ইউজার লগইন
ব্লগ
চড়ুইভাতির লালটিপ / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
আম্মু, তোমার নাম কী ?
- আব্বুর পাশের চাচুটি আমার নাম জানতে চায় ।
আমি আমার নামটি বলি-অপূর্বা শৈলী।
ভারি সুন্দর নাম বলে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন, আদর করেন। আমার বেশ ভাল লাগে। চাচুটি বেশ মজার-ক্লিক, ক্লিক করে তিনি আমার ছবি তুলেন, আম্মুর ছবি তুলেন, আমাদের ছবি তুলেন। এটি আমাদের অন্যরকম দিন।
আব্বুরা কেউ আজ অফিসে যায়নি। এমনকি আমাকেও খুব ভোরে ওঠে স্কুলের জন্য ছুটতে হয়নি। অন্যরকম দিন বার বার আসেনা। অনেকদিন পর অনেকদিন পর একবার আসে।
বইমেলা কড়চা – (তিন) মাঠার স্বাদ মালাইয়ে
বইমেলা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মাসুম ভাইয়ের ভাষায় “বইমেলা আর নেই”। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই উল্লেখযোগ্য ইভেন্টটি শেষ হয়েছে। দাদাভাই মাঝপথে অভিমান করে কড়চা বন্ধ করে দিলেন, কেউ কেউ “মুরগা” হবার কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। কিন্তু এখনের পর্ব হলো শেষ হয়েও হইলো না শেষ পর্ব। জনপ্রিয় কথাসাহ্যিতিকদের লেখার ধরন নিয়ে ছিল আমার এই নাদান কড়চা। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলনের পর এবার আর একজন এযুগের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হকের উপন্যাসের প্যটার্ন নিয়ে আজকের কড়চা। প্রথমে অনেক লেখকের লেখার মধ্যেই ভার্সেলাইটি থাকলেও, যে মাত্র তারা জনপ্রিয় হয়ে যান, যে লেখাটির কারণে জনপ্রিয় হয়ে যান, পরে সেই স্টাইলটিকেই আকড়ে ধরে বেশির ভাগ লেখা লিখেন। আনিসুল হকের এ উপন্যাসটির নাম ধরা যাক সাড়ে তিপান্ন।
টুকটুক গল্প-৯
১। গতবছর সংসদে বাজেট যখন পাশ হলো দেখলাম গরীবের সবকিছুরই দাম বাড়ছে, শুধু এলপি গ্যাসের দাম কমেছে। বাড়িতেই ছিলাম তখন। খুশী হয়ে আম্মাকে বললাম যে, আপনার গ্যাসের দাম কমবে। আম্মা তেমন গা করলো না, পরদিনই পত্রিকায় দেখলাম যে এখনই কমবে না গ্যাসের দাম, পরে কমবে। আম্মা বললো, -আর কমছে! ৭০০ টাকার গ্যাস ১৪০০ টাকা হইছে। সরকার ভালোই খাওয়াইতাছে। ভোটই দিমু না কাউরে।
জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ১২ মার্চ ২০১২ তারিখে আওয়ামী লীগের ঢাকা বন্ধ কর্মসূচি তথা মুড়ি খাওয়া দিবসের সাফল্য কামনা করছি
শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই চমকে গিয়েছেন! কিংবা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন! কিংবা আজকে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে টিভির নিউজটা দেখা হয়নি বলে আফসোস করছেন এই ভেবে যে, এত গুরুত্বপূর্ণ নিউজটা দেখা হলো না! না, চমকানোর কিছু নেই। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বা সরকারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এটা তাদের অঘোষিত কর্মসূচি। ভাবছেন, একটা দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এরকম 'বিরোধী-দলীয়' কর্মসূচি গ্রহণ করে কিভাবে?
তসলিমা নাসরিনঃ কতোটা সফল নারীবাদে ?
তসলিমা নাসরিনঃ কতোটা সফল নারীবাদে ?
কান্না
আজ আকটা স্বপ্ন দেখলাম । এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্ন।দেখলাম আমার পরানি আমাকে কল করে বলছে "জানু sorry তোমাকে অনেক দুঃখ দিলাম।আমি আসলে একটা প্রোগ্রামে ইন্ডিয়া গেছিলাম।আর বাড়িতে বলে গেছিলাম আমাকে ভূলে যাওয়ার জন্য তোমাকে বলতে।আসলে তোমাকে চমক দিতে চেয়েছিলাম।দেখ তোমার পরানি তোমার কাছে ফিরে এসেছে।শুন একটা সুখবর আছে আমার মাবাবা তোমাকে মেনে নিয়েছেন।আমি খুশিতে কেঁদে ফেললাম" ঘুম ভেঙে দেখলাম আমার বালিশটা চোখের পানিতে ভিজে গেছে।আর দেখলাম আমি যে স্বপ্নটা দেখেছি তা সত্য নয়।মনটা কেঁদে উঠলো।বুঝতে পারলাম আমি একা পড়ে আছি আমার সামনে পিছে কেউ নাই।
না-না / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
এখন আঁধার, নিকষ আঁধার-শুনি শুধু হুতোম পেঁচার ডাক,
আড়মোড়া ভেঙ্গে দেশলাই খুঁজে সহজে অবাক... ... ...
আমার পৃথিবী নড়েনা চড়েনা কেমন আদিম বোকা
এখন চাঁদ তারা স্বপ্ন প্রেম কিছু নেই-
জানালার পাশে উড়েনা এখন একটি জোনাক পোকা।
না-না, এটাকিছু নয়-হয়তো ভূতের বাতি,
এটা কি সোনার ডিম;
এখনো গোখরো চরে বিষাক্ত ফণায় জমে পউষের হিম।
একাকীকথণ (৩)
ধানের শীষগুলোর উপর দিয়ে বাতাস খেলে যাচ্ছে কি সুন্দর, ওরা এই কাত হয়ে যাচ্ছে বাতাসের তোড়ে আবার ঝিলিক দিয়েই মাথা সোজা করে দাড়াচ্ছে। ক্ষেতের কাছে ভরা রোদ্দুরের মাঝে এই পুরানোগাছের কাছটাতে ছায়া রইবেই জানতাম, আরো জানতাম এখানে এসে ক্ষয়ে যাওয়া গাছের গুড়িটাতে বসলেই গা ঠান্ডা করা বাতাসে জুড়াবেই মন। কিন্তু তাও কতোদিন পর আসা হলো এখানটায়, নিজেকে এখন দু’দন্ড শান্তি দিতেও মন টানে না, কেবল কষ্টগুলোকে ঠেঙ্গিয়ে দিন পার করাই যেন জীবন, কান্নাও এখন বিলাসিতা।
পাগলের দিনলিপি (বাইশ)
আজ কিছু লিখবো না
যে শব্দটাই গড়িয়ে পড়েছে তাতে কাঁদা জল মাখামাখি
অথচ আমার আকাশে তখন রোদ্দুর দাপট দেখাচ্ছিলো
আজ কিছু লিখবো না
লিখতে গেলেই ইতিহাসের পাতা চুয়ে গড়াচ্ছে রক্তের স্রোত,
তার সাথে গড়িয়ে চলেছে পচা-গলা লাশের দুর্ঘ্রাণ,
মিথ্যের বিলাসী ফুলঝুড়ি অবিরত গান।
বেশি কইরা হাইটাবেড়ান, ত্যাল্গ্যাসের উপ্রে চাপকমান
প্যাটের ধান্দায় বেরৈতেই হয়। সেইলাইগাই সকালসকাল বেরায়া পর্লাম। বেশ আয়েশ কইরা একখান বিড়ি ধরায়া হাইটা গলির ভিত্রে থিকা বেরইলাম। গলির্ভিত্রে রিস্কাগাড়ি কম দেইখা ভালৈ লাগতেছিলো। ভাব্লাম যাউক লুগজন কম্বেরৈছে, শান্তিতে যাওঞ্জাইবো। ওম্মাগো মা......
ইভিনিং এমবিএ
বুয়া আসে না ঠিকঠাক। সকাল বেলা খাওয়া হয় না নাস্তা তাই দিনগুলো যাইতেছে এ্যাসিডিটিময়। যদিও এক আতেল বন্ধুর সামনে গ্যাস্ট্রিক শব্দটা বলে যে বিপদে পড়ছিলাম। সেই আতেল বলে 'গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা কথাটা বলবে রিকসাওয়ালারা তুই কেনো বলবি?' আমি ইন্সাল্টের ঠেলায় আর কোনো কথা বলি নাই। কিন্তু সেই আতেল বন্ধুরে পাইতেছি না পাইলে তারেও এই কিসিমের একটা ইনসাল্টিং বাশ দেয়ার প্ল্যান আছে। বুয়া নানা উসিলায় আসে না। সেইটা সমস্যা না সমস্যা হলো বুয়ার কথা বলার ধরন দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়। যদি তাকে জিগেষ করা হয় বুয়া আসেন নাই ক্যান?
বসন্ত-যন্ত্রণা….নীলাঞ্জনা নীলা
**সুমনা যাকে আমি ভুলে যাই , কিন্তু ঋতু বসন্ত ভুলতে দেয়না**
সেই মূহুর্তে চোখ বন্ধ করি ।
অনুভূতির সব কয়টি দরোজা-জানালা লাগিয়ে দেই দ্রুততার সাথে
যেনো কিছুতেই ঝড়ের মাতমে ভেঙ্গে না পড়ে ওপরের ছাদ
ধূলো-বালিতে ভরে না যায় মস্তিষ্কের যন্ত্রপাতি ।
আবেগ আর বিশ্বাসে যেনো না পড়ে টান ,
একটুকুও যেনো কমতি না হয় প্রেমের ।
যদিও ইচ্ছে করে আদিম অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে মুখোশ পড়া মুখে
কিছুতেই পারিনা ।
তাইতো মনের ইচ্ছেগুলো কে অজ্ঞান করে রাখি ।
কোথায় আর থাকে !
চেতনানাশক ঔষধটা যে ভেঁজালে ভরা---
তোমাকে ভালোবাসার শাস্তি পাচ্ছে এই চোখ-অনুভূতি-মন-ইচ্ছে ।
অন্যদিকে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছো এখানে-সেখানে ;
আর তোমার বুকে , চোখে , শরীরের সবখানে , মনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমিহীন কারুকাজ ।
হৃদয়ে নাকি ভালোবাসা থাকে , আর আমি প্রেম কে ধারণ করেছিলাম অস্তিত্ত্বে (মানে এই নিঃশ্বাসে )।
কেন এমন হয় ?
ডায়েরি ১
ভেতরটায় একটা জন্তু ডাকছে । একটানা অনবরত ; নীল মাছি ভরা মৃতদের মচ্ছবে । সমুদ্র সঙ্গমে চলে গেছে কয়েকটি নদী ; আর ফিরে আসবে না বলে ।
এদিকে শুকিয়ে কাঠ অই বদ্বীপ । বুনো অন্ধকার বিষণ্ণ করে দেয় তোমার পতিত জমিন ।তির তির করে কাপতে থাকে প্রথম বোতাম খোলার অস্থির উল্লাস । ঘাসের বুক থেকেই শুকিয়ে যায় শিশিরস্মৃতি ।তোমার চোখে ভর করে বিষ কন্যার দৃষ্টি ।
অস্থির হয়ে জন্ম নেয় মহাস্থানগড়ের ভোর । আর খিস্তি খেউরের ফুল্কি ছোটে ক্রমশ একটি কাকের মুখ থেকে ।
প্রবল পৌরুষ আর্তনাদ শোনা যায় সহর সভ্যতার। মিথস্ক্রিয়ায় জন্ম নেয় নতুন দুঃস্বপ্ন ।
এবার মনে হয় সময় হল নীলকণ্ঠ হবার ।
অস্কার পুরস্কার পছন্দ হয়নি
জ্বরের কারণে চারদিন বাসায় ছিলাম। সময় অবশ্য খারাপ কাটেনি। বাসায় এমনিতেই থাকা হয় না, বাচ্চারা মিস করে। আমিও করি। উপরি পাওনা ছিল টানা কয়েকটি সিনেমা দেখা। বিশেষ করে এবারের অস্কার পাওয়া অনেকগুলো ছবি পর পর দেখলাম। সেই সব মুভি নিয়েই লেখা।
সিনেমাগুলো দেখে মনে হলো এবারের পুরস্কারের নির্বাচন সঠিক হয়নি। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। সবার সঙ্গে মিলবে না তা বলাই যায়। লীনার সাথে তো মিলছেই না। কারণ লীনা জীবনে প্রথম বারের মতো মুভি নিয়া পোস্ট দিছে, দি আর্টিস্ট দেখে মুগ্ধ হয়েই তো।
প্রতারণার কলম্বাস
হীরকরাজার সবুজদ্বীপে যাবনা যাবনা
ঠাকুরমার ঝুলি কক্ষোনো পড়বোনা
গোয়ালে গোরু, কুমারীত্ব লুপ্তপ্রায়
পতি পরম গুরু, রমণীর চরণতলায়৷
বাংলার বধুর মধুমাখা বুক ফাটিবে
পুরুষদের লালসায় ধর্ষিত হলেও
অকুমারীর দোষে নয়নে নীরব ভাষা
পুরুষের কৌমার্যের দাপট রীতিতে
দাসী রমণীর মুখ ফুটিবে না।।৷
ধর্মের মহিমাই মানবাত্মার উচ্চতান
আবার ধর্মই পৈশাচিকভাবে
পতিতের গলায় চাপে আসুরের পা
ইহাতে ধর্ম যন্ত্রেরই বা কী দোষ!
মাথার ওপরে ধর্মের দীর্ঘশ্বাস
আদতে শুধু প্রতারণার কলম্বাস
শকুনের মত দৃষ্টিহানা অপাঙ্গ
অন্তঃপুরে অর্থলোলুপ শরীরি-বিভঙ্গ।।।।৷