ইউজার লগইন
ব্লগ
একটা ছবির গল্প
শওগাত আলী সাগর
কাগজটার উপর চোখ পড়তেই দপ করে মেজাজটা বিগড়ে যায়। এক টুকরো সাদা কাগজের বুকের উপর রং পেন্সিল দিয়ে তৈরি করা বিচিত্রসব রেখাগুলোর উপর দিয়ে আমি বর্ণর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি। ওর চোখে মুখে দুষ্টুমি খেলা করে যায়। আমি রেগে গেলে মেয়েটি রাজ্যের দুষ্টুমি দিয়ে সেই রাগকে হালকা করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে আমার রাগের মাত্রাটা উর্ধ্বমুখি হতে থাকলেও সেটা শেষ পর্যন্ত দপ করে নিভে যায়। এই বিষয়টা মেয়েটা জেনে গেছে বলেই হয়তো বা আমার রাগকে মোটেও পাত্তা দিতে চায় না সে।
- আমি তো একটা ছবিই আঁকলাম। দেখো, দেখে বলো ছবিটা কেমন হয়েছে।– আমার রাগটাকে একেবারেই পাত্তা না দিয়ে বলে যায় সে।
কি হবে?
আমার বাসার কাজের মেয়েটা ক্লাশ ফাইভ পাশ। কাল একটা ঔষধের শিশি হাতে নিয়ে আমাকে বলছে --আপা এটা কোথায় রাখব।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম---- কি এটা?
সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই পড়তে শুরু করে দিল--হ্রসসই ভিটামিন।
------- হ্রসসই ভিটামিন? :।
সে আবার ও পড়ল এবং বলল -----হ্রসসই ভিটামিন।
হা হা করে হাসতে হাসতে আমার বিষম খাবার অবস্থা।
এটা হল " ই ভিটামিন। ই = রসসই , আঞ্চলিকতার টানে তা হয়ে গেছে হ্রসসই।
একদিন বাসায় একটুও তেল নেই রান্না করব। ঐ মেয়ের বাবাকে ডেকে তার হাতে একটি তীর সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের খালি ক্যান দিয়ে বললাম এমন একটা পাঁচ লিটারের ক্যান নিয়ে আসেন। হাতে দিলাম ১০০০টাকার একটা নোট। সে গেল তো গেল একেবারেই চলিয়া গেল আর ফিরিয়া আসিল না। বাধ্য হয়ে আমি নিজে যেয়ে একলিটার তেল কিনে আনলাম।
অভাগ ভালবাসা
সুভলং পাহাড়ের শীতল ঝর্ণা,
বয়ে যাওয়া কাচালং,কর্ণফূলী নদী,
পাহাড়ে ফুটে থাকা অজস্র ফুল,
সাড়ি সাড়ি সবুজ বৃক্ষ রাজি,
পুরী রাজকন্যার সাথে করে বাজি,
স্বগৌরবে সবাই বলে;
পুরী তোমার চেয়ে আমি বেশি সুন্দর,
পুরী কন্যা হেসে বলে;
দেখো আমার অপরূপ রূপের জ্যোতি,
মায়াময় মূখখানি অতি,
ফুল বলে দেখো আমার দেহের রং কত সুন্দর,
দেহখানি মোর যৌবন ময়,
তাই দেখে পাখি আর ভ্রমরের দল কত পাগল হয়,
আদরে হাত বুলায় পাহাড়ীরা এসে,
তারা আমায় সাথে নিয়ে যায় কতইনা ভালবেসে,
পুরী কন্যা হেসে বলে;
বলো নাখে এমন কথা দুঃখে বুক ফেটে যায়,
কেমন তাদের ভালবাসা তোমাকে মেরে ফেলায়,
তার চেয়ে দেখো আমি কত পাই যত্ন,
ভালবেসে প্রিয় মোরে দিয়েছে হীরা মুণি মুক্তো রত্ন,
আর তুমি কি পেলে?
ফুল হেসে বলে;
হোক আমার জীবন অতি ক্ষণিকের,
আজীবন ভালবাসা পাই আমি অনেকের,
পুরী তুমি কর ছটফট ভালবাসা নিতে,
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায় না
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায়না ।
তারচে বরং পুড়তে বল,
চোখের কিছু ঝিলিক দিয়ে ধরিয়ে দাও
দেহমনে দাহ্য হয়ে কৃষ্ণচূড়ার ফুল হয়ে যাই।
দুধকলার বাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া বীণের ভীতি
ফণা ধরতে শেখার আগেই গুড়িয়েদিলাম
যেমন তেমন কালসাপ আমি?
ভিষণ নীলে রাঙিয়ে দিব সেই কথাটা,
কিন্তু তখন বিষ উড়ে যায়!
আমার কুয়োর জলে মেঘ হয়,
ধানের বুকে দুধ হয়,
রাজার ছেলেই রাজা হয়।
শুধু বলা হয় না ।
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায়না ।
পাগলের দিনলিপি (চব্বিশ)
..............................................................................
................................................................................
..............................................................................
..........................................................................
..........................................................................
তোমার কালির রঙ নীল ছিলো
তুমি তাড়াহুড়ো করে এলে তারপর কীসব
লিখে রেখে গেলে আমার ভূগোলে।
দিক হারা আমি তখন স্বদেশ চিনি নাই...
আমার কেবলি মনে পড়ছিলো তখন ক্ষণে ক্ষণে
কোনো এক পাহাড় পুড়েছে খ্রীষ্টেরো আগে
সেই পাহাড়ের ধার ঘেষে এখন দাঁড়িয়ে থাকে ব্যবসায়িরা
আর নারীরা অপেক্ষা মেলে দিয়ে তাকিয়ে রয়েছে
সুরমায় রাঙাবে তাদের জলের ছোঁয়া মাখা চোখ...
আমার তখন ইচ্ছে করছিলো সুরমার অঙ্গারে তোমাকে,
নাম বিভ্রাট
আমাদের বাসায় এক বুয়া কাজ করত, আমরা ডাকতাম বুবু, মা ডাকত জানেহারের মা বা সুলতানের মা। বিশ বছরেরও বেশি সে কাজ করেছে আমাদের বাসায় (গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নাম ওঠার কথা!)। আমাদের ওপর সমানে খবরদারি করত, আমরা বলতাম মায়ের পিএস। এখন অনেক বয়স তার, তবে মাঝে মধ্যেই বাসায় আসে, আমাদের খোঁজ নেয়, সারাদিন থেকে মায়ের সাথে গল্প করে চলে যায়। এটা ২০০৪ সালের কথা। তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার বল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। খবর পেয়ে সে এসেছে দেখা করতে। আমি বাসায় নেই। মাকে জিজ্ঞেস করছে,
......
আম্মা, ভাই নাকি বিদেশ যাছে? কতি?
আমেরিকা
আমেরিকায় কতি? বুশের বাড়ির কাছে নাখি? বুশকে মাইরতে পাইরবে না? (তার নাতির নাম আবার সাদ্দাম)
এবার আমার ছোট বোন লুম্বিনী বলছে যে,
না, দাদা যাবে ইন্ডিয়ানা, বুশের বাড়ির থেকে অনেক দূরে।
প্রণয়প্রপাত / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
শব্দের জরায়ু ছিড়ে মিশে যায় রাত,
নদীর দু’তীর ভাঙ্গে নায়েগ্রা প্রপাত।
ত্রিভুজ বিদীর্ণ করে লাঙ্গলের ফণা-
অধীর আদম বুনে আনাজের কণা।
সমুদ্র ভেলায় ভাসে লখিন্দর ; ভাঙ্গে ঢেউ উপকূল মহুয়ার বন,
ধুশর মাঘের রাত- প্রণয় শিখায় পুড়ে কামরাঙ্গা বেহুলার মন।
১৩.০৩.২০১২ইং
চট্টগ্রাম।
সেই পাহাড় আর নদীর গল্পটি
টিক টিক টিক টিক শব্দ ছাড়া ঘরে আর কোন শব্দ নেই এই মুর্হূতে। সারা বাড়িটাকে একটা মৃত্যু শীতল নীরবতা ছুঁয়ে আছে। এ বাড়িতে এখনো কিছু বেঁচে আছে, প্রাণপনে সেটা জানান দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে হাবা কালা এই ঘড়িটি। কোথায় কি হচ্ছে, বাড়িতে কার মনের কি অবস্থা, কিছুই বুঝতে পারে না, বোকার মতো কাটা ঘুরিয়েই যায় সারাবেলা। ভর দুপুর হলেও এঘরটাতে এখন সন্ধ্যা নেমে আছে যেনো,আলোছায়ার খেলায়। এই বসার ঘরটার সামনের জানালায় বসলে বাইরের রাস্তাটা সরাসরি দেখা যায়। আর জানালাটার ঠিক পাশেই গোলাপী বোগেনভিলার ঝাড়। ঝাড়টা বড় হয়ে গেলেই ঝুঁকে এসে জানালাটার অনেকটা ঢেকে দেয়। তখন বসার ঘরটা অনেকটা অন্ধকার দেখায়। এতে একটা সুবিধে হয় রাস্তা থেকে ঘরটাকে আর সরাসরি দেখা যায় না যদিও ঘর থেকে রাস্তাটাকে ভালোই দেখা যায়। জানালার উপর আছে গাঢ়ো মেরুন রঙের ভেলভেটের পর্দা। সকালটা যখন পেকে উঠেছিলো, তখন চোখে অনেক আলো লাগছিলো বলে পর
আবোল তাবোল - ৮
#
যে কোন লেখা, বিশেষত ব্লগরব্লগরের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় সমস্যা বোধহয় একটাই - তা শুরু করা!
মাথার ভেতর রাজ্যের যত চিন্তাভাবনার দৌড়াদৌড়ি কিন্তু লিখতে নিলেই সব উধাও। সবাই যেন বাইরে যাবে বলে এক্কেবারে ফুলবাবুটি সেজে রেডি কিন্তু সময় হলে কাউকেই পাওয়া যায় না। এ ঠেলে ওকে, ও ঠেলে তাকে। এই চলতে থাকে, আর লেখা হয় না। আজ তাই আর এত চিন্তা ভাবনার দিকে না যাই, আজ ডাইরেক্ট একশন। যা যা মাথায় আছে থাকুক, টাইপিং শুরু করলাম যা লেখা হবার হোক!
#
অনেক দিন হল আবোল তাবোল কিছু লিখিনা। ভাল লাগতেছে না ব্যাপার টা।
আসলে, কাহিনী হইল কিস্যু ভাল্লাগেনা! দিনে দিনে দিনকাল এমন হইছে যে একটা কিছু মনোমত হয়না। সবার সাথে খালি ঝামেলা হয়, তাই এখন সবার কাছ থেকেই একটু দুরে দুরে থাকার চেষ্টায় আছি। এইসব প্যানপ্যানানি কথাবার্তা লিখতেও ভাল্লাগেনা। এই মন নিয়া ভাল কিছু লেখার উপায় আছে!
ভাবনার ডানায় ভেসে
নীলচে ভাবনা গুলো ভাসে এলোমেলো বাতাসে
ধোঁয়াশা সীমানায়।
জানবেনা কেউ কোনোদিন, ধুসর মেঘের উড়ুক্কপনার কারণ
হলদে ঘাসের বিরহ সংবাদে গড়িয়ে যাওয়া অশ্রু উপহার।
উড়তে থাকা পুরোনো খবরের কাগজে
সংবাদের দায় একান্ত নিজস্ব সুখানুভুতির বিশ্লেষ।
ছিন্ন করতে করতেও, আবার গড়বার প্রচেষ্টায় সম্মোহনী ভাবনার অনুবাদে
তোমার অতৃপ্তি থাকতেই পারে;
তবুও, চিলতে বারান্দায়
ঘর বোনা চড়ুইয়ের গানে যেটুকু মাধুর্য্য থাকে,
তাতে ভর করেই ছুড়ে দেই তীব্র মন্ত্রপুত তীর।
লক্ষ্যভেদের আশঙ্কা কিংবা ইচ্ছা ছাড়াই...
আত্মমগ্ন কথামালা- ৭
সবকিছুতেই কেমন জানি অস্থিরতার ছাপ পইড়া গেছে। কিছুই ঠিকঠাক মতো হইতেছে না।
পাগলের দিনলিপি (তেইশ)
শুভ্র শ্বেত বরফের গা'য়ে টুপ করে পড়লো এক ফোটা টকটকে লাল রক্ত
তারপর সাদার মাঝে লাল রক্ত ছড়াতে ছড়াতে গোলাপের ঘ্রাণ পেলো
আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেলো স্নো হোয়াইট নামের কুমারী মেয়েটার কথা।
সাত বামন দাঁড়ালো বিছানার পাশে, নীরব নিথর বৃদ্ধ বামনেরা চুপ করে
আমার ঘুমহীন রাত দেখেই পার করে দিলো ফিরে যাওয়ার সময় সীমানা
ভোর হতে দেখি একে একে তারা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে থাকে।
আমার তখনি মনে পড়েছে স্নো হোয়াইট জগতের সুন্দরীতমা প্রেয়সী...
আয়নার জগতে তার এভাবেই পরিচিতি,
"আয়না আমার দেয়াল ঝোলা আয়না
সবচেয়ে রূপবতী কে, শুনতে প্রাণ সয়না"
"আপনার রূপে চোখ ধাধায় তবে
সুন্দরীতমা হলো স্নো হোয়াইট এই ভবে..."
স্নো হোয়াইট একলা একলা বনের শনের ঘরে মন দুলিয়ে প্রাণ দুলিয়ে নাচে...
আমার কেবল ইচ্ছে করে ডেকে নিয়ে যাই সেই রাজকুমার, আরবী ঘোড়ার সওয়ারী
যে একহাতে শুভ্র বরফের কন্যারে ঘোড়ায় তুলে নিয়ে ছুটে যাবে নিশ্চিত শহরে।
অবিলম্বে স্বাস্থ্যনীতি চাই
চতুর্মাত্রিক ব্লগে একজনের একটা পোস্ট দেখলাম
কোথায় আছি? কেন আছি? লিখেছেনঃ নিশুতিরাতের চিঠি (তারিখঃ ১২ মার্চ ২০১২, ৩:০৬ পূর্বাহ্ন)
সে রাত
সে রাতে চন্দ্রমল্লিকায় কোন গন্ধ ছিল না
যেন লাশ কাটা ঘরে সাদা চাদরে মোড়া নিস্তব্ধতা
জোছনার কাফনে ঢাকা চাঁদ -
লোকালয়ে লোকালয়ে লোবানের মহোৎসব
মৃত ফুলেদের সাথে ছিল ফুলশয্যা।
সে রাতে বৃষ্টির উচ্ছাসে ছিল প্রিয় গান
পেখম ছড়ানো অতীত
মেথীর মাদকতায় আতরের ঘ্রাণ
করতলে মেহেদীর ঘা
হাজারো ফাটল ধরা জীবন সিড়ি।
সে রাতে অতন্দ্র প্রহরী চোখ রেখেছিল বাঁধি
জলে ভিজে স্বপ্নেরা চুড়াচুড়
আগুনে লেলিহান দেহমন
স্মৃতি পারাপার নদী ভাটার টানে
বয়ে চলে প্রতিমা বিসর্জনে ।
সে রাতে চাঁদ ছিল, ফুল ছিল
স্বপ্ন ছিল, অশ্রু ছিল
বৃষ্টি ছিল, আগুন ছিল
লাল বেনারসির কফিনে ছিল নিথর দেহ।
বছরে ২৫ হাজার টাকার সিগারেট...
সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম ৮৪ সালের শেষের দিকে। সবেমাত্র কলেজে উঠেছি। নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ। নাবালক থেকে বালক হয়েছি। বই- খাতা নিয়ে কলেজে যেতে হয়না। পোষাকের ব্যাপারে তেমন কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম ছিল না। ৩২ ইঞ্চি ঢোলা প্যান্টের সাথে প্রায় ৩ ইঞ্চি উঁচু হিল। টাইট শার্ট। সে শার্টের আবার কলার বেশ বড়। এই ছিল সে আমলের ফ্যাশন। কলেজে যাবার সময় মা ৫/১০ টাকা দিতেন। আমরা তখন নারায়ণগঞ্জে। কিল্লারপুলের ড্রেজার কলোনীতে থাকি। কলেজে যেতে রিকশা ভাড়া ছিল ২ টাকা। কলোনীর আরেক বন্ধুর সাথে যেতাম শেয়ারে। যাওয়ার ভাড়া আমি দিলে আসার ভাড়া ও দিত। ওর নাম ছিল বাবু। বাবু এখন আর্মিতে। ১৫ লং কোর্চে পরীক্ষা দিয়ে আমি মারলাম ফেল। পরেরবার ১৬ তে পরীক্ষা দিয়ে বাবু পাশ করল। ও এখন কর্ণেল।