ইউজার লগইন
ব্লগ
ব্লগ দিবস বিষয়ে
বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপনের রাজনীতিতে একটা প্রাথমিক ধারণা ছিলো ব্লগিং বিষয়ে আম-জনতার উৎসাহ বাড়ানো, ব্লগের বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি করিয়ে দেওয়া। ব্লগারদের আড্ডা ব্যতীত সেমিনার ঘরে উদযাপিত ব্লগ দিবসে সাধারণ মানুষের নগন্য উপস্থিতিতে সে লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হয় সেটা বিবেচনা করে দেখতে হবে।
যদি বাংলা ব্লগ বিষয়ে সাধারণকে উৎসাহী করতে হয় তবে সেমিনার রুমের আবদ্ধতা থেকে ব্লগি দিবসকে বিচ্যুত করতে হবে। বইমেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ১লা ফেব্রুয়ারী ব্লগ দিবস উদযাপন না করে বইমেলার প্রথম সপ্তাহে সেটাকে উদযাপন করতে হবে।
সেমিনার, গণমাধ্যমের রথি-মহারথীদের শুভেচ্ছাবানী আর কেক কাটাকাটি বাদ দিয়ে ব্লগকে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে বরং বই মেলা চত্ত্বরকেই ব্যবহার করা যায়।
একটা ননসেন্স সন্ধ্যা
সারা সন্ধ্যা তার হাত ধরা ছিলো
মৃতদেহের মতোন শীতল বরফ
মনে হইতেছিলো কবর অভ্যন্তরে
রাত্তির যাপন করতেছিলাম দুইজন।
একজন প্রহরী চেহারার লোক হাক দিলে
সম্বিত ফিরলো তোমার-আমার।
চোখে তার লাল লাল আগুন জ্বলতেছিলো
আর কণ্ঠস্বরে ড্রাগন হুঙ্কার...
এইসব আগুনের হাকডাকে আমি চমকাই;
মনে পড়ে সেই বালক বেলায়
আগুনের ভয়ে নির্দোষ মোমবাতি আর
ড্রাগন বান্ধব হইতে পারি নাই।
আগুনের ভয়ে প্রহরীদের লালাভ চোখে
আমার অরুচি। আগুনের ভয়ে আমি
মৃতদেহ ভালোবাসি...হিম শীতলতা
আমারে এখনো আবেশিত করে।
ড্রাগনের ভয়ে আমি চীনদেশীয় রূপকথার বইয়ের
পাতা উল্টাইতে ভুলছিলাম অনেক,
মা বলতো অ্যামনেশিয়া; অ্যামনেশিয়ায় আচ্ছন্ন আমি
ভুলতে থাকি শুরু, ভুলতে থাকি শেষ।
শুরু আর শেষই যদি না খুঁজে পাওয়া যায়,
শরীরের দ্রষ্টব্য আর কিছু বাকী থাকে!?
প্রসঙ্গঃ ব্লগ দিবস এবং আমরা বন্ধু ব্লগের সম্পৃক্ততা
গত ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি ব্লগের আহ্বানে একদফা ব্লগ দিবস পালিত হ'লো। আবার ফেব্রুয়ারীতেও আরেকটি ব্লগের আহ্বানে পালিত হতে যাচ্ছে আরেকটি ব্লগ দিবস।
ব্লগ দিবসের প্রয়োজনীয়তা, সার্বজনিনতা, উপকারিতা, অপকারিতা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নাই। আমার মাথা ব্যথা অন্য বিষয় নিয়ে। এই দু'টো আহ্বায়ক ব্লগের আচরণ নিয়ে আমার কিছু বক্তব্য আছে। এই আহ্বায়ক ব্লগ দুইটাই অন্য ব্লগের অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম সম্পৃক্ত করেছে তাদের ব্লগ দিবসে অংশগ্রহনের ব্যাপারে।
দুটো ব্লগের একটাও অন্য ব্লগের মতের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধা প্রকাশ করে নাই। একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের চিঠি পাঠালে এবং সেই চিঠির উত্তর না পেলেই যে একজন সেখানে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক এটা কখনোই সাধারণ ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না। সেই সাথে কোনো মিডিয়ায় কারো অনুমতি ছাড়াই তার নাম ছেপে দেয়াটাও সাধারণ ভদ্রতার বাইরে।
আমার যত সিনেমা - ১
জ্ঞানীগুনী লোকেরা প্রায়ই সিনেমা নিয়ে লিখেন। তাদের লেখা পড়ে আমারো সাধ জাগে সিনেমা নিয়ে লিখতে। মনে মনে লিখি কিন্তু ভয়ে পোষ্ট দেই না। সিনেমা দেখে আমি টেকনিক্যাল সাইড তেমন কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি আমার ভালো লেগেছে কি লাগেনি। কিংবা আমি কি কিছু বুঝলাম নাকি বুঝিনি। অনেকদিন কিছু লিখি না। কিছু সিনেমা দেখলাম। মাথায় সিনেমাগুলো ঘুরছে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনে হয় আচ্ছা নীরা বাবার বাড়ি চলে গেলেই হয়তো পারতো কিংবা মহিলা কি করে সারাক্ষণ এমন চিৎকার করে যান। এটা ওভাবে হলে কি হতো? কেন সেভাবে হলো না? মনে হয় এ চরিত্রগুলো আমার বড্ডো চেনা। আমি আমার অতি সরলীকরণ ভঙ্গীতেই সিনেমা নিয়ে কিছু লিখছি। প্রথমে,
নিজের কাছে ফেরা
তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে-----।জীবনের নিয়মটা আসলে কি? সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ভেদে সেই নিয়মের তারতম্য ঘটে! সেটা মেনে নেওয়া ছাড়াই বা আর কি উপায়! অনেকগুলো রাত নিয়ম করে না ঘুমিয়ে শুধু বসে থেকে কাটছে। রাত শেষে ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় এসে দাঁড়ালে চোখ জ্বালা করে, মাথার ভেতর জ্বালা করে.....যন্ত্রণায় কপাল কুঁচকে থাকি। কপাল কুঁচকালেই চোখে চাপ পড়ে, চোখের পাপড়ির নীচে লুকিয়ে থাকা জলধারা ছুটাছুটি শুরু করে। অকারণ আবেগের বাড়াবাড়ি অত্যাচারে জীবন অচল, অতিষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নানাবিধ সমস্যা-জটিলতা, বাস্তবতার চাপে নিজেকে এত বেশী একা লাগছে যে, এই একাকীত্বটা দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তববাদীরা আবেগ অনুভূতি একপাশে রেখে জটিলতাকে মোকাবেলা কবে জীবনকে সহনীয়, আনন্দময় করে তোলে। আর আমি ভাবি, খুব কাছের মানুষ এসে পাশে বসবে, নির্ভরতার এক হাত রাখবে মাথায়---আমি ভাবব হোঁচট খেয়ে পড়ে যাব না, কেউ তো আছে পাশে!
রোদ্দুরের কবিতা ৩
খুড়েছি হৃদয়, বেদনারা জেগে উঠলো সহসাই
অনাহুত এভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্পর্ধায়
করজোড় করে কেবল ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া
আর কোনো সমাধান জানা নাই অক্ষম আমার।
রোদ্দুর, যেভাবে পুরাতন রূপে ছড়াতে দিগ্বিদিকে
ঠিক একইরূপে আবার আমারে উষ্ণতা দাও;
হিমঘরে অশ্রু-ঘাম আবেগের সকল প্রকাশ
কেমন বরফ হয়ে যায়...অনুভূতি ছোঁয়া গেলে
তারে আর মানবিক লাগে না, কেবলি বরফের কুচি
হয়ে নির্বোধ ত্বকের কোষে কোষে গড়িয়েছে।
ক্ষমা প্রার্থনা ব্যতীত আর কোনো শাপমোচনের মন্ত্র
শিখি নাই। শব্দে শব্দে কেবলি করজোড় করে
ক্ষমা চাই রোদ্দুর তোমার কাছে।
বিষপাঁচালি
সন্ধ্যে বেলা পেখম নাচানো সুর
বুকের বাবুই বুনেছিলো তার বাসা
মানুষ জীবন কুহকে ভরপুর
আর পাওয়ার করিনি উচ্চাশা।
অনিশ্চিত অদ্ভুতেড়ে ক্ষণ
বিষমন্তর ঢেকে রেখেছে গলা
স্বর্গমিতা কোথায় সন্তরণ?
প্রেম পদ্য অনুর্বর নিস্ফলা
অনিচ্ছার উসকানো জলরঙ
বাজে মানুষের বাজারি ছিনালপনা
তোমার ভালোতে তুমিই জবরজঙ
আমিই তবে হই কালনাগের ফনা
এক-দুই
১. আগুনের ফুল ধরে হাতে
চোখে জলের নৌকা ভাসাই
তুমি কি এমনি উৎপাদক
হৃদয়ের গ্রন্থি ধরে দাও টান?
ঘুমন্ত সিংহের গুহায় আমি যেন কম্পমান হরিণ
তুমি যখনি তোমার কেশর দুলিয়ে জেগে উঠবে
আমি স্থির হয়ে যাবো
নখর সুখে তখন তুমি যেমন ইচ্ছে খেলো
উন্মোচনের খেলা।
২. জালটাকে ক্রমান্বয় জৈবিক করো জেলে
জলের যোনিতে জাগছে জাগতিক আঁচ
ছায়া পুরু মেঘ রঙ ঠোঁটের আধার পেলে
চমকাবে চকিতে সোনারঙ মাছ।
{(c)MNI, 30.01.12}
কুকুরের জন্য আবাসিক হাসপাতালের দাবীতে নাগরিক আন্দোলন
এখন নিশ্চয়ই বলবেন আপনার সময় দুর্মূল্য
যখন মাথার উপরে সর্পিল ফেস্টুন
ছেড়ে যায় ধোয়ার বিচালি
তার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সরে আছেন নিরাপদে
যখন বলবেন মাইকের চিৎকার থেকে আপনার জানালা সাটানো
পায়ের নখর থেকে দূরবর্তী সারমেয়
আর যখন যা ইচ্ছে ধরার জন্য আপনার হাতেই আছে বিশাল থাবা
যেকোনো মৈথুনের পরেই আপনি সিজদায় নত হন
যখন দেখবেন বিকল্প বারান্দাগুলোতে অজস্র মুকুর
সব আপনার প্রিয় মানুষের নামে ফুটেছে সকালে
ওয়েব জুরে বন্দনা-সংগীত আর ভেঙে যাওয়া লিংকেও শোনা যায়
কোনো বাঞ্ছিত নাগরিকের কণ্ঠস্বর
এমন নিরুদ্বিগ্ন আপনার জগৎ সংসার যে পড়শিদের সকল কুকুরের জন্য
গড়ে তুলেছেন আবাসিক হাসপাতাল
আর এফএম সিগন্যালে মেঠো পথ সন্ধানের জন্য নাগরিক আন্দোলন
উঠেছে বিশালকায় বিলবোর্ডে ডিজিটাল
আপনার জন্য দৃষ্টি পাজল - দেখুন তো এই সংবাদে কতটা নিরেট বিনিয়োগ
ব্লগীং মানেই 'মুক্ত কথা'..তবে যে এত বাক রুদ্ধের আভাস !
২০০৬ থেকে ব্লগীংয়ের শুরু করেছিলাম। বাংলাদেশে ব্লগীংয়ের জয়যাত্রাও ঐ সেই সময় থেকেই বা কিঞ্চিৎ পূর্বে ২০০৫ এর ডিসেম্বরই ধরি যদি। ..তারপর অনেক বছর পেরিয়েছে ..আজ বাংলাদেশে ব্লগীংয়ের জয়জয়কার। ...
ব্লগীং তাই মাথা ব্যাথার কারন হয়ে উঠেছে অনেকের , বিশেষ করে নতুনের প্রতি ভয় যাদের । কবিতার একটা লাইন মনে পড়ে যায় ...'..ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা/আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা'
বিখ্যাত এ কাব্য চরণ দুটি খুব মিলে যাচ্ছে।....ব্লগীং বিকল্প মিডিয়া হয়ে উঠেছে, এটা নবীন প্রবীন সকলের মূলত সেই অর্থে কাঁচাদের। এটা প্রথগত মিডিয়া নয়, এটা সীমায় রুদ্ধ নয় ,তাই তো এটা ব্লগীয়। না হলে তো নিউজ মিডিয়া হয়ে যেত।
আমরা বন্ধু স্মৃতিগাঁথা - ১

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ব্লগে ফেরার কথা, সময় এবং সুযোগ এক হয়ে উঠছিলোনা কোন ভাবেই। এরপর যখন সময় হলো, কিভাবে ফেরা যায় তা ঠিক করতে করতে আরো বেশ কিছু দিন। শেষমেষ ঠিক করলাম, আমরা বন্ধু এই গ্রুপে কিভাবে আমার আগমন এবং এরপর এতগুলো বছর, এতগুলো মানুষকে চেনা, তাদের সাথে আড্ডা দেয়া, মাঝে মাঝে বিভিন্ন বড় ভাইদের বিরক্ত করা, এভাবেই পেরিয়ে গেল ৬টি বছর আমার এই গ্রুপে এসব ক্যাচাল নিয়েই ফিরি। বর্তমানে যা ব্লগ হিসেবে বেশ সুপরিচিত।
আত্মমগ্ন কথামালা-৫
সারাদিন খুব ভালো কেটেছে। আজকেই প্রথম আমার নয়া সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা নিয়ে হাটাহাটি করছি। মন মেজাজ ভালই ছিলো।
কিন্তু কিছুক্ষণ, ধরা যাক ৪৫ মিনিট, আগে পর্যন্তও মন খুবই ভালো ছিলো। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো। কিছু ছোটখাট ব্যাপারে মাঝে মাঝে আমার মন খুব বেশী খারাপ হয়ে যায়। যেমন হয়তো লাইটের কাছে একটা পোকা বসে আছে তার বসে থাকার ভঙ্গীটা বিষণ্ণ মনে হয় বা কোন কবিতার একটা শব্দ পড়ে সেই শব্দটাকে দুঃখী দুঃখী লাগে কিংবা কোনো গল্প পড়ে বুকের ভেতর থেকে কান্নার মতো কিছু একটা উঠে আসতে চায়। হঠাৎ করেই ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করার সময় একটা লিংক শেয়ার পেলাম, সেখানে একটা গল্প অপেক্ষা করছিলো। সেই গল্পটা পড়লাম আর মনের ভেতর কিছু একটা হয়ে গেলো...
কয়দিন এরকম থাকে কে জানে?
তোমার জন্য কবিতা
তুমি যখন কবিতা লিখতে বললে,
শব্দগুলো নিজেরাই কবিতা হয়ে উঠলো ।
তুমি যখন ফুল হয়ে গেলে-
সৌরভগুলো সব তোমার হয়ে গেল ।
এ ফেরোমোন ডাকছে আমায়;
শেষ বিকেলে পথ হারানো হরিণীর মত।
শুধু তোমার জন্যই শাদা গাংচিলের ডানায় আনন্দ ভাসাই
আর ওমে খুজে নিই
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার ঘ্রান।
শুধু তোমার জন্যই
ভালোবাসি- না বলে ভালবাসাই হয়ে যাই ।
চুমু না চুমুক
ওষ্ঠে অধর লেপ্টে একটা চুমু দিতে গিয়েই
জিহ্বায় একটা লাগল দারুন ছ্যাঁকা ,
মুখটা হঠাত্ সরিয়ে নিতে গিয়েই
খেলাম একটা বিষম ভ্যাবাচেকা ।
সেই ওষ্ঠ বিমুখ ছিল বোধয় নিজেকে রাঙিয়ে ,
উষ্ণ ছোঁয়ার আবেগ বুকে নিয়ে
আমায় ডেকে ডেকে শেষে
অবহেলার রেশে
অভিমানে ফিরিয়ে তো দেবেনা !
তখন ওসব কিছুই মাথায় নেই
ওষ্ঠাধরে জুড়ে গেছে ডানা ।
উড়ে উড়ে নেশায় কেমন বুঁদ
চোখের পাতায় সপ্ন নীল হলুদ ।
হঠাত্ দুচোখ মেলে ধরি যেই
টগবগিয়ে উঠছে দেখি ধোঁয়া ।
ওষ্ঠে অধর ছুঁইয়ে দিতেই ছ্যাঁকা
বাপ রে বাপ !
ওষ্ঠ নয় , সে গরম চায়ের কাপ !
