লেন্স তাক কইরা ফটাফট শাটারে চাপ দিমু। ধরেন শ-ছ্যেকক ছবি তুইলা নিমু দেড় ঘন্টার ভিত্রে। কম হইলো মনেহয়। আরো কিছু বেশিই তুলমু, আপনাদের বলুম কেন কয়টা তুলছি? এই দেড় ঘন্টায় একশ আশিবার রুমাল দিয়া ঘাম মুছুম, পরিশ্রম হইতেছে না? এই খটখটা রোইদের ভিতরে কি ভালো ছবি উঠে?
ঘামে ঘামে তারা ক্রমে মে দিবস হয়ে উঠে
...............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
শ্রমিকের মজুরীতে যারা ভাগ বসায় নিয়তঃ
আজো তোমার সন্তান কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় হাঁটে
আব্বাজান,
১.
তখন শিশু শ্রেণীর ক্লাস। তোমার চাকরিও নাই। তাই স্কুলের জুতা নাই। কখনো কখনো টিফিন নাই।বছর শেষে নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পয়সা থাকাও স্বপ্ন। স্কুলে যাওয়ার পথে কান্না। স্কুলে চুপচাপ বসে থাকা.. একপর্যায়ে স্কুল থেকে নাম কাটানো... তখন আমি খুব ভাব ধরলাম- এ স্কুল পছন্দ না.. এই তো কিছুদিন পর নতুন স্কুলে কম বেতনে নতুন ক্লাসে ভর্তি হবো! যেখানে বেতন বকেয়া থাকলেও নাম কাটবে না। বাসা থেকে হাসিমুখে বের হলাম, স্কুলে গেলাম হাসিমুখে..কাঁদলাম রাস্তায়...
২.
অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহ
পথ হারিয়ে, দিন ফুরিয়ে
ছদ্মবেশ ধারণ করেছে
একটি শালিক।
তুমি তার কতটুকু জানো-
কতটুকু জেনেছে গতকাল
কতটুকু জানবে আগামীকাল?
ছাড়ো, এইসব ছেড়ে দাও
নতুন করে বুকের কপাট খুলে দাও,
অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহে
বসে না থেকে
সদ্য ওঠা চাঁদের দিকে তাকাও
রাতটা ভালো করে কাটবে।
এবং আগামীকালকে জানিয়ে দিয়ো
প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই সকল প্রেমই প্রথম
গল্প: আওয়াজ
-স্যার, ঘুমাচ্ছেন?
- না, মোকাররম। চোখ বন্ধ করে ছিলাম। বলো কি বলবা।
-ছাত্ররা স্যার আপনার বিরুদ্ধে আলাপ সালাপ শুরু করেছে।
-কোথায়?
-টঙ দোকানে। নিজেদের আড্ডায়।
-করুক। ছাত্রদের কাজই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলা। ওই বয়সে আমিও বলেছি।
- যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে স্যার। তাই বলছিলাম...
- বিগড়াবে? কী আর হবে? বিপ্লব হবে?
- হতেও পারে স্যার।
- ভয় পেও না মোকাররম। আজকাল ছেলেপেলেরা বিপ্লব কি জিনিস বোঝে না। তাদের জন্ম বিপ্লবের জন্য হয়নি। তারা কাপুরুষ। পুলিশের ডান্ডার বাড়ি খেলে সুরসুর করে ঘরে চলে যাবে।
- নাও তো যেতে পারে স্যার।
- যাবে না? না গেলে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেব। তারা হলো চাকরির জন্য পড়ে। এ ভয় সামলানোর ক্ষমতা তাদের নেই।
- তবে স্যার, অবস্থা ক্রমশ আপনার বিপরীতে যাচ্ছে। শুনেছি প্রক্টর তাদের পক্ষে যাচ্ছে।
শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) [এক]
শরত্চন্দ্র চট্টপাধ্যায় এর বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত আমি এখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করব ।
শ্রীকান্ত
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রথম পর্ব
[এক]
আমার এই ‘ভবঘুরে’ জীবনের অপরাহ্নবেলায় দাঁড়াইয়া ইহারই একটা অধ্যায় বলিতে বসিয়া আজ কত কথাই না মনে পড়িতেছে!
মেজাজ খারাপের কচড়া !!
ভোররাত ৩টায় ঘুমিয়ে যখন আপনি ৬টায় উঠে পরবেন,মানে আপনাকে ক্লাশের জন্যে উঠতে হবে তখন আপনার মেজাজ খারাপ হবে।
যখন ৭টার বিভীষিকাময় গাইনী ক্লাশে যাওয়ার জন্যে রাতের ঘুমের জামা-পাজামার উপর এপ্রন গলিয়ে,লেকচার খাতাটা নাকে মুখে গুজঁতে হবে তখন আপনার মেজাজ খারাপ হবে।
ক্লাশে মাননীয় টিচার ঢোকার পর ঢুকতে গেলে মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়া হবে এই ভয়ে যখন হুরোহুরি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয় তখন মেজাজ খারাপ হবে।
যখন বসার জন্যে যথারীতি ফ্যানের নিচের আরামদায়ক সিটটি দখল হয়ে যাবে তখন মেজাজ খারাপ হবে।
যখন ক্লাশে ঢোকার সব দৌড়-ঝাপ শেষ করে বান্ধবীর পাশে বসে কুটুর কুটুর করে গল্প করবেন ও সেই মুহুর্তে আপনাকে জানানো হবে আজ আর কোনো ক্লাশ হচ্ছেনা তখন মেজাজ খারাপ হবে।
ক্যান্টিনে খেতে বসে আবিষ্কার করলেন খাওয়া নেই তখন মেজাজ খারাপ হবে।
ক্ষ্যাপ
ঢাকা শহরে আমার ক্রিকেটে হাতেখড়ি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চুড়ান্ত সময়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলন নিহত হওয়ার পর হুট করেই স্কুল বন্ধ, হোস্টেল থেকে হাটখোলায়, অভিসার সিনেমা হলের পাশের গলিতে, সেখানেই হরতালের দিন ক্রিকেটে হাতেখড়ি হলো। তখন বোলিং একশন ছিলো চুড়ান্ত রকমের বাজে, বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় মাটিতে পা লেগে থাকতো, খালি পায়ে ৩ ওভার বোলিং করে রক্তাক্ত পা নিয়ে ফিরে আসলাম। এক সপ্তাহের বেশী আনন্দ স্থায়ী হলো না, এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর হেঁটে হেঁটে প্রেসক্লাবে গিয়ে দেখলাম একটা বিল্ডিং খুলে নিয়ে চলে গেছে উন্মত্ত জনতা। স্কুল-কলেজ শেষ করে পুনরায় ঢাকা আসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষা দিতে, ধুপখোলা মাঠে, ততদিনে বোলিং একশন বদলেছে, পায়ে ঘষা লেগে লেগে বেশ কয়েকবার পা কাটবার পর আমি পপিং ক্রীজের আগেই লাফানো শুরু করেছি, পরে সেটাও বদলে ফেলেছি কোনো একভাবে।
অনেকদিন পরে এপ্লিকেশন লিখলাম...
হরতালে বাসায়। সকাল থেকে প্রত্যেক ঘণ্টায় একবার করে বিদ্যুৎ গেছে পরের ঘণ্টায় এসেছে। এভাবে জেনারেটরের সঞ্চিত তেল শেষ। ওদিকে পেট্রল পাম্প বন্ধ, স্থানীয় থানার নির্দেশ হরতালে তাদের অনুমতি ছাড়া তেল বিক্রয় করা যাবে না। এদিকে বিদ্যুতাভাবে জীবন অতিষ্ঠ। অবশেষে, থানায় এপ্লিকেশন লিখলাম ...আবাসিক কমপ্লেক্সের জেনারেটরের জন্য সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পকে ডিজেল বিক্রয়ের নির্দেশ প্রদানের জন্য বিনীত আবেদন। মেজাজ খারাপ ছিল তাই, এপ্লিকেশন টা ইংরেজিতেই লিখেছি। আমার এপ্লিকেশন নিয়ে কেয়ারটেকার গেছে থানায়। পরবর্তী ফলাফল জানি না। আবার বিদ্যুৎ-শালা ফুড়ুত, ল্যাপ টপের ব্যাটারীও ক্লান্ত, তাড়াতাড়ি শেষ করি...
যাহোক, ভবিষ্যতে এই ধরণের আবেদন পত্র মাধ্যমিকের বাংলা/ইংরেজি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন মনে করছি...
~
পিকেটার
থাম এখুনি থাম,
তোরা থাম ভাঙিসনে বাস টেম্পো রিক্সা আর টেক্সি,
তোরা আগুন জালাসনে গরীবের দোকানে,
তারা ও তোদের মতো দিনে খায় দিনে এনে,
তোরা কি জানিসনে?
একদিন না চললে বাস চুলো জ্বলে না হেল্পারের ঘরে,
একদিন না চললে টেম্পো খেতে দেয় না হেল্পার ছৌট ছেলেটারে,
একদিন না চললে রিক্সা খাওয়া হয় না রিক্সাওয়ালাটার,
তোরা কি দেখিসনি বাস হেল্পার ছেলেটা সারাদিন ঝুলে বেড়ায়,
ঘামে শরীর তার ভিজে যায়,
তবুও সে যাত্রীদের বসতে দিয়ে নিজে দাড়িয়ে যায়,
কিছু টাকা বেশি পাবে বলে,
তার ছৌট ভাইটারে স্কুলে পড়াবে বলে,
বুক ভরা স্বপ্ন তার সে ড্রাইভার হবে,
একটা সুন্দর জীবন একটা সুন্দরী বউ পাবে,
তোরা দেখিসনি ১২ বছর বয়সী বালক টেম্পো হেল্পার,
গায়ে ছিন্ন ময়লা জামা বুক ভরা স্বপ্ন যার,
রুক্ষ তার চুল শরীর গেছে শুকিয়ে,
টেম্পোর পা দানিতে দাঁড়িয়ে স্কুলগুলোর দিকে যায় তাকিয়ে,
একদিন হঠাৎ.. [এলোমেলো কাব্যকথন]
একদিন হঠাৎ..
রাত জাগা চোখ;
খানিক ঘুমের পর,
হঠাৎ জেগে দেখে ভোর..
অবাক চেয়ে রয়;
বোকা, চেনা দেয়াল ঘড়িটা.।
এদিক ওদিক একেক কাজে;
ঘুম চোখে,
কেটে যায় খানিক সময়..।
অলস দুপুর..
অসময়ের ঘুমে;
পথ হারায়,
চেনা অচেনা স্বপন ভিড়ে..।
দুপুরের শেষ সীমায়,
আবারও, জেগে উঠা..
এক ফালি বারান্দায়,
শেষ বিকেলের মরা রোদ্দুর..।
গ্রিল-এর অপাশে;
অনেক দূরে আনমনে,
আকাশ দেখে মেঘলা চোখ..।
চেনা মুখের স্মৃতির খেলা;
ঝাপসা হয়ে আসে,
ক্ষণিকের বাস্তবতায়..
অচেনা গানের সুরে;
উদাসী হাওয়ায়,
ভিজে আসে চোখ..
থেমে থেমে চুমুকে;
কফির কাপে,
ভোরের সতেজ শুভ্রতা..।
সাঁঝের আলোয়;
বিকেল ছাঁদে,
মেঘের খেলায় আকাশ বদল..
অবাক আলোয়,
হৃদয় ভরার নিমন্ত্রন..।
দুরের আকাশের গা'য়..
হেটে চলে নানা রঙ মেঘ..
আকাশের ক্যানভাস জুড়ে,
কুসুম লাল; ফিরোজা তুলির ছোপ..।
মেঘেদের ভিড়ে উঁকি দেয়,
চেনা রবির অচেনা কিরণ..